বিশেষ-সংবাদ
ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা মানছেন না ফরিদপুর ও রাজবাড়ীর জেলেরা
মা ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ফরিদপুর ও রাজবাড়ীর অনেক জেলে পদ্মায় মাছ শিকার করছেন নিয়মিত। সময়মতো সরকারি সহায়তা না পাওয়া ও ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে নদীতে নামতে হচ্ছে বলে দাবি তাদের। তবে মৎস্য বিভাগ বলছে, ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞার সময়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
পদ্মা পাড়ে গিয়ে দেখে বোঝার উপায় নেই যে মা ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা চলছে। বরং তার উল্টোটাই মনে হবে। এই সময়েও দুই জেলার পদ্মায় অর্ধশতাধিক পয়েন্টে অসংখ্য জেলে ইলিশ শিকার করছেন।
জেলেদের দাবি, সরকারি প্রণোদনা না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই জেল-জরিমানা উপেক্ষা করে নদীতে নামছেন তারা। তাদের অনেকের মৎস্য কার্ড থাকার পরও সরকারের সহায়তা পাননি।
আরও পড়ুন: যশোরে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত হচ্ছে শীতকালীন সবজি চারা, পোঁছে যাচ্ছে সারা দেশে
নাম প্রকাশে একাধিক জেলে জানান, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে সরকারের দেওয়া ২৫ কেজি চাল দিয়ে পরিবার নিয়ে চলাটা কষ্টকর হয়ে যায়। নৌকা ও জাল মেরামতের জন্য বিভিন্ন আড়ৎ ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছেন অনেকেই। এ সময় আয়-রোজগার কমে যাওয়ায় জেলেরা ঋণের চাপে পড়েছেন, তাই বাধ্য হয়ে নদীতে যাচ্ছেন তারা।
২২৯ দিন আগে
যশোরে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত হচ্ছে শীতকালীন সবজি চারা, পোঁছে যাচ্ছে সারা দেশে
যশোর শহর থেকে ১০ কিলোমিটার পশ্চিমে গেলেই রাস্তার দুই পাশে চোখে পড়বে সবজির চারা উৎপাদনের এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। রাস্তার দুই পাশেই পলিথিন দিয়ে বিশেষ কায়দায় তৈরি করা হয়েছে বীজতলা ঢেকে রাখার অস্থায়ী দৃষ্টিনন্দন সাদা পলিথিনের ছাউনি। দূর থেকে প্রথম দেখাতেই মনে হবে, হয়তো কোনো বড় অনুষ্ঠানের জন্য সাদা ফুল দিয়ে সজ্জিত করা হয়েছে।
বৃষ্টি ও সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে সেই পলিথিন দিয়ে বীজতলার শেডগুলো কেউ কেউ ঢেকে দিচ্ছেন। আবার কেউ নারী-পুরুষ মিলে বীজ রোপণ করছেন। কেউ মাটি ফুঁড়ে বের হওয়া চারাগুলোতে ঝাঝরি দিয়ে পানি দিচ্ছেন, আবার কেউ বীজতলা থেকে চারা তুলছেন বিপণনের জন্য।
এমনই অপরূপ দৃশ্য দেখা যায় যশোর সদর উপজেলার আব্দুলপুর ও বাগডাঙ্গা গ্রামের মাঠে। গ্রাম দুটি অনেক আগেই সবজি চারার গ্রাম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
চারা উৎপাদনকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুই গ্রামের আড়াই থেকে তিন শতাধিক কৃষক প্রতি মৌসুমের ছয় মাসে বিভিন্ন সবজির প্রায় ২০ থেকে ২৫ কোটি চারা উৎপাদন করেন, যা বিক্রি করেন প্রায় ২০ থেকে ৩০ কোটি টাকায়। এসব চারা বিপণন করা হচ্ছে সারা দেশে।
ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রকলি, বিটকপি, শালগম, টমেটো, মরিচসহ বিভিন্ন সবজির মানসম্মত এসব চারা কিনতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কৃষকরা আসছেন এ দুই গ্রামে।
আরও পড়ুন: লালমনিরহাটে ডাকবাক্স হয়ে উঠছে গল্প, যোগাযোগে লেগেছে প্রযুক্তির ছোঁয়া
প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দূর-দূরান্তের জেলা থেকে কৃষকরা তাদের চাহিদা অনুযায়ী সবজি চারা নিয়ে যাচ্ছেন এখান থেকে। মানসম্মত চারা হওয়ায় এর সুনাম ছড়িয়েছে দেশের বিভিন্ন জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলেও।
চারা উৎপাদনকারী আব্দুলপুর গ্রামের রেকান মিয়া জানান, আজ থেকে ২০ বছর আগে এখানে চারা উৎপাদনের কাজ শুরু হয়। তবে গত ৮ থেকে ১০ বছর ধরে বাণিজ্যিকভাবে এখানে চারা উৎপাদন করা হচ্ছে। এ বছর অধিক বৃষ্টির কারণে কয়েকবার চারা উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে কৃষকদের অনেক টাকা লোকসান হয়েছে।
তাছাড়া বীজ, সার, শ্রমিকের মজুরি ও পলিথিনের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এখানকার চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সরকারি সহযোগিতা পেলে ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হতো বলে জানান তিনি।
বাগডাঙ্গা গ্রামের সাদ্দাম হোসেন জানান, এখানকার উৎপাদিত চারা বাংলাদেশের প্রায় ৬৪ জেলাতেই বিক্রি হয়ে থাকে। অনলাইনে ও অফলাইনে এসব চারা বিক্রি হয়। জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে চাষি ও ব্যবসায়ীরা এখান থেকে চারা কিনে নিয়ে যান।
এছাড়া সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি বাজারে চারার হাট বসে। সেখানেও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা এসে চারা কিনে নিয়ে যান।
