বিশেষ-সংবাদ
এক জমিতে হাসছে চার রঙের ফুলকপি!
ফুলকপির মৌসুম শেষ। এবার মৌসুমের শেষ দিকে তেমন ভালো দাম পাননি কৃষকরা। অনেকে হতাশও হয়ে পড়েন। পণও করেন আর ফুলকপি করবেন না। তবে বুদ্ধিমান চাষিরা ঝুঁকছেন আবার ফুলকপিতেই। সাদা ফুলকপির সঙ্গে তারা চাষ করেছেন রঙিন ফুলকপিও। অসময়ে চাষ করে ফুলকপির ভালো দাম পেয়েছেন তারা।
কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলার জমিতে এখন শোভা পাচ্ছে চার রঙের ফুলকপি। এর মধ্যে রয়েছে সাদা, সবুজ, বেগুনি ও হলুদ। শুধু রঙে রঙিন নয়—সাদা ফুলকপির চেয়ে রঙিন ফুলকপির পুষ্টিগুণও অনেক বেশি। তবে দামও সাদার থেকে দ্বিগুণ। কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার শাহ দৌলতপুর গ্রামের মাঠে রঙিন ফুলকপির চাষ করতে দেখা গেছে। গ্রামের কৃষক আশেকুল ইসলাম ৪৩ শতক জমিতে এবার চার রঙের ফুলকপি চাষ করেছেন।
আরও পড়ুন: লালমনিরহাটে রঙিন ফুলকপিতে বাজিমাত
আশেকুল ইসলাম বলেন, কৃষি অফিসের পরামর্শে গত দুই বছর ধরে এই রঙিন ফুলকপি চাষ করছি। প্রথমে মানুষ হাসাহাসি করতো। কেউ কিনবে কিনা, দাম পাবো কিনা—এসব নিয়ে নানা কথা বলতো। এখন ভালো ফলন দেখে তারা জমি দেখতে আসেন। নিজেরাও চাষের আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, ৪৩ শতক জমিতে তার খরচ হয়েছে ৫৬ হাজার টাকা। দেড় লাখ টাকার ফুলকপি বিক্রির আশা করছেন তিনি।
কৃষক আবু হানিফ, মিনহাজুল ইসলাম ও আবুল কাশেম বলেন, আশেকুল ইসলামের জমিতে রঙিন ফুলকপির চাষ দেখে প্রথমে আমরা বিস্মিত হয়েছি। এখন দেখলাম বাজারে এর ভালো চাহিদা রয়েছে। আমরাও আগামীতে এই রঙিন ফুলকপির চাষ করব।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আফরিণা আক্তার বলেন, লাভজনক হওয়ায় রঙিন ফুলকপি চাষের দিকে ঝুঁকছেন কৃষক। এদিকে সাদা ফুলকপির চেয়ে রঙিন ফুলকপিতে পুষ্টিগুণ অনেক বেশি। কচুতে যে পরিমাণ ভিটামিন ‘এ’ থাকে তার চেয়ে বেশি পরিমাণ থাকে হলুদ ফুলকপিতে। বেগুনি রংয়ের ফুলকপিতে থাকে অ্যান্থোসায়ানিন। যা মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এছাড়া ক্যান্সার সৃষ্টিকারী কোষ ধ্বংস করে, উচ্চ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
সরেজমিন বুড়িচং উপজেলার শাহ দৌলতপুর এলাকায় দেখা যায়, অন্য সবজির জমির পাশে রঙিন ফুলকপির চাষ করা হয়েছে। যেন নানা রঙের ফুল বাগান। চোখজুড়ানো ফুল বাগান থেকে কৃষক ফসল তুলছেন। খুচরা ও পাইকারি ক্রেতারা জমির পাশ থেকে ফসল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। কৃষকের চোখে মুখে দেখা মেলে খুশির রঙিন ঝিলিক।
আরও পড়ুন: লোকসানের মুখে মানিকগঞ্জের ফুলকপি চাষিরা
কুমিল্লার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আইউব মাহমুদ বলেন, ফুলকপি শীকালীন অন্যতম সবজি। এর বাণিজ্যিক মূল্য ও পুষ্টিগুন অনেক ভালো। এটা ওষুধি গুণসম্পন্ন ও ক্যান্সার প্রতিরোধী। এর ভোক্তা শ্রেণী রয়েছে। তাই কৃষকরা চাষ করে লাভবান হচ্ছেন।
তিনি বলেন, রঙিন ফুলকপি সম্ভবত একটু গরম সহিষ্ণু। তাই গরমে ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে। এর বীজ এতো সহজলভ্য নয়। বীজ আমদানি সহজ করা গেলে বৈচিত্র্যময় সবজির চাষ আরও বাড়ার সম্ভাবনার কথাও জানান এই কৃষি কর্মকর্তা।
২ ঘণ্টা আগে
সংকুচিত হয়েই চলেছে দেশের শ্রমবাজার, রপ্তানি কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ
গত এক বছরে বৈশ্বিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের জনবল রপ্তানির পরিমাণ প্রায় ৩০ শতাংশ কমেছে। এর পাশাপাশি গত কয়েক বছর ধরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের শ্রমবাজার ক্রমেই সংকুচিত হয়ে চলেছে।
বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ থেকে ১০ লাখ ১১ হাজার ৮৬৯ জন কর্মী বিদেশে গিয়েছেন। এর মধ্যে ৯৫ শতাংশ কর্মী গিয়েছেন মাত্র পাঁচটি দেশে— সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, কাতার, সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে এই সংখ্যা ২০২৩ সালের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কম। সে বছর ১৩ লাখ ৭ হাজার ৮৯০ জন কর্মী বিদেশ পাঠানো হয়।
২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে ৯৭ হাজার ৮৭৩ জন কর্মী বিদেশে যান। কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে এই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৬২ হাজার ৪৪২ জনে। অর্থাৎ, চলতি বছর জানুয়ারির তুলনায় কেবল ফেব্রুয়ারিতেই জনবল রপ্তানি কমেছে প্রায় ২০ শতাংশ।
তিনটি বড় শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যাওয়া বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর সংখ্যা কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ। এগুলো হলো— মালয়েশিয়া, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এছাড়া সৌদি আরব ও কাতারের মতো দেশগুলোতে নিয়োগ কমে যাওয়ায় এবং মালয়েশিয়া, ওমানের পাশাপাশি বাহরাইনের শ্রমবাজারও বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
এর মাঝে অবশ্য সরকার নতুন শ্রমবাজার খোলার চেষ্টা করছে, তবে তাদের সাফল্যকে এখনও পর্যাপ্ত বলা যায় না। বিদ্যমান বাজারগুলো চালু করতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকার পরিবর্তনের পর শ্রমবাজারের অবস্থা
গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের ফলে শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় আসে।
এরপর জনশক্তি ব্যবসায়ীরা আশা করেছিলেন, নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূসের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি কাজে লাগিয়ে বৈদেশিক কর্মসংস্থান বাড়ানো সম্ভব হবে। কিন্তু নতুন সরকারের বিভিন্ন উপদেষ্টা প্রবাসী কল্যাণ নিয়ে নানা সময়ে বক্তব্য দিলেও বাস্তবে কার্যকর কোনো উদ্যোগ এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি।
আরও পড়ুন: উচ্চশিক্ষার লক্ষ্য শ্রমবাজার নয়, মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হওয়া জরুরি: স্পিকার
প্রধান শ্রমবাজারগুলোর অবস্থা
মালয়েশিয়া
২০২৩ সালে সাড়ে তিন লাখের বেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় গিয়েছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালের জুন থেকে দেশটির শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যায়। ২০২৪ সালে এক লাখেরও কম কর্মী দেশটিতে যেতে পেরেছেন।
ওমান
২০২৩ সালে ওমানে সোয়া লাখের বেশি কর্মী যান, কিন্তু ২০২৪ সালে দেশটির শ্রমবাজার বন্ধ থাকায় মাত্র ৩৫৮ জন কর্মী যেতে পেরেছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাত
