বাংলাদেশ
পিলখানায় শহিদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
পিলখানা হত্যাকাণ্ডে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর বনানী সামরিক কবরস্থানে প্রথমে রাষ্ট্রপতি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এ সময় পিলখানা ট্র্যাজেডিতে সব শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পাশাপাশি শহিদ সেনা কর্মকর্তাদের আত্মার শান্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের কল্যাণ কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সেনাবাহিনী প্রধান ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এম নজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে বিদ্রোহের নামে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। বার্ষিক দরবার চলাকালে শুরু হওয়া এ বিদ্রোহ দ্রুত রূপ নেয় রক্তক্ষয়ী তাণ্ডবে। মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা এবং নারী-শিশুসহ মোট ৭৪ জনকে হত্যা করা হয়।
১০ দিন আগে
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে সার্বভৌমত্ববিরোধী তৎপরতা ছিল: প্রধানমন্ত্রী
বিডিআর (বর্তমান বিজিবি) সদরদপ্তর পিলখানায় সংঘটিত সেনা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ববিরোধী তৎপরতা বিদ্যমান ছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে জনগণের কাছে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ এখন বোধগম্য।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ‘জাতীয় শহিদ সেনা দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।
২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত নারকীয় হত্যাযজ্ঞের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালের এই দিনে বিডিআর সদর দপ্তর পিলখানায় সেনা হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়েছিল। হত্যাযজ্ঞে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন শহিদ হয়েছিলেন।
তিনি বলেন, ২০০৯ সালের পর দিনটি যথাযোগ্য গুরুত্ব সহকারে পালন করা হয়নি। ২০২৪ সালে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হওয়ার পর থেকে দিনটি ‘শহিদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে। আজকের এই বিশেষ দিনে আমরা সেনা হত্যাযজ্ঞে শহিদদের মাগফিরাত কামনা করছি। তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও সহমর্মিতা প্রকাশ করছি।
বিচার প্রক্রিয়া ও ষড়যন্ত্র প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, পিলখানায় সংঘটিত সেনা হত্যাকাণ্ডের বিচার চলমান। বিচারাধীন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলার অবকাশ নেই। তবে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ববিরোধী তৎপরতা বিদ্যমান ছিল—নাগরিক হিসেবে এই বিষয়টি আমাদের উপলব্ধিতে থাকা জরুরি বলে আমি মনে করি।
তার ভাষ্য, এই হত্যাকাণ্ডের পর নানারকম মিথ্যা কিংবা অপতথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে জনগণের কাছে পিলখানায় হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ এখন স্পষ্ট।
সশস্ত্র বাহিনীর গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সশস্ত্র বাহিনী একটি স্বাধীন দেশের সম্মান, বীরত্ব এবং গৌরবের প্রতীক। ভবিষ্যতে আর কেউ যাতে সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হতে না পারে, আজ পুনরায় সেই শপথে বলীয়ান হতে হবে।
দেশ এবং জনগণের স্বার্থের বিপরীতে যেকোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এই হোক শহিদ সেনা দিবসের প্রত্যয়।
১০ দিন আগে
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ১৭ বছর আজ
আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি ‘জাতীয় শহিদ সেনা দিবস’। ১৭ বছর আগে এই দিনে সাবেক সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি)-এর সদর দপ্তর ঢাকার পিলখানায় বিদ্রোহের নামে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞে বিডিআরের তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা বর্বরোচিত ও নির্মম হত্যার শিকার হন। সাকিল আহমেদের স্ত্রীসহ আরও কয়েকজন বেসামরিক নাগরিকও নিহত হন। পরদিনও হত্যাযজ্ঞ চলে।
