বিশেষ সংবাদ
আস্থার সংকট: ফেনীর ১৮০ সরকারি প্রাথমিকে শিক্ষার্থী খরা
ফেনীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীর সংকট দেখা দিয়েছে। নানা উদ্যোগ নিলেও বিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির হার বাড়ছে না। শিক্ষকরা বলছেন, মাদরাসা ও কিন্ডারগার্টেনে অভিভাবকদের আগ্রহই এর প্রধান কারণ। তবে অভিভাবকদের দাবি, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চেয়ে এসব প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার মান ভালো হওয়ায় তারা সেদিকেই ঝুঁকছেন।
জেলার ছয় উপজেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ফেনীর ৫৩৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৮০টিতে শিক্ষার্থী সংখ্যা ১০০-এর নিচে। এর মধ্যে ১২টি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী মাত্র ৫০-এর নিচে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে ৩ থেকে ১২ জন শিক্ষক থাকলেও মানসম্মত শিক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবকরা। তবে এসব বিদ্যালয়ের সরেজমিন চিত্র আরও খারাপ।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার ৯৪৬ শিক্ষার্থী, যা গত বছরের তুলনায় ১১ হাজার ৬২৪ জন কম। তবে উপজেলা পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, এই সংখ্যা মাত্র ৭২ হাজার ৭৯৫ জন। ফলে জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্যের সঙ্গে মিলছে না ৯৯ হাজার ১৫১ শিক্ষার্থীর হিসাব।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ৯ এপ্রিলের আপডেটকৃত তথ্য বলছে, ফেনী সদর উপজেলায় ৭৪ হাজর ৪৮১ জন, সোনাগাজী উপজেলায় ২৯ হাজর ৯২৮ জন, দাগনভুঁঞা উপজেলায় ২৭ হাজার ৩৮৪ জন, ফুলগাজী উপজেলায় ১৫ হাজার ৩৩৩ জন, ছাগলনাইয়া উপজেলায় ১১ হাজার ৫০ জন, পরশুরাম উপজেলায় ১৩ হাজার ৭৭০ শিক্ষার্থী রয়েছে।
তবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের হিসাবে, ফেনী সদর উপজেলায় রয়েছে ২৩ হাজার ৩৮৪ জন, সোনাগাজীতে ১৩ হাজার ৬৬৯ জন, দাগনভুঁঞায় ১৬ হাজার ৮২২ জন, ফুলগাজীতে ৬ হাজার ৭৮৫ জন, ছাগলনাইয়ায় ৪ হাজার ৮১৫ জন ও পরশুরাম উপজেলায় ৭ হাজার ৩২০ শিক্ষার্থী।
আরও পড়ুন: কাজে আসছে না ১৫০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ডিজিটাল শিক্ষা উপকরণ
সম্প্রতি সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা যায়, অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী উপস্থিতি অপ্রতুল। যেমন: ফুলগাজীর দেবীপুর ফেরদৌস আক্তার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২২ জন ছাত্রছাত্রী থাকলেও তৃতীয় শ্রেণির কেউ স্কুলে নেই। সোনাগাজীর পূর্ব বড়ধলী বিদ্যালয়ে পাঁচ শ্রেণিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র ২৭; এর মধ্যে শিশু শ্রেণিতে ৫ জন, প্রথম শ্রেণিতে ১ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৫ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ৩ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ১০ জন ও পঞ্চম শ্রেণিতে মাত্র ৩ জন শিক্ষার্থীকে চোখে পড়ে।
৩৮০ দিন আগে
পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে নদ-নদীর পানি বাড়ছে, শেরপুরে গ্রীষ্মেই বন্যার আশঙ্কা
গত পাঁচ দিন ধরে থেমে থেমে ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের নদ-নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। এতে বর্ষার আগেই জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
দূর্যোগ ব্যাবস্থাপনা অধিদপ্তর ও আবহাওয়া বিভাগ শেরপুরে বন্যার সতর্কতা জারি করেছে। মঙ্গলবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জেলার নিম্নাঞ্চলগুলো সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে, যা জনজীবন ও কৃষি খাতে বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, আগাম বন্যা মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। উপজেলায় উপজেলায় এরই মধ্যে দুর্যোগ প্রস্তুতি কমিটির সভা করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদের দ্রুত ধান কেটে উঁচু স্থানে সংরক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বন্যা মোকাবিলায় বিভিন্ন ধরনের আগাম সতর্কবার্তা প্রচার করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনসচেতনতামূলক মাইকিংও করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২০ মে) বিকাল ৩টা পর্যন্ত নালিতাবাড়ী উপজেলার চেল্লাখালি নদীর পানি ২২ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ১২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
আরও পড়ুন: মেঘনায় দূষণ চরমে, ফের মরে ভেসে উঠছে মাছ
ঝিনাইগাতীর মহারশি নদীতে পানিবৃদ্ধির কারণে ওই নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধটিও রয়েছে ঝুঁকির মুখে। গত বছরের পাহাড়ি ঢলের কারণে ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধটির সংস্কারকাজ চলার মাঝেই আগাম বন্যার কবলে পড়েছে বেড়িবাঁধটি।
৩৮০ দিন আগে
সাম্য হত্যা নিয়ে ধোঁয়াশা, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার না হলেও পুরস্কৃত পুলিশ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিলেও এই মামলার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ পর্যন্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া হলেও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি—মূল হত্যাকারী এখনও পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। এ ছাড়া ঘটনার তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দাবি করছে পুলিশের দুই পক্ষ।
