বিশেষ সংবাদ
মানুষ-হাতি দ্বন্দ্ব কমাতে দুই পরিকল্পনা সরকারের
দেশের বনভূমি সংলগ্ন ও পার্বত্য এলাকায় মানুষ ও হাতির সহাবস্থান উভয়েরই ক্ষতির কারণ হয়ে উঠেছে। হাতির পদদলনে যেমন কৃষিজমি নষ্ট ও প্রাণহানি হচ্ছে, তেমনই বন্যপ্রাণীটির উৎপাত ঠেকাতে মানুষের স্থাপিত বৈদ্যুতিক ফাঁদ ও গুলিতে মারা পড়ছে হাতি। এমন বাস্তবতায় মানুষ ও হাতির মধ্যে দূরত্ব তৈরির মাধ্যমে দ্বন্দ্ব কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
দুই পরিকল্পনা
হাতি ও মানুষের মধ্যে দূরত্ব বাড়াতে দুই পরিকল্পনা—বনভূমি পুনরুদ্ধার ও ইকো-ট্যুরিজমের বিকাশ—সামনে রেখে এগোচ্ছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। এর মধ্য দিয়ে পরিবেশ ও জলবায়ু সংকট মোকাবিলা সহজতর এবং হাতিদের নিজস্ব আবাসে বিচরণ নিশ্চিত করতে চায় সরকার।
মানুষ-হাতি দ্বন্দ্ব নিরসনের পাশাপাশি ইকো ট্যুরিজম দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তুরস্কের অভিজ্ঞতায় আস্থা
এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে, বিশেষ করে ইকো-ট্যুরিজম খাতে তুরস্কের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ।
রাজধানীর পান্থপথের পানি ভবনে ২৭ মে নিজ দপ্তরে এক বৈঠকে এ কথা জানান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
ঢাকায় নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ওই বৈঠকে অংশ নেয়। ওই সময় মানুষ-হাতি দ্বন্দ্বপ্রবণ এলাকাগুলোতে বন পুনরুদ্ধারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন উপদেষ্টা রিজওয়ানা।
হাতি নিধন ও মানুষ হত্যা
চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসেই হাতি নিধন ও হাতির মাধ্যমে মানুষের প্রাণহানির একাধিক ঘটনা ঘটেছে।
গত ৫ জানুয়ারি কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং রেঞ্জের হরিখোলা গহিন পাহাড়ের সংরক্ষিত বনে একটি হাতি মারা যায়। পরে ১৮ জানুয়ারি একই উপজেলার সংরক্ষিত বনে একটি বাচ্চা হাতির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরের মাসে ১২ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজারের চকরিয়ায় বৈদ্যুতিক ফাঁদে পড়ে আরও একটি হাতি নিহত হয়। পাহাড়-সংলগ্ন তামাকখেত থেকে মৃত হাতিটি উদ্ধার করে বন বিভাগ। স্থানীয়রা জানান, তামাকখেত রক্ষা করতে পাতা বৈদ্যুতিক ফাঁদে পড়েই হাতিটি মারা যায়।
মার্চ মাসে ফের আসে হাতি মৃত্যুর খবর। সে সময় প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল, অসুস্থতাজনিত কারণে সেটির মৃত্যু হয়েছে, তবে পরের দিন ময়নাতদন্তে জানা যায়, হাতিটিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
এর ঠিক এক সপ্তাহ আগে উখিয়ার জুমছড়ি সংরক্ষিত বনে একটি বন্যহাতি রক্তবমি করতে করতে মারা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
তার দুই দিন পর ২০ মার্চ শেরপুরের নালিতাবাড়ীর গারো পাহাড়ে ঘটে আরও একটি বন্যহাতি মৃত্যুর ঘটনা। পাহাড়ের পূর্ব সমশ্চুড়া এলাকায় ধানখেতের পাশে স্থাপিত বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে প্রাণ যায় হাতিটির।
এরপর এক মাস বিরতি দিয়ে গত সপ্তাহে মানুষ-হাতি দ্বন্দ্বের বিষয়টি আরও একবার খবরের শিরোনাম হয়। এবারও মৃত্যুর খবর, তবে হাতির নয়; মানুষের।
গারো পাহাড়ের গজনীতে বন্যহাতির আক্রমণে দেড় ঘণ্টার ব্যবধানে দুজনের মৃত্যু হলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্ধ্যার পর ঘর থেকে বের না হওয়ার এবং সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে বন বিভাগ।
এতসব ঘটনার পরও হাতি নিধন থেমে নেই। বন বিভাগ বারবার নিরুৎসাহিত করলেও এসব কর্মকাণ্ড ঘটেই চলেছে। আবার আত্মরক্ষার্থে অনেক সময় অবধারিতভাবেই মানুষ কিংবা হাতির প্রাণ যাচ্ছে।
৩৭০ দিন আগে
চা শ্রমিকদের সংগ্রাম: শতাব্দীর বঞ্চনার মাঝে ক্ষীণ আশার আলো
ভোর হতেই লবণ দিয়ে এক মগ লাল চা আর সঙ্গে দুই মুঠো চাল ভাজা খেয়ে ছুটে যান তারা চা বাগানে। অথচ যাদের শ্রমে দেশজুড়ে এই চায়ের খ্যাতি, তারা নিজেরাই দুধ-চিনি মেশানো এক কাপ চা পান করার সামর্থ্য রাখেন না। কাঠফাটা রোদে মাইলের পর মাইল হাঁটতে হাঁটতে তারা সংগ্রহ করেন চা পাতা। দুপুরে ক্ষণিকের বিরতিতে যদি কপালে থাকে, কাঁচা মরিচ আর পাতার চাটনি দিয়ে খান ভাত। আবার অনেক সময় মুড়ি কিংবা একটু চানাচুর দিয়েই মধ্যাহ্নভোজ সারতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই নিভৃতে কঠিন এক জীবন সংগ্রামের পথ পাড়ি দিয়ে চলেছেন তারা।
চায়ের শেকড়ে ঔপনিবেশিক শেকল
প্রায় দেড়শ বছর আগে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকদের প্রলোভনে ভারতে বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা থেকে এসব চা শ্রমিকদের সিলেটে আনা হয়। তাদের অধিকাংশই ছিলেন নারী।
