বিশেষ সংবাদ
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বেগুনে রঙের ধান চাষে সাড়া ফেলেন কৃষক রবিউল
বেগুনি রঙের ধান আবাদ করে সাড়া ফেলেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার পিড়াসন এলাকার কৃষক রবিউল ইসলাম(৬২)। শুরুতে নতুন ফসল আবাদে মনে কিছুটা সংশয় ছিল তার। এখন জমিতে ফসল দেখে সেই সংশয় কেটে চোখে-মুখে আশার আলো ফুটেছে। এরআগে জেলাটিতে এই ধান আবাদ আর কেউ করেননি।
ইউটিউবে বেগুনি রঙের ধান চাষ দেখে উদ্বুদ্ধ হন রবিউল। এরপর অনলাইনে অর্ডার দিয়ে ৩০০ টাকা দরে দুই কেজি বীজ সংগ্রহ করে বাড়ির কাছেই তার নিজের ১২ কাঠা জমিতে চাষ করেছেন।
প্রচলিত ধান গাছের পাতার রঙ সবুজ। কিন্তু তার জমিতে এখন শোভা পাচ্ছে বেগুনি রঙের ধান গাছ। বর্তমানে জমিতে এই ধান গাছে শীষ ফুটেছে। ধান গাছ ও শীষের চেহারা দেখে ভালো ফলনের আশা করছেন তিনি। বিঘাপ্রতি প্রায় ৩০ মন ফলন আশা করছেন রবিউল।
তিনি বলেন, ‘প্রচলিত বোরো আবাদের মতোই এর চাষ পদ্ধতি। জমিতে সেচ, সার দিতে হয়। তবে এ ধানে পোকা বা রোগ-বালাই তুলনামূলকভাবে কম।’
‘ইউটিউবে দেখে আমার এই ধান চাষ করার শখ হয়। তারপর গাইবান্ধা থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে ২ কেজি বীজ সংগ্রহ করে আবাদ করেছি,’ বলেন এই কৃষক।
আরও পড়ুন: তিস্তার চরে আগাম জাতের তরমুজে কৃষকের বাজিমাত
‘ধানের দিকে তাকিয়ে আমার চোখ জুড়িয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন অনেকে আমার জমিতে এসে ধান দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন। আবার অনেকে এই ধানের বীজ কিনে নেবেন বলে আমাকে বলছেন। আমি ঠিক করেছি ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করব। আমি যদি ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করি, তাহলে লাভবান হব বলে আশা করছি।’
এদিকে রাস্তার পাশে চারদিকে বিস্তৃত সবুজ বোরো ধান ক্ষেতের মধ্যে বেগুনি রঙের ধান গাছ দেখে অবাক হচ্ছেন পথচারীরা। একনজর দেখতে আসছেন ধান ক্ষেতে। অনেকেই উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন এই ধান আবাদে।
সেখানে কথা হয় উপজেলার রহনপুর, দসিমোনি কাঁঠাল এলাকার মনিরুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, ‘রোজ এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করি। ধানের গাছ যখন বড় হয়, তখন থেকে দেখে আসছি গাছের পাতার রঙ বেগুনি।’
‘এটা দেখে আমি খুবই অবাক হয়েছি। বর্তমানে ধানের শীষ বের হয়েছে। দেখে বেশ ভালো লাগছে। শীষ দেখে মনে হচ্ছে ফলনও ভালো হবে। আমি এই ধান যিনি লাগিয়েছেন রবিউল ভাই তাকে বলেছি আমি এর বীজ কিনব। আমার জমিতে আমি চাষ করব এমনটাই ইচ্ছা আছে।’
আরও পড়ুন: লালমনিরহাটে ভাসমান ড্রাম সেতুতে হাজারো মানুষের কষ্ট লাঘব
সেখানে কথা হয় চৌডালা উত্তর হাউস নগর এলাকার গোলাম মোস্তফার সাথে। তিনি বলেন, ‘এই রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় দেখতে পেলাম বেগুনি রঙের ধানের গাছ। আমি জমিতে এসে কাছ থেকে দেখে আমার চোখ জুড়িয়ে গেলো। ধান গাছ তো সাধারণত সবুজ রঙের হয়। কিন্তু এটা বেগুনি রঙের। ভিন্ন প্রকৃতির। ধানের শিষও বেশ ভালো ফুটেছে। আশা করা যায়, ফলন ভালো হবে।’
সাইফুল ইসলাম নামের স্থানীয় এক যুবক বলেন, ‘আমি এই রাস্তা দিয়েই যাতায়াত করি। ধানটা দূর থেকে দেখি। কিন্তু কাছে এসে দেখা হয় না। আজকে দেখার জন্য জমিতে এলাম ‘
‘এতদিন ধানের গাছ দেখেছি সবুজ কিন্তু এখন দেখছি বেগুনি রঙের। ধানটা যদি ফলন ভালো হয়, তাহলে এর বীজ কিনে চাষ করবো।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. ইয়াছিন আলী বলেন, ‘আমাদের দেশে বছরে তিনটি মৌসুমে ধান উৎপাদন হয় এবং এই ধানগুলোর মধ্যে কিছু স্থানীয় জাত, কিছু উচ্চফলনশীল জাত এবং কিছু হাইব্রিড জাতের ধান চাষ করা হয়।’
‘এই ধান গাছগুলো সাধারণত সবুজ রঙের হয়। তবে এ বছরে আমাদের গোমস্তপুর উপজেলার পিড়াসন এলাকার এক কৃষক নিজ উদ্যোগে কিছু ধান বীজ সংগ্রহ করে তার জমিতে চারা রোপন করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘ধান গাছের রঙ বেগুনি। এই ধান থেকে যে চাল হবে, সেটি যদি বেগুনি রঙের হয়, পুষ্টি গুণসম্পন্ন হবে। ধান লাগানোর পর থেকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এটি মনিটরিং করা হচ্ছে এবং কৃষককে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। যদি ফলন সন্তোষজনক হয়, তাহলে পরবর্তিতে এই জেলায় এ ধানের চাষ সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