গত মঙ্গলবার (১৩ মে) দিবাগত রাতে ঢাবি ক্যাম্পাস-সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে নিহত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের (আইইআর) ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাম্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হল শাখা ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক ছিলেন তিনি।
হত্যাকাণ্ডের পর পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও যে ব্যক্তির ছুরিকাঘাতে সাম্য নিহত হন, তাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি বলে দাবি করেছেন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাম্যর সহপাঠীসহ অন্যান্য ঢাবি শিক্ষার্থীরা।
রহস্য উদঘাটন করেই পুরস্কৃত পুলিশ
এদিকে, দ্রুততম সময়ে সাম্য হত্যার রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেপ্তারের স্বীকৃতিস্বরূপ বৃহস্পতিবার (১৫ মে) শাহবাগ থানা পুলিশের সংশ্লিষ্ট টিমকে নগদ এক লাখ টাকা পুরস্কার দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।এ নিয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির গণমাধ্যম বিভাগের উপকমিশনার তালেবুর রহমান বলেন, ‘শাহবাগ থানার তদন্ত টিমের দ্রুত তৎপরতার কারণে ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এর স্বীকৃতিস্বরুপ ও সামনে আরও ভালো কাজের উৎসাহ প্রদানের জন্যই এ পুরষ্কার দেওয়া হয়েছে।’
পুরস্কার দেওয়ার পরের দিনই (শুক্রবার) সাম্য হত্যায় জড়িত মূল হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে শাহবাগ থানা অবরোধ করে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি—সাম্য হত্যার যিনি মূলহোতা, অর্থাৎ যিনি ছুরিকাঘাত করেছেন, সাদা শার্ট বা পাঞ্জাবি পরা সেই ব্যক্তি ও তার সব সহযোগীকে গ্রেপ্তার করতে হবে।
তবে বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে হত্যাকারীকে ধরতে পারেনি পুলিশ অভিযোগ তুলে রবিবার (১৮ মে) আবারও শাহবাগ থানা ঘেরাও করেন শিক্ষার্থীরা।
ঘটনার বর্ণনা ও হত্যাকাণ্ড
প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৩ মে) দিবাগত রাতে সাম্যর সঙ্গেই ছিলেন তার বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু আশরাফুল আলম রাফি ও আব্দুল্লাহ আল বায়েজিদ। ওই সময় খাবার খাওয়ার উদ্দেশ্যে মোটারসাইকেলে চড়ে রমনা কালী মন্দির গেট দিয়ে উদ্যানে প্রবেশ করেন তারা। পরে খাওয়া শেষে একটি শিশুর হাতে থাকা ‘টিজার গান’ কাড়তে গিয়ে অন্য একটি পক্ষের মোটরসাইকেল ধাক্কা লাগে তাদের। আর এ নিয়েই শুরু হয় কথা কাটাকাটি, যা একপর্যায়ে প্রাণঘাতী মারামারিতে রূপ নেয়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বায়েজিদ বলেন, ‘সেদিন আমাদের ইনস্টিটিউটের একটি প্রোগ্রাম ছিল। প্রোগ্রাম শেষ করে রাতে খাওয়া-দাওয়া করতে উদ্যানের গেটের দোকানগুলোতে যাই। ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে খাওয়া শেষে সেখান থেকে বের হয়ে যাচ্ছিলাম। তার মধ্যেই এই বিপত্তি।’
তিনি বলেন, ‘মুক্ত মঞ্চের পাশে (হত্যাকাণ্ডের স্থানের পাশে) দুটি অল্পবয়সী শিশু ছিল। মন্দিরের গেট দিয়ে বের হওয়ার উদ্দেশ্যে গাড়ি নিয়ে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের একজন আমাদের লক্ষ্য করে টিজার গান সদৃশ কিছু একটা মারে। শিশুদের হাতে এগুলো থাকা নিরাপদ না ভেবে সাম্য গাড়ি ঘোরায়। এ সময় আমরা বাচ্চাটিকে ধরতে গেলে সে পালনোর চেষ্টা করে।’
‘এ সময় সেখানে কয়েকজন বসে ছিলেন। তাদের দিকে আমাদের খেয়াল ছিল না। হঠাৎ তাদের একটি বাইকের সঙ্গে আমাদের (বাইকের) ধাক্কা লাগে। এরপরই ওই ব্যক্তিরা আমাদের ওপর তেড়ে আসে।’
আরও পড়ুন: ঢাবির সাম্য হত্যাকাণ্ড: ৬ দিনের রিমান্ডে তিনজন
ওই ঘটনায় আহত এই শিক্ষার্থী বলেন, ‘শুরুতে কথা কাটাকাটি হয়, পরে তারা প্রভাব দেখাতে চাইলে আমরাও উত্তেজিত হয়ে যাই। একপর্যায়ে পুলিশের কাছে গ্রেপ্তার হওয়া লাল টি-শার্ট পরা ব্যক্তি আমাকে মাটিতে ফেলে মারধর শুরু করে।’
‘১-২ মিনিটের মধ্যেই ঘটনার আকস্মিকতা সামলে দেখি, সাম্য উঠে দাঁড়িয়েছে। তারপর চোখ যায় তার পায়ের দিকে। দেখি, তার ডান পা রক্তাক্ত। তার পরপরই ধুপ করে পড়ে যায় সে।’কথা বলতে গিয়ে এ সময় কণ্ঠ ভারী হয়ে ওঠে বায়েজিদের।
নিজেকে সামলে নিয়ে তিনি বলেন, ‘এরপর আমরা ওকে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নেওয়ার জন্য প্রত্যক্ষদর্শীদের সাহায্য চাই, কিন্তু কেউ সে সময় এগিয়ে আসেনি। পরে একটি ছোট বাচ্চার সাহায্য নিয়ে ওকে (ঢাকা মেডিকেল কলেজ) হাসপাতালে নিয়ে যাই।’
মূলত তাদের মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা লাগার পর কথা কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে সাদা শার্ট বা পাঞ্জাবি পরা এক যুবক বড় ছুরি জাতীয় কোনো অস্ত্র দিয়ে সাম্যর পায়ে আঘাত করেন। এর পরপরই তিনটি মোটরসাইকেলে করে তাদের ১০-১২ জনের একটি দল দ্রুত পালিয়ে যান বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘অস্ত্রের আঘাতে সাম্যর ডান পায়ের উরুতে গভীর ক্ষত হয়। কাটা জায়গা থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। হাসপাতালে নিতে নিতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েই মারা যায় সে।’
