সারাদেশ
রংপুরে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও কাগজপত্র ছাড়া জ্বালানি সরবরাহে নিষেধাজ্ঞা
সড়কে নিরাপত্তা জোরদার ও অবৈধ মোটরসাইকেল চলাচল নিয়ন্ত্রণে ড্রাইভিং লাইসেন্স, হেলমেট এবং বৈধ কাগজপত্র ছাড়া কোনো মোটরযানে জ্বালানি তেল সরবরাহ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রংপুর জেলা প্রশাসন। এ বিষয়ে পেট্রোল পাম্প, প্যাকড পয়েন্ট ও এজেন্সিগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া কোনো মোটরযান সড়ক, মহাসড়ক বা পাবলিক প্লেসে চালানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আইনের ধারা ৪(১) ও ১৬(১) অনুযায়ী বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং রেজিস্ট্রেশন সনদ ছাড়া যানবাহন চালানো নিষিদ্ধ। একইসঙ্গে ধারা ২৫(১) অনুযায়ী ফিটনেস সনদ ছাড়া বা মেয়াদোত্তীর্ণ ফিটনেস দিয়ে কোনো যানবাহন পরিচালনা করা যাবে না।
আইনের এসব বিধান প্রতিপালনের লক্ষ্যে মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযানের ক্ষেত্রে নিজ নামে রেজিস্ট্রেশন সনদ, হালনাগাদ ট্যাক্স টোকেন, বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স, মানসম্মত হেলমেট, ফিটনেস সনদ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) এবং রুট পারমিট (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) ছাড়া কোনোভাবেই জ্বালানি সরবরাহ না করতে সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এদিকে, নির্দেশনা কার্যকরের পর মঙ্গলবার দুপুর থেকেই রংপুর নগরীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ভিড় লক্ষ করা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক মোড়ের মেসার্স সিটি ফিলিং স্টেশন ও শাপলা চত্বরের মেসার্স ইউনিক ট্রেডার্সসহ কয়েকটি পাম্পে শত শত মোটরসাইকেল ও গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক গ্রাহক তেল না পেয়ে ফিরে যান বলে জানা গেছে।
যেসব স্টেশনে তেল সরবরাহ রয়েছে, সেগুলোতেও সীমিত পরিমাণে বিক্রি করা হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে একজন গ্রাহককে সর্বোচ্চ ২০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ফিলিং স্টেশনগুলোতে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা ও পুলিশ প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে পুলিশি নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ট্যাগ অফিসার। জেলার তিনটি জ্বালানি তেল ডিপোতে মোতায়েন করা হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পাশাপাশি সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধে বিশেষ করে অনিবন্ধিত মোটরসাইকেল চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ডিপো থেকে পাম্প মালিকরা প্রয়োজনের তুলনায় কম জ্বালানি পাচ্ছেন বলে বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। একই মোটরসাইকেল বিভিন্ন পাম্প থেকে ঘুরে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়। এ কারণে হেলমেট ও রেজিস্ট্রেশন ছাড়া মোটরসাইকেলে তেল না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রংপুর জেলা পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সংগঠক হারুন-অর-রশিদ বলেন, সোমবার জেলা প্রশাসনের সঙ্গে পাম্প মালিকদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো তা বাস্তবায়ন করবে।
নিষেধাজ্ঞা জারির বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান বলেন, ‘কালোবাজারি ঠেকাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
৬৫ দিন আগে
