বিশেষ সংবাদ
খাগড়াছড়িতে কলেজের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পরীক্ষা কেন্দ্র, ব্যাহত শ্রেণিকার্যক্রম
নানা প্রতিকূলতার মধ্যে শিক্ষাকার্যক্রম চালাচ্ছে খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি গিরিমৈত্রী সরকারি ডিগ্রি কলেজ। রয়েছে শিক্ষক ও আবাসন সংকট। পাশাপাশি ভবনগুলোও জরাজীর্ণ। এমন বেহাল অবস্থায় প্রতিষ্ঠানটিকে পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। দূরাবস্থার মধ্যে পাশ্ববর্তী উপজেলার পরীক্ষার্থী থাকায় পরভারে এখন কাতর হয়ে পড়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি।
জানা যায়, কলেজে শিক্ষকের সৃষ্টপদ ১৭টি। বর্তমানে কর্মরত ১২জন। বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক শাখায় বর্তমানে শিক্ষার্থী (পরীক্ষার্থী ব্যতিত) প্রায় ১২০০ জন। আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষার্থী ৬৮৫ জন।
গত ৫ থেকে ৭ বছর ধরে এই কলেজ কেন্দ্রে পাশ্ববর্তী গুইমারা সরকারি কলেজ ও লক্ষ্মীছড়ি সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও গত দুই বছর ধরে উপজেলার আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীর এই কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছে। কিন্তু কলেজে আবাসন ও শিক্ষক সংকট প্রকট হওয়ায় পাশ্ববর্তী কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয়ে কেন্দ্র স্থাপন এবং উপজেলার ১০টি মাধ্যমিক স্কুল, মাদরাসা থেকে পরীক্ষা চলার সময়ে পর্যবেক্ষক হিসেবে শিক্ষক ও হাইবেঞ্চ, লো-বেঞ্চ এনে পরীক্ষা নেওয়া হয়। ফলে ওইসব স্কুল, মাদরাসাতেও শ্রেণিকার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হয়।
বিগত ৪ বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীর তথ্যমতে কেন্দ্রে গড়ে পরীক্ষার্থী ১ হাজার ২০০ জন। এর মধ্যে পাশ্ববর্তী গুইমারা ও লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার (কলেজের) শিক্ষার্থী অর্ধেক। আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষায়ও কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন। এর মধ্যে ওই দুই কলেজের ৬০০ জন। ফলে পাশ্ববর্তী উপজেলার দুইটি কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপনের দাবি উঠেছে।
সরজমিনে দেখা গেছে, কলেজে একটি বহুতল ভবনের দুপাশে প্রতিষ্ঠাকালীন একটি টিনশেড ও দ্বিতল ভবন দুইটি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ। পুরাতন দ্বিতল ভবনের ছাদে টিনের ছাউনিতে তৈরি বড় একটি খোলা রুমে নিয়মিত পাঠদান ও এইচএসসি পরীক্ষাও নেওয়া হয়। রুমের ভিতর থেকে অনায়াসে আকাশ দেখা যায়। সামান্য বৃষ্টিতে অঝোরে পানি পড়ে।
কলেজটির অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) এস.এম শাহ ই আলম জানান, ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত কলেজটি ২০১৮ সালে জাতীয়করণ করা হয়। কলেজে পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী থাকলেও শিক্ষক ও আবাসন সংকট প্রকট। পুরাতন(জরাজীর্ণ) টিনশেড ও দ্বিতল ভবনের ছাদে টিনশেডে করা বড় হল রুমে ক্লাসের পাশাপাশি সেন্টার পরীক্ষাও নিতে হয়।
এইচএসসি পরীক্ষার সময় কেন্দ্র পরিদর্শনে আসা কর্মকর্তারা একাধিকবার এ বিষয়ে আপত্তি জানালেও পরীক্ষার্থী বাড়তে থাকায় বিকল্প ব্যবস্থা করা সম্ভব হচ্ছে না। নিজ কলেজের ৬০০ থেকে ৭০০ পরীক্ষার্থীর পাশাপাশি এখানকার আইডিয়াল কলেজসহ গুইমারা ও লক্ষ্মীছড়ি সরকারি কলেজের পরীক্ষার্থীরও এই কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।
তিনি বলেন, এতে ফার্নিচার, ডিউটি(পর্যবেক্ষক) হিসেবে আমাকে উপজেলার মাধ্যমিক স্কুল ও মাদরাসা নির্ভর হতে হয়। কলেজ সংলগ্ন কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয়েও ভেন্যু করতে হয়। এর ফলে ওইসব স্কুল ও মাদরাসায় পাঠদান ব্যাহত হয়।
তিনি আরও বলেন, আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষায় এই কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী হবে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন। পর্যবেক্ষক লাগবে ৭০ জন। কিন্তু অংশগ্রহণকারী কলেজে শিক্ষক হবে ৩০ থেকে ৩৫ জন। অবশিষ্ট পর্যবেক্ষক নিতে হবে স্কুল, মাদরাসা থেকে। এভাবে পরনির্ভর হয়ে কেন্দ্র পরিচালনা করা দুঃসাধ্য বলেও জানান শাহ ই আলম।
আরও পড়ুন: ঝালকাঠিতে সরকারি বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান, আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা
তিনি বলেন, এই কেন্দ্র থেকে গুইমারা ও লক্ষ্মীছড়ি সরকারি কলেজ পরীক্ষার্থীদের অন্য কেন্দ্রে (পাশ্ববর্তী) অথবা ওই উপজেলায় নতুন কেন্দ্র সৃষ্টির জন্য ২০২৩ সালে থেকে বারবার আবেদন করে আসলেও শিক্ষাবোর্ড বিষয়টি আমলে নিচ্ছে না। ফলে পরভারে আমি এখন কাতর হয়ে পড়েছি।
কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মংশেপ্রু মারমা বলেন, কলেজ পরীক্ষার্থীদের ভেন্যু হিসেবে আমার স্কুল ব্যবহার, শিক্ষকদের ডিউটি করতে গিয়ে পাঠদান চরমভাবে ব্যাহত হয়।
দক্ষিণ চেঙ্গুছড়া নেছারিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা সুপার মাওলানা বেলাল উদ্দীন বলেন, কলেজ কেন্দ্রে পর্যবেক্ষক হিসেবে শিক্ষক ও ফার্নিচার দিতে গিয়ে আমাদের শ্রেণিকার্যক্রম ব্যাহত হয়।
৪৪২ দিন আগে
গদি রক্ষায় পাখির মতো মানুষ মারছে নেতানিয়াহু?
গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ কার্যকর হওয়া নিয়ে টানাপোড়েন চলছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। দুইপক্ষ শর্তারোপ করে যাচ্ছিল নিজেদের মতো করে। কিন্তু সবকিছু উড়িয়ে দিয়ে মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) সেহরির সময় নতুন করে আগ্রাসন শুরু করে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। এতে নারী-শিশুসহ চার শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হন।
দ্বিতীয় দিনেও জাতিসংঘের এক কর্মকর্তাসহ ২০ ফিলিস্তিনির প্রাণহানি ঘটেছে। গাজায় এখনো ইসরায়েলের সামরিক হামলা অব্যাহত রয়েছে। বিশ্লেষকদের অভিযোগ, গদি রক্ষায় পাখির মতো মানুষ হত্যায় মেতে উঠেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
এই হামলার মধ্য দিয়ে নেতানিয়াহু যুদ্ধবিরতি চুক্তি থেকে বের হয়ে গেছেন বলে দাবি করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসকে গুঁড়িয়ে দিতে এই বিমান হামলা বলে দাবি করছেন তিনি। তবে এতে হামাসের হাতে থাকা ইসরায়েলিদের জীবন সংকটে পড়তে পারে বলে শঙ্কা করা হচ্ছে।-খবর অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি)।
আরও পড়ুন: গাজায় মানবিক সহায়তা বন্ধের নির্দেশ দিলেন নেতানিয়াহু
হামাসও সেই হুমকি দিয়ে রেখেছে। বলেছে, ইসরায়েলের বোমা শুধু ফিলিস্তিনিদের নয়, তাদের হাতে জিম্মি ইসরায়েলিদের জীবনও হুমকিতে ফেলবে।
সবকিছু জেনেশুনে নেতানিয়াহু কেন এই হামলা শুরু করল, তা নিয়ে স্বভাবতই উঠেছে প্রশ্ন। এর জবাব পেতে হলে খোঁজ নিতে হবে ইসরায়েলি প্রশাসনের ভেতর থেকে। মূলত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলার পর থেকে নিজ দেশে দুটি পরস্পর বিপরীত মতের সম্মুখীন হয়েছে নেতানিয়াহু।
একদিকে, হামাসের হাতে জিম্মিদের পরিবারগুলো চাচ্ছেন নেতানিয়াহু যেন একটি চুক্তি করে বন্দিদের ফিরিয়ে আনে। অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর জোট সরকারের কট্টর ডানপন্থি নেতাদের কাছ থেকে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার চাপ রয়েছে। তারা যেকোনো মূল্যে হামাসের নির্মূল চান।
ফিলিস্তিনিদের জীবনের প্রতি মায়া তো নেতানিয়াহুর দর্শনে নেই। এবার নিজ দেশের নাগরিকদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে তিনি বেছে নিয়েছেন দ্বিতীয় পথ। ফলে মন্ত্রিসভার ভোটে আস্থা অটুট রেখে টিকে থাকবে তার গদি—এমনই ধারণা অনেক বিশ্লেষকের।
লক্ষণীয় হচ্ছে, এ দফার হামলাতে মদত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পের নির্দেশেই নেতানিয়াহু ফের যুদ্ধ শুরু করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট। অথচ এই যুক্তরাষ্ট্র ১৯ জানুয়ারি কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির অন্যতম মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দাবি করে নিজেদের।
হামাস জিম্মিদের মুক্তি দিতে সম্মত না-হওয়ায় এ দফায় হামলা চালানো হয়েছে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তেল-আবিব আরও দাবি করে, হামাস ফের সংগঠিত হয়ে হামলার পরিকল্পনা করছিল। তবে নিজেদের বক্তব্যের সমর্থনে ন্যূনতম কোনো প্রমাণও দেখাতে পারেনি তারা।
এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে হামাস। গত সপ্তাহে যুদ্ধবিরতির আলোচনা এগিয়ে নিতে নানা তৎপরতা চালিয়েছে তারা। প্রথম ধাপের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়ে জিম্মিদের মুক্ত করতে চাইছিল ইসরায়েল।
সংগঠনটির সদস্যরাও জানিয়েছে, তারা অবশ্যই ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি দেবেন। তবে তা কেবল যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে। যেখানে মুক্তি পাবেন ইসরায়েলের কারাগারে থাকা ফিলিস্তিনি বন্দিরা। এছাড়াও হামাসের দাবি একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও গাজা থেকে ইসরায়েলের সেনাপ্রত্যাহার।
যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম থেকে পরস্পরকে নানা কারণে দোষারোপ করে আসছিল ইসরায়ের ও হামাস। তা সত্ত্বেও ১৯ জানুয়ারি প্রথম ধাপ কার্যকর হয়েছিল। এ ধাপে ৩৩ জন ইসরায়েলি জিম্মিকে ফিরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে আটক কয়েকশ ফিলিস্তিনি বন্দি মুক্তি পেয়েছেন।
বন্দিবিনিময় চলাকালে পাল্টাপাল্টি অভিযোগে বারবার চুক্তি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। কোনোভাবে সেটি শেষ হলেও এগোয়নি দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা। আর এগোবে বলেও কোনো সম্ভাবনা নেই বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
কারণ, গত জুনে এক টেলিভিশন সাক্ষাতকারে নেতানিয়াহু বলেছিল, ‘যুদ্ধবিরতি থাকলেও হামাসকে নির্মূল করতে আমরা হামলা চালাতে বদ্ধপরিকর। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
আরও পড়ুন: ফিলিস্তিনি উদ্বাস্তুদের নিয়ে নেতানিয়াহুর বক্তব্য প্রত্যাখ্যান সৌদির
এমনকি ১৮ জানুয়ারি যুদ্ধবিরতির ঠিক আগমুহূর্তেও বলেছিল, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে যেকোনো সময়ে আমাদের যুদ্ধে ফেরার অধিকার রয়েছে।’ তবে কে তাকে নিষ্পাপ নারী-শিশু ও অগণিত ফিলিস্তিনিকে ‘হামাস নির্মূলের অজুহাতে’ হত্যা করার অধিকার দিয়েছে, সেই ব্যাখ্যা মেলেনি তার কাছ থেকে।
৪৪২ দিন আগে
ফরিদপুরের হিমাগারে আলু রাখতে বিড়ম্বনা, অপেক্ষায় নষ্ট হওয়ার শঙ্কা
ফরিদপুরে হিমাগারে আলু রাখা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ী ও কৃষকরা। দীর্ঘ লাইন ধরে অপেক্ষা করেও আলু রাখতে না পারায়
ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা। এতে আলু নষ্ট হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন হিমাগারের সামনে অপেক্ষারত ব্যবসায়ী ও কৃষকরা।
ফরিদপুর শহরতলীর রাজবাড়ী রাস্তার মোড়ে হিমাগার ফটকের সামনে ও আশে পাশের সড়কে পাঁচ-ছয়দিন ধরে অপেক্ষা করেও আলু সংরক্ষণ করতে না পেরে হতাশ হয়ে পড়ছেন অনেকে। দীর্ঘ সময়ে প্রচন্ড গরমে ট্রাকে রাখ আলু নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
