বিশেষ সংবাদ
চার চিকিৎসকের কাঁধে পাঁচ লক্ষাধিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবার ভার, জনদুর্ভোগ চরমে
চরম জনবল সংকটে ভুগছে নওগাঁর মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এর ফলে সেখানকার স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যার এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৪ চিকিৎসকের পদের বিপরীতে বর্তমানে চিকিৎসক আছেন মাত্র চারজন। চিকিৎসকের অভাবে জেলার সবচেয়ে জনবহুল এই উপজেলার মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এছাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে সচল দুটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালক না থাকায় এক বছরের বেশি সময় ধরে সেগুলো ব্যবহার হচ্ছে না। পড়ে থাকতে থাকতে সেগুলো অচল হয়ে যাওয়ার জোগাড় হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, এখানে চিকিৎসকের ২৪টি শূন্য পদের মধ্যে ১০টিই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের। এ ছাড়া শূন্য রয়েছে ১০ জন স্বাস্থ্য কর্মকর্তার পদ। এ অবস্থায় চিকিৎসাসেবা চালিয়ে নেওয়ার স্বার্থে উপজেলার বিভিন্ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে সাতজন স্বাস্থ্য সহকারীকে প্রেষণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পদায়ন করা হয়েছে। চিকিৎসক সংকটে ছোট ছোট সমস্যাতেও রোগীদের রেফার করা হচ্ছে নওগাঁ জেনারেল হাসপাতাল কিংবা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) তাসনিম হোসাইন আরিফ বলেন, ‘এক বছরের বেশি সময় আগে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একমাত্র অ্যাম্বুলেন্সচালক অবসরে যান। তারপর থেকেই এখানকার সচল দুটি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার হচ্ছে না। এ ছাড়া অ্যাম্বুলেন্স চালানোর জন্য তেলের যে বরাদ্দ সেটিও দেওয়া হচ্ছে না। ফলে অ্যাম্বুলেন্সগুলো গ্যারেজেই অব্যবহৃত অবস্থায় দিনের পর দিন পড়ে আছে।’
তিনি বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্সের চালক নিয়োগ ও তেলের বরাদ্দ দেওয়ার জন্য ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে, কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি।’
নওগাঁর সবচেয়ে বড় উপজেলা মান্দা। ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই উপজেলায় ৫ লাখের বেশি মানুষের বাস। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৪৫০ জন রোগী বহির্বিভাগে টিকিট কাটেন। এ ছাড়া জরুরি ও অন্তর্বিভাগে প্রতিদিন চিকিৎসা নেন আরও ১৩০ থেকে ১৪০ সেবাপ্রত্যাশী।
গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা ২০-২২ জন রোগী টিকিট কেটে লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। টিকিট না কেটে চিকিৎসকের খোঁজখবর নিচ্ছেন আরও অনেকে। বহির্বিভাগের দুটি কক্ষে রোগী দেখছেন দুজন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। এ ছাড়া হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স রাখার গ্যারেজ বাইরে থেকে তালা দেওয়া। আর হাসপাতাল চত্বরে বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে দুটি অ্যাম্বুলেন্স।
সেবা নিতে আসা উপজেলার বিজয়পুর, ছোট বেলালদহ ও বড়পই গ্রামের সাত-আটজনের সঙ্গে এ সময় কথা হয়।
তারা বলেন, হাসপাতালে আর আগের মতো চিকিৎসাসেবা পাওয়া যায় না। ঘণ্টার ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চিকিৎসকের দেখা পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে সেবা না নিয়েই অনেক সময় ফিরে যেতে হয়।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশে সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবার ব্যতিক্রম দৃষ্টান্ত ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালের
এখানে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রের (প্রেসক্রিপশন) বেশিরভাগ ওষুধই বাইরে থেকে কিনতে হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
৩৮৯ দিন আগে
বায়ো ফিশ ফিড উৎপাদনে সাফল্য: মাছচাষে কমবে ব্যয়, থাকবে না স্বাস্থ্যঝুঁকি
নাটোরে প্রাকৃতিকভাবে মাছের খাবার বা বায়ো ফিশ ফিডের পরীক্ষামূলক উৎপাদনে সাফল্য মিলেছে। এর ফলে বাজারে প্রাপ্ত ফিশ ফিডের তুলনায় প্রায় অর্ধেক খরচে সম্ভব হবে মাছ চাষ। এ ছাড়া বয়ো ফিশ ফিড মানবদেহের জন্যও সম্পূর্ণ নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর বলে দাবি উদ্ভাবকের।