৪১৪ দিন আগে
সুন্দরবনের আগুনের কারণ না জানাতে পারলেও ১৮ সুপারিশ কমিটির
সম্প্রতি বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনে লাগা আগুনের ঘটনায় তদন্ত কমিটির দাখিল করা প্রতিবেদনে অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ না করলেও ১৮ দফা সুপারিশ করা হয়েছে। তবে আগুন লাগার সম্ভাব্য সাতটি কারণ উল্লেখ করেছে কমিটি। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দুটি পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
পৃথক প্রতিবেদনে সুন্দরবনের শাপলার বিল ও টেপার বিলে আগুনে মোট ৬ দশমিক ৬৩ একর বনভূমি পুড়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ওই দুইস্থানে আগুনে সুন্দরবনের গাছপালা পুড়ে এবং জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের আনুমানিক ১০ লাখ ৫৫ হাজার ৩৭০ টাকা ক্ষয়ক্ষতির কথা উল্লেখ করা হয়।
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের পক্ষ থেকে রবিবার তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। তবে বন অধিদপ্তরের গঠিত উচ্চ পর্যায়ের পাঁচ সদস্যের কমিটি এখনও তদন্ত করছে।
তদন্ত কমিটির প্রধান সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) দ্বীপন চন্দ্র দাস জানান, সুন্দরবনের শাপলার বিল এবং টেপার বিলে আগুনের ঘটনায় ৩ সদস্য বিশিষ্ট পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তাকে ওই দুটি কমিটির প্রধান করা হয়েছে। পৃথক দুটি স্থানে আগুনের ঘটনায় তদন্ত করে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তার দপ্তরে ৭ এপ্রিল প্রতিবেদন দাখিল করেছেন সেই কমিটির সদস্যরা।
আগুনে সুন্দরবনের শালপার বিলে ৪ দশমিক ৪৩ একর এবং টেপার বিলে ২ দশমিক ২০ একর বনভূমি পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। দুই স্থানে আগুনে সুন্দরবনের মোট গাছপালা পুড়ে এবং জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের আনুমানিক ১০ লাখ ৫৫ হাজার ৩৭০ টাকা ক্ষয়ক্ষতির কথাও উল্লেখ করা হয়। দ্বীপন চন্দ্র দাস আরও জানান, তদন্ত প্রতিবেদনে তারা সুন্দরবনে অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করতে না পারলেও সম্ভাব্য সাতটি কারণ চিহ্নিত করতে পেরেছেন তারা। সুন্দরবনে প্রায় প্রতিবছর অগ্নিকাণ্ড ঠেকাতে তাদের পক্ষ থেকে ১৮টি সুপারিশ করা হয়েছে। তাদের সুপারিশ বাস্তবায়ন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে সুন্দরবনে আগুন ঠেকানো সম্ভব হবে বলেও অভিমত দিয়েছে তদন্ত কমিটি।
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) কাজী মুহাম্মদ নূরুল করিম জানান, সুন্দরবনের শাপলার বিল এবং টেপার বিলে আগুনের ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করে। ওই কমিটির সদস্যরা তদন্ত শেষে পৃথক প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। ওই প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: সুন্দরবনে ডাকাতদের আস্তানা থেকে অপহৃত ৬ নারীসহ ৩৩ জেলে উদ্ধার
নুরুল করিম আরও জানান, তদন্ত কমিটি সুন্দরবনে আগুন লাগার কারণ সুনিদিষ্ট করে বলতে পারেনি। আগুন লাগার সম্ভাব্য সাতটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। সুন্দরবনে ভবিষ্যতে আগুন লাগা প্রতিরোধে প্রতিবেদনে স্বল্প মেয়াদি, মধ্যম মেয়াদি এবং দীর্ঘ মেয়াদি করণীয় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
পৃথক তদন্ত প্রতিবেদনে সুন্দরবনে আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ
তদন্ত প্রতিবেদনে শাপলার বিলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৪ দশমিক ৪৩ একর বনভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। ওই এলাকায় আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হিসেবে যা উল্লেখ করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে, ৩ হাজার ৯০০ টাকা মূল্যের ১০ কুইন্টাল সুন্দরী গাছ, তিন লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের ২ হাজার কুইন্টাল বলা গাছ, ১ হাজার ৫০ টাকা মূল্যের পাঁচ কুইন্টাল গেওয়া গাছ এবং জীববৈচিত্র ও পরিবেশের আনুমানিক ক্ষতি ধরা হয়েছে ৩ লাখ টাকা।
