বাংলাদেশ
যৌন হয়রানির অভিযোগে বেরোবির দুই শিক্ষক বহিষ্কার
যৌন হয়রানির অভিযোগে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) দুই শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১৯তম সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
বহিষ্কৃত দুই শিক্ষক হলেন— বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সহকারী প্রক্টর মো. শামীম হোসেন এবং দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শাকিবুল ইসলাম। এ ছাড়াও ড. শাকিবুল ইসলাম আর কখনোই মেয়েদের সুপারভাইজার হতে পারবেন না বলেও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
দুই শিক্ষককে বহিষ্কারের সত্যতা নিশ্চিত করে উপাচার্য ডক্টর শওকাত আলী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাই বরদাশত করা হবে না।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও সিন্ডিকেট সদস্য সচিব ড. মো. হারুন অর রশীদ বলেন, তদন্ত কমিটি তাদের ব্যাপারে শাস্তির সুপারিশ করেছে। শাস্তি নির্ধারণ করবে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল। তাদের ট্রাইব্যুনালে ন্যস্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল থেকে সুনির্দিষ্ট শাস্তি আসা অবধি তারা সাময়িকভাবে বরখাস্ত থাকবেন।
গত ২ নভেম্বর দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের অভিযুক্ত অধ্যাপক ড. শাকিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে একই বিভাগের এক শিক্ষার্থী প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান এবং ছাত্র পরামর্শ দপ্তরের পরিচালক ও যৌন-নিপীড়ন সেলের সদস্য সচিব ড. ইলিয়াছ প্রামাণিক এবং বিভাগীয় প্রধান বরাবর যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছিলেন। অন্যদিকে, ৩০ অক্টোবর ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগেও এক নারী শিক্ষার্থী ৩১ পৃষ্ঠার হাতে লেখা অভিযোগপত্রে শিক্ষক শামীম হোসেনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছিলেন।
২৬ দিন আগে
রবিবারের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না করলে হজ ভিসা জটিলতার আশঙ্কা
রবিবারের (৮ ফেব্রুয়ারি) মধ্যে হাজীদের কোরবানি (আদাহি) ও মাশায়ের ট্রান্সপোর্টসহ সব পরিবহনসংক্রান্ত ব্যয় পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব অর্থ পরিশোধ না হলে সংশ্লিষ্ট হাজীদের ভিসা প্রক্রিয়াকরণে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়।
হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) ও ৩০টি লিড এজেন্সিকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
হাবের সভাপতি অথবা মহাসচিব ও ৩০টি লিড এজেন্সির মালিকদের কাছে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) পাঠানো চিঠিতে এ নির্দেশনা দিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। আজ (শনিবার) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
এর আগে, এ বিষয়ে তাগিদ দিয়ে সৌদি আরবের জেদ্দায় বাংলাদেশ হজ অফিস ধর্ম সচিবের কাছে চিঠি পাঠায়। চিঠিতে বলা হয়, ‘সৌদি আরবে আগত হজযাত্রীদের কুরবানি (আদাহি)-সংক্রান্ত পেমেন্ট এবং মাশায়ের ট্রান্সপোর্টসহ সব পরিবহন ব্যবস্থাপনার যাবতীয় ব্যয় আগামী ৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সম্পন্ন করা অত্যন্ত জরুরি বলে জানিয়েছে সৌদির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়।
‘দেশটির মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে যদি কুরবানি পেমেন্ট এবং পরিবহনসংক্রান্ত সব অর্থ পরিশোধ সম্পন্ন না করা হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট হাজীদের ভিসা প্রক্রিয়াকরণে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
এমতাবস্থায়, সকল হজ এজেন্সির মালিক ও মোনাজ্জেমদের ৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হজযাত্রীদের কুরবানি (আদাহি) পেমেন্ট এবং মাশায়ের ট্রান্সপোর্টসহ সব পরিবহনসংক্রান্ত ব্যয় পরিশোধ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এজেন্সিগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।
২৭ দিন আগে
কমার এক দিন পরই আগের জায়গায় স্বর্ণের দাম