২০২৩ সালে প্রায় এক লাখ কর্মী আমিরাতে গিয়েছিলেন, তবে ২০২৪ সালে এই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৪৭ হাজারে।
বাহরাইন
২০১৭ সাল থেকে বাহরাইনে কর্মী নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। গত বছরও দেশটি বাংলাদেশ থেকে একজন কর্মীও নেয়নি।
দক্ষ কর্মীর অভাব ও বিকল্প শ্রমবাজার
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দক্ষ শ্রমিকের চাহিদা থাকলেও বাংলাদেশ থেকে দক্ষ কর্মী পাঠানোর হার কম। দক্ষ কর্মীদের জন্য দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান প্রতিশ্রুতিশীল শ্রমবাজার হলেও ভাষা ও পেশাগত দক্ষতার অভাবে অনেকেই সেখানে ঢোকার সুযোগ পাচ্ছেন না।
২০২৩ সালে বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার কর্মী নেওয়ার ঘোষণা দেয় দক্ষিণ কোরিয়া। অথচ সে বছর মাত্র ৪ হাজার ৪৯৬ জন কর্মী পাঠানো সম্ভব হয়। ২০২৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে গিয়েছেন মাত্র ২ হাজার ৯১৮ জন।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক ড. তাসনিম সিদ্দিকী ইউএনবিকে বলেন, ‘সরকার দাবি করে বাংলাদেশ থেকে ১৬৮টি দেশে কর্মী পাঠানো হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে ৯৫ শতাংশ কর্মীই যাচ্ছে মাত্র ছয়টি দেশে। বাকি দেশে আসলে নামেমাত্র কর্মী পাঠানো হচ্ছে, কোথাও তা মাত্র ২ থেকে ৩/৪ শতাংশ।’
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও শ্রমবাজার খোঁজার তাগিদ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হয়েছে বাংলাদেশি ও মালয়েশিয়ার রিক্রুটিং এজেন্সির সিন্ডিকেটের কারণে। অনেক কর্মী মালয়েশিয়ায় গিয়ে কাজ পাননি, ফলে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে দেশটি। সরকারকে দ্রুত মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে এ সমস্যার সমাধান করতে হবে।’
সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবকাঠামো খাত বন্ধ থাকায় কর্মী নিয়োগ কমে গেছে। এছাড়া সৌদি আরবে গত বছর ৬ লাখ কর্মী যাওয়ায় (এ বছর) চাহিদা কমে গেছে বলে জানান এই গবেষক।
দেশের ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্টদের সংগঠন বায়রার সাবেক সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী ইউএনবিকে বলেন, ‘শ্রমবাজারের সংকট কাটাতে হলে বন্ধ হয়ে যাওয়া বাজারগুলো দ্রুত খুলতে ব্যবস্থা নিতে হবে।’ এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা যায় বলে পরামর্শ দেন তিনি।
হায়দার আলী বলেন, ‘বিকল্প বাজার তৈরি না করা গেলে (দেশের) শ্রমবাজার হুমকির মুখে পড়বে। তখন মানুষ অবৈধভাবে সাগরপথে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করবে, যা আরও বিপজ্জনক হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সংকুচিত হয়ে যাওয়া কাতার ও সৌদির শ্রমবাজারে লোক পাঠানো আরও বাড়াতে হবে। থাইল্যান্ড সম্ভাবনাময় একটি বাজার ছিল, সেটিও বন্ধ। এটি চালু করতে দুই দেশের আলোচনার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।’
ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের সাত-আটটি বড় শ্রমবাজারের মধ্যে তিনটি বন্ধ রয়েছে। কাতার, কুয়েত ও সৌদি আরবেও কর্মী নিয়োগ কমেছে। মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান গত এক বছর ধরে শ্রমবাজার বন্ধ রেখেছে। এসব বাজার খুলতে না পারলে কর্মী পাঠানোর হার আরও কমে যাবে।’
কী বলছে সরকার
বিএমইটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল হাই বলেন, ‘আমরা শ্রমবাজার বৃদ্ধির জন্য কাজ করছি; নতুন নতুন বাজার খুলছি। যেমন: রাশিয়া, পর্তুগাল, মাল্টা, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম ও আফ্রিকার কঙ্গোতে নতুন করে কর্মী পাঠানো শুরু হয়েছে। এসব দেশের মধ্যে রাশিয়ায় বেশি কর্মী যাচ্ছে।’
ইরাক ও ইরানেও কর্মী পাঠানো হচ্ছে জানিয়ে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ইরাকে ৫০০ ডলার বেতনে ৫০ হাজারের বেশি কর্মী পাঠানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রায় সব ইউরোপীয় দেশের দূতাবাস থাকলেও কর্ম ভিসার জন্য ভারত বা নেপালের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়, যা বাংলাদেশিদের ইউরোপে যাওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা সৃষ্টি করছে।’
১ দিন আগে
সুইট কর্নে বাজিমাত ঠাকুরগাঁওয়ের সোহেলের
নতুন জাতের উচ্চ ফলনশীল সুইট কর্ন চাষ করে চমক দেখিয়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল পৌর শহরের ভান্ডারা এলাকার কৃষক সোহেল রানা। ব্যাপক ফলন হওয়ায় ভুট্টা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন ওই এলাকার অনেক কৃষক।
রবিবার (২৩ মার্চ) সোহেল রানার ভুট্টা খেতে গিয়ে তার এই সাফল্যের কথা জানা যায়।
রাণীশংকৈল উপজেলা কৃষি দপ্তরের সহযোগিতায় স্পেন বাংলাদেশ এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড কোম্পানির তত্ত্বাবধানে পরীক্ষামূলকভাবে কৃষক সোহেল রানা ১০ শতাংশ জমিতে মিষ্টি ভুট্টা চাষ করেন। ইতোমধ্যে তিনি মোচা সংগ্রহ করেছেন এবং আশানুরূপ ভাল ফলনও পেয়েছেন।
সোহেল রানা বলেন, প্রথমবারের মতো ১০ শতাংশ জমিতে মিষ্টি ভুট্টা চাষ করে ফলন পেয়েছি ৩০ মণ। ৪৮০ টাকা মণ হিসাবে ৩০ মণ ভুট্টা বিক্রি করে ১৪ হাজার ৪০০ টাকা পেয়েছি। মিষ্টি ভূট্টা চাষাবাদে সকল খরচ স্পেন বাংলাদেশ এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড কোম্পানি বহন করেছে। আমার শুধু নিড়ানি ও পানি দেওয়া এবং মোচা তোলা বাবদ আড়াই হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে।
তিনি বলেন, মাত্র ৯০ দিনের মধ্যে এ ভুট্টার মোচা সংগ্রহ করা যায়। কোম্পানির প্রতিনিধিরা সরাসরি জমি থেকে কাঁচা মোচা খোসাসহ ১২ টাকা কেজি দরে ক্রয় করেন। ফলে বিক্রয়ের কোন ঝামেলা নেই। এর চাহিদাও রয়েছে অনেক। স্বল্প সময়ে মিষ্টি ভুট্টা চাষে সোহেল প্রচুর পরিমাণে লাভ করেছেন। আগামীতে ৫০ শতক জমিতে চাষ করার ইচ্ছার কথাও জানান সোহেল।
ওই এলাকার কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমরা এই ভুট্টার চাষ আগে কখনও দেখিনি। স্বল্প সময়ে এত ভাল ফলন ও তুলনামূলক দামও বেশি হওয়ায় আগামী বছর আমিও মিষ্টি ভুট্টার চাষ করব।
আরেক প্রতিবেশী কৃষক আব্দুল খালেক বলেন, এই ভুট্টা কাঁচা অবস্থায় খোসাসহ বিক্রি হচ্ছে। এতে ওজন বেশি পাওয়া যায়। প্রতিটি গাছে দুই থেকে তিনটা মোচা ধরে। ভুট্টার ফসল আগাম সংগ্রহ করা যায়। আগামী বছর আমিও ২০ শতাংশ জমিতে এই ভুট্টা চাষ করব।
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁওয়ে গমের আবাদ কমেছে, বেড়েছে ভুট্টা চাষ
২ দিন আগে
ঢাকার বিকল্প রাজধানী সম্ভব?