দীর্ঘ গবেষণার মাধ্যমে মানবদেহের জন্য নিরাপদ এই বায়ো ফিশ ফিড উদ্ভাবন করেছেন জীববিজ্ঞানী ড. জি এন এম ইলিয়াস। নাটোরে তার গবেষণা খামারে উৎপাদিত প্রোটিনসমৃদ্ধ ব্ল্যাক সোলজার লার্ভি বা বিশেষ ধরনের পোকা এবং ল্যাবে উৎপাদিত আরেক বিশেষ ছত্রাক ট্রাইকোডার্মার সঙ্গে চিনিকলের চিটা গুড় ও সরিষার খৈল মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে প্রাকৃতিক এই মাছের খাবার। ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলক উৎপাদনে সফলতাও পেয়েছেন তিনি।
ড. ইলিয়াস জানান, এই ফিড পুকুরে ব্যবহারে মাছের প্রধান খাবার প্ল্যাংটনের উৎপাদন বৃদ্ধি করে। আবার নবায়নযোগ্য খাবার হওয়ায় পানির জৈব উপাদানও বাড়ায়। এর ফলে মাছের পাশাপাশি হাঁসেরও খাবার তৈরি হয়। বাজারে প্রচলিত খাবারের চেয়ে সাশ্রয়ী ও নিরাপদ হওয়ায় বায়ো ফিশ ফিড মাছচাষিদের জন্য নতুন দুয়ার খুলে দেবে বলে মনে করেন এই জীববিজ্ঞানী।
তিনি বলেন, ‘পোকার খাদ্য হিসাবে বেগুনসহ নানা সবজি ব্যবহার করা হয়। এসব সবজি খেয়ে ব্ল্যাক সোলজার লার্ভি জাতীয় পোকা তার বংশ বিস্তার করে। পর্যাপ্ত ডিম দেওয়ার পর পোকাগুলো মরে যায়। প্রোটিনসমৃদ্ধ ওইসব মৃত পোকা কম্পোস্টে পরিণত হয়। এ ছাড়া পোকার ডিমও পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ভিটামিনসমৃদ্ধ হওয়ায় মাছের পছন্দের খাবার হিসাবে গণ্য হয়।’
তিনি আরও জানান, বায়ো ফিশ ফিডে ব্যবহৃত চিনিকলের চিটা গুড় ও সরিষার খৈল মাছের মূল খাবার প্ল্যাংটনের উৎপাদন বৃদ্ধি করে। এর সঙ্গে ট্রাইডোর্মার মিশ্রণ খাবারগুলোকে আরও সমৃদ্ধ ও নবায়নযোগ্য করে তোলে। ফলে পানিতে ব্যবহৃত ফিড কয়েক দফায় খাদ্য উপাদান তৈরি করে থাকে। একইসঙ্গে পানির গুণগত মান ও পরিবেশগত সুরক্ষাও নিশ্চিত করে বলে জানান এই গবেষক।
মৎস্য খামারি শফিউল হক বলেন, নতুন উদ্ভাবিত বায়ো ফিশ ফিড সময়োপযোগী একটি আবিষ্কার। এটি জলজ ও প্রাকৃতিক পরিবেশ-সহায়ক, মানবদেহের জন্য নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী। ফলে এর বাণিজ্যিক উৎপাদন করা গেলে মাছ উৎপাদনে বিপ্লব সৃষ্টি হতে পারে বলে মত তার।
আরও পড়ুন: অবৈধ দখল-দূষণের কবলে ফেনীর ২৪৪ নদী ও খাল
স্থানীয় সৌখিন মৎস্যচাষি মেহেদী হাসান জানান, পরীক্ষামূলকভাবে পুকুরে বায়ো ফিশ ফিড ব্যবহার করে তিনি সফলতা পেয়েছেন। তিনিও এই সারের বানিজ্যিক উৎপাদনের ওপর জোর দেন।
৩৮৯ দিন আগে
অবৈধ দখল-দূষণের কবলে ফেনীর ২৪৪ নদী ও খাল
উপরের ছবিটি কোনো ময়লার ভাগাড়ের নয়, ছবিটি ফেনী জেলার একটি খালের। তবে ময়লা ফেলে খালটির যে হাল করা হয়েছে, তাতে ভাগাড় বললেও খুববেশি বাড়িয়ে বলা হয় না।
ময়লা-আবর্জনা ফেলে জেলার নদী, শাখা নদী ও খালের স্রোতধারা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে জলবদ্ধতা তৈরি একটি নৈমিত্তিক সমস্যা। প্রতি বর্ষায় জলাবদ্ধতার কারণে ফেনী শহরের রাস্তাঘাট নদীর মতো দেখা যায়। সামান্য বৃষ্টিতে হাঁটুপানি জমে যায় শহরের প্রতিটি সড়কে। এ ছাড়াও অবৈধ দখলের কারণে খালগুলো বর্তমানে নর্দমায় পরিণত হয়েছে। ময়লার কারণে কিছু কিছু স্থানে নর্দমার অস্তিত্বও বিলীন হয়ে গেছে।
ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, জেলার সোনাগাজী উপজেলার ৫৬টি, দাগনভূঞার ৫২টি, সদর উপজেলার ৩৯টি, পরশুরামের ৪টি, ছাগলনাইয়ার তিনটি ও ফুলগাজীর ৯০টি খালই দখল-দূষণে মৃতপ্রায়।
ফেনীর ছয় উপজেলার অন্তত ২৪৪টি খাল ও শাখা নদী অবৈধ দখল-দূষণের কবলে। বেশিরভাগ খাল বেদখলে বেহাল, অথবা দূষণে ভরাট হয়ে আছে। ফলে সেগুলো দিয়ে শহরের পানি দ্রুত নামতে পারছে না।
গত বছরের ভয়াবহ বন্যায় বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ভারী বর্ষণ ও ভারতীয় উজানের পানিতে সৃষ্ট বন্যায় মানুষজনের পাশাপাশি ক্ষতির শিকার হয় ঘরবাড়ি, কৃষিজমি, পুকুর-খামার ও গবাদিপশু। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পৌর কর্তৃপক্ষ দফায় দফায় উদ্যোগ নিয়েও খাল ও শাখা নদীগুলোর অবৈধ স্থাপনা নানা জটিলতায় উচ্ছেদ করতে পারছে না; পারছে না খালগেুলোর সংস্কার করতেও।
দখল হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ফেনীর খাল-নদী পলি মাটি জমে ভরাট হয়ে নাব্যতা হারিয়ে। সেই সঙ্গে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকায় দূষিত হয়ে কোথাও কোথাও সেগুলো সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এসব খালের পানির প্রবাহ ঠিক করা না গেলে বর্ষা মৌসুমে জলবদ্ধতার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। পৌরসভার পক্ষ থেকে খালগুলো পরিষ্কারের পদক্ষেপ নিলেও পুনরুদ্ধারের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায় না।
