বাংলাদেশ
দুই জেলার দায়িত্ব পেলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী
জামালপুর ও কিশোরগঞ্জ জেলার সার্বিক উন্নয়ন, সুশাসন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তদারকির দায়িত্ব পেয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। দেশের জেলা পর্যায়ে সরকারি কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং সমন্বয়ের লক্ষ্যে তাকে এই দুই জেলার দায়িত্ব দিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সংযোগ অধিশাখা থেকে জারি করা এক গেজেটের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনটিতে স্বাক্ষর করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
গেজেট অনুযায়ী, নিজ মন্ত্রণালয়ের অর্পিত দায়িত্বের পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী জামালপুর ও কিশোরগঞ্জ জেলায় সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের গতি পর্যবেক্ষণ, মাদক ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় তদারকি ও পরামর্শ দেবেন।
একই সঙ্গে তিনি এ দুই জেলার উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলাভিত্তিক বিভিন্ন সমন্বয় সভা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অংশ নেবেন।
গেজেটে আরও জানানো হয়, মাঠপর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে মোট ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপকে দেশের নির্দিষ্ট জেলাগুলোর তদারকির এই বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
১৪ ঘণ্টা আগে
৬৪ জেলার আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-হুইপ
দেশের ৬৪ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রমসহ সার্বিক সরকারি কার্যাবলি তদারকি ও সমন্বয়ের জন্য ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপকে দায়িত্ব দিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপনটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিগত সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় উন্নয়নের বরাদ্দ কাগজে-কলমে থাকলেও ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে লুটপাট হয়েছে। লুটপাটের অর্থের একাংশ বিদেশে পাচার এবং অন্য অংশ মাদকসহ সামাজিক অবক্ষয়, জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ কাজে ব্যবহারের বিষয়টি সরকার গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছে।
এ পরিস্থিতিতে আইন-শৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রমসহ সার্বিক সরকারি কার্যাবলি তদারকি ও সমন্বয়ে জেলা পর্যায়ে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপদের তদারকি ও সমন্বয়ের এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী ইকবাল হাসান মাহমুদ রাজশাহী ও নাটোর জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন। ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনকে লালমনিরহাট, নীলফামারী ও পঞ্চগড় এবং আব্দুল আউয়াল মিন্টুকে লক্ষ্মীপুর জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নিতাই রায় চৌধুরী চুয়াডাঙ্গা, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির হবিগঞ্জ এবং আরিফুল হক চৌধুরী মৌলভীবাজার জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন।
মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিকে চট্টগ্রাম জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা এবং আসাদুল হাবিব দুলু ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন। মো. আসাদুজ্জামান খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট এবং জাকারিয়া তাহের ফেনী ও নোয়াখালী জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলকে মানিকগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ এবং সাচিং প্রুকে কক্সবাজার জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মো. শরিফুল আলম টাঙ্গাইল ও নরসিংদী, শামা ওবায়েদ ইসলাম মাদারীপুর ও শরীয়তপুর এবং অনিন্দ্য ইসলাম অমিত মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন।
আব্দুল বারীকে বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে ঢাকা এবং মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙ্গামাটি জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। হাবিবুর রশিদ পেয়েছেন গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের দায়িত্ব।
মো. রাজীব আহসান বরগুনা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুর, মীর শাহে আলম রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম এবং ফারজানা শারমিন সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন। শেখ ফরিদুল ইসলামকে যশোর, মাগুরা ও নড়াইল এবং ইয়াসের খান চৌধুরীকে জামালপুর ও কিশোরগঞ্জ জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
আহমেদ সোহেল মঞ্জুর বরিশাল, ভোলা ও ঝালকাঠি, মোহাম্মদ শামীম কায়সার জয়পুরহাট ও নওগাঁ এবং আলহাজ্ব মো. জি কে গউস সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন। মিঞা নুরুদ্দিন আহম্মেদকে রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ এবং এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান)-কে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও চাঁদপুর জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপরা মাদকের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ, গুরুতর অপরাধ দমনসহ সংশ্লিষ্ট জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও উন্নত রাখতে সরকারি দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন।