রাজধানীর পল্টন দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন জাহিদুর রহমান নামের এক ব্যবসায়ী। হঠাৎ বাতাসে ধুলোবালি এসে নাকে-মুখে ঢুকে যায় তার। চারপাশে গাড়িগুলো পাল্লা দিয়ে হর্ন বাজিয়ে যাচ্ছে, দুই কান হাত দিয়ে চেপে ধরেও রেহাই পাচ্ছেন না।
তার ভাষ্যে, ‘মানুষ বাস করার মতো অবস্থায় নেই এই শহর। কেবল চাকরি করতে হবে বলে ঢাকায় আছি, নাহলে অনেক আগেই (এই শহর ছেড়ে) চলে যেতাম।’
‘সবকিছু ঢাকাকেন্দ্রিক হওয়ায় নাগরিকদের এই শহরে এসেই ভিড় করতে হচ্ছে। ইচ্ছা থাকলেও নিরাপদ জীবনের খোঁজে অন্যত্র যাওয়া সম্ভব নয়’, বুধবার (১৯ মার্চ) কথাগুলো বলছিলেন তিনি।
নগরীর গণপরিবহনগুলোতে বেশিরভাগ সময়ই যাত্রীদের দাঁড়ানোর মতো জায়গাও থাকে না। বাইরে বের হলে বাসের দরজায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীদের ঝুলে থাকার দৃশ্য চোখে পড়তে বাধ্য। বারিধারা
ডিওএইচএসে বসে এসব কথারই পুনরাবৃত্তি করছিলেন বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা মারুফুল হক। বলেন, ‘অফিসের সময় বাসে জায়গা পাওয়া যায় না; আবার অফিস কামাইও দেওয়া যাবে না। যে কারণে লোকজন ঠেলেঠুলে হলেও বাসে উঠতে হয়। অনেকসময় ভেতরে একদমই জায়গা থাকে না, সেক্ষেত্রে দেরিতে অফিসে প্রবেশ এড়াতে গেটে ঝুলে পড়া ছাড়া উপায় থাকে না।’
‘ঢাকার সড়কে যানজট, বাসে ভিড়; আবার ফুটপাত দিয়ে হেঁটে চলাচল করবেন, তারও জো নেই। একে তো অনেক ফুটপাত ভাঙাচোরা, কোথাও আবার ম্যানহোলের ঢাকানা নেই; তার ওপর আবার ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের কারণে হাঁটার জায়গাও নেই অনেক জায়গায়।’
মারুফুল বলেন, ‘অর্থাৎ চলাচলের সব বিকল্প বন্ধ। ফলে রাস্তায় বের হলেই দুর্ভোগ পোহাতে হবে—এ একপ্রকার নিশ্চিত।’
‘অথচ এই শহরেই আমাদের বাস করতে হচ্ছে। গাদাগাদি করে বাসে উঠি, যানজট ঠেলে কোনোরকমে অফিসে পৌঁছাই। ক্লান্তি নিয়ে সারা দিন কাজ করি।’
ঢাকার বিকল্প কোনো রাজধানীর দরকার আছে কি না—জানতে চাইলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. এম শামসুল হক বলেন, ‘বিশ্বের চল্লিশটির মতো দেশ তাদের রাজধানী অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে। কয়েকটি দেশ এ প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। সর্বশেষ ইন্দোনেশিয়া তাদের রাজধানী পরিবর্তন করে নুসানতারায় নিয়ে গেছে। মিসরও চলে যাচ্ছে।’
কাজেই বাংলাদেশের রাজধানীও অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া এমন একটি বাস্তবতা, যা নিয়ে সমীক্ষারও প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন তিনি।
শামসুল হক বলেন, ‘চিকিৎসক যেমন রোগীর রেকর্ড দেখলে বুঝতে পারেন, হার্টবিট ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে, তখন তো চিকিৎসকরা বলেন, এটা বেয়ন্ড রিপেয়ারড (মৃত্যু আসন্ন)। এরকম ঢাকার সবকিছুই এত তলানির দিকে চলে যাচ্ছে যে, এত এত বিনিয়োগ করার পরও অর্থাৎ এত চিকিৎসা করার পরও কোনো উন্নতি হচ্ছে না, একেবারে নন-রেসপন্সিভ।’
ভারত, পাকিস্তান, ব্রাজিল, নাইজেরিয়া, মিয়ানমার, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মিসর ও দক্ষিণ কোরিয়াও তাদের রাজধানী পরিবর্তন করেছে কিংবা করছে। অতিরিক্ত জনসংখ্যা ও যানজটের কারণেই দেশগুলো তাদের রাজধানী পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভূগর্ভস্থ পানি ফুরিয়ে যাওয়া, পরিবেশগত উদ্বেগ, দূষণ, প্রাকৃতিক বিপর্যয়—এমন নানা কারণে বিভিন্ন দেশের রাজধানী সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আরও আধুনিক, স্মার্ট, পরিবেশগত টেকসই ও বিনিয়োগবান্ধব রাজধানী গড়ে তুলছে দেশগুলো।
আরও পড়ুন: ঢাকার বাতাস আজ অস্বাস্থ্যকর
বিকল্প রাজধানী হতে পারত পূর্বাচল
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ঢাকারও বিকল্প বের করা একটি চরম বাস্তবতা বলে উল্লেখ করেছেন ড. এম শামসুল হক।
তার ভাষ্যে, ‘অনেকের কাছে শকিং (তাক লাগানো) মনে হতে পারে, অনেকের কাছে এমন কিছু আবেগেরও মনে হতে পারে; কিন্তু আবেগ দিয়ে তো আর দেশ চলে না। যদি আমরা অনেক আগেই (এ বিষয়ে) চিন্তা করতাম, তাহলে অনেক সম্ভাবনা ছিল। এমনকি কম খরচে পূর্বাচলে আমরা বিকল্প রাজধানী করে ফেলতে পারতাম।’
‘পূর্বাচলের জায়গাটা অনেক উঁচু, বন্যামুক্ত। কৌশলগতভাবে একটি রাজধানী শহর বন্যামুক্ত হওয়া উচিত। সেক্ষেত্রে পূর্বাচল উঁচু জায়গায়, মাটিও অরিজিনাল।’
ঢাকার অন্যান্য জায়গায় মাটি ভরাট করে সবকিছু করা হয়েছে। মাটি ভরাট করে অবকাঠামো নির্মাণ করা হলে যেকোনো ভবনের ভিত্তি ব্যয় অনেক বেড়ে যায় বলে উল্লেখ করেন এই নগর প্রকৌশলী।
দুর্বল মাটিতে বিনিয়োগও খুব একটা কার্যকর হয় না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগের একটি অংশ দুর্বল মাটির জন্য নষ্ট হয়ে যায়। ফলে রাজধানী এমন একটি জায়গায় হতে হয়, যেখানকার মাটি ভালো। সে অনুসারে পূর্বাচল ভালো অপশন ছিল।’
‘অথচ সেখানে সাত হাজার একরের একটি টাউনশিপ গড়ে তোলা হয়েছে। প্লট দিয়ে ব্যক্তিকে কোটিপতি বানানো হয়েছে। এত বড় অন্যায় একবিংশ শতাব্দীতে কেউ করবে না, যেটা সেখানে হয়েছে।’
‘যদি আবাসনের কথা বলি, তাহলে ফ্ল্যাট দেওয়া যায়; কিন্তু আমাদের মতো জনবহুল দেশে প্লট দেওয়া যায় না।’
রাজধানী হিসেবে ঢাকার কার্যকারিতা নেই উল্লেখ করে এই অধ্যাপক বলেন, ‘তবে এটি নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। সেক্ষেত্রে অবশ্য লাভেই হবে, কারণ তাতে মানুষের মধ্যে কোনো প্রশ্ন থাকলে তা দূর হয়ে যাবে, সিদ্ধান্ত নিতে সরকারের সুবিধা হবে।’
‘কিন্তু কেউ যদি এসব নিয়ে নাড়াচাড়াই না করেন, তাহলে একজন রোগী মারা যাচ্ছেন কিনা, পয়েন্ট অব নো রিটার্নের দিকে চলে যাচ্ছেন কিনা— তা কিন্তু বোঝা যাবে না। এতে আমরা একটি অদূরদর্শী জাতি হিসেবে পরিচিতি পাব।’
ইন্দোনেশিয়ার উদহারণ টেনে তিনি বলেন, ‘তারা জাকার্তা থেকে রাজধানী সরিয়ে নুসানতারায় নিয়ে গেছেন। এতে খরচ হয়েছে ৩৫ বিলিয়ন ডলার। গত অক্টোবরে তাদের কাজের প্রথম ধাপ শেষ হয়েছে। মিসরের রাজধানী কায়রো থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আমরা যে ছয়টি মেট্রো করতে যাচ্ছি, সেটারও ২০ থেকে ২৫ বিলিয়ন ডলার খরচ পড়বে।’
বিনিয়োগ ও পরিবেশবান্ধব, বাসযোগ্য, দূষণমুক্ত, গ্রিনসিটি হিসেবে ভাবলে ঢাকা কখনোই হবে না বলে জানান তিনি।
‘ঢাকায় যেভাবে ভূগর্ভস্থ পানি তোলা হচ্ছে, তাতে প্রতিনিয়ত আমাদের পানির স্তর নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে, ফলে পানি গভীর থেকে গভীরে নেমে যাচ্ছে।’
‘জাকার্তায়ও একই অবস্থা হয়েছিল। সেখানে অতিরিক্ত জনসংখ্যার কারণে ভূগর্ভস্থ পানি বেশি তোলা হয়েছিল। একসময় দেখা গেল, পানি পাওয়া যাচ্ছে না। পানি না থাকলে বসতি হবে কীভাবে! ঢাকায়ও ভূগর্ভস্থ পানি দিন দিন তলানির দিকে চলে যাচ্ছে।’
শামসুল হক বলেন, ২০০৫ সালেও ঢাকা শহরে গাড়ির গতি ঘণ্টাপ্রতি ২৫ কিলোমিটার ছিল। এখন সেটা প্রতি ঘণ্টায় পাঁচ কিলোমিটারে নেমে এসেছে। ঢাকা শহরের হার্টবিট কমে শূন্যের দিকে যাচ্ছে। আমরা ঢাকাকে বাঁচাতে অনেক কিছু করেছি, কিন্তু ধীরে ধীরে এই শহরের অধঃপতন হয়েই চলেছে।’
৩ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রে যেতে হলে যেসব অধিকার সম্পর্কে জানতে হবে
দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসে ফিরেই অভিবাসীদের ওপর চড়াও হচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। দেশটিতে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের জীবনে যেন অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে। নির্বাচনী প্রচারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুসারে অভিবাসীবিরোধী কঠোরনীতি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন তিনি।
ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়, অবস্থা এতটাই বেগতিক যে, একজন ভিসাধারীর চেয়ে বর্তমানে দেশটিতে অপরাধীরা বেশি অধিকার ভোগ করে থাকেন।
অভিবাসীদের গুয়ান্তানামো বে নৌঘাঁটিতে পাঠানো হচ্ছে। আইনি পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। এরইমধ্যে ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির খড়গ নেমে এসেছে ফিলিস্তিনপন্থি দুই শিক্ষার্থীর ওপর। তাদের মধ্যে খলিল মাহমুদকে ধরে নিয়ে লুইজিয়ানার একটি আটককেন্দ্র রাখা হয়েছে। তাদেরকে দেশ থেকে বের করে দিতে উঠেপড়ে লেগেছে মার্কিন প্রশাসন।
এছাড়া এল সালভাদরগামী অভিবাসীদের একটি ফ্লাইট ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। যা আদালতের নির্দেশের সম্ভাব্য লঙ্ঘন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরইমধ্যে প্রশাসনের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেছে আদালত।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রগামী পর্যটকদের সীমান্তে আটকে দেওয়া ঘটনা ঘটছে। এতে দেশে-বিদেশে কূটনৈতিক ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। যারা যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে যেতে চাচ্ছেন, তাদের মধ্যে শঙ্কাটা একটু বেশি কাজ করছে।
নিউ ইয়র্কের কারডোজো স্কুল অব ল-এর অধ্যাপক ও অভিবাসন আইনজীবী মাইকেল উইল্ডেস বলেন, কেউ যদি সশরীরে আমেরিকাতে উপস্থিত থেকেও আইনগত অনুমোদন না পান, তাহলে দেশটিতে তিনি উপস্থিত আছেন বলে গণ্য হবে না। যুক্তরাষ্ট্রে তারা ‘অ্যারাইভিং এলিয়েন’ (আগন্তুক অভিবাসী) হিসেবে পরিচিত হবেন।
মূলত, নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প বেশ জোরেশোরেই অভিবাসনবিরোধী নীতির কথা জানান দিয়েছিলেন। এবার তার কথা-কাজে মিল রাখার পালা। ২০ জানুয়ারি হোয়াইট হাউসে প্রত্যাবর্তন করেই তিনি খড়গহস্ত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসীদের ওপর।
শুক্রবার (২২ মার্চ) মোমোদু তাল নামের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে আত্মসমর্পণ করতে বলেছে মার্কিন অভিবাসন পুলিশ। তার আইনজীবী দলকে এই চিঠি মেইল করা হয়েছে। দেশ থেকে বের করে দেওয়ার প্রক্রিয়ার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক কর্মকর্তারা এই চিঠি দেন।
দেশে ভেতরে থাকা অভিবাসীদের না হয় এসব সহ্য করতে হচ্ছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আগে হয়রানিও সাম্প্রতিক সময়ে বেড়ে গেছে আশঙ্কাজনকভাবে।
এরই মধ্যে কিছু ঘটনা বিশ্বজুড়ে অনেকের নজড় কেড়েছে। কয়েকদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকালে কানাডীয় ব্যবসায়ী ও অভিনেত্রী জ্যাসমিন মুনি দুই সপ্তাহ আটক ছিলেন। মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক কর্মকর্তারা তাদের আটক করে রেখেছিলেন।
আরও একটি আশঙ্কাজনক কথা হলো, কেউ রাজনৈতিকভাবে ট্রাম্পবিরোধী হলেও তাকে হয়রানির মুখে পড়তে হতে পারে। ফ্রান্সের এক বিজ্ঞানী জানান, তার মোবাইলে ট্রাম্পের সমালোচনামূলক কিছু বার্তা পাওয়ায় নাকি তার ভিসা বাতিল করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী কর্মকর্তারা।
এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ নিয়ে বিশ্বব্যাপী মানুষের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি করেছে। যখন-তখন আটক হওয়ার ভয় তৈরি করা হয়েছে।
সবমিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনে কি বলা আছে, কী কী অধিকার রয়েছে অভিবাসীদের, কিছু প্রশ্নের মাধ্যমে তা জেনে নেওয়ার চেষ্টা করা যাক। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের ক্ষেত্রে করণীয় ও নিয়ম-কানুন নিয়ে আমেরিকান সিভিল লির্বাটিস ইউনিয়ন (এসিএলইউ) নামে একটি অলাভজনক সংগঠন—যারা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী নাগরিকদের অধিকার সংরক্ষণে কাজ করে থাকে—তারা কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন।
প্রশ্ন: একজন ব্যক্তি সব ধরনের বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও কর্মকর্তারা তাকে তল্লাশি করতে পারেন?
অবাক হলেও উত্তরটি হচ্ছে, হ্যাঁ। যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের জন্য বৈধ কাগজপত্র থাকলেও কোনো ধরনের সন্দেহজনক কিছু বহন করছে কিনা কোনো ভ্রমণকারী; এটি নিশ্চিত হওয়ার স্বার্থে তাদের ব্যাগপত্র তল্লাশি করতে পারেন অভিবাসন কর্মকর্তারা। এমনকি সন্দেহভাজন মনে না হলেও অভিবাসন কর্মকর্তারা এটি করতে পারেন বলে জানায় এসিএলইউ।
তবে সাংবিধানিক আইন অনুযায়ী, ধর্ম, বর্ণ, জাতীয়তা, লিঙ্গ, নৃতাত্ত্বিক বা রাজনৈতিক বিশ্বাসের কারণে কাউকে তল্লাশি করা যাবে না।
প্রশ্ন: ব্যক্তিগত মোবাইলও কী তল্লাশি করা হচ্ছে?
সরকারী আইন অনুযায়ী এয়ারপোর্টে সন্দেহজনক কোনো কিছু বহন করা হচ্ছে কিনা তা জানতে যেসব জিনিস অনুসন্ধান করা হবে, তার মধ্যে মোবাইল ও ল্যাপটপও রয়েছে। যদিও এটি নিয়ে আইনি বিতর্ক রয়েছে। কখনো-কখনো অভিবাসন কর্মকর্তার তাদের তদন্তের স্বার্থে মোবাইল বা ল্যাপটপের পাসওয়ার্ডও চেয়ে থাকেন বলে জানিয়েছে এসিএলইউ।
প্রশ্ন: যদি কেউ মোবাইল আনলক করতে অস্বীকৃতি জানান, তখন কী হবে?
এসিএলইউয়ের দেওয়া নির্দেশনা মতে, এটির ফলাফল মোটেই সুখকর নয়। যদি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নাগরিক বা গ্রিনকার্ডধারী তাদের ডিভাইস আনলক করতে অস্বীকৃতি জানান, তবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে তাদের বাধা দেওয়া না হলেও নানা হয়রানির মুখে পড়তে হবে।
যেমন, তাদের ভিসা প্রক্রিয়াকরণে দীর্ঘসূত্রতা, অভিবাসন কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত জেরা, এছাড়া পরবর্তী তদন্তের জন্য তাদের মোবাইল জব্দ করেও নিয়ে যেতে পারেন বলে নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি।
তবে ভিসা নিয়ে ভ্রমণকারী বা ভিসা-মুক্ত দেশের তালিকায় থাকা কোনো দেশের নাগরিক যদি তার ডিভাইস আনলক করে দেখাতে অস্বীকৃতি জানান, তাহলে ভিসা বাতিল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। প্রশ্ন: ভিসা-মুক্ত প্রোগামের আওতাধীন হলে কি প্রবেশ করা যাবে যুক্তরাষ্ট্রে?
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা-মুক্ত প্রোগামের আওতায় প্রায় দুডজন দেশের নাগরিক ৯০ দিনের জন্য ভ্রমণ কিংবা ব্যবসায়িক কাজে ভিসা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরাও একইভাবে ভিসা ছাড়া ওই দেশগুলোতে ৯০ দিনের জন্য ভ্রমণ করতে পারেন।
তবে সেক্ষেত্রে ভ্রমণের অন্তত তিনদিন আগে বৈদ্যুতিন ভ্রমণ কর্তৃপক্ষের (ইএসটিএ) অনুমোদন নিতে হবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করতে করা হয়েছে। মজার বিষয় হলো, নির্ধারিত সময়ের পরে কিন্তু আর ইএসটিএ অনুমোদন পাওয়া যাবে না। যেমন, কিউবার নাগরিকরা ২০২১ সালের ১২ জানুয়ারির পর আর কিন্তু ইএসটিএ পাচ্ছেন না।
প্রশ্ন: ইএসটিএ অনুমোদন নিয়ে কি যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করা যাবে?