পরে এ বিষয়ে ঢামেক হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের একজন চিকিৎসক বলেন, ‘উরুর পেছনে শরীরের একটি অন্যতম প্রধান রক্তনালী থাকে, যাকে বলা হয় ফিমোরাল আর্টারি। এটিকে বলতে পারেন দেহের প্রধান রক্তনালীর একটি শাখা রক্তনালী, কিন্তু এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
ওই রক্তনালী কেটে যাওয়ার পর হাসপাতালে আনতে দেরি হওয়ায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে নিজের ধারণার কথা জানান ওই চিকিৎসক।
আসামিদের গ্রেপ্তার নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনায় আলোড়ন সৃষ্টি হলে নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরের দিন (বুধবার) সকালে রাজধানীর পৃথক তিনটি স্থান থেকে তিনজনকে আটক করে পুলিশ।
হত্যার ঘটনায় নিহতের ভাই শরিফুল আলম শাহবাগ থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আটক তামিম হাওলাদার (৩০), সম্রাট মল্লিক (২৮) ও পলাশ সরদারকে (২৮) আদালতে তোলে পুলিশ। এরপর তাদের প্রত্যেককে ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
তবে আত্মপক্ষ সমর্থন করে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন আসামিদের তিনজনই। তারা আদালতকে বলেন, হয়রানি করার জন্য আমাদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
অন্যদিকে, গ্রেপ্তারদের অপরাধের বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী বায়েজিদের দাবি, তারা ঘটনাস্থলেই ছিলেন। তিনি বলেন, ‘গ্রেপ্তার তিনজন আমাদের আক্রমণ করে মারধর করেছেন। তবে মূল হত্যাকারীকে ধরা হয়নি, তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।’
ঘটনাস্থলে উপস্থিত আইইআর-এর আরেক শিক্ষার্থী আশরাফুল আলম রাফি হত্যাকারীর বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘যে তিনজনকে ধরা হয়েছে তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন, কিন্ত তারা মূল হত্যাকারী নন। সাদা জামা কিংবা পাঞ্জাবি পরা এক ব্যক্তি সাম্যকে অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। ওই ব্যাক্তির গায়ের রঙ ফর্সা; তাকে দেখতে মোটেও উদ্বাস্তুর মতো নয়।’
একই ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী ফারহান শাহরিয়ার চৌধুরী বলেন, ‘হত্যার দিন রাতে আমাদের ইনিস্টিটিউটের একটি প্রোগ্রাম ছিল। রাত প্রায় ১০টা পর্যন্ত আমরা সাম্য ভাইয়ের সঙ্গেই ছিলাম।’
আরও পড়ুন: সাম্য হত্যার বিচারের দাবিতে শাহবাগ থানা ঘেরাও, আসামিদের গ্রেপ্তারে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম
তার দাবি, রাত সাড়ে ১১টার দিকে ছুরিকাঘাত এবং সোয়া ১২টার দিকে সাম্যকে মৃত ঘোষণা করা হলেও হত্যাকাণ্ডের ৬ ঘণ্টা পরও ঘটনাস্থল অরক্ষিত ছিল। ঢাবি শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্যোগে ঘটনাস্থলটি রক্ষা করে প্রমাণাদি বাঁচানোর চেষ্টা করেন।
তিনি বলেন, ‘প্রধান আসামিকে ধরতে পারল না, অথচ শাহবাগ থানার তদন্ত টিমকে পুরস্কৃত করা হলো। পুলিশের এই ধরনের প্রহসনের তীব্র নিন্দা জানাই আমরা।’
পুলিশ কী বলছে
ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার মো. মাসুদ আলম বলেন, ‘ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তাৎক্ষণিকভাবে অপরাধীদের ধরতে আমরা শহরের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে তল্লাশি অভিযান শুরু করি। পরে শমরিতা হাসপাতাল থেকে একজন ও বিআরবি হাসপাতাল থেকে আরেকজনকে গ্রেপ্তার করি।’
তিনি বলেন, ‘গ্রেপ্তার ওই দুজনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ফোন নম্বর ট্র্যাক করে তৃতীয়জনকে ফার্মগেটের রাজাবাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি অফিসে নেওয়া হয়।’
পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ও দোয়েল চত্বরের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ নিয়ে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব!
এদিকে, পুলিশ সিসি ক্যামেরার ফুটেজ নিয়ে বিশ্লেষণ করছে বলে জানালেও রমনা কালী মন্দির ও বাংলা একাডেমি গেটের সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন বায়েজিদ।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত পুলিশ বলছে, সিসিটিভি ফুটেজ নাকি তাদের কাছে আছে। অথচ শাহবাগ থানার পুলিশ কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান খান আমাকে পার্সোনালি (ব্যক্তিগতভাবে) ডেকে বলেছেন, পুলিশ মন্দিরের গেট ও বাংলা একাডেমি গেটের সিসিটিভি ফুটেজ পায়নি।’
আক্ষেপ করে এই শিক্ষার্থী বলেন, ‘রমনা কালী মন্দির একটি ধর্মীয় সেনসিটিভ (স্পর্শকাতর) জায়গা। মন্দিরের সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজ না পাওয়া ও বাংলা একাডেমির ফুটেজ নষ্ট হওয়ায় ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রশাসনের গাফিলতি আছে।’
বায়েজিদের দাবির সত্যতা যাচাই করতে আসাদুজ্জামান খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ইউএনবিকে বলেন, ‘সিসিটিভির ফুটেজ পাওয়া যাচ্ছে না, নাকি কী পাওয়া যায়নি, সেটা এখন বলা যাবে না। আর এটি তদন্তকারী কর্মকর্তা জানেন। আমি তো এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নই। এ বিষয়টি নিয়ে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কাজ করছেন।’
