সারাদেশ
ঝিনাইদহে বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে দুই কৃষক নিহত
ঝিনাইদহের মহেশপুরে বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে দুই কৃষক নিহত হয়েছেন। সম্পর্কে তারা মামা-ভাগ্নে ছিলেন।
রবিবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের বাগানমাঠ গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— রফিকুল সরকার (৫০) ও নুর আলম (৩৫)। রফিকুল ওই গ্রামের মৃত জমশেদ সরকারের ছেলে এবং নুর আলম মৃত আবু সামার ছেলে।
বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা জিন্টু জানান, দুপুরে রফিকুল সরকার বাগানমাঠ এলাকায় নিজের ধানের জমিতে কীটনাশক স্প্রে করছিলেন। এ সময় মাঠের মধ্যে একটি মোটরের বৈদ্যুতিক তার নিচু হয়ে ঝুলে ছিল। অসাবধানতাবশত সেই তার শরীরে স্পর্শ করলে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।
তিনি আরও জানান, পাশের জমিতে কাজ করা নুর আলম ঘটনাটি দেখে দৌড়ে এসে মামাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। এ সময় তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, মাঠে কাজ করার সময় মোটরের লিকেজ বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে মামা-ভাগ্নে মারা গেছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৬ ঘণ্টা আগে
সুন্দরবনে জলদস্যুদের তৎপরতা বৃদ্ধি, মুক্তিপণ দিয়ে ফিরেছেন ৬ জেলে
মুক্তিপণের দাবিতে সুন্দরবনে জলদস্যুদের হাতে অপহরণের শিকার ১০ জেলের মধ্যে ৬জন জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে বাড়িতে ফিরেছে।
শুক্রবার (৪ মার্চ) সকালে সাদ্দাম, ইউনুস আলী ও সাইফুল ইসলাম এবং আজ (শনিবার) ভোরে আনারুল, ইমরান ও সুশান্ত বাড়িতে ফিরে আসেন। এর আগে অপহরণের শিকার এসব জেলেদের পরিবারের সদস্যরা জলদস্যুদের দাবিকৃত মুক্তিপণের টাকা পরিশোধ করেন।
ফিরে আসা জেলে ও তাদের স্বজনরা জানিয়েছেন, সাদ্দামের মুক্তিপণ বাবদ ৪০ হাজার, আনারুল, সুশান্ত এবং ইমরানের জন্য মাথাপিছু ৩৫ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে। এছাড়া ইউনুস আলী ও সাইফুল ইসলামের জন্য মাথাপিছু ২৫ হাজার টাকা গুনতে হয়েছে। তবে এনামুল ও হযরতসহ চার জেলের এখনও কোন খোঁজ মেলেনি।
এদিকে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে সুন্দরবনে যাতায়াতকারী জেলেরা দাবি করেছেন, ১ এপ্রিল বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করার নির্দেশনা দেন। তার নির্দেশনার পর র্যাব, কোস্টগার্ড, বিজিবি ও পুলিশ তৎপর হওয়ার কারণে জলদস্যুরা অপহৃত অপর জেলেদের নিয়ে নিচের দিকে নেমে গেছে।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন অফিসার মো. ফজলুল হক জানান, অপহরণ কিংবা ফিরে আসার বিষয়ে ভুক্তভোগী জেলেদের পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের কিছু জানানো হয়নি।
উল্লেখ্য, গত ৩০ মার্চ সুন্দরবনের চুনকুড়ি, মালঞ্চ এবং মামুন্দো নদী থেকে ‘ডন ও ‘আলিফ ওরফে আলিম’ বাহিনীর পরিচয়ে অপর চার জেলের সঙ্গে তাদের অপহরণ করা হয়।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদুর রহমান জানান, এ ধরনের ঘটনায় জেলেরা অনেক সময় নিজেদের মধ্যে মীমাংসা করার চেষ্টা করেন। অপহৃতদের জীবনের ঝুঁকির কারণে তারা পুলিশকে তথ্য দিতে চায় না। তবে বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি।
এদিকে, বনবিভাগের কর্মকর্তা জানান, সুন্দরবনের নোটাবেঁকী টহল ফাঁড়ি-সংলগ্ন অভয়ারণ্য এলাকায় প্রবেশ করে সাতজনের একটি মৌয়াল দল মধু সংগ্রহ করছিলেন। পরবর্তীতে অভয়ারণ্যে মধু কাটার অভিযোগে স্মার্ট টহল টিমের সদস্যরা তাদের আটক করেছেন। তবে নেটওয়ার্কের বাইরে অবস্থানের কারণে আটক ৭ মৌয়ালের কারও নাম পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
৬ ঘণ্টা আগে
হামের প্রাদুর্ভাব: দলীয় নেতা-কর্মীদের গ্রামের দিকে খেয়াল রাখার আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় বিএনপি নেতা-কর্মীদের গ্রামাঞ্চলে নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