এত বছর পরও এই ঘটনার পরিকল্পনাকারীরা বিচারের আওতায় আসেননি-এমন অভিযোগ শহিদ পরিবারের সদস্যদের।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৫ সাল থেকে শোকাবহ পিলখানা ট্র্যাজেডির এ দিনটিকে ‘জাতীয় শহিদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। প্রতিবছরের মতো এবারও শহিদদের স্মরণে নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে আর জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে তাদের।
কী ঘটেছিল সেদিন
২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টা ২৭ মিনিটের দিকে বিজিবির বার্ষিক দরবার চলাকালে দরবার হলে ঢুকে পড়েন একদল বিদ্রোহী সৈনিক। এদের একজন তৎকালীন মহাপরিচালকের বুকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করেন। এরপরই ঘটে যায় ইতিহাসের সেই নৃশংস ঘটনা। বিদ্রোহী সৈনিকরা সেনা কর্মকর্তাদের ওপর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তারা সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা করে তাদের পরিবারকে জিম্মি করে ফেলেন।
পুরো পিলখানায় এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। চারটি প্রবেশপথ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আশপাশের এলাকায় গুলি ছুড়তে থাকেন তারা। বিদ্রোহীরা দরবার হল ও এর আশপাশ এলাকায় সেনা কর্মকর্তাদের গুলি করতে থাকেন। তাদের গুলিতে একে একে লুটিয়ে পড়তে থাকেন সেনা কর্মকর্তারা। ঘটনার ৩৬ ঘণ্টা পর এ বিদ্রোহের অবসান হয়। পিলখানা পরিণত হয় এক রক্তাক্ত প্রান্তরে।
পরে পিলখানা থেকে আবিষ্কৃত হয় গণকবর। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় সেনা কর্মকর্তাদের লাশ। ৩৬ ঘণ্টার এ হত্যাযজ্ঞে ৫৭ সেনা কর্মকর্তা, একজন সৈনিক, দুই সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী, ৯ বিজিবি সদস্য ও পাঁচজন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হন।
যেভাবে এগিয়েছে তদন্ত
ভয়াবহ এই ঘটনা তদন্তে গত ১৭ বছরে বেশ কয়েকটি কমিটি ও কমিশন কাজ করে। এসব কমিটি-কমিশনের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে দাখিল করা হয় প্রতিবেদন। কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি কোনো প্রতিবেদনের সুপারিশ। নতুন সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে আবারও কমিশন বা কমিটি গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পরপরই ২০০৯ সালে ১২ সদস্যবিশিষ্ট জাতীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। একই সঙ্গে লেফট্যানেন্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর (সদ্যসাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা) নেতৃত্বে গঠন করা হয় ২৪ সদস্যবিশিষ্ট সেনা তদন্ত কমিটি। জাতীয় কমিটি ২০০৯ সালের ১৪ মে ও সেনা তদন্ত কমিটি ওই বছরের জুনে সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। কিন্তু সে অনুযায়ী নেওয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর
ছাত্রজনতার আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পর ওই বছরের ডিসেম্বরে মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে গঠন করা হয় ৭ সদস্যবিশিষ্ট স্বাধীন তদন্ত কমিশন। এই কমিশন দীর্ঘ ১১ মাস তদন্ত শেষে গত বছরের ৩০ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে। তবে অন্তর্বর্তী সরকার কমিশনের প্রতিবেদনে নাম থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা ও বিচার প্রক্রিয়া শুরু করলেও তা শেষ করতে পারেনি।
গত সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমাদের নির্বাচনি অঙ্গীকার রয়েছে। আমরা বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি পূর্ণাঙ্গভাবে পুনঃতদন্ত করব অথবা কমিশন গঠন করে তার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেব। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
মামলার বর্তমান অবস্থা
এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুটি মামলা হয়। এর মধ্যে হত্যাকাণ্ডের করা মামলায় বিচারিক আদালত ও হাইকোর্ট রায় দিয়েছেন। মামলাটি চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য এখন আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। অন্যদিকে, বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে করা মামলায় বিচারিক আদালতে এখনও সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। এ মামলার সাক্ষী ১ হাজার ৩৪৪ জন।
