বিশেষ-সংবাদ
বাগেরহাটে উঠতে শুরু করেছে তরমুজ, কেজি ৫০ টাকা
বাগেরহাটে উঠতে শুরু করেছে তরমুজ। ফলের দোকানে পসরা সাজিয়ে কিংবা ভ্যান করে বিক্রি হচ্ছে রসালো এই ফল। প্রতি কেজি তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা।
বিভিন্ন জাত ও নানা সাইজের তরমুজ পাওয়া যাচ্ছে বাগেরহাট বাজারে। ক্রেতাদের কাছে যেকোনো ফলের চেয়ে তরমুজের চাহিদা বেশি। ইফতারিতে তরমুজের প্রাধান্য বেশি। এছাড়া এ বছর তরমুজের ফলন ভালো হয়েছে বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে।
বাগেরহাট শহরের মিঠাপুকুর পাড়ে গিয়ে দেখা গেছে, রাস্তার পাশে আলদাভাবে তরমুজ স্তূপ করে রাখা হয়েছে। বিভিন্ন সাইজের তরমুজ পথচারীদের নজর কাড়ে। পথচারী থেকে শুরু করে করে অনেকে যানবাহন থামিয়ে তরমুজ ক্রয় করছেন। তিন কেজি থেকে শুরু করে আট কেজি ওজনের তরমুজ দেখা গেছে সেখানে।
আরও পড়ুন: চাষ না হলেও দক্ষিণের তরমুজে ভরপুর চাঁদপুর
পথচারী হালিম শেখ বলেন, ‘রাস্তার পাশে স্তূপ করে রাখা এত তরমুজ এই মৌসুমে প্রথম দেখা গেলো। ৫০ টাকা কেজি দরে ৬ কেজি ওজনের একটি ক্রয় করে সে।
মিল্টন, আলম, তৌহিদ, অমলসহ বেশ কয়েকজন ক্রেতারা জানান, তরমুজ তাদের অনেক পছন্দ। একারণে দাম যাই হোক; তারা তরমুজ ক্রয় করে বাসায় নিয়ে যাচ্ছেন।
তবে কয়েকজন সাধারণ ক্রেতা জানান, ৫০ টাকা তরমুজের কেজি তাদের কাছে বেশি হয়ে গেছে। মৌসুমের প্রথম ফল ও তরমুজ তাদের সবার পছন্দ থাকায় প্রয়োজনের তুলনায় ছোট সাইজের তরমুজ ক্রয় করেছেন।
হাবিব হোসেন পটুয়াখালী চাষিদের জমি থেকে প্রায় দেড় হাজার তরমুজ ক্রয় করে ট্রাকবোঝাই করে বাগেরহাট মিঠাপুকুর পাড়ে নিয়ে আসেন। তিনি বলেন, ‘তরমুজের ব্যাপক চাহিদা থাকায় ব্যবসা করছি। মিঠাপুকুর পাড়ে বিক্রি জন্য স্তূপ করে তরমুজ রাখা হয়েছে। ট্রাক থেকে তরমুজ নামানোর পর থেকে ক্রেতারা আসছেন তরমুজ ক্রয় করতে। খুচরা প্রতি কেজি তরমুজ ৫০ টাকা দরে বিক্রি করছে। এভাবে তরমুজ বিক্রি করতে পারলে বেশ টাকা লাভ হবে।’
এছাড়া এই মৌসুমে তরমুজ বাজারে প্রথম উঠছে। এ কারণে দাম একটু বেশি বলেও জানান তিনি। কয়েকদিন পরে তরমুজের দাম কমে আসবে বলেও জানান হাবিব হোসেন।
বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শঙ্কর কুমার মজুমদার বলেন, ‘সারাবছরজুড়ে কমবেশি তরমুজ পাওয়া যায়। তরমুজের প্রধান মৌসুম মার্চ মাস।’
আরও পড়ুন: জৈন্তাপুরে তরমুজের বাম্পার ফলন, সেচ-পরিবহন সমস্যায় কৃষকরা
তিনি বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন এলাকায় নানা জাতের হাইব্রিড তরমুজ চাষ হচ্ছে। এ বছর তরমুজের ফলনও ভালো। তরমুজ হাট-বাজারে নতুন আসায় এর দামও বেশি।’
উপ-পরিচালক শঙ্কর কুমার মজুমদার আরও বলেন, ‘গ্রীষ্ম ও শীতকালে বেশি তরমুজ চাষ হয়। গ্রীষ্মকালের তরমুজের চারা নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর মাসে রোপণ করা হয়।’ এছাড়া ড্রাগন কিং, পাকিজা, বিগফ্যামিলি, এশিয়ান ও বাংললিংকসহ বিভিন্ন নামে হাইব্রিড তরমুজ চাষ করা হয়েছে বলে এই কৃষি কর্মকর্তা জানান।
৪৫৪ দিন আগে
‘মেইড ইন জিনজিরা’ ট্যাং-জুস-গ্লুকোজে সয়লাব রমজানের বাজার
জিনজিরা; ঢাকার উপকণ্ঠে কেরানীগঞ্জের এই স্থানটির খ্যাতি এক বিশেষ কারণে—নকল পণ্য উৎপাদনে এই জায়গার জুড়ি মেলা ভার। মেশিনারি, গাড়ির যন্ত্রাংশ থেকে শুরু করে প্রসাধনী, নকল খাদ্যসামগ্রী—কী উৎপাদন হয় না সেখানে! স্থানটির এতই খ্যাতি যে, দেশে নকল কোনো পণ্য বোঝাতে ‘মেইড ইন জিনজিরা’ ট্যাগ লাগিয়ে দেন অনেকে।
ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে পবিত্রে রমজান মাসে জিনজিরায় তৈরি নকল ট্যাং, জুস ও গ্লুকোজে ইতোমধ্যে সয়লাব হয়ে গেছে বাজার। অসাধু ব্যবসায়ীরা বেশি মুনাফার আশায় নকল ও ভেজাল খাদ্যসামগ্রী তৈরি করে দেশের বিভিন্ন জেলায় সেসব সরবরাহ করছে। মফস্বল পর্যায়ের গ্রাহকরা এসব নকল খাদ্যসামগ্রী কিনে প্রতারিত হচ্ছেন, পড়ছেন মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে।
চিকিৎসকদের মতে, এসব ভেজাল পণ্য পাকস্থলি ও ফুসফুসে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। তবে স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি জেনেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোনো তৎপরতা লক্ষ করা যাচ্ছে না।
ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার জিনজিরা, মান্দাইল, আমিরাবাগ, বোরহানিবাগ, শুভঢ্যা, আগানগর, কালীগঞ্জ ও কাজিরগাঁও এলাকায় রমজান মাসে সৃষ্ট চাহিদার কথা মাথায় রেখে নকল ও ভেজাল অরেঞ্জ ও ম্যাংগো ড্রিঙ্কস পাউডার (ট্যাং) এবং বিভিন্ন নামীদামী কোম্পানির মোড়ক নকল করে কিটক্যাট, মিমিসহ বিভিন্ন ধরনের চকলেট তৈরি ও বিক্রি চলছে দেদারসে।
বিগত সময়ে র্যাবের পক্ষ থেকে বারবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করায় এই সমস্ত ভেজাল খাদ্য উৎপাদন কারখানা প্রায় একেবারেই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবে গত ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর র্যাবের পক্ষ থেকে ভেজালবিরোধী তৎপরতা একেবারেই নেই। এই সুযোগে আসাধু ব্যবসায়ীরা আবার জেগে উঠেছে নতুন রূপে।
সরজমিনে উপজেলার গদাবাগ, মুক্তির বাগ, আমিরাবাগ, নেকরোজ বাগ, খোলামোড়া, জিয়ানগর ও তেঘরিয়া, শুভঢ্যা, আগানগর কালীগঞ্জ, কাজিরগাঁও ও আব্দুল্লাহপুর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ভেজাল ও নকল শিশুখাদ্য তৈরি করে অতি চতুরতার সঙ্গে সেসব বাজারজাতকরণের প্রক্রিয়া চলছে।