মামুন হোসেন বলেন, বর্তমানে বাজারে ভালো মানের প্রতি হাজার ফুলকপির চারা এক হাজার থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা এবং বাঁধাকপির চারা মানভেদে ৮০০ থেকে এক হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
ফুলকপি, বাঁধাকপি, মরিচ, ব্রকলি, শালগম, বেগুন, টমেটোসহ শীতের সব ধরনের সবজির চারা এখানে উৎপাদন হয়ে থাকে। বাণিজ্যিকভাবে চারা উৎপাদনের কারণে এলাকার অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। সরকারি সহযোগিতা পেলে এ খাতে আরও বিপ্লব ঘটানো সম্ভব বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন: মিরসরাই ইকোনমিক জোনসহ সব অর্থনৈতিক অঞ্চলে ট্রেন যোগাযোগ স্থাপনের উদ্যোগ
চারা উৎপাদন কর্মী সোহানা খাতুন জানান, তার মতো অনেক নারীই বছরের ছয় মাস বীজ বপন ও চারা উত্তোলনের কাজ করে থাকেন। জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ থেকে বিভিন্ন সবজির বীজ বপন শুরু হয়। প্রায় দেড় মাস পর চারা বিক্রির উপযোগী হয়। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলে চারা বিক্রি। এই সময়টা তাদের যথেষ্ট কাজের চাহিদা থাকে।
তিনি আরও জানান, এক পাতা বীজ বপনের জন্য তারা ৩৫ টাকা করে পান। সেই অনুযায়ী ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা কাজ করলে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা আয় করতে পারেন। আর চারা উত্তোলনের জন্য হাজিরা হিসেবে একজন নারী কর্মী সাড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা করে পান।
যশোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. মোশারফ হোসেন বলেন, সারা দেশেই এই অঞ্চলের সবজি চারার সুনাম রয়েছে। আব্দুলপুর ও বাগডাঙ্গায় মৌসুমের ছয় মাসে প্রায় ২০ থেকে ৩০ কোটি সবজি চারা উৎপাদন হয়। এ খাত থেকে ছয় মাসে প্রায় ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকায় কৃষকদের আয় হয়।
তবে চারা উৎপাদনকারী কৃষকদের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, চারা উৎপাদনে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং বাজার সংযোগে (মার্কেট লিংকেজ) তারা সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।
২২৯ দিন আগে
৩৫ বছরের অচলায়তন ভেঙে আজ চাকসুর ভোট
দীর্ঘ ৩৫ বছরের অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ।
তফসিল অনুযায়ী, আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সপ্তম চাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলবে।
ভোটগ্রহণ শেষে হবে গণনা। কেন্দ্রীয় সংসদের ফলাফল ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ থেকে এবং হল সংসদের ফলাফল নিজ নিজ কেন্দ্র থেকে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এবার চাকসুর মোট ভোটার ২৭ হাজার ৫১৬ জন। কেন্দ্রীয় সংসদে ২৬ পদের বিপরীতে ৪১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন।
ভোটকেন্দ্র
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪টি আবাসিক হল রয়েছে। এর মধ্যে ৯টি ছাত্রদের ও ৫টি ছাত্রীদের। এছাড়া রয়েছে শিল্পী রশিদ চৌধুরী হোস্টেল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ, সমাজবিজ্ঞান অনুষদ, বিজ্ঞান অনুষদ এবং কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের দুটি ভবন মিলিয়ে মোট পাঁচটি ভবনের ১৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ১৪টি কেন্দ্রে হল সংসদ ও একটি কেন্দ্রে হোস্টেল সংসদ নির্বাচন হবে।
আরও পড়ুন: ৩৫ বছর পর চাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা, ভোট ১২ অক্টোবর
এ ছাড়া প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে চাকসু ভবনে একটি অতিরিক্ত কেন্দ্র স্থাপন করেছে নির্বাচন কমিশন। এসব কেন্দ্রের জন্য ৬০ কক্ষে ৭০০টি বুথ প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিটি কক্ষে থাকবে পাঁচটি ব্যালট বাক্স এবং পাঁচ জন করে এজেন্ট। একটি কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ৫০০ ভোটার ভোট দিতে পারবেন।
চাকসুতে মোট ভোটার রয়েছেন ২৭ হাজার ৫১৮ জন। এর মধ্যে ছাত্র ভোটার আছেন ১৬ হাজার ১৮৯ এবং ছাত্রী ভোটার রয়েছেন ১১ হাজার ৩২৯ জন।
পদ ও প্রার্থীর সংখ্যা
এবারের চাকসুতে অর্থাৎ কেন্দ্রীয় সংসদে মোট পদসংখ্যা ২৬টি। কেন্দ্রীয় সংসদে ১৩টি প্যানেল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট প্রার্থী সংখ্যা ৪১৫ জন।
