সারাদেশ
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৩৫১
কুমিল্লায় মাদক ব্যবসা, কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৩৫১ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে গতকাল (বৃহস্পতিবার) জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশনায় সন্ধ্যার পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানায় একযোগে এ অভিযান পরিচালনা করে জেলা পুলিশের সকল ইউনিট ও গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, বৃহস্পতিবার জেলার বিভিন্ন থানা এলাকা ও কুমিল্লা মহানগরীর যেসব স্থানে কিশোরদের উৎপাত, মাদক ব্যবসা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ রয়েছে, সেসব স্থানে অভিযান চালানো হয়। আটক ব্যক্তিদের অপরাধে সম্পৃক্ততা যাচাই-বাছাই করে ১৩২ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বাকি ২১৯ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানায়, জেলাজুড়ে কিশোর অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে এ বিশেষ অভিযান শুরু হয়। ওই দিন থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৫ হাজার ২৪৬ জনকে আটক করা হয়েছে। অপরাধে জড়িত থাকায় তাদের মধ্যে ২ হাজার ৯৫ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৩ হাজার ১৫১ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
৪ ঘণ্টা আগে
যাত্রাবাড়ীতে গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ গেল যুবকের
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় এক জুতা ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ভোরে জনপদ মোড়ের মালঞ্চ কমিউনিটি সেন্টারের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আরিয়ান (২৭) পটুয়াখালীর বাউফল থানার রামগড় গ্রামের কাদের ভূঁইয়ার ছেলে। তিনি যাত্রাবাড়ীর নবীনগর মীর হাজিরবাগ এলাকায় বসবাস করতেন।
নিহতের স্বজন সোহাগ মিয়া জানান, আরিয়ান ফুটপাতে জুতা বিক্রি করতেন। আজ (শুক্রবার) ভোর সাড়ে ৩টার দিকে ব্যবসার কাজ শেষ করে বাসায় ফেরার পথে একটি দ্রুতগামী অজ্ঞাত গাড়ি তাকে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে সড়কে পড়ে থাকেন।
পরে স্থানীয় পথচারীরা আরিয়ানের কাছে থাকা মোবাইল ফোন দিয়ে সোহাগকে খবর দেন। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে আরিয়ানকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোর পৌনে ৬টার মিনিটের দিকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও জানান, এক বছর আগে মিমের সঙ্গে আরিয়ানের বিয়ে হয়। বর্তমানে তার স্ত্রী চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান চিকিৎসকের বরাত দিয়ে আরিয়ানের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি যাত্রাবাড়ী থানাকে জানানো হয়েছে।
৫ ঘণ্টা আগে
গাজীপুরে সেপটিক ট্যাংক বিস্ফোরণে পোশাকশ্রমিক নিহত
গাজীপুরে একটি নির্মীয়মাণ ভবনের সেপটিক ট্যাংক বিস্ফোরণে এক পোশাকশ্রমিক নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে নাওজোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সাকিবের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায়।
গাজীপুর চৌরাস্তা মডার্ণ ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর রাজিব হোসেন জানান, নাওজোড় এলাকায় তিনতলা ভবনটির নির্মাণকাজ প্রায় শেষ হয়েছে। ভবনটির নিচতলায় সেপটিক ট্যাংকের ওপর দুটি কক্ষ নির্মাণ করে পোশাকশ্রমিকদের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। সাকিবসহ কয়েকজন পোশাকশ্রমিক সেখানে ভাড়া থাকতেন।
আজ (শুক্রবার) সকালে হঠাৎ সেপটিক ট্যাংকটি বিস্ফোরিত হলে সাকিব ঘটনাস্থলেই মারা যান। বিস্ফোরণে কক্ষের দরজা ও জানালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তিনি জানান, নিহতের মরদেহ বাসন থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে স্থানীয়রা তাদের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারেননি।
৮ ঘণ্টা আগে
নরসিংদীতে এসআরবির অভিযান, অস্ত্র-মাদকসহ টাকা উদ্ধার
নরসিংদীর ঘোড়াদিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, মাদক ও নগদ ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান এসআরবি-১১-এর নরসিংদী ক্যাম্পের কমান্ডার মো. আল মাসুদ খান।
