সারাদেশ
দিনাজপুরে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ট্রেনে কাটা পড়ে দুজন নিহত
দিনাজপুরের চিরিরবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক দুটি ট্রেনের চাকায় কাটা পড়ে দুজন প্রাণ হারিয়েছেন।
শুক্রবার (২০ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দোলনচাঁপা ট্রেনের চাকায় কাটা পড়ে এক বৃদ্ধা নিহত হন। এরপর দুপুর ১২টার দিকে বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত হন আরেকজন।
জানা গেছে, আজ সকালে জামাইবাড়ি বেড়াতে যাচ্ছিলেন বৃদ্ধা আঞ্জুয়ারা বেগম। পথিমধ্যে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রেললাইন অতিক্রম করতে গিয়ে সান্তাহারগামী দোলনচাঁপা ট্রেনের চাকায় কাটা পড়েন তিনি।
নিহত আঞ্জুয়ারা বেগম (৬০) চিরিরবন্দরের বাসুদেবপুর গ্রামের আফজাল হোসনের স্ত্রী।
পরে দুপুর ১২টার দিকে চলন্ত ট্রেনে উঠতে গিয়ে পা পিছলে বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে চলে যান জিয়াবুর রহমান নামের আরেক ব্যক্তি।
জিয়াবুর রহমান (৪৫) চিরিরবন্দরের পশ্চিম সাইতাড়ার এমতাজুল হকের ছেলে।
রেলওয়ে ইনচার্জ আব্দুল মান্নান দুটি ঘটনার ব্যাপারে নিশ্চিত করেন।
২৫৯ দিন আগে
ফেনীতে মুহুরী নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ভাঙন, প্লাবিত কয়েকটি গ্রাম
ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে ফেনীর ফুলগাজীতে মুহুরী নদীর উত্তর বরইয়া নামক স্থানে এবং সিলোনিয়া নদীর দুটি স্থানে বাঁধে ভাঙন ধরেছে। এতে মুহূর্তেই পানি ঢুকে প্লাবিত হয়েছে আশপাশের কয়েকটি গ্রাম।
বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) রাত ১০টার দিকে ফুলগাজী উপজেলার সদর ইউনিয়নের বণিকপাড়া সহদেব বৈদ্যের বাড়ি-সংলগ্ন মুহুরী নদীর বাঁধের একটি স্থানে ও গোসাইপুর এলাকায় সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের একটি অংশে ভাঙনের সৃষ্টি হয়।
এতে দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন এলাকাবাসী। অনেকে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় বন্ধ রয়েছে রান্নাবান্না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দক্ষিণবরইয়া, বিজয়পুর, বসন্তপুর, ফতেহপুর, বশিখপুরসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ফুলগাজী বাজারে পানি ওঠায় সেখানে দোকানপাটের মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরশুরাম উপজেলায়ও নদীর পাড় দিয়ে পানি ঢুকে লোকালয় প্লাবিত হয়েছে।
আরও পড়ুন: নিম্নচাপ: পটুয়াখালীতে বেড়িবাঁধ ভেঙে ২০ গ্রাম প্লাবিত
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাঁধে ভাঙনের ফলে উত্তর বরইয়া, দক্ষিণ বরইয়া, বণিকপাড়া, বসন্তপুর ও জগতপুর এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এ ছাড়া, এদিন সন্ধ্যা থেকে ফুলগাজী তরকারি বাজার-সংলগ্ন স্থানে মুহুরী নদীর পানি প্রবেশ করে বাজারের একটি অংশ প্লাবিত হয়েছে। একই দিন দুপুর থেকে পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের মনিপুর এলাকায় সিলোনিয়া নদীর পানি বেড়ে বাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে।
মোর্শেদ নামে বরইয়া এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই নদীর পানি বাড়তে শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে অনেক চেষ্টা করেও ভাঙন ঠেকানো যায়নি।’তিরি অভিযোগ করেন,‘গেল বছরের বন্যার এক বছর না পেরোতে আবারও আমরা পানিতে ডুবছি। কিছু কর্মকর্তার দায়সারা কাজের কারণে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলে এ ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।’
আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জে যমুনায় ভয়াবহ ভাঙন, নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে তীর সংরক্ষণ বাঁধ