এর মধ্যে, সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ২৪ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ২২ জন, সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে ২১ জন, খেলাধুলা ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে ১২ জন, সহ-খেলাধুলা ও ক্রীড়া সম্পাদক ১৪ জন, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে ১৭ জন, সহ-সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে ১৫ জন, দপ্তর সম্পাদক পদে ১৭ জন, সহ-দপ্তর সম্পাদক পদে ১৪ জন, ছাত্রীকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক পদে ১৩ জন, সহ-ছাত্রীকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক পদে ১০ জন, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ১১ জন, গবেষণা ও উদ্ভাবনবিষয়ক সম্পাদক পদে ১২ জন, সমাজসেবা ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক ২০ জন, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ১৫ জন, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ১৭ জন, ক্যারিয়ার উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ১৬ জন, যোগাযোগ ও আবাসনবিষয়ক সম্পাদক ১৭ জন, সহ-যোগাযোগ ও আবাসনবিষয়ক সম্পাদক ১৪ জন, আইন ও মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক ৯ জন, পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়াবিষয়ক সম্পাদক ২০ জন। এ ছাড়া নির্বাহী সদস্য পদে লড়ছেন ৮৫ জন।
আরও পড়ুন: চাকসু নির্বাচনের লক্ষ্যে নীতিমালা প্রণয়নে ৫ সদস্যের রিভিউ কমিটি
অন্যদিকে, হল ও হোস্টেল সংসদে পদ সংখ্যা ১৪টি করে যার বিপরীতে মোট প্রার্থী ৯০৮ জন।
ভোটদান
প্রত্যেক ভোটার ৫টি ব্যালটে চাকসু ও হল সংসদে ৪০ জন প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন। ভোট দিতে একেকজন ভোটার ১০ মিনিট সময় পাবেন। অর্থাৎ, একজন ভোটারকে প্রতি ২০ সেকেন্ডে একটি করে ভোট দিতে হবে।
এ নির্বাচনের ভোট হবে ব্যালট পেপারে। গণনা হবে ওএমআর (অপটিক্যাল মার্ক রিডার) পদ্ধতিতে। এ পদ্ধতিতে ভোটারদের বৃত্ত পূরণ করে ভোট দিতে হবে।
ভোটের সরঞ্জাম এর মধ্যেই কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠিয়ে দিয়েছে চাকসু নির্বাচন কমিশন।
ভোটের দিন শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ১১ বার করে চট্টগ্রাম শহর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা–যাওয়া করবে শাটল ট্রেন। এ ছাড়া চলাচল করবে ৩০টি বাস।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার চাদরে মোড়ানো হয়েছে পুরো ক্যাম্পাস। চলছে পুলিশ ও র্যাব সদস্যদের টহল।
নির্বাচনী পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাজারখানেক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। র্যাব, পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা দলও ক্যাম্পাসে টহল দিচ্ছে।
আরও পড়ুন: রাত পেরোলে ডাকসু নির্বাচন, নতুন ভোরের অপেক্ষায় ক্যাম্পাস
ভোটের দিন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, র্যাব, এপিবিএন, বিজিবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বাহিনী, রোভার স্কাউট ও বিএনসিসি মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ৭০০ জন সদস্য মোতায়েন থাকবেন।
গত ২৮ আগস্ট চাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এরপর ১ সেপ্টেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর যাচাই-বাছাই শেষে ১১ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়।
ওই মাসের ১৪ তারিখ থেকে মনোনয়ন পত্র বিতরণ শুরু হয়ে চলে ১৭ সেপ্টেম্বর। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে ২১ সেপ্টেম্বর প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হয়। পরে ২৫ সেপ্টেম্বর প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়।
নির্বাচনের জন্য ১২ অক্টোবর দিন ঠিক করা হলেও পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে সেটি পিছিয়ে ১৫ অক্টোবর করা হয়।
সার্বিক বিষয়ে চাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার প্রফেসর ড. মুনির উদ্দিন বলেন, ৫টি ফ্যাকাল্টিতে ভোট গ্রহণ করা হবে। এসব ফ্যাকাল্টির ৬০ কক্ষে ৭০০টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে আসা যাওয়ার জন্য বাড়তি শাটল ট্রেন ও বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুরো ভোটকেন্দ্র থাকবে সিসিটিভির আওতায়।
১৯৬৬ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর প্রথম চাকসু নির্বাচন হয় ১৯৭০ সালে। এরপর থেকে প্রতি শিক্ষাবর্ষে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত হয়েছে মোটে ছয়বার।
সর্বশেষ চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি। ওই নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্র শিবিরকে পরাজিত করে চাকসু ও হল সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য।