তিনি বলেন, ‘তাদের (বায়েজিদ) সঙ্গে কথা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ অবশ্যই আছে। তাদের সঙ্গে কথা বলার পর দু-তিন দিন চলে গেছে। আমরা বসেছিলাম না, কাজ করেছি। ঘটনার ক্লু বের করার চেষ্টা করছি।’
পরে এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদ মনসুরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ নষ্ট হওয়ার যে দাবি, সে বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ আমাদের কাছে আছে। আমরা অন্তত ১১টি আলামত জব্দ করেছি। এগুলো নিয়ে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কাজ করছেন।’
বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে হত্যার বিচার
সাম্য হত্যার তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে শনিবার (১৭ মে) ঢাবি প্রশাসন ও ডিএমপি কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলীর মধ্যে বৈঠক হয়।
বৈঠক শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে কাজ করছে।
ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে উপাচার্যও সংহতি প্রকাশ করেছেন। ডিএমপি কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী বলেন, অপরাধীদের আগামীকাল (রবিবার) থেকে রিমান্ড শুরু হবে। দ্রুত তদন্ত কাজ শেষ করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।
এ ছাড়া আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটিত হবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে এ হত্যার বিচার কাজ দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন হবে।’
উদ্যানের বর্তমান হালচাল
সাম্য হত্যাকাণ্ডের পর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মতো ঐতিহাসিক একটি স্থানের নিরাপত্তা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে উদ্যানের নিরাপত্তা জোরদারে বেশ কয়েকটি উদ্যোগও নিয়েছে সরকার।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (১৫ মে) থেকে উদ্যানে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। অভিযানে ভ্রাম্যমাণ দোকানপাটসহ কয়েক শ’ অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে সিটি করপোরেশন।
এ ছাড়া রাজু ভাস্কর্যের পেছনের গেটটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। পাশাপাশি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে ধীরে ধীরে একটি নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক স্থানে রূপান্তর করতে নিয়মিত টহল ও অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ।
ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার মো. মাসুদ আলম জানিয়েছেন, সাম্য হত্যাকাণ্ডের পর থেকে শনিবার পর্যন্ত উদ্যানে অভিযান চালিয়ে ১২ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
তবে শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাম্য হত্যার এক সপ্তাহও এখনও পেরোয়নি, অথচ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রাণচাঞ্চল্য কমেনি একটুও। আঁধার নামলেও উদ্যানের বিভিন্ন স্থানে অনেককে আড্ডা, ঘুরে বেড়ানোসহ একান্তে সময় কাটাতে দেখা যায়।
আরও পড়ুন: সাম্য হত্যার বিচারের দাবিতে জাবি ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচি
এসবের মাঝেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল চোখে পড়ে। টহলদল দেখলেই লোকজনকে সরে যেতে দেখা যায়, কিন্তু তারা চলে গেলে আবারও উদ্যানে ঢুকছিল মানুষ।
উপদেষ্টার ঘোষণার পর টিএসসি-সংলগ্ন গেটে দেওয়াল তুলে দেওয়া হয়েছে। আরও কয়েকটি গেট বন্ধ করে রাখা হয়েছে। তবে নিরাপত্তাবাহিনীর অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট-সংলগ্ন গেট গলে উদ্যানে ঢুকতে দেখা যায় অনেককে। অনেককে আবার ছবির হাটের গেট এবং টিএসসি-সংলগ্ন গেটের দেওয়াল টপকেও উদ্যানে ঢুকতে দেখা যায়।
বিষয়টি নিয়ে উপস্থিত এক আনসার সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘উদ্যানের নিরাপত্তা রক্ষায় রাতের শিফটে আমরা মাত্র ৬ জন। এই ছয়জনের পক্ষে এতো বড় উদ্যানে টহল দিয়ে এসব বিষয়ের সমাধান করা কষ্টসাধ্য।’
৩৮২ দিন আগে
সাপ্তাহিক পুঁজিবাজার: বেহাল সূচক, ব্যাংক খাতে বিপর্যয়
পুঁজিবাজারে এক সপ্তাহের লেনদেনে কমেছে সবকটি সূচক, লেনদেন নেমে এসেছে তলানিতে। বিশেষ করে ব্যাংক খাতে শেয়ারের দাম কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এক সপ্তাহের লেনদেনে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ১২১ পয়েন্ট। ৪৯০২ পয়েন্টে লেনদেন শুরু করে সূচক দাঁড়িয়েছে ৪৭৮১ পয়েন্টে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ২.৪৭ শতাংশ কম এবং গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
ঢাকার বাকি দুই সূচকেরও বেহাল দশা। শরীয়া ভিত্তিক ডিএসইএসের সূচক কমেছে ৩৫ পয়েন্ট। গত ক'দিনের লেনদেনে শরীয়া খাতে সূচকের পতন ৩.২৯ শতাংশ, যা অন্য যেকোনো সূচকের তুলনায় সর্বোচ্চ।
বাছাইকৃত কোম্পানির ব্লু-চিপ শেয়ারের হয়েছে ভরাডুবি। ২.৭৬ শতাংশ সূচক কমেছে ডিএস-৩০ এ। এক সপ্তাহের লেনদেনে মোট সূচক কমেছে ৫০ শতাংশ।
ঢাকার বাজারে সপ্তাহজুড়ে লেনদেন হওয়া তালিকাভুক্ত ৩২২ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে, বিপরীতে বেড়েছে মাত্র ৫০ কোম্পানির শেয়ারের দাম। দাম অপরিবর্তিত ছিল ২৪ কোম্পানির।
টানা পতনে বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক লেনদেনে। এক সপ্তাহে ঢাকার বাজারে লেনদেন কমেছে ৩২.৭৮ শতাংশ।