মুক্তিরবাগ এলাকায় একটি কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, বেশ কয়েকজন নারী শ্রমিক হাত দিয়েই বোতলে ভরছেন ভেজাল জুস। এই কাজে হাতে গ্লাভস পরার প্রয়োজনীয়তাও মনে আসেনি তাদের। মাথায় চুলের জাল (হেয়ারনেট) না পরেই অরেঞ্জ ড্রিংকস বোতলজাত করছেন তারা। আবার অরেঞ্জ ড্রিংকস পাউডার মোড়কজাত করার সময় বাতাসে তা যাতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে না যায়, সেজন্য ফ্যান বন্ধ করে কাজ করছেন শ্রমিকরা। এতে করে তারা ঘেমে একেবারে কর্দমাক্ত হয়ে যাচ্ছেন।।
সেখানে কথা হয় কারখানাটির ম্যানেজার শাকিল আহমেদের সঙ্গে। তিনি জানান, তাদের বিএসটিআই ও পরিবেশ ছাড়পত্র আছে। তবে দেখতে চাইলে সেগুলো দেখাতে পারেননি তিনি।
ল্যাব আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি অকপটে ল্যাব না থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আমাদের কাছে রেসিপি আছে। সেই অনুযায়ী আমরা ড্রিংকস পাউডার প্রস্তুত করে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠাই। পরে আমাদের বিক্রয়-প্রতিনিধি পণ্যগুলো বিভিন্ন দোকানে দোকানে বিক্রি করেন।’
এ সমস্ত ভেজাল ও কৃত্রিম রং মিশ্রিত অরেঞ্জ ড্রিংকস স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের আবহাওয়া খুবই ভালো। এখানে সবকিছুই হজম হয়ে যায়। কয়েক বছর যাবত তো এই প্রোডাক্ট মার্কেটে বিক্রি করছি; কোথাও থেকে কখনও কোনো দুঃসংবাদ এখনও পাইনি।’
তবে এসব ভেজাল খাদ্যসামগ্রী স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর বলে জানিয়েছেন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রোজিনা আমিন।
আরও পড়ুন: দুর্নীতি-অব্যবস্থাপনায় মুখ থুবড়ে পড়েছে নরসিংদীর বিসিক শিল্পনগরী
তিনি বলেন, ‘কৃত্রিম রং মিশ্রিত ভেজাল ড্রিংকস স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এসব ড্রিংকস সবচাইতে বেশি লিভার ও কিডনিকে আক্রান্ত করে এবং শরীরে ইনসুলিনের পরিমাণ কমিয়ে দেয়।’
এই চিকিৎসকের মতে, ‘ছোট শিশুদের জন্য এগুলো আরও বেশি ভয়াবহ, কারণ এতে চিনির পরিমাণ অনেক বেশি থাকে।’
৪৫৫ দিন আগে
সুনামগঞ্জের ৩ উপজেলার ১০ জলমহালের মাছ লুট, নির্বিকার প্রশাসন
প্রশাসনের নির্লিপ্ততায় সুনামগঞ্জের শাল্লা, দিরাই, জামালগঞ্জ উপজেলায় ঘোষণা দিয়ে ইজারাকৃত বৈধ জলমহালের মাছ লুটের ঘটনা ঘটেছে। এক সপ্তাহের মধ্যে লুটে নেওয়া হয়েছে তিন উপজেলার অন্তত ১০টি জলমহালের মাছ। মাইকিং করে জলমহালের আশপাশের কয়েক ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের হাজার হাজার উচ্ছৃঙ্খল জনতা জলমহালগুলোর কোটি কোটি টাকার মাছ লুটে নেয়।
সর্বশেষ বুধবার(৫ মার্চ) দিরাই উপজেলার মেধা বিল ও বেতরগাং জলমহাল এবং জামালগঞ্জ উপজেলার আইলা বিল লুট করেছে উচ্ছৃঙ্খল জনতা। পূর্ব ঘোষণা দিয়ে লুট চালালেও হাজার হাজার উচ্ছৃঙ্খল জনতার সামনে যেন অসহায় প্রশাসন।
আরও পড়ুন: মাগুরায় দুদলের সংঘর্ষে আহত ২০, ভাঙচুর ও লুটপাট
এদিকে, জলমহালের কোটি কোটি টাকার মাছ হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন ইজারাদাররা। সংশ্লিষ্টদের সহায়তায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।
জানা যায়, বুধবার দিরাই উপজেলার মেধা ও বেতর বিলে জাল, পলো, কুচাসহ বিভিন্ন মাছ ধরার যন্ত্র হাতে হাজারো মানুষ উপস্থিত হয়। মিছিল দিয়ে তারা পানিতে নেমে লুটে নেয় মাছরাঙ্গা মৎস্যজীবী সমিতির নামের ইজারাকৃত বিলের কোটি টাকার মাছ। একই কায়দায় জামালগঞ্জ উপজেলার আইলা বিলেও পূর্ব ঘোষণা দিয়ে মাছ লুটে নেওয়া হয়।
স্থানীয় লোকজন ও বিলের ইজারাদার জানান, আগের রাতেই মাইক ও মুঠোফোনের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয় বিল লুটের খবর। ভোর থেকে বিলের পাড়ের জড়ো হন হাজার হাজার মানুষ। মাছ শিকারের সরঞ্জামের পাশাপাশি সঙ্গে দেশীয় অস্ত্রও নিয়ে আসেন উচ্ছৃঙ্খল জনতা। দিরাই-শাল্লা উপজেলার শ্যামারচর, ললোয়াারচর, মাইতি, চন্দ্রপুর, ইসলামপুর, সন্তোষপুর, কার্তিকপুর, নোয়াগাঁও, চিকাডুপি, বল্লবপুর, উজানগাঁও, সোনাকানি, নিজগাঁও, মির্জাপুর, রাহুতলা, শরিফপুর, কাশীপুরসহ আশপাশের গ্রামের উচ্ছৃঙ্খল লোকজন দিরাই-শাল্লার কামান ও লাইরা দীঘা, সতোয়া নদী, মেদা বিল ও বেতরগাং জলমহালের মাছ লুটে জড়িত বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে বিল লুটের খবর পেয়ে গ্রামে গ্রামে গিয়ে লুট না করার জন্য আকুতি জানান ইজাোদার। তাতেও কাজ না হলে পুলিশ সঙ্গে নিয়ে ভোরে বিলে উপস্থিত হয়েও রক্ষা করতে পারেননি নিজেদের জলমহাল। হাজার হাজার উচ্ছৃঙ্খল জনতার সামনে অসহায় ছিল পুলিশ ও ইজারাদার। লুটে নেওয়া হয় কোটি টাকার মাছ। জলমহাল লুটের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি ক্ষতিগ্রস্তদের।
আরও পড়ুন: লুটপাটে কাজে আসছে না ‘মুহুরী সেচ উন্নয়ন প্রকল্প’
মাছরাঙ্গা সমবায় সমিতির সভাপতি রুশন মিয়া বলেন, মাইকে ঘোষণা দিয়ে হাজার হাজার উচ্ছৃঙ্খল মানুষ এসে আমাদের সমিতির জলমহাল লুটে নিয়ে গেছে। আমরা বাঁধা দিয়েও পারিনি। আমাদের কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমরা কিভাবে এই ক্ষতি পুষিয়ে নেবো এটা আমাদের জানা নেই।
