সারাদেশ
রংপুরে জেঁকে বসেছে শীত, হাসপাতালে বাড়ছে রোগী, ৬ শিশুর মৃত্যু
দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে ঝেঁকে বসেছে শীত। এরই সঙ্গে বেড়েছে শীতজনিত রোগের প্রকোপ। ২৪ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলের ৮ জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে রোগাক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন অন্তত ৬ জন।
রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ডাক্তার মেশকাতুল আবেদ বলেন, শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগের প্রকোপও বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের ৮ জেলায় শিশু ও বৃদ্ধসহ আরও ৪৫৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। শীতে বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের সর্তক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এই চিকিৎসক।
এদিকে, রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডেই গত সাত দিনে ৬১৩ জন ভর্তি হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্র নিশ্চিত করেছে।
রমেক হাসপাতালে বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিশুরা নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। তাছাড়া হাসপাতালে বেডের তুলনায় রোগী অনেক বেশি। দূর-দূরান্ত থেকে এই হাসপাতালে আসছেন রোগীরা। অন্যদিকে সংকট রয়েছে অ্যান্টিবায়োটিকের। সরবরাহ না থাকার অজুহাতে এক বেলা পেলে আরেক বেলা কিনতে হচ্ছে রোগীর স্বজনদের। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
এদিকে, ওই হাসপাতালের ১০ নম্বর শিশু ওয়ার্ডে শয্যার তুলনায় চারগুণ শিশু রোগী ভর্তি হয়েছে। আজ (বুধবার) সকালে ওই ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, এক বেডে চারজন শিশু রাখা হয়েছে। ১০ নম্বর ওয়ার্ডে বেড রয়েছে ৪০টি। তার বিপরীতে রোগী ভর্তি রয়েছে ১৭৮ জন।
১১ ঘণ্টা আগে
মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে তিন যাত্রীবাহী বাস ও কাভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষ
ঘন কুয়াশার কারণে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পরপর তিনটি যাত্রীবাহী বাস ও একটি কাভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনায় যানবাহনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মহাসড়কের মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের কুচিয়ামোড়া কলেজ গেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে হাঁসাড়া হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা। এ সময় প্রায় আধঘণ্টা যান চলাচল ব্যাহত হয়।
হাঁসাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম মাহমুদুল হক জানান, গাড়িগুলো একে অপরের পেছনে ধাক্কা দেয়। ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।
দুর্ঘটনায় আহতদের অবস্থা গুরুতর নয় জানিয়ে ঘন কুয়াশায় যানবাহন চালকদের সতর্কতার অভাব ও বেপরোয়া গতি দুর্ঘটনার প্রধান কারণ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
দুর্ঘটনা এড়াতে কুয়াশার মধ্যে যানবাহন চালকদের সতর্ক হয়ে গাড়ি চালানোর পরামর্শ দিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ।
১৩ ঘণ্টা আগে
শীত ও কুয়াশায় বিপর্যস্ত লালমনিরহাট, চরম দুর্ভোগে জনজীবন
কনকনে ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে লালমনিরহাটের খেটে খাওয়া অসহায় মানুষের জীবন। ভোর হতেই জেলা সদরসহ পাঁচটি উপজেলাজুড়ে কুয়াশার ঘনত্ব কয়েক গুণ বেড়ে যাচ্ছে। রাস্তা, মাঠ ও বসতবাড়ি ঢেকে যাচ্ছে কুয়াশার চাদরে। উত্তরের হিমেল হাওয়ায় শীত এখানে শুধু একটি ঋতু নয়, বরং সাধারণ মানুষের জন্য টিকে থাকার কঠিন এক সংগ্রামে পরিণত হয়েছে।
কুড়িগ্রাম আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের তথ্যমতে, বুধবার সকাল ৬টায় লালমনিরহাটে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল শতভাগ এবং গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় সাড়ে ৮ কিলোমিটার। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