আরও পড়ুন: সুনামগঞ্জে কানাইখালী নদী দখল করে দালান নির্মাণের অভিযোগ
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাগলিছড়া, পিটিআই ও খাজা আহাম্মদ লেক খালগুলোর মধ্যে কয়েকটি খালের অস্তিত্ব বিলীনের পথে। যেগুলো আছে সেগুলো এখন আর পানি প্রবাহের জায়গা নয়, বরং প্লাস্টিক বোতল, পলিথিন, খাবারের প্যাকেটসহ বিভিন্ন বর্জ্যে ভর্তি একেকটি ময়লার ভাগাড়ে রূপ নিয়েছে। এসবের ফলে জলাবদ্ধতা, দুর্গন্ধ ও মশার উপদ্রব শহরবাসীর নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে।
৩৯০ দিন আগে
১৮ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে
সরকার বারবার সময় দেওয়ার পরও ১২ বছরের বেশি সময় হয়ে গেছে, এমন ১৮টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে সম্প্রতি ইউজিসি চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) মাসিক সভা থেকে সেই সিদ্ধান্ত আসবে।
১৮ টি বেসরকারি ভার্সিটি- লিমিট ক্রস করে ফেলেছে। যারা ১২ বছরের বেশি সময় পার হয়েছে। কারো ১২, ১৫, ১৮, ২০ বছরের বেশি হয়েছে, এখানে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যায়নি।
ইউজিসির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বে থাকা সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন ইউএনবিকে এক সাক্ষাৎকারে জানান, ওই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সীমা ছাড়িয়ে গেছে। কোনোটির ১২ বছরের বেশি সময় পার হয়ে গেছে, কোনো কোনোটির ১৫, ১৮, এমনকি ২০ বছর হয়ে গেছে, এখনও স্থায়ী ক্যাম্পাসে যায়নি।
আরও পড়ুন: দুর্নীতির অভিযোগ: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ব্যবস্থা নিতে পারে ইউজিসি
ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, ১৮টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়া ব্যাপারে বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও যায়নি। এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়, সে ব্যাপারে তিন মাস আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি লিখেছি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ১৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে একটা নির্দেশনা দিয়েছে। তবে এই সংখ্যা হবে ১৮টি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সুত্রে জানা যায়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে পাঠানো চিঠিতে ইউজিসি চেয়ারম্যানকে বলা হয়, ১৬ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাময়িক অনুমতির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরও শিক্ষা কার্যক্রম স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তর করেনি। ফলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০-এর ধারা ১২ (১) অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে কী নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে ইউজিসির এই সদস্য বলেন, ‘এটি বলা যাবে না। তবে চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে মাসিক সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। খুব দ্রুতই মাসিক সভা হবে। সেখানে ১২ বছরের উপরে হয়ে গেছে, কিন্তু স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে পারেনি—এমন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
কী কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘স্থায়ী ক্যাম্পাসে না যেতে পারলে অনুমোদন বাতিলসহ অনেক বিকল্প আছে। তবে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক না কেন, চেয়ারম্যানের নির্দেশেই তা বাস্তবায়ন করা হবে।’
এখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আর কতদিন সময় দেবেন জানতে চাইলে ইউজিসির এই সদস্য বলেন, ‘২/৩ মাসে তো আর যেতে পারবে না। সময় দিলেও স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে৩/৪ বছর সময় লাগবে।’