পিলখানায় হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় ২০০৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি হত্যা ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে পৃথক মামলা হয়। হত্যার ঘটনায় করা মামলায় আসামি করা হয় ৮৫০ জনকে। দেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে আসামির সংখ্যার দিক থেকে এটিই সবচেয়ে বড় মামলা। বিচারিক আদালত ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর এ মামলার রায় দেন। রায়ে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায়ে খালাস পান ২৭৮ জন। রায় ঘোষণার আগে চার আসামি মারা যান।
যেকোনো হত্যাকাণ্ডের মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের পর আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) হাইকোর্টে অনুমোদনের জন্য আসে। পিলখানা হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শেষে তিন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ ২০১৭ সালের ২৬ ও ২৭ নভেম্বর রায় ঘোষণা করেন। হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় ২০২০ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত হয়। রায়ে ১৩৯ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয় ১৮৫ জনকে। বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয় ২২৮ জনকে। খালাস পান ২৮৩ জন। হাইকোর্টের রায়ের আগে ১৫ জনসহ সব মিলিয়ে ৫৪ আসামি মারা যান।
পিলখানা হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বাণী
আজ শহিদ সেনা কর্মকর্তাদের স্মরণ, দোয়া ও রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা জানানোর দিন হিসেবে পালিত হচ্ছে এই দিবস।
জাতীয় শহিদ সেনা দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে জনগণের কাছে পিলখানার হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ এখন বোধগম্য।
তিনি বলেন, ‘২৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় শহিদ সেনা দিবস। হত্যাযজ্ঞে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন শহিদ হয়েছিলেন। ২০০৯ সালের পর দিনটি যথাযোগ্য গুরুত্বসহকারে পালন করা হয়নি। ২০২৪ সালে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হওয়ার পর থেকে দিনটি “শহিদ সেনা দিবস” হিসেবে পালিত হচ্ছে। আজকের এই বিশেষ দিনে আমরা সেনা হত্যাযজ্ঞে শহিদদের মাগফিরাত কামনা করছি। তাঁদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও সহমর্মিতা প্রকাশ করছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পিলখানায় সংঘটিত সেনা হত্যাকাণ্ডের বিচার চলমান। বিচারাধীন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলার অবকাশ নেই। তবে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ববিরোধী তৎপরতা বিদ্যমান ছিল-নাগরিক হিসেবে বিষয়টি আমাদের উপলব্ধিতে থাকা জরুরি। এই হত্যাকাণ্ডের পর নানা রকম মিথ্যা কিংবা অপতথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হয়েছিল।’
তিনি আরও বলেন, সশস্ত্র বাহিনী একটি স্বাধীন দেশের সম্মান, বীরত্ব ও গৌরবের প্রতীক। ভবিষ্যতে যাতে কেউ সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হতে না পারে, সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
১০ দিন আগে
রাজনৈতিক হয়রানিমূলক আরও ১২০২টি মামলা প্রত্যাহারে অনুমোদন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলের ১৭ বছর ধরে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া রাজনৈতিক হয়রানিমূলক আরও ১ হাজার ২০২টি মামলা প্রত্যাহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ তথ্য জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিরোধীদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া রাজনৈতিক হয়রানিমূলক ১ হাজার ৬টি মামলা প্রত্যাহারের অনুমোদন এর আগে দেওয়া হয়েছিল। মামলা প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে হত্যা, মাদক, অস্ত্র, বিস্ফোরক এবং নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা বাদ দিয়ে শুধুমাত্র রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলাগুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, আমরা আরও বেশকিছু রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিয়েছি। মামলাগুলো সত্যিকার অর্থে রাজনৈতিক মামলা কিনা তা সতর্কতার সঙ্গে যাচাই বাচাই করে দেখা হবে। এর যাতে অপব্যবহার না হয়, সেজন্য যাচাই-বাছাই কমিটি করে দেওয়া হবে। আজকালের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দায়ের হওয়া মামলাগুলো সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ৫ আগস্টের পর দায়ের হওয়া বেশকিছু মামলায় ব্যক্তিগত সুবিধা চরিতার্থ করার জন্য কিছু সাধারণ ও নিরীহ লোককে আসামি করা হয়েছে। কিছু সুবিধাবাদী শ্রেণি এই মামলাগুলো করেছে যেগুলো আমাদের নজরে এসেছে। এগুলো যাচাই-বাছাই করে আমরা সঠিক তথ্য খুঁজে বের করব।
