নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেছেন, বাংলাদেশ নৌবাহিনী এখন ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিতি লাভ করেছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নৌবাহিনী সমুদ্রভিত্তিক অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে পটুয়াখালীর বানৌজা শের-ই-বাংলা প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আলফা ২০২৬ ব্যাচের ৪৪১ জন নবীন নাবিকের বুটক্যাম্প প্রশিক্ষণ শেষে বর্ণাঢ্য শিক্ষা সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একটি স্মার্ট নৌবাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে চৌকশ ও প্রশিক্ষিত নাবিকের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান আরও বলেন, নৌবাহিনীর উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে নবীন নাবিক প্রশিক্ষণ বিদ্যালয় থেকে অর্জিত জ্ঞান যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে নিজেদের যোগ্য নাবিক হিসেবে গড়ে তুলবেন এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও অগ্রগতির পথে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। আজকের নবীন নাবিকেরা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সুবিশাল সমুদ্রসীমা রক্ষা করবেন।
নবীন নাবিকদের উদ্দেশে নৌবাহিনী প্রধান সততা, শৃঙ্খলা, আনুগত্য ও মূল্যবোধ ধারণ করে দেশ সেবায় আত্মনিয়োগের আহ্বান জানান। একইসঙ্গে সেনা ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন।
কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্যারেড পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ শেষে তিনি কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী নবীন নাবিকদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।
প্রশিক্ষণে পেশাগত ও সার্বিক বিষয়ে সর্বোচ্চ উৎকর্ষ অর্জন করায় মো. শাহরিয়ার টুটুল ‘নৌ প্রধান পদক’ লাভ করেন। দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে ‘কমখুল পদক’ পান মো. সামিউল ইসলাম শাকিল এবং তৃতীয় স্থান অর্জনকারী মো. কাদের মিয়া লাভ করেন ‘শের-ই-বাংলা পদক’। এছাড়া সেরা চৌকশ মহিলা নাবিক হিসেবে মোছা. মারিয়া আক্তার অর্জন করেন ‘প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার পদক’।
অনুষ্ঠানে নৌবাহিনী সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, পটুয়াখালী, বরিশাল ও খুলনা অঞ্চলের গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং নবীন নাবিকদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।