তিনি বলেন, ‘অনেক ভার্সিটির ১২, ১৫, ২০ বছর হয়ে গেছে, এখনও স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে পারেনি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী এসব ক্ষেত্রে ইউজিসির মাসিক সভায় বহু ধরনের সিদ্ধান্ত আসবে। কাউকে সতর্ক, কাউকে সময় দেওয়াসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত আসবে।’
আরও পড়ুন: বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শাখা স্থাপনের অনুমতি দিতে গাইডলাইন হচ্ছে
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘১১৭ ভার্সিটির মধ্যে বেশিরভাগেরই স্থায়ী ক্যাম্পাস নেই। স্থায়ী ক্যাম্পাস সংখ্যা অনেক কম। তারপরও তাদের সময় দেওয়া হচ্ছে।’
এর আগে, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার জন্য ১৮ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে চিঠি দিয়েছিল ইউজিসি। ওই বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে না পারায় চার বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ, দুটির অস্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী ভর্তিতে নিষেধাজ্ঞা এবং বাকি ১২ বিশ্ববিদ্যালয়কে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে আলাদা সময় দেওয়া হয়েছিল।
স্থায়ী ক্যাম্পাস না থাকায় যে ১৮ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এর মধ্যে ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ই রাজধানী ঢাকায়।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো ঢাকার সাতমসজিদ রোডের ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ, সিদ্ধেশ্বরীর স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, রাজারবাগের দ্য মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটি, মোহাম্মদপুরের দ্য পিপলস ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, গুলশানের প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, বনানীর প্রাইমএশিয়া ইউনিভার্সিটি, শ্যামলীর আশা ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, পান্থপথের সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি, মিরপুরের বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেস, সিলেটের নর্থ ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ, কিশোরগঞ্জের ঈশা খাঁ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, খুলনার নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি, ফেনীর ফেনী ইউনিভার্সিটি, চট্টগ্রামের পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও চিটাগং ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি এবং কুমিল্লার ব্রিটানিয়া ইউনিভার্সিটি।
এদিকে, রাজধানীর সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে গত শনিবার খিলগাঁও ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডে তাদের অর্ধসমাপ্ত স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন করেছে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ অনুযায়ী স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে প্রতিষ্ঠার পর প্রথমে সাত বছর, পরে আরও পাঁচ বছর সময় পায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। এর মধ্যে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে না পারলে শিক্ষার্থী ভর্তিতে নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে ইউজিসি।
৩৯০ দিন আগে
নিদ্রা সৈকত: অপার সম্ভাবনার এক নিসর্গ ভূমি
বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নে অবস্থিত নিদ্রা সমুদ্র সৈকত, যা স্থানীয়ভাবে ‘নিদ্রার চর’ নামেও পরিচিত। অপরূপ এই সৈকতটি বাংলাদেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় পর্যটন স্থান হিসেবে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই সৈকতটির একদিকে সাগর, অন্যদিকে নদী এবং মাঝখানে কেওড়া ও ঝাউবনে ঘেরা সবুজ পরিবেশ। এখানকার জোয়ার-ভাঁটার খেলা, সবুজ ঘাসের বিস্তীর্ণ প্রান্তর এবং শ্বাসমূলের সমারোহ পর্যটকদের মুগ্ধ করে।
স্থানীয় পর্যটন উদ্যোক্তা আরিফ রহমান বলেন, নিদ্রা সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং বৈচিত্র্য পর্যটকদের সহজেই আকর্ষণ করতে সক্ষম। এখানে পর্যটন অবকাঠামো উন্নত করা গেলে এটি দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।
তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে সালমা বলেন, নিদ্রা সৈকতকে কেন্দ্র করে পর্যটন শিল্পের বিকাশে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। পর্যটকদের জন্য নিরাপত্তা এবং সুবিধা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি।