ষষ্ঠ চাকসু নির্বাচনে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের প্রার্থী জাতীয় ছাত্রলীগের নাজিম উদ্দিন ভিপি নির্বাচিত হন। আর জিএস নির্বাচিত হন সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি আজিম উদ্দিন আহমদ।
২৩৩ দিন আগে
কোম্পানীগঞ্জ বাজারের পাশে ময়লার ভাগাড়, নাকাল পথচারী, ডেঙ্গুর শঙ্কায় স্থানীয়রা
কুমিল্লা–সিলেট মহাসড়কের ধারে, মুরাদনগর উপজেলার ব্যস্ততম কোম্পানীগঞ্জ বাজারের পাশে গড়ে উঠেছে বিশাল ময়লার ভাগাড়। প্রতিদিন বাজারের পচা সবজি, পলিথিন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ময়লা, গৃহস্থালির বর্জ্য ও নোংরা পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে এক ভয়াবহ পরিবেশ।
বর্জ্যের দুর্গন্ধে নাকাল হচ্ছে পথচারী। বৃষ্টির পর চারপাশে জমে থাকা নোংরা পানিতে জন্ম নেওয়া মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। এর ফলে ডেঙ্গু ও অন্যান্য সংক্রামক রোগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন শত শত মানুষ এই বাজারে কেনাকাটা করতে আসেন। অথচ তাদের বাধ্য হয়ে নাক চেপে চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বাজার কমিটির তদারকির অভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে। সড়কের পাশে কোনো নির্দিষ্ট বর্জ্য ফেলার স্থান না থাকায় এখন পুরো বাজার ও মহাসড়ক দুর্গন্ধ ও মশার আখড়ায় পরিণত হয়েছে।
২৩৫ দিন আগে
লালমনিরহাটে ডাকবাক্স হয়ে উঠছে গল্প, যোগাযোগে লেগেছে প্রযুক্তির ছোঁয়া
একসময় মানুষের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ছিল হাতে লেখা চিঠি। সুখ-দুঃখের খোঁজখবর থেকে শুরু করে প্রেম-ভালোবাসার বার্তা, সামাজিক কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক যেকোনো সংবাদ—সবই পৌঁছাত ডাকপিয়নের ঝুলিতে থাকা সেই চিঠির মাধ্যমে। আর চিঠি আদান-প্রদানের ভরসা ছিল রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা লাল রঙের ডাকবাক্স। তবে তরুণ প্রজন্মের কাছে সেই লাল ডাকবাক্স ক্রমেই কেবল অতীতের গল্প হয়ে উঠছে।
কালের পরিক্রমায় প্রযুক্তির অগ্রগতিতে ডাকবাক্স এখন প্রায় হারিয়ে গেছে। যোগাযোগে ডাকবাক্সের জায়গা দখল করেছে মোবাইল ফোন, ই-মেইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।
এসব মাধ্যম মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থায় দ্রুততা এনেছে। কিন্তু এই পরিবর্তনের ফলে চিঠির কাগজে লেখা আবেগ ও সম্পর্কের অনন্য সৌরভ আজ আর খুঁজে পাওয়া যায় না।
লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে একসময় ডাকবাক্স ছিল যোগাযোগের শেষ ভরসা। পরিবারের কিশোর সদস্যদের মধ্যে রীতিমতো প্রতিযোগিতা লেগে যেত—কে আগে গিয়ে চিঠি ফেলবে, সেই নিয়ে। আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব কিংবা অফিস-আদালতের প্রয়োজনীয় সংবাদ—সবই যেত ডাকবাক্সের মাধ্যমে।
কিন্তু আজ এসব ডাকবাক্স ব্যবহার না হওয়ায় পড়ে আছে অবহেলায়। কোথাও ভাঙাচোরা, কোথাও আবার মরিচায় ক্ষয়ে গেছে লাল রঙ।
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁওয়ে একটি খাল খননে ফিরেছে কৃষকের ভাগ্য, বদলে গেছে ২৫ হাজার একর জমির চিত্র
আদিতমারী উপজেলা ডাকঘর ও ইউনিয়ন পর্যায়ের শাখা অফিসগুলোতে একসময় প্রতিদিন নিয়মিত খোলা হতো ডাকবাক্স। বর্তমানে আর প্রতিদিন খোলার প্রয়োজন পড়ে না। চিঠির ব্যবহার কমে যাওয়ায় ডাকবাক্সগুলো দিন দিন অচল হয়ে পড়ছে।
লালমনিরহাট জেলা পোস্টমাস্টার নূরনবী বলেন, এই জেলায় ৮১টি পোস্ট অফিস রয়েছে। ডাকবাক্সগুলো নিয়মিত খোলা ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। তবে আগের মতো আর কেউ চিঠি ফেলে না। উপজেলা ও শাখা পর্যায়ের ডাকবাক্সগুলোতে ব্যক্তিগত চিঠি এখন খুব কমই পাওয়া যায়।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে ডাকবীমা কার্যক্রম ও অফিস-আদালতের চিঠিপত্র ছাড়া ব্যক্তিগত চিঠি নেই বললেই চলে।
একসময় সম্পর্কের মায়াজাল আর আবেগের প্রতীক ছিল ডাকবাক্স। প্রযুক্তির যুগে সেই স্মৃতিময় যোগাযোগ মাধ্যম আজ কেবল অতীতের গল্প হয়ে যাচ্ছে।
২৩৭ দিন আগে
ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়ক দশ লেনে উন্নীত নয়, ট্রেন লাইনের ওপর গুরুত্ব বাড়ছে
ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়ককে দশ লেনে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা বাতিল করে রেল যোগাযোগ উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জমি সংকট এবং টেকসই পরিবহন ব্যবস্থার কথা বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয় বিষয়ক বিশেষ সহকারী শেখ মঈনুদ্দিন।
ইউএনবিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম রোডকে ৬ বা ১০ লেন করার বিষয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। তবে এখনো চূড়ান্ত কিছু নয়। সর্বোচ্চ ছয় লেন পর্যন্ত করা যেতে পারে। তবে এর বাইরে রোড সম্প্রসারণের পরিবর্তে ট্রেনে যাতায়াতের ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।’