শীত ও কুয়াশায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন তিস্তা নদীতীরবর্তী চরাঞ্চল ও খোলা প্রান্তরের বাসিন্দারা। টিনের চালাঘর, ফাঁকা দেওয়াল আর কয়েক টুকরো পুরোনো কাপড়ই তাদের শীত নিবারণের একমাত্র সম্বল। গভীর রাতে কুয়াশা শিশিরের মতো নয়, বরং বৃষ্টির মতো ঝরে পড়ছে এখানে। এতে ভিজে যাচ্ছে ঘরবাড়ি ও কাপড়চোপড়; বেড়ে যাচ্ছে শীতের তীব্রতা।
কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের চরের বাসিন্দা আব্দুল হাই বলেন, এত ঠান্ডায় হাত-পা শক্ত হইয়া যায়। রাইতে ঠিকমতো ঘুম আইসে না। নদীপাড়ের মানুষ, বড় কষ্টে আছি। আর খুব বেশি বাতাস আইছে বাহে।
জেলা সদর, হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম, আদিতমারী, কালীগঞ্জ উপজেলাজুড়ে সকাল থেকেই কুয়াশার কারণে চারপাশের তেমন কিছুই দেখা যায় না। দিনের বেলায়ও যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে ভোরে কাজে বের হওয়া দিনমজুর, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে।
আদিতমারী রেলওয়ে স্টেশন এলাকার অটোরিকশাচালক সামছুল হক (৫৭) বলেন, শীতে শরীর নড়ে না, তাও সকাল হইলেই গাড়ি নিয়ে বাহির হইতে হয়। কাজ না করলে খাবার জুটে না।
শীতের সঙ্গে সঙ্গে রোগবালাইও বাড়ছে জেলাজুড়ে। জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অনেকে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হচ্ছেন। তবে দরিদ্র পরিবারের অনেকেরই প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনার সামর্থ্য নেই।
আদিতমারি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. আজমল বলেন, শীতে স্বাস্থ্যের পরিচর্যায় শিশু ও বয়স্কদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। ঠান্ডা এড়িয়ে চলা এবং অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
১৩ ঘণ্টা আগে
গাজীপুরে জাসাস নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
গাজীপুরের শ্রীপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাসের এক নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার লতিফপুর গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম ফরিদ সরকার। তিনি শ্রীপুরের গোসিংগা ইউনিয়ন জাসাসের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘ ১৭ বছর প্রবাসে থাকার পর গত বছর জুলাই আন্দোলনের পর তিনি দেশে ফিরে একটি ইটভাটার ব্যবসায় জড়িত ছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রতিবেশীর সঙ্গে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে সম্প্রতি একটি মামলা চলছিল। সেই বিরোধ থেকেই পরিকল্পিতভাবে ফরিদকে হত্যা করা হতে পারে বলে তাদের ধারণা।
পুলিশ জানায়, ইটভাটায় ফরিদ সরকারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বড় ভাই ফারুক হোসেন মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমেদ জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা করা হবে।
১৪ ঘণ্টা আগে
ঋণ পরিশোধে চুরি করে গরু বিক্রির চেষ্টা, দেখে ফেলায় স্বামীকে গলা কেটে হত্যা
নেত্রকোণার সদর উপজেলায় ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে এক নারী নিজেদের গোয়ালের গরু চুরি করে বিক্রির দায়িত্ব দেন চোর চক্রের এক সদস্যকে। কিন্তু চুরি করার সময় দেখে ফেলেন স্বামী। পরে নিজের ঘরের বিছানায় ভাড়া করা চোর চক্রের চার সদস্য ও স্ত্রী মিলে স্বামীর পা বেঁধে তার গলা কেটে হত্যা করেন।
এমন লোমহর্ষক হত্যার ঘটনা ঘটেছে সদর উপজেলার কালিয়ারা গাবরাগাতী ইউনিয়নের নারিয়াপাড়া গ্রামে। হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খুনের রহস্য উন্মোচন করেছে নেত্রকোণা মডেল থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) হত্যাকাণ্ডে সরাসারি জড়িত মো. লিটন মিয়া (৫০) ও মো. রিয়েল মিয়া (৩৮) নামে দুজনকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে প্রেরণ করেছেন থানার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক (তদন্ত) চম্পক দাম।