এছাড়া তদন্ত প্রতিবেদনে টেপার বিলে আগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২ দশমিক ২০ একর বনভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। ওই এলাকায় আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের ১ হাজার কুইন্টাল বলা গাছ, ৪২০ টাকা মূল্যের দুই কুইন্টাল গেওয়া গাছ এবং জীববৈচিত্র ও পরিবেশের আনুমানিক ক্ষতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা।
৪১৫ দিন আগে
বৈরী আবহাওয়ায় ফরিদপুরে পাট উৎপাদনে বেড়েছে ব্যয়, শঙ্কায় চাষিরা
বেড়েই চলেছে দেশের সোনালী আশ পাটের উৎপাদন ব্যয়। চাষাবাদের খরচের তুলনায় কাঙ্ক্ষিত বাজার দরও পাওয়া যাচ্ছে না। পাট চাষাবাদের ব্যয়ের সঙ্গে বিক্রিমূল্যের ব্যবধান বাড়ায় ক্রমেই শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন চাষিরা।
প্রতিমণ পাট গত বছরের চাষি পর্যায়ে বিক্রি হয়েছে প্রকারভেদে আড়াই হাজার থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকায়। যেখানে এর উৎপাদন ব্যয় আর বিক্রয়মূল্য হয়েছিল সমান সমান। ফলে বিনালাভের পাট চাষিদের মুখে ফোটেনি হাসি।
দেশের পাট উৎপাদনে শীর্ষ অবস্থানে থাকা জেলা ফরিদপুর। কিন্তু চলতি মৌসুমে পাটের আবাদে সবক্ষেত্রে ব্যয় বাড়ছে বলে জানিয়েছেন এই জেলার চাষিরা। তারা মনে করছেন, এবার পাটের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে কমপক্ষে ৩০ শতাংশ। তাই পাট উৎপাদন খরচের ঊর্ধ্বগতির লাগাম ট্রেনে ধরতে কৃষি বিভাগের সহযোগিতা চায় তারা।
কৃষিপ্রধান জেলা ফরিদপুরের সালথা, নগরকান্দা, বোয়ালামারী, ভাঙ্গা উপজেলার মাঠ থেকে চলতি মৌসুমে পেঁয়াজসহ অন্যান্য ফসল তুলে নেওয়ার পরই কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন পাটের বীজ বপনে।
এ মৌসুমে জেলাজুড়ে ৮৬ হাজার ৫২৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। কিন্তু শুকনো মৌসুমে বৈরী আবহাওয়ার কারণে পানির দুষ্প্রাপ্যতাসহ পাট চাষাবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রায় সকল ধরনের উপকরণ ও শ্রমিকের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদিত পাটের ন্যায্যমূল্য পাওয়া না পাওয়ার দ্বিধায় পড়েছেন কৃষকরা।
জেলার পাট উৎপাদনের শীর্ষে থাকা সালথা, নগরকান্দা, বোয়ালমারী, ভাঙ্গা উপজেলা বিভিন্ন ফসলি মাঠে গিয়ে দেখা যায়, পাটচাষিদের কেউ পাটখেতে সেচ দিয়ে ভিজাচ্ছে, কেউ বীজ বপন করছেন, কেউ বা খেত থেকে আগাছা পরিস্কারের কাজ করছেন। তবে তাদের সকলের চোখে মুখেই হতাশার ছাপ দৃশ্যমান ছিল।
এসকল মাঠের পাটচাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আবহাওয়ার পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে গত কয়েক বছর ধরে ক্রমশ ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নামছে। সংকট এমন পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে যে, অনেক মেশিনে পানিই উঠছে না। এসব কারণে জমিতে সেচ খরচ বেড়েছে প্রায় তিন গুণ। একই সঙ্গে সার ও ওষুধসহ বিভিন্ন উপকরণের মূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি দৈনন্দিন শ্রমিকের অতিরিক্ত মূল্য ভাবিয়ে তুলছেন কৃষকদের।
বোয়লামারীর দাদুড়ে বিলের পাটচাষিরা জানান, ব্যয়ের সঙ্গে আয় মেলাতে না পেরে হাঁপিয়ে উঠতে হচ্ছে তাদের।
আরও পড়ুন: সুপেয় পানির সংকটে হুমকিতে ফেনীর জনস্বাস্থ্য
৪১৬ দিন আগে
অভ্যুত্থান-পরবর্তী দেশে ‘সবার’ বৈশাখ
সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে একটি বছরের ইতি ঘটে শুরু হয়েছে নতুন একটি বছরের। জরাজীর্ণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দকে বিদায় জানিয়ে এসেছে ১৪৩২ সন।
হ্যাঁ, আজ পয়লা বৈশাখ, নববর্ষের প্রথম দিন। জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে নতুন এ বছর এসেছে আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে। পুরোনো সব ক্লেশ, দ্বেষ ও হতাশাকে পেছনে ফেলে নতুন আশার আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে দেশকে নতুন করে বিনির্মাণের আহ্বান নিয়ে এসেছে ১৪৩২ বঙ্গাব্দ।
বৈশাখ বাঙালির জীবনে কেবল একটি নতুন বছরই নিয়ে আসে না, বাঙালির ক্রমবিস্মৃত আত্মপরিচয়কেও নতুন করে জাগিয়ে দেয়। বাঙালিয়ানা নতুন করে প্রাণসঞ্চার করে দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্বের প্রতিটি কোনায় থাকা বাঙালির জীবনে। আর যার যার অবস্থান থেকে প্রত্যেকেই তা আলিঙ্গন করে নেয় সাদরে।
প্রতি বছরের মতো এবারও এসেছে বাঙালির প্রাণের বৈশাখ। আর নানা আয়োজনে তাকে বরণ করে নিচ্ছে দেশের সব জনগোষ্ঠীর মানুষ। এ বছর বর্ষবরণ উৎসবে ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে সব জনগোষ্ঠীর মানুষের জন্য রাষ্ট্রীয় আয়োজন।