এদিকে, গত রবিবার সকালে দিরাই উপজেলার মেঘনা জলমহালের একটি বিল ও একই উপজেলার আতনি বিলের (শাল্লা উপজেলার জয়পুর গ্রামের সামনে) মাছ লুটে নেয় হাজারো মানুষ। এরপর সোমবার দিরাই উপজেলার কাশীপুর লাইরা দীঘা গ্রুপ ফিশারির এলংজুরি ও আলীপুর গ্রামের পেছনের লাইরা-দীঘা ও চনপইট্টা বিলের পাইলের (অভয়ারণ্য সৃষ্টি করে মাছ বড় করা) প্রায় কোটি টাকার মাছ লুটে নেয় বিল এলাকার ৮-১০ হাজার উচ্ছৃঙ্খল জনতা।
মঙ্গলবার শাল্লা উপজেলার আটগাঁও গ্রামের কাছের কাশীপুর লাইরা দীঘা গ্রুপ ফিশারির সতোয়া নদীর মাছ লুট করে দিরাই ও শাল্লার ১০-১৫টি গ্রামের উচ্ছৃঙ্খল মানুষ।
কাশীপুর লাইরা দীঘা গ্রুপ জলমহালের ইজারাদার উত্তর জারুলিয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক প্রজেশ দাস বলেন, এমন পরিস্থিতি জীবনেও দেখিনি। প্রতি বছর ৪৫ লাখ টাকা রাজস্ব দেই। তিন বছর অন্তর অন্তর মাছ ধরা হয়। আগামী বছর মাছ ধরার কথা থাকলেও ১০-১৫ হাজার উচ্ছৃঙ্খল মানুষ দুই দিনে আমাদের জলমহালের কোটি টাকার বেশি মাছ লুটে নিয়ে গেছে। পুলিশকে জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। বিষয়টি জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে জানিয়েন বলে জানান তিনি।
জলমহাল লুটের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস জানিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জাকির হোসেন বলেন, দিরাই-শাল্লার জলমহাল লুটের বিষয়টি আমরা অবগত। ইজারাদারদের সঙ্গে কথা বলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
জেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, দিরাই, শাল্লা, মধ্যনগর, জামালগঞ্জে জলমহাল লুট করার সঙ্গে ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষ জড়িত। তাজাড়া পলো, টেঁটা, কুচ দিয়ে সংঘব্ধভাবে মাছ ধরতে আসে। এসব জলমহাল সরকারি ইজারার আওতায়। এই জলমহালগুলো লুটের কারণে আগামীতে ইজারা প্রদানে প্রতিবন্ধকতা দেখা দেবে। এর ফলে দেশ গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে। এতে দেশের উন্নয়নমূলক কাজ বিঘ্নিত হবে। যারা এই কাজের সঙ্গে জড়িত তারা নিজেদের বিরুদ্ধে কাজ করছেন। আমি অনুরোধ করব, তারা যেনো এসব কাজ থেকে বিরত থাকেন।
ক্ষতিগ্রস্ত ইজারাদাররা যদি আইনি পদক্ষেপ নিলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীকে অনুরোধ করবেন বলে জানান জেলা প্রশাসক।
আরও পড়ুন: বনশ্রীতে ব্যবসায়ীকে গুলি করে ‘স্বর্ণালংকার লুট’
৪৫৫ দিন আগে
দুর্নীতি-অব্যবস্থাপনায় মুখ থুবড়ে পড়েছে নরসিংদীর বিসিক শিল্পনগরী
নানা অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে নরসিংদীর বিসিক শিল্পনগরীতে গড়ে উঠছে না শিল্পপ্রতিষ্ঠান। জেলার পুরাতন বিসিক শিল্পনগরীতে প্রায় ৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে সম্প্রসারণ করা দেড় শতাধিক প্লট কার্যত হেলায় ফেলে রাখা হয়েছে।
অনুকূল পরিবেশ নেই—এমন অজুহাতে সেখানে ব্যবসা করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। এমন ভঙ্গুরাবস্থার কারণ হিসেবে বিগত সরকারের লুটপাট আর স্বজনপ্রীতিকে দায়ী করছেন তাদের অনেকে।
জানা যায়, শিল্প সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ১৯৮৬ সালে নরসিংদীর শিবপুরে ১৫ দশমিক ৩৯ একর জমি নিয়ে গড়ে তোলা হয় বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) শিল্পনগরী। প্রতিষ্ঠার দীর্ঘকাল পর নানা সমস্যায় জর্জরিত এই শিল্পনগরীটির উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: ভিসা প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি বন্ধে পদক্ষেপ ইতালি দূতাবাসের
সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২০১৫ সালে উপজেলার সৈয়দনগরে ৮৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩০ একর জমি অধিগ্রহণ করে শিল্পনগরীটির সম্প্রসারণের কাজ শুরু করে সরকার। ২০২২ সালের জুন মাসে এই কাজ শুরু হয়ে ২০২৩ সালের অক্টোবরে শেষ হয়। তবে এখন পর্যন্ত বর্ধিত অংশে গড়ে উঠেনি তেমন কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান।
সরজমিনে গিয়ে শিল্পনগরীতে কেবল দুটি শেড আর একটি ব্যক্তিগত বসতবাড়ি চোখে পড়ে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, গ্যাস ও বিদ্যুৎসহ পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হলেও প্রকৃত শিল্প-উদ্যোক্তা কিংবা ব্যবসায়ীদের প্লট দেওয়া হয়নি। বিগত সরকারের শিল্পমন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতাদের সুপারিশে মদদপুষ্টদের প্লট বরাদ্দ দেওয়ায় বঞ্চিত হয়েছেন প্রকৃত ব্যবসায়ীরা। ফলে নামেমাত্র প্লটগুলোর দখল নিলেও শিল্পনগরীতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের দেখা মেলে না।
ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, শিল্পের প্রসারের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও যথাযথভাবে প্লট বরাদ্দ না দেওয়া ও সরকারের ভুল নীতির কারণে মুখ থুবড়ে পড়েছে এই প্রকল্প। পুনরায় যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের হাতে প্লট হস্তান্তরসহ আরও বিশাল অঞ্চল নিয়ে বিসিক সম্প্রসারণের দাবি করেছেন তারা।
বিসিকের এই প্রকল্পের সম্প্রসারিত অঞ্চলের দেড় শতাধিক প্লটের বরাদ্ধ কারা পেলেন?—বিসিক কর্মকর্তার কাছ থেকে এর উত্তর মেলেনি ১৫ দিনেও। কোনো দিয়েও সহায়তা করেননি তিনি। তার দাবি, এ-সংক্রান্ত তালিকাও নাকি মন্ত্রণালয় থেকে নিতে হবে!