তিনি বলেন, ‘ট্রেন দ্রুতগতির, নিরাপদ ও সময়নিষ্ঠ যোগাযোগ মাধ্যম। ট্রেন ব্যবস্থা উন্নত করতে পারলে অনেকেই গাড়ি চালানো থেকে সরে আসবেন। তাই আমরা রেললাইন আধুনিকীকরণের দিকে জোর দিচ্ছি। বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইনটি সংস্কার ও উন্নয়নের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।’
তার ভাষ্যে, রাস্তাঘাট সম্প্রসারণ করলে ভূমি আরও কমে যাবে। দেশে ইতোমধ্যে ল্যান্ড (ভূমি) সংকট দেখা দিচ্ছে। অথচ ট্রেনে এখন মাত্র ২ শতাংশ পণ্য পরিবহন হয়, যা জিডিপির প্রায় ২ শতাংশের সমান।
আরও পড়ুন: মিরসরাই ইকোনমিক জোনসহ সব অর্থনৈতিক অঞ্চলে ট্রেন যোগাযোগ স্থাপনের উদ্যোগ
শেখ মঈনুদ্দিন বলেন, ‘আমি ফোকাস করছি রেলওয়ে উন্নয়নের ওপর, যাতে সড়কের চাপ কমে আসে। কারণ ট্রেন নিরাপদ, সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব।’
তিনি জানান, বিদেশের অনেক দেশে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পণ্য পরিবহন হয় রেলপথে, অথচ বাংলাদেশে তা মাত্র ২ শতাংশ। এই হার অন্তত ২৫ শতাংশে উন্নীত করতে চান তিনি। এতে ট্রেন পরিবহন লাভজনক হবে এবং রাস্তায় চাপও কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ সচল রাখতে বর্তমানে লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) ঘাটতি একটি বড় সমস্যা বলে উল্লেখ করেন শেখ মঈনুদ্দিন।
তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে নতুন লোকোমোটিভ ক্রয়ের জন্য টেন্ডার আহ্বান করেছি। এতে ট্রেনের গতি ও কার্যকারিতা দুটোই বাড়বে, নতুন লাইন করতে হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে কিছু নির্দিষ্ট ট্রেন শুধু পণ্য পরিবহনের কাজে ব্যবহার করার, যাতে সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো যায়। এতে সময় ও খরচ দুটোই কমবে।’
সরকারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সড়কের ওপর চাপ কমে যাবে এবং দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি আসবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন শেখ মঈনুদ্দিন।
২৩৮ দিন আগে
মিরসরাই ইকোনমিক জোনসহ সব অর্থনৈতিক অঞ্চলে ট্রেন যোগাযোগ স্থাপনের উদ্যোগ
মিরসরাই ইকোনমিক জোনসহ দেশের সব অর্থনৈতিক অঞ্চলের (ইকোনমিক জোন) সঙ্গে ট্রেন যোগাযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এতে পণ্য পরিবহন আরও সহজ, দ্রুত ও সাশ্রয়ী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইউএনবিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রধান উপদেষ্টার সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয় বিষয়ক বিশেষ সহকারী শেখ মঈনুদ্দিন বলেন,
মিরসরাইয়ের জন্য আলাদা কোনো পরিকল্পনা নেই, তবে আমরা মিরসরাইকে আলাদাভাবে দেখছি না— সার্বিকভাবে দেশের সব ইকোনমিক জোনের জন্যই একটি সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য হলো, প্রতিটি ইকোনমিক জোন থেকে যেন সরাসরি ট্রেন লাইন সংযুক্ত থাকে, যাতে পণ্য পরিবহন সহজ হয়।
আরও পড়ুন: অদক্ষ কর্মীদের কারণে ইসলামী ব্যাংকের বার্ষিক ক্ষতি ১৫০০ কোটি টাকা
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ট্রাকে করে পণ্য ট্রেন পর্যন্ত নিয়ে যেতে হয়। আমরা এমন ব্যবস্থা করতে চাই, যাতে মিরসরাইসহ সব ইকোনমিক জোন থেকে সরাসরি ট্রেনে পণ্য বা কনটেইনার তোলা যায়।
এতে সময় ও খরচ দুটোই কমবে, একই সঙ্গে শিল্পকারখানাগুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মিরসরাই ইকোনমিক জোনে ট্রেন ও সড়ক— উভয় সংযোগ থাকবে কিনা জানতে চাইলে শেখ মঈনুদ্দিন বলেন, অবশ্যই থাকবে। আমরা এমন একটি মাস্টার প্ল্যান করছি, যেখানে মিরসরাইসহ দেশের সব ইকোনমিক জোনের সঙ্গে ট্রেন, সড়ক ও বন্দর যোগাযোগ সরাসরি যুক্ত থাকবে। এতে জাতীয় পরিবহন ব্যবস্থায় এক নতুন মাত্রা যোগ হবে।
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের শিল্পায়ন, রপ্তানি ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করেন তিনি।
২৩৯ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় বাড়ছে স্ক্যাবিসের প্রাদুর্ভাব, ওষুধ সংকটে হাসপাতাল
চুয়াডাঙ্গা জেলায় ছোঁয়াচে চর্মরোগ স্ক্যাবিস বা খোস-পাঁচড়া আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়েছে। শিশু, নারী ও বয়স্ক সব বয়সী মানুষই সংক্রমিত হচ্ছেন। এই রোগে একজন আক্রান্ত হলে অল্প সময়ের মধ্যে পুরো পরিবার সংক্রমিত হয়ে পড়ছে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে প্রতিদিন এই রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।