নিদ্রা সৈকতের কাছেই রয়েছে শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত, যেখানে প্রতি বছর জোছনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া, বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন টেংরাগিরি, ফাতরার চর ও সোনাকাটা ইকোপার্কও এই এলাকায় অবস্থিত। সব মিলিয়ে নিদ্রা সৈকত ও এর আশপাশের এলাকা পর্যটকদের জন্য একটি সম্পূর্ণ প্যাকেজ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
আরও পড়ুন: বৈশাখী মেঘের ডাকে মাটি ফুঁড়ে ‘মে বলের’ হাতছানি
সার্বিকভাবে, নিদ্রা সমুদ্র সৈকত তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বৈচিত্র্যপূর্ণ পরিবেশ এবং আশেপাশের পর্যটন স্থানের সমন্বয়ে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। সঠিক পরিকল্পনা ও উন্নয়নের মাধ্যমে এটি দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।
৩৯১ দিন আগে
কুশিয়ারার পেটে সিলেটের সড়ক ও সেতু
সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার দীর্ঘতম সড়কগুলোর অন্যতম খসরুপুর জিসি-বালাগঞ্জ সড়কের ফাজিলপুর এলাকায় কুশিয়ারার ভাঙনে নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে সড়ক ও সেতু। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে এই অঞ্চলের জনসাধারণ চরম বিপাকে পড়েছেন। সড়কের পাশে বৈদ্যুতিক খুঁটি থাকায় দুর্ঘটনা এড়াতে লাইন বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। এর ফলে তীব্র গরমের মাঝে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
গত বুধবার (৭ মে) সকাল ৮টার দিকে ভয়াবহ এ ভাঙনের ঘটনা ঘটে।
ভাঙনের ফলে স্থানীয় পূর্ব পৈলনপুর ইউনিয়নের সঙ্গে উপজেলা সদরের সড়ক যোগযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে স্কুল, কলেজ, মাদরাসার শিক্ষার্থীসহ এলাকার বিভিন্ন গ্রামের হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
বড় এই ভাঙনের পর আরও ভাঙনের আশঙ্কায় স্থানীয়দের মাঝে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনীতিকসহ এলাকাবাসী জরুরি-ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
কুশিয়ারা নদীর তোড়ে সম্প্রতি খসরুপুর জিসি-বালাগঞ্জ সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে কয়েকদিন আগে ওই সেতু এলাকায় ফাটল দেখা দেয়। বুধবার সকালে ভেঙে পড়ে সড়কের একাংশ এবং এর ওপর নির্মিত সেতুটি। প্রায় ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ক দিয়ে বালাগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে ওসমানীনগর উপজেলার শেরপুর পর্যন্ত যোগাযোগ সংযুক্ত রয়েছে।
ভাঙনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার মামুনুর রশীদ, উপজেলা প্রকৌশলী মুহিবুল্লাহ, স্থানীয় পৈলনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শিহাব উদ্দিনসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা।
আরও পড়ুন: পদ্মা নদীতে বালু দস্যুদের বিরুদ্ধে যৌথবাহিনীর অভিযান, ড্রেজার-ট্রলার জব্দসহ আটক ৫
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই ভাঙন দেখা দিয়েছিল গত বছরের নভেম্বর মাসে। তখন পানি উন্নয়ন বোর্ডকে (পাউবো) জিও ব্যাগ ও ব্লক ফেলার প্রস্তাব দেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিয়ে কয়েকদিন আগে কেবল মাটি ও পলিব্যাগ দিয়ে ভাঙনের স্থানগুলো ভরাট করে দেওয়া হয়। কালভার্ট ও সড়ক রক্ষায় জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় কয়েকদফা সংবাদও প্রকাশিত হয়। পরে গত ২৮ এপ্রিল স্থানীয় সরকার সিলেটের উপপরিচালক সুবর্ণা সরকার স্থানটি পরিদর্শনেও আসেন, কিন্তু প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়ায় শেষমেষ শেষ রক্ষা হলো না রাস্তা ও কালভার্টের।
৩৯১ দিন আগে
চাঁদপুরে শাকসবজির দাম বেড়েই চলেছে, ধরাছোঁয়ার বাইরে ইলিশ
ঈদের পর গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পেঁয়াজসহ প্রায় সব ধরনের শাকসবজির দাম বাড়ছে চাঁদপুরে। কেবল পেঁয়াজের দামই প্রতি কেজিতে বেড়েছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। অথচ বাজারে শুধু পেঁয়াজ কেন, কোনো শাকসবজিরই সরবরাহে কমতি নেই।