আরও পড়ুন: আলু সংরক্ষণে ৮ টাকা ভাড়া বেঁধে দিল হিমাগার মালিকরা
নিয়ম অনুযায়ী হিমাগারে আলু রাখার জন্য প্রতিবছর ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে বুকিং দিতে হয়। তবে এবার বুকিং দিয়েও আলু রাখতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেন বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী।
ফরিদপুর হিমাগারে আলু রাখার জন্য ঠাকুরগাঁও থেকে এসেছেন সেলিম মোল্লা। তিনি বলেন, গত পাঁচদিন আগে ১৩ টন আলু নিয়ে ফরিদপুর এসেছি। অপেক্ষা করতে করতে এখন ক্লান্ত। ভয় পাচ্ছি ট্রাকে রাখা আলু প্রচন্ড গরমে পচন ধরে কিনা।
এরাজবাড়ী রাস্তার মোড়ের এই হিমাগার ঘুরে দেখা যায়, যানবাহন ভরে আলু নিয়ে এসে দীর্ঘ লাইন ধরে কেউ কেউ তিন দিন আবার কেউ পাঁচ দিন ধরে হিমাগারের ফটক থেকে বাইরের রাস্তায় অপেক্ষা করছেন। আগতদের অধিকাংশ উত্তরবঙ্গের জেলাগুলো থেকে এসেছেন।
ফরিদপুর হিমাগারের ব্যবস্থাপক রুস্তুম মোল্লা জানান, আলু ফরিদপুর সদর উপজেলার গোয়ালচামট এলাকায় ব্যক্তি মালিকানায় ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ফরিদপুর হিমাগার লিমিটেড। ব্যবসায়ী ও কৃষকেরা মার্চ থেকে নভেম্বর পর্যন্ত এখানে আলু সংরক্ষণ করেন।
এছাড়া ফল ব্যবসায়ীরা সারা বছরই অল্প দিনের জন্য বিভিন্ন ফল সংরক্ষণ করে রাখেন। সুবিধামতো সময়ে আবার কৃষক ও ব্যবসায়ীরা হিমাগার থেকে আলু ও ফল বিক্রির জন্য নিয়ে যান।
তিনি আরও বলেন, এই হিমাগাটির ধারণক্ষমতা রয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার বস্তা। প্রতি বস্তায় ৬০ কেজি করে আলু রাখতে হয়।
নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্যবসায়ীরা বস্তা প্রতি ৪০৫ টাকা হারে ভাড়া দেন।
মৌসুমের শুরুতে ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মাগুরা, নীলফামারী, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও, রংপুর, দিনাজপুর ও রাজশাহী অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা আলু এনে এই হিমাগারে সংরক্ষণ করে রাখেন।
আরও পড়ুন:
হিমাগার কর্তৃপক্ষ বলছে, অধিক ফলন ও একইসঙ্গে সবাই আলু নিয়ে আসার কারণে এ বিড়ম্বনার সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা ৬০ হাজারের বেশি বস্তা আলু হিমাগারে প্রবেশ করিয়েছি। এখন অপেক্ষমাণ যারা আছেন, তাদের আলুর বস্তাগুলো নিতে পারলেই হয়।
আরও পড়ুন: বেনাপোল দিয়ে ভারত থেকে আরও ১৯০০ টন আলু আমদানি
অপেক্ষা ও বিড়ম্বনা কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, আমাদের আনলোডের শ্রমিক সংখ্যা কম। যে কারণে দূর-দুরান্ত থেকে আসা ট্রাকগুলো থেকে আমরা পর্যাপ্ত আলু নিতে পারছি না। তবে আশা করছি, আগামী ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যে যে ট্রাকগুলো অপেক্ষায় রয়েছে সেগুলোর আলু আমরা সংরক্ষণ করতে পারব।
হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করতে আসা ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কেউ তিনদিন, কেউ বা পাঁচদিন ধরে ট্রাক্টর, ভটভটি, ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে আলু নিয়ে এসেছেন হিমাগারে রাখার জন্য। এখনো বাইরে রাস্তায় আলু নিয়ে লাইন ধরে অপেক্ষা করছেন তারা।
৪৪৪ দিন আগে
নিমিষেই শেষ অনলাইনে ট্রেনের টিকিট, কেন?
ঈদযাত্রায় ট্রেন যাত্রীদের ভোগান্তি শুরু হয় টিকিট সংগ্রহের সময় থেকে। কালোবাজারি সিন্ডিকেট চক্রের কারণে ট্রেনের টিকিট কাটা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে প্রতিবছর। পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে বিগত বছরগুলোর অভিজ্ঞতার আলোকে পরিস্থিতি সামাল দিতে অন্তর্বর্তী সরকার এবার বেশ কয়েকটি উদ্যোগ নিয়েছে। তবে সরকারের সেই উদ্যোগও সফলতার মুখ দেখেনি বলে মনে হচ্ছে।
সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল দুটি ভাগে দুটি পৃথক সময়ে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রির শুরু হয় গত ১৪ মার্চ সকাল ৮টা থেকে। অনলাইনে টিকিট বিক্রির শুরু থেকেই হুড়মুড় করে ওয়েবসাইটে ঢোকেন টিকিটপ্রত্যাশীরা। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো—ওয়েবসাইটে বা রেলসেবা অ্যাপে টিকিট থাকার তথ্য দেখালেও সিলেকশন কিংবা পেমেন্ট অপশন কাজ করছে না। এতে অনেকেই টিকিট কাটতে ব্যর্থ হয়েছেন। আবার বেশিরভাগ রুটের টিকিট তারিখভেদে শেষ হয়ে যায় দুই থেকে পাঁচ মিনিটের মধ্যেই।
অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করতে না পেয়ে অভিযোগ দিতে ঢাকা রেল স্টেশনে আসা এক যাত্রী বলেন, আমি ২৪ মার্চ রাজশাহী যাওয়ার জন্য ১৪ মার্চ সকাল থেকে অনলাইনে টিকিট কাটতে অনেকবার চেষ্টা করেছি। কিন্তু ওয়েব সাইটে ঢুকতে পারিনি। পরের দিনের টিকিট সংগ্রহের চেষ্টা করলাম যাতে একদিন পর হলেও যেতে পারি। কিন্তু ওয়েব সাইটের তথ্যে দেখাচ্ছে টিকিট শেষ হয়ে গেছে। টিকিট আসলেই শেষ কিনা— সেবিষয়ে সরাসরি কথা বলতে স্টেশনে এসেছিলাম। তারা বলছেন, অনলাইন ছাড়া টিকিট পাওয়া সম্ভব না। এভাবেই করতে হবে।’
আরও পড়ুন: ঈদে চলবে ৫ জোড়া বিশেষ ট্রেন, টিকিট বিক্রি ১৪ মার্চ থেকে
এদিকে গত শুক্রবার (১৪ মার্চ) সকাল ৯টায় রেলের টিকিট বিক্রির ওয়েবসাইটের তথ্যে দেখা যায়, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম অভিমুখী কোনো ট্রেনের টিকিট অবশিষ্ট নেই। তবে, ওই সময় পর্যন্ত পঞ্চগড়, লালমনিরহাটসহ রাজশাহীগামী ট্রেনের কয়েকটি টিকিট ছিল। বেলা ১১টার দিকে প্রায় সব অঞ্চলের ট্রেনের টিকিটই শেষ হয়ে গেছে।
টিকিট বিক্রি শুরুর প্রথম ১০ মিনিটের মধ্যেই পশ্চিমাঞ্চলের বেশিরভাগ টিকিট শেষ হয়ে গেছে বলে ইউএনবিকে জানান ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার শাহাদাত হোসেন।
তিনি বলেন, ‘শুক্রবার (১৪ মার্চ) থেকে অনলাইনে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। প্রথম দিন সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে ১৫ হাজার ৭৭৩টি টিকিটের বিপরীতে ওয়েব সাইটে ২০ লাখ হিট পড়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সকাল ৮টায় পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনের ২৪ মার্চের টিকিট বিক্রি শুরু হয়। তবে এ পর্যন্ত টিকিট কেনায় কোনো প্রকার সমস্যা হয়নি। কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।’
