সারাদেশ
রাজশাহীতে আলোচিত এসআই মাহবুব হাসানকে সংঘবদ্ধ পিটুনি
ভুক্তভোগী ও উত্তেজিত জনতার হাতে সংঘবদ্ধ পিটুনির শিকার হয়েছেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) বরখাস্ত হওয়া আলোচিত উপপরিদর্শক (এসআই) মাহবুব হাসান।
উপপরিদর্শক মাহবুব হাসানের বিরুদ্ধে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মী ছাড়া সাধারণ মানুষকেও আটক করে চাঁদাবাজি ও নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।
শনিবার (২৩ আগস্ট) মধ্যরাতে রাজশাহী নগরের হাজির মোড় এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে আটক করে স্থানীয় লোকজন। এরপর সংঘবদ্ধভাবে পিটিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদি মাসুদ এসআই মাহবুব হাসান আটক হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, মাহবুব হাসান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পরে দলীয় প্রভাবে তিনি পুলিশে চাকরি পান এবং আরএমপির গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) পোস্টিং নেন। এ সময় তিনি বিএনপি, জামায়াত, ছাত্রদল ও শিবিরের অসংখ্য নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার ও পঙ্গু করেছেন।
তবে শুধু রাজনৈতিক বিরোধীরাই নয়, সাধারণ মানুষও তার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। গ্রেপ্তার, মিথ্যা মামলা, চাঁদাবাজি এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
আরও পড়ুন: সাবেক সিইসি হুদার গণপিটুনিকে সমর্থন করে না বিএনপি: সালাহউদ্দিন
মাহবুব হাসানের বিরুদ্ধে করা একটি মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর এসআই মাহবুব হাসান সাদা পোশাকে নগরের শিমলাবাগান এলাকা থেকে রাজীব আলী রাতুল (৩১) নামের এক যুবককে তুলে নিয়ে যান। এরপর রাজীবের বাবাকে ফোন করে জানানো হয়, তাৎক্ষণিকভাবে পাঁচ লাখ টাকা না দিলে ছেলেকে ক্রসফায়ারে দেওয়া হবে। ভয়ে শিমলাবাগানে গিয়ে মাহবুব হাসানের হাতে পাঁচ লাখ টাকা তুলে দেন বাবা মাসুদ রানা। এ সময় মাহবুব হাসান রাজীবের বাবাকে বাড়ি চলে যেতে বলেন এবং রাজীবকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু পরদিন রাজীবকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
দীর্ঘ ১৬ মাস কারাভোগ করার পর জামিন পান রাজীব। এর এক মাস আগে নগরের রেলগেট এলাকায় মাহবুব হাসানের সঙ্গে দেখা হলে তিনি টাকা ফেরত চান। তখন মাহবুব হাসান মারমুখী আচরণ করে বলেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ করেছেন। টাকা চাইলে মেরে ফেলা হবে বলে ভুক্তভোগীকে ভয় দেখান।
এ ছাড়া গত বছর গণঅভ্যুত্থানে রাজশাহীতে দুজন শহীদ হন—আলী রায়হান ও সাকিব আনজুম। ডিবির বরখাস্ত হওয়া এসআই মাহবুব হাসান দুটি হত্যা মামলারও আসামি।
১৯৫ দিন আগে
মানিকগঞ্জের কালিগঙ্গায় ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত
মানিকগঞ্জের কালিগঙ্গা নদীতে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ৩৫টি নৌকা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। বাইচ দেখতে নানা বয়সী কয়েকশ মানুষ নদীর দুই পাড়ে ভিড় জমায়।
শনিবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে ঐতিহ্যবাহী এই নোৗকা ছোটানোর প্রতিযোগিতা শুরু হয়।
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এই বাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আয়োজকরা জানান, মানুষকে আনন্দ দিতেই এই আয়োজন করা হয়েছে। গ্রামীণ ঐতিহ্য ধরে রাখতে আগামীতে আরও এর পরিসর আরও বড় করা হবে বলেও জানিয়েছেন তারা।
নৌকা বাইচের খবর শুনে শনিবার (২৩ আগস্ট) সকাল থেকেই কালিগঙ্গা নদীর দুই পাড়ে জড়ো হতে থাকে নানা বয়সী হাজারো মানুষ। দুপুর ২টায় শুরু হয় নৌকা বাইচ। মানিকগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী পাবনা, রাজবাড়ি, ফরিদপুর, টাঙ্গাইল জেলার ৩৫টি নৌকা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।
১৯৫ দিন আগে
আধিপত্য বিস্তার নিয়ে পাবনায় দুপক্ষের সংঘর্ষ, যুবদল নেতা নিহত