‘গাছ নাড়লেই টাকা পড়ে’ কিংবা ‘মাটি খুঁড়লেই সোনা মেলে’র মতো অবাস্তব ও অলীক কথায় ‘আরকাট্টি’ নামে পরিচিত নিয়োগ এজেন্টরা তাদের মন ভুলিয়েছিলেন। আর তারপর থেকেই শুরু হয় শোষণের ইতিহাস; যার ফলে আজও দুঃখ, সংগ্রামের ভারী শৃঙ্খল বয়ে বেড়াতে হচ্ছে তাদের।
১৮৬৩ সালের শ্রম অভিবাসন আইন এই নিয়োগকে আনুষ্ঠানিক করে, তবে বাস্তবতা ছিল অনেক কঠিন। শ্রমিকরা কঠোর পরিস্থিতি, বিষাক্ত সাপ, বন্যপ্রাণী ও বাগান মালিকদের নিদারুণ শোষণের মুখোমুখি হয়।
এই শোষণের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯২১ সালের ‘মুলুকে চলো’ আন্দোলনে হাজার হাজার শ্রমিক ঘরে ফিরে যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ব্রিটিশ বাহিনীর তোপের মুখ থেকে রেহাই পাননি তারা। চাঁদপুরে ব্রিটিশ বাহিনীর হাতে ঘটে এমনই এক ভয়াবহ গণহত্যা, যেখানে শত শত মানুষ নিহত হন। ফলে ঘরে আর ফেরা হয় না তাদের, আর নিয়তি মেনে নিয়ে চায়ের শেকড়ের সঙ্গেই নিজেদের শেকড় রচনা করতে হয় শ্রমিকদের। তার ধারাবাহিকতায় সিলেটের চা শ্রমিকরা কম মজুরি, দুর্বিষহ জীবনযাত্রা, পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ, সীমিত ডিজিটাল সংযোগ ও সন্তানদের জন্য সীমিত শিক্ষার সুযোগের মতো সমস্যার মধ্যে জীবনধারণ করে চলেছেন।
মজুরির নামে অবজ্ঞা
চা শ্রমিকদের সবচেয়ে বড় বঞ্চনার জায়গা তাদের মজুরি। ২০২২ সালে আন্দোলনের মুখে তাদের দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা থেকে ১৭০ টাকায় উন্নীত হয়। কিন্তু ২০২৫ সালেও তাদের ৩০০ টাকা দৈনিক মজুরির দাবি পূরণ হয়নি। তার ওপর মজুরি বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি যেমন অপূর্ণ, তেমনি অর্থপ্রদানে বিলম্বও নৈমিত্তিক ঘটনা। কখনো কখনো ২০ সপ্তাহ পর্যন্ত বেতন না পেয়ে তারা রাস্তায় নামতে বাধ্য হন।
আরও পড়ুন: বকেয়া মজুরির দাবিতে রবিবার সড়ক অবরোধের ঘোষণা চা শ্রমিকদের
চা শ্রমিক ইউনিয়নের সিলেট ভ্যালির সভাপতি রাজু গোয়ালা বলেন, ‘১২০ টাকা দৈনিক মজুরি দিয়ে পরিবার চালানো প্রায় অসম্ভব।’
৩৭১ দিন আগে
উদ্বোধনের আগেই সমুদ্রে বিলীন কুয়াকাটার ‘মেরিন ড্রাইভ’
নির্মাণকাজ প্রায় শেষ হলেও উদ্বোধনের আগেই জোয়ারের তোড়ে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কুয়াকাটার মেরিন ড্রাইভের আদলে নির্মিত সড়কের বড় অংশ ধসে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ মে) সকাল ১০টার দিকে শুরু হওয়া জোয়ারের তাণ্ডবে জিরো পয়েন্ট থেকে পূর্বদিকে নির্মাণাধীন দুই কিলোমিটার সড়কের একাধিক অংশ ধসে পড়ে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, পুলিশ বক্স, সরদার মার্কেট, ফুচকা মার্কেটসহ একাধিক স্থাপনা সাগরের ঢেউয়ে বিলীন হয়েছে। মাইকিং করে পর্যটকদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন পুলিশ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা।
তবে মেরিন ড্রাইভ সড়কের এই বেহাল দশার জন্য নিম্নমানের কাজ ও পর্যাপ্ত তদারকির অভাবকে দায়ী করেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি নির্মাণকালে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের তদারকির ঘাটতি ছিল।
দ্রুত মেরিন ড্রাইভ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি করেছেন স্থানীয়রা। তাদের আশঙ্কা, অবিলম্বে ব্যবস্থা না নিলে পুরো প্রকল্পটি ধ্বংস হয়ে যাবে।
আরও পড়ুন: নদীভাঙন ও তলিয়ে যাওয়া ফসল নিয়ে দিশেহারা কুড়িগ্রামবাসী
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল বশার বলেন, ‘সামনে বর্ষাকাল আসছে, সমুদ্র তখন আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবে। সেই সময় মেরিন ড্রাইভের বেহাল দশা আরও বাড়বে।’
৩৭১ দিন আগে
নদীভাঙন ও তলিয়ে যাওয়া ফসল নিয়ে দিশেহারা কুড়িগ্রামবাসী
বর্ষা এখনো ঠিকঠাক এসে পৌঁছায়নি। তবুও আগেভাগেই কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে ভাঙন আর দুর্ভোগ। ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও তিস্তা নদীর পাড়ে বসবাসকারী মানুষজন এখন আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
সরেজমিনে জানা গেছে, গত কয়েক দিনেই ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও তিস্তার ভাঙনে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের মোল্লার হাট, রসুলপুর, কড্ডার মোড়সহ সদর, চিলমারী, রাজারহাট, রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলার একাধিক এলাকায় শতাধিক বাড়িঘর, আবাদি জমি ও গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের মুখে পড়েছে স্থানীয় রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদরাসা, কমিউনিটি ক্লিনিকসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও।