এর আগে রাত ১২টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত অভিযান চালানো হয়।
এসআরবি কমান্ডার বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর উপজেলার ঘোড়াদিয়া এলাকায় মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত শরীফ ভূইয়ার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।
এ সময় বাড়ির গোডাউন থেকে একটি বিদেশি রিভলভার, একটি দেশি পাইপগান, বিভিন্ন ধরনের ৮২ রাউন্ড গুলি, দেশি ৯টি অস্ত্র, ৭৫ বোতল স্কাফ সিরাপ ও নগদ ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করা গুলির মধ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় থানা থেকে খোয়া যাওয়া শর্টগানের গুলি থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন এই কর্মকর্তা।
তবে অভিযানে বাড়ির মালিক শরীফ ভূইয়াকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তাকে আটকের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি।
১ দিন আগে
পুলিশ হেফাজতে রায়হানের মৃত্যু: বরখাস্ত এসআই আকবরের মৃত্যুদণ্ড
সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হান আহমদের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় সাময়িক বরখাস্ত হওয়া পুলিশের সাবেক উপ-পরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
এ মামলার অন্য দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আরও তিনজনকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেল ৩টা ২০ মিনিটের দিকে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আব্দুল মজিদ মুন্সী এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মুমিনুল ইসলাম মোমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক দুই পুলিশ সদস্য হলেন হারুন অর রশিদ ও টিটু চন্দ্র দাস।
এছাড়া সাত বছর করে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক আশেক এলাহী, সাবেক উপ-পরিদর্শক মো. হাসান উদ্দিন ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সংবাদকর্মী আবদুল্লাহ আল নোমান।
পিপি মুমিনুল ইসলাম মোমিন জানান, মামলার ছয় আসামির মধ্যে একমাত্র আশেক এলাহী কারাগারে রয়েছেন। বাকি পাঁচ আসামি পলাতক।
তিনি আরও জানান, রায় ঘোষণার জন্য এদিন দুপুরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কারাগারে থাকা আশেক এলাহীকে আদালতে হাজির করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ১০ অক্টোবর রাতে সিলেট মহানগর পুলিশের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে নিয়ে রায়হান আহমদকে নির্যাতন করা হয়। পরদিন ১১ অক্টোবর তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী মামলা করলে তদন্তে নির্যাতনের সত্যতা পাওয়া যায়।
পরে তৎকালীন ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত উপপরিদর্শক আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়।
২০২১ সালের ৫ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পিবিআই। এতে ছয়জনকে আসামি করা হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, প্রধান আসামি এসআই আকবর গ্রেপ্তার হওয়ার পর হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়ে কারামুক্ত হন। পরে তার জামিন স্থগিত হলেও তিনি নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করেননি।
এদিকে রায় ঘোষণার আগে আদালতে উপস্থিত হন নিহত রায়হানের মা সালমা বেগম। আসামিরা পলাতক থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ছয় বছর পর আজ রায় ঘোষণা হবে। কিন্তু এই রায় শুনে আমি কী করব? আমার রায়হানকে যারা নির্যাতন করে মেরেছে, তারা তো পালিয়ে গেছে।’
তিনি আরও বলেন, আজ শুধু কাগজে-কলমে রায় হবে। আসামিরা শাস্তি পাচ্ছেন না। তারা শাস্তি না পেলে তার ছয় বছরের অপেক্ষা আর কষ্ট বিফলে যাবে।
১ দিন আগে
ভারতে যাওয়ার চেষ্টাকালে ঝিনাইদহে আটক ৮
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার চেষ্টার সময় আটজনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার হলদারপাড়া গ্রামে ইছামতি নদীর পাশ থেকে তাদের আটক করা হয়।
মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) শ্রীনাথপুর বিওপির একটি টহল দল এ অভিযান চালায়।
৫৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক মুন্সি ইমদাদুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সীমান্ত পিলার ৬১-আর থেকে আনুমানিক ৩০০ গজ বাংলাদেশের ভেতরে তাদের আটক করা হয়।
বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন নিজেদের ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার বাসিন্দা বলে পরিচয় দিয়েছেন। তারা হলেন মিবানী সিং (২৬), দেবকুমার বিশ্বাস (৩৩) ও দেবশ্রী বিশ্বাস (১৫)। তারা একই পরিবারের সদস্য।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা বাংলাদেশে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন বলে জানিয়েছেন।
আটক অন্য পাঁচজন নিজেদের গোপালগঞ্জের শুভজিৎ দাস (২০) ও দুলালী (৪০), নারায়ণগঞ্জের সামিয়া আক্তার (১৭), পিরোজপুরের পূর্ণিমা মৃধা (২১) এবং বরিশালের অঞ্জনা সিং (১৮) বলে পরিচয় দিয়েছেন।
মুন্সি ইমদাদুর রহমান জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট আইনে মামলা করার জন্য মহেশপুর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমরান আলম জানান, নাগরিকত্ব নিশ্চিত হওয়ার পর আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কতজন ভারতীয় এবং কতজন বাংলাদেশি, তা জানা যাবে।
১ দিন আগে
ময়মনসিংহে কাভার্ড ভ্যানের চাপায় দুই বোন নিহত
ময়মনসিংহের তারাকান্দায় কাভার্ড ভ্যানের চাপায় দুই বোন নিহত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার পশ্চিম তালদিঘী এলাকায় ময়মনসিংহ-শেরপুর আঞ্চলিক সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত দুই শিশু হলো পশ্চিম তালদিঘীর ফকিরবাড়ি এলাকার মোখলেছুর রহমানের মেয়ে আরাবিয়া (৮) ও রাবেয়া (৫)। তারা স্থানীয় তালদিঘী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল।
তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাশিদ জানান, সকালে শিশু দুটির মা গৃহকর্মী ফাতেমা আক্তার কাজে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন। এ সময় দুই মেয়েও তার সঙ্গে ছিল। মা রাস্তা পার হয়ে কাজে চলে গেলেও শিশু দুটি সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল।
এ সময় ময়মনসিংহগামী একটি কাভার্ড ভ্যান শিশু দুটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।
ওসি আরও জানান, মরদেহ দুটি উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়। পরে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দাফনের অনুমতি দিয়ে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
১ দিন আগে
ঢামেক হাসপাতালে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট ৭ দিনের জন্য স্থগিত
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নির্দিষ্ট পার্কিংয়ের জায়গার দাবিতে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের ডাকা ধর্মঘট সাত দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাদল মাদবর এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, ‘দাবি পূরণের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সাত দিন সময় বেঁধে দিয়েছি। এই সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’
ধর্মঘটের কারণে ঢামেক হাসপাতালে রোগী ও তাদের স্বজনদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। মরদেহ বাড়িতে নেওয়া এবং রোগীদের স্থানান্তরের জন্য অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে বিপাকে পড়েন অনেকে। কেউ কেউ সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও কাভার্ড ভ্যানে করে মরদেহ নিয়ে যেতে বাধ্য হন।
বুধবার সকাল থেকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পুরোনো ও নতুন ভবন এবং বহির্বিভাগের সামনে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায় রোগীর স্বজনদের। তাদের কয়েকজন অভিযোগ করেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করেও তারা প্রয়োজনীয় সহায়তা পাননি।
বাদল মাদবর জানান, ঢামেক হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় চার হাজার রোগীর সেবায় তাদের ১২০ থেকে ১৩০টি অ্যাম্বুলেন্স নিয়োজিত থাকে। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্স রাখার জন্য নির্দিষ্ট পার্কিংয়ের জায়গা নেই। সড়কে গাড়ি রাখলেও পুলিশ মামলা দেয় এবং ডাম্পিংয়ে পাঠায়।