পাবনা সদর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় মেহেদী মাসুদ পাভেল মোল্লা (৪০) নামে এক যুবদল নেতা নিহত হয়েছেন এবং গুরুতর আহত হয়েছেন তার চাচাতো ভাই ইমরান সজিব মোল্লা (২৫)।
শনিবার (২৩ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সদর উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর ব্রিজের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত পাভেল ইসলামপুর গ্রামের মৃত মুসলেম মাস্টারের ছেলে এবং গয়েশপুর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। আহত ইমরান একই গ্রামের আব্দুর সবুর মোল্লার ছেলে।
আরও পড়ুন: কিশোরগঞ্জে যুবদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ১, দুই নেতা বহিষ্কার
স্থানীয়রা জানান, মাদক ব্যবসা ও পূর্ব বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের জনি, জুয়েল, নজরুল, মফিজ উদ্দিন, ময়েজ উদ্দিন প্রামানিক, তৌফিক উদ্দিন, আশরাফ আলী, লিয়াকত ও দুলালদের সঙ্গে বিরোধ চলছিল পাভেলদের। শনিবার রাত ১০টার দিকে ইসলামপুর ব্রিজের সামনে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন পাভেল ও ইমরানকে কুপিয়ে জখম করে। পরে আশপাশের স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক পাভেলকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ইমরানকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম জানান, পূর্ব বিরোধের জেরে এই সংঘর্ষ হয়েছে। এতে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
১৯৫ দিন আগে
নাটোরে বাসের ধাক্কায় দুইজন নিহত
নাটোরে বাসের ধাক্কায় ভ্যানচালকসহ দুইজন নিহত হয়েছেন।
শনিবার (২৩ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার বারুরহাট এলাকায় নাটোর-বগুড়া মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— ভ্যানচালক মোজাম্মেল হক (৪০) ও যাত্রী আখতার হোসেন (৪৮)। তাদের বাড়ি জেলার সিংড়া উপজেলার বড় বাড়ইহাটী গ্রামে।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক পরিবারের ৪ জন নিহত
ঝলমলিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্তা কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুর রহমান জানান, বগুড়া থেকে দক্ষিনাঞ্চলগামী যাত্রীবাহী একটি নৈশকোচ বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ভ্যানকে ধাক্কা দিলে সেটি চুর্ণবিচুর্ণ হয়ে রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন ভ্যানচালক মোজাম্মেল হক ও যাত্রী আখতার হোসেন।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাদের উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনার পর পাবনা সীমান্ত থেকে বাসটি আটক করলেও চালক ও হেলপার পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি।
১৯৫ দিন আগে
মরদেহ নিয়ে মায়ের মহাসড়ক অবরোধ: সেই ছেলে জীবিত উদ্ধার
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় নিখোঁজের পর লাশ শনাক্ত করে দাফন করা হলেও ১৭ দিন পর রবিউল ইসলাম নাইম (১৪) নামের ওই কিশোরকে জীবিত উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২২ আগস্ট) হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার সৈয়দপুর এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ।
নাইম ওসমানীনগর উপজেলার গোয়ালাবাজার এলাকার গদিয়াচর গ্রামের কনাই মিয়ার ছেলে।
জানা যায়, নাইম ওসমানীনগর উপজেলার গোয়ালাবাজার-সংলগ্ন ব্রাহ্মণগ্রাম সুপ্রিম ফিলিং স্টেশন মার্কেটের বগুড়া রেস্টুরেন্টের কর্মচারী ছিল। গত ২৬ জুলাই ওই রেস্তোরাঁ থেকে নিখোঁজ হয় সে। এরপর গত ৩ আগস্ট মৌলভীবাজারের কুলাউড়া রেলস্টেশনের পাশের একটি ডোবা থেকে এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। খবর পেয়ে রবিউলের পরিবার লাশটি তাদের ছেলের বলে শনাক্ত করে এবং পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তার লাশ দাফন করা হয়।
সে সময় রবিউলের পরিবারের অভিযোগ ছিল, বগুড়া রেস্টুরেন্টের মালিক বুলবুল মিয়া তাদের ছেলে রবিউলকে হত্যা করে কুলাউড়ায় লাশ ফেলে রেখেছেন।