নদীপাড়ের বাসিন্দারা বলছেন, যদি ভাঙন ঠেকানো যেত, তাহলে ঘরবাড়ি আর ফসলের এমন ক্ষতি হতো না। সরকারি-বেসরকারি বহু স্থাপনাও রক্ষা পেত।
৩৭৫ দিন আগে
দাবিদাওয়া নিয়ে বিভিন্ন সংগঠনের আন্দোলনে প্রশাসনে অচলাবস্থা
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর প্রশাসনে যে বিশৃঙ্খলা শুরু হয়েছিল, তার মধ্যেই নতুন করে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলনে নেমেছে একাধিক সংগঠন। সচিবালয়ের ভেতরে-বাইরে চলছে মিছিল, অবস্থান কর্মসূচি, কর্মবিরতি ও আল্টিমেটাম। এতে করে প্রশাসনের প্রাত্যহিক কার্যকলাপ ব্যাহত হয়ে একপ্রকার অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
গত আগস্ট থেকেই প্রশাসনে যে অস্থিতিশীলতা শুরু হয়, তা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এর মধ্যে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল, বিতর্কিত আমলাদের অপসারণ, সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ বাতিল, অভিন্ন নিয়োগবিধি প্রত্যাহারসহ নানা দাবিতে আন্দোলন করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অবসরে যাওয়া কর্মকর্তারাও বিভিন্ন দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে মাঠ প্রশাসনে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের ফের অবরুদ্ধ করার ঘটনা ঘটেছে। এর আগে ডিসি নিয়োগ নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে হাতাহাতি পর্যন্ত হয়েছিল।
গত কিছুদিন ধরেই বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে সচিবালয়ের ভেতরে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মিছিল করছেন, অবস্থান নিচ্ছেন। আন্দোলনের দিকে যাচ্ছেন ২৫ ক্যাডারের কর্মকর্তারাও, মানববন্ধন করে কর্মবিরতির আল্টিমেটাম দিয়েছেন তারা।
বিক্ষোভের কেন্দ্রে সরকারি চাকরি অধ্যাদেশ
সরকারি চাকরি অধ্যাদেশ ২০২৫-এর খসড়া অনুমোদন বাতিল ও প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলন করেছে বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদ।
শনিবার (২৪ মে) সকাল থেকে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ অধ্যাদেশের বিরোধিতা করে সচিবালয়ে মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। কর্মকর্তারা এ অধ্যাদেশকে ‘নিবর্তনমূলক ও কালাকানুন’ আখ্যায়িত করে অধ্যাদেশ থেকে অসঙ্গতিপূর্ণ ধারা বাতিলের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবকে অনুরোধ জানান।
আরও পড়ুন: অধ্যাদেশ সংশোধনের আশ্বাসে এনবিআর কর্মকর্তাদের আন্দোলন প্রত্যাহার
গত ২২ মে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য চারজন উপদেষ্টাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে পরিষদের সভাপতি মো. বাদিউল কবীর ইউএনবিকে বলেন, এই অধ্যাদেশে এমন কিছু ধারা রয়েছে, যা সরকারি কর্মকর্তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই শাস্তি বা চাকরিচ্যুতির পথ খুলে দিয়েছে। অধ্যাদেশের খসড়াটিকে ‘সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক’ আখ্যায়িত করে তা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছি আমরা।
তিনি আরও বলেন, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-তে সব আচরণবিধি ও অন্যান্য বিধান বিবৃত আছে। এখন অধ্যাদেশের মাধ্যমে ‘নিবর্তনমূলক’ ধারা সংযোজন করা হচ্ছে। এটি একটি কালাকানুন। আমরা দ্রুত সময়ে এই অধ্যাদেশ প্রত্যাহার চাই।
২০১৮ সালের সরকারি চাকরি আইন সংশোধনে অধ্যাদেশের যে খসড়া নিয়ে সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ক্ষুব্ধ, তাতে শৃঙ্খলা বিঘ্নিত, কর্তব্য সম্পাদনে বাধা, ছুটি ছাড়া কর্মে অনুপস্থিত, কর্তব্য পালন না করার জন্য উসকানির জন্য কোনো ধরনের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে চাকরিচ্যুতির বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
এর প্রতিবাদে গতকালও (রবিবার) সচিবালয়ে বিক্ষোভ করেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদ। এ সময়ে অধ্যাদেশটি বাতিল না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
বৈষম্যবিরোধী ফোরামের কর্মসূচি
এদিকে, আওয়ামী দোসর হিসেবে চিহ্নিত আমলাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে আন্দোলনে নেমেছে ‘বৈষম্যবিরোধী কর্মচারী ঐক্য ফোরাম’।
সংগঠনটির সদস্য সচিব কাজী মেরাজ হোসেনের দাবি, ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগী ও লুটেরা ওইসব কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করতে হবে। জনপ্রশাসন সচিবসহ চুক্তিভিত্তিক কাজে নিয়োজিত সবার চুক্তি বাতিল করতে হবে।
আরও পড়ুন: রাজস্ব সংস্কারে আন্তর্জাতিক মান অনুসরণের দাবি ঐক্য পরিষদের