তিনি আরও বলেন, আমরা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে বদ্ধপরিকর। কেউ যেন অহেতুক হয়রানিমূলক মামলার শিকার না হয়, সে বিষয়ে আমাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
১০ দিন আগে
তিস্তা প্রকল্পে নিজ উদ্যোগে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে চীন: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা নদীর সমস্যার সমাধান চেয়ে আসছে জানিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, চীন তিস্তা প্রকল্পে নিজ উদ্যোগে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত হলে তখন বিস্তারিত জানানো যাবে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত সাক্ষাৎ-পরবর্তী এ বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ সময় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে তারা বাংলাদেশ-চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন অংশীদারত্বের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছে উভয় পক্ষ।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন, সিটি করপোরেশনের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আমিন বাজার পানি শোধনাগার সচল করার বিষয় কথা হয়। এ ছাড়াও স্থানীয় সরকারের উন্নয়নে চীনের সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎ শেষে মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশে চীনের বিভিন্ন প্রকল্প চলমান আছে। তাদের সঙ্গে সহযোগিতা কীভাবে আরও বাড়ানো যায় সে চেষ্টা চলছে। স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন খাতে চীন কীভাবে আরও বেশি সহযোগিতা দিতে পারে সে বিষয়টি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা নদীর সমস্যার সমাধান চেয়ে আসছে। চীন তিস্তা প্রকল্পে নিজ উদ্যোগে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত হলে তখন বিস্তারিত জানানো যাবে।
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, চীন বাংলাদেশের বড় উন্নয়ন সহযোগী এবং ভবিষ্যতেও এই সম্পর্ক আরও গভীর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
১০ দিন আগে
সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, ভূমিখোর ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ গয়েশ্বরের
নির্বাচন-পরবর্তী কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন নিয়ে উন্নয়ন, মাদক ও ছিনতাইমুক্ত কেরানীগঞ্জ গড়ার লক্ষে বিএনপির নেতা-কর্মীসহ যেকোনো সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, মাদক কারবারি ও ছিনতাইকারীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ সভা কক্ষে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
গয়েশ্বর বলেন, বিএনপির নেতা-কর্মীসহ যেকোনো সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, জমি দখল, মাদক কারবারি ও ছিনতাইকারীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা প্রশাসনকে নিতে হবে। অপরাধী যেই হোক, তাকে মামলা দিয়ে জেল-হাজতে পাঠানো হবে।
প্রশাসনকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাকে ঢাকা-৩ আসনের জনগণ ভোট দিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন। তাদের পক্ষে এবং তাদের স্বার্থ রক্ষা করা আমার কর্তব্য। তাই সব দলের লোকই আমার কাছে সমান অধিকার পাবে। প্রশাসনের দুর্বলতা নিয়ে অপরাধী যাতে কোনো অপরাধ করতে না পারে। অতি উৎসাহিত হয়ে থানা পুলিশ দিয়ে যেন কাউকে অযথা হয়রানি করার চেষ্টা না করা হয়। আমি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে চাই। কোনো কর্মকর্তা আমার কথা না শুনলে বা জনগণের স্বার্থে কাজ না করলে আমি সংসদে বলতে বাধ্য হব।’
ঢাকা-৩ আসনের এই এমপি বলেন, পুলিশ এবং উপজেলা প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করলে সমাজে অপরাধ কমে যাবে।