কেন এমন দরবৃদ্ধি, তা নিয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারছেন না স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও। তারা বলছেন, কেন দাম বাড়ছে জানি না। তবে গত কয়েক সপ্তাহের বাজার বিবেচনা করে সহজেই বলে দেওয়া যায় যে, সামনে দাম আরও বাড়বে।
চাঁদপুর শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়। অথচ ২০/২৫ দিন আগে তা ছিল ৩০-৩৫ টাকা কেজি।
এছাড়া দাম বেড়েছে সব সবজিরও। প্রতিটি সবজিই ১০ থেকে ৩০, আবার কোনো কোনোটি ৪০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
বর্তমানে এক কেজি কাকরোল বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়, পটল ৭০ টাকা কেজি, চিচিঙ্গা ৭০ টাকা, লম্বা সিম ৭০ টাকা কেজি, গাজর ৪০-৪৫ টাকা কেজি , ধুন্দল ৬০ টাকা কেজি, কাঁচা মরিচের কেজি ১০০ টাকা, ধনে পাতা ১২৫ টাকা কেজি।
আরও পড়ুন: বৈশাখী মেঘের ডাকে মাটি ফুঁড়ে ‘মে বলের’ হাতছানি
এ ছাড়া রসুন বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৩০ টাকা কেজি দরে, পেঁপে ৮০ টাকা, করলা ৪০ টাকা, টমেটো ৩৫-৪০ টাকা, ঢেড়স ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, মিষ্টি আলু ৬০ টাকা কেজি; মাঝারি সাইজের লাউ একেকটি ৫০-৬০ টাকা,মাঝারি সাইজের চাল কুমড়া প্রতিটি ৬০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
শাকের মধ্যে লাল ও সবুজ শাক বিক্রি হচ্ছে কেজি ৪০ টাকা দরে। এ ছাড়াও কচুর লতি ৭০ টাকা কেজি, শসা ৬০ টাকা ছড়া কচু ৭০ টাকা, কাঁচকলা ৪০ টাকা হালি, লম্বা কালো বেগুন ৭০ টাকা ও গোলাকার কালো বেগুন ৮০ টাকা কেজি। আর মাঝারি সাইজের লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ২০-২৫ টাকায়। তবে গোল আলুর দাম এখনও ২০ টাকা কেজিই আছে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় এসব শাকসবজির দাম বাড়ায় জেলার সীমিত আয়ের লোকজনের দুর্ভোগ বেড়েছে।
এ বছর জেলায় পেঁয়াজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পুরাপুরি অর্জন হয়েছে বলে দাবি চাঁদপুর কৃষি বিভাগের। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগে কর্মরত কৃষিবিদ মোবারক হোসেন ইউএনবিকে জানান, জেলায় এ বছর পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে ৭৫০ হেক্টরে। কাটা ও হয়েছে ৭৫০ হেক্টরের পেঁয়াজ। এসব জমিতে মোট উৎপাদন হয়েছে ৮ হাজার ৮১১ দশমিক ৬ টন পেঁয়াজ।
তার দেওয়া তথ্যমতে, জেলায় রসুনের আবাদ হয়েছে ৩৬০ হেক্টর জমিতে। এরই মধ্যে সব রসুন তোলা হয়েছে। জেলায় রসুনের মোট উৎপাদন হয়েছে ২ হাজর ৯৬২ দশমিক ২৫ টন।
মাছের বাজারেও আগুন
সবজির মতো শহরের মাছ বাজারের চিত্রও এক। ইলিশসহ অন্যান্য মাছের দাম চড়া।
চিংড়ি মাঝারি সাইজেরটা বিক্রি হচ্ছে এক হাজার টাকা কেজি, মাঝারি সাইজের শিং/মাগুর ৭৫০-৮০০ টাকা কেজি, চাষের পাঙ্গাস কেজিপ্রতি ২২০ টাকা, কাচকি বইচা মাছ ৫০০ টাকা এবং তেলাপিয়া মাছ বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকা কেজি দরে।
আরও পড়ুন: মাগুরায় নিম্নমানের সরকারি পাটবীজ বিতরণ, অনাগ্রহ কৃষকদের
আর ইলিশের দাম তো সাধারণের ধরাছোঁয়ার বাইরে। বিপনীবাগ মাছ বাজারে এক কেজি ওজনের ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৩০০ টাকা দরে, ৫০০/৬০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২০০০ টাকা কেজি, তিনটায় এক কেজি—এমন ইলিশের দামও ১৩০০-১৪০০ টাকা কেজি।
শহরের ব্যস্ততম বিপনীবাগ বাজারের পুরাতন ব্যবসায়ীরা বলছেন, বড় স্টেশন মাছের মোকাম, হরিণাঘাট ও আনন্দবাজার মাছের মোকামে ইলিশের আমদানি এখনও কম। এ ছাড়া শহরের টিলাবাড়ি এলাকার ইলিশশিকারী জেলেদের কাছ থেকে জানা যায়, নিষেধাজ্ঞার পর এখনও জালে ইলিশ ধরা পড়ছে কম। তাই বাজারে দাম একটু চড়া।
চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতির সভাপতি ও প্রবীণ ব্যবসায়ী শবেবরাত সরকারসহ কয়েকজন বলেন, নিষেধাজ্ঞার পর এখনও বড় স্টেশন মাছ ঘাট জমে উঠেনি। সাগরেও নিষেধাজ্ঞা চলছে। তাই দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা ভোলা, হাতিয়া, চরফ্যাশন ইত্যাদি এলাকা থেকে ইলিশ আমদানি হচ্ছে না। সারা দিনে এই মাছ ঘাটে গড়ে পদ্মা নদীর দুই থেকে আড়াই মণ ইলিশ আসে।
তারা আরও বলেন, এখন তো ইলিশের সিজন নয়। সিজন শুরু হবে জুন-জুলাইতে। আশা করি তখন নদীতে ঢেউ উঠবে, ঝড় ও বজ্রবৃষ্টিসহ বাতাস থাকবে। তখন বেশি বেশি ইলিশ পাওয়া যাবে।
আরও পড়ুন: নড়াইলে লবণাক্ততায় তিন ফসলি জমি এক ফসলিতে পরিণত
৩৯৩ দিন আগে