এ বিষয়ে ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আকতার হোসেন মজুমদার জানান, মুহুরী নদীর পানি এখনও বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে বাধেঁর বেশ কয়েকটি স্থান এখনও ঝুঁকিতে রয়েছে। একটি স্থানে বাঁধ ভেঙেছে।
এদিকে, ফেনী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ফেনীতে ৬১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। শুক্রবার রাত থেকে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
২৬০ দিন আগে
উত্তরায় র্যাব পরিচয়ে নগদের কোটি টাকা ডাকাতির ঘটনায় গ্রেপ্তার ৫
রাজধানীর উত্তরায় নগদ কোম্পানির ডিস্ট্রিবিউটরের কাছ থেকে র্যাব পরিচয়ে এক কোটি আট লক্ষ ১১ হাজার টাকা ডাকাতির ঘটনার চক্রটির পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) এবং উত্তরা বিভাগ ও উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ।
এসময় নগদ ২২ লাখ ১০ হাজার ৭৮০ টাকা, ব্যাংকে গচ্ছিত ১২ লাখ টাকা ও একটি হাইয়েস গাড়ি জব্দ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস্ বিভাগের নতুন উপ-পুলিশ কমিশনার(ডিসি)
গ্রেপ্তাররা হলেন— মো. হাসান (৩৫), গোলাম মোস্তফা ওরফে শাহিন (৫০), শেখ মো. জালাল উদ্দিন ওরফে রবিউল (৪৩), মো. ইমদাদুল শরীফ (২৮) ও মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে শিপন (২৭)।
বুধবার (১৮ জুন) রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
উত্তরা পশ্চিম থানা সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুন সকাল আনুমানিক ৮টা ৫৫ মিনিটের দিকে নগদের ডিস্ট্রিবিউটর জনৈক আব্দুল খালেক নয়ন তার উত্তরার ১২ নম্বর রোডের ৩৭ নম্বর বাসা থেকে প্রতিষ্ঠানের চারজন কর্মচারীসহ চারটি ব্যাগে এক কোটি আট লাখ ১১ হাজার টাকা নিয়ে দুটি মোটরসাইকেলে উত্তরার নগদের অফিসের উদ্দেশে রওনা হয়।
পথিমধ্যে উত্তরা ১২ ও ১৩ নং রোডের সংযোগস্থলে একটি কালো রঙের হাইয়েস মাইক্রোবাসে থাকা ডাকাতরা চারটি ব্যাগে থাকা টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং তাদের তিনজনকে মাইক্রোবাসে তুলে হাত-চোখ বেঁধে মারধর করে। ঘটনাস্থল থেকে একজন কর্মচারী পালাতে সক্ষম হন। পরে ডাকাতরা তিনজনকে তুরাগ থানার ১৭ নম্বর সেক্টরের বৃন্দাবন এলাকায় ফেলে রেখে টাকা, দুটি অফিসিয়াল মোবাইল ফোন ও তিনটি ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়।
ডিবি উত্তরা বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ডিবি উত্তরা বিভাগের একটি টিম ঘটনাস্থলসহ আশেপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ডাকাতির ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে। তাদের বিভিন্ন জায়গা থেকে গ্রেপ্তার করে।
ডিবি সূত্র আরও জানায়, পরবর্তীতে গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডাকাত চক্রের অপর সদস্য মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে শিপনকে বুধবার রাতে এয়ারপোর্ট রেল স্টেশন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে র্যাব ও পুলিশের নকল আইডি কার্ড, লাঠি, সিগনাল লাইট, সেনাবাহিনীর লোগো সম্বলিত মানিব্যাগ, বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবই ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
থানা ও ডিবি সূত্রে জানা যায়, ডাকাত দলের দলনেতা মোস্তফা ওরফে শাহিন একজন চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্য এবং শেখ মো. জালাল উদ্দিন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট। এই দলটি দীর্ঘদিন ধরে র্যাব ও পুলিশের পরিচয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি করে আসছে মর্মে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে।
গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। মামলার নিবিড় তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের গ্রেপ্তারসহ অবশিষ্ট টাকা উদ্ধার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন: লালমনিরহাটে সাবেক প্রতিমন্ত্রীর বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ, আটক ২
২৬০ দিন আগে
পাবনায় ট্রাকের ধাক্কায় বিএনপি নেতা নিহত, আহত স্ত্রী-সন্তান
পাবনার ঈশ্বরদীতে মিনি ট্রাকের ধাক্কায় বিল্লাল হোসেন প্রামাণিক নামে এক বিএনপি নেতা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে গুরুতর আহতাবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) সকাল ১১টার দিকে ঈশ্বরদী-পাবনা মহাসড়কের ক্যালিকাপুর এলাকায় পাবনা চিনিকলের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত বেলাল হোসেন (৪৫) ওই উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তিনি ওই ইউনিয়নের ভাড়ইমারী মাথালপাড়া গ্রামের মৃত মতিয়ার রহমান প্রামাণিকের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে মোটরসাইকেল চালিয়ে বিল্লাল হোসেন স্ত্রী রুপালি বেগম (৩৭), ছেলে তানজিল (১০) ও মেয়ে বুশরাকে (১৪) নিয়ে শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছিলেন। তারা বাড়ি থেকে দাশুড়িয়া ইউনিয়নের শ্যামপুরের উদ্দেশে রওনা দেন। পাবনা চিনিকলের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মিনিট্রাক তাদের মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই বিল্লাল হোসেন নিহত হন।
আহত স্ত্রী ও দুই সন্তানকে গুরুতর আহত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে ট্রাক্টরচাপায় ২ বোন নিহত
পাকশী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর ঘাতক মিনিট্রাকটিকে জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে চালক নাইম হোসেনকে আটক করা হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’
২৬১ দিন আগে
আদালত থেকে পালালেন হত্যা মামলার আসামি
ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের এজলাস থেকে হাজতখানায় নেওয়ার পথে পুলিশকে মারধর করে পালিয়েছেন হত্যা মামলার এক আসামি।
আসামি শরিফুল ইসলাম (২২) দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ থানার হরিপুর গ্রামের মৃত শফিক আহম্মেদের ছেলে। তিনি রাজধানীর খিলগাঁও থানার জিসান হোসেন (১৪) হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি। মামলাটি বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) বেলা সাড়ে ১১ টার পর সংশ্লিষ্ট আদালতের দায়িত্বে থাকা পুলিশ কনস্টেবল শহিদুল্লাহকে মারধর করে ছুটে পালিয়ে যান আসামি শরিফুল। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানার ইনচার্জ এসআই রিপন।
তিনি বলেন, আসামিকে আদালত থেকে হাজতখানায় নেওয়ার সময় পুলিশকে আঘাত করে তিনি পালিয়ে যায় আসামি শহিদুল।
আরও পড়ুন: কুষ্টিয়ায় নারীকে নির্যাতনের ঘটনায় মামলা, আসামি ছিনিয়ে নিতে থানা ঘেরাও
ডিএমপির প্রসিকিশন বিভাগের এডিসি মাইন উদ্দিন বলেন, আসামির হাতে হাতকড়া পরানো ছিল। তিনি ধাতব কিছু দিয়ে হাতকড়া ঢিলা করে কৌশলে খুলে ফেলে। পরে পুলিশ কনস্টেবলের হাতে আঘাত করে পালিয়ে যায়।
তিনি বলেন, আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি। কোতোয়ালি থানাকে জানানো হয়েছে আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য। তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলমান।
২৬১ দিন আগে
কুড়িগ্রামে ট্রাক্টরচাপায় ২ বোন নিহত
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় রাস্তা পারাপারের সময় ট্রাক্টরচাপায় দুই নারী নিহত হয়েছেন।
বুধবার (১৮ জুন) রাত ৮টার দিকে কুড়িগ্রাম-রংপুর সড়কের কাঁঠালবাড়ী ডিগ্রি কলেজের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— ছিনাই ইউনিয়নের মৃত রহমতের স্ত্রী রোকেয়া ও কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের আগমনী এলাকার আমজাদের স্ত্রী পারভীন। নিহতরা আপন বোন বলে জানা গেছে।