তিনি বলেন, উপদেষ্টা, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও জনপ্রশাসন সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের অপসারণের অনুরোধ জানিয়ে একটি তালিকা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা এ নিয়ে বারবার আশ্বাস দিলেও কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
এমন বাস্তবতায় বিতর্কিত কর্মকর্তাদের অপসারণের প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে রবিবার (২৫ মে) সকাল ১০টায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশান মন্ত্রণালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে সংগঠনটি।
এর আগে, গত ১৩ মে বৈষম্যবিরোধী কর্মচারী ঐক্য ফোরামের কার্যকরী সভাপতি ও সাবেক সচিব আবদুল খালেকের নেতৃত্বে ৩৫-৪০ জন কর্মকর্তা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রেষণ (এপিডি) অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিবের দপ্তরে সামনে অবস্থান নেন। মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এরফানুল হককে সারা দিন অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা।
অভিযোগ রয়েছে, সে সময় উপসচিব জামিলা শবনমকেও হেনস্তা করা হয় এবং তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়।
তার আগে, আওয়ামী লীগ আমলে নিজেদের বঞ্চিত দাবি করা কর্মকর্তারা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. মোখলেস উর রহমানকে অবরুদ্ধ করেছিলেন।
এনবিআর বিলুপ্তি নিয়ে উত্তেজনা
গত ১২ মে সরকার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিলুপ্ত করে দুটি বিভাগ গঠনের অধ্যাদেশ জারি করে। এর প্রতিবাদে কাস্টমস, ভ্যাট ও আয়কর বিভাগের কর্মকর্তারা ধারাবাহিক কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা জারিকৃত অধ্যাদেশ বাতিল, এনবিআর চেয়ারম্যানের অপসারণ ও পরামর্শক কমিটির সুপারিশ ওয়েবসাইটে প্রকাশের দাবি জানিয়েছে আসছেন।
আরও পড়ুন: সরকারি কর্মচারী অধ্যাদেশ বাতিল দাবিতে সচিবালয়ে বিক্ষোভ
এর মধ্যে অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বৈঠকের পরও বিষয়টির সুরাহা হয়নি। গত ২২ মে অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, সরকার আপাতত এনবিআরকে ভাগ করছে না। তবে আন্দোলনকারীরা এই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করেছে।
২৫ ক্যাডার কর্মকর্তাদের কলমবিরতির ডাক
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর থেকেই বিভিন্ন ইস্যুতে প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈষম্য নিরসনে ২৫টি ক্যাডারের কর্মকর্তারা নানা কর্মসূচি পালন করে আসছেন।
‘আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদ’-এর ব্যানারে দীর্ঘদিন ধরে তারা ‘ক্যাডার যার মন্ত্রণালয় তার’, উন্মুক্ত নিয়োগ পরীক্ষা এবং পদোন্নতিতে সমান সুযোগের দাবি জানিয়ে আসছেন। ইতোমধ্যে কলমবিরতি, মানবন্ধন, সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন তারা। তবে দাবি না মানলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
জনপ্রশাসনের জ্যেষ্ঠ সচিবের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
সম্প্রতি সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে বর্তমানে কর্মরত পতিত আওয়ামী লীগের দোসর ৪৪ জন সচিব ও ৯৫ জন ম্যাজিস্ট্রেটের তালিকা প্রকাশ করেছে জুলাই ঐক্য নামের একটি সংগঠন।
সংগঠনটি এসব আমলা ও ম্যাজিস্ট্রেটকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোসহ সাত দফা দাবি জানিয়েছে। ৩১ মের মধ্যে দাবি মানা না হলে ‘মার্চ টু সচিবালয়’ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মোখলেস উর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা ইউএনবিকে বলেন, জুলাই ঐক্যের প্রকাশিত ফ্যাসিস্ট কর্মকর্তাদের এই তালিকা নিয়ে বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে সরকারের শীর্ষ মহল। এ ব্যাপারে মোখলেস উর রহমানের ভূমিকা নিয়ে সরকারের ভেতরের মহলে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে প্রতিনিয়ত অস্থিরতা বাড়ছে। বিভিন্ন দাবির কারণে জনপ্রশাসনের কাজে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
জনপ্রশাসন বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারের নেতৃত্বে দুর্বলতা এবং অভিজ্ঞতার ঘাটতির কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান না হলে প্রশাসনে অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
আরও পড়ুন: সরকারি চাকরি আইনের সংশোধনী অধ্যাদেশের খসড়া বাতিলের দাবি, কর্মকর্তাদের বিক্ষোভ
