বিশেষ-সংবাদ
ছয় মাস ধরে অচল নারায়ণগঞ্জের একমাত্র মর্গের ফ্রিজার
নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে জেলার একমাত্র মর্গে মরদেহ সংরক্ষণের তিনটি ফ্রিজারই ছয় মাসের বেশি সময় ধরে অচল। লাশ কাটার ঘরের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্রও নষ্ট। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মর্গের প্রবেশপথে সামান্য বৃষ্টিতেই ময়লা পানি জমে থাকার সমস্যা।
এসব কারণে ময়নাতদন্ত ও মরদেহ সংরক্ষণ করতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন চিকিৎসক, কর্মচারী ও নিহতদের স্বজনরা। ফ্রিজার অচল থাকায় কোনো কোনো পরিবারকে বাইরে থেকে ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে হচ্ছে, গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা।
সম্প্রতি শহরের চাষাঢ়ায় মাদক-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গুলিতে নিহত শুভ চন্দ্র দাস ওরফে মো. বিল্লালের (৩২) মরদেহ সংরক্ষণ করতে গিয়ে বিপাকে পড়ে তার পরিবার। পরিবারের দাবি, মর্গে মরদেহ সংরক্ষণ করা সম্ভব না হওয়ায় বাইরে ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে রাখতে হয়। চার দিনে এ জন্য তাদের প্রায় ৪৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।
শুভর ভাই মো. ইব্রাহিম বলেন, ‘আমার ভাইয়ের লাশটাও ঠিকমতো রাখতে পারেনি। মর্গের মধ্যে পড়ে পচে যাচ্ছিল। পরে আমরা নিজেরাই ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে রাখার ব্যবস্থা করি। পুলিশকে অনুরোধ করে দ্রুত ঢাকার হিমাগারে রাখা হয়।’
সরেজমিনে দেখা যায়, মর্গে প্রবেশের পথেই জমে আছে ময়লা পানি। সেই পানিতে সাঁতার কাটছে হাঁস। মর্গের ভেতরে মরদেহ সংরক্ষণের তিনটি ফ্রিজারই অচল পড়ে আছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মর্গের এক কর্মচারী বলেন, মরদেহ আনা হলেও সেগুলো সংরক্ষণের যথাযথ ব্যবস্থা নেই। যেসব পরিবারের সামর্থ্য আছে, তারা বাইরে থেকে ফ্রিজিং গাড়ি ভাড়া করেন। আর নিম্ন আয়ের পরিবারের সদস্যরা মরদেহ পচে যাওয়া ঠেকাতে বাইরে থেকে বরফ এনে কোনোরকমে ঢেকে রাখেন।
মর্গের দায়িত্বে থাকা ডোম দর্পন দাস বলেন, ‘এখানে অনেক মরদেহ আসে। তবে বেশির ভাগ মরদেহ এক-দুই দিনের বেশি রাখতে হয় না। কখনও অর্ধগলিত মরদেহ এলেও তা মর্গের ভেতরে রাখা হয়। ভালো অবস্থায় থাকা মরদেহ সংরক্ষণের প্রয়োজন হলে বাইরে থেকে লাশ রাখার গাড়ি ভাড়া করতে হয়।’
মর্গের প্রবেশপথের দুরবস্থার কথা তুলে ধরে দর্পন দাস বলেন, অল্প বৃষ্টি হলেই সেখানে ময়লা পানি জমে যায়। মর্গে যেতে রিকশা বা ভ্যানের প্রয়োজন হয়। অথচ এর পাশেই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নগর ভবন। মর্গের সামনে পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংস্কার দাবি জানান তিনি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতি মাসে গড়ে ৩০ থেকে ৩২টি মরদেহ এ মর্গে আসে। সাধারণত সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে এসব মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. নাজমুল হোসেন বিপুল বলেন, মর্গের ফ্রিজার ছয় মাস ধরে নষ্ট। এটি মেরামতের জন্য হাসপাতাল থেকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। শিগগিরই ফ্রিজারগুলো ঠিক হয়ে যাবে বলে আশা করছেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, দিনের বেলায় যেসব মরদেহ হাসপাতালে আসে, সেগুলোর ময়নাতদন্ত করে একই দিন প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। রাতে মরদেহ এলে সেদিন ময়নাতদন্ত সম্ভব না হলে পরদিন সকালে করার চেষ্টা করা হয়। আপাতত এভাবেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হচ্ছে।
ফ্রিজার নষ্ট থাকায় ময়নাতদন্তে সমস্যা হচ্ছে কি না, জানতে চাইলে আরএমও বলেন, হাসপাতালে আসা মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য চিকিৎসকদের রোস্টার রয়েছে। সাধারণত যেদিন মরদেহ আসে, সেদিনই ময়নাতদন্ত করা হয়। সন্ধ্যার পর মরদেহ এলে পরদিন পরীক্ষা করা হয়। ফলে দুই-তিন দিন মরদেহ সংরক্ষণের প্রয়োজন হয় না বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করে সমস্যার সমাধান করা হবে।
৬ ঘণ্টা আগে
তিস্তার পানি বাড়া-কমায় পাকা ধান নিয়ে ১৮০ চরের কৃষকের দুশ্চিন্তা
উত্তরের তিস্তা নদীবেষ্টিত ১৮০টি চরের কৃষকের দুশ্চিন্তা বেড়েছে। তিস্তার পানি কখনও বাড়ছে, আবার কখনও কমছে। পানির এমন ওঠানামায় রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও নীলফামারী জেলার চরাঞ্চলের কৃষকরা পাকা ধান নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন। ফসল ঘরে তোলার ঠিক আগমুহূর্তে পানি বেড়ে গেলে নিচু জমির পাকা ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের।