আরও পড়ুন: যেখান-সেখান দিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া যাবে না: ডিএমপি কমিশনার
সকাল সোয়া ছয়টায় আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে ভৈরবীতে রাগালাপ দিয়ে ছায়ানটের আয়োজনে রাজধানীর রমনা বটমূলে শুরু হয় বর্ষবরণ। নারী-পুরুষের সম্মিলনে প্রায় দেড়শ শিল্পীর সুরবাণীতে নতুন বছরকে আবাহন জানানো হচ্ছে সেখানে।
ছায়ানটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এবার তাদের অনুষ্ঠানের মূল বার্তা ‘আমার মুক্তি আলোয় আলোয়’। আলো, প্রকৃতি, মানুষ ও দেশপ্রেমের গান দিয়ে সাজানো হয়েছে তাদের অনুষ্ঠান।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দিকে দিকে এমন সব আয়োজনে মেতে উঠবে দেশের মানুষ। রাজধানীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলায় নানা সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সংস্কৃতিবান মানুষের উদ্যোগে উৎসবের আকার ধারণ করবে বর্ষবরণ।
কোথায় কী আয়োজন
যুগ যুগ ধরে চলে আসা এ আনন্দ উৎসবের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় শোভাযাত্রা ও বৈশাখী মেলা। প্রতিবারের মতো এবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।
‘বাংলা নববর্ষ ১৪৩২’ জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে সরকারও নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আজ সরকারি ছুটি।
মূলত চৈত্র সংক্রান্তিতে বর্ষবিদায়ের মধ্য দিয়ে এরই মধ্যে এই আয়োজন শুরু হয়ে গেছে। প্রথমবারের মতো এ বছর বাঙালির পাশাপাশি দেশের চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা ও গারোসহ অন্যান্য জাতিসত্তার মানুষেরও নববর্ষ উদযাপনের জন্য জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক পরিসরে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক উৎসব আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
আরও পড়ুন: নববর্ষ ১৪৩২: পরিবর্তন ও নতুনত্বের আবহ
সরকারের নেওয়া কর্মসূচি অনুযায়ী, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, মহানগর ও পৌরসভা এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে।
বাংলা একাডেমি এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বৈশাখী মেলার আয়োজন করবে।
তিন পার্বত্য জেলা এবং অন্যান্য নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক দলগুলোর শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণের সমন্বয় করবে শিল্পকলা একাডেমি। পাশাপাশি রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলো একই সঙ্গে বৈসাবি উৎসব উদযাপন করবে। এ ছাড়া নববর্ষ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে বিদেশি মিশনগুলো।
আজ জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে সব জাদুঘর ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। শিশু ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের জন্য সেসব স্থানে প্রবেশে লাগবে না কোনো টিকিট। বর্ষবরণ উপলক্ষে দিনব্যাপী আনন্দ উৎসব চলবে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত।
সরকারের গৃহীত কর্মসূচি অনুযায়ী, বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশের পরিবর্তে সংবাদপত্রগুলোতে পয়লা বৈশাখের তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ ফিচার প্রকাশ করা হয়েছে এবার। এ ছাড়াও বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলসহ অন্যান্য প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলো নববর্ষের অনুষ্ঠান সম্প্রচার ও চিত্রিত প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।
আরও পড়ুন: দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধান উপদেষ্টা
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং সব সরকারি ও বেসরকারি টিভি চ্যানেল, রেডিও স্টেশন এবং বাণিজ্যিক ও কমিউনিটি রেডিওতে শোভাযাত্রা সম্প্রচারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।
সতর্ক অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী
এদিকে এই উৎসব ঘিরে যেন কোনোপ্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না হয়, সে জন্য প্রতি বছরের মতো এবারও ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর মধ্যেও ঢাবির চারুকলা অনুষদের তৈরি ‘স্বৈরাচারের মুখাবয়ব’ মোটিফে আগুন দেওয়ার ঘটনায় নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে রবিবার র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের মহাপরিচালক (ডিজি) এ কে এম শহিদুর রহমান বলেন, ‘পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠান ঘিরে পুলিশ, র্যাবসহ গোয়েন্দাবাহিনী সম্মিলিতভাবে কাজ করছে। সেই সঙ্গে দেশব্যাপী গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, টিএসসি, শাহবাগ, রমনা, হাতিরঝিলসহ যেসব জায়গায় জনসমাগম হবে, সেখানে র্যাবের পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন থাকবে। যেকোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে র্যাব সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এর পাশাপাশি পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সিসিটিভি ক্যামেরা, আর্চওয়ে গেট, হেল্প ডেস্ক, কন্ট্রোল রুম, অস্থায়ী পাবলিক টয়লেট ও অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্পসহ নানা ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
৪১৭ দিন আগে
সীমান্তে আটকে ৬ শতাধিক ট্রাক, আমদানির সময় শেষের আগেই চালের বাজার গরম
দেশে চালের দাম স্থিতিশীল রাখতে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে বেসরকারি পর্যায়ে সরকারের শুল্কমুক্ত সুবিধা গ্রহণ চাল আমদানির সময়সীমা শেষ হচ্ছে আগামী পরশু (১৫ এপ্রিল)।
কিন্তু ২ আগে এরই মধ্যে আমদানি করা চালের কেজিতে দাম বেড়েছে অন্তত ২ থেকে ৩ টাকা করে। ফলে বাজারে এর প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে পয়লা বৈশাখের সরকারি ছুটি দিনেও সোমবার বন্দরে ভারত থেকে চালসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি চালু রাখার দাবি জানিয়েছেন আমদানিকারকরা। তবে আজ (রবিবার) বিকাল ৫টায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে থেকে এ বিষয়ে অনুমতি মেলেনি।
আরও পড়ুন: ভোমরা স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি শুরু
বন্দরের আমদানিকারকরা জানান, শুল্কমুক্ত সুবিধায় চাল আমদানি বন্ধ হয়ে যাবে। এই অবস্থায় বেশ কিছুদিন ধরে ভারত থেকে বেশি পরিমাণে চাল আমদানি করা হচ্ছে। এর আগে সরকার দুই দফায় আমদানির সময়সীমা বাড়িয়ে চলতি মাসের ১৫ তারিখ (মঙ্গলবার) পর্যন্ত বৃদ্ধি করে। মেয়াদ বাড়ানো হলেও আমদানিকারকরা তাদের বরাদ্দকৃত চাল সরকারের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে এলসি জটিলতাসহ বিভিন্ন কারণে আমদানি করতে পারেননি। তাই তৃতীয় দফায় মেয়াদ বাড়ানো গেলে বরাদ্দকৃত চালের চালান দেশে পুরোপুরি আমদানি করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন তারা।
তারা আরও জানান, বেশ কিছুদিন থেকে বেশি পরিমাণে আমদানি অব্যাহত রাখা হলেও দেশে প্রবেশের অপেক্ষায় ভারতের হিলি ট্রাক পার্কিংয়ে ৬ শতাধিক আমদানিকৃত চালবোঝাই ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে।
আজ (রবিবার) হিলি স্থলবন্দরের মোকামে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইতোপূর্বে ভারত থেকে যেখানে ৪০-৫০টি ভারতীয় চালবোঝাই ট্রাক হিলি বন্দরে প্রবেশ করত, সেখানে ঈদের ছুটির পর থেকে প্রতিদিন গড়ে ১০০ থেকে ১২০টি ট্রাক দেশে ঢুকছে।
হিলি স্থলবন্দরের চাল আমদানিকারক মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আমাদের দেশের কৃষকের উৎপাদিত বোরো চাল বাজারে আসতে এখনো অন্তত মাসের অধিক সময় লাগবে। এদিকে আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত চাল আমদানির সময়সীমা রয়েছে। আমদানির মেয়াদ শেষ হওয়ার খবরে ইতোমধ্যে বাজারে চালের দামে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে; অনেক চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি জানান, স্বর্ণা ৫ জাতের চালের দাম ছিল ৫২ টাকা, এখন সেই চাল ৫৪ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সম্পা কাটারি জাতের চাল বিক্রি হচ্ছিল ৬৭ টাকায়, এখন কেজিতে ৩ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা দরে।
এই আমদানিকারকের দাবি, বাজার আরও অস্থির হয়ে পড়তে পারে। ভারতের হিলিতে পাইপলাইনে ৬ শতাধিক চালবোঝাই ট্রাক দাঁড়িয়ে রয়েছে। সরকারের উচিত হবে সেগুলো দেশে প্রবেশে আমদানির মেয়াদ আরও অন্তত ১৫ দিন বাড়ানো।