এ বিষয়ে সাবেক সচিব আবু আলম মো. শহীদ খান ইউএনবিকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর নেতৃত্ব-দুর্বলতার কারণে পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়েছে বর্তমান সরকার। এ কারণেই প্রশাসনে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।’ যিনি যেখানে অভিজ্ঞ, তাকে সেখানে পদায়ন করতে বলে মনে করেন তিনি।
সাবেক সচিব আব্দুল আওয়াল মজুমদার ইউএনবিকে বলেন, ‘এত দিন পরও প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফিরে না আসা (অন্তর্বর্তীকালীন) সরকারের চরম ব্যর্থতা। সরকারের উচিত ছিল শুরুতেই প্রশাসনে দক্ষ লোক বসানো। হুটহাট সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নিলে অনেক দাবি সমাধান হয়ে যেত।’
৩৭৫ দিন আগে
সিরাজগঞ্জে যমুনায় ভয়াবহ ভাঙন, নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে তীর সংরক্ষণ বাঁধ
প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বিভিন্ন স্থানে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে সদর উপজেলার ভাটপিয়ারি এলাকায় যমুনা তীর সংরক্ষণ বাঁধের প্রায় ৪৫ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে যমুনা নদীর পানি ক্রমাগত বাড়ছে। এ কারণে যমুনা-তীরবর্তী শাহজাদপুর, চৌহালী, বেলকুচি, কাজিপুর ও সদর উপজেলার অভ্যন্তরীণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নতুন নতুন এলাকাও পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে।
বিশেষ করে, সদর উপজেলার ব্রাহ্মণবয়ড়া থেকে পাঁচঠাকুরি পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকায় শুরু হয়েছে তীব্র ভাঙন। ইতোমধ্যে ভাটপিয়ারিতে বাঁধের প্রায় ৪৫ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য এলাকাতেও ভাঙনের ফলে ফসলি জমি ও বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হচ্ছে।
ভাঙন ঠেকাতে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুভর্তি জিও ব্যাগ নিক্ষেপ করছে। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, দুই মাস আগে ব্রাহ্মণবয়ড়া, ভাটপিয়ারি ও পাঁচঠাকুরি এলাকায় ভাঙন শুরু হলেও তখন শুকনো মৌসুমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড। ফলে এখন পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে বৃষ্টিতেই নির্মাণাধীন কোটি টাকার বাঁধে ধস
বৃহস্পতিবার (২২ মে) রাতে ভাটপিয়ারি বাঁধের প্রায় ৪৫ মিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় যমুনা পাড়ের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা আক্ষেপ করে বলেন, ভাঙন রোধে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও যথাসময়ে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় বাঁধ রক্ষা করা যায়নি।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নাজমুল হোসাইন জানান, যমুনায় পানি বৃদ্ধির ফলে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ভাঙন রোধে ব্রাহ্মণবয়ড়া, ভাটপিয়ারি ও পাঁচঠাকুরি এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।
তবে পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
৩৭৬ দিন আগে
সীমান্তে উত্তেজনা: বাংলদেশের প্রতিবাদ সত্ত্বেও পুশ-ইন অব্যাহত
‘বাংলাদেশি’ ট্যাগ দিয়ে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে অবৈধভাবে শিশু, নারী-পুরুষদের ঠেলে দিচ্ছে (পুশ-ইন) ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এ নিয়ে প্রতিবেশী এই দুই দেশের অভিন্ন সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়েছে।
বিএসএফের পুশ-ইন করা মানুষের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিক, রোহিঙ্গা শরণার্থী ও পরিচয় না জানাও অনেকে রয়েছেন। বিষয়টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও জনসম্পৃক্ততায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা।
এ বিষয়ে ঢাকার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানানো হলেও সীমান্তের বিভিন্ন জায়গায় এই ধরনের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন: রামগড় সীমান্ত দিয়ে এক পরিবারকে পুশ-ইন করল বিএসএফ
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) এক সূত্র জানায়, শুধু বৃহস্পতিবারই (২২ মে) একশর বেশি মানুষ বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে পাঠানো হয়েছে। পঞ্চগড়, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, মৌলভীবাজার, ফেনী, কুমিল্লা ও খাগড়াছড়ির সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের আটক করে বিজিবি।
সরকারি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৪ থেকে ১৫ মের মধ্যে ভারতে থেকে অন্তত তিন শতাধিক মানুষকে বাংলাদেশে পুশ-ইন করা হয়েছে।