মুন্সীগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধাকে কুপিয়ে জখম
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে অহিদুজ্জামান নাঈম (৭১) নামে এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে প্রতিপক্ষ।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়ক-সংলগ্ন জিস্ট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
আহত অহিদুজ্জামান নাঈম উপজেলার বালুয়াকান্দি গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাক মাস্টারের ছেলে।
আহতের স্বজনদের অভিযোগ, অহিদুজ্জামান নাঈমের সঙ্গে স্থানীয় নাসিমুল ও মনির হোসেনের জমির মাপজোপ ছিল। এ সময় ক্যাডার তুহিনের নেতৃত্বে একটা দল আশপাশে মহড়া দিতে থাকে। মাপের একপর্যায়ে তিনি একা মহাসড়কের পাশে গেলে তুহিনের ভাইসহ ৮/১০ জনের একটি দল তার ওপর হামলা করে। পিটিয়ে ও কুপিয়ে তাকে আহত করেন তারা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
স্থানীয় একাধিক ব্যাক্তি জানান, আহীদুজ্জামান নাঈমের সঙ্গে এলাকার কয়েকজনের জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। জমি দখল নিয়ে একাধিক ব্যাক্তির নামে আদালতে মামলা চলছে। তার জের ধরেই এ হামলার ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শারমীন সুলতানা বলেন, দুপরে একজন রোগী হাসপাতালে নিয়ে আসেল প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, তার একটি হাত ও একটি পা ভাঙা এবং মাথার পেছনে কোপের চিহ্ন রয়েছে। রোগীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান আলী বলেন, খবর পাওয়ামাত্র ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
৬৫ দিন আগে
ঝালকাঠিতে জ্বালানি সংকটে ব্যাহত হচ্ছে কৃষিকাজ
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ঝালকাঠিতে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। এতে কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকরা।
কৃষকদের অভিযোগ, তারা প্রয়োজন অনুযায়ী ডিজেল ও পেট্রোল পাচ্ছেন না। যার কারণে ট্রাক্টর, সেচযন্ত্র, পাওয়ার পাম্প, পাওয়ার টিলার, কীটনাশক দেওয়ার মেশিন, ধান কাটা ও মাড়াইয়ের যন্ত্র প্রভৃতি চালাতে পারছেন না।
অনেকে আবার দোকান থেকে অতিরিক্ত দামে ডিজেল কিনে ব্যবহার করলেও পণ্য উৎপাদনে খরচ বেশি হচ্ছে বলে অভিযোগ কৃষকদের। উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ার ভয়ে কেউ কেউ চাষাবাদ বন্ধ রেখেছেন।
প্রাচীন বাণিজ্যিক শহর ঝালকাঠি। এই জেলার বেশিরভাগ মানুষের পেশা কৃষি ও ব্যবসা। ব্যবসা-বাণিজ্যে সমৃদ্ধ এ জেলাকে এক সময় দ্বিতীয় কলকাতা বলা হতো। এ অবস্থা চলতে থাকলে কৃষিনির্ভর এ জেলায় চাহিদা অনুয়ায়ী কৃষিপণ্য উৎপাদন হবে না বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা যায়, এ বছর ১৩ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আউশ আবাদ শুরু হয়েছে ১০ হাজার ৪৫ হেক্টরে এবং গ্রীষ্মকালীন সবজি আবাদ করা হয়েছে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে। কৃষকরা ইতোমধ্যে জমিতে চাষাবাদ শুরু করেছেন। ফলে খেত তৈরি করতে তাদের পর্যাপ্ত পানির প্রয়োজন। খেতে পানি দিতে সেচপাম্প ব্যবহার করতে হয়। এতে প্রয়োজন হচ্ছে ডিজেল। আগে পেট্রোল পাম্প, ডিলার ও খুচরা দোকান থেকে লিটারপ্রতি ১০০ টাকা দামে পর্যাপ্ত ডিজেল পাওয়া যেত। বর্তমানে জ্বালানি সংকটের কারণে জনপ্রতি ১ থেকে ২ লিটারের বেশি ডিজেল দিচ্ছেন না বিক্রেতারা। এতে চাষাবাদে বিঘ্ন ঘটছে।
ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাবখান এলাকার কৃষক আল আমিন বলেন, বর্তমানে জ্বালানি তেলের মারাত্মক সংকট চলছে। আমরা দোকানে গেলে পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছি না। আমাদের বেশি প্রয়োজন ডিজেল। এখন ১ থেকে ২ লিটারের বেশি ডিজেল পাই না। অনেক বিক্রেতার কাছে পেলেও তারা লিটারপ্রতি ১০ টাকা বেশি দাম নিচ্ছে। এতে পণ্য উৎপাদন খরচ বাড়ছে।
নলছিটির মালিপুর গ্রামের কৃষক আইয়ুব আলী বলেন, জমিতে সেচের অভাবে মাটি ফেটে যাচ্ছে। কোথাও ডিজেল পাচ্ছি না। এখান থেকে পেট্রোল পাম্প অনেক দূরে। তাই ডিলার ও দোকানিরা বেশি দামে তেল বিক্রি করছেন। আমরা এখন অসহায় হয়ে পড়েছি। জ্বালানি তেলের দাম না কমলে ধান ও চালের দামও বেড়ে যাবে।
ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সরকারি হিসাব অনুযায়ী এ জেলায় ডিজেলের কোনো সংকট নেই। হয়তো খুচরা বাজারে একটু প্রভাব পড়েছে, তারপরও যদি কোনো কৃষক ডিজেলের অভাবে চাষাবাদ করতে না পারেন, তাদের সহযোগিতা করা হবে। কেউ বেশি দামে তেল বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষক বাঁচলে আমাদের দেশ বাঁচবে, তাই কৃষকের সকল সমস্যা সমাধান করা হবে।
এদিকে, জ্বালানি তেলের জন্য প্রতিদিন শহরের পেট্রোল পাম্প এবং ডিলারদের দোকানে ভিড় করছেন যানবাহন চালকরা। তাদের চাহিদা অনুযায়ী তেল দিতে পারছেন না বিক্রেতারা। সুযোগ বুঝে কেউ কেউ আবার তেলের দাম লিটারপ্রতি ১০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।
ক্রেতা ও পাম্প মালিক সমিতির নেতারা অভিযোগ করেছেন, একশ্রেণির অসাধু ডিলার বাড়তি লাভের আশায় জ্বালানি তেল মজুদ করে রেখেছেন। এ কারণে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, ঝালকাঠির পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেলের ডিপো থেকে ঝালকাঠিসহ দক্ষিণাঞ্চলের ৬টি জেলায় প্রতিদিন গড়ে ৪ লাখ লিটার ডিজেল এবং আড়াই লাখ লিটার পেট্রোল সরবরাহ করা হয়।
৬৫ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় ‘ফুয়েল কার্ড’ বিতরণে দ্বিতীয় দিনে চালকদের দীর্ঘ লাইন
চুয়াডাঙ্গায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বিপণন স্বাভাবিক রাখতে দ্বিতীয় দিনের মতো ‘ফুয়েল কার্ড’ বিতরণ করছে প্রশাসন।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে চুয়াডাঙ্গা জেলার চারটি উপজেলা পরিষদে এ কার্ড বিতরণের দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম শুরু হয়।
ফুয়েল কার্ড সংগ্রহ করতে আজ (মঙ্গলবার) ভোর থেকেই নিজ নিজ উপজেলা পরিষদের সামনে লাইনে দাঁড়ান অনেকে। ফুয়েল কার্ডের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে কার্ড সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষাও করতে হয় তাদের।
এর আগে, জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তে জানানো হয়, ৩০ ও ৩১ মার্চ জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে যানবাহনের জন্য ফুয়েল কার্ড বিতরণ শুরু হবে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল থেকে কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে।
কার্ড সংগ্রহ করতে হলে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর, চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স নম্বর এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমা দিতে হবে। পহেলা এপ্রিল থেকে শুধু ফুয়েল কার্ডধারী যানবাহনেই জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী তেল প্রদান করা হবে এবং প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত জেলার ২২টি পাম্পে একযোগে তেল বিক্রি চলবে।