টিকিট বিক্রির সময়সূচি অনুযায়ী, গত শনিবার সকালে দ্বিতীয় দিনের মতো পশ্চিমাঞ্চলের আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট বিক্রি হয়েছে। টিকিট বিক্রি শুরুর পর প্রথম আধাঘণ্টায় ৭৩ লাখ বার ওয়েবসাইটে টিকিট কাটার চেষ্টা করা হয়েছে৷ সব টিকিট বিক্রিও হয়ে গেছে।
একইভাবে রবিবার বিক্রি হয়েছে ২৬ মার্চের টিকিট। এদিন প্রথম ৩০ মিনিটে সারা দেশে প্রায় ২৬ হাজার টিকিট বিক্রি হয়েছে। এ সময় রেলেওয়ে ই-টিকিটিং ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপে মোট ৯৮ লাখ বার হিট করেছেন টিকিটপ্রত্যাশীরা।
এর আগে ৯ মার্চ রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম সিদ্দিকীর সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে অগ্রিম টিকিট বিক্রির তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৫ মার্চের টিকিট ১৫ মার্চ, ২৬ মার্চের টিকিট ১৬ মার্চ, ২৭ মার্চের টিকিট ১৭ মার্চ, ২৮ মার্চের টিকিট ১৮ মার্চ, ২৯ মার্চের টিকিট ১৯ মার্চ ও ৩০ মার্চের টিকিট ২০ মার্চ বিক্রি করা হবে।
আরও পড়ুন: প্রতারণা: অ্যাপ ও সরাসরি কাউন্টার থেকে ট্রেনের টিকিট কেনার পরামর্শ
৪৪৪ দিন আগে
বেনাপোল বন্দরে ১৮৮০০ টন চাল আমদানি, প্রভাব নেই দামে
বেনাপোল স্থল বন্দর দিয়ে গত ৪ মাসে ভারত থেকে ১৮ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন চাল আমদানি করা হলেও দেশের বাজারে দামে কোনো প্রভাব পড়ছে না। চালের বাজার স্থিতিশীল রাখার জন্য এসব চাল আমদানি করা হলেও দরের ঊর্ধ্বগতিতে নাভিশ্বাস উঠেছে ক্রেতাদের।
দেশের চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদনপ্রাপ্ত ৯২টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান শুল্কমুক্ত কোটায় এসব চাল আমদানি করেছে। চলতি অর্থবছরে ১৭ নভেম্বর থেকে ১৩ মার্চ পর্যন্ত এই চাল আমদানি করা হয়েছে। তবে ভারত থেকে চাল আমদানি অব্যাহত থাকলেও দেশের বাজারে দামে কোনো প্রভাব পড়ছে না।
আরও পড়ুন: পাকিস্তান থেকে চাল আমদানি করবে বাংলাদেশ
গত বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) বেনাপোল বন্দর দিয়ে ৩৫০ টন চাল আমদানি করা হয়েছে। অর্থাৎ এ নিয়ে গেল চার মাসে ১৮ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন চাল আমদানি হয়েছে এ বন্দর দিয়ে।
৬ মার্চ খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. আরিফুল ইসলামের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বেসরকারিভাবে নন-বাসমতি সেদ্ধ চাল ও আতপ চাল আমদানির জন্য বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুকূলে এলসি খোলার সময়সীমা আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হলো।
দেশের চালের বাজার স্থিতিশীল ও ক্রেতা সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সরকার দেশের শীর্ষ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাইরের দেশ থেকে চাল আমদানির অনুমতি দেয়। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে বাইরের দেশ থেকে চাল আমদানির এই সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
কাস্টমস সূত্র জানায়, আটটি চাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান গত ১৭ নভেম্বর থেকে ১৩ মার্চ পর্যন্ত ১৮ হাজার ৮০০ টন চাল আমদানি করেছে। সারা দেশে চাল আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল ৯২ প্রতিষ্ঠানকে। দুই লাখ ৭৩ হাজার টন সেদ্ধ এবং এক লাখ ১৯ হাজার টন আতপ চাল আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল তাদের। অনেক প্রতিষ্ঠান এই সময়ের মধ্যে আমদানি করতে পারেনি। তারপরও সরকার ২৫ দিন সময় নির্ধারণ করে দেয় আমদানি করা চাল বাজারজাত করার জন্য। আশানুরূপ চাল আমদানি না হওয়ায় পরে তা প্রথম দফায় ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বাড়ায় সরকার। তারপরও আমদানি ধীরগতির কারণে আবারও সময় বাড়ায় সরকার। এভাবে পর্যাপ্ত পরিমাণ চাল আমদানি না হওয়ায় এবারও চতুর্থবারের মতো আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সময় বাড়িয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে সব চাল আমদানি হলে বাজারে চালের দাম কমে আসবে বলে তিনি মনে করেন।
এদিকে চাল আমদানি অব্যাহত থাকলেও বাজারে দামের উপর এর কোনো প্রভাব পড়ছে না। বরং লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে চালের দাম। রোজার শুরু থেকেই সব ধরনের চালের দাম কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা বেড়েছে। অব্যাহতভাবে চালের দাম বৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, চালের দাম কমানোর জন্য সরকারের নানামুখী উদ্যোগের পরও সুফল মিলছে না। ভারত থেকে চাল আমদানি হলেও দেশীয় চালের দামের উপর তার কোনো প্রভাব পড়ছে না। রোজার শুরুতেই সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে। চালের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। রোজায় সবজিসহ অন্যান্য জিনিসপত্র কিনতে পারলেও চাল কিনতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
চাল ব্যবসায়ী দীন মোহাম্মদ বলেন, রোজার শুরুতেই চালের দাম কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা বেড়েছে। রোজার আগের ৬৪ টাকা কেজি দরের ২৮ জাতের চাল বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৬৮ থেকে ৬৯ টাকায়, ৭২ টাকার মিনিকেট ৭৬ টাকা, ৫২ টাকার মোটা চাল ৫৬ টাকা, ৮৪ টাকার বাশমতি চাল বিক্রি হচ্ছে ৮৮ থেকে ৯০ টাকা কেজি। আমদানি করা ভারতীয় একটি চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৮ টাকা কেজি দরে। তবে বাজারে ক্রেতাদের মধ্যে ভারতীয় চালের চাহিদা কম।