আরও পড়ুন: পুঁজিবাজারে পতন দিয়ে সপ্তাহ শেষ
গড় লেনদেন ৪৮০ কোটি টাকা থেকে কমে হয়েছে ৩২৪ কোটি টাকা। লেনদেন হওয়া শেয়ারের সংখ্যা কমেছে ১৯.৫২ শতাংশ।
খাতোয়ারি ধস
বিনিয়োগকারীদের আস্থার শেয়ার ব্যাংক খাতে বড় ধস নেমেছে। সপ্তাহজুড়ে লেনদেন এ খাতে তালিকাভুক্ত ৩৬ ব্যাংকের সামগ্রিকভাবে শেয়ারের দাম কমেছে ৪৭.৮২ শতাংশ।
ব্যাংক খাতের শেয়ারেও বিনিয়োগকারীরা ভরসা রাখতে পারছেন না তার বড় প্রমাণ লেনদেন হওয়া শেয়ারের পরিমাণ কমে আসা। এ খাতে লেনদেন কমেছে ৩১.২৪ শতাংশ।
পৃথকভাবে ১০ ব্যাংকের শেয়ারের দাম বাড়লেও দাম কমেছে ১৯ এবং অপরিবর্তিত আছে ৭ ব্যাংকের শেয়ারের দাম।
ব্যাংক খাতের পাশাপাশি সুবিধা করতে পারেনি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারও। তালিকাভুক্ত ২৩ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক শেয়ারের দাম কমেছে ২৬.৫৫ শতাংশ, মোট শেয়ার লেনদেন কমেছে ১৯.৫৩ শতাংশ।
খাতভিত্তিক শেয়ারে সবচেয়ে করুণ দশা আবাসন খাতে। এ খাতে দাম কমেছে ৬০ শতাংশ ওপরে আর লেনদেন কমেছে ৫৩ শতাংশ।
পুরো সপ্তাহ শুধু সাধারণ বীমা আর মিউচুয়াল ফান্ড ভিত্তিক শেয়ারের দাম বেড়েছে, বাকি সবকটি খাতের অবস্থা ছিল শোচনীয়।
চট্টগ্রামেও বড় পতন
ঢাকার মতো চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) বড় পতন হয়েছে, সার্বিক সূচক কমেছে ২২৬ পয়েন্ট।
সিএসইতে লেনদেন অংশ নেয়া ৩০০ কোম্পানির মধ্যে ২০৩ কোম্পানির দাম কমেছে। বিপরীতে দাম বেড়েছে ৭৪ এবং অপরিবর্তিত আছে ২৩ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
ঢাকার মতো চট্টগ্রামেও অপেক্ষাকৃত ভালো অবস্থানে আছে বীমা এবং মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার। সারা সপ্তাহের লেনদেন সিএসই'র শীর্ষ শেয়ার সিটি জেনারেল ইনস্যুরেন্স। অন্যদিকে ২২ শতাংশ দাম হারিয়ে চট্টগ্রামে তলানিতে শাইনপুকুর সিরামিকস লিমিটেড।
৩৮৩ দিন আগে
মেঘনায় দূষণ চরমে, ফের মরে ভেসে উঠছে মাছ
চাঁদপুরে মেঘনা নদীতে অব্যাহত বিষাক্ত বর্জ্য ও কেমিক্যালযুক্ত পানি মিশে পানি দূষণের ফলে আবারও হুমকির মুখে পড়েছে নদীর জীববৈচিত্র। ইতোমধ্যে নদীর দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরে ভেসে উঠতে শুরু করেছে। মরা মাছের গন্ধে নদী তীরবর্তী এলাকার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।
এর আগে এ বছরের জানুয়ারিতেও একবার পানি দূষণের বলি হয় মেঘনার জীববৈচিত্র। ওই ঘটনার তদন্ত করে চাঁদপুরের পরিবেশ অধিদপ্তর। আবারও মাছ মারা যাওয়ার বিষয়ে তদন্ত হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের এক সূত্র।
শুক্রবার (১৬ মে) ভোর থেকে জেলার মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে দশানি পর্যন্ত মেঘনা পাড়ের বিভিন্ন স্থানে মাছ মরে ভেসে থাকার থাকতে দেখা যায়। এই পরিস্থিতিতে নদীপাড়ের মানুষের মাঝে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক।
গতকাল ভোরে মাছ ধরতে নদীতে নামেন স্থানীয় জেলেরা। তখনই তারা দেখতে পান, পানিতে ভেসে রয়েছে অসংখ্য মরা মাছ। বিশেষ করে জাটকা, চেউয়া, বেলে, টেংরা, পুঁটি, চাপিলাসহ অসংখ্য ছোট-বড় দেশীয় মাছ মারা যাচ্ছে।
পঁচা মাছের দুর্গন্ধে নদীপাড়ের বাসিন্দারা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। দূষণের কারণে এখন নদীর পানি খাওয়া তো দূর, সাধারণ গৃহস্থলির কাজেও ব্যবহার করতে পারছে না স্থানীয়রা। কী কারণে বারবার নদীর মাছ মারা যাচ্ছে এবং পানি দূষণ হচ্ছে, এ বিষয়ে দ্রুত সমাধান চান এলাকাবাসী।
এদিকে ইলিশের পোনা জাটকা মরে ভেসে ওঠায় চিন্তিত হয়ে পড়েছেন মেঘনাপাড়ের জেলেরা। এভাবে ছোট ছোট জাটকা মারা পড়লে চলতি মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে জেলেদের মাঝে।
আরও পড়ুন: মেঘনা নদী থেকে ৮ ড্রেজার জব্দ, গ্রেপ্তার ১৬
৩৮৪ দিন আগে
ঈদুল আজহার আগে লবণের মূল্যবৃদ্ধি, দুশ্চিন্তায় নাটোরের চামড়া ব্যবসায়ীরা
হালিম খান, নাটোর, ১৫ মে (ইউএনবি)— আর কয়েক সপ্তাহ পরই কোরবানির ঈদ বা ঈদুল আজহা। এই সময়ে এসে বেড়ে গেছে লবণের দাম। এতে করে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কাঁচা চামড়ার বাজার নাটোরের চকবৈদ্যনাথ মোকামের ব্যবসায়ীদের কপালে পড়েছে চিন্তার ভাঁজ।
এ ছাড়া, গরুর চামড়ায় নতুন ভাইরাসের আক্রমণ ব্যবসায়ীদের এ চিন্তা আরও বাড়িয়েছে। ভাইরাসের কারণে কেজি দরে বিক্রি করে দিতে হচ্ছে লবণজাত চামড়া। গরুকে মাত্রাতিরিক্ত ফিড (প্রক্রিয়াজাত খাবার) খাওয়ানোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় গরুর চামড়ায় ভাইরাসের আক্রমণ হচ্ছে বলে দাবি তাদের।
দেশে এবার পর্যাপ্ত লবণ উৎপাদন হওয়ায় চাষীদের স্বার্থে সম্প্রতি লবণ আমদানি না করার সিদ্ধান্তের কথা জানায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। আর এই সুযোগে অপরিশোধিত লবণের দাম কেজিতে ৫ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে চামড়া শিল্পে। ১০ টাকা কেজির লবণ ১৫ টাকায় কিনে চামড়ায় ব্যবহার করায় খরচ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন নাটোরের চামড়া ব্যবসায়ীরা।
এ বিষয়ে চামড়া ব্যবসায়ী রকিব উদ্দিন কমল জানান, গত সপ্তাহে ৭০ কেজির প্রতি বস্তা লবণের দাম যেখানে ছিল ৭ শ’টাকা, হঠাৎ করেই সেই লবণের দাম বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৫০ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কেজি লবণের দাম ৫ টাকা বেড়ে গেছে। ১০ টাকা কেজি লবণ দাঁড়িয়েছে ১৫ টাকায়। অথচ দেশে এবার পর্যাপ্ত লবণ উৎপাদন হয়েছে।