একটা বাজলেই পড়ে ছুটির ঘণ্টা, শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের অসন্তোষ
ঘড়ির কাটায় দুপুর ২টা বেজে ৩৩ মিনিট। এমন সময় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, চারদিকে সুনসান নীরবতা। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কেউ সেখানে নেই। শ্রেণিকক্ষে ঝুলছে তালা। শিক্ষকদের কক্ষ খালি। কেবল পরিছন্নতাকর্মী পতাকা নামাচ্ছেন।
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের হাসিমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে রবিবার (৪ মে) গিয়ে এমন চিত্রের দেখা মেলে। অথচ বিদ্যালয় ছুটি হওয়ার কথা বিকাল ৪টায়। অবস্থিত।
জানতে চাইলে পরিছন্নতাকর্মী অলোক বিশ্বাস বলেন, ‘আজ (রবিবার) ২টার দিকে প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয় ছুটি দিয়ে চলে গেছেন। এসএসসি পরীক্ষার কারণে প্রতিদিন ১টার মধ্যেই স্কুল ছুটি হয়ে যায়।’
অফিস সহায়ক আশরাফুল আলম বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ে ৩৫০ জনের মতো শিক্ষার্থী রয়েছে। তার মধ্যে আজ দুই শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। তবে ছুটির বিষয়ে হেড স্যারের (প্রধান শিক্ষক) সঙ্গে কথা বলেন।’
শিক্ষার্থী ও অভিভাবক থেকে শুরু করে এলাকাবাসীর অভিযোগ, অন্যান্য বিদ্যালয় প্রতিদিন ১০টায় শুরু হয়ে চলে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। কিন্তু ১৯৪০ সালে প্রতিষ্ঠিত হাসিমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাস হয় না। শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে এসে ক্লাসে না নিয়ে অফিসে বসে থাকেন। দুপুর একটা বাজলেই ছুটি দিয়ে চলে যান যে যার মতো। এটি এ বিদ্যালয়ের নিত্যদিনের চিত্র।
অভিযোগের সত্যতা জানতে চাইলে নবম শ্রেণির এক ছাত্রী বলে, ‘আজকে (রবিবার) শুধু ইংরেজি ক্লাসের পর ১টার দিকে স্কুল ছুটি হয়ে গেছে। প্রতিদিনই এমন ঘটনা ঘটে। ৪টা পর্যন্ত স্কুল চললে ভাল হয়।’
‘সামনে পরীক্ষা, তবুও অন্যান্য ক্লাস ঠিকমতো হয় না। পড়াশোনা নিয়ে তাই আমার চিন্তা হয়।’
অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্র বলে, ‘প্রতিদিনই ১২ টা থেকে ১ টার মধ্যে স্কুল ছুটি হয়ে যায়। আবার অনেকদিন সাড়ে ১০ টার দিকে নাম ডেকেই ছুটি দিয়ে দেয়।’
অভিভাবক মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘আমার তিন ছেলে এই স্কুলে পড়েছে। ছোট ছেলে এখন অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। সে প্রতিদিন সকাল ১০টায় স্কুলে গেলেও দুপুর ১টার মধ্যে বাড়ি চলে যায়। জানতে চাইলে সে বলে, এই স্কুলে আর আগের মতো পড়া হয় না।’
তিনি বলেন, ‘শিক্ষকরা সবাই দুর্নীতি-অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। (বর্তমান) সব শিক্ষককে সাসপেন্ড করে নতুন শিক্ষক আনা দরকার।’
বিদ্যালয় থেকে প্রায় ৩০ গজ দুরে ব্যবসায়ী আব্দুর রহিমের দোকান। তার মেয়ে বিথি অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। আব্দুর রহিম বলেন একই কথা।
‘প্রতিদিন একটা বাজলেই ছুটি হয়ে যায় স্কুল। এসব দেখার কেউ নাই। বিদ্যালয়টি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ।’
আরও পড়ুন: বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শাখা স্থাপনের অনুমতি দিতে গাইডলাইন হচ্ছে
৩৯৩ দিন আগে
বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শাখা স্থাপনের অনুমতি দিতে গাইডলাইন হচ্ছে
দেশে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শাখা ক্যাম্পাস স্থাপনের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে গাইডলাইন পলিসি তৈরির জন্য কাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। এ বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট ও কঠোর নীতিমালা প্রণয়নে কাজ করছে ইউজিসির হাই-পাওয়ার কমিটি।
নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার পর মানসম্পন্ন ও স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আবেদন বিবেচনা করে অনুমোদন দেওয়া হবে। তবে উচ্চশিক্ষার মান রক্ষা ও বাণিজ্যিকীকরণ রোধে প্রয়োজনীয় সতর্কতাও অবলম্বন করা হবে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বে থাকা ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন ইউএনবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বিদেশি (বিশ্ববিদ্যালয়ের) ক্যাম্পাস এলে বাংলাদেশের কতটুকু ভালো হবে—সব দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে একটি গাইডলাইন পলিসি তৈরির জন্য হাই-পাওয়ার কমিটি কাজ করছে। কমিটিতে প্রফেসররা আছেন। কমিটির প্রধান বুয়েট ভিসি। কমিটি পলিসি তৈরি করছে। পলিসি তৈরি হলে বিদেশি (বিশ্ববিদ্যালয়ের) ক্যাম্পাস অনুমোদনের বিষয়টি নিয়ে বলা যাবে।’