তবে কৃষকদের জন্য এ নিয়ম শিথিল রাখা হয়েছে। কৃষিকাজে ব্যবহৃত ডিজেল আগের মতোই ২৪ ঘণ্টা বিক্রি করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসন।
চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (বিএম) তারিক উজ জামান বলেন, ‘ফুয়েল কার্ডের মাধ্যমে জ্বালানি সংগ্রহ শুরু হলে, তেলপাম্পগুলোতে বিশৃঙ্খলা রোধ করা যাবে। এমনকি তেল নিয়ে যারা কালোবাজারির চেষ্টা যারা করছেন, তাদেরও নিয়মের মধ্যে আনা সম্ভব হবে। ফলে জ্বালানি সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা অনেকটাই স্বাভাবিক হবে।
৬৫ দিন আগে
রাজধানীতে ট্রাকের ধাক্কায় মাদরাসা শিক্ষার্থী নিহত
রাজধানীর গাবতলী এলাকায় ট্রাকের ধাক্কায় নুসরাত (১৪) নামের ব্যাটারিচালিত রিকশার এক আরোহী নিহত হয়েছে। মেয়েটি মোহাম্মাদপুর হাফিজিয়া মাদরাসার ছাত্রী ছিল বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে দারুস সালাম থানাধীন গাবতলী বেড়িবাঁধ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক ওই কিশোরীকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত নুসরাতের বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগের খেজুরিয়া গ্রামে। তার বাবার নাম মো. সোহাগ মিয়া। বর্তমানে সে পরিবারের সঙ্গে মোহাম্মদপুরের ফিউচার হাউজিং রোড এলাকায় বসবাস করত।
নিহতের চাচা আবু হানিফ জানান, আজ (মঙ্গলবার) দুপুর ১টার দিকে গাবতলী বেড়িবাঁধ দিয়ে ব্যাটারিচালিত রিকশায় চড়ে বাসায় ফিরছিল আমার ভাতিজি। এ সময় দ্রুতগতির একটি ট্রাক ওই রিকশাটিকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে আমার ভাতিজি গুরুতর আহত হয়। পরে আমরা খবর পেয়ে দ্রুত তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলেও আর বাঁচাতে পারিনি।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক জানান, মরদেহটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
৬৫ দিন আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বজ্রাঘাতে প্রবাসফেরত যুবকের মৃত্যু
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে গাছের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় বজ্রাঘাতে আব্দুর রহমান (২৪) নামে প্রবাসফেরত এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার পত্তন ইউনিয়নের টান মনিপুর গ্রামের শিমনা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়কের সীমনা বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আব্দুর রহমান ওই এলাকার হেবজু মিয়ার ছেলে। জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন সৌদি আরবে প্রবাসজীবন কাটিয়ে প্রায় চার মাস আগে দেশে ফেরেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শী অধ্যাপক আলী আজম মীর জানান, হঠাৎ করেই ঝড়ে আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায়। প্রবল ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে শুরু হয় বজ্রপাত। এ সময় আব্দুর রহমান সড়কের পাশে একটি গাছের নিচে আশ্রয় নিয়েছিলেন। বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আক্তার খান জানান, দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগেই আব্দুর রহমান পাশের একটি চায়ের দোকানে চা পান করে সেখানে দাঁড়িয়েছিলেন। ঝড় থামার পরই এলাকাবাসী জানতে পারেন বজ্রপাতে আব্দুর রহমান নিহত হয়েছেন।
বিজয়নগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজীব সরকার জানান, দুর্ঘটনার খবর জানার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
৬৫ দিন আগে
শরীয়তপুরে হামের প্রাদুর্ভাব, ৯ দিনে ৩ শিশুর মৃত্যু