এদিকে, শিপন টেক্সটাইলের স্বত্ত্বাধিকারী সুবল সাহা জানান, নরসিংদী বিসিকে প্লট বরাদ্দ পেলেও নিরাপত্তার কারণে কাজ শুরু করতে পারছেন না তিনি।
আরও পড়ুন: দুর্নীতি মামলার আসামিকে দুদকে পদায়ন গ্রহণযোগ্য নয়: টিআইবি
নরসিংদীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ইতোমধ্যে প্লট পেয়েও যারা এখনও সেখানে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছেন না, তাদের নোটিশ করা হয়েছে। উপযুক্ত জবাব পাওয়া না গেলে যথাযথ আইনের মাধ্যমে প্লট বাতিলসহ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিসিক শিল্পনগরী চালু হলে মালিক—শ্রমিকরা লাভবান হবেন। পুরাতন বিসিকে ৯৫টি এবং সম্প্রসারিত অঞ্চলে ১৬৮টিসহ মোট ২৬৩টি প্লট যথাযথ ব্যবস্থাপনায় কাজে লাগলে নরসিংদীর ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের প্রসারের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে লাখো মানুষের।
তাই শিগগির এই বিষয়টি আমলে নিয়ে এই শিল্পনগরীর কার্যক্রম সচল করতে সরকারের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ নিক—এটাই স্থানীয় ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা।
৪৫৬ দিন আগে
২০৫০ সাল নাগাদ মুটিয়ে যেতে পারেন বিশ্বের অর্ধেকের বেশি মানুষ
আগামী ২৫ বছরের মধ্যে বিশ্বব্যাপী অর্ধেকের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক, এক-তৃতীয়াংশ শিশু ও তরুণ-তরুণী স্থূল বা মুটিয়ে যেতে পারেন বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে। যা অকাল মৃত্যু, রোগে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা বাড়িয়ে দেওয়াসহ স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য বিরাট হুমকি তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মেডিকেল জার্নাল ল্যানসেটে প্রকাশিত ওই গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখনই কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা না-হলে ২০৫০ সাল নাগাদ প্রায় ৬০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক ও ৩১ শতাংশ শিশু ও তরুণ-তরুণী মুটিয়ে যাওয়ার কারণে নানা সমস্যায় আক্রান্ত হবেন।-খবর গার্ডিয়ানের
গত তিন দশকে বিশ্বব্যাপী স্থূলতাজনিত সংকট মোকাবিলায় ব্যর্থতার কারণে আক্রান্তের সংখ্যা ব্যাপক হারে বেড়েছে বলে বিশ্লেষণে বলা হয়েছে।
বর্তমানে ২৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ২১১ কোটি এবং ৫-২৪ বছর বয়সী ৪৯ কোটি ৩০ লাখ শিশু ও তরুণ-তরুণী ওজন বেশি বা স্থূলতায় ভুগছেন। এই সংখ্যা ১৯৯০ সালে ছিল যথাক্রমে ৭৩ কোটি এক লাখ ও ১৯ কোটি ৮০ লাখ।
আরও পড়ুন: ক্রুড অয়েলে পারদের উপস্থিতি খুঁজে পেয়েছে ঢাবির গবেষক দল
ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও এই গবেষণার প্রধান লেখক এমানুয়েলা গাকিদু বলেন, বিশ্বে স্থূলতা যেভাবে মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়েছে, তা অবশ্যই অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি একে সমাজের ব্যর্থতা বলে অভিহিত করেন।
গবেষণামতে কেবল উত্তর আফ্রিকা,মধ্যপ্রাচ্য ও লাতিন আমেরিকাতেই ২০৫০ সাল নাগাদ এক তৃতীরয়াংশ শিশু ও তরুণ-তরুণী (প্রায় ১৩০ বিলিয়ন) স্থূলতায় ভুগবেন। যা দেশগুলোর সমাজ, অর্থনীতি ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্বজুড়ে শিশুরা আগের প্রজন্মের তুলনায় দ্রুত হারে ওজন বৃদ্ধি করছে এবং স্থূলতা অল্প বয়সেই দেখা দিচ্ছে বলে জানান গবেষকরা। তারা বলেন, এতে তরুণ বয়সেই টাইপ ২ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়বে বলে সতর্ক করেছেন তারা।
উদাহরণস্বরূপ, উচ্চ-আয়ের দেশগুলিতে ১৯৬০-এর দশকে জন্মানো পুরুষদের মধ্যে যেখানে মাত্র ৭ শতাংশ ২৫ বছর বয়সে স্থূলতায় আক্রান্ত ছিলেন, সেখানে ১৯৯০-এর দশকে জন্মানোদের মধ্যে এই হার বেড়ে দাঁড়ায় ১৬ শতাংশ। ২০১৫ সালে জন্মানো পুরুষদের মধ্যে এটি ২৫ শতাংশে পৌঁছাবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন গবেষকরা।
স্থানীয় সময় সোমবার (৩ মার্চ) ওয়ার্ল্ড ওবেসিটি ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত আরেকটি গবেষণায় দরিদ্র দেশগুলোকে স্থূলতার প্রভাব নিয়ে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ৫ শতাধিক গবেষকের অংশগ্রহণে বাকৃবিতে বৈজ্ঞানিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত
গবেষকরা বলেন, উচ্চ বিএমআইয়ের (স্থূলতা) কারণে নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতে অধিক সংখ্যক অকাল মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ওই দেশগুলোতে উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থার অভাব থাকার কারণেই এমনটা ঘটেছে বলে মত দেন তারা।
ওয়ার্ল্ড ওবেসিটি ফোরামের প্রধান নির্বাহী জোহানা রালস্টন বলেন, ‘স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও সমাজের ওপর স্থূলতার ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।’ সীমিত সম্পদের দেশগুলোর জন্য এই প্রভাব মোকাবিলা করা আরও চ্যালেঞ্জিং হবে বলে অভিমত দেন তিনি।
৪৫৭ দিন আগে
স্ট্রবেরি চাষে ভাগ্য খুলেছেন ‘চাকরির বাজারে ব্যর্থ’ জাহিদ
ছয় বছর আগে স্নাতক পাস করেন লালমনিরহাটের জাহিদ হোসেন বসুনিয়া। তারপর চাকরি নামের সোনার হরিণের পেছনে ছোটাছুটি করেন কয়েক বছর। তবে দীর্ঘ চেষ্টাতেও কোনো কিনারা করতে না পেরে নিজেই কিছু শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন এই যুবক। এরপর শুরু করেন স্ট্রবেরি চাষ, আর তাতেই মেলে সাফল্যের দেখা। অল্পদিনের মধ্যেই বেকারত্বের অবসান ঘটিয়ে এলাকায় সাড়া ফেলে দেন জাহিদ বসুনিয়া।
লালমনিরহাট জেলার মহেন্দ্র নগর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মনোরম গ্রামের বাসিন্দা জাহিদ। ইতিহাসে স্নাতক পাস করে চাকরি খোঁজার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে ২০১৯ সালে পুরোপুরিভাবে বিভিন্ন ধরনের ফল চাষ শুরু করেন তিনি। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রথমবারের মতো স্ট্রবেরি চাষ শুরু করেন। প্রথম মৌসুমেই তিন বিঘা জমিতে ১৮ হাজার স্ট্রবেরির চারা রোপন করেন তিনি।
জাহিদ জানান, ২০২৩ সালে বগুড়া জেলা সদর থেকে টিস্যু কালচারের স্ট্রবেরি চারা নিয়ে এসে ডিসেম্বর মাসে জমিতে সেগুলো রোপণ করেন তিনি। সব মিলিয়ে বর্তমানে তার জমিতে প্রায় ১০ হাজার গাছ রয়েছে। প্রতি বছর মার্চ মাসের প্রথম দিকে এর ফল সংগ্রহ শুরু হয়। এরইমধ্যে এই গাছগুলো থেকে গত দুদিনে ৭০ কেজির মতো স্ট্রবেরি বিক্রি করেছেন তিনি। প্রতি কেজি স্ট্রবেরি পাইকারিতে ৫০০ থেকে সাড়ে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি করেন।
জাহিদের ভাষ্যে, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও লালমানিরহাট জেলা সদর এলাকার লোকজন তার স্ট্রবেরি কিনে নিচ্ছেন। সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে এগুলো চাষ করেছেন তিনি। তাই তার স্ট্রবেরি নিয়ে ক্রেতাদের মাঝে আগ্রহও অনেক বেশি।
তিনি বলেন, ‘আগামী এক মাস গাছগুলো থেকে নিয়মিত ফল পাওয়া যাবে। এরপর যদি গাছের বাড়তি যত্ন এবং উপরে শেড তৈরি করে দেওয়া হয়, তাহলে আরও ২ মাস পর্যন্ত ফল তোলা সম্ভব।’