রবিবার (৫ এপ্রিল) ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ‘শিশুদের হাম-রুবেলা প্রতিরোধে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি’র উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই এলাকায় যারা আমাদের দলীয় নেতৃবৃন্দ আছেন সবাইকে আমি অনুরোধ করবো যে গ্রামের দিকে খেয়াল রাখবেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ, আমাদের বাচ্চারা যদি হাম আক্রান্ত হয়, সাথে সাথে আপনারা অভিভাবকদের বুঝিয়ে নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেবেন, যাতে করে একটা সন্তানও যেন মৃত্যুর কোলে ঢলে না পড়ে, কোন মায়ের বুক যেন খালি না হয়, আপনারা সেদিকে খেয়াল রাখবেন।’
তিনি জানান, আজ থেকে দেশের ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় হামের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। আগামী ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ ময়মনসিংহ ও বরিশালে এ কার্যক্রম শুরু হবে এবং ৩ মে থেকে দেশের অবশিষ্ট সব জেলা ও উপজেলায় একযোগে টিকা দেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্ব ও বিচক্ষণতায় আমরা এই টিকাদান কর্মসূচি অনেকটা এগিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি।’ একইসঙ্গে তিনি অতীতের সরকারগুলোর ভুল ব্যবস্থাপনার কারণে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে বলেও মন্তব্য করেন।
৬ ঘণ্টা আগে
হাম প্রতিরোধে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে সরকার: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেছেন, হাম প্রতিরোধে দ্রুততার সঙ্গে টিকার সরবরাহ নিয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে সরকার কাজ করছে। যেখানে ঘাটতি রয়েছে সেখানে দায়িত্ব নিয়ে সেই ঘাটতি পূরণ করা হচ্ছে।
রবিবার (৫ এপ্রিল) সকালে সদর উপজেলার ভাওয়াল মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে হাম-রুবেলা প্রতিরোধে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধন করে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের সকল শিশুদের টিকা নিশ্চিত করতে পারলে আমরা নিরাপদ হব। আমাদের দেশের শিশুরা সুস্থ ও নিরাপদ থাকবে।
তিনি বলেন, হাম প্রতিরোধে দ্রুততার সঙ্গে টিকার সরবরাহ নিয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে সরকার কাজ করছে, যেখানে ঘাটতি রয়েছে সেখানে দায়িত্ব নিয়ে সেই ঘাটতি পূরণ করা হচ্ছে। টিকার কোনোরকম ঘাটতি হবে না। টিকাদান কর্মসূচিতে বিশ্বের কয়েকটি স্বাস্থ্য সংস্থা সহযোগিতা করছে। জনগণের সম্পৃক্ততার জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য এম মঞ্জুরুল করিম রনি, ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, জেলা প্রশাসক নুরুল করীম ভুইয়া, সিভিল সার্জন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, বিশ্ব স্বাস্থ সংস্থা ও ইউনিসেফের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা সিভিল সার্জন সূত্র জানায়, গাজীপুরে হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে বিভিন্ন টিকাদানকেন্দ্রে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে ২৮ হাজার টিকা প্রদান করা হবে, যা চলবে আগামী ১৫ দিন। এই কার্যক্রমে জেলার সদর, টঙ্গী, কোনাবাড়ি, কাশিমপুর, কালিয়াকৈর, শ্রীপুর, কাপাসিয়া, কালিগঞ্জ ও পুবাইলের বিভিন্ন এলাকায় টিকাদান কর্মসূচি চলবে।
গাজীপুরসহ ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় একযোগে এ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় গাজীপুরের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে স্থাপন করা হয়েছে অস্থায়ী টিকাদানকেন্দ্র। ইতোমধ্যে অভিভাবকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া দেখা গেছে।
৬ ঘণ্টা আগে
চট্টগ্রামে দুই গ্রুপের গোলাগুলি: শিশুসহ আহত ৪, আটক ৫
চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়ায় সন্ত্রাসীদের দুই গ্রুপের গোলাগুলিতে ফাহিম (১২) নামে এক শিশুসহ চারজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (৫ এপ্রিল) মধ্যরাতে মহানগরীর বাকলিয়া থানার মিয়াখান নগর ময়দারমিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
সিএমপি বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান জানান, ময়দার মিল এলাকায় ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে ফাহিমসহ কয়েকজন আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। সংঘর্ষের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
গোলাগুলিতে আহত শিশু ফাহিম ময়দার মিল এলাকার পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা মো. কালামের ছেলে। তার মা জোসনা জানান, সেখান দিয়ে যাওয়ার সময় সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে সে গুলিবিদ্ধ হয়। বর্তমানে ফাহিম চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা স্থিতিশীল এবং পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
চমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের এক চিকিৎসক জানান, ফাহিমের হাঁটুর নিচে গুলির আঘাত রয়েছে। অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। তবে তার প্রাণের আশঙ্কা নেই।
এ ঘটনায় ফাহিম ছাড়াও মো. হাসান, জসিম ও ইসমাইল মিয়া নামে আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিক মিয়া বলেন, কয়েকদিন ধরেই ময়দার মিল এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সাধারণ মানুষ এ ধরনের সহিংসতার শিকার হচ্ছে। তার দাবি, প্রশাসন যেন দ্রুত নিরাপত্তা জোরদার করে।
স্থানীয়রা জানান, গোলাগুলিতে জড়িত দুই গ্রুপই সরকার দলীয় বিএনপি-সমর্থিত সন্ত্রাসী।
পুলিশ জানায়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী মোরশেদ খানের অনুসারীরা প্রতিপক্ষ আব্দুস সোবাহান ও শওকতের অনুসারীদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালান তারা। মোরশেদ খান নিজেকে বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। নগর পুলিশের তালিকাভুক্ত ৩০০ সন্ত্রাসীর মধ্যে তার নাম রয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর মোরশেদ খান এলাকায় ফিরে আসেন। এর আগে তিনি দীর্ঘদিন দেশের বাইরে ছিলেন। এলাকায় ফিরে আসার পর তার প্রতিপক্ষ সোবাহান ও শওকত তাকে মারধর করে এলাকাছাড়া করেন। এই ঘটনার জেরে গতকাল (শনিবার) তার অনুসারীরা প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালান। হামলায় প্রতিপক্ষের কেউ আহত না হলেও সাধারণ মানুষ আহত হন বলে দাবি পুলিশের।
নগর পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের উপকমিশনার হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া জানান, অভিযানে ফারুক হোসেন নামে এক ব্যক্তির বাসা থেকে একটি শটগান ও দুটি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে অভিযানের খবর পেয়ে তিনি পালিয়ে যান। এ ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।
৭ ঘণ্টা আগে
সিলেট সীমান্তে ভারতীয় খাসিয়াদের গুলিতে নিহতের চার দিন পরও ফেরেনি যুবকের মরদেহ
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ সীমান্তে ভারতের অভ্যন্তরে খাসিয়া সম্প্রদায়ের গুলিতে সাদ্দাম হোসেন নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। তবে ঘটনার চার দিন পার হলেও তার মরদেহ এখনও দেশে আনা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে নিহতের পরিবার।
বুধবার (১ এপ্রিল) সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ সীমান্তের নিকটবর্তী ভারতের রাজনটিলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সাদ্দাম হোসেন উপজেলার উত্তর রণীখাই ইউনিয়নের লামা উত্তমা গ্রামের বাসিন্দা এবং মুক্তিযোদ্ধা কুটু মিয়ার ছেলে।
নিহতের পরিবার জানায়, গত ১ এপ্রিল দুপুর ১২টার দিকে সাদ্দামসহ চারজন সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে খাসিয়া সম্প্রদায়ের লোকজন তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ সময় ঘটনাস্থলেই সাদ্দাম নিহত হন।