তিনি বলেন, রোজার মধ্যে চালের দাম কমার তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। ভারতীয় চাল আমদানি অব্যাহত থাকলেও বাজারে দামের উপর কোনো প্রভাব পড়ছে না। তবে সামনে নতুন চাল বাজারে উঠলে সরবরাহ বাড়লে দাম কমতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বেনাপোল স্থলবন্দর পরিচালক (ট্রাফিক) শামিম হোসেন জানান, ভারত থেকে আসা আমদানি করা চালের ট্রাক স্থলবন্দর অভ্যন্তরে ঢুকলেই দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা তা দ্রুত ছাড় করার ব্যবস্থা নেন। যাতে আমদানি করা চাল দেশের বাজারে দ্রুত সরবরাহ করা যায়।
আরও পড়ুন: ভারত-পাকিস্তান থেকে ১ লাখ টন চাল আমদানি করবে বাংলাদেশ
বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার মো. কামরুজ্জামান জানান, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণে বেনাপোল স্থলবন্দরের গুরুত্ব অনেক বেশি। বেনাপোল থেকে কলকাতার দূরত্ব কম হওয়ায় আমদানি বাণিজ্য সম্প্রসারণের সময় স্বল্পতা ও আর্থিক সাশ্রয় ব্যবসায়ীদের আগ্রহ বাড়ায়। পণ্য পরিবহনে যাতায়াত ব্যবস্থা রয়েছে উন্নত। এই বন্দর থেকে পণ্য ছাড় করার পর অতি দ্রুত পৌঁছাতে পারে দেশের বিভিন্ন জেলা শহরের বাজারে। বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে গত চার মাসে ভারত থেকে ১৮ হাজার ৮০০ টন চাল আমদানি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চাল আমদানির জন্য সরকার আবারও একমাস সময় বাড়িয়েছে।
৪৪৪ দিন আগে
ওমরাহ ভিসার জটিলতা নিরসনে সৌদিকে চিঠি, বিমান ভাড়া ফেরতের আশ্বাস
কোনোপ্রকার পূর্ব-ঘোষণা ছাড়াই বাংলাদেশিদের জন্য ওমরাহ ভিসা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে সৌদি সরকার। বাংলাদেশ থেকে রমজান মাসে অনেক মুসল্লি ওমরাহ করতে যান। সেই অনুযায়ী এবারও প্রস্তুতি নিয়েছিলেন অনেকে, এজেন্সিগুলো তাদের জন্য টিকিটও বুকিং দিয়েছে। এর মধ্যে হঠাৎ ভিসা বন্ধের ঘোষণায় বিপাকে পড়েছেন ওমরাহ যাত্রী ও এজেন্সিগুলো।
ভিসা বন্ধ হলেও আগেভাগে বুকিং দেওয়া বিমান টিকিটের মূল্য ফেরত পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল। তবে টিকিট-মূল্য সবাই ফেরত পাবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন ধর্ম উপদেষ্টা উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন।
উপদেষ্টা জানিয়েছেন, বাংলাদেশিদের জন্য ওমরাহ ভিসা বন্ধে উদ্বেগ জানিয়ে সংকট নিরসনে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জটিলতা কাটিয়ে বিষয়টি স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরাতে রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: হজ পালনকারীর সর্বনিম্ন বয়স ১৫ বছর নির্ধারণ
এছাড়া, বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গেও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা এজেন্সিগুলোর অগ্রিম ভাড়ার অর্থ ফেরত দেবে বলে নিশ্চিত করেছে বলেও জানিয়েছেন আ ফ ম খালিদ হোসেন।
ইউএনবিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, ‘সৌদি সরকার নুসুক অ্যাপের মাধ্যমে ওমরাহ ভিসা ওপেন করে (খুলে) দিয়েছিল, অথচ (কাজের উদ্দেশ্যে) লাখ লাখ মানুষ এখন সৌদি আরবে হাজির। হজের চেয়েও বেশি মানুষ এখন মক্কা-মদিনায়। মানুষ যে এবাদত করবে সেই পরিবেশ নেই। এই পরিস্থিতিতে সৌদি সরকার ওমরাহ ভিসা ইস্যু প্রায় বাতিল করে দিয়েছে। (বাংলাদেশিদের জন্য) তারা এখন ভিসা ইস্যুর হার ১০ শতাংশে নামিয়ে এনেছে।’
তিনি বলেন, ‘ওমরাহ ভিসা ইস্যু করা কমিয়ে দেওয়ার কারণে আমরা উদ্বিগ্ন, সেই উদ্বেগ আমরা তাদের জানিয়েছি। ভিসা আগের মতো ওপেন করার অনুরোধও করেছি। আমরা শনিবার (১৫ মার্চ) সৌদি রাষ্ট্রদূতকে চিঠি দিয়েছি। তারা আমাদের এখনও কোনো উত্তর দেয়নি।’
আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, ‘চিঠিতে আমরা বলেছি, আকস্মিকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার কারণে আমাদের ওমরাহ যাত্রীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। তারা এজেন্সিগুলোকে টাকা দিয়েছেন, এজেন্সিগুলো বিমানের টিকিটও বুকিং দিয়ে দিয়েছে। এখন এজেন্সিগুলোকে টাকা ফেরত দিতে হচ্ছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে আমরা সৌদি সরকারকে বাংলাদেশের জন্য ওমরাহ ভিসা ইস্যু স্বাভাবিক করার অনুরোধ করেছি। আমি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ফোনেও কথাও বলব। দেখি তারা কী সিদ্ধান্ত নেয়!’
‘বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গেও আমরা আলাপ করেছি। তারা আমাদের জানিয়েছে, টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া হবে। তবে নিয়ম আছে, বুকিং দিলে পরে টাকা ফিরিয়ে নিলে একটা ফি কাটে। সামান্য একটা ফি কেটে টাকা ফেরত দেওয়া হবে। এ বিষয়ে তারা রাজি হয়েছে।’
শুধু বাংলাদেশিদের জন্যই কি এ সমস্যা হয়েছে—জানতে চাইলেন তিনি বলেন, ‘আমি যতটুকু শুনেছি, ওমরাহ ভিসা বন্ধ শুধু বাংলাদেশিদের জন্য নয়। এ বিষয়ে আমরা অফিশিয়াল কোনো কারণ এখনও জানতে পারিনি। তবে শুনেছি, রমজানে বেশি লোকের চাপ, একসঙ্গে এত লোকের চাপ সামলাতে একটু সমস্যা হচ্ছে, তাই হয়তো সাময়িক সময়ের জন্য সৌদি সরকার ওমরাহ ভিসা বন্ধ করেছে।’
‘সৌদি সরকার ঘোষণা দিয়ে ভিসা ইস্যু বন্ধ করলে এজেন্সিগুলো ওমরাহ যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা নিতেন না; কিন্তু তারা হঠাৎ করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়ায় জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। তবে আশা করছি, খুব দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।’
এদিকে, এজেন্সি মালিকদের সংগঠন হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) মহাসচিব ফরিদ আহমেদ ইউএনবিকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আজকে আমরা ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করেছি। বিষয়টির সমাধান কীভাবে করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’
‘সৌদি আরবে ওমরাহ ভিসা ইস্যু এখনও স্বাভাবিক হয়নি। ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে একটি অনুরোধপত্র সৌদি রাষ্ট্রদূতকে দেওয়া হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। দেখি কী সিদ্ধান্ত আসে!’