এর আগে, নিহতের স্ত্রী বেদেনা আক্তারকে (৪২) গ্রেপ্তারের পর সোমবার (২২ ডিসেম্বর) আদালতে স্বামী হত্যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি।
ওই নারীর দেওয়া তথ্যমতে, এ ঘটনায় তিনি ও আদালতে পাঠানো দুজনসহ জড়িত মোট পাঁচজন। তদন্তের স্বার্থে বাকি দুজনের নাম বলেননি তদন্ত কর্মকর্তা।
পরিদর্শক চম্পক দামের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেদেনা আক্তার অনেক ঋণ করে ফেলেছিলেন। সেই ঋণ পরিশোধ করতে গরু বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি, কিন্তু স্বামী বাধা দেওয়ায় তা করতে পারেননি। পরে নিজেদের গোয়ালের গরু চুরি করে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এই উদ্দেশ্যে তার বাপের বাড়ি, জেলার বারহাট্টা উপজেলায় দুধকুড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. লিটন মিয়াকে (৫০) দায়িত্ব দেন।
গত ২১ ডিসেম্বর (রবিবার) মধ্যরাতে লিটন মিয়া তার সঙ্গে গ্রেপ্তার নারিয়াপাড়া গ্রামের রিয়েল মিয়াসহ চারজন গরু চুরি করতে যান। এ সময় বেদেনা আক্তারের স্বামী হেলাল উদ্দিন তালুকদার (৬০) চোরদের দেখে ফেলেন। তিনি তাদের চিনতেও পারেন। পরে তারা সবাই মিলে ভুক্তভোগীর পা বেঁধে জবাই করে হত্যা করেন। এরপর বেদেনা আক্তার ছাড়া বাকি সবাই পালিয়ে যান।
বেদেনা আক্তারের আদালতে দেওয়া জবানবন্দি ও মোবাইলের ফোনের কলের তালিকা অনুযায়ী এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় লিটন ও রিয়েলকে গ্রেপ্তার করে চম্পক দামের নেতৃত্বাধীন পুলিশের একটি দল।
এই তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, লিটন মিয়ার বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে পাঁচ-ছয়টি চুরির মামলা রয়েছে। রিয়েল মিয়া একটি হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তিন-চার বছর জেল খাটার পর উচ্চ আদালত থেকে খালাস পেয়েছেন তিনি। বাকি দুজনও মামলার আসামি এবং তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশি কার্যক্রম অব্যাহত আছে।
গত ২২ ডিসেম্বর সকালে খবর পেয়ে বসতঘরের নিজ শয়নকক্ষ থেকে হেলাল উদ্দিন তালুকদারের পা বাঁধা ও গলা কাটা রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নেত্রকোনা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
ভুক্তভোগী কালিয়ারা গাবরাগতী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইসলাম উদ্দিন ও জেলা যুবদলের সাবেক নেতা শাহাবউদ্দিন রিপনের চাচাতো ভাই। এক মেয়ে ও এক ছেলের বাবা ছিলেন নিহত হেলাল তালুকদার।
১৪ ঘণ্টা আগে
শীতে বিপর্যস্ত চুয়াডাঙ্গা, শীতজনিত রোগে বেড়েছে ভোগান্তি
দেশের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা কমেই চলেছে। ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জেলার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। সকালবেলায় সূর্যের দেখা মিললেও শীতের তীব্রতা কমছে না। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষ। এরই মধ্যে চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার আভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। চলতি মৌসুমে এটিই জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।
শীতের প্রভাবে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে শীতজনিত রোগীর চাপ বেড়েছে। রোটা ভাইরাসজনিত ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ জন বৃদ্ধ মানুষ শীতজনিত বিভিন্ন রোগে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পাশাপাশি ৩০০ থেকে ৪০০ শিশুও চিকিৎসা নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. আসাদুর রহমান মালিক খোকন।
গ্রাম থেকে জেলা শহরে কাজের সন্ধানে আসা শ্রমিকরা জানান, ভোর থেকে দুপুর ২টা–৩টা পর্যন্ত কাজ করতে হলেও প্রচণ্ড ঠাণ্ডার কারণে কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। হিমেল বাতাসে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে তাদের।