হিলি বন্দরে নওগাঁ থেকে চাল কিনতে আসা পাইকার তোতা কুমার দাস বলেন, ‘২/৩ দিন আগে ৬৭ টাকা কেজি দরে ১২০ টন সম্পা কাটারি জাতের চাল কিনেছি। অথচ গত শনিবার তা ৬৯ টাকা দরে কিনতে হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ভারতে দাম বাড়েনি, কিন্ত দেশে কেন দাম বেড়ে যাচ্ছে বুঝতে পারছি না।’
হিলি বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী স্বপন কুমার পাল জানান, ভারত থেকে আমদানি করা স্বর্ণা ৫ জাতের চাল কেজিতে ২ টাকা বেড়ে ৫৫ টাকা, সম্পা কাটারি জাতের চাল ৩ টাকা বেড়ে ৭১ টাকা, মিনিকেট ৫ টাকা বেড়ে ৭৪ টাকা, গুটি জাতের চাল ৪ টাকা বেড়ে ৫৩ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
আরও পড়ুন: আটদিন পর আমদানি-রপ্তানি শুরু হিলি স্থলবন্দরে
হিলি স্থলবন্দর রাজস্ব কর্মকর্তা (আরও) মো. শফিউল বলেন, ‘এই বন্দর দিয়ে ভারত থেকে নন-বাসমতি দুই ধরনের চাল আমদানি অব্যাহত রয়েছে। গত ১১ নভেম্বর থেকে এই শনিবার (১২ এপ্রিল) পর্যন্ত ৪ হাজার ৯২৬টি ভারতীয় ট্রাকে মোট ২ লাখ ৮ হাজার টন নন-বাসমতি সেদ্ধ চাল এবং ৯৪৮টি ট্রাকে ৪০ হাজার টন নন-বাসমতি আতপ চাল শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কাল (সোমবার) পয়লা বৈশাখের দিন সরকারি ছুটি। এদিনও ভারত থেকে চাল আমদানি করার জন্য বন্দরে আমদানিসহ কার্যক্রম চালু রাখতে আজ দুপুরে বন্দরের কাস্টমস সহকারী কমিশনারের সঙ্গে বন্দরের ব্যবসায়ী নেতারা বৈঠক করেছেন।’
৪১৭ দিন আগে
সুপেয় পানির সংকটে হুমকিতে ফেনীর জনস্বাস্থ্য
প্রচণ্ড তাপদাহ ও অনাবৃষ্টির কারণে নেমে গেছে ফেনীর ভূগর্ভস্ত পানির স্তর। ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩৮৬টি নলকূপে উঠছে না পানি। এতে সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে কয়েকটি উপজেলায়। এসব এলাকায় প্রায় ৭০ শতাংশ টিউবওয়েলে পানি নেই। এতে হুমকির মুখে পড়েছে জনস্বাস্থ্য।
জেলার কয়েকিটি উপজেলার নলকূপ, পুকুর, খাল-বিলসহ কোথাও নেই পানি। ফলে অস্বাস্থ্যকর পানি পান করে ডায়রিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। বৃষ্টি একমাত্র সমাধান বলে জানিয়েছেন জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী।
ফেনী জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ফেনীতে মোট ৩৬ হাজার ৮১১টি নলকূপের মধ্যে ৯ হাজার ৮৭১টি নলকূপ দীর্ঘদিন থেকে অকেজো। ২৬ হাজার ৯৪১ চালু নলকূপের মধ্যে প্রায় অর্ধেক নলকূপের পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় সুপেয় পানি পাওয়া যাচেছ না। ব্যাক্তিগত উদ্যোগে স্থাপিত অগভীর প্রায় দুই লক্ষাধিক নলকূপের অর্ধেকের বেশিতে সুপেয় পানি পাওয়া যাচ্ছে না।
ফেনী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী এস এম মাহফুজুর রহমান জানান, গত বছরের আগষ্টে ফেনীর ভয়াবহ বন্যায় সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৬ হাজার ৪১৫টি নলকূপ। আর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৭ হাজার ৬০০টি নলকুপ। এসব ক্ষতিগ্রস্ত নলকূপ এখনো পুন:স্থাপন ও মেরামত করা হয়নি। যার কারণে বন্যাকবলিত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এমনিতে সুপেয় পানির সংকট রয়েছে।
সরেজমিন ফুলগাজী উপজেলায় দেখা গেছে, অগভীর (৪০-৫০ ফুট) স্বাভাবিক নলকূপে একদমই পানি উঠছে না। অকেজো উপজেলার প্রায় ১৫ হাজার নলকূপ। পানির অভাব পূরণ করতে অনেকে দূর-দূরান্তে ছুটছেন। কাঙ্ক্ষিত পানি না উঠায় এবং বৃষ্টিপাত না হওয়ায় ধান উৎপাদন নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা।
এলাকাবাসী বলছেন, এত টাকা খরচ করে বোরো ধানের চারা রোপণ করেছেন, কিন্তু অনাবৃষ্টি আর দাবদাহে জমির মাটি ফেটে যাওয়ায় বোরো ধানের ফলন নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে। এতে ওই এলাকার বাসিন্দারা দূর-দূরান্ত থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করছেন। এতে তাদের বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তারা সরকারিভাবে প্রতিটি ওয়ার্ডে সুপেয় পানির সরবরাহ চান।
আরও পড়ুন: একসময়ের প্রমত্তা নড়াই নদী এখন শুধুই ময়লার ভাগাড়
৪১৮ দিন আগে
বৈসাবিকে ঘিরে বিলুপ্তপ্রায় ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা ফেরাতে মারমাদের উদ্যোগ
পাহাড়ে প্রাণের উৎসব বৈসাবি উপলক্ষে চলছে মারমা সম্প্রদায়ের বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা। পুরাতন বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নিতে খাগড়াছড়িতে মারমা সম্প্রদায়ের বর্ষবরণ সাংগ্রাইং উপলক্ষে সূচনা করা হয়েছে ছয় দিনব্যাপী উৎসবের।
