সারাদেশ
শ্যামপুরে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় পথচারী নিহত
রাজধানীর শ্যামপুরের পোস্তগোলা সেতুর ওপর রাস্তা পারাপারের সময় অজ্ঞাতগাড়ির ধাক্কায় আব্দুর রহিম (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৩টার দিকে তিনি মারা যান।
নিহত রহিমের বাড়ি সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার মথুরাপুর গ্রামে। তার বাবার নাম আব্দুর রহমান। ওই গ্রামে তার একটি দোকান রয়েছে। ঢাকায় তিনি কী কারণে এসেছিলেন, তা জানা যায়নি।
শ্যামপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাইনুদ্দিন তালুকদার জানান, রাত সাড়ে ১২টার দিকে পোস্তগোলা সেতুর ওপর রাস্তা পার হওয়ার সময় অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন ওই ব্যক্তি। পরে পথচারীরা তাকে পড়ে থাকতে দেখে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে ঢামেকে নিয়ে ভর্তি করালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এসআই আরও জানান, সড়কের সিসিটিভি ও প্রযুক্তি সহায়তায় ওই গাড়িটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
১৯ দিন আগে
চাঁদা না পেয়ে চিকিৎসককে মারধর: বরিশালে যুবদলের দুই নেতা বহিষ্কার
বরিশাল জেলার বানারীপাড়া উপজেলায় চাঁদা না পেয়ে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগে ইউনিয়ন যুবদলের দুই নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) যুবদলের কেন্দ্রীয় দপ্তরের সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভুঁইয়ার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়। বহিষ্কারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ মৃধা।
বহিষ্কৃতরা হলেন— বানারীপাড়া উপজেলার বাইশারী ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মাকসুদুর রহমান ডালিম ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক রফিক মল্লিক।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, নীতি-আদর্শ ও সংহতিবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে দলীয় প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি বানারীপাড়া বাইশারী বাজারের আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক বিভাস ঋষির কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠে ওই দুই নেতার বিরুদ্ধে। চাঁদা না পেয়ে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) তার ওপর হামলা করা হয়। সেই হামলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
১৯ দিন আগে
খুলনায় আ.লীগ কার্যালয়ে বিকেলে মাল্যদান, রাতে আগুন
খুলনায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে নেতা-কর্মীদের বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবিতে পুষ্পমাল্যদান ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের ঘটনার জেরে বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা আ.লীগ কার্যালয়ে আগুন দিয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) নগরীর শঙ্খ মার্কেট এলাকায় অবস্থিত কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাটির একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এদিন বিকেলের দিকে খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবিতে পুষ্পমাল্য অর্পন করেন নিষিদ্ধঘোষিত দলটির নেতা-কর্মীরা। এ সময় কার্যালয়ে তারা জাতীয় পতাকাও উত্তোলন করেন। পরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন।
এদিকে, আ.লীগের নেতা-কর্মীদের তৎপরতার প্রতিবাদে রবিবার রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজন বিক্ষুব্ধ ছাত্র খুলনার ওই কার্যালয়ে গিয়ে ভাঙচুর করেন। এছাড়া কার্যালয়ের কাঠের দরজা ও কাগজপত্রে আগুন জ্বালিয়ে দেন তারা। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গিয়ে আগুন নেভান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আ.লীগের এক কর্মী বলেন, দলীয় নির্দেশনা নয়, তৃণমূলের কর্মীদের উদ্যোগেই রবিবার বিকেল ৪টার দিকে আমরা কার্যালয়ে গিয়েছি। আমরা কোনো আলাদা আয়োজন করে কার্যালয়ে যাইনি। দেখলাম আমাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ছবিতে পুষ্পমালা দেওয়া হয়েছে, তাই খুলনাতেও আমরা দিয়েছি। কার্যালয় তালা মারা ছিল, সেটা ভেঙে ওপরে উঠে জাতীয় পতাকা টাঙিয়েছি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবিতে মালা দিয়েছি। ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে নিচে নেমে কার্যালয়ে নতুন একটা তালা লাগিয়ে চলে আসি, যাতে পরে আমরা ঢুকতে পারি। কেউ আমাদের বাধা দেয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, রবিবার বিকেলে আ.লীগের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করে। এরপর তারা শেখ মুজিবুর রহমান এবং শেখ হাসিনার ছবিতে পুষ্পমালা দিয়ে অফিস ত্যাগ করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে কয়েকজন ছাত্র ওই কার্যালয়ে গিয়ে অগ্নিসংযোগ করে।
খুলনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, খুলনা জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়টি বিকেলের দিকে কয়েকজন ব্যক্তি খুলেছিল। এটি আমরা জানতে পেরে আশপাশের সিসি টিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে যাচাই-বাছাই করছি। তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। বিকেলের ওই ঘটনার পর রাতে কয়েকজন বিক্ষুব্ধ ছাত্র কার্যালয়ে এসে আগ্নিসংযোগ করে। টাঙানো দুটি ছবি ভেঙে ফেলে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
১৯ দিন আগে
যাত্রাবাড়ীতে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে মাদরাসা শিক্ষার্থী খুন
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে মাহিম মিয়া (১৫) নামে এক মাদরাসা ছাত্র নিহত হয়েছে।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে কাজলা স্কুল গলিতে এ ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত মাহিম কিশোরগঞ্জ সদরের দিন ইসলামের ছেলে। সে যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় থাকত। স্থানীয় একটি মাদরাসায় হেফজ বিভাগে সে পড়ত বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা।
নিহতের ভগ্নিপতি মো. রাফি জানান, রবিবার রাতে স্কুল গলিতে কয়েকজন কিশোর মাহিমকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। পরে স্বজনরা খবর পেয়ে তাকে করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে জানান। তবে কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, সেই বিষয়ে কিছু জানতে পারেননি তারা।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
১৯ দিন আগে
জীবননগরে সড়ক দুর্ঘটনায় নারী নিহত, আহত অন্তত ১৫
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সড়ক দুর্ঘটনায় সন্ধ্যা রানী (৬০) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
উপজেলার উথলী মালোপাড়ার কাছে রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার পর এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সন্ধ্যা রানী দর্শনার রামনগর গ্রামের বাগদি সম্প্রদায়ের দুলাল ওরফে ঘইটের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দর্শনা রামনগর এলাকার বাগদি সম্প্রদায়ের অনেকেই মাঠে পড়ে থাকা ধান, গম, হলুদসহ বিভিন্ন ফসল কুড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। প্রতিদিনের মতো রবিবার ভোরে ১৫ জনের একটি দল আলমসাধু (মোটর ভ্যান) খালিশপুর এলাকায় ফসল কুড়াতে যান। সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে উথলী মোল্লাবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে রাস্তা পারাপার হওয়া একটি শেয়ালকে ধাক্কা দেয়। এতে আলমসাধুটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে উল্টে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার সময় যাত্রীরা সড়কে ছিটকে পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই সন্ধ্যা রানী নিহত হন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন— বাদলি রানী (৩০), বিকাশ মণ্ডল, রিকা রানী (৪০), শেফালী (৪৫), সন্ধ্যা (৫০), জোসনা (৫০), চায়না ও টুকুল (৩০), অশোক (৪০) এবং আলমসাধুচালক মিলনসহ (৩০) আরও কয়েকজন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আহতদের পরিবারের দাবি, তারা অত্যন্ত দরিদ্র হওয়ায় উন্নত চিকিৎসা গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে সমাজের বিত্তবানদের কাছে সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন তারা।
নিহত সন্ধ্যা রানীর মরদেহ রাতেই বাড়িতে নেওয়া হয়। আজ (সোমবার) পরিবারের সদস্যদের তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করার কথা।
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
১৯ দিন আগে
মসজিদে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তের গুলি, রাজশাহীতে মুসল্লি নিহত