বিজিবি ও সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মতে, ভারতের দিক থেকে ‘পুশ-ইন’ কিংবা ‘পুশ-ইনের চেষ্টা’ ক্রমেই বাড়ছে। এ ছাড়া সীমান্তে চলাচলের ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিএসএফ, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বাড়াচ্ছে বলে জানা যায়।
অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর জন্য ভারত ও বাংলাদেশ আইনি কাঠামোর পাশাপাশি চুক্তি করলেও সেসব উপেক্ষা করেই পুশ-ইন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন এবং দুই দেশের বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক চুক্তির পরিপন্থী।
বিএসএফের পুশ-ইনের ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেন, কিছু বাংলা ভাষাভাষী ব্যক্তিকে ভারত থেকে বাংলাদেশে পাঠানোর পর আটক করেছে বিজিবি। তারা কোনো পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট দেখাতে পারেননি। তাদের মধ্যে কেউ কেউ দাবি করছেন যে তারা এর আগে বাংলাদেশ থেকে ভারতে গিয়েছিলেন।
আইজিপি জানান, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা তাদের পরিচয় যাচাইয়ের পর পুলিশ ও বিজিবির সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আটকদের মধ্যে অনেকে অভিযোগ করেছেন, তাদের চোখ বেঁধে দূরবর্তী অঞ্চল থেকে এনে নির্জন সীমান্ত এলাকায় ফেলে যাওয়া হয়েছে।
বিজিবি তাদের আটক করে পরিচয় জানতে ও যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিতের উদ্দেশ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
গত বুধবার (২১ মে) পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন জানান, নয়াদিল্লির সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং নির্ধারিত পদ্ধতির বাইরে যাতে কিছু না ঘটে, তার জন্য ঢাকার পক্ষ থেকে চেষ্টা চলছে।
নির্ধারিত কার্যপ্রক্রিয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘তারা (ভারত) তাদের অবস্থান কিছুটা জানিয়েছে, আমরাও আমাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছি। আমরা বোঝানোর চেষ্টা করছি যে এটা সঠিক নয়।’
আরও পড়ুন: কুলাউড়ায় পুশ-ইন: শিশুসহ আটক ৭
উপদেষ্টা জানান, ভারত একটি তালিকা দিয়েছে, যা বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যাচাই করছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান হলো, প্রত্যেকটি ঘটনা পৃথকভাবে খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রকৃত বাংলাদেশি হিসেবে প্রমাণ থাকলেই কেবল তাদের গ্রহণ করা হবে।
সম্প্রতি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, যেকোনো প্রত্যাবাসনই কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমেই হওয়া উচিত।
৩৭৬ দিন আগে
কুড়িগ্রামে বৃষ্টিতেই নির্মাণাধীন কোটি টাকার বাঁধে ধস
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই বৃষ্টির পানিতেই ধসে গেছে দুধকুমার নদীর ডান তীর রক্ষা বাঁধ। বন্যার আগেই বাঁধ ধসে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে কুড়িগ্রাম জেলার দুধকুমার নদী ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন শিরোনামে ২০২১ সালের ১০ আগস্ট জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৯২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। যা বিভিন্ন প্যাকেজে বর্তমানে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
সেই প্রকল্পের আওতায় ভূরুঙ্গামরী উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের নদীভাঙ্গণ রোধে নদীর ডান তীর সংরক্ষণ প্রকল্প গ্রহণ করে কুড়িগ্রাম পাউবো। ৫০০ মিটার তীর রক্ষা বাঁধের ব্যয় ধরা হয় ১০ কোটি ৪২ লাখ ৫৫ হাজার ৭৩৩ টাকা। ঢাকার মগবাজারের টি আই-পিভিএল-জেড আই জেভি নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এই প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে আছে।
এটি ২০২২ সালের মাঝামাঝি শুরু হয়ে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে শেষ করার কথা থাকলেও কাজ এখনো চলমান। এরমধ্যেই প্রকল্পটির মেয়াদ দুই দফা বাড়ানো হয়েছে। কাজ শেষ হওয়ার আগেই গত কয়েকদিনের বৃষ্টিপাতে ইসলামপুর সামাদের ঘাট এলাকায় বাঁধের ১২ মিটার অংশ ধসে নদীতে বিলীন হয়ে গিয়েছে।
বন্যা মৌসুম শুরু না হতেই অল্প বৃষ্টিতে বাঁধ ধসে যাওয়ায় ভাঙনের আতঙ্কে স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি নদী থেকে বালু তুলে সেই বালু দিয়েই ব্লক তৈরি করেছেন। এটি যথাযথ প্রক্রিয়ায় মিশানো হয়নি। বালু তোলার কারণে বাঁধের নিচে মাটি না থাকায় অল্প বৃষ্টির পানিতেই বাঁধ ধসে গেছে। এছাড়া, দুর্বল মনিটরিং ব্যবস্থার কারণে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি তাদের মনমতো কাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা লুৎফর রহমান জানান, নদী ভাঙন প্রতিরোধে বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হলে আমরা আশায় বুক বেঁধেছিলাম। কিন্তু কাজ শেষ না হতেই অল্প বৃষ্টিতেই বন্যা আসার আগে বাঁধ ধসে পড়েছে। দ্রুত তীর সংরক্ষণ বাঁধ মেরামত না করলে বন্যায় নদী ভাঙন তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করছেন লুৎফরসহ স্থানীয় বাসিন্দারা।