স্থানীয় কৃষক আজিম উদ্দিন জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্ট ও হাঁপানির রোগী। কৃষিকাজ করেই তার জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। সকালে মাঠে কাজ করতে পারেন না। ঠান্ডার মধ্যে কাজ করলে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। কিছু সময় বিশ্রাম নিয়ে আবার কাজে ফিরতে হচ্ছে। তবুও পেটের দায়ে কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে তাকে।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক রকিবুল হাসান জানান, আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভবনা রয়েছে। মাসের শেষের দিকে কিংবা নতুন বছরের শুরুতে চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
১৫ ঘণ্টা আগে
সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২
সিলেটে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় কৃষক দলের এক নেতা এবং এক মসজিদের ইমাম নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সন্ধা সাড়ে ৬টার দিকে এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।
সিলেটের দক্ষিণ সুরমার নাজিরবাজারে সড়ক দুর্ঘটনায় বিশ্বনাথ উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক ইরন মিয়া (৫০) নিহত হয়েছেন। ওসমানীনগর থেকে মোটরসাইকেলযোগে বিশ্বনাথ ফেরার পথে একটি কাভার্ড ভ্যান তাকে চাপা দেয়।
ইরন মিয়া বিশ্বনাথ উপজেলার নোয়াগাঁওয়ের বাসিন্দা ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তিনি ওসমানীনগরে একটি দলীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ শেষে মোটরসাইকেলে চড়ে বিশ্বনাথ ফেরার পথে নাজিরবাজারে একটি কাভার্ড ভ্যান তাকে চাপা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতাল নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মাইনুল জাকির বরেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে। কাভার্ড ভ্যান জব্দ করা গেলেও এর চালক পালিয়ে গেছেন। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অন্যদিকে, জকিগঞ্জে প্রায় একই সময়ে দ্রুতগতির ট্রলির ধাক্কায় এক মসজিদের ইমাম নিহত হয়েছেন। উপজেলার আটগ্রাম স্টেশন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মাওলানা বদরুল ইসলাম (৫৫) কাজলসার ইউনিয়নের কাজিরপাতন গ্রামের মৃত ইলিয়াস আলীর ছেলে। তিনি জগন্নাথপুর উপজেলার একটি মসজিদের ইমাম হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মাওলানা বদরুল ইসলাম বাড়ি থেকে বের হয়ে জকিগঞ্জ–সিলেট সড়কে উঠলে দ্রুতগতির একটি ট্রলি তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, তিনি আর জীবিত নেই। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
জকিগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মো. সুজন মিয়া জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং ঘাতক ট্রলিটি জব্দের চেষ্টা চালাচ্ছে। নিহতের পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের প্রক্রিয়া চলছে।
১৫ ঘণ্টা আগে
খুঁড়িয়ে চলছে নড়াইলের বারুইপাড়া সেতুর কাজ, নির্মাণ ব্যয় বেড়ে দ্বিগুণ
নড়াইলের কালিয়ায় নবগঙ্গা নদীর ওপর বারুইপাড়া সেতুর নির্মাণ কাজ দেড় বছরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দফায় দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে প্রায় ৮ বছরেও তা শেষ হয়নি।
সেতুর নকশায় জটিলতায় ৬৫ কোটি টাকার সেতুর নির্মাণ ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩৬ কোটি টাকা। নির্মাণ কাজে দীর্ঘসূত্রতায় ভোগান্তি চরমে, এতে ক্ষুব্ধ এ পথে চলাচলকারী লোকজন ও এলাকাবাসী। তবে সড়ক বিভাগ বলছে, নকশা জটিলতা কাটিয়ে কাজ শুরু হয়েছে, আগামী বছর জুনের মাঝেই সেতুর অবশিষ্ট কাজ শেষ হবে।
জানা গেছে, সড়ক পথে নড়াইল সদরের সঙ্গে কালিয়া উপজেলাসহ, আশপাশের অন্তত তিনটি জেলার সড়ক যোগাযোগ সহজীকরণে সড়ক বিভাগের তত্ত্বাবধানে ২০১৮ সালে শুরু হয় নবগঙ্গা নদীর ওপর কালিয়া-বারুইপাড়া সেতুর নির্মাণ কাজ। প্রায় ৮ বছরে কয়েক দফায় মেয়াদ বাড়ানো হলেও এখনো শেষ হয়নি সেতু নির্মাণের কাজ। সবশেষ চলতি বছরে সময় বাড়িয়ে আগামী বছরের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। নদীর দুই তীরবর্তী অংশের সংযোগ সড়কসহ ১১টি স্তম্ভ এবং ১১টি স্প্যান বসানোর কাজ শেষ হলেও মধ্যবর্তী অংশের ৩টি স্তম্ভ ও ৩টি স্টিলের স্প্যান বসানোর কাজ এখনো বাকি। নকশা ত্রুটিতে নির্মাণ ব্যয় দুই গুণের বেশি বেড়েছে। একদিকে জনগণের অর্থ অপচয়, অন্যদিকে যাতায়াতে ভোগান্তি মিলেমিশে একাকার, এতেই ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