কুড়িগ্রাম সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল্লাহ এ দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
আরও পড়ুন: গাংনীতে সড়ক দুর্ঘটনায় এসএসসি পরীক্ষার্থী নিহত, আহত ২
তিনি জানান, নিহত রোকেয়া ও পারভীন কাঁঠালবাড়ী ডিগ্রি কলেজের সামনে রাস্তা পার হওয়ার সময় কাঁঠালবাড়ীগামী দ্রুতগতির একটি ট্রাক্টর তাদের চাপা দিয়ে চলে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
ওসি আরও জানান, ট্রাক্টরটি নিয়ে চালক পালিয়ে গেছেন। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
২৬১ দিন আগে
সিলেটে প্রাইভেটকার খাদে পড়ে মা-ছেলে নিহত
সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় একটি প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা লেগে খাদে পড়ে ছেলেসহ এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩ জন।
বুধবার (১৮ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মোগলাবাজার থানাধীন শ্রীরামপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— ঝর্ণা বেগম (৩৫) ও তার ছেলে সিয়াম আহমদ (১০)। নিহত ঝর্ণা উপজেলার আকিলপুর গ্রামের জুনেদ আহমদের স্ত্রী।
দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মোগলাবাজার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আলিফ আহমদ।
তিনি বলেন, ‘বুধবার দুপুরে একটি প্রাইভেটকারে চড়ে শ্রীরামপুর যাচ্ছিলেন জুনেদ, তার স্ত্রী ও তিন সন্তান। পথে প্রাইভেটকারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন ঝর্ণা বেগম। এ ঘটনায় প্রাইভেট কারে থাকা তার স্বামী ও তিন সন্তান আহত হন।’
আরও পড়ুন: ঈদযাত্রার ১২ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩১২ মৃত্যু
আলিফ আহমদ জানান, স্থানীয়দের সহযোগীতায় আহতদের উদ্ধার করে ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করে মোগলাবাজার থানা পুলিশ। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকালে সিয়াম মারা যায়।
নিহত ঝর্ণা বেগম ও সিয়ামের লাশ ওসমানী হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
২৬১ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় সার্চ কমিটি গঠন নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের গোলাগুলি, ভাঙচুর-লুটপাট
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় সার্চ কমিটির বৈঠককে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে গোলাগুলির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়াও হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার (১৭ জুন) রাত ১০টা থেকে দিবাগত রাত পর্যন্ত ধরমপুর ইউনিয়নের গো-হাট সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে সেখানে প্রথমে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খায়। পরে সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় পাঁচটি গুলির খোসা ও চারটি গুলি উদ্ধার করা হয়।
এদিকে বুধবার (১৮ জুন) সকাল পর্যন্ত এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি। থানায় কেউ অভিযোগও করেনি বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির কমিটি গঠনের জন্য মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় ধরমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সার্চ কমিটির সমন্বয়ে ওয়ার্ড কমিটির ভোটার তালিকা গঠনের প্রস্তুতি চলছিল। রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত বৈঠক চলে। বৈঠকে সার্চ কমিটির সদস্য রবিউল ইসলাম সরকার, আসাদুজ্জামান মিঠু ও শামসুল ইসলামসহ অন্য সদস্যরা ছিলেন। সেখানে রবিউল ও আসাদুজ্জামানের সঙ্গে শামসুলসহ তার পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। বৈঠক শেষ মূহুর্তে হঠাৎ সেখানে গুলি ছোঁড়ার ঘটনা ঘটে। এতে চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। দুই পক্ষের লোকজন দুইদিকে অবস্থান নেয়। পরবর্তীতে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে সেনাবাহিনীকে খবর দেয়।
সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। সংঘর্ষে বিএনপি কর্মী হামিদুল ও আরিফ আহত হন। অপর পক্ষের বিএনপি কর্মী টিপু আহত হন। তাদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।
ধরমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিঠু বলেন, ‘বৈঠক শেষ হওয়ার পর যে যার মত সভাস্থল ত্যাগ করেন। ঠিক সেই মূহূর্তে সার্চ কমিটির সদস্য শামসুলসহ তার লোকজন হামলা চালায়। তারা গুলি ছোড়ে। এতে তাদের দুই কর্মী আরিফের মাথায় ও হামিদুলের ডান হাতের কনুইতে গুলি লেগে আহত হন।’
ধরমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি রবিউল ইসলাম সরকার বলেন,‘শামসুল ইসলাম খুবই বেপরোয়া আচরণ করেন। তিনি তার ছেলেসহ অন্যদের দিয়ে আজ আক্রমণ চালিয়েছেন। আমরা কোনোভাবেই এই হামলার সঙ্গে জড়িত না।’
অপরদিকে ধরমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সার্চ কমিটির সদস্য শামসুল বলেন, ‘ধরমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি প্রার্থী হওয়ার কারণেই মূলত আজকের এই নাটক শুরু করেছে। সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে আজকের এই ঘটনা ঘটনা হয়েছে। মিটিং শেষে আসাদুজ্জামান মিঠু আমাকে গাড়িতে তুলে দিয়েছে। আমি চলে আসার পরেই মূলত এই ঘটনা ঘটেছে। এখানে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। ওরা মূলত আমাকে আর আমার ছেলে রাজনকে টার্গেট করেছে। এই ঘটনা আসাদুজ্জামান মিঠু, রবিউল সরকার আর ধরমপুর ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক নান্টুন নেতৃত্বে ঘটেছে। তারা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক আকাশের বাড়িতেও হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে।’
আরও পড়ুন: কুষ্টিয়ায় ছাত্রাবাসে পলিটেকনিক শিক্ষার্থীর মৃত্যু
কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক আকাশের বোন চাঁদনী খাতুন বলেন, ‘লুটপাটকারীরা বাড়িঘর ভাঙচুরের পাশাপাশি সোনার গহনা ও টাকা লুট করেছে। আমার ভাই সবেমাত্র রাজনীতিতে যোগ দিয়েছে।’
ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ‘একজন মাথায় ও আরেকজন হাতের কনুইতে আঘাত নিয়ে রাতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।’
ভেড়ামারা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘বিএনপি সার্চ কমিটির বৈঠককে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়েছিল। তিনজন আহত হয়েছেন। তবে তারা গুলিতে আহত হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে গুলির ৫টি খোসা ও ৪টি তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।’
এ বিষয়ে থানায় এখনো কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি বলেও জানান ভেড়ামারা থানার পরিদর্শক।
২৬১ দিন আগে
নওগাঁয় সড়ক দুর্ঘটনায় নারী নিহত, শিশুসহ আহত ৬
নওগাঁয় বেক্সিমকো ঔষধ কোম্পানির গাড়ি ও সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে পারভীন আক্তার (৫৭) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক শিশুসহ আরও অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (১৮ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শহরের পুলিশ লাইনের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে। নিহত পারভিন আক্তার জেলার সাপাহার উপজেলার রসুলপুর গ্রামের সাজির উদ্দিনের স্ত্রী।