শরীয়তপুরে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। গত ৯ দিনে হামের উপসর্গে ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
সর্বশেষ সোমবার (৩০ মার্চ) হামে আক্রান্ত হয়ে জাজিরা উপজেলা থেকে ঢাকায় পাঠানো ৮ মাস বয়সী শিশু মালিহার মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, রবিবার (২৯ মার্চ) অসুস্থ হয়ে পড়লে মালিহাকে প্রথমে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তার শরীরে হামের লক্ষণ শনাক্ত করেন এবং নমুনা সংগ্রহ করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মৃত মালিহা জাজিরা উপজেলার নগর মাদবরকান্দি গ্রামের মনির হোসেনের মেয়ে।
এদিকে, গতকাল (সোমবার) সকালে হামের লক্ষণ নিয়ে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইমন মুন্সী (১৯) ও শাহীন কাজী (১৮) নামে দুই তরুণ। হাসপাতালের তৃতীয় তলার একটি পৃথক কক্ষে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে তাদের।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, রোগীদের শরীরে জ্বর ও র্যাশ দেখা যাওয়ায় হামের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি প্রতিনিধিদল রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় নিয়ে গেছে।
গত দুই সপ্তাহে শরীয়তপুর থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে ২৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ইতোমধ্যে ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যারা ঢাকায় চিকিৎসাধীন ছিল।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মিতু আক্তার জানান, রোগীদের আলাদা কক্ষে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হামের প্রাদুর্ভাব বিষয়ে শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন রেহান উদ্দিন বলেন, আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছি। হামের লক্ষণ দেখা গেলেই দ্রুত নমুনা সংগ্রহ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
৬৫ দিন আগে
নড়াইলে সাড়ে ৭ হাজার লিটার অবৈধ ডিজেল জব্দ
নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে ৭ হাজার ৪০০ লিটার অবৈধ ডিজেল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন।
সোমবার (৩০ মার্চ) রাতে উপজেলার বারইপাড়া ও কলাবাড়িয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ এ তেল জব্দ করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিন্নাতুল ইসলাম।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই উপজেলার ইউএনও মো. জিন্নাতুল ইসলামের নেতৃত্বে বারইপাড়া ফেরিঘাট সড়কে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় খুলনা থেকে আসা একটি নসিমন আটক করে ৯ ব্যারেলে ১ হাজার ৮০০ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়। পরে তেলের মালিক উপজেলার মাউলী গ্রামের পিন্টু শেখ তেলের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শ্রাবণী বিশ্বাস কলাবাড়িয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি ট্রাক থেকে ২৮ ব্যারেলে ৫ হাজার ৬০০ লিটার তেল জব্দ করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার যোগানিয়া গ্রামের খায়রুল শেখ বিক্রির জন্য অবৈধভাবে ট্রাকে করে এই তেল নিয়ে আসছিলেন। তেলের বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে না পারায় তাকেও ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মো. জিন্নাতুল ইসলাম বলেন, অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ ও বিক্রির বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। জব্দ করা ৭ হাজার ৪০০ লিটার ডিজেল মেসার্স কালিয়া ফিলিং স্টেশনে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করে বিক্রয়ের অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