এছাড়া সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের তদারকি ও পরামর্শ দেবেন তারা। প্রয়োজনবোধে দায়িত্বপ্রাপ্তরা সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সভায় অংশ নিয়ে পরামর্শও দিতে পারবেন।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থার আইনগত ক্ষমতা খর্ব না করে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের বিদ্যমান ক্ষমতা এবং মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের আলোকে এ দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে।
১৪ ঘণ্টা আগে
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে: ডিএমপি কমিশনার
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আসন্ন শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে ডিএমপি সদরদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে জন্মাষ্টমীর নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আয়োজিত এক সমন্বয় সভায় এ তথ্য জানানো হয়।
সভায় ৪ সেপ্টেম্বর জন্মাষ্টমী উদযাপন উপলক্ষে ডিএমপির গৃহীত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও বিভিন্ন নির্দেশনা নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, উৎসবকে কেন্দ্র করে পিকেট ও টহল পার্টি, সিসিটিভি ক্যামেরা, ফুট পেট্রোল, রুফটপ পার্টি, হোন্ডা মোবাইল, ডিবি টিম, সাদা পোশাকের গোয়েন্দা দল, সোয়াট টিম, বোম্ব ডিসপোজাল টিম ও ট্রাফিক পুলিশসহ পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে।
ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা নির্ধারিত রুট ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করার বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এছাড়া নামাজ ও আজানের সময় লাউডস্পিকার বা মাইক ব্যবহার থেকে বিরত থাকা, নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, ব্যাগ-পোটলাসহ শোভাযাত্রায় অংশ না নেওয়া এবং কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা বস্তু দেখলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করা হয়।
শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জন্মাষ্টমী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি বড় উৎসব। উৎসবটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরাপদে উদযাপনের লক্ষ্যে ডিএমপির পক্ষ থেকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।’
তিনি বলেন, প্রতিটি বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) সংশ্লিষ্ট জন্মাষ্টমী উদযাপন কমিটির সঙ্গে পৃথক সমন্বয় সভা করবেন এবং সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখবেন। একই সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের আহ্বান জানান।
জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রায় দায়িত্ব পালনকারী স্বেচ্ছাসেবকদের নির্ধারিত ভেস্ট পরিধানের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, সাদা পোশাকে নিরাপত্তা সদস্য ও লাইনিং ফোর্স মোতায়েন থাকবে। বৈদ্যুতিক লাইনের বিষয়ে সতর্ক থেকে দুর্ঘটনা এড়াতেও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘জন্মাষ্টমীর প্রতিটি মুহূর্ত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। সবার সহযোগিতায় উৎসবটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে বলে আমরা আশা করি।’
সভায় যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অপারেশনস) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, পিপিএম পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি এবং জন্মাষ্টমী উদযাপন কমিটির নেতারা এ সময় মতামত দেন।
সভায় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এস্টেট, ডেভেলপমেন্ট ও আইসিটি) মোহাম্মদ ওসমান গণি, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, উপ-পুলিশ কমিশনারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, ঢাকা মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি, রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন এবং ইসকন বাংলাদেশের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।
১৫ ঘণ্টা আগে
‘কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে’ কর্মচারীর মৃত্যু, ঢাকা ওয়াসায় সিবিএর বিক্ষোভ
‘কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে’ কর্মচারী শাহরিয়া খান শামীমের মৃত্যুর অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ঢাকা ওয়াসা জাতীয়তাবাদী এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন—সিবিএ।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর কাওরান বাজারে ঢাকা ওয়াসার প্রধান কার্যালয়ে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
সিবিএর সভাপতি মো. আজিজুল আলম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন পাটোয়ারীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বক্তব্য দেন। এ সময় ঢাকা ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (মানবসম্পদ ও প্রশাসন) এ কে এম ফজলুল হক, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ও অ্যান্ড এম) মির্জা গোলাম কিবরিয়া এবং প্রধান প্রকৌশলী আলমগীর হাছিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে আজিজুল আলম খান বলেন, ‘ম্যানেজমেন্টের অবহেলায় আজকে শাহরিয়া খান শামীমকে মৃত্যুবরণ করতে হলো। আজকে ম্যানেজমেন্ট আমাদের সঙ্গে যে অবহেলামূলক আচরণ করছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।’