আরও পড়ুন: খাদ্য গুদামে আমন ধান দিচ্ছেন না বাগেরহাটের চাষিরা
বিক্রয় পদ্ধতি
স্ট্রবেরি চাষের পর তা বিক্রির লক্ষ্যে আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করে দেন বলে জানান জাহিদ।
শুরুতে তিনি খেতের স্বাস্থ্যবান স্ট্রবেরির কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোড করেন। অনলাইন প্লাটফর্মে এভাবে প্রচারের ফলে স্থানীয়দের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হন বলে জানান তিনি। বলেন, ‘ফেসবুকে আমার জমির স্ট্রবেরিগুলোর সুন্দর সুন্দর ছবি দেখেই অনেকে এগুলো কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেন। কেউ কেউ যোগাযোগও করেন। আর এভাবেই ফল তোলার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো বিক্রির ব্যবস্থা হয়ে যায়।’
তবে বর্তমান অবস্থার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে চান না এই উদ্যোক্তা। তার আশা লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতা পেলে আরও বড় পরিসরে স্ট্রবেরি চাষ করতে পারবেন তিনি।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহ আলম মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জাহিদ বসুনিয়া একজন সফল কৃষক। চাকরি না পেয়ে নিজে স্বাবলম্বী হতে তার সামান্য জমিতে স্ট্রবেরি চাষ শুরু করেন। এতেই সাফল্য পেয়ে যান তিনি। তার এই সাফল্য দেখে অনেক বেকার যুবক এই স্ট্রবেরি চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।’
আরও পড়ুন: রপ্তানিতে আশা জেগেছে বাগেরহাটের চাষিদের, টমেটো যাচ্ছে মালয়েশিয়ায়
শুধু জাহিদ নয়, জেলার অন্য স্ট্রবেরি চাষীদেরও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে এই ফল চাষে সফলতা পেতে কৃষি অধিদপ্তর থেকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন এই কর্মকর্তা।
৪৫৭ দিন আগে
গোয়েন্দা নজরদারিতে সাবেক সরকারের ডিসি-এসপি-পদস্থরা
গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছেন সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের তিনটি আমলে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। বর্তমানে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) থাকা কর্মকর্তারাও নিশ্চিন্ত থাকতে পারছেন না, কারণ বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর আতঙ্ক তাদের তাড়া করছে।
বিশেষ করে, ওই সময়ে ডিসি (জেলা প্রশাসক), এসপি (পুলিশ সুপার) এবং সচিব পদে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তারা এখন গোয়েন্দা নজরদারির আওতায় রয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল আসছে। যার ফলে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে পদোন্নতি ও বদলি নিয়ে অস্থিরতাও তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে বিএনপিপন্থী কর্মকর্তারা গত ১৭ বছর পদোন্নতি না পেয়েও বঞ্চিতই থেকে যাচ্ছেন। সব মিলিয়ে প্রশাসনে পদোন্নতি ও বদলি নিয়ে নতুন করে অস্থিরতায় নতুন মাত্রা পেয়েছে।
প্রশাসনে আতঙ্ক ও বদলির হিড়িক
বাংলাদেশ সচিবালয়ের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে কর্মরত বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ইউএনবিকে জানিয়েছেন, সাবেক ডিসি, এসপি এবং সচিবদের ওএসডি করা ও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্তের কারণে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
বিশেষত, যারা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, মন্ত্রীদের পিএস (ব্যক্তিগত সচিব) এবং বিভাগীয় কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের মধ্যে উদ্বেগ তুলনামূলক বেড়েছে।
আরও পড়ুন: ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ নেতা সাকু গ্রেপ্তার
যেসব কর্মকর্তারা নজরদারিতে
গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখার ক্ষেত্রে বিগত আওয়ামী লীগের সময় অনুষ্ঠিত ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা ডিসিরা রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নিচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
এরই মধ্যে—৬৫ জন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর পাঠানো হয়েছে অথবা ওএসডি করা হয়েছে। তথ্যমতে, চাকরির ২৫ বছর পূর্ণ হওয়া ২২ জন সাবেক ডিসিকে (বর্তমানে সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব, উপসচিব) বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। আর ৩৩ জন সাবেক ডিসিকে ওএসডি করা হয়েছে। এর আগে আরও ১২ জন সাবেক ডিসিকে ওএসডি করা হয়েছিল। কয়েকজন সচিবকেও ওএসডি ও অবসরে পাঠানো হয়েছে।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগকে সহায়তাকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত
সরকারি সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যেসব কর্মকর্তা দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ গড়েছেন—তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি, অবসরে যাওয়া কর্মকর্তারাও নজরদারির বাইরে থাকছেন না।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সরকারের উপদেষ্টা কমিটি আরও অনেক কর্মকর্তার তালিকা তৈরি করেছে। যারা গত ১৭ বছরে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোতে কাজ করেছেন তারা এই তালিকাভুক্ত বলে জানা যায়। এমনকি গত তিন মেয়াদে আওয়ামী সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যদের পিএস হিসেবে কাজ করেছেন—এমন অনেককে এরই মধ্যে ওএসডি করা হয়েছে। শিগগিরই তাদের ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার।
সরকারের এমন পদক্ষেপের পরও এখনো প্রশাসনে কাঙ্ক্ষিত গতিশীলতা ফেরেনি। সমন্বয়হীনতার কারণে সচিব, পিএসসির সদস্য, ডিসি পদে নিয়োগ দিয়েও তা বাতিল করতে হচ্ছে। বদলি ও পদোন্নতি প্রক্রিয়া ঠিকমতো পরিচালনা করতে অর্থ উপদেষ্টার নেতৃত্বে একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়েছে।
পদোন্নতি বঞ্চিত কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা
বিএনপি আমলে বঞ্চিত হয়ে অবসরে যাওয়া কর্মকর্তাদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানকে প্রধান করে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
৭৬৪ জন কর্মকর্তাকে ভূতাপেক্ষ (ব্যাকডেটেড) পদোন্নতি ও আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সচিব পদে ১১৯ জন, অতিরিক্ত সচিব পদে ৫২৮ জন, গ্রেড-১ পদে ৪১ জন, যুগ্ম সচিব পদে ৭২ জন এবং উপসচিব পদে ৪ জনকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
ডিসি পদে বড় পরিবর্তন আসছে
সূত্রে জানা যায়, জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদেও পরিবর্তন আসতে চলেছে। বিসিএস ২৪তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে নতুন ডিসি নিয়োগ দেওয়া হবে। বিতর্কিত কর্মকর্তাদের সরিয়ে দিয়ে নতুনদের ফিটলিস্ট তৈরি করা হচ্ছে।
প্রশাসনে বড় ধরনের পরিবর্তন