৬৫ দিন আগে
রংপুরে হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ৪ শিশু
রংপুরে হামে আক্রান্ত হওয়ায় চারটি শিশুকে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভর্তি হওয়া এসব শিশুকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে মেডিকেল বোর্ড গঠন করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) রাত ১০টা পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ৪ জন হামে আক্রান্ত শিশু ভর্তি হয়েছে বলে জানান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। শিশুগুলোকে ভর্তি করেছেন হাসপাতাল পরিচালক আশিকুর রহমান।
চিকিৎসাধীন শিশুরা হলো: লালমনিরহাট সদর উপজেলার আব্দুস সালামের ৮ মাস বয়সী মেয়ে আমাতুল্লাহ জান্নাত, দিনাজপুরের পার্বতীপুরের রণজিৎ রায়ের ৭ মাস বয়সী মেয়ে প্রজ্ঞা রায়, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের মো. আলামিনের ২ বছরের ছেলে আরাফাত এবং রংপুর নগরীর তাজহাট এলাকার সোহাগ আহম্মেদের ৯ মাস বয়সী ছেলে সাইয়েম আহম্মেদ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ঢাকা ও রাজশাহীর মতো হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা রংপুরে অতটা বেশি না হলেও গত ২ দিন থেকে এই রোগে আক্রান্ত শিশুরা হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শুরু করেছে।
আক্রান্তদের শিশু বিভাগ থেকে স্থানান্তর করে ৯ নম্বর ওয়ার্ডে আইসোলেশন সুবিধায় রাখা হয়েছে। সেখানে অক্সিজেন সরবরাহসহ চিকিৎসার যাবতীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থেকে আসা অভিভাবক আল আমিন জানান, হঠাৎ তার সন্তানের শরীরে হামের লক্ষণ দেখা দিলে স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে রমেক হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
বর্তমানে শিশুটির চিকিৎসা চলছে এবং সে সুস্থ আছে। রংপুর হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আ ন ম তানভীর চৌধুরী জানান, হাম একটি সংক্রামক ব্যাধি, তাই আক্রান্তদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখা এবং শিশুদের নিরাপদে রাখাটা জরুরি। প্রয়োজনে মুখে মাস্ক ব্যবহার এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
রমেক হাসপাতালের পরিচালক আশিকুর রহমান জানান, বর্তমানে ৪ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। তাদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আ ন ম তানভীর আহমেদকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। রোগীর চাপ বাড়লেও হাসপাতালের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
৬৫ দিন আগে
সড়ক সংস্কারের বলি সুনামগঞ্জের প্রায় সাড়ে ৬ হাজার মূল্যবান গাছ
সুনামগঞ্জ বনবিভাগ ১৫টি লটে নানা প্রজাতির ৬ হাজার ৪০৯টি মূল্যবান কাঠ গাছ পানির দরে বিক্রি করে দিয়েছে। সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়ক চার লেন প্রকল্পের কাজের সুবিধার্থে রাস্তা প্রশস্ত করতে গাছগুলো কাটা হচ্ছে। পাশাপাশি অন্যান্য অভ্যন্তরীণ সড়কের সংস্কারের জন্যও একই প্রক্রিয়ায় গাছ কাটা হচ্ছে।