তিনি বলেন, ‘যারা অগ্রিম টাকা জমা দিয়েছেন, তারা যেন দ্রুত টাকা (ফেরত) পায়, সে বিষয়ে আমাদের সহযোগিতা থাকবে। তবে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের জানানো হয়েছে, এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে তাদের কথা হয়েছে; টিকিটের অগ্রিম টাকা ফেরত দেওয়া হবে।’
আরও পড়ুন: ওমরাহ নিয়ে এজেন্সির বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ
ধর্ম মন্ত্রণালয় সচিব একেএম আফতাব হোসেন প্রামাণিক ইউএনবিকে বলেন, ‘হজের মতো ওমরাহ নিয়ে আমাদের দুদেশের মধ্যে চুক্তিবদ্ধ কোনোকিছু নেই। তারপরও আমরা সৌদি সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি। যারা ওমরাহয় যাওয়ার উদ্দেশ্যে টিকিটের জন্য বিভিন্ন এজেন্সিতে টাকা জমা দিয়েছেন, তাদের টাকা ফেরত দিতে হবে। এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, ওমরাহ যাত্রী পরিবহন করে থাকে ১০-১২টি এয়ারলাইন্স। রমজানে প্রতিদিন ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ ওমরাহ যাত্রী পরিবহন করার কথা। তবে ভিসা বন্ধ করায় যাত্রীরা এখন যেতে পারছেন না। অবশ্য এপ্রিল মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত ওমরাহ যাত্রীদের (সৌদি) যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
৪৪৫ দিন আগে
নওগাঁয় আমে ৩৫০০ কোটি টাকা বাণিজ্যের সম্ভাবনা
দেশের অন্যতম আম উৎপাদকারী জেলা নওগাঁ। গত কয়েক বছরের মধ্যে এবার আমের মুকুল সবচেয়ে বেশি এসেছে জেলার আমের বাগানগুলোতে। নওগাঁর বাতাসে এখন মুকুলের মৌ মৌ ঘ্রাণ ভেসে বেড়াচ্ছে। কয়েক দিনের বেশিরভাগ সময় আবহাওয়া আম উৎপাদনের জন্য অনুকূল রয়েছে। এবার গাছে গাছে মুকুলের আধিক্য দেখে ব্যাপক ফলনের আশা করছেন আমচাষিরা।
কৃষিবিদরা বলছেন, এখন পর্যন্ত আবহাওয়া আম চাষের অনুকূলে রয়েছে। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ বছর আমের বাম্পার ফলন হবে। এবার গত বছরের চেয়ে ২০০ হেক্টর জমিতে বেড়েছে আমের বাগান। আশা করা হচ্ছে, গত বছরের চেয়ে এবার ২৫ হাজার টন ফলন বাড়তে পারে।
আরও পড়ুন: স্ট্রবেরি চাষে ভাগ্য খুলেছেন ‘চাকরির বাজারে ব্যর্থ’ জাহিদ
আমচাষিরা বলছেন, প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী এক মৌসুমে ভালো ফলন হলে পরেরবার আমের ফলন কম হয়। সে হিসেবে গত বছর নওগাঁয় আমের ফলন কম হওয়ায় এবার তারা আমের বাম্পার ফলনের আশায় বুক বেঁধেছেন। বাগানে প্রায় সব গাছেই মুকুল এসেছে। মুকুলকে ছত্রাকের আক্রমণ থেকে বাঁচাতে ছত্রাকনাশক কীটনাশক স্প্রে করছেন তারা। ক্ষেত্র বিশেষে ছিটানো হচ্ছে পানি। আমগাছের গোড়াতেও পানি দিচ্ছেন চাষিরা।
এদিকে বাগানে মুকুল আসা শুরু করতেই মৌসুমি বাগান ব্যবসায়ী ও ফড়িয়ারা মাঠে নেমে পড়েছে। তারা মুকুল দেখে বাগান কেনার জন্য মালিকদের কাছে যাচ্ছেন। গত কয়েকদিন ধরে মুকুলে গুটি হওয়ার পর বাগান কেনাবেচার জন্য আমবাগানীদের সঙ্গে ব্যবসায়ীরা বাগান কেনাবেচা নিয়ে কথা শুরু করেছেন।
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার নওগাঁ জেলায় ৩০ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির বাগানে আম চাষ করা হয়েছে। গত বছর এর পরিমাণ ছিল ৩০ হাজার ৩০০ হেক্টর। গত বছর আমের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৩১ হাজার টন। উৎপাদন হয়েছিল ৪ লাখ ২৫ হাজার টন। এবার ৪ লাখ ৫০ হাজার টন আম উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।
নওগাঁর সাপাহার ও পোরশা উপজেলায় সবচেয়ে বেশি আম চাষ হয়। এ ছাড়াও নিয়ামতপুর পত্নীতলা, ধামইরহাট, বদলগাছি উপজেলা আম উৎপাদনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী নওগাঁ জেলায় নাগ ফজলি, ল্যাংড়া, আম রুপালি, গোপালভোগ, আশ্বিনা, কাটিমন, বারি আম-৪, বারি আম-১১, গুটি আম ও ফজলি জাতের সুস্বাদু আমের উৎপাদন বেশি।
সাপাহার উপজেলার গোডাউনপাড়া এলাকাসহ ২০০ বিঘা জমির ওপর তিনটি আমবাগান রয়েছে তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা সোহেল রানার। তিনি স্থানীয় বাজারে আম বিক্রি ছাড়াও বিদেশেও আম রপ্তানি করে থাকেন।
সোহেল রানা বলেন, গত বছর তার বাগানে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ গাছে মুকুল এসেছিল। এবার এখন পর্যন্ত তার বাগানে ৮০ শতাংশ গাছে মুকুল এসেছে। ফাল্গুন মাস আমের মুকুল আসার উপযুক্ত সময়। আশা করছেন, আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে বাকি গাছগুলোতেও মুকুল আসবে। আবহাওয়া এখন পর্যন্ত আমের জন্য অনুকূলে আছে। রোদের তাপ কম পেলে ও প্রকৃতি কুয়াশায় ঢেকে থাকলে মুকুলে ছত্রাকের আক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সেজন্য গাছে ছত্রাকনাশক কীটনাশক স্প্রে করছেন তিনি।
পোরশা উপজেলার বড়গ্রাম এলাকার আমাচাষি রায়হান আলম বলেন, গত বছর শীতের কারণে অনেক দেরিতে মুকুল এসেছিল। গাছে মুকুল আসতে প্রায় ১৫-২০ দিন দেরি হয়েছিল। মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়েও অনেক গাছে মুকুল ধরেছিল। তবে সে তুলনায় এবার অনেক আগেই মুকুল এসেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার আমের বাম্পার ফলন হবে।
আরও পড়ুন: খাদ্য গুদামে আমন ধান দিচ্ছেন না বাগেরহাটের চাষিরা
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নওগাঁ জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘সাধারণত ধরা হয় দীর্ঘস্থায়ীভাবে তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকলে আমের মুকুল ধরতে চায় না। তবে এবার জানুয়ারি মাসে দুই-এক দিন করে শৈত্যপ্রবাহ থাকলেও দীর্ঘস্থায়ী শৈত্যপ্রবাহ ছিল না। গড় তাপমাত্রা প্রায় ২০ ডিগ্রির কাছাকাছি ছিল। এই তাপমাত্রা আমের জন্য অনুকূল। তবে কয়েক দিন ধরে দেখা যাচ্ছে কুয়াশা থাকছে। তবে তাপমাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে। কুয়াশার কারণে মুকুলে ছত্রাকের আক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এজন্য আমরা আমচাষিদের ছত্রাকনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দিচ্ছি।’