আরও পড়ুন: উপরে মেট্রোবিলাস, নিচে বিশৃঙ্খলা
নদী থেকে বালু তোলা বিষয়টি স্বীকার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প ব্যবস্থাপক আরিফুল ইসলাম জানান, তীর থেকে নিয়মানুযায়ী ২০০ মিটার দূর থেকে বালু তুলেছেন তারা। তবে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী লোকজন তীরের কাছ থেকে বালু তোলায় বাঁধে ধস দেখা দিয়েছে। ধসে যাওয়া স্থান মেরামত করা হচ্ছে। তবে, কাজের অনিয়মের কথা অস্বীকার করেন তিনি।
কুড়িগ্রাম পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী রাফিয়া আখতার জানান, বিষয়টি নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা হয়েছে। প্রকল্পের কাজ চলমান থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থানের মেরামতের দায়িত্ব ওই প্রতিষ্টানের।
বাঁধের ধসে যাওয়া অংশের কাজ পুনরায় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
৩৭৭ দিন আগে
উপরে মেট্রোবিলাস, নিচে বিশৃঙ্খলা
ঢাকার মেট্রোরেল চালুর সময় এটিকে আধুনিক ও সুশৃঙ্খল শহরের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়েছিল। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আরামদায়ক ট্রেনযাত্রা রাজধানী ঢাকার অগ্রগতি নিয়ে আশার সঞ্চার করেছিল। তবে উপরে ঝাঁ চকচকে লাইন থাকলেও তার নিচে ফুটে উঠেছে উল্টো চিত্র।
মেট্রোরেল লাইনের নিচের ফাঁকা জায়গাগুলো সবুজায়ন ও জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত ছিল। এ লক্ষ্যে কিছু গাছপালাও লাগানো হয়েছিল। কিন্তু স্বল্প সময়ের ব্যবধানে সেগুলোর বেশিরভাগেরই আর অস্তিত্ব নেই। গাছের চারাগুলো উপড়ে ফেলা হয়েছে এবং চলাচলের পথ দখল করেছেন শহরের গৃহহীন মানুষেরা। রোদ-বৃষ্টিতে মেট্রোরেলের নিচের স্থানগুলো এখন তাদের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে।
২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত এমআরটি লাইন-৬ উদ্বোধনের পর থেকে ধাপে ধাপে এই মেট্রোরেল পরিষেবা মতিঝিল পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়েছে। কিন্তু যে স্থানগুলো একসময় পথচারী ও জনসাধারণের জন্য পরিষ্কার ও উন্মুক্ত থাকার কথা ছিল, সেগুলো এখন দখল হয়ে গেছে। ফার্মগেট থেকে কারওয়ান বাজার, কাজীপাড়া থেকে মিরপুর—সব জায়গাতেই এখন হকার ও ভিক্ষুকদের দৌরাত্ম্য।
ফুটপাতে অস্থায়ী দোকান, পথশিশু ও আবর্জনার স্তূপের ভিড়ে যাত্রীদের চলাচল করাই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।
‘নিচের অংশ দেখলে মনে হয়, মেট্রোরেল যেন বস্তির ওপর তৈরি করা হয়েছে।’ ফার্মগেট এলাকা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী তানভীর হাসান বিষয়টিকে এভাবেই বর্ণনা করেন। বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম মেট্রোর কারণে শহরের চেহারা বদলে যাবে। কিন্তু পরে দেখছি, সমস্যাগুলো আছেই, শুধু নতুন জায়গায় সেগুলো সরে এসেছে।’
আরও পড়ুন: আস্থার সংকট: ফেনীর ১৮০ সরকারি প্রাথমিকে শিক্ষার্থী খরা
মেট্রোরেল ও এই রেললাইন-সংলগ্ন সড়কগুলোতে নিয়মিত চলাচলকারীদের ভাষ্য, দৃশ্যপটটি দুশ্চিন্তার। মেট্রোরেল লাইনের নিচে ছাউনির জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে প্লাস্টিকের পলিথিন, মাটিতে পড়ে আছে পুরনো তোশক, আর পায়ে হাঁটার পথের কাছেই ভাজা খাবার রান্না করছেন বিক্রেতারা। স্টেশন গেটের পাশে বসে থাকা ভিক্ষুকরা পথচারীদের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন। অথচ এমন পরিবেশ শুরুতে আমরা কল্পনাও করতে পারিনি।
মিরপুর-১০ মেট্রো স্টেশন থেকে পোশাককর্মী আসমা খাতুন বলেন, ‘প্রতিদিন বিকেলে এই জায়গা একেকটা ছোট বাজারে রূপ নেয়। শব্দ, ভিড় আর ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে চারদিক। এখানে একা একা হাঁটাও অনেকসময় নিরাপদ মনে হয় না।’
শুরুতে কিন্তু পরিবেশ এমন ছিল না। তবে দায়িত্বশীলদের সঠিক তদারকির অভাবে ধীরে ধীরে এমন শ্রীহীন হয়ে উঠেছে মেট্রোরেলের নিচের জায়গাগুলো। প্রথমে একজন হকার এসেছেন, তারপর তার দেখাদেখি অন্যরা। এরপর গৃহহীনরা একেক করে এসে আশ্রয় নিতে শুরু করেছে। এভাবে এখন জায়গাগুলোর সবটুকু একপ্রকার বাজারের চেহারা নিয়েছে।
এই জায়গাগুলো দখলমুক্ত করতে বা নিয়ন্ত্রণে আনতে কর্তৃপক্ষের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ এখন পর্যন্ত চোখে পড়েনি। ফলে যে ব্যবস্থাকে নগর পরিবহনের বিপ্লব বলা হচ্ছিল, তা এখন পুরনো বিশৃঙ্খলার আরেকটি রূপে পরিণত হচ্ছে।