এই প্রশ্নের উত্তর অবশ্য অনুমেয়, এই প্রোগ্রামের আওতায় ভ্রমণকারীরা কোনো ধরনের কাজ করতে পারবেন না। এছাড়া তারা লেখাপড়া করতে পারবেন না যুক্তরাষ্ট্রে। এর বাইরেও তাদের কিছু অধিকার হরণ করা হয়ে থাকে বলে নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যেমন, ভিসা ছাড়াই যারা যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন, তারা দেশটি থেকে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের নিবার্সিত করা হচ্ছে এই বিষয়ে কিছু বলতে পারবেন না। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজন মনে করলে অভিবাসন কর্মকর্তারা ইএসটিএ অনুমোদন থাকা ব্যক্তিদের আটক পর্যন্ত করতে পারেন।
প্রশ্ন: তবে ভিসা নিয়ে কি কাজ করা যাবে?
উত্তর হলো, না। স্থায়ীভাবে বা অস্থায়ীভাবে যারা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী নন, তারা কোনো কাজ করতে পারবেন না, লেখাপড়াও করতে পারবেন না। ভ্রমণকারীরা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত বলে নিউ ইয়র্ক টাইমসের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এমনকি যদি কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রক্রিয়াধীনও থাকে, তাও অভিবাসন কর্মকর্তারা ভর্তির অনুমোদন নাও দিতে পারেন। সাধারণত, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী নয় এমন ভ্রমণকারীদের জন্য তিন ধরনের ভিসা রয়েছে। সেগুলো হলো, ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে অস্থায়ী প্রবেশের ভিসা, পর্যটন ভিসা, ব্যবসা ও ভ্রমণের সমন্বিত ভিসা।
এই ভিসাগুলোর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত হতে পারে, তবে এই ভিসাধারীরা একটানা সর্বোচ্চ ৬ মাসের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে পারবেন না।
প্রশ্ন: আটক হলে করণীয় কি?
যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রতি যেহারে অভিবাসীরা আটক হচ্ছেন, তাতে অভিবাসীদের পাশাপাশি ভ্রমণকারীরাও আতঙ্কে রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে কি করে ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির দুষ্টচক্র থেকে বের হবেন তা জানতে আগ্রহী অনেকে।
এ বিষয়ে এসিএলইউয়ের পরামর্শ হচ্ছে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরকি নন, কিন্তু অভিবাসী বা ভ্রমণকারী যাই হোক না কেন; একজন অভিবাসী আইনজীবীর তথ্য সংগ্রহ করে রাখতে হবে। যেকোনো সময়ে প্রয়োজন হতে পারে। পরিস্থিতি যেভাবে খারাপের দিকে যাচ্ছে, তা যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণকারীদের জন্য সত্যিই উদ্বেগজনক বলে অভিমত দিয়েছেন এসিএলইউয়ের আইনজীবী নূর জাফর। এ কারণে আটক হলে অভিবাসন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা মেনে চলা এবং যতদ্রুত সম্ভব একজন অভিবাসন আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
প্রশ্ন: যুক্তরাষ্ট্রে তাহলে কি অধিকার আছে একজন ভ্রমণকারীর?
যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণকারীদের কেবল নীরব থাকার অধিকার রয়েছে, অবশ্য তাও সবসময় নয় বলে দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ধরা যাক, বিমানবন্দরে একজন ভ্রমণকারীকে প্রশ্ন করা হলো তিনি যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করতে চান কিনা, এই প্রশ্নের কোনো উত্তর না দেওয়া হলেও ওই ব্যক্তির ভ্রমণভিসা বাতিল হতে পারে।
প্রশ্ন: প্রবেশাধিকার যদি বাতিল হয়েই যায় তখন করণীয় কী?
মূলত এক্ষেত্রে কর্তার আদেশেই কর্ম হবে। তার মানে এই যে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্মকর্তারা চাইলে ভিসা বাতিল করে নিজ দেশে ফেরতও পাঠাতে পারেন, আবার আটকেও রাখতে পারেন।
সাধারণত আমেরিকার সীমান্তে উপস্থিত হয়ে যদি ভিসা বাতিল হয়, তাহলে ভিসাধারীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়, আবার আটকেও রাখতে পারেন কর্মকর্তারা। কারণ আইন অনুযায়ী, এই ঘটনাগুলো দেশটির সীমানার বাইরে ঘটার কারণে সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার তাদের থাকে না। এমনকি সঙ্গে সঙ্গে আইনজীবীও পান না।
এসব কারণে আইনজীবী ও শিক্ষক মাইকেল উইল্ডস বলেছেন, ‘একজন অপরাধী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে যতটুকু অধিকার আপনার আছে, একজন ভিসাধারী হিসেবে সেটুকু অধিকারও নেই।
৩ দিন আগে
মুন্সীগঞ্জে আলুর বাম্পার ফলনেও কপালে চিন্তার ভাঁজ কৃষকদের
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে আলু তোলা শুরু হয়েছে। এ বছর আলুর বাম্পার ফলনের পরও হাসি নেই কৃষকের মুখে। আলুর দাম কম থাকায় নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন এই এলাকার কৃষকরা।
তথ্যানুযায়ী উপজেলার ১ হাজার ৯৫০ হেক্টরের অধিক জমিতে আলু আবাদ করা হয়েছে। আর আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৫৮ হাজার ৫০০ টন। আলুর ফলন নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও আলুর পাইকারি দামে হতাশ প্রান্তিক কৃষকরা। এছাড়া হিমাগারে সংরক্ষণের জন্য কৃষকের অনেক আলু বস্তায় করে খোলা আকাশের নিচে রাখতে হচ্ছে।
এরই মধ্যে আবহাওয়া বার্তায় বৃষ্টির আশঙ্কায় উত্তোলন করা আলু ভেজা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। বর্তমান বাজার মূল্যের চেয়ে উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় কৃষকরা এখনই আলু বিক্রি করতে নারাজ। স্থানীয় হাট-বাজারে প্রকার ভেদে আলুর কেজি বিক্রি হচ্ছে ২২-২৫ টাকা। পাইকারী বাজারে কৃষকের উৎপাদিত আলু বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ১৭ টাকা কেজি দরে। এই পরিস্থিতিতে লোকসানের আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন আলু চাষিরা।
আলু চাষিরা জানিয়েছে, এবার সিন্ডিকেটের কারণে কয়েকগুণ বেশি দামে আলুবীজ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ সংগ্রহ করতে হয়েছে তাদের। প্রতি কানি (১৪০ শতাংশ) জমিতে আলু চাষে ব্যয় ধরা হচ্ছে প্রায় পৌনে ৪ লাখ টাকা। যদিও এলাকাভিত্তিক এই খরচ কিছুটা কম-বেশি হতে পারে। সেই হিসেবে প্রতি কানি জমিতে অন্তত ৪০০ মণ আলু উৎপানের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে। তবে গড়ে কানি প্রতি সাড়ে ৩০০ মণ আলুর ফলন পাওয়ার কথা বলছেন তারা।
আরও পড়ুন: ফরিদপুরের হিমাগারে আলু রাখতে বিড়ম্বনা, অপেক্ষায় নষ্ট হওয়ার শঙ্কা
এতে এই অঞ্চলে প্রতি মণ আলুর উৎপাদন খরচ পড়েছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা। এজন্য এখনই লোকসানে আলু বিক্রি করতে চাইছেন না তারা।
কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, এলাকার হিমাগারে আলু রাখা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। কারণ হিসেবে তারা বলেন, সিন্ডিকেটের লোকজন অন্য জেলা থেকে আলু এনে হিমাগার ভরছেন।
এলাকার কিছু আলু রাখার জন্য আটপড়ার হিমাগারটির আংশিক খালি রাখা হয়েছে। হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করতে না পাড়ার আশঙ্কায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলায় সচল হিমাগারের সংখ্যা ৩টি। এর মধ্যে তন্তরের সোন্ধারদীয়ার এ. এন. খান হিমাগারে আলুর ধারণ ক্ষমতা ৩ হাজার টন, শ্রীনগর সদর এলাকার চকবাজার এলাকায় আল-আমিন আইস অ্যান্ড কোল্ড স্টোরেজের ধারণ ক্ষমতা ৫ হাজার টন আলু ও আটপাড়া এলাকার শ্রীনগর হিমাগারে আলুর ধারণ ক্ষমতা ৬ হাজার টন।
উপজেলার ৩টি হিমাগারের আলুর ধারণ ক্ষমতা সর্বমোট ১৪ হাজার মেট্রিক টন। আর আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৫৮ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শ্রীনগর উপজেলার পূর্ব অঞ্চলের কুকুটিয়া ও তন্তর এলাকার প্রায় ৮৫ শতাংশ কৃষক তাদের উৎপাদিত আলু সংরক্ষণ করে থাকেন পার্শ্ববর্তী লৌহজং উপজেলার হাট নওপাড়া বাজার এলাকার হিমাগারে। চলমান রমজান ও আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে কৃষি শ্রমিকের সংকট থাকায় অতিরিক্ত মজুরি দিয়েও চাহিদা মতো শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।
এছাড়া চক ও প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আলু বহনকারী সাইকেল ও অন্যান্য ট্রলির সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। দূরত্ব ভেদে হিমাগার পর্যন্ত আনতে ব্যাটারি চালিত ইজিবাইকে বস্তা প্রতি নেওয়া হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা।