‘আমরা এমন দুর্ঘটনা আর চাই না। আমরা অতিসত্বর ওয়াসার ১০ নম্বর অঞ্চলের যেসব কর্মকর্তা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, সে যে-ই হোক না কেন, তাদের প্রত্যাহার করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে,’ বলেন তিনি।
শ্রমিক-কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবি দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি এসব দাবি আদায়ে আগামী রবিবার কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, ওই দিন প্রতি জোনে সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। এরপর দুপুর ১২টা থেকে ঢাকা ওয়াসার সেন্ট্রাল অফিসে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি-দাওয়া সমাধান করা না হলে ভবিষ্যতে ঢাকা ওয়াসায় কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে এর দায়-দায়িত্ব কর্তৃপক্ষকেই বহন করতে হবে বলে সতর্ক করেন আজিজুল আলম খান।
তিনি আরও বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা ওয়াসায় যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ ‘ফ্যাসিস্টের দোসরদের’ প্রত্যাহার করতে হবে।
‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শ্রমিক দল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আজকে শ্রমিকদের অবহেলা করা মানে জিয়াউর রহমানকে অবহেলা করা, বিএনপিকে অবহেলা করা,’ বলেন তিনি।
সমাবেশে শ্রমিক-কর্মচারীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ১২ দফা দাবি তুলে ধরে দ্রুত তা বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়।
১৬ ঘণ্টা আগে
বিশ্ববিদ্যালয় যৌন হয়রানি-সংক্রান্ত অভিযোগ আমলে না নিলে ব্যবস্থা নেবে ইউজিসি
দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কমিটি গঠন করাই যথেষ্ট নয়, বরং এসব কমিটিকে অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। যৌন হয়রানি-সংক্রান্ত অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) আগারগাঁওয়ে ইউজিসি ভবনে ইউজিসি ও ইউএন উইমেনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কর্মক্ষেত্র, জনপরিসর ও উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত একটি প্রকল্পের আওতায় এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে ইউজিসির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে এসব কমিটি প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করছে না।
তিনি বলেন, ‘কমিটি শুধু গঠন করলেই হবে না, সেটিকে কার্যকরভাবে কাজ করতে হবে। কোনো নারী অভিযোগ করার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউ যেন বলতে না পারে—এটা আমার কাজ নয়।’
প্রতিটি অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ড. মামুন আহমেদ বলেন, এ ক্ষেত্রে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে ইউজিসি ব্যবস্থা নেবে।
তিনি বলেন, নারী শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। যৌন হয়রানি ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি শূন্য সহনশীলতার নীতি কার্যকর করতে হবে।
যৌন হয়রানি ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম সমন্বয় ও তদারকির জন্য জাতীয় পর্যায়েও একটি কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান ইউজিসি চেয়ারম্যান। প্রস্তাবিত কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ইউজিসির প্রতিনিধিরা থাকবেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অভিযোগ গ্রহণ ও প্রতিকার ব্যবস্থা এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সমন্বয় ও তদারকিতে এ কমিটি কাজ করবে।
১৬ ঘণ্টা আগে
সবকিছুর ঊর্ধ্বে থেকে নিরপেক্ষভাবে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করব: রাষ্ট্রপতি
রাষ্ট্রীয় দায়িত্বপালন ও রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পূর্ণভাবে দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করার কথা বলেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের আগে আমি দল, সংসদ ও মন্ত্রিপরিষদ থেকে পদত্যাগ করে এসেছি। আমি এখন সম্পূর্ণভাবে একজন দলনিরপেক্ষ মানুষ। দলনিরপেক্ষভাবেই আমি আমার দায়িত্বপালন করে যাব।’
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বঙ্গভবনের দরবার হলে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতির প্রথম দরবারে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমি এখন সম্পূর্ণভাবে একজন দলনিরপেক্ষ মানুষ এবং আমার রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পরে আমি সবকিছুর, রাজনীতির ঊর্ধ্বে আমি থাকব বলেই আমি শপথ নিয়েছি। আমার জন্য কোনো রাগ, বিরাগ, অনুরাগ কোনো কিছুই থাকবে না। আমার সামনে একটাই মূল উদ্দেশ্য, লক্ষ্য—সেটা হচ্ছে আমার দেশ, আমার রাষ্ট্র, আমার জনগণ।’
তিনি বলেন, তিনি দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন পার করেছেন এবং মাটির মানুষের সঙ্গে থেকে কাজ করেছেন। দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশ একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশে পৌঁছেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্রপতি শাসনব্যবস্থা থেকে সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় এসেছে। এখন সংসদ দেশের মূল কেন্দ্র এবং সেটিকে কেন্দ্র করেই রাষ্ট্রের কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়।
বঙ্গভবনকে রাষ্ট্র, সার্বভৌমত্ব ও ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এখান থেকেই রাষ্ট্রের মর্যাদা ও সম্মানের বিষয়গুলো পরিচালিত হয়। তাই বঙ্গভবনে কর্মরত সবার দায়িত্ব হলো দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সর্বোচ্চ মূল্য দেওয়া এবং দেশের জনগণের প্রতি গভীর ভালোবাসা, সম্মান ও রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য বজায় রাখা।
রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠা, আন্তরিকতা, পেশাদারত্ব ও সততার সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে জনআস্থা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি বঙ্গভবনের অভ্যন্তরীণ তথ্য, দৈনন্দিন কার্যক্রম এবং গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত-সংক্রান্ত সব বিষয় কঠোরভাবে গোপন রাখার নির্দেশ দেন, যাতে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়।
সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণের করের অর্থেই সরকারি সম্পদ, যানবাহন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পরিচালিত হয়। তাই এসবের সঠিক, দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং জনগণের অর্থের অপচয় রোধে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাদের নিজ নিজ জীবনে ধর্মীয় বিধান যথাযথভাবে পালন এবং নৈতিক মূল্যবোধ চর্চার মাধ্যমে সুন্দর চরিত্র গঠনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের পাশাপাশি পরিবার, সন্তান-সন্ততি ও প্রিয়জনদের জন্য পর্যাপ্ত সময় রাখার পরামর্শ দেন, যাতে কর্মজীবন ও পারিবারিক জীবনের মধ্যে সুস্থ ভারসাম্য বজায় থাকে।
১৭ ঘণ্টা আগে
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ প্রাণহানি, আক্রান্ত ১০৩১
দেশে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৩২টি শিশু।
বৃহস্পতিবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৮৫৬টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৯টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৯৫৬টি শিশু মারা গেছে।
এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ৭৫টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৯৫৬। এই সময়ে ৮৬৪টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৭২৪টি শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৯২, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৮ হাজার ৭২৬। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৩৭ রোগী, যাদের মধ্যে ১ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৯ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।
১৮ ঘণ্টা আগে
নেপালে বন্যা-ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নেপাল সরকার ক্ষয়ক্ষতি ও প্রয়োজনীয় সহায়তার ধরন মূল্যায়ন করছে এবং আজ সন্ধ্যা বা শুক্রবারের মধ্যে বাংলাদেশকে তা জানাবে।
তিনি বলেন, ‘আজ সকালবেলা আমার সঙ্গে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কথা হয়েছে। তাকে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে, বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে নেপালে যে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটেছে, সে বিষয়ে সমবেদনা ও শোক জ্ঞাপন করেছি। আমরা তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা অফার করেছি।’
ড. খলিলুর রহমান বলেন, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, তারা এখনও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, তা মূল্যায়ন করছেন। ‘এবং আজকে সন্ধ্যা কিংবা কালকের ভেতরে তিনি নিশ্চিতভাবে আমাদের জানাবেন। আমরা তৈরি আছি।’
নেপালে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক দুর্যোগে আক্রান্ত হয়েছেন কি না, এখন পর্যন্ত তা জানা যায়নি বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তার কথায়, ‘আমি তাকে বলেছি যে, আমরা তো এখনও পর্যন্ত জানতে পারিনি যে কোনো বাংলাদেশি এতে অ্যাফেক্টেড হয়েছেন কিনা। যদি হয়, তাহলে পরে আমাদের যেন জানান এবং আমরা তাদের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে সহযোগিতা করব।’
বাংলাদেশি কোনো নাগরিকের খোঁজ পাওয়া গেলে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি।
নেপালে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সহায়তার জন্য বাংলাদেশ কোনো ফ্লাইট প্রস্তুত করেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ড. খলিলুর রহমান বলেন, নেপাল সরকারের চাহিদা জানার পর এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ‘উনারা যখন বলবেন তখন, আগের থেকে তো করা যাবে না। কিন্তু আমরা প্রস্তুত আছি।’
তিনি বলেন, নেপালে বেশ কয়েকজন বিদেশি পর্যটক মানসলু পর্বতের দিকে যাচ্ছিলেন, সে সময় দুর্যোগটি ঘটে। এ দুর্ঘটনায় জীবিত বা মৃত অবস্থায় বাংলাদেশি কারও খোঁজ পাওয়া গেলে আমরা তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।
এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও একই ধরনের মনোভাব ব্যক্ত করেছেন বলে জানান ড. খলিলুর রহমান।
১৮ ঘণ্টা আগে
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফোন দিয়ে শোক জানিয়েছেন ড. খলিলুর রহমান
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত শোকবার্তা নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানালের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার সময় তিনি এ শোকবার্তা পৌঁছে দেন।
বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী নেপালে আঘাত হানা ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন।
ভয়াবহ এই বন্যা ও ভূমিধসকে ‘ভয়াবহ ট্র্যাজেডি’ হিসেবে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিহতদের পরিবারের প্রতি বাংলাদেশের গভীর সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, প্রিয়জন হারানো পরিবারগুলোর প্রতি বাংলাদেশের মানুষের চিন্তা ও প্রার্থনা রয়েছে।