রাজশাহী মহানগরীতে মসজিদে নামাজ আদায় করতে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তদের গুলিতে এক মুসল্লি নিহত হয়েছেন।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে নগরীর খোঁজাপুর গোরস্তানের প্রাচীরসংলগ্ন সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম মো. মোস্তফা (৫০)। তিনি নগরীর মতিহার থানার ডাঁশমারী এলাকার তইমুর উদ্দীনের ছেলে ছিলেন।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অবুল কালাম আজাদ স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানান, মোস্তফা মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে তার ডান পায়ে গুলি লাগে এবং তিনি ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎস তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্মকর্তা ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস বলেন, মোস্তফাকে হাসপাতলে আনা হলে তাকে আমারা মৃত অবস্থায় পাই। তিনি ডান পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।
এ বিষয়ে ওসি বলেন, কী কারণে হামলা হয়েছে, সেটি এখনও জানা যায়নি। হামলাকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এই বিষয়ে এখন তদন্ত করা হচ্ছে। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১৯ দিন আগে
প্রেম করে বিয়ে, এরপর মেয়ের পরিবারের ধাওয়া খেয়ে প্রাণ গেল যুবকের
রাজধানীর কলাবাগান এলাকায় প্রেম করে বিয়ে করার পর মেয়ের পরিবারের ধাওয়া খেয়ে ৬ তলার ছাদ থেকে পড়ে শহিদুল ইসলাম (২৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালের দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ।
নিহত শহিদুল ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়া থানার দক্ষিণ মাঝপাড়া গ্রামের মৃত চানমিয়ার ছেলে ছিলেন। বর্তমানে কলাবাগান থানার কাঠালবাগান এলাকার একটি বাসায় তার ভাইয়ের সঙ্গে থাকতেন।
কলাবাগান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফুল ইসলাম জানান, শহিদুল ইসলাম নামে এক যুবক নারায়ণগঞ্জ থেকে হাসি নামের ১৪ বছরের এক কিশোরীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক করে ১১ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকায় নিয়ে আসেন। পরে কলাবাগানে শহিদুলের বড় ভাই রফিকুল ইসলামের বাসায় আসেন। তার বড় ভাই তাদের দুজনের সম্মতিতে বিয়ে দিয়ে দেন।
তিনি বলেন, মেয়ের পরিবারের সদস্যরা রফিকুলের বাসায় তাদের মেয়ে আছে জেনে ওই বাসার নিচে আসেন। এরপর শহিদুল বাসার নিচে নামলে তাদের দেখতে পান। পরে মেয়েটির খালু তার পেছন পেছন ওই ভবনের সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠতে থাকেন। ভয় পেয়ে শহিদুল প্রথমে ওই ভবনের পাশের ভবনে লাফ দিয়ে চলে যান, কিন্তু দ্বিতীয় ভবন পার হওয়ার সময় অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে নিহত হন।
এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, পরে আমরা খবর পেয়ে গতকাল (শনিবার) রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করি। পরে সকালের দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পরবর্তীতে আমরা ওই কিশোরীকে তার পরিবারের কাছে মুচলেকা নিয়ে হস্তান্তর করি। যেহেতু মেয়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক, তাই আমরা তাকে তার পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করেছি।
এসআই আরও জানান, ফেসবুকের মাধ্যমে হাসির সঙ্গে শহিদুলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তারা দুজনেই পালিয়ে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন।
১৯ দিন আগে
ঝালকাঠিতে মাদাকাসক্ত ছেলেকে হত্যা করে বাবার আত্মসমর্পণ
ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় মাদাকাসক্ত ছেলেকে হত্যার পর জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সাহায্য চেয়ে আত্মসমর্পণ করেন বাবা। এ ঘটনায় কাঠালিয়া থানা পুলিশ আব্দুল বারেক খানকে (৫৫) গ্রেপ্তার ও তার ছেলে মেহেদী হাসান শুভর (২৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার আমুয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছোনাউটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, শুভ দীর্ঘদিন যাবৎ মাদাকাসক্ত ছিলেন। প্রায়ই সে বাবা-মাসহ এলাকার অনেককে মারধর ও কুপিয়ে জখম করেছেন। তার অত্যাচার, নির্যাতনে পরিবারসহ এলাকাবাসী আতঙ্কে থাকতেন। ঘটনার দিন সকালে শুভ তার বাবার কাছে ৩ লাখ টাকা দাবি করেন এবং ঘর ভাঙচুর করেন। এরপর ওই দিন সন্ধ্যায় বাজার থেকে একটি দা কিনে বাড়িতে নিয়ে যান তিনি। বাড়ি ফিরে মাকে জানান, টাকা না দিলে আজ রাতে তোমাদের ২ জনকে জবাই করা হবে। ছেলের এই হুমকির কথা মা খুশি বেগম তার স্বামী আব্দুল বারেককে জানান।
বারেকের পরমার্শে খুশি বেগম সেদিন রাতে অন্য ঘরে ঘুমান। রাত ৩টার দিকে বারেক খান ঘুমন্ত ছেলে শুভকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন। এরপর জাতীয় জরুরি নম্বর ৯৯৯-এ কাঠালিয়া থানার পুলিশকে বিষয়টি জানান।