স্থানীয় হিমাগার কর্তৃপক্ষ জানায়, এ বছর হিমাগারে ৫০ কেজি ওজনের প্রতি বস্তা আলু সংরক্ষণের জন্য চার্জ ধরা হচ্ছে ৩০০ টাকা।
আরও পড়ুন: আলু সংরক্ষণে ৮ টাকা ভাড়া বেঁধে দিল হিমাগার মালিকরা
শ্রীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহসিনা জাহান তোরণ জানান, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আলুর আশানুরূপ ফলন পাওয়া যাচ্ছে। উপজেলায় ৩টি সচল হিমাগার রয়েছে। হিমাগারগুলোতে মোট ধারণ ক্ষমতা ১৪ হাজার মেট্রিক টন।
এ পর্যন্ত হিমাগারগুলোতে প্রায় ৭ হাজার মেট্রিক টন আলু সংরক্ষণের তথ্য পাওয়া গেছে।
৪ দিন আগে
সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যা কমার কোনো লক্ষণ নেই
বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিবেশী ভারতের স্থল সীমান্ত সবচেয়ে বেশি। কিন্তু প্রায় সময়েই নানা কারণে বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। যার কারণে মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ নানা প্রশ্নও উঠছে। সীমান্তে অব্যাহত ভয়াবহ সহিংসতায় বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রাণহানির সংখ্যা ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে।
গত দুই বছরে হতাহতের সাম্প্রতিক পর্যালোচনায় সীমান্ত এলাকায় চলমান উত্তেজনা ও চ্যালেঞ্জের বিষয়টি উঠে এসেছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদর দপ্তরের ২০২৩ সালের একটি পরিসংখ্যানে দেখা যায় ওই বছর সীমান্তে পৃথক ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৫ জন বাংলাদেশি।
এর মধ্যে ১৯ জন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে এবং বাকি ছয়জন ভারতীয় বেসামরিক নাগরিকের গুলিতে নিহত হয়েছেন।
এই ঘটনাগুলো বিএসএফ সদস্যদের প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার এবং স্থানীয় ভারতীয় বাসিন্দাদের জড়িত বিক্ষিপ্ত সহিংসতা নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
সীমান্ত হত্যা বন্ধে অর্থাৎ শূন্যে নামিয়ে আনার জন্য বিএসএফের মহাপরিচালকের কাছ থেকে বছরের পর বছর ধরে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও, প্রাণঘাতি অস্ত্রের ব্যবহার অব্যাহত রেখেছে বিএসএফ, যার ফলে বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রাণহানি ঘটছে।
২০২৪ সালে এই প্রবণতা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। বিজিবি সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গেল বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বিএসএফের হাতে আরও ১৯ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। আর এসব নিহত আগের বছরের একই ধরনের সহিংসতার ধারাবাহিকতা।
এ ছাড়া বছরটিতে ভারতীয় বেসামরিক নাগরিকদের হাতে আরও পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এসব হতাহতের কারণে উভয় সরকারের ক্ষোভ ও জবাবদিহিতার দাবিকে আরও বাড়িয়েছে।
তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো দেশ দুটির সরকার পর্যায় ও বাহিনী পর্যার্য়ে ধারাবাহিক আলোচনা চললেও ২০২৫ সালেও হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয়নি। প্রথম দুই মাসে, ১ জানুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, আরও তিনজন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। আরও এসব নিহতদের মধ্যে– একজন বিএসএফ সদস্যদের হাতে এবং দুজন ভারতীয় নাগরিকের হাতে প্রাণ হারান।
সর্বশেষ এই প্রাণহানিগুলো অর্থনৈতিক সুযোগ, অভিবাসন বা বাণিজ্যের সন্ধানে সীমান্ত অতিক্রমকারী ব্যক্তিদের চলমান ঝুঁকির কথা তুলে ধরে।
আরও পড়ুন: দহগ্রাম সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের চেষ্টা, বিজিবির বাধা
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার উদ্বেগের জন্য একটি কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অঞ্চলে বসবাসকারীদের জীবনকে প্রভাবিত করছে ঘন ঘন সহিংসতা। এসব অঞ্চলে অবৈধ সীমান্ত অতিক্রম এবং আঞ্চলিক বিরোধের খবরও পাওয়া যাচ্ছে প্রায়ই।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো উভয় দেশকে উত্তেজনা কমাতে, সীমান্ত সুরক্ষা প্রোটোকল জোরদার করা এবং সহিংসতার জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
তবে বিস্ময়ের ব্যাপপার হলো সাম্প্রতিক প্রাণহানির বিষয়ে এখন পর্যন্ত ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। তবে এর আগের ঘটনাগুলোর ব্যাপক নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। সীমান্তে চলমান সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে হস্তক্ষেপ ও চাপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অ্যাডভোকেসি গ্রুপগুলো।
নিহতদের পরিবারের জন্য, সহিংসতা একটি স্থায়ী দুঃখের কারণ এবং যার কোনো সমাধান নেই। মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং আরও নিরাপদ ও মানবিক সীমান্ত নীতির বাস্তবায়নে কাজ করার জন্য বাংলাদেশ ও ভারত উভয়ের ওপরই চাপ বাড়ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজিবি সদর দপ্তরের পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শফিকুর রহমান বলেন, গত ১০ বছরে ২২০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে হত্যা করেছে ভারতের বিএসএফ। এছাড়া একই সময়ে ভারতীয় নাগরিকদের হাতে নিহত হয়েছেন আরও ৫৭ জন বাংলাদেশি।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল রহমান জোর দিয়ে বলেন, বিজিবি সদস্যরা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার নীতমালা কঠোরভাবে মেনে কাজ করে। ‘যদি কোনো ভারতীয় নাগরিক অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করে, তাহলে আমরা তাদের আটক করে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করি অথবা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্থানীয় থানায় হস্তান্তর করি। আমরা কখনও গুলি চালাই না, যে কারণে আমাদের সীমান্তে বিজিবির হাতে কোনো ভারতীয় নাগরিকের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যখনই বিএসএফের সঙ্গে বৈঠক করি, কমান্ডার স্তরে হোক বা অন্য কোনো স্তরে, আমরা বারবার তাদের অনুরোধ করি যে, যদি কোনো বাংলাদেশি অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে তাহলে তাদেরদের উপর গুলি না চালাতে। বরং তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা উচিত।’
সীমান্তে বিএসএফের প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে কঠোর অবস্থান নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
বিজিবির নজরদারির পরও বাংলাদেশি নাগরিকরা কীভাবে সীমান্ত অতিক্রম করছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'সীমান্তে ৯৯ শতাংশ ঘটনা চোরাচালান সংক্রান্ত। সীমান্তের দুই পাশেই রয়েছে চোরাচালান সিন্ডিকেট। যারা চোরাচালানের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে তারা প্রায়ই ভারতীয় অংশের সিন্ডিকেট সদস্যদের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়ে। এরপর যখন তারা ফিরে আসতে থাকে তখন তারা বিএসএফের প্রতিরোধের মুখোমুখি হয়। এসময় সহিংস সংঘর্ষ হয় যেখানে বিএসএফ সদস্যরা বেশিরভাগ প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে থাকে।’
তিনি বলেন, ‘অন্যদিকে ভারতীয় নাগরিকরা অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করলে আমরা মানবাধিকার আইন মেনে চলি। গুলি চালানোর পরিবর্তে আমরা তাদের আটক করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করি।’
শফিকুর রহমান আরও উল্লেখ করেন, সীমান্ত ফাঁড়িগুলোর (বিওপি) মধ্যে দূরত্ব অনেক বেশি। প্রতিটি বিওপি ২০ থেকে ৩৫ জন সদস্য নিয়ে পরিচালিত হয়। তিনি বলেন, 'সারা দেশে বিজিবির প্রায় ৭০০টি দল রয়েছে। যারা সবসময় সীমান্তে টহল দিয়ে থাকে। তবে তা যথেষ্ট নয়। ফলে বিজিবির প্রতিরোধের শতচেষ্টা সত্ত্বেও কিছু বাংলাদেশি নাগরিক অজান্তেই সীমান্ত অতিক্রম করে।’
আরও পড়ুন: সীমান্তের কাছে আইএসআই জড়ো হওয়ার খবর খাঁটি কল্পকাহিনী: প্রেস উইং