লাশ উদ্ধারের পর ওসমানীনগর ও কুলাউড়া থানায় মামলা করতে চাইলে প্রথমে দুটি থানাই গড়িমসি করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ৬ আগস্ট লাশ নিয়ে রবিউলের মা ও স্বজনরা সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেন। কিন্তু লাশ দাফন করা হলেও গেল শুক্রবার (২২ আগস্ট) সৈয়দপুর এলাকায় রবিউলকে জীবিত অবস্থায় পাওয়া যায়। অর্থাৎ, নিখোঁজের ১৭ দিন পর রবিউলকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, সৈয়দপুর এলাকায় রবিউলের নানার বাড়ি। রবিউল তার নানার বাড়িতে আত্মগোপনে ছিল। শুক্রবার হঠাৎ তার পরিবারের লোকজনই তাকে খুঁজে পেয়ে কুলাউড়া থানাপুলিশকে খবর দিলে পুলিশ রবিউলকে হেফাজতে নিয়ে শনিবার মৌলভীবাজার আদালতে তার জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য পাঠায়। ঠিক কি কারণে সে আত্মগোপনে ছিল, তা সে আদালতের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে জানিয়েছে।
পুলিশের ধারণা, রেস্তোরাঁর মালিকের সঙ্গে মনোমালিন্যের কারণে সে আত্মগোপনে ছিল।
আরও পড়ুন: সিলেটে ছেলের মরদেহ নিয়ে মহাসড়কে মায়ের বিচার দাবি
এদিকে, কুলাউড়া রেলস্টেশনের পাশের ডোবা থেকে যে কিশোরের লাশ উদ্ধার করে সেটি রবিউলের বলে করে দাফন করা হয়েছে, এখন পর্যন্ত ওই কিশোরের পরিবার বা অন্য কোনো পক্ষ থেকে খোঁজ নেওয়া হয়নি। তবে যদি কেউ ওই কিশোরের খোঁজ নিতে আসেন, কিংবা দাবি করেন, তাহলে আগের ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট ও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার লাশ পরিবারের হেফাজতে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক কওমি বলেছেন, রবিউলের পরিবার থেকে যে মামলাটি করা হয়েছে তা হয়তো নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। যেহেতু এটি হত্যা মামলা ছিল এবং এখন রবিউলকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে তাই মামলাটি শেষ হয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, ‘আগের লাশ উদ্ধার ও দায়েরকৃত মামলার বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
১৯৫ দিন আগে
সাংবাদিক বিভুরঞ্জনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন, মরদেহ যাচ্ছে সিদ্ধেশ্বরীর বাসায়
মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকারের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এরপর সেটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ভাই চিরঞ্জন সরকার তা তা গ্রহণ করেছেন।
এরপর ফ্রিজিং গাড়িতে করে এখন তার মরদেহটি ঢাকার বাসভবনে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শনিবার (২৩ আগস্ট) দুপুর সোয়া ১টার দিকে মুন্সীগঞ্জ থেকে গাড়িটি রওনা হয়।
সাংবাদিক চিররঞ্জন সরকার জানান, ফ্রিজার অ্যাম্বুলেন্সটি তার মরদেহ নিয়ে প্রথমে যাবে রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীর বাসভবনে। পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের শেষ শ্রদ্ধা শেষে তাকে নেওয়া হবে সবুজবাগের বরেদেশ্বরী কালী মন্দিরে। সেইখানেই হবে শেষকৃত্যের অনুষ্ঠান।
আরও পড়ুন: মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় নিখোঁজ সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকারের লাশ উদ্ধার
আজ মুন্সীগঞ্জের সাংবাদিকরা তাকে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান। এই সময় কান্নার ভেঙ্গে পড়েন অনেকে।
ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শেখ মো. এহসানুল ইসলাম বলেন, তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে ফরেনসিক বিভাগের রিপোর্টের পর চূড়ান্তভাবে বলা যাবে।
বৃহস্পতিবার অফিসের উদ্দেশে বাসা থেকে বেরিয়ে তিনি আর ফেরেননি। পরে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার চরবলাকি-সংলগ্ন মেঘনা নদী থেকে শুক্রবার দুপুরে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। ৫ দশক ধরে সাংবাদিকতা করছিলেন তিনি।
১৯৬ দিন আগে
কিশোরগঞ্জে যুবদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ১, দুই নেতা বহিষ্কার