‘এই কমিটি সাব-কমিটি। মেইন কমিটির প্রধান আমি। সেখানে ঢাবি, বুয়েটে, নর্থ সাউথ ও জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটির মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়েসরদের নিয়ে একটি হাই-পাওয়ার কমিটি করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বিদেশি ক্যাম্পাসের অনুমতি দিতে আমরা পজিটিভ। তবে আমরা দেখছি, শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা হয় কি না। এছাড়া আমাদের পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কী ধরনের প্রেসারে পড়বে, সেটাও দেখতে হবে।’
আরও পড়ুন: দুর্নীতির অভিযোগ: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ব্যবস্থা নিতে পারে ইউজিসি
ইউজিসির এই সদস্য বলেন, ‘প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় একটি অবস্থানে চলে গেছে। তবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের জীবনযাত্রার মান, তাদের বেতনকাঠামো, সুযোগ-সুবিধা, গবেষণার সুযোগ খুব যে ভালো, তা দেখছি না। সবদিক থেকে বিবেচনায় নিয়ে বিদেশি ভার্সিটি এলে পাবলিক ও প্রাইভেট ভার্সিটিগুলো আরও শিক্ষক সংকটে পড়বে কি না তা দেখতে হবে। তাছাড়া এই পদক্ষেপ দেশের জন্য লাভজনক কি না, তা দেখে সেইভাবে পলিসি তৈরি করা হবে।’
ইউজিসি থেকে জানা যায়, ইউজিসি বর্তমানে ২০১৪ সালের ‘বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা বা স্টাডি সেন্টার পরিচালনা বিধিমালা’ সংশোধনের কাজ করছে। এই বিধিমালায় কিছু অস্পষ্টতা ও সীমাবদ্ধতা থাকায় তারা এটি সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন নীতিমালায় শুধুমাত্র শাখা ক্যাম্পাস স্থাপনের অনুমতি দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে, স্টাডি সেন্টার নয়। শাখা ক্যাম্পাস স্থাপনের জন্য নির্দিষ্ট শর্তাবলী অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেমন: ২৫ হাজার বর্গফুট জায়গা, পূর্ণকালীন শিক্ষক নিয়োগ, ৫ কোটি টাকা ফিক্সড ডিপোজিট, অনুমোদনের জন্য ১০ লাখ টাকা ফি। সর্বোপরি, উচ্চশিক্ষার মান নিশ্চিত এবং বাণিজ্যিকীকরণ রোধ করাই এই নীতিমালার লক্ষ্য।
বাংলাদেশে প্রথম বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে শাখা ক্যাম্পাস খুলতে ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেয়েছে মালয়েশিয়ার ইউসিএসসি ইউনিভার্সিটি। ইতোমধ্যে তারা ঢাকায় কার্যক্রম শুরু করেছে।
৩৯৪ দিন আগে
বৈশাখী মেঘের ডাকে মাটি ফুঁড়ে ‘মে বলের’ হাতছানি
মে বল। সারা বছর ভূ-গর্ভে ঘুমিয়ে থাকার পর গ্রীষ্মের শুরুতে কালবৈশাখীর মেঘের ডাকে ঘুম ভাঙে। এরপর শরৎ-হেমন্ত-শীতে ইস্পাতকঠিন ভূ-তল ফুঁড়ে মাথা তোলে মে বল। তার কয়েকদিনের মধ্যেই ফুল ফুটিয়ে তপ্ত গ্রীষ্মকে রাঙিয়ে দেয় সে।
‘মে বল’ নামটি শুনতে একটু অন্যরকম। চট করে অনেকে হয়তো ধরতেই পারবেন না যে, নামটি আসলে একটি ফুলের। ফুলটির স্বভাবের কারণেই ব্যতিক্রম এই নামকরণ। ইংরেজি সনের কেবল মে মাসেই দেখা মেলে বিশেষ এই ফুলের। বলের আকৃতির এই ফুলকে দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘বল ফুল’ বলেও অভিহিত করে থাকেন অনেকে।
মে মাসে এই ফুল ফোটে বলে সারা বিশ্বে ‘মে ফুল’ নামেও জনপ্রিয় এটি। গোলাকার দেখতে হওয়ায় ফুলটিকে বল লিলিও বলা হয়। আবার শুধু লিলি, পাউডার পাফ লিলি, আফ্রিকান বাড লিলি নামেও পরিচিত এই ফুল। তবে উদ্ভিদ বিজ্ঞানীদের দেওয়া নাম হলো ‘মে বল’। বছরের পর বছর ধরে একই নিয়মে মে মাসেই হাসিমুখে মাথা তোলে এই ফুল।
বিদেশি ফুল হলেও অনেক আগে থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মে বলের দেখা মেলে। তেমনই ঠাকুরগাঁওয়ের নারগুন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল জলিলের বাড়িতে দেখা দিয়েছে মে বল।
আব্দুল জলিল জানান, গত ১৬ বছর ধরে গ্রীষ্মে প্রথম বৃষ্টির পরই মাটি ভেদ করে বের হয় মে বলের কাণ্ড। এর কিছুদিন পর দেখা যায় ফুল। একে প্রতিটি কন্দ থেকে গাছ বেরিয়ে গোলাপি রঙের ফুলে ছেয়ে যায় বাগান।
আরও পড়ুন: ঝিনাইদহে যে গ্রামে ৬ দশক ধরে তৈরি হয়ে আসছে আখের গুড়
৩৯৪ দিন আগে