আহতরা হলেন- উপজেলার রসুলপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলাম ও তার স্ত্রী ইসমত আরা, সিরাজুলের ছোট ভাই সাজির উদ্দীন ও তার ছেলে আরিফ ও তার স্ত্রী সাদিকা এবং সিরাজুল ইসলামের নাতি রাফিউল (৬)।
স্থানীয়রা জানান, সিএনজিতে করে সাপাহার উপজেলা থেকে মামলার হাজিরা দেওয়ার জন্য সাজির উদ্দিনের পরিবারের ছয়জন সদস্য নওগাঁ জজকোর্টে আসছিলেন। সাপাহার থেকে ছেড়ে আসা সিএনজি নওগাঁ পুলিশ লাইনের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা বেক্সিমকো ঔষধ কোম্পানির গাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
আরও পড়ুন: কুষ্টিয়ায় ছাত্রাবাসে পলিটেকনিক শিক্ষার্থীর মৃত্যু
এতে সিএনজিতে থাকা চালক ও শিশুসহ ছয়জন গুরুতর আহত হয়। এ ঘটনায় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পারভীন আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন।
নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘এ ঘটনায় বেক্সিমকো ঔষুধ কোম্পানির গাড়ি ও ড্রাইভারসহ দুর্ঘটনা কবলিত সিএনজি থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া নিহত ব্যক্তির লাশ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান।’
২৬১ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় ছাত্রাবাসে পলিটেকনিক শিক্ষার্থীর মৃত্যু
কুষ্টিয়ার একটি ছাত্রাবাসে মধ্যরাতে লুবাব হোসেন (২০) নামে এক পলিটেকনিক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (১৭ জুন) দিবাগত রাত ১২টার দিকে কালিশংকরপুর এলাকার বাঁধন ছাত্রাবাসে এ ঘটনা ঘটে।
লুবাব কুষ্টিয়ার দর্পণ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তার বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায়। তিনি উপজেলার খন্দকবাড়িয়া গ্রামের শফিউল ইসলামে ছেলে।
রুমমেটের ভাষ্য মতে, ঘুমের মধ্যে অস্বাভাবিক চিৎকারের পর লুবাবকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। দায়িত্বরত চিকিৎসক হাসপাতালের স্লিপে (সায়ানোসড বডি) উল্লেখ করেছেন। তবে পুলিশ বলছে শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এমন মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা উঠেছে।
ছাত্রাবাসের অন্য ছাত্ররা জানায়, লুবাব ও অনিক নামে এক ছাত্র ওই ছাত্রাবাসের একই রুমে থাকত। প্রতিদিনের মতো রাত ১১টার দিকে দুজন ঘুমিয়ে পড়ে। রাত ১২টার দিকে লুবাবের অস্বাভাবিক চিৎকারে অনিকের ঘুম ভেঙ্গে যায়।
এ সময় লুবাবকে অস্বাভাবিক অঙ্গভঙ্গি করতে দেখে সে ভয় পেয়ে ছাত্রবাসে থাকা অন্য ছাত্রদের ডাক দেয়। সবাই মিলে লুবাবের মাথায় পানি দেয়। এরপরেও লুবাবের স্বাভাবিক হওয়ার কোনো লক্ষণ না দেখলে কয়েকজন মিলে দ্রুত তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালের চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন: কলেজছাত্র হত্যাকাণ্ডের ৬ বছর পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সালাউদ্দিন গ্রেপ্তার
তারা আরও জানান, তার এই অস্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে রহস্য তৈরি হলে পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি মর্গে পাঠায়।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) বলেন, সায়ানোসড বডি উল্লেখ করা হয়েছে। বিষক্রিয়া থেকে মৃত্যু হতে পারে। কোনো কিছুর ওভার ডোজ হলেও বিষক্রিয়া হয়। সেটা মাদকও হতে পারে।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মোশারফ হোসেন বলেন, লাশে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। তদন্তে অন্য কোনো আলামত পাইনি। তবে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি ওই ছাত্র মাদকাসক্ত ছিলেন কিনা ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত রির্পোট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।’
২৬১ দিন আগে