মন্ত্রিত্বের বিষয়ে গয়েশ্বর বলেন, আমি কোনো প্রতিহিংসার রাজনীতি করব না। আমাকে মন্ত্রিত্ব দেওয়া হবে না, আমি তা আগেই জানতাম। তবুও আমন্ত্রণ পেয়ে মন্ত্রিপরিষদে উপস্থিত হয়েছিলাম। পরে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার অসদচারণের কারণে রাগ করে মন্ত্রিপরিষদ থেকে চলে আসি, কিন্তু একটি পত্রিকা পরের দিন নিউজ করেছে— গয়েশ্বর চন্দ্র রায় মন্ত্রীত্ব পায়নি বলে মন্ত্রিপরিষদ থেকে রাগ করে চলে গেছেন।
মিডিয়ার প্রতি অনুরোধ করে তিনি বলেন, মিডিয়া বন্ধুদের কাছে আমার অনুরোধ, আপনারা মনগড়া কোনো নিউজ করবেন না; কারও চরিত্র হরণ করবেন না। আমি জনগণের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য এমপি হয়েছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যাকে যে স্থানে দেবেন, আমরা সেটাই মেনে নিতে বাধ্য।
স্থানীয় নির্বাচনের বিষয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, আমার কোনো পুলিশ প্রটোকলের প্রয়োজন নাই। আমি মানুষের অধিকার আদায়ের রাজনীতি করি। আমার কেউ শত্রু নাই। আমি একা রিকশা করে চলার অভ্যাস আছে। আগামীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। যার যোগ্যতা আছে সে-ই দাঁড়াবে, কারও পক্ষে আমি হস্তক্ষেপ করতে পারব না। এখন থেকে জনগণের পক্ষে কাজ শুরু করুন। কোনো কারণে যেন জনগণের স্বার্থ নষ্ট না হয়।
১০ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর ১০ উপদেষ্টার কে কোন দায়িত্ব পেলেন
প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় ১০ জন উপদেষ্টার মধ্যে দপ্তর বণ্টন করেছে সরকার।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দপ্তর বণ্টন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, মন্ত্রী পদমর্যাদার পাঁচ জন উপদেষ্টার মধ্যে তিন জনকে রাজনৈতিক উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন— মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, নজরুল ইসলাম খান ও রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ।
মন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ জনপ্রশাসন ও রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।
প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার পাঁচজন উপদেষ্টাকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও ক্ষেত্রে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। হুমায়ুন কবিরকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়; প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলামকে; ডা. জাহেদ উর রহমানকে পলিসি ও স্ট্রাটেজি; মাহদী আমিনকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়; টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রেহান আসিফ আসাদকে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়লাভ করে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে সরকার গঠন করে বিএনপি। ৫০ সদস্যবিশিষ্ট মন্ত্রিসভায় ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন।
এর মাধ্যমে ২০ বছর পর চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করেছে বিএনপি। প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
ওইদিনই মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী মর্যাদায় ১০ জনকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হয়।
১০ দিন আগে
ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন ১০ মার্চ, কার্ডধারী পরিবার পাবে ২৫০০ টাকা
আগামী ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন।
প্রাথমিকভাবে ১৪টি উপজেলায় প্রত্যেকটিতে একটি ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডের হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত নারীরা ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। এ কার্ডের আওতায় প্রত্যেক পরিবারকে আড়াই হাজার টাকা করে দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মন্ত্রী জাহিদ হোসেন বলেন, ‘মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশের আলোকে আজ প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ফ্যামিলি কার্ড বিষয়ে পাইলটিংয়ের একটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমরা আগামী ১০ মার্চ ইনশাআল্লাহ প্রধানমন্ত্রী পাইলটিংয়ের যে কার্যক্রম অর্থাৎ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের, সেটি উদ্বোধন করবেন। আমরা এই মুহূর্তে বাংলাদেশের ১৪টি উপজেলাকে চুজ (নির্বাচন) করেছি বাংলাদেশের বিভিন্ন বিভাগ হিসাব করে। সেই ১৪টি জেলা উপজেলার মধ্যে থেকে একটা ইউনিয়নের একটা ওয়ার্ডকে আমরা ইউনিভার্সালি (সর্বজনীনভাবে) ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে। সেটার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী, আগামী ১০ মার্চ ঈদুল ফিতরের আগে ইনশাআল্লাহ।’