কাঠ ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সর্বনিম্ন দর ধরলেও এই গাছের মূল্য অন্তত ২৫ কোটি টাকা হবে। অভিযোগ উঠেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশে প্রায় ২৫ কোটি টাকার মূল্যবান এসব গাছ মাত্র ১ কোটি ৯ লাখ ১০ হাজার ৩৭৫ টাকায় নিলাম দেওয়া হয়েছে। এখন গাছের বড় বড় ফালিগুলো রাতের আঁধারে কার্গো ট্রাকে করে নিয়ে যাচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
সুনামগঞ্জ বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক বনায়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ১৯৯৩ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত মেহগনি, আকাশমনি, জারুল, কড়াই, রেইনট্রিসহ কয়েকটি প্রজাতির গাছ সড়কের দুই পাশে লাগানো হয়েছিল। এ গাছগুলোর বয়স প্রায় ১৫-৩৫ বছর পর্যন্ত। তাই বয়স অনুপাতে প্রতিটি গাছই পরিপক্ব ও মূল্যবান কাঠের উপযোগী। বর্তমান বাজার দরে প্রতিটি গাছের মূল্য ৩০ হাজার থেকে অন্তত ১ লাখ টাকা হবে। তবে গড়ে প্রতিটি গাছের মূল্য কম করে হলেও ৪০ হাজার টাকা হবে বলে জানিয়েছেন কাঠ ব্যবসায়ীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সুনামগঞ্জ-সিলেট-পাগলা-আউশকান্দি সড়ক, সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ সড়কসহ আঞ্চলিক মহাসড়ক ও স্থানীয় সড়কগুলোর সংস্কার কাজ চলছে। বিশেষ করে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ ও পাগলা-আউশকান্দি সড়কে প্রশস্তকরণের কাজ চলছে। রাস্তা প্রশস্তকরণের সুবিধার্থে সরকার এসব সড়কের গাছ নিলামে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়।
বন বিভাগ জরিপ করে ১৫টি লটে ৬ হাজার ৪০৯টি গাছের দরপত্র আহ্বান করে। এর মধ্যে ১১টি লটে নিলাম দরপত্র পায় টাঙ্গাইল নতুন বাজার এলাকার মেসার্স শিমুল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আব্দুর রহিম মিন্টু এবং মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার বড়গাছ এলাকার বাসিন্দা মোসাইদ আলী পান চারটি লটের গাছ।
মোসাইদ আলীকে ২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট ১৯ লাখ ৯৮ হাজার ৭৫০ টাকা ব্যাংকে জমা দিতে চিঠি দেন সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবীর। পরবর্তীতে চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি মেসার্স শিমুল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আব্দুর রহিম মিন্টুকে ১১টি লটের নিলামে গাছের মূল্য বাবদ ৮৯ লাখ ১১ হাজার ৬২৫ টাকা ব্যাংকে জমা দিতে চিঠি দেন সিলেটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুর রহমান। ১৫টি লটে নিলামকৃত এই মূল্যবান কাঠগাছের দাম কম করে হলেও ২৫ কোটি টাকার বেশি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
বন বিভাগের সংশ্লিষ্টরা জানান, সুনামগঞ্জ ট্রাফিক পয়েন্ট থেকে ইকবাল নগর পর্যন্ত ২টি লটে ৬৮০টি গাছ, টুকের বাজার থেকে নিয়ামতপুর পর্যন্ত ৫টি লটে ১ হাজার ৯২৩টি গাছ, শান্তিগঞ্জ থেকে সুলতানপুর-উজানীগাঁও পর্যন্ত ১টি লটে ৩২২টি গাছ, জগন্নাথপুর-মমিনপুর-মজিদপুর পর্যন্ত ১টি লটে ৭২০টি গাছ, একই সড়কের হাবিবনগর থেকে ৭ নম্বর সেতু পর্যন্ত ১টি লটে ২২৮টি গাছ, জগন্নাথপুরের ইছগাঁও রাণীগঞ্জ থেকে ১টি লটে ১ হাজার ২৫২টি গাছ, কুশিয়ারা সেতু থেকে ইনাতগঞ্জ পর্যন্ত ১টি লটে ৪০০টি গাছ, সৈয়দপুর-শাহারপাড়া রোডে তিনটি লটে আরও ৮৮৪টি গাছ রয়েছে।
সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের গাছগুলো ১৯৯৩ সাল থেকে এবং পাগলা আউশকান্দি সড়কে গাছগুলো ২০০৯ সালে লাগানো হয়। পরিবেশবিদরা জানান, বর্তমানে তিনটি সড়কের প্রতিটি গাছই পরিপক্ব ও কাঠের জন্য মহামূল্যবান।