কৃষি বিভাগ থেকে অবশ্য আগাম জাতের পাকা ধান দ্রুত কাটার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চরের কৃষকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। পুরো চরাঞ্চলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলেও জানান আঞ্চলিক কৃষি কর্মকর্তা আবু বকর সাইফুল ইসলাম।
রংপুর আঞ্চলিক কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, পাঁচ জেলার ১৮০টি চরে এবার ২২ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। ফলনও হয়েছে বাম্পার। তিস্তার পানি ওঠানামা না করলে কৃষকের মুখে হাসি ফুটবে বলেও আশা করা হচ্ছে।
আঞ্চলিক কৃষি কর্মকর্তা আবু বকর সাইফুল ইসলাম জানান, সাধারণত মধ্য অক্টোবরের পর তিস্তার পানি ওঠানামা করে। আগের বছরগুলোতে তিস্তার পানিতে পাকা ধান তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা বেকায়দায় পড়েছেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এবার কৃষকরা লাভবান হবেন।
চরাঞ্চলের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি মৌসুমে বিভিন্ন চরের জমিতে আমন ধান পাকতে শুরু করেছে। আর কয়েক দিনের মধ্যেই এসব জমির ধান কাটার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে তিস্তার পানি ওঠানামা করায় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। হঠাৎ পানি বাড়লে পাকা ধান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
কৃষকরা জানান, চরাঞ্চলের অনেক জমি নদীর কাছাকাছি ও নিচু। ফলে হঠাৎ পানি বেড়ে গেলে এসব জমি দ্রুত প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পাকা ধান পানিতে ডুবে গেলে ঘরে তোলার আগেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। দ্রুত ধান কেটে ঘরে তুলতে পারলে বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।
হরিশ্বর গ্রামের কৃষক জাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘যখন পানির দরকার হয়, তখন পানি পাওয়া যায় না। আবার যখন ফসল ঘরে তোলার সময় আসে, তখন পানি বাড়লে আমাদের দুশ্চিন্তার শেষ থাকে না। কয়েক দিন পর ধান কাটার কথা। তার আগ পর্যন্ত আতঙ্কেই থাকতে হচ্ছে।’
গদাই গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সারা বছর পরিশ্রম করে ধান ফলিয়েছি। এখন শুধু ঘরে তোলার অপেক্ষা। এই সময়ে নদীর পানি বেড়ে গেলে আমাদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যাবে।’
কৃষকদের দাবি, আমন ধান ঘরে তোলা পর্যন্ত তিস্তার পানির পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। পানিবৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিলে চরাঞ্চলের কৃষকদের দ্রুত সতর্ক করারও দাবি জানিয়েছেন তারা। এতে আগাম প্রস্তুতি নিয়ে ফসল রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবেন তারা।
ভোটমারী চরের কৃষক সাহানুর রহমান জানান, গত বছর এই সময়ে তিস্তার পানিতে তার সাড়ে তিন বিঘা জমির ধান নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এবার তিনি চরে সাত বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আবহাওয়া খারাপ, তিস্তার পানি ওঠানামা করছে। জানি না এবার কী হবে।’
এদিকে চর গড্ডিমারীর কৃষক মনিরুজ্জামান সরকারের জমিতে তিস্তার পানি উঠেছে। তিনি বলেন, ‘বড় চিন্তায় রয়েছি, কী হবে? পাকা ধান ঘরে তুলতে পারব কি না, তা নিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে হতাশায় ভুগছি।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, তিস্তার চরাঞ্চলের পাকা ধান দ্রুত কাটার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নদীর পানি বৃদ্ধি বা বন্যার আশঙ্কা দেখা দিলে তাদের আগাম সতর্ক করা হবে। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের দ্রুত পাকা ধান ঘরে তোলার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
৪ দিন আগে
রংপুরে ৬৬৯ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য
রংপুর জেলার এক হাজার ৪৫৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৬৬৯টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে কাউকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এতে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজে সমন্বয়হীনতার পাশাপাশি শিক্ষক সংকটে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান।
রংপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার আট উপজেলাতেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে কাউনিয়া উপজেলার ১১৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫০টিতে, গঙ্গাচড়া উপজেলার ১৭৮টির মধ্যে ৬০টিতে, তারাগঞ্জ উপজেলার ৭৫টির মধ্যে ৫৬টিতে, পীরগঞ্জ উপজেলার ২৩৬টির মধ্যে ১২৫টিতে, পীরগাছা উপজেলার ১৭৮টির মধ্যে ৯৪টিতে, বদরগঞ্জ উপজেলার ১৭৬টির মধ্যে ১১০টিতে, মিঠাপুকুর উপজেলার ২৭৫টির মধ্যে ১৪৬টিতে ও রংপুর সদর উপজেলার ২২২টির মধ্যে ২৮টিতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।
রংপুরের পীরগাছা, মিঠাপুকুর, গঙ্গাচড়া ও কাউনিয়া উপজেলার একাধিক শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে জাতীয়করণ করা শিক্ষকদের একাংশ নিজেদের জ্যেষ্ঠ দাবি করে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ বা পদোন্নতির দাবিতে মামলা করেছিলেন। এসব মামলার কারণে কয়েক বছর ধরে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়া আটকে ছিল।
এদিকে প্রধান শিক্ষক না থাকায় সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে কাউকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে সহকারী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ব্যক্তির নেতৃত্ব অন্য শিক্ষকরা সহজভাবে গ্রহণ করছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজে সমন্বয়হীনতা তৈরি হচ্ছে এবং দাপ্তরিক কাজেও নানা জটিলতা দেখা দিচ্ছে।
এছাড়া প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ে নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক প্রশিক্ষণের সুযোগও সীমিত হয়ে পড়ছে। ফলে এসব বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি পাঠদানেও প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা।
মিঠাপুকুরের শিববাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান বলেন, ২০২৫ সাল থেকে তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। তার বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের তিনটি পদও শূন্য রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘সহকারী শিক্ষক হিসেবে আমাকে ক্লাসও নিতে হয়। আবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক সময় বিদ্যালয়ের বাইরেও থাকতে হয়। শিক্ষক সংকটের কারণে ঠিক মতো ক্লাস নিতে না পারায় বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমে গেছে।’
ভারপ্রাপ্ত এই প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘সরকার আমাদের পদোন্নতি দিচ্ছে না, আবার নতুন প্রধান শিক্ষকও নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না। ভারপ্রাপ্তের দায়িত্বে থাকলেও আমি সহকারী শিক্ষক হওয়ায় অনেক সময় অন্য শিক্ষকরা নির্দেশনা মানতে গড়িমসি করেন। এই সমস্যার দ্রুত সমাধান দরকার।’
মিঠাপুকুরের আমাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও কয়েক বছর ধরে প্রধান শিক্ষক নেই। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলা বিদ্যালয়টিতে খাতাকলমে শতাধিক শিক্ষার্থী থাকলেও বাস্তবে নিয়মিত ৩০ থেকে ৪০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের দাবি, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা ফেরাতে ব্যর্থ হওয়ায় অনেকে প্রতিষ্ঠানটি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।
তবে বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুহিবুল হাসান বলেন, প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন কার্যক্রম নির্বিঘ্নেই চলছে। এলাকার একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী বিদ্যালয়টি নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিববাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষক বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব নেওয়ার পর বিদ্যালয়ে শিক্ষকের সংখ্যা একজন কমেছে। শিক্ষক সংকটের কারণে চাইলেও ঠিকমতো ক্লাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পাশাপাশি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীও কমে গেছে। এ সমস্যার জরুরি সমাধান প্রয়োজন।
দীর্ঘদিন পদোন্নতি না হওয়ায় উপজেলার অনেক শিক্ষক হতাশ হয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অন্যান্য পেশায় জড়িয়ে পড়ছেন বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির মিঠাপুকুর উপজেলা শাখার সভাপতি ও ইমাদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক পদে কোনো সার্কুলার নেই। এর মধ্যে অনেকে অবসরে যাওয়ায় শূন্য পদ আরও বেড়েছে। প্রধান শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে সহকারী শিক্ষকরা যথাযথ নির্দেশনা পাচ্ছেন না।
রংপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে প্রেষণে এনে কাজ চালানো হচ্ছে। তার পরও স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত হচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা একদিকে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন, অন্যদিকে তাদের সহকারী শিক্ষকের পদটিও সংরক্ষিত রয়েছে। তারা মূলত সহকারী শিক্ষক। হিসাবের চেয়ে বাস্তবে আরও বেশিসংখ্যক প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এ কারণে শিক্ষকদের একসঙ্গে একাধিক ক্লাস নিতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকরা জ্যেষ্ঠতা নিয়ে মামলা করেছিলেন। মামলাটি দীর্ঘ সময় আদালতে ঝুলে ছিল। পরে মন্ত্রীরা পদক্ষেপ নিয়ে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেন। পরবর্তীতে আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন। চলতি দায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির জন্য তালিকা পিএসসিতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এরপর আদেশ হবে। আশা করি, শিগগিরই কাজটি হবে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, মামলার কারণেই এত দিন প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়া বন্ধ ছিল। এ কারণে শূন্যতা তৈরি হয়েছে। এছাড়া রংপুর জেলায় ৩৮৭ জন সহকারী শিক্ষক নির্বাচিত হয়ে পদায়নের অপেক্ষায় রয়েছেন। আগামী ১ অক্টোবর তারা যোগদান করলে শিক্ষক সংকট কিছুটা কমবে বলে জানান তিনি।
১৮ দিন আগে
ঝিনাইদহের কৃষিতে আশা দেখাচ্ছে সৌরসেচ
জ্বালানি ও বিদ্যুতের বাড়তি দামে সেচের খরচ মেটাতে হিমশিম খাওয়া কৃষকদের জন্য ঝিনাইদহের মাঠে সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচপাম্প নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। এতে কৃষকদের সেচের খরচ কমার পাশাপাশি বাড়তি আয়েরও সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা নিজেদের জমিতে তুলনামূলক কম খরচে সেচ দিতে সৌরবিদ্যুৎচালিত পাম্প ব্যবহার করছেন। পাশাপাশি অতিরিক্ত সেচের পানি আশপাশের কৃষকদের কাছে বিক্রি করে বাড়তি আয়ও করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার মহেশপুর, কোটচাঁদপুর ও সদর উপজেলায় ইতোমধ্যে ১০৬টি সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প চালু হয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সাতটি, এইড ফাউন্ডেশনের ৩৪টি ও ওয়েভ ফাউন্ডেশনের ৬৫টি পাম্প রয়েছে। শুধু সীমান্তঘেঁষা মহেশপুরেই স্থাপন করা হয়েছে ৩২টি পাম্প। এর বাইরেও কিছু ছোট ছোট সৌর প্যানেল রয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) কারিগরি সহায়তায় রুরাল রিকনস্ট্রাকশন ফাউন্ডেশন (আরআরএফ) স্মার্ট প্রকল্পের মাধ্যমে এই পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এছাড়া ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ইডকল) উদ্যোগে ব্যক্তিগত পর্যায়েও বসানো হচ্ছে সোলার প্যানেল।
ফুলচাষিদের বাড়তি আয়
সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচব্যবস্থা সবচেয়ে বেশি সাড়া ফেলেছে মহেশপুরের সীমান্ত এলাকার ফুলচাষিদের মাঝে।
উপজেলার ফুলচাষি গফুর মিয়া জানান, সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প বসানোর পর থেকে তেল বা বিদ্যুতের কোনো ঝক্কি আর তাকে পোহাতে হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, নিজের জমিতে সেচ দেওয়ার পর সাশ্রয়কৃত পানি অন্যদের কাছে বিক্রি করে ভালো বাড়তি আয় হচ্ছে।
একই এলাকার কৃষক সাদিকুল রহমান জানান, প্রকল্পের ঋণ ও অনুদান নিয়ে তিনি সৌর সেচ প্রকল্প গড়ে তুলেছেন।
তিনি আরও বলেন, নিজের জমির চাহিদা মিটিয়ে বাণিজ্যিকভাবে আশপাশের আরও ১৫ বিঘা জমিতে নিয়মিত সেচ দিচ্ছেন।
১৯ দিন আগে
উদ্বোধনের পর থেকেই বন্ধ ঝিনাইদহের ১০ কোটি টাকার আধুনিক কসাইখানা
ঝিনাইদহে ১০ কোটি ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক কসাইখানাটি উদ্বোধনের পরদিন থেকেই বন্ধ রয়েছে। কসাইদের অনাগ্রহ ও দক্ষ জনবলের অভাবে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি চালু করা যাচ্ছে না। ফলে কোটি টাকার মেশিনপত্র অব্যবহৃত পড়ে থেকে মরিচা ধরছে। অন্যদিকে, কসাইখানাটি বন্ধ থাকলেও প্রতি মাসে প্রায় ১০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল গুনছে পৌরসভা।
ফলে আধুনিক কসাইখানা নির্মাণের পরও শহরের মাংস ব্যবসায়ীরা ঘিঞ্জি পরিবেশে বাজারের পাশে গরু-ছাগল জবাই করছেন।
ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রকৌশলী রাশেদ আলী খান জানান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ‘লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’-এর আওতায় কসাইখানাটি নির্মাণ করা হয়। ২০২৩ সালের ১৫ জানুয়ারি এলডিডিপি ও ঝিনাইদহ পৌরসভার মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর ওই বছরের ৬ আগস্ট নির্মাণকাজ শুরু হয়।
দীর্ঘ আড়াই বছর পর চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি কসাইখানাটি পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে ১৭ জুন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান ঝিনাইদহ শহরের পবহাটী কলার হাটসংলগ্ন ৪৯ শতক জমির ওপর নির্মিত কসাইখানাটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, আড়াই হাজার বর্গফুটের কসাইখানাটিতে গরু ও ছাগল জবাইয়ের জন্য দুটি পৃথক স্বয়ংক্রিয় স্লটার লাইন রয়েছে। এগুলো দিয়ে প্রতি ঘণ্টায় ১০ থেকে ১২টি গরু এবং ২০টি ছাগল স্বাস্থ্যসম্মতভাবে প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব।
তবে উদ্বোধনের পর থেকেই কসাইদের অনাগ্রহের কারণে কসাইখানাটি চালু করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে এর মূল ফটকে তালা ঝুলছে। ভেতরে আমদানি করা স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি অব্যবহৃত অবস্থায় আছে।
পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান চান জানান, আধুনিক মেশিন পরিচালনার জন্য বহু চেষ্টা করা হয়েছে। রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে কমিটিও করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কসাইখানাটি চালু করা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, মেশিন পরিচালনার জন্য দক্ষ টেকনিশিয়ানও প্রয়োজন। এসব কারণে আপাতত কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
তবে মাংস ব্যবসায়ীরা বলছেন, স্বয়ংক্রিয় মেশিনে চামড়া ছাড়ানোর সময় চামড়ার সঙ্গে অতিরিক্ত মাংস চলে যায়। এতে তাদের লোকসান হয়। এ কারণে তারা আধুনিক কসাইখানায় যেতে আগ্রহী নন। তাই প্রথাগত পদ্ধতিতেই তারা বাজারের পাশে পশু জবাই করছেন।
মাংস ব্যবসায়ী মোস্তাক বলেন, ‘পবহাটী কলার হাট এলাকাটা শহরের মূল মাংস বাজার থেকে অনেক দূরে। ভোর ৪টার সময় গরু-ছাগল নিয়ে এত দূরে যাওয়া আমাদের জন্য কষ্টকর। তাই অনেকেই আগ্রহ দেখাচ্ছে না। তাছাড়া আধুনিক স্লটার হাউসে প্রতি গরু জবাইয়ের ফির পরিমাণও বেশি। বেশি টাকা দিয়ে আমাদের পোষাবে না।’
তবে মাংস বেশি চলে যাওয়ার অভিযোগ নাকচ করে পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘মাংস বেশি চলে যাচ্ছে, এটা ঠিক নয়। আধুনিক পদ্ধতিতে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে চামড়া ছাড়ানো হচ্ছে। প্রথম দিকে একটু সমস্যা মনে হলেও এটাই আন্তর্জাতিক মানের পদ্ধতি। ব্যবসায়ীদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।’
ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রশাসক রথীন্দ্র নাথ রায় বলেন, ‘কসাইখানাটি অত্যন্ত আধুনিক। এটি পরিচালনার জন্য দক্ষ অপারেটর প্রয়োজন। আমরা লোকবল তৈরির চেষ্টা করছি। বিদ্যুৎ সংযোগ সচল রাখতে এবং মেশিনগুলো ভালো রাখতে ন্যূনতম বিদ্যুৎ বিল দিতে হচ্ছে।’
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আতিকুজ্জামান বলেন, স্বাস্থ্যসম্মত মাংস উৎপাদনের জন্য কসাইখানাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি চালু হলে ঝিনাইদহবাসী নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত মাংস পাবে।
২০ দিন আগে
পাঁচ বছর ভোগার পর ভাসমান সেতুতে চার গ্রামের মানুষের স্বস্তি
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের বড়হরপাড়া খালের ওপর ভাসমান সেতু নির্মাণের ফলে পাঁচ বছর ধরে দুর্ভোগে থাকা চার গ্রামের মানুষের চলাচলে স্বস্তি ফিরতে যাচ্ছে। বিশেষ করে পৌরগোঁজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াতের অবসান হচ্ছে।
সুফি মোতাহার উদ্দিনের বাড়ি-সংলগ্ন বড়হরপাড়া খালের ওপর এলজিইডি নির্মিত লোহার সেতুটি প্রায় পাঁচ বছর আগে ধসে পড়ে। এরপর নতুন করে সেতু নির্মাণ না হওয়ায় মম্বিপাড়া, পৌরগোঁজাসহ চার গ্রামের মানুষের যোগাযোগে চরম দুর্ভোগ নেমে আসে। স্থানীয়রা বাঁশের সাঁকো তৈরি করে কোনোভাবে চলাচল সচল রাখেন।
তবে সাঁকোতে দুর্ভোগ খুব বেশি কমেনি। সাঁকো পার হতে গিয়ে প্রায়ই শিশুরা খালে পড়ে যেত। একপর্যায়ে সাবিনা নামে এক শিশু পানিতে পড়ে প্রাণশঙ্কা সৃষ্টি হয়। সাঁকো পার হতে না পেরে অনেকে কলাগাছের ভেলায় খাল পার হতেন। পরে বাঁশের সাঁকোটিও জীর্ণ হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির শিশুদের লেখাপড়াও ব্যাহত হচ্ছিল।