তিনি বলেন, ওইদিন একযোগে ১৪টি উপজেলার এ কার্যক্রমের সূচনা করা হবে এবং এটি চলতে থাকবে। এই কার্যক্রম ধীরে ধীরে সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এটার মাধ্যমে দেশের হতদরিদ্র, দরিদ্র এবং নিম্নবিত্ত—এই তিন শ্রেণির পরিবারের মধ্যে যেসব পরিবারে মায়েরা প্রধান, তারা এই সুবিধা পাবেন। আমরা মনে করি, এর মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এতে করে আগামী প্রজন্ম স্বাবলম্বী হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
মন্ত্রী বলেন, এটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের অন্যতম নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন যাবৎ এটার ওপর কাজ করেছেন এবং আজকে উনার সভাপতিত্বে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এটি অনুমোদিত হয়েছে।
জাহিদ হোসেন বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা করে উনাদের (সুবিধাভোগী পরিবার) আর্থিকভাবে সহযোগিতা দেওয়া হবে। এতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা ধর্মীয় বৈষম্য হবে না। এটা সবার জন্য প্রযোজ্য হবে।
তিনি বলেন, আমরা আশা করছি, আগামী চার মাসের মধ্যে পাইলটিংয়ের (পরীক্ষামূলক) কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। পরবর্তী সময়ে সারা বাংলাদেশে আরও ব্যাপকভাবে প্রতিটি উপজেলা এটার আওতায় আসবে। প্রথমেই পুরো উপজেলা দেওয়া যাবে না। হয়তো প্রথমে একটি ওয়ার্ড, তারপর একটি ইউনিয়ন, তারপর আরেকটি ইউনিয়ন—এভাবে আমরা ধীরে ধীরে এটিকে বিস্তৃত করব।
প্রাথমিকভাবে কতজন নারী এটা পাচ্ছেন জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, কয়জন হিসাবে না। একটি ওয়ার্ডে যে কয়জন পাওয়ার উপযুক্ত, ওই কয়জনই পাবেন।
বাছাই প্রক্রিয়ার বিষয়ে জাহিদ হোসেন বলেন, বাছাই করা হচ্ছে না। দ্বারে দ্বারে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। কোনো অবস্থাতেই ঘরে বসে কোনো বাছাই হবে না। বাছাই হবে মাঠপর্যায়ে। কারও প্রতি বৈষম্য করা হবে না, কাউকে বাদ দেওয়া হবে না।
১০ দিন আগে
সরকারি কর্মচারীদের সময়মতো অফিসে উপস্থিত ও ত্যাগের নির্দেশ
সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত হওয়া এবং অফিস ত্যাগ করার নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব অথবা সচিব, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসককে এ নির্দেশনা-সম্বলিত চিঠি পাঠানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, ‘সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯’ এবং ‘সচিবালয় নির্দেশমালা, ২০২৪’-এর নির্দেশ মোতাবেক সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অফিসে উপস্থিতি ও প্রস্থানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অধীন দপ্তর কিংবা সংস্থাকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়, মাঠ পর্যায়ের সকল অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাপ্তাহিক বা অন্যান্য ছুটির দিনে নিজ নিজ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করতে হবে।
১০ দিন আগে
বিডিআর বিদ্রোহে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন রাষ্ট্রপতি
বিডিআর (বর্তমান বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) বিদ্রোহে শহিদদের কবরে শ্রদ্ধা জানাবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বনানী সামরিক কবরস্থানে তিনি পুষ্পস্তবক অর্পন করে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।
এ বিষয়ে আজ (সোমবার) রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের প্রটোকল উইং থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় সেনা শহিদ দিবস উপলক্ষে সকাল ১০টায় রাষ্ট্রপতি পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।
বিডিআর সদস্যদের আত্মত্যাগের প্রতি রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে শ্রদ্ধা জানাতে এই কর্মসূচি আয়োজন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
১০ দিন আগে