বুধবার (৮ অক্টোবর) চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে দেখা যায়, নতুন ও পুরোনো ভবনের করিডোর ও বারান্দা জুড়ে রোগীর উপচে পড়া ভিড়। চিকিৎসকদের কক্ষের সামনে দীর্ঘ লাইন, অনেকেই দাঁড়িয়ে বা মেঝেতে বসে চিকিৎসার জন্য অপেক্ষা করছেন। হাসপাতালের কর্মীরা রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, প্রতিদিন গড়ে ১৫০ থেকে ২০০ জন রোগী খোস-পাঁচড়া ও অন্যান্য চর্মরোগে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে ওষুধের পর্যাপ্ত মজুত না থাকার কারণে অনেককে বাইরে থেকে ক্রিম, লোশন ও অন্যান্য ওষুধ কিনতে হচ্ছে। সরকারি মজুত ওষুধের মধ্যে সীমিত পরিমাণে হিস্টাসিন ট্যাবলেট রয়েছে।
চিকিৎসা নিতে আসা পারভীনা খাতুন বলেন, ‘হাতে চুলকানি দিয়ে শুরু, এখন সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে। গায়ে ছোট ছোট লাল দানা ওঠে, চুলকানি অসহনীয়। ডাক্তার ওষুধ লিখেছেন, কিন্তু বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে, এতে কষ্ট হচ্ছে।’
আরও পড়ুন: চিকিৎসক সংকটে বন্ধ হয়ে গেল চাঁদপুরের শতবর্ষী দাতব্য চিকিৎসালয়
রোগী হাসেম আলী জানান, ‘রাতে চুলকানি আরও বেড়ে যায়, ঘুমানোই কষ্টকর হয়ে পড়ে। হাসপাতালে সব ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না, তাই বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।’
সদর উপজেলার মোছা রিনা বেগম বলেন, ‘প্রথমে ছেলেটার হাতে চুলকানি ছিল, এখন পুরো পরিবার আক্রান্ত। রাতে কেউ ঘুমাতে পারি না।’
আলমডাঙ্গার রফিকুল ইসলাম জানান, ‘প্রথমে ভেবেছিলাম সামান্য সমস্যা, এখন পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে। তাই বাধ্য হয়েই হাসপাতালে আসতে হলো।’
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. লাইলা শামীমা শারমিন বলেন, স্ক্যাবিস অত্যন্ত ছোঁয়াচে চর্মরোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির পাশাপাশি পরিবারের সকল সদস্যকেও একসঙ্গে চিকিৎসা নিতে হবে, না হলে সংক্রমণ পুনরায় ফিরে আসে। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে কিডনিসহ ত্বকে জটিলতা দেখা দিতে পারে।
তিনি আরও বলেন, আগে গরমের সময় এই সমস্যা বেশি দেখা যেত, এখন প্রায় সারাবছরই হচ্ছে। অনেকেই চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে খাচ্ছেন, এতে জটিলতা বাড়ছে। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, কাপড় ধোয়া এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চললেই সংক্রমণ রোধ সম্ভব।
আরও পড়ুন: রংপুরে বিরল রোগে আক্রান্ত দুই শতাধিক মানুষ, দেখা দিয়েছে আতঙ্ক
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস বলেন, স্ক্যাবিস ও দাউদ দুটোই সংক্রামক রোগ। আর্দ্র পরিবেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আগেও এই রোগ ছিল, তবে বাজারের ওষুধের কার্যকারিতা কমে যাওয়ায় সংক্রমণ বাড়ছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা রোগীদের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পরামর্শ দিচ্ছি এবং সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী ওষুধ দিচ্ছি। তবে সরকারি বরাদ্দ নেই এমন ওষুধ আমরা সরবরাহ করতে পারছি না, তাই রোগীদের বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।’
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, স্ক্যাবিসের প্রাথমিক উপসর্গ হলো হাত-পায়ের আঙুলের ফাঁক ও শরীরের ভাঁজে চুলকানি, যা রাতে বেড়ে যায়। আক্রান্ত স্থানে ক্ষত হলে সেকেন্ডারি সংক্রমণ ঘটতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া, নিয়মিত হাত ধোয়া ও পরিষ্কার কাপড় ব্যবহারই সংক্রমণ রোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
বর্তমানে জেলায় স্ক্যাবিসের প্রাদুর্ভাব জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক। সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ এবং সচেতনতা বাড়ানোই এই রোগ নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ।
২৩৯ দিন আগে
ঠাকুরগাঁওয়ে একটি খাল খননে ফিরেছে কৃষকের ভাগ্য, বদলে গেছে ২৫ হাজার একর জমির চিত্র
ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার সীমান্তবর্তী রাউতনগর খাল পুনঃখননের ফলে এলাকার কৃষিতে দেখা দিয়েছে নতুন সম্ভাবনা, ফিরতে শুরু করেছে কৃষকের ভাগ্য। আট কিলোমিটার দীর্ঘ খালটি ফিরিয়ে আনায় বদলে গেছে আশপাশের ২৫ হাজার একর জমির চিত্র।
খাল পুনঃখননের ফলে এক ফসলি জমিগুলো পরিণত হয়েছে তিন ফসলি জমিতে। এতে কেবল কৃষকের ভাগ্যই ফেরেনি, সরকারি প্রায় ৩০ একর জমিও দখলমুক্ত হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে রাউতনগর খালের পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে পড়েছিল। শ্রীপুর মৌজা থেকে শুরু হয়ে কেউটান বর্ডার ব্রিজ পর্যন্ত বিস্তৃত এই খাল একসময় ছিল জীববৈচিত্র্যের প্রাণকেন্দ্র।
পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রতিবছর আশপাশের জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো। অধিকাংশ জমিতে বোরো ধান ছাড়া অন্য কোনো ফসল ফলানো সম্ভব ছিল না। ফলে কৃষকরা বছরের অর্ধেক সময় কাজবিহীন থাকতে বাধ্য হতেন।
স্থানীয় বাসিন্দা তোতা মিয়া কঠিন দিনগুলোর কথা স্মরণ করে বলেন, ‘আগে বর্ষায় জমিতে পুকুরের মতো পানি থাকতো, ফসল পচে নষ্ট হতো। আর শীতকালে খাল পুরোপুরি শুকিয়ে যেত, সেচের জন্য সামান্য পানিও মিলতো না। আমাদের বাপ-দাদারাও এই জমিতে একের বেশি ফসল তোলার কথা ভাবতে পারেননি। বর্তমানে আমরা এখানে তিন ফসল বা তার থেকে বেশি করতে পারব।’
আরও পড়ুন: ঝিনাইদহে ভাঙাচোরা সড়কে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত
সম্প্রতি পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উদ্যোগে খাল পুনঃখননের পর দ্রুত পানি নিষ্কাশন সম্ভব হচ্ছে। ফলে কৃষকেরা এখন ধান ছাড়াও আলু, গম, ভুট্টা, তেলবীজ ও নানা ধরনের উচ্চমূল্যের সবজি চাষ করছেন। এতে কৃষকের আয় কয়েকগুণ বাড়ার আশা করা হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, রাউতনগর খালের পুনঃখননে এলাকার প্রায় ২৫ হাজার একর জমিতে এখন তিন মৌসুমে ফসল ফলবে। এতে প্রতিবছর এই অঞ্চল থেকে শত কোটি টাকার কৃষিপণ্য উৎপাদিত হবে। এই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কেবল কৃষকের জীবনমানই পাল্টাবে না, এটি গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
তারা আরও জানান, খাল খননের ফলে একদিকে যেমন জমির দ্রুত পানি নিষ্কাশন নিশ্চিত হচ্ছে, তেমনি শুষ্ক মৌসুমে খাল থেকে সহজেই সেচ নেওয়া যাবে। পানির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলে থাকা সরকারি প্রায় ৩০ একর জমি উদ্ধার হয়েছে।
কৃষক শামসুল হক (৪২) খালপাড়ে গড়ে তুলেছেন সবজির বাগান। তিনি বলেন, ‘খাল খননের পর শুধু ধান নয়, খালের দুই পারে আমরা এখন বাঁধাকপি, বেগুন, টমেটোসহ নানা ধরনের উচ্চমূল্যের সবজি চাষ করছি। বাজারে সবজি বিক্রি করে ভালো আয় হবে। আগে কাজের খোঁজে ঢাকা বা চট্টগ্রামে যেতে হতো, এখন নিজের জমিতেই বারো মাস কাজ।’
আরেক কৃষক রফিকুল ইসলাম (৪৬) বলেন, ‘আমার বাবা-দাদারা এক ফসলের বেশি কখনও ভাবতে পারেননি। অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী। কিন্তু এখন একই জমি থেকে তিনটা ফসল তুলতে পারব। আগের চেয়ে আয় বাড়বে প্রায় তিনগুণ। ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পড়ার খরচ নিয়ে আর চিন্তা করতে হবে না।’
আরও পড়ুন: রংপুরে বাঁশের মই বেয়ে সেতু পারাপার, চরম দুর্ভোগে ৫ গ্রামের মানুষ
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম জাকারিয়া বলেন, উদ্ধার হওয়া সরকারি জমি স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজে লাগানো হবে। প্রকল্পটি প্রমাণ করে যে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব এবং এর সুফল বহুমাত্রিক।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা খালটি স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের জন্য নতুন পরিকল্পনা নেব, যাতে কৃষকরা বহু বছর ধরে পানির স্বাভাবিক প্রবাহের সুবিধা পান এবং জমির উর্বরতা ও উৎপাদন ক্ষমতা সর্বোচ্চ বৃদ্ধি পায়। রাউতনগর খাল এখন শুধু একটি জলপথ নয়, এটি এই অঞ্চলের মানুষের নতুন স্বপ্ন, সচ্ছলতা ও সম্ভাবনার প্রতীক।
ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) আলমগীর কবির বলেন, ‘খাল খননের ফলে এখানকার কৃষি অর্থনীতি এখন শক্ত ভিত্তি পেয়েছে। এক সময় যেখানে শুধু ধান হতো, এখন সেখানে আলু, গম, ভুট্টা ও সবজি মিলিয়ে একাধিক ফসল হচ্ছে। কৃষকের জীবনমান পাল্টে গেছে।’
২৪০ দিন আগে
অদক্ষ কর্মীদের কারণে ইসলামী ব্যাংকের বার্ষিক ক্ষতি ১৫০০ কোটি টাকা
সাত বছর ধরে এস আলম গ্রুপ-সংশ্লিষ্ট পূর্ববর্তী ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ৮ হাজার ৩৪০ জনের বেশি অদক্ষ ও অর্ধশিক্ষিত কর্মীর জন্য প্রতি বছর ১৫০০ কোটি টাকারও বেশি আর্থিক ক্ষতির বোঝা টানছে দেশের বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি (আইবিবিএল)।
এস আলমের মাধ্যমে পাচার হওয়া বিপুল অর্থের দায় মেটাতে গিয়ে ব্যাংকটি সঠিক পথে ফেরাতে বর্তমানে কঠিন সংগ্রাম করছে কর্তৃপক্ষ।