প্রশাসনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। যেসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব পদ খালি— তা প্রশাসনের নিয়মিত কর্মকর্তাদের দিয়ে তা পূরণ করা হবে। আগের সরকারের আমলে গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের পর্যায়ক্রমে ওএসডি ও গুরুত্বহীন দপ্তরে পাঠানো হবে।
আরও পড়ুন: চাঁদপুরে হত্যা মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার
সরকার যা বলছে
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোখলেস উর রহমান ইউএনবিকে জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনে যেসব ডিসি রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন—তাদের বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তদন্ত করছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে আমরা গোয়েন্দা সংস্থাকে পুরো তালিকা দিয়েছি। ওখান থেকে প্রতিবেদন পাওয়ার পর আমাদের যে ব্যবস্থা-যাদের চাকরির বয়স ২৫ বছরের কম, তারা ওএসডি হবেন। যাদের চাকরির বয়স ২৫ বছরের বেশি, তারা বাধ্যতামূলক অবসরে যাবেন।
তিনি আরও বলেন, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী ডিসিদের মধ্য থেকে যেসব ডিসি ওএসডি হয়েছেন এবং বাধ্যতামুলক অবসরে গিয়েছেন তাদের মধ্যে যাদের বিরুদ্ধে আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে—তাদের বিরুদ্ধে মামলা হবে। বাকিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে না।
তিনি আরও বলেন, ‘অবসরে যাওয়ার পরেও দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে ছাড় নেই। দুদকে (দুর্নীতি দমন কমিশন) মামলা দেওয়া হবে।’
সচিব জানান, সরকার কারও বিরুদ্ধেই অবিচার এবং পক্ষপাতমূলক আচরণ করবে না। আওয়ামী লীগের সময়ে নির্বাচনে দায়িত্বে যেসকল কর্মকর্তা ছিলেন— তারা দোষী প্রমাণিত হলে উপদেষ্টা পরিষদের কমিটিতে যাওয়ার পর তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবে সরকার। অপরাধ অনুযায়ী ওএসডি এবং বাধ্যতামুলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হবে। তবে সরকার এ ব্যাপারে কারো সঙ্গে অবিচার করবে না।
প্রশাসনে এমন অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে বদলির পরবর্তী ধাপে আরও বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
৪৫৭ দিন আগে
মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে বিকল ডায়ালাইসিস যন্ত্র, ভোগান্তিতে কিডনি রোগীরা
মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের পাঁচটি ডায়ালাইসিস যন্ত্রের চারটি গত পাঁচ মাস ধরে বিকল থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন কিডনি রোগীরা। বাধ্য হয়ে বেসরকারি হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিকে বাড়তি টাকা দিয়ে ডায়ালাইসিস করাচ্ছেন তারা।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে ডায়ালাইসিস ইউনিটে কিডনি রোগীদের সেবা দেওয়া শুরু হয়। প্রথমদিকে লোকবল সংকটের কারণে ডায়ালাইসিস দেওয়া যেত না। এভাবে বছরখানেক পার হয়ে যায়। ২০২২ সালে ডায়ালাইসিসের লোকবল বাড়ানো হলে ৫টি যন্ত্র দিয়ে কাজ শুরু হয়।
২০২৩ সালের দিকে দু-একটি যন্ত্র নষ্ট হতে শুরু করে। বাকী যন্ত্র গুলো দিয়ে কোনোমতে কাজ চালানো হয়। এরই মধ্যে টানা এক বছর নষ্ট ছিল দুইটি যন্ত্র। পরে সেগুলোকে মেরামত করা হয়। কিন্তু গত পাঁচ মাসে একে একে চারটি যন্ত্র নষ্ট হয়ে যায়। এরপর থেকে কিডনি ডায়ালাইসিস রোগীরা পড়েছেন বিপাকে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন বলেন, গত ২০২৪ সালের ১৫ জানুয়ারি ডায়ালাইসিস যন্ত্রগুলো মেরামতের জন্য তিনি ন্যাশনাল ইলেকট্রো-মেডিকেল ইকুইপমেন্ট মেইনটেন্যান্স ওয়ার্কশপ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (নিমিউ অ্যান্ড টিসি) কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি নিমিউয়ের একটি কারিগরি দলের সদস্যরা যন্ত্রগুলো দেখে গেছেন।
আরও পড়ুন: ফেনীতে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ
গত ২ ফেব্রুয়ারি অপর এক পত্রের মাধ্যমে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) পরিচালককে ডায়ালাইসিস যন্ত্রগুলো মেরামতের জন্য জানায়। ওই পত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০২০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ডায়ালাইসিস যন্ত্রগুলো সরবরাহ করা হয়। ডায়ালাইসিস যন্ত্রগুলো সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান একাধিকবার মেরামত করেছিল। কিন্তু মেরামতের কিছুদিন পর আবার নষ্ট হয়ে যায়। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি নিমিউ থেকে জরিপ প্রতিবেদন (সার্ভে রিপোর্ট) দাখিল করা হয়। ওই প্রতিবেদনে ওয়ারেন্টির মেয়াদকাল নেই, সার্ভিস ও অপারেশন ম্যানুয়াল নেই এবং চুক্তিনামা না থাকায় পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া যাচ্ছে না।
জেলা জেনারেল হাসপাতালের ডায়ালাইসিস ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র স্টাফ নার্স মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ডায়ালাইসিস যন্ত্রগুলোর ভিন্ন ভিন্ন সমস্যা দেখা দিয়েছে। কোনোটির পাওয়ার সাপ্লাইয়ে আবার কোনোটির মাদারবোর্ড সমস্যা দেখা দিয়েছে। প্রতি সপ্তাহে কোনো কোনো রোগীকে এক বা দুইবার ডায়ালাইসিস করতে হয়। বর্তমানে একটি ডায়ালাইসিস যন্ত্রের মাধ্যমে সপ্তাহে চারজন রোগীকে ডায়ালাইসিস করার সুযোগ পাচ্ছেন। এর পাশাপাশি প্রায় ৪০ জন রোগী সিরিয়ালে রয়েছেন। তবে যন্ত্রগুলো নষ্ট হওয়ায় তাদের ডায়ালাইসিস করানো যাচ্ছে না। প্রত্যেক রোগী প্রতিবার ৪০০ টাকায় ডায়ালাইসিস সেবা নিতে পারেন। বাইরে থেকে ডায়ালাইসিস করতে রোগীকে কয়েক গুণ বাড়তি টাকা খরচ হয়।
জয়রা গ্রামের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শাহাদত হোসেন নামে এক কিডনি রোগী জানান, ‘ প্রতি সপ্তাহে আমাকে ডায়ালাইসিস করাতে হয়। ৪০০ টাকা খরচে হাসপাতাল থেকে করছিলাম। এখন যন্ত্র নষ্ট থাকায় প্রাইভেট একটি হাসপাতালে প্রতিদিন ১ হাজার ২০০ টাকায় ডায়ালাইসিস করতে হচ্ছে। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।’
আরও বেশ কয়েকজন কিডনি রোগীর সঙ্গে কথা হলে তারা প্রত্যেকেই বলেন, গরীব অসহায় রোগীরা বাড়তি টাকা খরচে অসহায় হয়ে পড়েছেন।
আরও পড়ুন: চরম সংকটে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা
মানিকগঞ্জ জেলা ড্যাবের সভাপতি ও জেনারেল হাসপাতালটির সহকারী পরিচালক বদরুল আলম চৌধুরী বলেন, কিডনি রোগীদের জরুরি চিকিৎসার মাধ্যমই হচ্ছে কিডনি ডায়ালাইসিস করা। এ হাসপাতালে গুরুত্বপূর্ণ চারটি ডায়ালাইসিস যন্ত্র বিকল হওয়ায় কিডনি রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া যাচ্ছে না। যন্ত্রগুলো সচল না হওয়ায় রোগীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ডায়ালাইসিস যন্ত্রগুলো মেরামত বা নতুনভাবে স্থাপনে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
৪৫৮ দিন আগে
জাবিতে মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ শিক্ষার্থীরা, বেড়েছে ডেঙ্গু আক্রান্তের ঝুঁকি: কী ভাবছে প্রশাসন?