খবর পেয়ে থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এ সময় তারা শুভর মরদেহ উদ্ধার করে এবং আব্দুল বারেক খানকে গ্রেপ্তার করে কাঠালিয়া থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় খুশি বেগম স্বামীকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন।
খবর শুনে ঝালকাঠির সহকারী পুলিশ সুপার (কাঠালিয়া-রাজাপুর) সার্কেল মো. শাহ আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনিও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন কাঠালিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু নাছের রায়হান ও ওসি (তদন্ত) হারান চন্দ্র পালসহ পুলিশের একটি দল।
১৯ দিন আগে
গাইবান্ধা কারাগারে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতির মৃত্যু
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীকুল ইসলাম লিপন জেলা কারাগারে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
শনিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে তিনি মারা যান।
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে গাইবান্ধার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান কারা কর্তৃপক্ষ। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রমেক হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন সেখানকার ডাক্তাররা। সেখান থেকে রমেক হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
গাইবান্ধা জেলা কারাগারের জেল সুপার আনোয়ার হোসেন জানান, তিনি একটি মামলায় আসামি হয়ে দীর্ঘদিন ধরে গাইবান্ধা সদর থানার হাজতি ছিলেন। এর আগেও কারাগার থেকে তিনি চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন।
২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার মগবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
শামিকুল ইসলাম সরকার লিপন পলাশবাড়ী পৌর শহরের বৈরি হরিণ মারী গ্রামের মরহুম জোব্বার সরকারের সেজ ছেলে। পলাশবাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ ছিলেন তিনি।
শামিকুল ইসলাম ১৯৯৬ সালে পলাশবাড়ী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, ২০১৬ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, ২০১৮ সাল থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
১৯ দিন আগে
প্রথম নির্বাচিত নারী এমপি পেল সিলেট
সিলেট জেলা প্রথমবারের মতো নির্বাচিত নারী এমপি পেয়েছে। নির্বাচিত এ সংসদ সদস্য হলেন তাহসিনা রুশদীর লুনা। তিনি বিজয়ী হয়েছেন বিপুল ভোটের ব্যবধানে।
জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচনের ফলাফল ঘেটে পাওয়া গেছে এ তথ্য।
এর আগে, লুনার স্বামী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নিখোঁজ এম. ইলিয়াস আলী সিলেট-২ আসনে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে ৭৯ হাজার ২৫১ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে স্বামীর পর সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ইলিয়াসপত্নী লুনা। তিনি সিলেট-২ আসনের প্রথম মহিলা সংসদ সদস্য। এছাড়া তিনি সিলেটের ৬টি আসনের মধ্যে এই প্রথম নির্বাচিত নারী এমপি হয়েছেন।
সিলেট-২ আসনের ১২৮টি (বিশ্বনাথ উপজেলার ৭৪টি ও ওসমানীনগর উপজেলার ৫৪টি) ভোট কেন্দ্রের বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে বিএনপি প্রার্থী লুনা পেয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৯৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী খেলাফত মজলিস মনোনীত ও ১১ দলীয় জোট সমর্থিত দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকের প্রার্থী মুহাম্মদ মুনতাছির আলী পেয়েছেন ৩৭ হাজার ৪৪৬ ভোট। তাদের প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধান ৭৯ হাজার ২৫১ ভোট।
এছাড়া সিলেট-২ আসনের অপর ৩ প্রার্থীর মধ্যে জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মাহবুবুর রহমান চৌধুরী পেয়েছেন ১ হাজার ৪০৪ ভোট, ইসলামী আন্দোলন মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা আমির উদ্দিন পেয়েছেন ১ হাজার ৩৮৯ ভোট ও গণফোরাম মনোনীত উদিয়মান সূর্য প্রতীকের প্রার্থী মুজিবুল হক পেয়েছেন ৬৩২ ভোট।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটানিং কর্মকর্তা উম্মে কুলসুম রুবি উপজেলার ৭৪টি কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন। অপরদিকে ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটানিং কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশা উপজেলার ৫৪টি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করেন।
২০ দিন আগে