সারাদেশ
আম খাওয়া নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে সিলেটে বন্ধুর হাতে প্রাণ গেল কিশোরের
সিলেটের বিয়ানীবাজারে এক কিশোরের ছুরিরকাঘাতে আরেক কিশোর খুন হয়েছে। তারা দুজন একে অপরের বন্ধু ছিল।
শুক্রবার (১৫ মে) সন্ধ্যায় উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের দক্ষিণ পাড়িয়াবহর গ্রামের থানাঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে ঘাতক কিশোর পলাতক রয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, আম খাওয়াকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বের জের ধরে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে কিশোর তামিম আহমদ (১৪) তার বন্ধু সিয়াম আহমদকে (১৫) ছুরি দিয়ে আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই সিয়াম মারা যায়। নিহতের পিতার নাম কয়েছ আহমদ।
বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মনিরুল হক খান জানান, আঘাতটি জোরালো এবং একদম হৃদযন্ত্রের কাছাকাছি গিয়ে লাগে। ফলে ঘটনাস্থলেই ছেলেটির মৃত্যু হয়।
বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তকে খোঁজা হচ্ছে।
৫ মিনিট আগে
মাগুরায় নকল শিশুখাদ্য বিক্রি করায় দোকানিকে লাখ টাকা জরিমানা
মাগুরা জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের এক অভিযানে অননুমোদিত শিশুখাদ্য বিক্রির অভিযোগে শহরের এক প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ মে) বিকেলে অভিযান চালিয়ে শহরের জামরুলতলা এলাকার সুভাষ স্টোরকে এই অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
এ অভিযান পরিচালনা করেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সজল আহমেদ এবং অভিযানে সহায়তা করে মাগুরা জেলা পুলিশ।
সজল আহম্মদ জানান, অভিযানকালে ওই দোকানে বিপুল পরিমাণ নকল নমুনা টাকা, ভেজাল শিশুখাদ্য, মূল্য তালিকার অনুপস্থিতি, শিশুদের আচার, চকলেটসহ বিভিন্ন নিম্নমানের ও নকল ব্র্যান্ডের পণ্য পাওয়া যায়। এসব অনিয়মের কারণে সুভাষ স্টোরের বিরুদ্ধে এ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
১৪ মিনিট আগে
মৃত্যুর সঙ্গে পাঁচ দিন লড়াই করে হার মানলেন বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দগ্ধ মনিরা
রাজবাড়ীতে ছুটি শেষে কার্যালয়ের পতাকা নামাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দগ্ধ হওয়া অফিস সহায়ক সেই মনিরা খাতুন (২৮) মারা গেছেন।
টানা পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে শুক্রবার (১৫ মে) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
মনিরা খাতুন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ রাজবাড়ী জেলা কার্যালয়ের অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি রাজবাড়ী সদর উপজেলার বসন্তপুর ইউনিয়নের কোলারহাট গ্রামের মেহেদী হাসানের স্ত্রী এবং একই এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে। তার স্বামী মেহেদী হাসানও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত আছেন।
মেহেদী হাসান জানান, মনিরা খাতুনের শরীরের ৮০ ভাগ দগ্ধ হয়েছিল বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। এই কারণে তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তাদের সংসারে মাত্র ১০ মাস বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। মা ছাড়া এই শিশু নিয়ে তিনি অনেক অসহায় হয়ে পড়েছেন বলে জানান।
জানা যায়, রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক-সংলগ্ন রাজবাড়ী শহরের দক্ষিণ ভবানীপুর পশু হাসপাতাল এলাকায় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের রাজবাড়ী জেলা কার্যালয় অবস্থিত। গত রবিবার (১০ মে) বিকেলে ছুটি শেষে কার্যালয়ে উত্তোলনকৃত জাতীয় পতাকা নামাতে যান মনিরা। কার্যালয়ে একপাশে স্থাপিত পাইপ থেকে জাতীয় পতাকা নামাতে গেলে অসাবধানতাবশত পতাকাবাহী ইস্পাতের পাইপটি বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইনের হাইভোল্টেজ তারের ওপর পড়ে। এই অবস্থায় পাইপটি বিদ্যুতায়িত হলে মনিরার পরনের কাপড়ে আগুন ধরে যায়। সে সময় অফিসে কেউ না থাকায় তাকে উদ্ধার করতে দেরি হয় এবং আগুন ছড়িয়ে শরীরে বেশিরভাগ অংশ দগ্ধ হয়। পথচারীরা টের পেয়ে ফায়ার সার্ভিসকে জানালে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা মনিরাকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।
সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক শেখ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান বলেন, মনিরা খাতুনের শরীরের বেশিরভাগ অংশ ঝলসে যায়। তাকে সদর হাসপাতালে আনা হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে পরিবারের লোকজন ফরিদপুর না নিয়ে ওই দিন রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন।
রাজবাড়ী জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. আসিফুর রহমান জানান, প্রায় পাঁচ বছর ধরে মনিরা জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসের অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ওই দিন জরুরি মিটিংয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে থাকা অবস্থায় বিকেল সোয়া ৪টার দিকে খবর পেয়ে দ্রুত এসে তিনি শোনেন মনিরাকে সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত ঢাকায় পাঠানো হয়।
গতকাল (শুক্রবার) রাতে গ্রামের বাড়িতে মনিরার মরদেহ দাফন সম্পন্ন হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন স্বামী মেহেদী হাসান। তার অকাল মৃত্যুতে কর্মস্থলসহ গোটা পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
২৬ মিনিট আগে
স্বামীকে খুন করে মরদেহ টুকরো করে লুকানোর চেষ্টা, স্ত্রী আটক
শরীয়তপুর সদর উপজেলার চন্দ্রপুর এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীকে হত্যা করে মরদেহ টুকরো টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আসমা বেগম (আসমা আক্তার) নামে এক নারীকে আটক করেছে পালং মডেল থানা পুলিশ।
ঘটনাটি গত বুধবারের (১৩ মে)। ওই দিন দিবাগত রাত ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে চন্দ্রপুর বাজার এলাকার একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে বলে আজ (শুক্রবার) বিষয়টি প্রকাশ্যে এনেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার স্বামী জিয়া সরদারের সঙ্গে পারিবারিক বিষয় নিয়ে আসমা বেগমের তীব্র ঝগড়া ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে ঘরে থাকা একটি লোহার রড দিয়ে স্বামীকে একাধিক আঘাত করলে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর হত্যাকাণ্ড গোপন করতে আসমা বেগম মরদেহ চাকু দিয়ে টুকরো টুকরো করেন। মরদেহের দুই হাত ও দুই পা বিচ্ছিন্ন করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। দেহের অন্যান্য অংশ শরীয়তপুর সদর উপজেলার আটং বৃক্ষতলা এলাকার একটি পুকুরপাড়ে রেখে আসা হয়। এমনকি মরদেহের কিছু অংশ বস্তায় ভরে ফ্রিজে লুকিয়ে রাখারও চেষ্টা করা হয়।
বাসা থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়া এবং অভিযুক্ত নারীর অস্বাভাবিক আচরণে সন্দেহ হলে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দেন। খবর পেয়ে শুক্রবার (১৫ মে) রাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আসমা আক্তারকে আটক করে।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মরদেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, ‘অভিযুক্ত নারী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। মরদেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে তীব্র উদ্বেগ ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
৩৪ মিনিট আগে
ফরিদপুরে বাসচাপায় ঝরল বাবা-ছেলের প্রাণ
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মালবাহী ট্রাকের চাকা মেরামতের সময় অজ্ঞাত একটি বাসের চাপায় ট্রাকটির চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন। নিহত দুইজন সম্পর্কে বাবা-ছেলে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (১৬ মে) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের বগাইল টোল প্লাজার সামনে বগাইল ও বামনকান্দা এলাকার মাঝামাঝি স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর তাদের মরদেহ সড়কে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