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন শিক্ষার্থীরা। বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেই আবাসিক হলগুলোতে চরম মাত্রায় বাড়তে শুরু করে মশার উৎপাত। দরজা-জানালা বন্ধ করলেও নিস্তার নেই। মশার কয়েল বা অ্যারোসল যেন কোনো কাজেই আসছে না। দিনের বেলাতেও টানাতে হয় মশারি। তবুও মশার উপদ্রব থেকে রেহাই পাচ্ছেন না শিক্ষার্থীরা।
এর ফলে ব্যাঘাত ঘটছে শিক্ষার্থীদের নির্ঝঞ্জাট ঘুমে; বেড়েছে ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ায় সম্ভাবনা। অন্যদিকে ক্লাস, পরীক্ষায় অংশ নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে শিক্ষার্থীদের জন্য।
বাংলাদেশের স্বায়ত্তশাসিত চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অন্যতম। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল উপাদান বিদ্যমান থাকলেও মশার উপদ্রবে জাবি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সার্বিক পরিস্থিতি বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাস সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, দিনের বেলায় মশার উৎপাত না থাকলেও রাতের বেলা শুধু আবাসিক হলগুলোতেই নয় বরং পুরো ক্যাম্পাসেই ছড়িয়ে পড়ে মশা। ফলে বেড়েছে মশাবাহিত রোগীর সংখ্যা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবাসিক হলগুলোর আশপাশের এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানের জলাশয়, পয়ঃনিষ্কাশননালী ও ময়লা-আবর্জনা গুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করায় মশার প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে।
আরও পড়ুন: মশার দেহে ডেঙ্গু ভাইরাসের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ বাকৃবি গবেষকের
মশা নিধনে বিভিন্ন আবাসিক হলে একাধিকবার স্প্রে করা হলেও মশা কমার পরিবর্তে মশার আক্রমণ বেড়ে গিয়েছে। ফলে, মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার আতঙ্কে রয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
তাদের অভিযোগ মশা নিধনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পদক্ষেপ গুলো যথেষ্ট নয়। হলগুলোর আশেপাশের জলাশয়গুলো কচুরিপানা ও ময়লা আবর্জনা জমে মশা তৈরির কারখানায় পরিণত হয়েছে। মশার এসব অভয়ারণ্য গুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সারাবছর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনা বলে জানান শিক্ষার্থীরা।
সরজমিন দেখা যায়, মশা নিয়ন্ত্রণে ঔষুধ নিয়ম মাফিক ছিটানো হয় না। ক্যাম্পাসের অধিকাংশ জায়গায় দূর্বল পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে জমে থাকে অপরিষ্কার পানি। লেকগলোর আশপাশ ভরে আছে ঝোঁপঝাড়ে।
এছাড়া যত্রতত্র জমে আছে ময়লা-আর্বজনার স্তূপ। ঝোঁপঝাড় পরিষ্কারের কোন বালাই নেই। ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্নতায়ও নেই কোন অভিযান। বাতাস উঠলে ধুলোবালিতে ছেয়ে যায় ক্যাম্পাস। নর্দমায় জমে থাকা অপরিষ্কার পানিতে মশা-মাছি ডিম পেড়ে বংশবৃদ্ধি হচ্ছে, কিন্তু এসব সমস্যা সমাধানে নেই কার্যকরী কোন পদক্ষেপ।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা কী বলছেন?
কামালউদ্দিন হলের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রেদোয়ান মিয়া বলেন, ‘আগে এতো মশা ছিলো না। এখন মশার জ্বালায় রুমে থাকা সম্ভব হচ্ছে না। রুমে কয়েল জ্বালালেও মশা কমছে না। পড়াশোনা তো হচ্ছেই না। কয়েকদিন পর পর জ্বরে ভুগতে হয়।‘
প্রীতিলতা হলের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী নাইমা রোজ বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগরে সবকিছুই সুন্দর, শুধু মশারা অসুন্দর। দিনের বেলা কম থাকে কিন্তু সন্ধ্যা হলেই মশার উৎপাত শুরু হয়ে যায়।’
ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘এখন আমার টিউটোরিয়াল পরীক্ষা চলছে। এতো মশা যে রুমে পড়াই যাচ্ছে না। মশারীর ভিতরে থেকে পড়ছি। না জানি কবে অসুস্থ হয়ে যাই।’
আরও পড়ুন: মশা নিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে: ডিএনসিসির সিইও
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে পড়তে আসা অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী হিমেল হাসান বলেন, ‘সামনে আমার পরীক্ষা। মশার উপদ্রবে হলে পড়া হয়না। তাই লাইব্রেরিতে আসছি, এখানেও মশা। তাই কয়েল নিয়ে আসছি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ কী?
শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক লুৎফুল এলাহী বলেন, ‘আমরা হলে সপ্তাহে দুইবার করে স্প্রে করতেছি। তবুও মশা কমছে না।’
এছাড়াও হলের দায়িত্বরত কিছু কর্মচারীদের নিয়ে আশেপাশের ঝোঁপঝাড় পরিচ্ছন্ন করার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান তিনি। কিন্তু সীমাবদ্ধতার কারণে মশা নিধনে এরবেশি আর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা আপাতত সম্ভব হচ্ছে না বলেও জানান এই অধ্যাপক।
মশা নিধনে প্রত্যেকটি হল এবং অফিস আলাদাভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ফারুক আহমেদ বলেন, ‘আমরাও আমাদের হলে নিয়মিত স্প্রে করছি। এছাড়া তো আপাতত কিছু করার নেই। হলের আশেপাশে ঝোঁপঝাড় আর নর্দমা থাকার কারণে মশার উপদ্রব টা একটু বেড়ে গিয়েছে।’
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের সদ্য সাবেক প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুল্লাহ হেল কাফি বলেন, ‘আমি এখন আর হল প্রাধ্যক্ষের দায়িত্বে নেই, তবে আমি মনে করি মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।’
এভাবে চলতে থাকলে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হওয়ার পাশাপাশি পড়াশোনারও ব্যাঘাত ঘটবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। সেজন্য নিয়মিত মশা নিধনের জন্য স্প্রে করতে,ঝোঁপঝাড় ও নর্দমা পরিষ্কার রাখতে পরামর্শ দেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে সেবা নিতে আসা অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সুমন মিয়া বলেন, ‘আমার ডিপার্টমেন্টের পরীক্ষা চলছে। হলে মশার উপদ্রবে থাকা যায়না। পড়াও হচ্ছে না। দুইদিন থেকে আমার জ্বর। তাই আজকে ডেঙ্গু টেস্ট করাতে আসছি। আমার মতো আরও অনেকেই এসেছে।’
আরও পড়ুন: মশা নিধনে ৫৩ বছরে বিশেষজ্ঞের মতামত নেওয়া হয়নি: উপদেষ্টা
৪৫৮ দিন আগে
ওভালকাণ্ড: পুতিনের পৌষমাস, জেলেনস্কির সর্বনাশ!