স্থানীয়রা জানান, সীমান্তের ১২৪৭ নম্বর পিলারের প্রায় ৬০০ গজ ভেতরে ভারতের রাজনটিলা এলাকায় সুপারি আনতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটে। সে সময় গুলিতে সাদ্দাম নিহত হওয়ার পাশাপাশি ফরহাদ মিয়া নামে আরেকজন আহত হন। পরে অন্য সঙ্গীরা ফরহাদকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। আহত ফরহাদ একই গ্রামের লিলু মিয়ার ছেলে। তাদের সঙ্গে আরও ছিলেন আবু বক্কর (৩০) ও জফির মিয়া (২৮)।
নিহতের বড় ভাই নাজীম উদ্দীন বলেন, ‘আমার ভাইসহ চারজন ভারতে যায়। সেখানে খাসিয়ারা তাকে গুলি করে। ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়। চার দিন পার হয়ে গেলেও এখনও তার মরদেহ দেশে আনতে পারিনি।’
কোম্পানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জগৎ জ্যোতি দাস বলেন, ঘটনার পর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী—বিএসএফ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ—বিজিবির মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উত্তমা বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার আবুল কালাম বলেন, বিএসএফের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নিহতের পরিবারকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
৭ ঘণ্টা আগে
চট্টগ্রামে পানিভর্তি গর্তে পড়ে দুই শিশু নিহত
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ইটভাটার মাটি কাটার পানিভর্তি গর্তে পড়ে সাকি (৮) ও সানজিদা (১১) নামে দুই শিশু নিহত হয়েছে।
শনিবার (৫ এপ্রিল) উপজেলার হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নে সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সাকি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কলিম বাপের বাড়ির হাবিবুর রহমানের মেয়ে। নিহত সানজিদা একই বাড়ির জাকির হোসেনের মেয়ে।
এ বিষয়ে হারুয়ালছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন চৌধুরী জানান, বাড়ির পাশে ইটভাটার মাটি কাটার পানিভর্তি গর্তে পড়ে দুই শিশু নিহত হয়েছে। একজন পানিতে পড়ে গেলে অন্যজন তাকে বাঁচাতে গিয়ে দুজনই মারা যায়।
৭ ঘণ্টা আগে
বিএসএফের হাতে আটকের ১১ মাস পর লাশ হয়ে দেশে ফিরলেন ঠাকুরগাঁওয়ের আজিজুর
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার দিনমজুর আজিজুর রহমানের জীবনের করুণ পরিণতি নাড়িয়ে দিয়েছে পুরো জেলার মানুষকে। সীমান্তে ঘাস কাটতে গিয়ে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী—বিএসএফের হাতে আটক হওয়ার প্রায় ১১ মাস পর অবশেষে লাশ হয়ে দেশে ফিরেছেন তিনি।
সরকারি ব্যবস্থাপনায় শুক্রবার (৩ এপ্রিল) পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে তার মরদেহ দেশে আনা হয়। সকালেই মরদেহ হস্তান্তরের কথা থাকলেও স্বজনরা বিকেল ৪টার দিকে মরদেহটি গ্রহণ করেন।
আজিজুরের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার শাহানাবাদ গ্রামে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারি ও শোকের মাতমে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। এ সময় তার স্ত্রী তাসকারা বারবার চিৎকার করে বলেন, ‘বিএসএফের নির্যাতনেই আমার স্বামী মারা গেছে। ঘাস কাটতে যাওয়া কোনো অন্যায় হতে পারে না।’
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সারোয়ার মোহাম্মদ শাহরিয়ার খানের সই করা ২ এপ্রিলের এক আদেশে জানানো হয়, গত ২২ মার্চ ভারতে মৃত্যুবরণকারী আজিজুর রহমানের মরদেহ সরকারি খরচে দেশে ফিরিয়ে আনতে কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে মরদেহটি প্রত্যাবর্তন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৩ মে দুপুরে রাণীশংকৈল উপজেলার শাহানাবাদ গ্রামের দিনমজুর আজিজুর রহমানসহ চারজন সীমান্ত এলাকায় ঘাস কাটতে যান। তারা সীমান্ত পিলার ৩৭৩/১-এসের কাছে পৌঁছালে ভারতের ১৮৪ আমবাড়ী ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা তাদের ধাওয়া করেন। এ সময় তিনজন পালিয়ে এলেও আজিজুর রহমান ধরা পড়েন।