এ অবস্থায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ডু সামথিং ফাউন্ডেশন’ এলাকাবাসী দুর্ভোগ লাঘবে এগিয়ে আসে। সংস্থাটি প্লাস্টিকের ড্রামের ওপর কাঠের পাটাতন বসিয়ে ১৬৫ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে চার ফুট প্রশস্ত ভাসমান সেতু নির্মাণ করেছে।
ডু সামথিং ফাউন্ডেশনের বরিশাল বিভাগীয় কো-অর্ডিনেটর জাহিদুল ইসলাম জানান, সেতুটি নির্মাণে ৪০টি ড্রাম ব্যবহার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে, এখন সামান্য সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। কয়েক দিনের মধ্যে গ্রামবাসীকে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সেতুটির উদ্বোধন করা হবে।
তিনি বলেন, সেতুটি নির্মাণে প্রায় ১৫ দিন সময় লেগেছে। এই সেতুর মাধ্যমে বিশেষ করে শতাধিক শিশু শিক্ষার্থীর ক্লাসে যাওয়া-আসার ঝুঁকি ও ভোগান্তি লাঘব হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল গাজী বলেন, প্রায় পাঁচ বছর আগে এলজিইডির লোহার সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর আর কোনো সেতু নির্মাণ বা মেরামত করা হয়নি। ভাসমান সেতু নির্মাণ হওয়ায় এখন তাদের কষ্ট কিছুটা লাঘব হচ্ছে।
পৌরগোঁজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মেশকাত বলেন, ভাসমান সেতুটি নির্মাণ হওয়ায় শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ও নিরাপদে স্কুলে আসা-যাওয়া করতে পারবে। এতে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও বাড়বে।
ডু সামথিং ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় মানুষ ও কোমলমতি শিশুদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে আমরা এই ভাসমান সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি। আশা করি, এর ফলে চারটি গ্রামের মানুষের চলাচল ও শিক্ষার্থীদের চলাচল নির্বিঘ্নে হবে। এমন একটি ভালো কাজ করতে পেরে আমরা আনন্দিত।
সারা দেশে সংস্থাটির এমন নানা কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান বলেন, এটি একটি ভালো ও মহতি উদ্যোগ। আপাতত স্কুলগামী শিশু ও স্থানীয় মানুষের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে ভাসমান সেতুটি নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে এমন কাজে এগিয়ে আসা সমাজের জন্য ইতিবাচক দিক।
তিনি আরও বলেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে ওই খালের ওপর স্থায়ী একটি সেতু নির্মাণ করা হবে।
২২ দিন আগে
চোখের সামনেই নদীগর্ভে বিলীন বসতবাড়ি, অসহায় তিস্তাপাড়ের মানুষ
উত্তরের পাঁচ জেলায় আগ্রাসী হয়ে উঠেছে তিস্তার ভাঙন, জিও ব্যাগ ও বালুর বস্তা ফেলেও প্রতিরোধ গড়ে তোলা যাচ্ছে না। গত সাত দিনে রংপুর, গাইবান্ধা, লালমনিহাট, নীলফামারী ও কুড়িগ্রাম জেলায় তিস্তার ভাঙনে ৩৮৬টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
পাউবো রংপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবীব বলেছেন, শুধু ভাঙনেই থেমে নেই, এই পাঁচ জেলার ১১৩টি পয়েন্টে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে।
এই কর্মকর্তা বলেন, ভাঙন প্রতিরোধে তেমন কোন বরাদ্দ না থাকায় ঠেকানো যাচ্ছে না। আমরা মন্ত্রণালয়ের বিষয়টি জানিয়েছি।
তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনে প্রতিদিনই বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এতে নদী তীরবর্তী মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বসতভিটা হারিয়ে অনেক পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
সম্প্রতি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের সিংগীজানী ও ভোরের পাখি এলাকায় হঠাৎ ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে বলে ভুক্তভোগীদের দাবি।
স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিন ধরে তিস্তা নদীতে স্রোতের চাপ বাড়ছিল। হঠাৎ স্রোতের তীব্রতা বেড়ে নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন শুরু হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই নদীর পাড়ের মাটি ধসে পড়তে থাকে। একপর্যায়ে একের পর এক বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
ভাঙন এতটাই আকস্মিক ছিল যে অনেক পরিবার ঘরের আসবাবপত্র, ধান-চাল, কাপড়চোপড় ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়ারও সুযোগ পায়নি। চোখের সামনে বসতভিটা ও ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হতে দেখে অসহায় হয়ে পড়েন নদীপাড়ের বাসিন্দারা।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা তিস্তার ভাঙনের সঙ্গে লড়াই করে আসছেন। কেউ কয়েকবার বসতভিটা পরিবর্তন করেছেন, আবার কেউ নদীর পাড়ে নতুন করে ঘর তুলেছেন। কিন্তু এবার আকস্মিক ভাঙনে অনেকের সেই শেষ আশ্রয়টুকুও নদীতে চলে গেছে।