তিনি বলেন, লবণের মূল্যবৃদ্ধির কারণে চামড়ার খরচ বাড়বে। আর এ ব্যায় সংকোচনে খুচরা পর্যায়ে লবণবিহীন চামড়ার দাম কমে যাবে বলে ধারণা এই ব্যবসায়ীর।
এদিকে, লবণের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে যোগ হয়েছে গরুর চামড়ার ভাইরাস। ভাইরাস-আক্রান্ত চামড়া লবণজাত করার পর ব্যবসায়ীরা পড়ছেন সবচেয়ে বেশি লোকসানের মুখে। লবণজাত এসব চামড়া ১০/১৫টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। তারপরও কখনো কখনো ক্রেতা মিলছে না।
চকবৈদ্যনাথ মোকামের ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম বলেন, ‘খামারগুলোতে মাত্রাতিরিক্ত ফিড খাওয়ানোর কারণে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় গরুর চামড়ায় ভাইরাস ও লাম্পি স্কিন রোগ দেখা দিচ্ছে। এসব চামড়া লবণজাত করার পর মান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আবার ট্যানারিতে নিয়ে প্রক্রিয়াজাত করতে গিয়েও দেখা যাচ্ছে চামড়ায় ছিদ্র ছিদ্র হয়ে যাচ্ছে। ফলে ট্যানারি মালিকরাও পড়ছেন লোকসানে।’
আশঙ্কা প্রকাশ করে এই ব্যবসায়ী বলেন, ‘এবার কোরবানি ঈদে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা এ ধরনের চামড়া কিনে ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়তে পারেন। কারণ অধিকাংশ মৌসুমি ব্যবসায়ী চামড়া চেনেন না। আবার অনেকে ভালোভাবে না দেখেই চামড়া কিনে নেন।’
আরও পড়ুন: প্রক্রিয়াজাত খাবারের অতিরিক্ত লবণ রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে
এ বিষয়ে নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে নুরুল ইসলাম বলেন, ‘কোরবানির সময় মৌসুমি ব্যাবসায়ী ভাইরাসে আক্রান্ত একটি চামড়া ৭০০ টাকা দিয়ে কিনে মোকামে আনার পর আড়তদার সেই চামড়ার দাম ৫০ থেকে ১০০ টাকার বেশি দেবেন না। তখন আবার ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের ঘাড়ে দোষ চাপানো হবে।’
৩৮৬ দিন আগে
প্রক্রিয়াজাত খাবারের অতিরিক্ত লবণ রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে
দৈনিক অতিরিক্ত লবণ গ্রহণের ফলে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্ট্রোক ও কিডনি রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রাপ্তবয়স্করা প্রতিদিন গড়ে ৯ গ্রাম লবণ গ্রহণ করছেন, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত মাত্রার (৫ গ্রাম) চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। এর ফলে প্রতি বছর দেশে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করছেন বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
বুধবার (১৪ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের উদ্যোগে ‘বিশ্ব লবণ সচেতনতা সপ্তাহ ২০২৫’ উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরীর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইনস্টিটিউটের লবণ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সমন্বয়ক ডা. আহমাদ খাইরুল আবরার।
প্রবন্ধে বলা হয়, উচ্চমাত্রায় লবণ গ্রহণের একটি বড় উৎস হলো প্রক্রিয়াজাত খাবার। এসব খাবার স্বাদে নোনতা না হলেও লবণের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। এই অতিরিক্ত লবণ নীরব ঘাতকের মতো দেশে হৃদরোগসহ অন্যান্য অসংক্রামক রোগের মহামারী সৃষ্টি করছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে অবিলম্বে একটি সমন্বিত জাতীয় লবণ গ্রহণ হ্রাস কৌশল গ্রহণ করা এবং খাদ্যের মোড়কের সামনে ‘ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং’ বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। এই লেবেলের মাধ্যমে ভোক্তারা সহজেই লবণ, চিনি ও চর্বির মত স্বাস্থ্যের জন্য হানিকারক উপাদানের পরিমাণ সম্পর্কে সচেতন হয়ে স্বাস্থ্যকর পণ্য বেছে নিতে সক্ষম হবেন।
৩৮৬ দিন আগে
কৃষকের ভাগ্য বদলে দিল বিএডিসির সেচ প্রকল্প
কৃষকের ভাগ্য বদলে দিয়েছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) সেচ প্রকল্প। শুষ্ক মৌসুমে অল্প খরচে সেচ সুবিধা পাওয়ায় কৃষকরা এক ফসলি জমিকে তিন ফসলি জমিতে রূপান্তর করেছেন।
কৃষকরা জানান, এই সেচ সুবিধায় বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।
এদিকে, পানির প্রাপ্যতা ও সময়মতো সেচ সরবরাহের ফলে এ বছর ধানের শীষ ভালো হয়েছে। এ ছাড়া, এ বছর রোগ-বালাই তুলনামূলকভাবে কম ছিল বলেও জানান কৃষকরা।
উপজেলার দিলালপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল খালেক বলেন, ‘আগে পর্যাপ্ত পানি না পাওয়ায় ধানের উৎপাদন কম ছিল। বিগত বছরে যেখানে ৫/৬ মণ ধান হয়েছিল, এবার ২৫/২৬ মণ ধান হবে।’
কৃষক আব্দুল বারী বলেন, ‘আগে যখন ব্যক্তিগত ডিপ টিউবওয়েল বা অন্য উৎসে সেচ দিতে হত, তখন খরচ বেশি পড়ত। এবার বিএডিসির প্রকল্পে অল্প খরচে ধান চাষ করতে পেরেছি।’
‘অকেজো ১৪টি গভীর নলকূপ চালুসহ সেচ সুবিধা আরও বাড়ানো হলে কৃষকরা উপকৃত হবেন।’
উপজেলা কৃষি অফিস ও বিএডিসি অফিস জানায়, লালপুর উপজেলায় বিএডিসি ও বরেদ্র বহুমুখী উন্নয়ন কতৃপক্ষের ২৭টি ও ব্যক্তি মালিকানায় ১৯৫টি বিদ্যুত চালিত পাম্পের মাধ্যমে জমিতে সেচ দেওয়া হচ্ছে। এতে বোরো ধানের লক্ষমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে।
আরও পড়ুন: কাজে আসছে না ১৫০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ডিজিটাল শিক্ষা উপকরণ