ভারতে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম রোধে গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, বিজিবি সীমান্ত অতিক্রম নিরুৎসাহিত করতে এবং এর ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্নভাবে সীমান্ত এলাকার জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ করছে।
কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকয় সীমান্ত সম্পর্কিত হতাহত রোধের বিষয়টি অগ্রাধিকারে রয়েছে। উভয় দেশকে মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে এবং সীমান্তে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য ক্রমবর্ধমান চাপের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
৫ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স
অযত্ন-অবহেলায় যেন নিজেই রোগী হয়ে যাচ্ছে ভারত সরকারের উপহার পাওয়া চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স। মুমূর্ষু রোগীর নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তরের কাজে নিয়োজিত অ্যাম্বুলেন্স পড়ে থেকে থেকে অকেজো হয়ে যাচ্ছে। এখন কর্তৃপক্ষের বোঝস্বরূপ পড়ে আছে হাসপাতালে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ২৫০ শয্যার নতুন বিল্ডিংয়ের এক কোণে পড়ে আছে এই অ্যাম্বুলেন্সটি। অবশ্য এর আগে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ভেতরেও পড়েছিল ভারতের উপহারের অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সটি।
আরও পড়ুন: সিসি ক্যামেরা স্থাপনের টাকা নিয়ে হাওয়া, ছিনতাই-ডাকাতি আতঙ্কে ফেনী পৌরবাসী
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ভারত সরকার উপহার হিসেবে যেসব অ্যাম্বুলেন্স বাংলাদেশ পেয়েছিল, তাদেরই একটি পায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল। এই আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সটি ২০২১ সালের ২৬ নভেম্বর রাতে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এসে পৌঁছায়।
সে দিনই অ্যাম্বুলেন্সটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সটি বুঝে নেওয়ার প্রায় সাড়ে ৩ বছর পার হয়ে গেলেও চালু করা হয়নি এর সেবা। প্রশিক্ষিত চিকিৎসক, নার্স ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করা যাচ্ছে না। এ যেন গাড়ি থাকলেও ঘোড়া না থাকার মতো অবস্থা।
জানা যায়, আইসিউ অ্যাম্বুলেন্স তো পরের কথা, চুয়াডাঙ্গা জেলায় সরকারি বা বেসরকারি কোনো হাসপাতালেই আইসিইউ সেবা চালু নেই। অথচ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল থেকে প্রতিনিয়তই মুমূর্ষু রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা, রাজশাহীসহ বিভিন্ন হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। যে কারণে এই আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সটির ব্যবহার এখানে অতি গুরুত্বপূর্ণ। অথচ অ্যাম্বুলেন্সটি চালুর বিষয়ে যেন কারো কোনো মাথাব্যথা নেই।
আরও পড়ুন: খাগড়াছড়িতে কলেজের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পরীক্ষা কেন্দ্র, ব্যাহত শ্রেণিকার্যক্রম
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুত কুমার রায় বলেন, ‘রোগী বহনে হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টযুক্ত অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও জনবলের অভাবে তা চালু করা যাচ্ছে না। সদর হাসপাতালটিতে আইসিইউ ইউনিট চালু করার বিষয়ে এরই মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। আইসিউই ইউনিট চালু হলে অ্যাম্বুলেন্সটি সচল করা যাবে।’
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সটি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের অধীনে রয়েছে। তবে সেটি সচল করে সেবা দিতে প্রশিক্ষিত জনবল ও চিকিৎসকের প্রয়োজন। জনবল না থাকায় অ্যাম্বুলেন্সটি অব্যবহৃত পড়ে আছে।’
৬ দিন আগে
সিসি ক্যামেরা স্থাপনের টাকা নিয়ে হাওয়া, ছিনতাই-ডাকাতি আতঙ্কে ফেনী পৌরবাসী
ফেনী পৌরসভার ১৫০টি স্থানে স্থাপিত ২৪০টি সিসি ক্যামেরার বেশিরভাগই নষ্ট। এতে করে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে অপরাধীরা, আর ছিনতাইকারী ও ডাকাতের আতঙ্কে তটস্থ থাকতে হয় শহরের ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষকে। অনেক জায়গায় মানুষ সন্ধ্যার পর চলাচল করতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। সিসি ক্যামেরা না থাকায় পর্যবেক্ষণ করা যাচ্ছে না অপরাধমূলক বিভিন্ন ঘটনার ভিডিওচিত্র। ফলে অনেক অপরাধীকে শনাক্ত করাও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে, পৌরসভার ভেতরে ক্যামেরা স্থাপনের জন্য শহরের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে তোলা ৩ কোটি টাকা চাঁদা নিয়ে লাপাত্তা হয়ে গেছেন ফেনী শহর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পারভেজ হাজারী। ফলে বিড়ম্বনা আরও বেড়েছে।
ফেনী পৌরসভা সূত্র জানিয়েছে, ২০১৫ সালে ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে ২৪০টি সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়। ইউ-টাচ নামে ফেনীর একটি প্রতিষ্ঠান এগুলো স্থাপনে কাজ করে। তবে দুই বছর চলার পর ক্যামেরাগুলোর বেশিরভাগই অকেজো হয়ে যায়। পরবর্তীতে ২০২২ সালে ঢাকার গোল্ডেন ট্রেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেড় কোটি টাকার চুক্তিতে ক্যামেরাগুলো প্রতিস্থাপন করার উদ্যোগ নেন তৎকালীন পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন ও পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী। কিন্তু কাজ অর্ধেক সম্পন্ন হওয়ার পর আর্থিক জটিলতায় প্রকল্পটি স্থগিত হয়ে যায়।
অবশ্য, পৌরসভার ভেতরে ক্যামেরা স্থাপনের জন্য ফেনী শহর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পারভেজ হাজারীর মাধ্যমে প্রতিটি মার্কেটের মালিক ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৩ কোটি টাকা চাঁদা আদায় করা হয়েছিল। তবে আওয়ামী লীগঘেঁষা হওয়ায় গত ৫ আগস্ট দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় থেকে তিনি গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন। ফলে তার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের দেওয়া ওই চাঁদাও হাপিশ হয়ে গেছে।
আরও পড়ুন: ফরিদপুরের হিমাগারে আলু রাখতে বিড়ম্বনা, অপেক্ষায় নষ্ট হওয়ার শঙ্কা
এদিকে, ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর দেশের টালমাটাল আইনশঙ্খলা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বিপুলসংখ্যক সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা। পরে বন্যার পানিতে ক্যামেরার যন্ত্রপাতি ও কন্ট্রোলরুমের সরঞ্জামও নষ্ট হয়ে যায়।
পৌর শহরের নজরদারি পরিস্থিতি ভেঙে পড়ায় পোয়াবারো হয়েছে দুর্বৃত্তদের। পুলিশের চোখ ফাঁকি দেওয়া আগের চেয়ে সহজ হওয়ায় সম্প্রতি শহরজুড়ে বেড়েছে ছিনতাই, ডাকাতির মতো ঘটনা।
ফেনী জেলা পুলিশের অপরাধ বিভাগ থেকে পাওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ফেনীতে গত জানুয়ারি মাসে চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই, নারী নির্যাতন, মাদক কারবারসহ মোট ১৪০টি ও ফেব্রয়ারি মাসে ১২২টি অপরাধ সংঘঠিত হয়েছে। অথচ গত বছরের জানুয়ারিতে এই সংখ্যা ছিল ৯৯টি এবং ফেব্রুয়ারিতে ১০৭টি।
শহরের অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে বিসিক, রামপুর রাস্তার মোড়, আলোকদিয়া ও ফলেস্বর এলাকাকে গণ্য করা হয় বলে জানিয়েছে ফেনী মডেল থানা সূত্র। তবে প্রশাসনের স্থাপিত ক্যামেরাগুলোর বেশিরভাগ অকেজো হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে বিভিন্ন বাড়ির মালিকদের লাগানো ক্যামেরা ও সাধরণ মানুষের করা ভিডিও ও ছবির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
শহরের এই নিরাপত্তাহীন পরিস্থিতি থেকে দ্রুত উত্তরণের জন্য নষ্ট ক্যামেরাগুলো দ্রুত প্রতিস্থাপন কিংবা মেরামত করে হলেও সেগুলো কার্যকর করা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পৌরসভার বাসিন্দারা। পাশাপাশি, দীর্ঘদিন ধরে ক্যামেরাগুলো থেকে সেবা পেতে নিয়মিত সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথাও জানিয়েছেন তারা।