তিনি বলেন, চলতি বছরে কোনো প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা না দিলে নওগাঁর আমের বাগান থেকে সাড়ে চার লাখ টন আম উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। আমের বাজার ভালো থাকলে এবছর নওগাঁ জেলায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার আম উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
৪৪৬ দিন আগে
চাঁদপুরের হাইমচরে তৈরি হচ্ছে জামদানি শাড়ি
শাড়িতে নারী। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাঙালি নারীদের বসনে বিভিন্ন ধরনের পোশাক জড়ালেও শাড়ি এখনো পছন্দের শীর্ষে। এর মধ্যে বেনারসি, কাতান, জামদানি, মসলিন, সিল্ক অন্যতম। তবে এসব শাড়ি তৈরির জন্য গড়ে উঠেছে শিল্প ও কারখানা। তবে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পেও এসব শাড়ির কোনো কোনোটির উৎপাদন হয়ে থাকে দেশে।
চাঁদপুর হাইমচরের এক উদ্যমী যুবক রনি পাটওয়ারী। তিনি প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিজ বাড়িতে জামদানি শাড়ি তৈরি করছেন। তার এই উদ্যোগ উপজেলায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
উপজেলার ৩ নম্বর দক্ষিণ আলগী দুর্গাপুর ইউনিয়নের নিভৃত পল্লী পশ্চিম চর কৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা রনি পাটোয়ারী। নিজ এলাকা ছাড়িয়ে এই জামদানি শাড়ি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে মরিয়া এই উদ্যোক্তা।
সরজমিনে দেখা যায়, ‘নিজের একটি দো'চালা টিনের ঘরে ক্ষুদ্র পরিসরে জামদানি শাড়ি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। উদ্যমী যুবক রনি।
রনির বাবা বিল্লাল পাটওয়ারী ইউএনবিকে বলেন, প্রায় ২০ বছর আগে পারিবারিক অভাব-অনটনে পড়ে রনি হাইমচর ছেড়ে পাড়ি জমায় নারায়ণগঞ্জে। সেখানে ২০ বছরে নানান প্রতিষ্ঠানে কাজ করে ধীরে ধীরে জামদানি কাপড় বুনার অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও নিপুনতা রপ্ত করেন। পরে নিজ গ্রামে ফিরে উদ্যোক্তা হয়ে উৎপাদন করতে থাকেন জামদানি শাড়ি। এখন নিজ ক্ষুদ্র শিল্প নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অভাবের তাড়নায় প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখা বেশি এগোতে পারেননি তিনি। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও এখন এই শাড়ি তৈরি বা বুনা ও বিক্রি করে সংসার চালিয়ে নিচ্ছেন রনি। ছেলের এই দক্ষতা ও উদ্যোগে নিজেদের অনেক আনন্দের কথা হাসিমুখে জানালেন বৃদ্ধ বাবা বিল্লাল।
রনির মা সালমা বেগম ও বাবা বলেন, সুতা, নাটাই, কাঠের ফ্রেম, সিজার, কেচিসহ নানা যন্ত্রপাতি দিয়ে একা হাতে এক একটি জামদানি তৈরি করতে রনির ৩ থেকে ৪ দিন সময় লেগে যায়। তাই নানা প্রান্ত থেকে শাড়ির অর্ডার আসলেও তা তাদের হাতে তুলে দিতে ওর সময় লেগে যাচ্ছে।
জামদানি শাড়ি তৈরির উদ্যোক্তা রনি পাটওয়ারী ইউএনবিকে বলেন, এ কাজটিতে আরও অনেকের কর্মসংস্থান তৈরির প্রত্যাশা রয়েছে তার। এজন্য প্রয়োজন সরকারি ও বেসরকারি সাহায্য সহয়তা। যদি তারা সহযোগিতায় এগিয়ে আসতো, তাহলে এখানে আরও অনেকের কর্মসংস্থানের সুযোগ হতো।
৪৪৬ দিন আগে
সুন্দরবনে নদী ভাঙনে কমছে বনভূমি, পদক্ষেপের ঘাটতি
নদী ভাঙনের কবলে পড়েছে সুন্দরবনের বনভূমি। এতে যেমন কমছে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনটির ভূমি, তেমনি বিলীন হচ্ছে বনভিবাগের জেটি ও অন্যান্য স্থাপনাও। এতে করে অফিস ব্যারাক ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন বনরক্ষীরা। প্রতিনিয়ত বাড়ছে হুমকি।
সম্প্রতি বনের ৯টি স্থানের ভাঙন ঠেকাতে গত সেপ্টেম্বরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তা চেয়েছিল পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ। বগি ফরেস্ট অফিসের সামনে ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড কিছু বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেললেও তাতে তেমন কোনো কাজ হয়নি।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বেশ কয়েক বছর ধরে সুন্দরবনের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। বেশ বড় এলাকা ও গাছপালা বিলীন হয়ে যাচ্ছে নদীতে। বিশেষ করে দুবলা ফরেস্ট অফিসের জেটি, খাবার পানির একাধিক পুকুর, অফিস ভবন, মেহেরআলী চরের সাইক্লোন শেল্টার ও মিষ্টি পানির পুকুর সাগরে বিলীন হয়েছে। সাগরে বিলীন হয়েছে কটকার পুরাতন রেস্ট হাউস ভবন ও জেটি। বগি ফরেস্ট অফিসের দোতলা ভবন নদীতে বিলীন হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। এছাড়াও অনেক স্থানে অফিস ও পুকুর নদীতে বিলীন হওয়ার পথে।
জানা যায়, বনের ৯টি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এগুলো হলো—কচিখালী অভয়ারণ্যকেন্দ্র, কটকা অভয়ারণ্য কেন্দ্র, চান্দেশ্বর টহল ফাঁড়ি, জেলেপল্লী দুবলা টহল ফাঁড়ি, বগি ফরেস্ট স্টেশন, ঝাপসি টহল ফাঁড়ি, জোংড়া টহল ফাঁড়ি, করমজল বন্যপ্রাণী প্রজননকেন্দ্র ও শুয়ারমারা টহল ফাঁড়ি। এসব ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তা চাওয়া হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
আরও পড়ুন: নদী ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যক্রম শুরু হবে: পানিসম্পদ উপদেষ্টা
সুন্দরবনের প্রধান পর্যটন স্পট কটকা অভয়ারণ্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্টার সোয়েবুর রহমান সুমন ইউএনবিকে বলেন, সাগরের ভাঙনে কটকার বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল সাগরে বিলীন হচ্ছে। ক্রমাগত বনভূমি ভেঙে কমছে বনভূমি। অনেক গাছপালা সাগরে বিলীন হয়েছে। কটকার পুরাতন রেস্টহাউস ভবন সাগরে চলে গেছে। তাছাড়া সুন্দরবনের গহিনে অনেক জায়গা নদী ও খালে বিলীন হয়েছে। কটকার ফরেস্ট অফিস এখন ভাঙনের মুখে বলেও জানান এই ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
৪৪৭ দিন আগে
চান্দিনায় আশ্রয়ণের এক তৃতীয়াংশ ঘরে নেই ভূমিহীন, বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ
ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের আবাসন নিশ্চিত করতে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় কুমিল্লার চান্দিনায় নিমার্ণ করা অনেক ঘরের বরাদ্দ নিয়ে কেউ থাকছেন না। অভিযোগ আছে, বরাদ্দের সময় বিভিন্ন মহলের তদবিরে কিছু সংখ্যক মানুষ ঘর বাগিয়ে নিয়েছেন। ফলে বঞ্চিত হয়েছেন প্রকৃত ভূমিহীনরা।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের পরিত্যক্ত ওইসব ঘরে এখন মানুষের পরিবর্তে কোথাও লাকড়ির স্তুপ আবার কোথাও রয়েছে হাঁস-মুরগী! কেউ আবার ঘরের বৈদ্যুতিক তারসহ গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম নিয়ে হয়েছন উধাও। বরাদ্দকৃত ঘরের এক তৃতীয়াংশই এখন ফাঁকা পড়ে আছে। এমতাবস্থায় তাদের বরাদ্দ বাতিল করে প্রকৃত গৃহহীনদের নামে বরাদ্দ দিতে সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছেন স্থানীয়রা।
আরও পড়ুন: ড্যাপ ও ইমারত নির্মাণ বিধিমালায় সংশোধন চান আবাসন খাতের ব্যবসায়ীরা
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পতিত আওয়ামী লীগ সরকার ২০১৮ সালে টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ হাতে নেয়। ওই কর্মসূচির আওতায় সরকারি খাস জমিতে নির্মাণ করা হয় দৃষ্টিনন্দন পাকা ঘর। এসব ঘরে সংযুক্ত শৌচাগাড় সুবিধা এবং বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হয়। জমির বন্দোবস্তসহ আশ্রয় দেওয়া হয় গৃহহীনদের।
ওই কর্মসূচির আওতায় কুমিল্লার চান্দিনায় পাঁচ ধাপে উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের ভোমরকান্দি, কেরণখাল ইউনিয়নের ছয়ঘড়িয়া, বাড়েরা ইউনিয়নের বাড়েরা, মহিচাইল ইউনিয়নের অম্বরপুর গ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে ২১৬টি গৃহ নির্মাণের মধ্য দিয়ে প্রতিটি ঘরে গৃহহীনদের আবাসন নিশ্চিত করা হয়। কিন্ত পরবর্তীতে ওই ঘরগুলোর অকেগুলোতে থাকছেন না অনেক পরিবার। ঘর বরাদ্দপ্রাপ্ত সুবিধাভোগীরা কেউবা কর্মের তাগিদে পরিবার নিয়ে শহরে থাকেন, আবার কেউবা ঘর বরাদ্দ নিয়ে পূর্বের ঠিকানায় ফিরে গেছেন। এর আগে বরাদ্দ পেতে রাজনৈতিক বিবেচনায় তদবির, উপজেলা প্রশাসনের দপ্তরের চাকুরির সুবাদে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সুপারিশ, আবার কেউ কেউ টাকার বিনিময়ে বরাদ্দ নেন ওইসব ঘরের।
উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের ভোমরকান্দি গ্রামের খাস জমিতে একত্রে ৪০টি ঘর নির্মাণ করে সেখানে ৪০টি পরিবারকে আশ্রয় দেওয়া হয়। গত শনিবার (৮ মার্চ) দুপুরে সরজমিনে দেখা যায়, সেখানকার ৫, ৭, ১১, ১৪, ২৪, ২৯, ৩০, ৩৫, ৩৬ ও ৪০নম্বর ঘরগুলোর কোনোটিতে তালা ঝুলছে, আবার কোনটির দরজা খোলা ফেলেই চলে গেছে বরাদ্দপ্রাপ্তরা। তালাবদ্ধ ঘরগুলোর কোনটির সামনে রয়েছে পাশের ঘরের বাসিন্দাদের লাকড়ি ও পাতার স্তুপ। আর দরজা খোলা রেখে ফেলে যাওয়া ঘরগুলোর ভিতরে রয়েছে পাশের ঘরের বাসিন্দাদের লাকড়ি, খড়কুটো। আবার কোনোটিতে হাঁস মুরগি পালন করা হচ্ছে। সেখানকার ৪০ নম্বর ঘরটি যার নামে বরাদ্দ ওই ব্যক্তি ঘর বরাদ্দ পাওয়ার কয়েকদিন পর ঘরের বৈদ্যুতিক তারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র খুলে নিয়ে গেছে। কোনো কোনো ঘরে দুই বছরেও কোন মানুষ বসবাস না করায় বকেয়া বিলের দায়ে বৈদ্যুতিক লাইন বিচ্ছিন্ন করেছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। আবার কোনো ঘরে একদিনও বৈদ্যুতিক আলো না জ্বলায় দুই বছরে মিটার রিডিং শুন্যের কোঠায়!
রবিবার (৯ মার্চ) উপজেলার কেরণখাল ইউনিয়নের ছয়ঘড়িয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন অত্যন্ত সুন্দর পরিবেশে এক সঙ্গে ৩০টি গৃহ নির্মাণ করে সেগুলো বরাদ্দ দেওয়া হয়। বর্তমানে সেখানে ১৬টি পরিবার স্থায়ীভাবে বসবাস করলেও ১০টি পরিবারের কোনো খোঁজ নেই। ৪টি ঘরে প্রকৃত বরাদ্দপ্রাপ্তর না থাকলেও বাস করছেন অন্যরা।
আরও পড়ুন: সংশোধিত ড্যাপ বাতিলের দাবি আবাসন ব্যবসায়ীদের, আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে মনে করছেন পরিকল্পনাবিদরা
অভিযোগ রয়েছে উপজেলা প্রশাসনে অস্থায়ী ভিত্তিতে চাকুরি করার সুবাদে লাইলি বেগম ঘর বরাদ্দ নিয়ে এ পর্যন্ত ওই ঘরে বসবাস করেননি। সুবিধাভোগী রিকশাচালক সুজন ঘর বরাদ্দ নিয়ে একদিনও থাকেনি।
লাইলি বেগম জানান, আমি মাঝে মধ্যে ওই ঘরে যাই। আর আমার মামার বাড়ি চান্দিনা উপজেলা সদরের মহারং গ্রামে, বেশির ভাগ সময় সেখানেই থাকি।
একই দিন শুহিলপুর ইউনিয়নের শুহিলপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায় ৮টি ঘরের মধ্যে ১টিতে বাসিন্দা নেই। ঘর বরাদ্দ পাওয়া বিমল শুরু থেকেই থাকছেন ওই ঘরে। অম্বরপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ২৫ ঘরের মধ্যে ৯টি ফাঁকা পড়ে আছে।
ভোমরকান্দি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা ওসমান গণি জানান, সে সময়ে ঘরগুলো এলোমেলোভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এক গ্রামের বা এক ইউনিয়নের বাসিন্দাকে অন্য গ্রামে অন্য ইউনিয়নে ঘর দেয়। যে কারণে অনেকেরই কোনো কাজ কর্ম নেই। এখানে অনেকে কর্ম না পেয়ে বাধ্য হয়ে অন্যত্র চলে গেছে।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের একাধিক বাসিন্দা জানান, সে সময়ে (যখন ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়) চেয়ারম্যান মেম্বারসহ রাজনৈতিক নেতাদের সুপারিশে অনেক ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। যাদের বাড়িতে জায়গা আছে, বা যারা চান্দিনাতে থাকেন না—এমন লোকদেরকেও ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওইসময়ে প্রকৃত ভূমিহীন অনেকেই ঘর বরাদ্দ পায়নি। বর্তমানে সবগুলো ঘর যাচাই-বাছাই করে যারা ঘরে থাকছে না বা যাদের নিজস্ব জায়গা থাকার পরেও ঘর বরাদ্দ নিয়েছেন— তাদের বরাদ্দ বাতিল করে প্রকৃত ভূমিহীনদের তালিকা করে ঘরগুলো বরাদ্দ দেওয়ার অনুরোধ জানান তারা।
আরও পড়ুন: গণভবনে জাদুঘরের পাশাপাশি শহীদদের পরিবারের আবাসনের প্রস্তাব পার্থর
৪৪৮ দিন আগে