চলতি মৌসুমে ১০৫৫ হেক্টর জমিতে বোর ধান চাষের লক্ষমাত্রা থাকলেও ১০৬৫ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। ৬৩৩০ মেক্ট্রিকটন ধান উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করেছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।
বড়াইগ্রাম জোনের সহকারী প্রকৌশলী জিয়াউল হক বলেন, ‘বিএডিসির সেচ সুবিধা কৃষকদের জন্য আশীর্বাদ। সরকারিভাবে নিয়মিত মনিটরিং ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে, যাতে কৃষকরা আরও ভালো ফলন পান। সরকার কৃষি ও কৃষকদের উন্নয়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে। আগামী মৌসুমে আরও নতুন এলাকা এই প্রকল্পের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড় বলেন, ‘সেচ সুবিধার পাশাপাশি কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়েছেন। ফলে সঠিক সময়ে সার ও কীটনাশক প্রয়োগসহ আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির ব্যবহার কৃষকদের ফলন বাড়াতে সহায়তা করেছে।’
৩৮৭ দিন আগে
কাজে আসছে না ১৫০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ডিজিটাল শিক্ষা উপকরণ
কোনো কাজে আসছে না সিলেটের বিয়ানীবাজারের ১৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ডিজিটাল শিক্ষা উপকরণ। প্রযুক্তি ব্যবহার করে বড় পর্দায় (প্রজেক্টর) কোমলমতি শিশু-শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য এই প্রকল্প গ্রহণ করে সরকার। এ জন্য স্কুলগুলোর একজন করে শিক্ষককে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি ট্রেনিং) বিষয়ে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বেশিরভাগ স্কুলের ল্যাপটপ, প্রজেক্টর ও মডেম শিক্ষক ও নৈশপ্রহরীরা রেখেছেন নিজের বাড়িতে। ফলে মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে শিক্ষালাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষার্থী।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির (পিইডিপি ৩-৪) আওতায় বিয়ানীবাজারের ১৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেওয়া হয়েছে ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, মডেম-সিম, ওয়াইফাই রাউটারসহ নানা সরঞ্জাম। প্রতিটি বিদ্যালয়ে ওয়াইফাই রাউটারের জন্য প্রতি মাসে ৪০০ টাকার প্যাকেজে ২০ জিবি ডেটাও সরবরাহ করা হচ্ছে। একটি ওয়াই-ফাই রাউটারের মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ সর্বোচ্চ ১০ জন শেয়ার করে ব্যবহার করতে পারে। আবার কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি থাকায় দুটি করে ল্যাপটপ দেওয়া হয়েছে। তবে বিতরণের আগে এসব বিদ্যালয়ের একজন করে শিক্ষককে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি ট্রেনিং) দেওয়া হয়েছে। এসব শিক্ষাসামগ্রী অনেক শিক্ষক রেখেছেন নিজের বাড়িতে। এতে করে বিদ্যালয়ের শিখন-কার্যক্রমের বাইরে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইউটিউব ব্যক্তিগত ডিভাইসে ব্যবহার করে শেষ হচ্ছে সরকারি টাকায় কেনা ডেটা।
আরও পড়ুন: ৩২ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই: উপদেষ্টা
সরেজমিনে দেখা গেছে, কোনো বিদ্যালয় ল্যাপটপ পেয়েছে, কোনো বিদ্যালয় ল্যাপটপ পেলেও প্রজেক্টর পায়নি। আবার প্রজেক্টর পেলেও ল্যাপটপ পায়নি, এমন বিদ্যালয়ও আছে।
এ ছাড়া কিবোর্ড অকেজো, ব্যাটারি ও সাউন্ডে সমস্যার কথাও জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা। বিতরণ করা ল্যাপটপ, প্রজেক্টরের মধ্যে কতটি বর্তমানে সচল আছে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি বিয়ানীবাজার উপজেলা সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মোতালেব।
বিভিন্ন বিদ্যালয়ে দেখা গেছে, ওয়াইফাই রাউটার বিদ্যালয়ের চেয়ারের নিচে কিংবা টেবিলে লাগানো রয়েছে। বন্ধের দিন রাউটার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। ল্যাপটপ, প্রজেক্টর ও মডেমের অধিকাংশই পাওয়া যায়নি। শিক্ষকদের দাবি, স্কুলে চুরি যাওয়ার ভয়ে তারা এগুলো বাড়িতে নিয়ে রাখেন।
বিয়ানীবাজার উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা পারভেজ তালুকদার বলেন, ‘বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ডিজিটাল ক্লাসে শিক্ষকদের আন্তরিকতার অভাব রয়েছে। তবে উপজেলার সবকটি নয়, এখনও ১২-১৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ডিজিটাল ক্লাসের আওতায় আসেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, রাউটার ও মডেম বিদ্যালয়ে থাকা বাধ্যতামূলক। প্রধান শিক্ষক ও নৈশপ্রহরীর বাড়িতে থাকার বিষয়ে কিছু জানা নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’
আরও পড়ুন: প্রাথমিকেও বৃত্তি চালু করতে যাচ্ছি: উপদেষ্টা
৩৮৮ দিন আগে
অর্ধযুগ পার, সুনামগঞ্জের মৈত্রী সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হবে কবে