২৫ দিন আগে
চাঁপাইনবাবগঞ্জে গ্রামীণ সড়ক বেহাল, দুর্ভোগে কয়েক গ্রামের মানুষ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার দায়পুকুরিয়া ইউনিয়নের কামালপুর থেকে মির্জাপুর হয়ে কর্ণখালী পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েকটি গ্রামের মানুষ। সড়কটিতে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ।
বর্ষায় সড়কটি আরও বেহাল হয়ে গেছে। বৃষ্টিতে সড়কটির বিভিন্ন অংশের পিচ উঠে গিয়ে কোথাও কোথাও পানি জমে থাকছে ৫ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত। এতে রোগী পরিবহন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত, কৃষিপণ্য বাজারজাতসহ প্রতিদিনের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দায়পুকুরিয়া ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি স্থানীয়দের চলাচলের অন্যতম প্রধান পথ। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কের বিভিন্ন অংশের পিচ উঠে গেছে। বর্ষা মৌসুমে খানাখন্দে পানি জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। এতে যানবাহন চলাচল যেমন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে, তেমনি পথচারীদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
২৬ দিন আগে
বিদ্যালয় স্থানান্তর নিয়ে যমুনার চরাঞ্চলে বিরোধ, পাঠদান ব্যাহত
গাইবান্ধার ফুলছড়িতে নদীভাঙনের শিকার আংগারিদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্থানান্তর নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। জিয়াডাংগা চরের নির্জন বালুচরে একটি টিনের ছাপড়া ঘরে একসঙ্গে তিন শ্রেণির পাঠদান চলছে। খোলা আকাশের নিচে প্রচণ্ড রোদ-বৃষ্টির মধ্যেও পাঠদানের কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে। অনিশ্চয়তায় পড়েছে চরাঞ্চলের কোমলমতি শিশুদের শিক্ষা।
ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের চরাঞ্চলের শিশুদের শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় ১৯৪৬ সালে আংগারিদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। কিন্তু যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদীর অব্যাহত ভাঙনে বিদ্যালয়টি অন্তত ১২ বার নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যা ও নদীভাঙনের পর গজারিয়া ইউনিয়নের আংগারিদহ এলাকায় বিদ্যালয়টি পুনঃস্থাপন করা হয়। কিন্তু চলতি বছরের বন্যা ও নদীভাঙনে বিদ্যালয়টি আবারও স্থানান্তর করতে হয়। যমুনার ভাঙনের মুখে ভবন, শিক্ষা উপকরণ, চেয়ার-টেবিল, বেঞ্চ ও টিনের চালা খুলে পাশের জিয়াডাংগা চরের এক কোণে নিয়ে স্থাপন করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে বিদ্যালয়টি জনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে সরিয়ে নির্জন বালুচরের এক কোণে স্থাপন করেছে। এ নিয়ে স্থানীয় অনেকে আপত্তি জানালেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, কয়েকটি পরিবার ব্যক্তিস্বার্থে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কায় শিক্ষকরা জিয়াডাংগা চরের ওই স্থানে ছাপড়া তুলে পাঠদান শুরু করেন। অন্যদিকে, জিয়াডাংগা চরের জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিদ্যালয়টি স্থাপন না করায় স্থানীয়দের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। দুটি পক্ষের শক্তি প্রদর্শনের কারণে বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী নিয়মিত স্কুলে যাচ্ছে না। অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে যাওয়া ছেড়ে দিয়েছে বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
শিক্ষকদেরও নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকার অভিযোগ রয়েছে। একটি টিনের ছাপড়া ঘরে একসঙ্গে তিন শ্রেণির পাঠদান করায় স্বাভাবিকভাবে পাঠদান করা সম্ভব হচ্ছে না। উত্তপ্ত বালুচর ও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে গেছে।
বিদ্যালয় স্থানান্তর নিয়ে জটিলতার মধ্যে ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানসহ উপজেলা শিক্ষা কমিটির কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা জিয়াডাংগা মসজিদের পাশে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিদ্যালয়টি স্থাপনের সুপারিশ করেন।