ড. খালিলুর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের হতাহতের তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশ সরকারকে জানানোর জন্য নেপাল সরকারের প্রতি অনুরোধ করেন তিনি।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেপালের এই কঠিন সময়ে দেশটির সরকার ও জনগণের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছেন বলেও নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানান ড. খালিলুর রহমান। পাশাপাশি নেপালের প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো সহায়তা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
এ সময় নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কঠিন এই সময়ে বাংলাদেশের সংহতি ও সহমর্মিতার উষ্ণ বার্তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের পর নেপালের কোনো সহায়তার প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট চাহিদার কথা বাংলাদেশকে জানানো হবে বলে তিনি জানান।
এ সময় দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী দুর্যোগের পর চলমান অনুসন্ধান, উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা নিয়েও আলোচনা করেন।
নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী ভোতেকোশি নদীতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২৭৩ জন নিহত হাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে আরও ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি নিখোঁজ রয়েছেন।
নিখোঁজদের মধ্যে কয়েকশ’ বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। তবে তাদের মধ্যে বাংলাদেশি কেউ নেই বলে জানিয়েছে নেপালে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।
গতকাল বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে ওই এলাকায় কম্পন শনাক্ত হওয়ার তিন মিনিট পর, সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে ভোতেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যা শুরু হয়। কয়েক মিনিটের মধ্যে প্রবল পানি, কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নদী উপত্যকার জনবসতি, সড়ক, সেতু, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা এবং জলবিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
রাসুয়ার টিমুরে, স্যাফ্রুবেশি ও রাসুওয়াগাধি এবং নুওয়াকোটের বেত্রাবতী, ত্রিশূলী ও দেবীঘাট এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রাথমিক স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে সীমান্তের কাছে বরফ ও পাথরের বিশাল ভূমিধসের কারণে নদীতে বিপুল পরিমাণ পানি ও ধ্বংসাবশেষ নেমে আসায় এ বন্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মৌসুমি ভারী বৃষ্টিপাতও পানির প্রবাহ বাড়িয়ে দেয়। তবে কম্পনের সঙ্গে বন্যার সম্পর্ক ছিল কি না, তা এখনও তদন্ত করছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।
১৮ ঘণ্টা আগে
সালমান শাহ হত্যা মামলায় ৫ দিনের রিমান্ডে অভিনেতা ডন
চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার চলচ্চিত্র অভিনেতা আশরাফুল হক ডনের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এ আদেশ দেন।
গত ২০ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ঢাকা মেট্রো দক্ষিণ বিভাগের পরিদর্শক মজিবুর রহমান ডনকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আসামির উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানির জন্য ২৭ আগস্ট দিন ধার্য করেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য ডনকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। নিবিড় ও ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে মামলার ঘটনায় জড়িত অন্যান্য সহযোগী আসামিদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়া এবং তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হতে পারে।
এ ছাড়া, বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ডন কী কারণে, কার ইন্ধনে এবং কীভাবে বিভিন্ন কৌশলে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন, সে সম্পর্কেও তথ্য উদঘাটনের জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
গত ৯ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং ওই দিনই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
১২ আগস্ট ডনের জামিন আবেদন নাকচ করে দেন আদালত।
গত বছরের ২০ অক্টোবর আদালতের নির্দেশে সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম রমনা থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন: সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামীরা হক, তার মা লতিফা হক লুছি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু এবং রেজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেননি। তবে ডনকে বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চলচ্চিত্র নায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ মারা যান। এ ঘটনায় তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী প্রথমে একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেন।
পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন করেন তিনি। সে সময় অপমৃত্যুর মামলার সঙ্গে হত্যার অভিযোগ একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত।
এদিকে, ডনের রিমান্ড শুনানিকে কেন্দ্র করে সালমান শাহর ভক্তরা আজ সকাল থেকে আদালত প্রাঙ্গণের সামনে ব্যানার নিয়ে মানববন্ধন করেন। এ সময় তারা মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
১৯ ঘণ্টা আগে