কাঠ ব্যবসায়ীরা জানান, ১০-১৫ বছর বয়সী একটি মেহগনি গাছের গড় বাজারদর ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। কিন্তু সুনামগঞ্জ বনবিভাগ ১৫-৩০ বছর বয়সী গাছগুলো মাত্র ১ হাজার ৩০০ টাকা দরে নিলামে বিক্রি করে দিয়েছে। সরকারি মূল্য তালিকার দোহাই দিয়ে ঠিকাদারদের সঙ্গে মনগড়া জরিপ করে মাত্র ৭০০ থেকে ২৫০০ টাকা ঘনফুট দরে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে শিমুল এন্টারপ্রাইজ সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের ৩৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী প্রায় সাড়ে ৫ হাজার গাছের প্রতিটি মাত্র ১ হাজার ৩৯১ টাকা দরে কিনে নেয়।
সরেজমিন দেখা গেছে, এই সড়কের গাছগুলো বড় ও বেড়ও বেশি। সড়কের প্রতিটি গাছের দাম ৪০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত হবে বলে জানিয়েছেন কিছু ব্যবসায়ী। কিন্তু বনবিভাগ ঠিকাদারদের সঙ্গে আঁতাত করে মাত্র ৮৯ লাখ ১১ হাজার ৬২৫ টাকায় নিলামে বিক্রি করে দেয়। এভাবে পানির দামে গাছগুলোকে নিলামে বিক্রি করে দিয়ে সরকারের রাজস্বের ক্ষতি হয়েছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের মোসাইদ আলীও প্রায় ১৫ বছর বয়সী পরিণত দেড় হাজারেরও অধিক কাঠগাছ মাত্র ১৯ লাখ ৯৮ হাজার ৭৫০ টাকায় কিনে নেন। হাজারেরও নিচে পড়েছে প্রতিটি গাছের মূল্য। এভাবে সরকারের কমপক্ষে ২৫ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। ইতোমধ্যে দুটি প্রতিষ্ঠানই ৮০ ভাগের বেশি গাছ কেটে নিয়ে গেছে।
‘হাওর বাঁচাও’ আন্দোলনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যেই আছে শুভঙ্করের ফাঁকি। তাছাড়া বন বিভাগ প্রচলিত বাজারদর অনুসরণ না করে, গাছগুলোর বেড় যথাযথভাবে না মেপে জরিপ করে ঠিকাদারদের স্বার্থ দেখে প্রতিবেদন জমা দিয়ে সরকারকে মোটা অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করেছে। অথচ এই গাছের টাকা দিয়েই সরকার পুরো সড়কটির উন্নয়নকাজ করে দিতে পারত।
সুনামগঞ্জ হাওর, নদী ও পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি মিজানুর রহমান রাসেল বলেন, সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়ক, পাগলা-আউশকান্দি, সুনামগঞ্জ-নিয়ামতপুর সড়কে গাছের নিলামের নামে দুর্নীতি হয়েছে। সরকারের কোটি কোটি টাকার গাছ মাত্র ১ কোটি টাকায় নিলাম দেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে বন বিভাগ ও ঠিকাদারের যোগসাজশ রয়েছে। ইউনূস সরকারের সময়ের এই ভয়াবহ দুর্নীতির তদন্ত হওয়া উচিত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স’মিল মালিক বলেন, প্রতিটি গাছের গড় মূল্য অন্তত ৪০ হাজার টাকা হবে। লাকড়িও হবে কোটি টাকার। কিন্তু বনবিভাগ নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করে দিয়েছে। এতে সরকারের ক্ষতি হয়েছে।
মেসার্স শিমুল এন্টারপ্রাইজের পরিচালক আব্দুর রহিম মিন্টুর প্রতিনিধি শামীম আহমদ বলেন, নিলাম হয়েছে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে। আমাদের প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে দরপত্র পেয়েছে। এখানে কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়নি। সরকারি দর অনুযায়ীই আমরা নিলাম পেয়েছি।
সুনামগঞ্জ বন বিভাগের ডেপুটি রেঞ্জার মো. আতিকুর রহমান বলেন, আমি সম্প্রতি যোগদান করেছি। নিলাম প্রক্রিয়া, মূল্য নির্ধারণ, ওয়ার্ক অর্ডার প্রদান কোনো কাজেই আমি যুক্ত ছিলাম না। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ভালো বলতে পারবেন। তবে যা কিছু হয়েছে সরকারি সিদ্ধান্তেই হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুর রহমানের মোবাইল নম্বরে কল দিলে তিনি তা ধরেননি।
৬৫ দিন আগে