নিহতরা হলেন— যশোর সদর উপজেলার রুপদিয়া এলাকার বাসিন্দা ইউসুফ আলী (৫০) ও তার ছেলে ইয়াকুব আলী (২৬)। ইয়াকুব ট্রাকটির চালক ছিলেন এবং তার বাবা ইউসুফ আলী সহকারী হিসেবে সঙ্গে কাজ করতেন।
এ ব্যাপারে শিবচর হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন বলেন, ঢাকা থেকে ভাঙ্গাগামী একটি মালবাহী ট্রাক ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বগাইল টোলপ্লাজা এলাকায় পৌঁছালে ট্রাকটির পেছনের একটি চাকা বিকল হয়ে যায়। পরে সড়কের ওপর একপাশে ট্রাকটি থামিয়ে চালক ইয়াকুব ও তার বাবা ইউসুফ আলী মিলে চাকা মেরামতের কাজ করছিলেন। এ সময় ভাঙ্গাগামী দ্রুতগতির একটি বাস পেছন থেকে এসে তাদের দুজনকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তারা নিহত হন।
দুর্ঘটনার পর বাসটি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতদের ট্রাকটি থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। ঘাতক বাস ও চালককে শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি শিবচর হাইওয়ে থানা পুলিশ তদন্ত করছে।
এ বিষয়ে শিবচর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে। নিহতদের মধ্যে ছেলে ট্রাকের চালক এবং বাবা সহকারী ছিলেন। দুর্ঘটনায় জড়িত বাসটিকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
৪৪ মিনিট আগে
সিলেটে নিখোঁজ শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র বিছনাকান্দিতে ঘুরতে গিয়ে পানিতে ডুবে নিখোঁজ হওয়া শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শান্ত বণিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৫ মে) রাত ১০টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শাবিপ্রবির প্রক্টর অধ্যাপক মো. মোখলেছুর রহমান।
শান্ত বণিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের তেল ও খনিজ প্রকৌশল (পিএমই) বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি ছিল ঠাকুরগাঁও জেলায়।
পুলিশ জানায়, গতকাল (শুক্রবার) বিকেলে ১০/১১ জনের একটি গ্রুপ বিছনাকান্দি এলাকায় ঘুরতে যান। সেখানে স্বচ্ছ পানিতে সাঁতার কাটতে নামেন তারা। এ সময় বৃষ্টির কারণে উজান থেকে হঠাৎ ঢল নামলে পানির স্রোত বেড়ে যায়। প্রবল স্রোতের তোড়ে একপর্যায়ে শান্ত বণিক পানিতে তলিয়ে নিখোঁজ হন। এ সময় তার বন্ধুদের চিৎকার ও চেঁচামেচি শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে গিয়ে নৌকা নিয়ে তাকে উদ্ধারে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে স্থানীয়রা টুরিস্ট পুলিশ ও গোয়াইনঘাট থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করে।
স্থানীয় ডুবুরিরা দীর্ঘ সময় ধরে অনুসন্ধান চালিয়েও শান্তকে খুঁজে না পেয়ে সিলেট ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলকে খবর দিলে তারা গিয়ে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে গতকাল রাত ১০টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে।
মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিছানাকান্দি টুরিস্ট পুলিশ ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শান্ত বণিকের মরদেহ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে আসা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
৪৮ মিনিট আগে
ফতুল্লায় গ্যাস বিস্ফোরণ: পরিবারটির বাঁচল না কেউ, গ্রামের বাড়িতে দাফন
‘চাচা অনেক কষ্ট করে বাড়িতে একটা পাকা ঘর তুলেছিলেন। ছাদের কাজ এখনও বাকি ছিল। কোরবানির ঈদে এসে কাজ শেষ করে গ্রামেই থাকার কথা ছিল। ফিরেছেন ঠিকই, তবে লাশ হয়ে। তার স্ত্রী-সন্তানেরাও ফিরছে লাশ হয়ে।’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার উত্তর কনকদিয়া গ্রামের আবুল কামালের ভাতিজি মেঘলা। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গ্যাসের লাইনে লিকেজ থেকে বিস্ফারণের ঘটনায় ৪০ বছর বয়সী এই ব্যক্তি নিজে প্রাণ হারিয়েছেন, তারপর একে একে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে হার মেনেছেন তার পরিবারের সব সদস্য।