কিশোরগঞ্জে যুবদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার ঘটনায় জেলা যুবদলের দুই নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
শুক্রবার (২২ আগস্ট) রাতে যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির দপ্তর সম্পাদক নুরুল ইসলাম সোহেলের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বহিষ্কৃতরা হলেন— কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আলী আব্বাস রাজন এবং সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদুল হক এমদাদ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় নীতি ও আদর্শবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব ধরনের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন।
এতে আরও বলা হয়, বহিষ্কৃতদের কোনো ধরনের অপকর্মের দায়ভার দল বহন করবে না। একইসঙ্গে যুবদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ঢাকায় ব্যবসায়ীকে হত্যার ঘটনায় যুবদলের ২ নেতাকে আজীবন বহিষ্কার
কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সভাপতি খসরুজ্জামান (জিএস) শরীফ বহিষ্কারের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
গতকাল (শুক্রবার) বিকেলে কিশোরগঞ্জে যুবদলের দুই পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে মো. হিমেল (২৪) নামের এক যুবক নিহত হন এবং কমপক্ষে ১০ জন আহত হন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিহত ব্যক্তির পক্ষের লোকজন প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় পুলিশ-সেনাবাহিনীসহ প্রশাসনের বাড়তি নিরাপত্তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
১৯৬ দিন আগে
ফরিদগঞ্জে চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু, হাসপাতাল ভাঙচুর
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে প্রাইভেট হাসপাতালে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসকের অবহেলায় ওই রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (২২ আগস্ট) সকালে উপজেলার কেরোয়া এলাকায় অবস্থিত ফরিদগঞ্জ ডায়াবেটিক ও জেনারেল (প্রাইভেট) হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত (বৃহস্পতিবার) রাতে ফরিদগঞ্জের কেরোয়া গ্রামের ইসহাক মিয়ার স্ত্রী কোহিনুর বেগম (৬৫) অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন। শনিবার সকালে তিনি মারা যান। স্বজনদের দাবি, চিকিৎসকের অবহেলার কারণেই কোহিনুর বেগমের মৃত্যু হয়েছে।
এ নিয়ে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বাগ্বিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে হাসপাতালের কিছু কর্মচারী স্বজনদের সঙ্গে স্বজনদের গায়ে হাত তোলে বলে অভিযোগ ওঠে। এতে উত্তেজিত স্বজনরা ও স্থানীয় কিছু লোক মিলে হাসপাতাল ভাঙচুর করেন।
খবর পেয়ে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ, সাবেক পৌর মেয়র মঞ্জিল হোসেন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ঘটনার সময় হাসপাতালের ভেতরে প্রায় দুই শতাধিক রোগী ও স্বজন আটকা পড়েন এবং আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
আরও পড়ুন: বরিশালে চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার
মৃত রোগীর বাবা বিল্লাল হোসেনও আক্রমনকারীদেরকে নিবৃত্ত করতে ব্যর্থ হন বলে জানান।
মৃত কোহিনুর বেগমের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করে বলেন, ‘রোগীকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাতে অনুমতি দেয়নি। একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও হাসপাতালের অন্যতম পরিচালক ও সিনিয়র চিকিৎসক ডা. সাদিক হাসপাতালে আসেননি। চিকিৎসকের এসব অবহেলায় আমাদের রোগী মারা গেছেন।’
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. হুমায়ুন কবীর ইউএনবিকে বলেন, ‘আমি কয়েকবার রোগীকে দেখেছি। আমাদের কোনো অবহেলা ছিল না। উপজেলা পর্যায়ে যতটুকু সম্ভব আমরা চিকিৎসা সেবা দিয়েছি। শুক্রবার সকালে এই রোগীকে ঢাকায় রেফার করা হয়েছিল কিন্তু তিনি সকালেই মারা যান।’
ফরিদগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) রাজিব চক্রবর্তী ইউএনবিকে বলেন, ‘খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে আমাদের পুলিশ সদস্যরা রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাহায্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন।’
১৯৬ দিন আগে
কুমিল্লায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক পরিবারের ৪ জন নিহত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক পরিবারের ৪ জন নিহত হয়েছেন। সিমেন্ট বোঝাই একটি লরি উল্টে প্রাইভেট কারের ওপর পড়লে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময়ে কভার্ড ভ্যানের চাপায় একটি সিএনজি অটোরিকশার আরও দুই যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২২ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের মোহাম্মদ ওমর আলী (৮০), তার স্ত্রী নুরজাহান বেগম (৬৫), বড় ছেলে আবুল হাশেম (৫০) এবং ছোট ছেলে আবুল কাশেম (৪৫)। প্রাইভেট কারটি চালাচ্ছিলেন আবুল হাশেম।
ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান ইউএনবিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
আরও পড়ুন: মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে ফের দুর্ঘটনা, নিহত ৩
উদ্ধার কাজে অংশ নেওয়া পুলিশের কনস্টেবল সাইফুল ইসলাম বলেন, দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে মহাসড়কের পদুয়ার বাজার ইউটার্নে ঢাকামুখী লেনে একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টো পথে এসে রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করছিল। তখন বিপরীত দিক থেকে আসা সিমেন্টবোঝাই লরিটি বাসটিকে পাশ কাটাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এ সময় বাসের পেছনে থাকা একটি প্রাইভেট কার ও একটি সিএনজি অটোরিকশাকে চাপা দেয় লরিটি।
তিনি আরও জানান, এতে ঘটনাস্থলেই প্রাইভেট কারের চালকসহ চারজন নিহত হন। এ ছাড়া সিএনজিতে থাকা তিন যাত্রী গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার মজুমদার জানান, এই দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চারজন নিহত হয়েছেন। পুলিশ মরদেহ ও দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেট কারটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গেছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
১৯৭ দিন আগে
খুলনায় ফেরি ও যাত্রীবাহী ট্রলারের সংঘর্ষ, কিশোর নিখোঁজ
খুলনায় ফেরির সঙ্গে যাত্রীবাহী ট্রলারের সংঘর্ষে আকাশ (১৭) নামে এক কিশোর নিখোঁজ হয়েছে। খুলনা সদর নৌ-পুলিশ, রূপসা নৌ-পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ নৌবাহিনীর ডুবুরিরা তাকে উদ্ধার করতে অভিযান চালাচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে জেলখানা ও সেনেরবাজার ঘাটের মধ্যবর্তী স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ আকাশ রূপসা উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের সাহাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা দিলীপ সরকারের ছেলে।
পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে একটি যাত্রীবাহী ট্রলার জেলখানা ঘাট থেকে সেনেরবাজারের দিকে যাচ্ছিল। মাঝপথে বিপরীত দিক থেকে আসা ফেরির সঙ্গে ট্রলারটির সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় ট্রলার থেকে দুজন নদীতে পড়ে যায়। তাদের মধ্যে একজনকে উদ্ধার করা গেলেও আকাশের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে সাগরে ট্রলার ডুবির ঘটনায় ২ মরদেহ উদ্ধার, এখনো নিখোঁজ ৬
প্রথমে স্থানীয়রা উদ্ধার অভিযানে অংশ নিলেও পরে খুলনা সদর নৌ-পুলিশ, রূপসা নৌ-পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর ডুবুরিরাও যোগ দেন।
রূপসা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) শিমুল ঘোষ বলেন, ‘নৌকার একটি অংশ ফেরির নিচে ঢুকে যায়। এতে কিছু যাত্রী নদীতে পড়ে যান এবং কিছু যাত্রী ফেরিতে উঠে পড়েন। এর মধ্যে কিশোর আকাশের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
১৯৭ দিন আগে