তিনি বলেন, হাসপাতালের পুরোনো ভবনের পাশে একটি জায়গা তারা নিজেদের খরচে সংস্কার করেছিলেন। পরে সেখান থেকেও অ্যাম্বুলেন্স সরিয়ে দেওয়া হয়। সরকারকে রাজস্ব দিয়ে হলেও নির্দিষ্ট পার্কিংয়ের ব্যবস্থা চান তারা।
অন্যদিকে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মো. ফরহাদ হোসেন জানান, সরকারি জায়গায় বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স রাখার বিধান নেই। তবে অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের ব্যবসা করতে নিষেধ করা হচ্ছে না; তাদের হাসপাতালের বাইরে অবস্থান করতে হবে।
বিষয়টি দেখার জন্য শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
হাসপাতাল পরিচালক বলেন, রোগীদের সেবার জন্য ঢামেক হাসপাতালে আরও অ্যাম্বুলেন্স যুক্ত করার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
১ দিন আগে
ভারতীয় সেই নারীর মরদেহ হস্তান্তর
ঢাকায় জরুরি অবতরণ করা এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে আসা ভারতীয় নাগরিক অঞ্জনা ভৌমিকের (৫৬) মরদেহ ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সিলেটের তামাবিল ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে মরদেহটি হস্তান্তর করা হয়। এ সময় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের উপস্থিত ছিল।
তামাবিল স্থলবন্দরের কাস্টমস সুপারিনটেনডেন্ট আলমগীর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ অক্টোবর অঞ্জনা ভৌমিক ভারতের আগরতলা থেকে কলকাতার উদ্দেশে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে যাত্রা করেন। মাঝ আকাশে অ্যাম্বুলেন্সের দরজায় ত্রুটি দেখা দিলে জরুরি ভিত্তিতে সেটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
পরে অঞ্জনাকে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
কাস্টমস সুপারিনটেনডেন্ট আলমগীর হোসেন জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের সঙ্গে মরদেহটি তামাবিল ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে আনা হয়। স্বজনদের পাসপোর্ট না থাকায় বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশন তাদের ট্রাভেল পারমিট দেয়।
তিনি আরও জানান, সব প্রক্রিয়া শেষে বিজিবির উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মরদেহটি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
অঞ্জনা ভৌমিক ভারতের আসাম রাজ্যের আজেরা এলাকার বাসিন্দা লালু ভৌমিকের মেয়ে। মরদেহ হস্তান্তরের সময় সঙ্গে ছিলেন বোন শান্তা ভৌমিক (৪৮) ও ভাগনে দীপ জ্যোতি (১৮)। তারাও ভারতের আসাম রাজ্যের বাসিন্দা।
২ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় মাদক মামলায় একজনের যাবজ্জীবন
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে চুয়াডাঙ্গার বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক শিমুল কুমার বিশ্বাস এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত শফিল্লাহ (৬০) আলমডাঙ্গা উপজেলার কালিদাসপুর দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১৯ অক্টোবর শফিউল্লাহর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ২২ অ্যাম্পুল বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশন উদ্ধার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। প্রতিটি অ্যাম্পুলে দুই মিলিলিটার করে বুপ্রেনরফাইন ছিল। উদ্ধার করা মাদকের আনুমানিক মূল্য ছিল ছয় হাজার ৬০০ টাকা।
এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়। চারজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় দিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ও অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর সাঈদ মাহমুদ শামীম রেজা ডালিম বলেন, এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট। মাদকের বিস্তার রোধে এ রায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান বাস্তবায়নে এ ধরনের রায় ভূমিকা রাখবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
২ দিন আগে