কারো পৌষমাস, কারো সর্বনাশ—বাংলা ভাষার অতি প্রচলিত এই প্রবাদটির অর্থ এই ভাষাভাষী মোটামুটি সবাই জানে, যার অর্থ— এক পক্ষ সমস্যায় পড়লে অন্য পক্ষের সুবিধা হওয়া। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কির অপদস্ত হওয়ার পর রাশিয়া ও ইউক্রেনের স্বার্থ ব্যাখ্যায় এই প্রবাদটিই হয়ে উঠেছে অতি প্রাসঙ্গিক।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে নজিরবিহীন বাগবিতণ্ডায় জড়ান ট্রাম্প ও জেলেনস্কি। ওই ঘটনার পর রুশ মিডিয়াগুলোকে নানাভাবে উল্লাস প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
অবশ্য দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা গ্রহণের পর ইউক্রেন নিয়ে নিজের যে অবস্থান গ্রহণের ইঙ্গিত দিয়ে আসছিলেন ট্রাম্প, তাতে এরকম কিছু যে ঘটতে চলেছে—তা অনেকটাই ছিল অনুমেয়।
জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের এই বিবাদ রাশিয়ার জন্য আর্শীবাদ হয়ে এসেছে। একদিকে, এতদিন ধরে যে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ধনে ও সামরিক সহায়তায় ইউক্রেন দেশটির আক্রমণ প্রতিহত করার পাশাপাশি পাল্টা হামলা করে আসছিল, ইউক্রেনের মাথা ওপর থেকে সহায়তার সেই হাত সরে গিয়েছে। অন্যদিকে, খনিজ চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা বাগিয়ে নিতে কিয়েভের যে আশার প্রদীপ নিভু নিভু করে হলেও জ্বলছিল, তাও নিভে গেছে দপ করে।
আরও পড়ুন: মুখোমুখি বসবেন ট্রাম্প-পুতিন, চলছে প্রস্তুতি
তাই রাশিয়া এবং দেশটির গণমাধ্যগুলো ট্রাম্পের প্রশংসায় হয়ে উঠেছে পঞ্চমুখ, ট্রাম্পের মাধ্যমে তারাই যেন এক হাত নিয়েছে জেলেনস্কিকে!
ট্রাম্প–জেলেনস্কির বাগবিতণ্ডার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ওই উন্মাদের (জেলেনস্কি) মুখের ওপর একদম সত্যি কথা বলেছেন যে, কিয়েভের শাসনকাঠামো তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা নিয়ে খেলছে।’
ট্রাম্পের প্রশংসা করে তিনি বলেছেন, ‘তিনি (ট্রাম্প) ঠিক কাজই করেছেন। তবে এটিই যথেষ্ট নয়, কিয়েভকে সামরিক সহায়তা দেওয়াও বন্ধ করতে হবে।’
ইউক্রেনের মিত্র দেশ পোল্যান্ড, ফ্রান্স ও ব্রিটেন সম্প্রতি ওয়াশিংটন সফর করায় বেশ খানিকটা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিল মস্কো।
ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর ট্রাম্প ইউক্রেনে ইউরোপের শান্তিরক্ষীদের সহায়তা দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন; এতে চিন্তা বাড়ছিল মস্কোতে। তবে শুক্রবারের ওভাল অফিসে যে কাণ্ড হলো, তাতে নিশ্চয়ই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে ক্রেমলিন।
ওভাল অফিসের ঘটনার পর রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা টেলিগ্রাম পোস্টে লেখেন, ‘ট্রাম্প ও ভ্যান্স যেভাবে এই জঘন্য ব্যক্তিকে (জেলেনস্কি) আঘাত করা থেকে নিজেদের বিরত রাখলেন, সেটি সংযম প্রদর্শনের এক অলৌকিক ঘটনা।’
এ ঘটনায় ভ্লাদিমির পুতিন সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। তবে কিছু না বললেও রুশ প্রেসিডেন্ট যে খুশি হয়েছেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
ক্রেমলিনের ঘনিষ্ঠ এক সূত্র বলেছে, ‘নিঃসন্দেহে প্রেসিডেন্ট এই তামাশা উপভোগ করেছেন। তিনি এখন ইউক্রেন থেকে আরও বেশি কিছু দাবি করতে পারেন বলে বিশ্বাস করেন।’
এছাড়া ট্রাম্পের সঙ্গে পুতিন ফোনালাপ করতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছে ওই সূত্র। ফোনালাপে (ইউক্রেনের ক্ষমতায়) জেলেনস্কির বিকল্প নিয়ে কথা হতে পারে বলেও জানান তিনি।
আরও পড়ুন: ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠক: শূন্যহাতে ফিরলেও প্রশংসায় ভাসছেন জেলেনস্কি
সম্প্রতি জেলেনস্কির ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে থাকার বৈধতা নিয়ে একই সুরে কথা বলতে দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়াকে।
মূলত জেলেনস্কিকে সরিয়ে রুশ-সমর্থিত কাউকে ইউক্রেনের মসনদে বসানোর বাসনা পুতিনের নতুন নয়। বেশ আগে থেকেই তিনি এই ইচ্ছার কথা জানিয়ে এসেছেন। এতদিন যুক্তরাষ্ট্রই এই ধারণার অন্যতম প্রধান বিরোধী হিসেবে ভূমিকা পালন করলেও আশ্চর্যজনকভাবে এবার পুতিনের সুরে সুর মেলাতে দেখা গেছে ট্রাম্পকে।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে শিগগিরই আলোচনার টেবিলে বসতে জেলেনস্কিকে হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প।
সে সময় জেলেনস্কিকে ‘অনির্বাচিত স্বৈরশাসক’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘শান্তি নিশ্চিত করতে হয় তাকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে, অথবা তার দেশকে হারানোর ঝুঁকি নিতে হবে।’
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে জেলেনস্কির বৈধতা নিয়ে ট্রাম্প আগেই যেহেতু প্রশ্ন তুলেছেন, তাই শুক্রবারের ঘটনা পুতিনকে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে অব্যশই সুবিধা দেবে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
এ বিষয়ে রাশিয়ার পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের সদস্য অ্যালেক্সি পুশকভ এক টেলিগ্রাম পোস্টে বলেছেন, হোয়াইট হাউসও এখন জেলেনস্কিকে সরিয়ে ইউক্রেনের ক্ষমতায় নতুন কাউকে বসানো নিয়ে আরও গুরুত্ব দিয়ে চিন্তাভাবনা করবে বলে তার বিশ্বাস।
তবে ট্রাম্প-জেলেনস্কি উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়কেই চূড়ান্ত বিজয় হিসেবে না দেখে রাশিয়াকে কৌশলের সঙ্গে যেকোনো পদক্ষেপ নিতে পরামর্শ দিয়েছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষক ফিওদর লুকানভ। ট্রাম্পের অপ্রত্যাশিত স্বভাবের কারণে তিনি এই সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন।
অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ভর্ৎসনার শিকার হওয়ার পর যুক্তরাজ্যে রাজকীয় অভ্যর্থনা পেয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। যুক্তরাষ্ট্র সহায়তার হাত সরিয়ে নিলেও ইউক্রেনকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার।
এর আগে, জেলেনস্কির প্রশংসা করে এক এক্স পোস্টে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডের লেয়েন লিখেছিলেন, ‘আপনার এই ব্যক্তিত্ব ইউক্রেনের জনগণের সাহসিকতাকে সম্মানিত করেছে।’
আরও পড়ুন: যুক্তরাজ্যে রাজকীয় অভ্যর্থনা ও পূর্ণ সমর্থন পাচ্ছেন জেলেনস্কি
জেলেনস্কিকে সাহসী ও নির্ভীক থাকতে অনুপ্রেরণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনি একা নন, আমরা রয়েছি আপনার পাশে।’
তবে শুধু আশ্বাস নয়, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল হওয়ায় এখন ইউরোপ কিয়েভকে ঠিক কতটা সহায়তা দেবে কিংবা ট্রাম্পের সঙ্গে জেলেনস্কির সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে কি না—এর ওপর নির্ভর করছে ইউক্রেনের ভাগ্য।
অদূর ভবিষ্যতে ইউরোপের হাত ধরে ইউক্রেন জয় পাবে না কি যুক্তরাষ্ট্রকে সঙ্গে নিয়ে ইউক্রেন জয় করবে রাশিয়া—তা-ই এখন দেখার অপেক্ষা।
৪৫৯ দিন আগে