জীবিকার তাগিদে প্রায় ৩০ বছর ধরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বসবাস করতেন কামাল। স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে ছোট্ট সংসার ছিল তার। কিন্তু গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণে সেই সংসারের পাঁচটি জীবনই একে একে নিভে গেছে।
গত ১০ মে ভোরে ফতুল্লার ভাড়া বাসায় গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় আবুল কামাল, তার স্ত্রী সায়মা (৩২), ছেলে মুন্না (৮) এবং দুই মেয়ে মুন্নি (১০) ও কথা (৭) গুরুতর দগ্ধ হন। পরে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একে একে তাদের মৃত্যু হয়।
গত সোমবার আবুল কামালকে তার গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছিল। আজ (শনিবার) সকালে জানাজা শেষে কামালের কবরের পাশেই পরিবারের অপর চারজনকে দাফন করা হয় বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
এ হৃদয়বিদারক ঘটনায় উত্তর কনকদিয়া গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারি আর প্রতিবেশীদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
নিহতদের স্বজন ও স্থানীয়দের দাবি, আবুল কামাল ফতুল্লায় সবজির ব্যবসা করতেন। কয়েকদিন আগে তাদের বাসার গ্যাস লাইনে লিকেজ দেখা দেয়। বিষয়টি বাড়ির মালিক ও দারোয়ানকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে ঘরে গ্যাস জমে ছিল।
তারা জানান, ১০ মে (রবিবার) ভোরে তরকারি গরম করার জন্য লাইটার দিয়ে চুলা জ্বালাতে গেলে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে পরিবারটির পাঁচ সদস্যই গুরুতরভাবে অগ্নিদগ্ধ হয়।
চিকিৎকের বরাত দিয়ে কামালের মেজ ভাই রফিকুল ইসলাম জানান, কামালের শরীরের ৯৫ শতাংশ, স্ত্রী সায়মার ৬০ শতাংশ, মেয়ে মুন্নির ৩৫ শতাংশ, কথার ৫২ শতাংশ এবং ছেলে মুন্নার ৪০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।
বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ বলেন, ‘এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাফন-কাফনে সহযোগিতা করা হবে।’
১ ঘণ্টা আগে
কুমিল্লার পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় একজন মোটরসাইকেল আরোহী ও একজন কারখানা শ্রমিক নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৫ মে) সকালে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে রিফাত সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সামনে এবং উজিরপুর ইউনিয়নের নালবাগ এলাকায় কিশোয়ান বিস্কুট কারখানার সামনে পৃথক সময়ে দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।
নিহতরা হলেন— চট্টগ্রাম জেলার খুলশী থানার পূর্ব নাসিরাবাদ গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে মো. ফারুক (২৫) এবং কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানার ভরাইতলী গ্রামের শামসুল আলমের ছেলে মিজানুর রহমান (৩২)।
স্থানীয়রা জানান, আজ (শুক্রবার) সকালে বাতিসা এলাকার রিফাত সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সামনের সড়কে মোটরসাইকেল আরোহী মো. ফারুককে একটি অজ্ঞাতনামা লরি চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।
অপরদিকে, প্রায় একই সময়ে উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের নালবাগ এলাকায় কিশোয়ান বিস্কুট কারখানার সামনে রাস্তা পারাপারের সময় কারখানা শ্রমিক মিজানুর রহমানকে একটি অজ্ঞাতনামা গাড়ি এসে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।
মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে আসে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুইজনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
১৭ ঘণ্টা আগে
শরীয়তপুরে পদ্মায় ভেসে আসা পলিব্যাগে মিলল অজ্ঞাত ব্যক্তির হাত-পা
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের পদ্মা নদী থেকে পলিথিনের ব্যাগে মোড়ানো অবস্থায় অজ্ঞাত এক ব্যক্তির খণ্ডিত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৫ মে) বিকেল ৩টার দিকে স্থানীয়রা কেদারপুর ইউনিয়নের ওয়াপদা-সংলগ্ন পদ্মা নদীর পাড়ে জোয়ারে ভেসে আসা একটি ব্লকের সঙ্গে আটকে থাকা সাদা রঙের পলিথিনের ব্যাগ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে নড়িয়া থানা পুলিশ ও নৌ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পলিব্যাগটি খুলে দেখতে পায়, সেখানে অজ্ঞাত ব্যক্তির দুটি হাত কনুই পর্যন্ত এবং দুটি পা হাঁটু পর্যন্ত রয়েছে। উদ্ধার হওয়া অঙ্গগুলো অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল।