তবে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি বিদ্যালয়টি সেখানে স্থানান্তরে বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে বেশ কিছুদিন ধরে বালুচরের একটি ছাপড়া ঘরে একসঙ্গে তিন শ্রেণির পাঠদান চলছে। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে গজারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান খোরশেদ আলী থান খুশু বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যালয়টি জিয়াডাংগা মসজিদের পাশে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে বাধা দেওয়া হলে শিক্ষার্থীরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।
২৭ দিন আগে
সুন্দরগঞ্জে তিস্তার পেটে ২৫০ ঘরবাড়ি; খোলা আকাশের নিচে কাটছে জীবন
তিস্তার ভয়াবহ ভাঙনে মাত্র দুই দিনে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে অন্তত ২৫০টি ঘরবাড়ি ও জমিজমা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বসতভিটা হারিয়ে কাপাসিয়া, ভোরের পাখি ও লালচামার এলাকার বহু পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে রাত-দিন কাটাচ্ছে। ঘরে খাবার নেই, মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই—নদীভাঙনে সর্বস্ব হারানো এসব মানুষের জীবন এখন মানবেতর।
ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অনেকেই ঘরের চাল বা প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ারও সুযোগ পাননি। সর্বস্ব হারিয়ে কেউ নদীর পাড়ে, কেউ খোলা জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন। শিশু, নারী ও বয়স্কদের নিয়ে তাদের দিন কাটছে চরম অনিশ্চয়তায়।
খাবারের সংকট দেখা দেওয়ায় সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে নদীভাঙনে বাস্তুহারা মানুষের জন্য প্রতিদিন খিচুড়ি সরবরাহ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং বিএনপির পক্ষ থেকেও ক্ষতিগ্রস্তদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ভাঙনের খবর পেয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির মাজেদুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফফাত জাহান তুলি ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে চাল বিতরণ করেছেন।
এদিকে, নদীভাঙনে শুধু বসতভিটাই নয়, হারিয়ে যাচ্ছে চরাঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও। তিস্তা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে চলতি বছরে গাইবান্ধার চরাঞ্চলের অন্তত আটটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আরও ছয়টি বিদ্যালয় রয়েছে ভাঙনের ঝুঁকিতে।
চরাঞ্চলের বালুচরে একসময় যেখানে ছিল বিদ্যালয় ভবন, শ্রেণিকক্ষ, বেঞ্চ-টেবিল আর শিক্ষার্থীদের কোলাহল, এখন সেখানে শুধু নদীর পানি। ইতোমধ্যে ফুলছড়ি উপজেলার আঙ্গারীদহ, উত্তর খাটিয়ামারি, চর চৌমোহন, সদর উপজেলার সীতাসতী এবং সুন্দরগঞ্জের ভোরের পাখিসহ আটটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভাঙনে সম্পূর্ণ বিলীন হয়েছে।
ভবন হারানো আটটি বিদ্যালয়ের কোথাও খোলা আকাশের নিচে, আবার কোথাও টিনের ছাপড়া তুলে চলছে পাঠদান। রোদবৃষ্টি ও প্রতিকূল পরিবেশের কারণে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসছে না। কোথাও একটি ছাপড়ার নিচে দুই শ্রেণির মাত্র চারজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে চলছে পাঠদান। এতে দুই সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর পড়ালেখা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
তিস্তা নদীর ভাঙনের শিকার ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুর রহমান বলেন, ‘আমাদের স্কুল গেল, আশপাশের গ্রামও নদীতে চলে গেছে। আমাদের স্কুলের শিশুরা কে কোথায় চলে গেছে বলতে পারছি না। তবে এখনও চার টিনের ছাপড়ার নিচে দুই শ্রেণির চারজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে ক্লাস চলছে।’
নদীর ভয়াবহ ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড গতকাল থেকে জিও ব্যাগ ফেলছে। তবে এ উদ্যোগ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
সাবেক ইউপি সদস্য রাজা মিয়া বলেন, ‘নদীতে সব চলে গেল, এখন বস্তা ফেলে রক্ষার কাজ শুরু করলেন।’
নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তারা চরবান্ধব ভবন নির্মাণ এবং বিদ্যালয়ের জন্য নিরাপদ জায়গা নির্ধারণের দাবি জানান।
গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লক্ষণ কুমার দাশ বলেন, চলতি বছরের বন্যায় চরাঞ্চলের আটটি স্কুল নদীগর্ভে চলে গেছে। আরও ছয়টি বিদ্যালয় ঝুঁকিতে রয়েছে।
৩৪ দিন আগে