সুনামগঞ্জের যাদুকাটা নদীর ওপর শাহ আরেফিন (র.)-অদ্বৈত মহাপ্রভু মৈত্রী সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৮ সালে ৪ ডিসেম্বর। তবে অর্ধযুগ পেরিয়ে ৭ বছরে পড়লেও সেতুটি যাদুকাটার দুপাড়ের বাসিন্দাদের মৈত্রীর বন্ধনে বাঁধতে সক্ষম হয়নি। নদীর মাঝে সেতুর কয়েকটি গার্ডার খাড়া হলেও সেতুটি পূর্ণতা পেতে এখনও অনেক কাজ বাকি।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্টদের গড়িমসির কারণে সেতুটি সংযোগ স্থাপনে ব্যর্থ হওয়ায় সড়কপথের সুফল পাচ্ছে না সুনামগঞ্জের চারটি উপজেলার লাখ লাখ মানুষ। পাশাপাশি স্থানীয়দের দুর্ভোগ তো রয়েছেই। এ ছাড়াও জেলার দীর্ঘতম এই নির্মাণাধীন সেতুকে কেন্দ্র করে তিনটি শুল্ক বন্দর ও কয়েকটি পর্যটন স্পটে ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারের সুযোগ মিলছে না, যার নেতিবাচক প্রভাবের বলি হচ্ছে স্থানীয় কর্মক্ষম বেকার যুবসমাজ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যাদুকাটা নদীর ওপর শাহ আরেফিন (র.)-অদ্বৈত মহাপ্রভু মৈত্রী সেতুর নির্মাণকাজ ৩০ মাস, অর্থাৎ আড়াই বছরের মধ্যেই সম্পন্ন করার নির্দেশনা ছিল। গত ৭ বছরে সেখানে এই মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে চারবার, তবুও কাজ শেষ হয়নি।
তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের গড়কাটি ও বিন্নাকুলী গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত যাদুকাটা নদীর ওপর নির্মাণাধীন ৭৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পর্যটন স্পট, তিনটি শুল্ক বন্দরসহ চার উপজেলার যোগাযোগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের লক্ষ্যে এই সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু অর্ধযুগ পরেও সাধারণ মানুষ এখনও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকা দিয়ে পারাপার হতে হয়। এ নিয়ে স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
আরও পড়ুন: অবৈধ দখল-দূষণের কবলে ফেনীর ২৪৪ নদী ও খাল
ভারতের মেঘালয় পাহাড় আর তাহিরপুরের অপরূপ সৌন্দর্যে্যর যাদুকাটা নদীকে ঘিরে রয়েছে পর্যটন শিল্প। সেই শিল্পকে চাঙ্গা করা ছাড়াও সীমান্ত এলাকাও তিনটি শুল্ক বন্দর, সীমান্ত সড়ক হয়ে সুনামগঞ্জ-নেত্রকোণা-ঢাকার সড়ক যোগাযোগ এবং জেলার তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, মধ্যনগর ও ধর্মপাশা উপজেলার লাখ লাখ মানুষ যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রধান মাধ্যমে পরিণত হবে এই সেতু। কিন্তু সেতুটির পূর্ব পাড়ের অংশে কাজ শেষ না করায় প্রান্তিক এই উপজেলার মানুষের স্বপ্নপূরণের দ্বারপ্রান্তে এসেও তা আলোর মুখ দেখছে না।
২০১৮ সালে ৪ ডিসেম্বর ‘পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি)। তমা কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয় সেতুটি নির্মাণের দায়িত্ব। এরপর থেকে ৭৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের এ সেতুটির ৭৫টি গার্ডারের মধ্যে ৫৭টি এবং ১৫টি স্লাবের মধ্যে ১০টির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। ১৮টি গার্ডার ও পাঁচটি স্লাবের কাজ সাত বছর পরেও এখনও বাকি রয়ে গেছে।
গত বৃহস্পতিবার বিন্নাকুলী গ্রামের বাসিন্দা নুরুল আলমসহ বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয়। সে সময় তারা বলেন, সেতুটি সম্পন্ন হলে আমাদের আর দুর্ভোগ পোহাতে হতো না। সিএনজি বা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়েও অনেকের জীবিকা নির্বাহের সুযোগ হতো। কিন্তু তাস বছরেও সেতুটির নির্মাণকাজ যখন শেষ হয়নি, তখন তা কবে শেষ হবে, তা নিয়ে আমরা আর কোনো আশা রাখি না।
গুরুত্বপূর্ণ এই স্থানে যাদুকাটার ওপর সেতু না থাকায় যে দুর্ভোগ পোহাতে হয়, সে কথাও বলেন তারা, নৌকা দিয়ে নদী পার হতে ৩০ মিনিট সময় লাগে আর বর্ষার সময় আরও বেশি সময় লাগে। নৌকা দিয়ে নদী পার হতে টাকাও খরচ হয়। নদী পাড়ি দিতে গিয়ে অনেক সময় নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে।
বাদাঘাট বাজারের ব্যবসায়ী কবির ভূইয়া বলেন, ‘উপজেলার বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীরা ঢাকা থেকে মালামাল কিনে সরাসরি বাজারগুলোতে নিয়ে আসতে পারছেন না শুধু সেতু না হওয়ার কারণে। এখন মালামাল পরিবহনে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। গত তিন বছর ধরে শেষ হবে বলে সময় পার করা হয়েছে, কিন্তু কাজের কাজ হচ্ছে না।’
বাদাঘাট ইউনিয়নের সমাজসেবক আবুল হোসেন বলেন, ‘সেতুটির নির্মাণ সম্পন্ন হলে স্থানীয় পর্যায়ে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার উন্মোচিত হবে। পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, সেইসঙ্গে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের উপায় হবে। অথচ সবকিছুই এখন আটকে রয়েছে।’
আরও পড়ুন: নিদ্রা সৈকত: অপার সম্ভাবনার এক নিসর্গ ভূমি
বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘সেতুর জন্য লাখ লাখ মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। গুরুত্ব দিয়ে সেতুটির নির্মাণকাজ দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ সম্পন্ন করলে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হবে। আর এই সেতু যোগাযোগ ব্যবস্থার মাইলফলক সৃষ্টি করবে।’
সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ করতে কেন এত সময় লাগছে—জানতে চাইলে তমা কনস্ট্রাকশনের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ নাসির বলেন, ‘বারবার বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কাজ শেষ করা যায়নি।’ তবে ২০২৬ সালের মে মাসের মধ্যেই কাজ শেষ হয়ে যাবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।
সেতুটির নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বলা হয়েছে বলে জানান সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনও।
৩৮৮ দিন আগে