আধুনিকতার ছোঁয়ায় বিলুপ্তপ্রায় খেলাধুলা পুনরুদ্ধার ও টিকিয়ে রাখতে মারমা জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার মাধ্যমে নতুন বছরকে বরণের উদ্যোগ নিয়েছে মারমা জনগোষ্ঠী। এতে অংশ নিতে পেরে খুশি বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোর।
এ উপলক্ষে খাগড়াছড়ি জেলা সদরের পানখাইয়া পাড়ার বটতলা এলাকায় মারমাদের ঐতিহ্যবাহী আলারী (খৈয়াৎ), ‘ধ’ খেলা, রিআক্যাজা ও পানি খেলাসহ ১০ ধরনের খেলাধুলার আয়োজন করে মারমা উন্নয়ন সংসদ।
প্রধান অতিথি হিসেবে মারমাজনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী খেলার উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল। এর আগে উৎসেবর সূচনায় মারমাদের ঐতিহ্যবাহী ডিসপ্লে প্রদর্শন করে মারমা নৃত্যশিল্পীরা। পরে উদ্বোধন করা হয় মারমাদের ঐতিহ্যবাহী ‘ধ’ খেলা ও আলারি খেলা।
জেলা প্রশাসক এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার বলেন, ‘সাংগ্রাইং যে উৎসব চলছে এটির মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ এখানে যুক্ত হয়েছে। গোটা বাংলাদেশের জন্য এটি অনুকরণীয়। এখানে বিভিন্ন
সম্প্রদায়ের মধ্যে মেলবন্ধন গড়ে উঠবে এবং সম্প্রীতি ও সহাবস্থান তৈরি হবে। এটি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতিচ্ছবি। আমরা যে অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, এই ধরনের উৎসব সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
৪১৯ দিন আগে
একসময়ের প্রমত্তা নড়াই নদী এখন শুধুই ময়লার ভাগাড়
রাজধানীর রামপুরা সেতু ও বাংলাদেশ টেলিভিশন ভবনের মাঝ দিয়ে পুব দিকে ত্রিমোহিনীর দিকে চলে গেছে প্রশস্ত একটি সড়ক। সড়কের বাঁ পাশের ফুটপাত দিয়ে হাঁটা দিলে আচমকা উৎকট দুর্গন্ধ এসে নাকের ভেতরে ঢুকে পড়ে। এখানে সিটি করপোরেশনের একটি ময়লা ভাগাড় রয়েছে। কোনোরকম নাক-মুখ চেপে সামনে এগোলে সবার আগে চোখে পড়বে একটি মরা নদী। হরেক গাছগাছালিতে ভরা নদীটির তীর কংক্রিকেটের বেড়া দিয়ে ঘেরা।
নদী হলেও আসলে সেটিকে সরু খাল বা জলরেখা বলা চলে। সেই খালের তীরেই ছোট্ট একটি সাইনবোর্ডে লেখা ‘নড়াই নদী’। সাইনবোর্ড না দেখলে যে কেউ মরা খালই ভাববে নদীটিকে। নদীর তীর ধরেই এগিয়ে গেছে সড়কটি। নদীর একপাশে বনশ্রী এলাকা, অপরপাশে আফতাবনগর।
ফুটপাত দিয়ে আরও কিছুদূর গেলে বনশ্রীর ‘সি’ ব্লকের মাথায় আরেকটি ময়লার উন্মুক্ত ভাগাড় দেখা যাবে। বাসাবাড়ি থেকে ময়লা এনে সিটি করপোরেশনের লোকজন এখানে ফেলছে। পরে ময়লার গাড়িতে করে তা নিয়ে যাওয়া হচ্ছে অন্যত্র।
আরও পড়ুন: শুকিয়ে যাচ্ছে দেশের ৮১ নদী, পরিবেশগত সংকটের শঙ্কা
রবিবার (৬ এপ্রিল) সকালে নদীতীর ধরে মাইলখানেক হাঁটার পর রামপুরা সেতু থেকে মেরাদিয়া বাজার পর্যন্ত সিটি করপোরেশনের এমন তিনটি ভাগাড় চোখে পড়েছে। কেবল তা-ই নয়, ময়লা-আবর্জনায় ঢাকা পড়েছে নদীতীরের পুরোটা। কোথাও কোথাও আবার আগুন দিয়ে পোড়ানো হচ্ছে সেই ময়লা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বনশ্রীর আইডিয়ালের পাশেই একটি বহুতল কনডোমিনিয়াম (আবাসিক ভবন) নির্মাণ করা হচ্ছে। সেখানের ইট-বালুর বস্তা নদীতীরে ফেলা হচ্ছে। আরেকটু হাঁটলে চোখে পড়ে, ফরাজি হাসপাতালের সামনে নদী দখল করে অ্যাম্বুলেন্স রাখা হয়েছে।
মেরাদিয়া হাট এলাকায় নদীতীর দখল করে বিভিন্ন দোকানপাট গড়ে উঠেছে। সিটি করপোরেশনের আরও একটি ভাগাড় রয়েছে এখানে। নদীর তীরে খোলা জায়গায় ময়লা ফেলা হচ্ছে। এতে আশপাশের বাসিন্দাদের অসহনীয় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
নদীর বনশ্রী অংশে ময়লার ভাগাড় হলেও অপরপাশের আফতাবনগর অংশে তীর দখল করে গড়ে উঠেছে উঁচু উঁচু ভবন, অ্যাপার্টমেন্ট ও হাসপাতাল। কোনো কোনো ভবন নদীর ভেতরে ঢুকে গেছে। সড়ক সম্প্রসারণের নামেও নদীর জায়গা দখল করে ফুটপাত নির্মাণ করা হয়েছে।
৪২০ দিন আগে
শুকিয়ে যাচ্ছে দেশের ৮১ নদী, পরিবেশগত সংকটের শঙ্কা
বাংলাদেশের অনেক নদী এখন ভয়াবহ পরিবেশগত সংকটের মুখে। সম্প্রতি এক গবেষণায় বলা হয়েছে, দেশের ৮১টি নদী শুষ্ক মৌসুমে প্রায় পুরোপুরি শুকিয়ে যায়।