আজিজুরের স্ত্রী তাসকারা বেগম অভিযোগ করেন, আমার স্বামীকে অন্যায়ভাবে ধরে নিয়ে গিয়ে বিএসএফ সদস্যরা পৈশাচিক নির্যাতন চালিয়েছে। নির্যাতনের কারণে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। দীর্ঘ ১১ মাস ভারতে বন্দি অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২২ মার্চ ভারতের ইসলামপুরের একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। ভারতে অবস্থানরত আত্মীয়দের মাধ্যমেই আমরা এই মর্মান্তিক সংবাদ জানতে পারি।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানজীর আহমেদ জানান, দেশে আনার পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমরা আরও কঠোর অবস্থানে যাব। একইসঙ্গে নিজেদের নিরাপদ রাখতে সীমান্তের মানুষদের কাঁটাতারের বেড়া ও নো ম্যানস ল্যান্ড এলাকায় না যাওয়ার জন্য আমরা নিষেধ করেছেন তিনি।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে ফেরত দেওয়ার পর রাতেই তার দাফন সম্পন্ন করা হয়। মরদেহ নষ্ট হতে শুরু করায় তা আর রাখা সম্ভব হয়নি বলেই দ্রুত দাফনের ব্যবস্থা করা হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সীমান্তের মানুষের মনে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সীমান্তে যে কোনো ঘটনার জন্য আইনি প্রক্রিয়া থাকা সত্ত্বেও লাশ হয়ে ফিরে আসার ঘটনা মানতে নারাজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তের বাসিন্দারা।
১ দিন আগে
রাজধানীর ওয়ারীতে গাড়ির চাপায় যুবক নিহত
রাজধানীর ওয়ারীতে দ্রুতগামী গাড়ির চাপায় এক যুবক (২৫) নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাতে ওয়ারী থানার বঙ্গভবনের সামনের সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল দিবাগত রাত ৩টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই যুবককে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আজ ভোর ৪টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ওয়ারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাইনুদ্দিন জানান, আমরা রাতে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যুবককে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়।
নিহতের নাম ও পরিচয় এখনো জানা যায়নি। পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যানবাহনটি শনাক্তের চেষ্টা করছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সিআইডি ক্রাইম সিনকে খবর দেওয়া হয়েছে এবং প্রযুক্তির সহায়তায় নিহতের নাম-পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
১ দিন আগে
রাজধানীতে দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবদল নেতা গুলিবিদ্ধ
রাজধানীর কোতোয়ালি এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে রাসেল (৩১) নামে এক যুবদল নেতা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাত পৌনে ৯টার দিকে কোতোয়ালি থানার নয়াবাজার পার্ক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ রাসেল কোতোয়ালি থানা যুবদলের সদস্য। তিনি রাজধানীর শ্যামপুরের আরসিং গেট এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে।
রাসেলের বন্ধু রিপন দাস জানান, রাতে নয়াবাজার পার্ক এলাকায় অবস্থানকালে হঠাৎ একদল দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় একটি গুলি তার বুকের বাঁ পাশে একটি গুলি লাগে। এরপর দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পরে রাসেলকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ধানমণ্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে ওই হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে বলে জানান তিনি।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক জানান, রাতে নয়াবাজার এলাকা থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ওই যুবককে ঢামেক হাসপাতালে আনা হয়। তার বুকের বাম পাশে গুলির আঘাত ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসার পর স্বজনরা তাকে বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান।
১ দিন আগে