প্রতিদিন মেট্রোরেলে যাতায়াত করেন বেসরকারি চাকরিজীবী মাহবুব আলম। তিনি বলেন, ‘এটা হওয়ার কথা ছিল পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক ঢাকা। কিন্তু এখন প্রতিটি স্টেশনের নিচে দেখি সেই পুরনো বিশৃঙ্খলাই, যা থেকে আমরা পালাতে চেয়েছিলাম।’
আরও পড়ুন: প্রক্রিয়াজাত খাবারের অতিরিক্ত লবণ রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে
এর ফলে কারওয়ান বাজার মেট্রো স্টেশনের আশপাশের দোকানিরাও পড়েছেন বিপাকে। সেখানকার একটি মুদি দোকানের মালিক রিনা আক্তার বলছিলেন, ‘ফুটপাতজুড়ে হকাররা বসে আছে, আবার চারপাশ নোংরাও হয়ে যাচ্ছে। এতে ক্রেতাদের হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে।’
এই সমস্যার নেপথ্যে নির্মাণ-পরবর্তী পরিকল্পনা-ঘাটতিকেই দায়ী করেছেন নগর বিশেষজ্ঞরা।
মেট্রোরেলের নিয়মিত যাত্রী ড. শফিক রহমান বলেন, ‘যদি আগে থেকেই এই জায়গাগুলোর ব্যবহার নির্ধারিত থাকত, যেমন: হাঁটার পথ, সবুজ এলাকা কিংবা ছোট পার্ক—তাহলে এমনটা হতো না।’
এই খোলা জায়গাগুলো মূলত জনসাধারণের উপকারের জন্যই পরিকল্পনায় ছিল। তবে বাস্তবে কোনোকিছুই বাস্তবায়ন হয়নি। স্থানগুলো রয়ে গেছে অনিয়ন্ত্রিত, ফলে হকার ও গৃহহীনরা অবাধে তা দখলে নিয়েছে।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) এখন পর্যন্ত এই পরিস্থিতি সামাল দিতে কোনো নির্দিষ্ট কৌশল ঘোষণা করেনি।
আরও পড়ুন: কৃষকের ভাগ্য বদলে দিল বিএডিসির সেচ প্রকল্প
এখন নগরবাসী প্রতিদিন একই সঙ্গে দুটো বিপরীত চিত্রের মুখোমুখি— উপরে আধুনিকতার ঝলক, আর নিচে পুরনো বিশৃঙ্খলার ছায়া।
৩৭৮ দিন আগে
টাঙ্গুয়ার হাওর সংরক্ষণে ৪০.৫ লাখ ডলারের নতুন প্রকল্প
আজ ২২ মে; আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর সংরক্ষণের লক্ষ্যে একটি নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার।
গত মঙ্গলবার (১৩ মে) ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘কমিউনিটি-ভিত্তিক টাঙ্গুয়ার হাওর জলাভূমি ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক পাঁচ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়।
৪০ লাখ ৫০ হাজার ডলার অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রকল্পটি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়ন করবে পরিবেশ অধিদপ্তর। আর এতে অর্থায়ন করছে পরিবেশ সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী সংস্থা গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটি (জিইএফ)।
এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে টাঙ্গুয়ার হাওরের জলাভূমি ও বাস্তুতন্ত্রের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, জলাবন ও জলজ বাসস্থান পুনরুদ্ধার এবং পরিবেশবান্ধব বিকল্প জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি করা।
আরও পড়ুন: পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে নদ-নদীর পানি বাড়ছে, শেরপুরে গ্রীষ্মেই বন্যার আশঙ্কা
প্রকল্প উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ বলেন, ‘কমিউনিটিকে ক্ষমতায়ন করাই পরিবেশগত স্থায়িত্বের চাবিকাঠি। টাঙ্গুয়ার হাওর শুধু সুনামগঞ্জের সম্পদ নয়, এটি আমাদের সবার। স্থানীয় প্রজ্ঞা ও বিজ্ঞানের সমন্বয়ে এই প্রকল্প বিশ্বে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের একটি মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে।’
এই প্রকল্পে অর্থায়ন করায় গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটিকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জিইএফের অব্যাহত সহায়তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইউএনডিপি বাংলাদেশের রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ স্টেফান লিলার বলেন, ‘গত কয়েক বছরে ইউএনডিপি জাতীয় অংশীদারদের সঙ্গে মিলিতভাবে জিইএফের সহায়তায় ৩৫০ কোটি ডলারেরও বেশি উন্নয়ন সহায়তা এনেছে, যা বাংলাদেশের পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।’
তিনি বলেন, ‘টাঙ্গুয়ার হাওরের এই নতুন প্রকল্প পূর্ববর্তী সাফল্যের ভিত্তিতে এগিয়ে যাবে এবং সরকার, কমিউনিটি, সুশীল সমাজ ও বেসরকারি খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।’
স্টেফান লিলার আরও বলেন, ‘এই প্রকল্পে স্থানীয় বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়ে ঝুঁকি-বিবেচনায় নেওয়া সংরক্ষণ পরিকল্পনা, অর্থনৈতিক মূল্যায়ন ও স্কেলযোগ্য প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান অন্তর্ভুক্ত থাকবে।’
অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় জ্ঞানের অন্তর্ভুক্তি এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া।
৩৭৯ দিন আগে