তদন্তে জানা গেছে, কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বা আনুষ্ঠানিক পরীক্ষা ছাড়াই কেবল মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে পানের দোকানদার, গৃহকর্মী, অটোরিকশা চালক, রাজমিস্ত্রির সহকারী এবং রংমিস্ত্রীসহ বিভিন্ন শ্রেণির ব্যক্তিকে এই বিশাল সংখ্যক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত এসব কর্মকর্তার পেছনে বছরে ১৫০০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয় হওয়ায় গত সাত বছরে ব্যাংকটির ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে। এই বিশাল আর্থিক বোঝা এবং ব্যাংক থেকে ১ লাখ কোটি টাকারও বেশি লোপাট হওয়ার অভিযোগ—সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ আর্থিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখা ‘প্রায় অসম্ভব’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞ ও পেশাজীবীরা মন্তব্য করেছেন, ইসলামী ব্যাংকের অবৈধ নিয়োগ এবং অর্থ আত্মসাতের কারণে পুরো ব্যাংকিং খাতই ধ্বংসের মুখে পড়েছে।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক তাদের যোগ্যতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হলে দেখা যায়, নিয়োগপ্রাপ্ত এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর অনেকেই জাল সার্টিফিকেট ব্যবহার করে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন। ইতিমধ্যে জালিয়াতির প্রমাণ মেলায় অনেককে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং সার্টিফিকেট যাচাই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
কর্মকর্তাদের বিদ্রোহ ও নিরাপত্তা উদ্বেগ
সম্প্রতি সংকট আরও তীব্র হয়েছে, যখন বর্তমান ব্যাংক ব্যবস্থাপনা তাদের পেশাগত দক্ষতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য বিশেষ দক্ষতা যাচাই পরীক্ষা আয়োজন করে। অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রায় ৯০ শতাংশ কর্মকর্তা সেই পরীক্ষা বয়কট করেন, যা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের প্রতি তাদের প্রকাশ্য অবাধ্যতা প্রকাশ করে।
এই কর্মকর্তারা ব্যাংকের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার, সংবাদ সম্মেলন এবং বর্তমান ম্যানেজমেন্টকে নানা ধরনের হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এসব কার্যকলাপের অংশ হিসেবে শুক্রবার ভোরে ব্যাংকের ফেসবুক পেজও হ্যাক করা হয়, যার পেছনে ‘বাইরের লোকের’ ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রশাসক বসবে একীভূত হতে যাওয়া সংকটাপন্ন পাঁচ ইসলামী ব্যাংকে
ইসলামী ব্যাংকের সাবেক একজন পরিচালক এ বিষয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, এসব বিদ্রোহী কর্মীর হাতে গ্রাহকের টাকা নিরাপদ নয়। তাদের এই প্রকাশ্য অবাধ্যতা প্রমাণ করে যে ব্যাংকের ভল্ট বা ক্যাশ কাউন্টার তাদের কাছে কোনোভাবেই সুরক্ষিত নয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে ব্যাংকটি ভয়ঙ্কর সংকটে পড়বে।
গ্রাহক সেবার মান তলানিতে
গত সাত বছরে অনিয়ন্ত্রিত নিয়োগের ফলে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই ব্যাংকটি কার্যত আঞ্চলিক ব্যাংকে পরিণত হয়েছে, যেখানে চট্টগ্রাম অঞ্চলের কর্মীদের প্রাধান্য বেশি। এই কর্মীরা অফিসে সবসময় চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলতেন এবং বারবার নির্দেশনার পরও নিজেদের পরিবর্তন করেননি। তাদের অদক্ষতা ও উদ্ধত আচরণে গ্রাহক সেবার মান চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ব্যাংকটির সাবেক ওই পরিচালক বলেন, ভাষা বুঝতে না পারা ও সেবার মান নিম্ন হওয়ায় গ্রাহক সেবায় ইসলামী ব্যাংকের যে সুনাম ছিল, তা তলানিতে চলে গেছে এবং গ্রাহকদের মাঝে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিশৃঙ্খলা
ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এস আলম-সমর্থিত পূর্ববর্তী ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অধিকাংশেরই পেশাগত দক্ষতা ছিল না। তারা এস আলমের ক্ষমতা দেখিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতেন, ঊর্ধ্বতনদের নির্দেশনা মানতেন না এবং খেয়ালখুশি মতো চলতেন। নিজেদের পছন্দের চট্টগ্রাম অঞ্চল বা সুবিধাজনক জায়গায় বদলি করতে বাধ্য করতেন।
যেসব ম্যানেজার বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাদের নিয়মের মধ্যে আনতে চেয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে তাদের পোস্টিং বা চাকরি ঝুঁকিতে ফেলা হয়েছে। কর্মকর্তাদের ক্ষমতা ও ঔদ্ধত্যের কারণে পুরো ব্যবস্থাপনা, এমনকি জোনাল হেডরাও আতঙ্কে ছিল।
নির্বাচনের আগে ব্যাংকিং সেক্টরে সাইবার নিরাপত্তা বড় চ্যালেঞ্জ: ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, এই কর্মকর্তারা এখনো এস আলমসহ আগের অবস্থানে ফিরে আসার হুমকি দিচ্ছেন।
সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, “এস আলম একাই পুরো ব্যাংক খাত ধ্বংস করেছেন।”
আমিনুল ইসলাম নামের এক গ্রাহক ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে প্রশ্ন তুলেছেন, “পটিয়ার অবৈধ ব্যাংকাররা চাকরি রক্ষার আন্দোলন করেন, কিন্তু আপনাদের ডাকাত সর্দার এস আলম ব্যাংক থেকে যে ১ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছে, তা ফিরিয়ে আনার আন্দোলন করেন না কেন?”
২৪৩ দিন আগে