‘বাংলাদেশের শুকিয়ে যাওয়া নদী’ শিরোনামে একটি গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণাটি করেছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টার (আরডিআরসি)। সংস্থাটি দেশের পরিবেশ ও নদী নিয়ে গবেষণা করে আসছে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, এক সময় যেসব নদী কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও স্থানীয় অর্থনীতির প্রাণ ছিল, আজ সেগুলোর অনেকটাই শুকিয়ে গেছে বা তাদের তলদেশে প্রচণ্ড পলি জমে পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে।
এই গবেষণা অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে খুলনা, সাতক্ষীরা, রাজশাহী ও কুষ্টিয়া অঞ্চল। এসব জায়গায় দূষণ, পলি জমা এবং দ্রুত নগরায়নের কারণে প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে।
৪২০ দিন আগে
তিস্তার চরে আগাম জাতের তরমুজে কৃষকের বাজিমাত
প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকা চরাঞ্চলের মানুষের নিয়তি। ভাগ্যকে মেনে নিয়ে লড়াই করে টিকে থাকছেন লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জের তিস্তা নদীর চরের বাসিন্দারা। জীবনকে চালাতে তারা জেগে ওঠা চরগুলোতে চাষ করছেন নানা অর্থকরী মৌসুমি ফল ও ফসল। এবার কালীগঞ্জের একটি চরের কৃষকরা আগাম তরমুজ চাষে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন। তরমুজের বাম্পার ফলন ও ভালো দামে লাভবান হওয়ায় ঘুরে দাঁড়াচ্ছে পিছিয়ে পড়া চরাঞ্চলের কৃষকরা।
সরকারের কৃষি বিভাগ বলছে, ভালো ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে জীবনমান উন্নত করতে তারা কৃষকদের পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া অব্যাহত রাখবে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে উপজেলার ভোটমারি ইউনিয়নের তিস্তা নদীতে জেগে ওঠা চরে মূলত ছিন্নমূল ভূমিহীন বাসিন্দারা বাস করেন। এখানকার বাসিন্দাদের কৃষি ও মৎস্য শিকারই জীবিকা নির্বাহের প্রধান অবলম্বন। কারণ, তিস্তায় তেমন বেশি পরিমাণে ও সময় ধরে পানি থাকে না। এর ফলে জেগে ওঠা চরগুলোতে চাষাবাদে সফলতা পাচ্ছেন কৃষকরা।
আরও পড়ুন: বাগেরহাটে উঠতে শুরু করেছে তরমুজ, কেজি ৫০ টাকা
আগাম তরমুজ চাষের প্রধান উদ্যেক্তা এজার আলী বলেন, বছরের শুষ্ক মৌসুমে সাধারণত চর প্লাবিত হয় না। কিন্তু এ মৌসুমে ধানের আবাদও সম্ভব হয় না। তা কী আবাদ করা যায়, ভাবতে থাকি আমি। তবে কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী ইউনিয়নের জামির বাড়ির চর এলাকা তরমুজ চাষের জন্য বিখ্যাত। ওই এলাকার নিকটাত্মীয় কয়েকজনের সঙ্গে আলাপ হয়। তারা আগাম তরমুজ চাষের পরামর্শ দেন।
তিনি বলেন, ‘কালীগঞ্জ কৃষি অফিস থেকে বীজ নিয়ে এ বছরের শীত মৌসুমের শেষের দিকে আমরা কয়েকজন মিলে ১ একর জমিতে আগাম তরমুজের আবাদ শুরু করি। এতে খরচা হয় ১৫ হাজার টাকা। কিন্তু বিক্রি করি ৬০ হাজার টাকার তরমুজ।’
এজার আলী বলেন, আমাদের গত বছরের সফলতায় উদ্বুদ্ধ এলাকার কৃষকরা এ বছর বছর শীতের শেষের দিকে ব্যাপকহারে আগাম তরমুজের আবাদ শুরু করেন। এই চরে এবার মোট ২ একর জমিতে তরমুজ আবাদ হয়েছে।
এলাকার তরমুজ চাষি রাকিব মিয়া জানান, তারা গত বছর এইখানে আগাম তরমুজের ভালো আবাদ দেখে এ বছর তরমুজ চাষ শুরু করেন। এক একর জমিতে আবাদ করতে খরচা হয়েছিল ১৫ হাজার টাকা। এখন পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকার বিক্রি করেছেন। আরও ৫০ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করতে পারবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এবার গরমের শুরুতেই বাজারে উঠতে শুরু করেছে তরমুজ। কালীগঞ্জের হাট-বাজারে ভ্যানগাড়িতে ফেরি করেও প্রতি কেজি ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে এসব তরমুজ।
আরও পড়ুন: জৈন্তাপুরে তরমুজের বাম্পার ফলন, সেচ-পরিবহন সমস্যায় কৃষকরা
তরমুজ ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে এসব তরমুজের ব্যাপক চাহিদা। ক্রেতারা বেশি দাম দিয়েও কিনে নিচ্ছেন।
তরমুজ ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম বলেন, এ পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করেছি। আগাম তরমুজের বাজারে বেশ চাহিদা রয়েছে।
কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তুষার কান্তি বলেন, ‘চরে বেলে দোঁয়াশ মাটি তরমুজ চাষের জন্য খুবই ভালো। আমরা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে পরামর্শ ও সহায়তা দিয়েছি। আগাম তরমুজের ভালো ফলন হয়েছে। পাকিজা জাতের তরমুজ আগাম আবাদ করেছেন জামির বাড়ির চরের কৃষকরা। উদ্যোগ নিলে আরও বেশি তরমুজের আবাদ সম্ভব।
৪২১ দিন আগে