সুরেশ্বর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্দুল জলিল জানান, স্থানীয়দের দেওয়া সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে পলিব্যাগের ভেতর থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির খণ্ডিত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিচয় শনাক্তের জন্য সিআইডি ফরিদপুর টিমকে জানানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
১৭ ঘণ্টা আগে
রাজবাড়ীতে মাটিতে পুতে রাখা মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় একটি পুকুরপাড়ে মাটিতে পুঁতে রাখা অবস্থায় মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে উজ্জ্বল শেখ নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে খবর পেয়ে উপজেলার সীমান্তবর্তী উজানচর ইউনিয়নের কালিতলা এলাকা থেকে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।
নিহতরা হলেন— গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের চর দৌলতদিয়া পরশউল্লাহ মাতুব্বরপাড়ার আমজাদ শেখের স্ত্রী জাহানারা আক্তার (৩২) ও তাদের ৪ বছর বয়সী মেয়ে সামিয়া আক্তার।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাতে উজ্জ্বল শেখকে গোয়ালন্দ থানা পুলিশের সহযোগিতায় ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।
নিহতের স্বামী আমজাদ শেখ জানান, গত ৪ মে চর দৌলতদিয়া হাট এলাকার এক আত্মীয়ের বাড়িতে কুলখানি অনুষ্ঠানে যাওয়ার পর থেকে তার স্ত্রী ও মেয়ে নিখোঁজ ছিলেন। হত্যার ঘটনায় স্থানীয় উজ্জ্বল নামের এক ভাটা শ্রমিককে সন্দেহ করছেন তিনি। এর আগে তার স্ত্রীর সঙ্গে উজ্জ্বলের পরকীয়ার সম্পর্ক নিয়ে সালিশও হয়েছিল।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে গোয়ালন্দ উপজেলার শেষ সীমানা উজানচর ইউনিয়নের জ্যোতিন বোদ্যিরপাড়ার কালিতলা গ্রামের স্থানীয় হাকিম উল্লাহর পুকুরপাড় থেকে দুর্গন্ধ বের হয়। এ সময় মাঠে কাজ করা কয়েকজন কৃষক দুর্গন্ধ পেয়ে গ্রামের লোকজনকে খবর দেন। স্থানীয়রা এগিয়ে গিয়ে দেখতে পান, পুকুরপাড়ের মাটিতে পুতে রাখা মানুষের পা বাইরে বের হয়ে আছে। সেখানে কয়েকটি কুকুর ঘোরাফেরা করছে।
স্থানীয় লোকজন বিষয়টি গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলামসহ পুলিশের একটি দল বিকেল ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। স্থানীয়দের সহায়তায় মাটি খুঁড়ে মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানা পুলিশকেও খবর দিয়ে আনা হয়।
উজানচর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মো. খবির হোসেন জানান, উজানচর ইউনিয়নের কালিতলা গ্রামের পায়ে চলার রাস্তার এক পাশে গোয়ালন্দ উপজেলার শেষ সীমানা। এর বিপরীত পাশে ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের আনছারডাঙ্গী গ্রাম। পুকুরটি আনছারডাঙ্গী গ্রামের হাকিম উল্লাহর।
তিনি বলেন, ‘পুকুরের পাশে মাঠে কাজ করার সময় কৃষকরা দুর্গন্ধ পেয়ে গ্রামের লোকজনকে খবর দেয়। গ্রামের লোকজন এর উৎস খুঁজতে গিয়ে দেখেন, মানুষের পা দেখা যাচ্ছে। এরপর পুলিশকে খবর দিলে তাদের উপস্থিতিতে মাটি খুঁড়ে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।’
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় মাটি খুঁড়ে মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সাড়ে ৪টার দিকে ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার পুলিশও ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সীমান্তবর্তী হওয়ায় দুই জেলার পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে আসেন।
তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং জমি মাপার আমিনদের এনে সীমানা নির্ধারণ করা হয়। ঘটনাস্থলটি ফরিদপুর জেলার মধ্যে হওয়ায় সন্ধ্যায় মরদেহ দুটি ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া তারাই সম্পন্ন করবে।
২০ ঘণ্টা আগে