এ ছাড়াও, নতুন ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে সিসিটিভি ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল।
আরও পড়ুন: বেনাপোল বন্দরে ১৮৮০০ টন চাল আমদানি, প্রভাব নেই দামে
শহরের ব্যবসায়ী রেজাউল গনি পলাশ বলেন, ‘সিসি ক্যামেরা না থাকায় জেলায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ বাড়ছে। ঘটছে হত্যার মতো ঘটনাও। সড়কে সিসি ক্যামেরা না ধাকায় অপরাধীরা সহজে পার পেয়ে যাচ্ছে। তাই সিসি ক্যামেরাগুলো ঠিক করে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক করতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।’
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ফেনীর সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘সিসিটিভি ক্যামেরা জনগণের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ সৃষ্টি করে এবং অনেক সময় অপরাধীদের অপরাধ থেকে বিরত রাখতে প্রভাব ফেলে। এছাড়া ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও দুর্ঘটনা কমানোর ক্ষেত্রেও এর কার্যকারিতা অনেক।’
‘তবে সিসিটিভির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রয়োজন সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও ডেটা সুরক্ষা। এটি প্রযুক্তির মাধ্যমে আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিৎ, জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে যত দ্রুত সম্ভব সিসি ক্যামেরাগুলো ঠিক করা।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফেনী পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, ‘সিসি ক্যামেরা অপরাধী ধরার জন্য সবচেয়ে বেশি কাজে আসে। ছবি দেখে গ্রেপ্তারের পর অপরাধীর অস্বীকার করার সুযোগ থাকে না; তাতে পুলিশের তদন্ত কাজের অনেক সুবিধা হয়। তাছাড়া অপরাধীর অপরাধও আদালতে সহজে প্রমাণ করা যায়। তবে বর্তমানে এ বিষয়ে পুলিশকে নির্ভর করতে হচ্ছে ব্যক্তি পর্যায়ে লাগানো ক্যামেরাগুলোর ওপর।’
আরও পড়ুন: খাগড়াছড়িতে কলেজের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পরীক্ষা কেন্দ্র, ব্যাহত শ্রেণিকার্যক্রম
নানা জটিলতার মাঝে সম্প্রতি অবশ্য স্বল্প পরিসরে হলেও ফের ক্যামেরা প্রতিস্থাপনের কাজ হাতে নিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। এক্ষেত্রে তারা ফের দায়িত্ব দিয়েছে সেই ইউ-টাচ নামের প্রতিষ্ঠানটিকে। ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে পুরাতন ক্যামেরাগুলো মেরামত করে নতুন করে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে পৌরসভার প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, ‘পৌরসভার নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই আমরা নতুন করে সিসি ক্যামেরা চালু করার ব্যবস্থা করেছি। শিগগিরই তা কার্যকর হবে।’
৬ দিন আগে
খাগড়াছড়িতে কলেজের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পরীক্ষা কেন্দ্র, ব্যাহত শ্রেণিকার্যক্রম
নানা প্রতিকূলতার মধ্যে শিক্ষাকার্যক্রম চালাচ্ছে খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি গিরিমৈত্রী সরকারি ডিগ্রি কলেজ। রয়েছে শিক্ষক ও আবাসন সংকট। পাশাপাশি ভবনগুলোও জরাজীর্ণ। এমন বেহাল অবস্থায় প্রতিষ্ঠানটিকে পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। দূরাবস্থার মধ্যে পাশ্ববর্তী উপজেলার পরীক্ষার্থী থাকায় পরভারে এখন কাতর হয়ে পড়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি।
জানা যায়, কলেজে শিক্ষকের সৃষ্টপদ ১৭টি। বর্তমানে কর্মরত ১২জন। বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক শাখায় বর্তমানে শিক্ষার্থী (পরীক্ষার্থী ব্যতিত) প্রায় ১২০০ জন। আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষার্থী ৬৮৫ জন।
গত ৫ থেকে ৭ বছর ধরে এই কলেজ কেন্দ্রে পাশ্ববর্তী গুইমারা সরকারি কলেজ ও লক্ষ্মীছড়ি সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও গত দুই বছর ধরে উপজেলার আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীর এই কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছে। কিন্তু কলেজে আবাসন ও শিক্ষক সংকট প্রকট হওয়ায় পাশ্ববর্তী কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয়ে কেন্দ্র স্থাপন এবং উপজেলার ১০টি মাধ্যমিক স্কুল, মাদরাসা থেকে পরীক্ষা চলার সময়ে পর্যবেক্ষক হিসেবে শিক্ষক ও হাইবেঞ্চ, লো-বেঞ্চ এনে পরীক্ষা নেওয়া হয়। ফলে ওইসব স্কুল, মাদরাসাতেও শ্রেণিকার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হয়।
বিগত ৪ বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীর তথ্যমতে কেন্দ্রে গড়ে পরীক্ষার্থী ১ হাজার ২০০ জন। এর মধ্যে পাশ্ববর্তী গুইমারা ও লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার (কলেজের) শিক্ষার্থী অর্ধেক। আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষায়ও কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন। এর মধ্যে ওই দুই কলেজের ৬০০ জন। ফলে পাশ্ববর্তী উপজেলার দুইটি কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপনের দাবি উঠেছে।
সরজমিনে দেখা গেছে, কলেজে একটি বহুতল ভবনের দুপাশে প্রতিষ্ঠাকালীন একটি টিনশেড ও দ্বিতল ভবন দুইটি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ। পুরাতন দ্বিতল ভবনের ছাদে টিনের ছাউনিতে তৈরি বড় একটি খোলা রুমে নিয়মিত পাঠদান ও এইচএসসি পরীক্ষাও নেওয়া হয়। রুমের ভিতর থেকে অনায়াসে আকাশ দেখা যায়। সামান্য বৃষ্টিতে অঝোরে পানি পড়ে।
কলেজটির অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) এস.এম শাহ ই আলম জানান, ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত কলেজটি ২০১৮ সালে জাতীয়করণ করা হয়। কলেজে পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী থাকলেও শিক্ষক ও আবাসন সংকট প্রকট। পুরাতন(জরাজীর্ণ) টিনশেড ও দ্বিতল ভবনের ছাদে টিনশেডে করা বড় হল রুমে ক্লাসের পাশাপাশি সেন্টার পরীক্ষাও নিতে হয়।
এইচএসসি পরীক্ষার সময় কেন্দ্র পরিদর্শনে আসা কর্মকর্তারা একাধিকবার এ বিষয়ে আপত্তি জানালেও পরীক্ষার্থী বাড়তে থাকায় বিকল্প ব্যবস্থা করা সম্ভব হচ্ছে না। নিজ কলেজের ৬০০ থেকে ৭০০ পরীক্ষার্থীর পাশাপাশি এখানকার আইডিয়াল কলেজসহ গুইমারা ও লক্ষ্মীছড়ি সরকারি কলেজের পরীক্ষার্থীরও এই কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।
তিনি বলেন, এতে ফার্নিচার, ডিউটি(পর্যবেক্ষক) হিসেবে আমাকে উপজেলার মাধ্যমিক স্কুল ও মাদরাসা নির্ভর হতে হয়। কলেজ সংলগ্ন কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয়েও ভেন্যু করতে হয়। এর ফলে ওইসব স্কুল ও মাদরাসায় পাঠদান ব্যাহত হয়।
তিনি আরও বলেন, আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষায় এই কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী হবে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন। পর্যবেক্ষক লাগবে ৭০ জন। কিন্তু অংশগ্রহণকারী কলেজে শিক্ষক হবে ৩০ থেকে ৩৫ জন। অবশিষ্ট পর্যবেক্ষক নিতে হবে স্কুল, মাদরাসা থেকে। এভাবে পরনির্ভর হয়ে কেন্দ্র পরিচালনা করা দুঃসাধ্য বলেও জানান শাহ ই আলম।
আরও পড়ুন: ঝালকাঠিতে সরকারি বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান, আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা
তিনি বলেন, এই কেন্দ্র থেকে গুইমারা ও লক্ষ্মীছড়ি সরকারি কলেজ পরীক্ষার্থীদের অন্য কেন্দ্রে (পাশ্ববর্তী) অথবা ওই উপজেলায় নতুন কেন্দ্র সৃষ্টির জন্য ২০২৩ সালে থেকে বারবার আবেদন করে আসলেও শিক্ষাবোর্ড বিষয়টি আমলে নিচ্ছে না। ফলে পরভারে আমি এখন কাতর হয়ে পড়েছি।
কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মংশেপ্রু মারমা বলেন, কলেজ পরীক্ষার্থীদের ভেন্যু হিসেবে আমার স্কুল ব্যবহার, শিক্ষকদের ডিউটি করতে গিয়ে পাঠদান চরমভাবে ব্যাহত হয়।
দক্ষিণ চেঙ্গুছড়া নেছারিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা সুপার মাওলানা বেলাল উদ্দীন বলেন, কলেজ কেন্দ্রে পর্যবেক্ষক হিসেবে শিক্ষক ও ফার্নিচার দিতে গিয়ে আমাদের শ্রেণিকার্যক্রম ব্যাহত হয়।
৭ দিন আগে