সড়ক বিভাগের তথ্যমতে, ৬৫১ দশমিক ৮৩ মিটার দীর্ঘ ও ১০ দশমিক ২৫ মিটার প্রস্থের পিসি গার্ডার সেতুরটির নির্মাণে চুক্তিমূল্য ৬৫ কোটি টাকা থাকলেও দফায় দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে আর নকশা জটিলতায় নির্মাণ ব্যয় ঠেকেছে ১৩৫ কোটি ৯২ লাখ ৩৫ হাজার টাকায়।
সেতু নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জামিল ইকবাল অ্যান্ড মঈনুদ্দিন বাসী কনস্ট্রাকশন কোম্পানি ২০১৮ সালে ৬৫ কোটি টাকায় চুক্তিবদ্ধ হন। বাল্কহেডের ধাক্কায় ৯ নম্বর পিলারটি দুই বার নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়ার পর মূল অংশের ৪টি স্তম্ভ ও ৩টি স্প্যান বসানোর কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই ৬১ কোটি টাকায় সড়ক বিভাগ কয়েক দফায় মেয়াদ বাড়ানোর পর প্রথম মেয়াদের চুক্তি শেষ করে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। পরে দ্বিতীয় মেয়াদে কংক্রিট অ্যান্ড স্টিল টেকনোলজিস্ট লিমিটেড ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সেতুর বাকি অংশ নির্মাণে চুক্তিবদ্ধ হন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, বিদেশ থেকে আমদানিকৃত ৮৬ দশমিক ৭৩ মিটার স্টিল আর্চ স্প্যানসহ আরও দুটি স্প্যান বসানোর কাজ শুরু হয়েছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ খান লিটন বলেন, বেশ কিছু জটিলতায় স্টিল স্প্যান বিদেশ থেকে আনতে কিছুটা দেরি হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যে দুটি স্প্যান বসানো শেষ হবে। আর মধ্যবর্তী আর্চ স্প্যানটি আমরা নির্দিষ্ট মেয়াদের আগেই স্থাপন করে কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে পারব বলে আশা করি।
নকশার ত্রুটি সংশোধনের মাধ্যমে কাজ শুরু হয়েছে, আগামী বছর জুনের মাঝেই কাজ শেষ করে সেতু ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম।
১৭ ঘণ্টা আগে
চকবাজারে পলিথিনে মোড়ানো নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার
রাজধানীর চকবাজার থেকে এক নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকেল পৌনে ৩টার দিকে চাঁদনী ঘাট এলাকা থেকে এই নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ওই নবজাতককে মৃত ঘোষণা করেন।
চকবাজার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশরাফুল জানান, খবর পেয়ে আজ দুপুরের পর চকবাজারের চাঁদনী ঘাট এলাকায় একটি গলির ভেতর থেকে কালো পলিথিনে মোড়ানো অচেতন অবস্থায় ওই নবজাতককে উদ্ধার করি। পরে দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও জানান, কে বা কারা এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে তা আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
১ দিন আগে
জাবির তিন ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের (৫৫তম ব্যাচ) ভর্তি পরীক্ষার ‘বি’, ‘সি’ ও ‘ই’ ইউনিটের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ ফল ঘোষণা করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শিফটভিত্তিক মেধাতালিকার আলোকে এ ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। পূর্বের বছরগুলোর মতো এবারও প্রকাশিত ফলাফলের ভিত্তিতে শিফটভিত্তিক মেধাক্রম অনুসরণ করে ভর্তি ও মাইগ্রেশন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত সব ধরনের বিস্তারিত তথ্য ও ফলাফল জাবির ভর্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘ju-admission.org’–এ পাওয়া যাবে।
উল্লেখ্য, ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষে জাবির প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয় গত ২১ ডিসেম্বর এবং তা চলবে আগামী ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
১ দিন আগে