দাম কমার এক দিন পর আজ (শনিবার) দেশের বাজারে আবারও বাড়ানো হয়েছে স্বর্ণের দাম। ভালো মানের বা ২২ ক্যারেট সোনার দাম ভরিপ্রতি ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এতে এই মানের সোনার নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ভরিপ্রতি ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে এ নতুন দর কার্যকর হয়েছে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)।
বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানিয়েছে, তেজাবি (পিওর গোল্ড) স্বর্ণের দাম বাড়ায় স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা।
এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৪ হাজার ৪৪৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭৫ হাজার ৪৮৫ টাকা।
স্বর্ণের দাম বাড়লেও রুপার দামে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ১৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৯০৭ টাকা নির্ধারিত রয়েছে।
এর আগে গতকাল (শুক্রবার) বিশ্ববাজারে সোনার দরপতনের প্রেক্ষিতে দেশের বাজারে সোনার দাম ভরিপ্রতি সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৬৪০ টাকা কমানো হয়েছিল। আজ আবার ঠিক একই অঙ্কে দাম বাড়ানো হলো। গতকাল সোনার পাশাপাশি রুপার দামও ভরিপ্রতি ১৭৫ টাকা কমানো হয়েছিল।
গত সপ্তাহজুড়ে দেশের বাজারে সোনার দামে ব্যাপক অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার সোনার দাম ভরিপ্রতি ৫ হাজার ৪২৪ টাকা বাড়ানো হয়। তার আগের দিন সোমবার সকাল ও বিকেলে দুই দফায় সোনার দাম কমে মোট ১২ হাজার ১৪ টাকা। এরও আগে, গত ২৯ জানুয়ারি ভরিপ্রতি ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়ানো হলে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
মূলত বিশ্ববাজারের দামের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই দেশের বাজারে সোনার দাম সমন্বয় করা হয়। শুক্রবার বিশ্ববাজারে সোনার দাম আউন্সপ্রতি ৯৮ ডলার ৫৮ সেন্ট বেড়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিশ্ববাজারে সোনার দাম দাঁড়িয়েছে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৯৬৬ ডলার ২৬ সেন্ট।
২৭ দিন আগে
যমুনার সামনে সংঘর্ষের সময় ‘গুলি ছোড়া হয়নি’: প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে বিক্ষোভরত ইনকিলাব মঞ্চ নেতা-কর্মী ও অনুসারীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো ধরনের গুলি ছোড়েনি বলে দাবি করেছে সরকার।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির পর প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর এক বিবৃতিতে একথা জানিয়েছে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে যমুনা অভিমুখে রওনা হলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে তাদের। এতে সংগঠনের সদস্য সচিব সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরসহ কয়েকজন আহত হন। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
আবদুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে তার ফেইসবুক পেইজ থেকে এক পোস্টে লেখা হয়। পরে তা দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এরপর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা।
বিবৃতিতে অন্তর্বর্তী সরকার বলেছে, ‘যমুনা ও এর আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রথমে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বল প্রয়োগ করেনি। বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার অভিমুখে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে এবং একপর্যায়ে জলকামানের ওপর উঠে গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে। সরকার স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে যে, এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো ধরনের গুলি ছোড়েনি।
বিবৃতিতে বলা হয়, জনশৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও সংলগ্ন এলাকায় যেকোনো প্রকার সভা-সমাবেশ, মিছিল, গণজমায়েত ও বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে পুলিশ সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক ও আইনানুগভাবে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। এ সময় কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি বলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
সংঘর্ষের ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ মোট ২৩ জন চিকিৎসাধীন বলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকদের বরাতে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর। তবে তাদের কারও শরীরে গুলির আঘাত নেইও বলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেছেন।
হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার স্পষ্টভাবে পুনর্ব্যক্ত করছে যে শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারে সরকার বদ্ধপরিকর। জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার আইনগত দিক সরকার গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে এবং এ বিষয়ে আগামী রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে।
বিভিন্ন মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগের যে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, তা সঠিক নয় বলে জানিয়েছে সরকারের এ দপ্তর।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্ত থেকে আরও জানানো হয়, ‘আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সংবেদনশীল রাজনৈতিক সময়ে সরকার সকলকে ধৈর্য, সংযম ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছে। দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষ অধীর আগ্রহে এই নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি বর্তমানে বাংলাদেশের দিকে নিবদ্ধ। বিদেশি বহু সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক ইতোমধ্যে বাংলাদেশে উপস্থিত হয়েছেন।
‘সরকার দেশের সকল নাগরিকের প্রতি একটি উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা ও সহযোগিতার আহ্বান জানাচ্ছে। আসন্ন নির্বাচন রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও রক্তক্ষয়ের বিনিময়ে অর্জিত এই নির্বাচনি সুযোগ জাতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
‘দেশের সার্বিক অগ্রগতি, স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এই নির্বাচনকে অবশ্যই সুষ্ঠু, সুন্দর, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে কোনো ধরনের বিচ্যুতি গ্রহণযোগ্য নয়। সরকার বিশ্বাস করে, দেশের সকল নাগরিকের সম্মিলিত দায়িত্বশীল আচরণ ও সহযোগিতার মাধ্যমেই একটি গ্রহণযোগ্য, মর্যাদাপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।’
২৮ দিন আগে
৪৪তম বিসিএসের গেজেট প্রকাশ, নিয়োগ পেলেন ১৪৯০ জন
৪৪তম বিসিএসে ১ হাজার ৪৯০ জনকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দিয়ে আদেশ জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সুপারিশের ৭ মাস পর এ নিয়োগ দেওয়া হলো।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নবনিয়োগ অধিশাখা থেকে এ নিয়োগ দিয়ে আদেশ জারি করা হয়েছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) এটি প্রকাশ করা হয়।
এ বিসিএসের মাধ্যমে প্রশাসন ক্যাডারে ২৪৪ জন, পুলিশ ক্যাডারে ৪৮ জন, পররাষ্ট্র ক্যাডারে ৯ জন, নিরীক্ষা ও হিসাব ক্যাডারে ২৯ জনসহ বিভিন্ন ক্যাডারে এ কর্মকর্তারা নিয়োগ পেয়েছেন।
নিয়োগ আদেশে নিয়োগপ্রাপ্তদের আগামী ৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়ের পদায়ন করা কার্যালয়ে যোগদানের জন্য বলা হয়েছে। ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয় থেকে পরবর্তী কোনো নির্দেশ না পেলে ওই তারিখেই তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে যোগদান করবেন। নির্ধারিত তারিখে যোগদান না করলে তিনি চাকরিতে যোগদান করতে সম্মত নন বলে ধরে নেওয়া হবে এবং নিয়োগপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে।
নিয়োগ পরবর্তী কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো রকম বিরূপ বা ভিন্নরূপ তথ্য পাওয়া গেলে তার ক্ষেত্রে এই আদেশের প্রয়োজনীয় সংশোধন বা বাতিল করার অধিকার কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করে বলেও প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৩০ জুন ৪৪তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করেছিল সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। ১ হাজার ৭১০টি শূন্য পদের বিপরীতে ১ হাজার ৬৯০ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছিল কমিশন। এদের মধ্য থেকে পুলিশ ভেরিফিকেশন ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষে ১৪৯০ জনকে নিয়োগ দিয়ে এই গেজেট প্রকাশ করা হলো।
২৮ দিন আগে
নতুন এমপিরা কার কাছে শপথ নেবেন, ২ বিকল্পের কথা জানাল সরকার
নতুন সংসদ সদস্যরা কাদের কাছে শপথ নেবেন এ নিয়ে সরকারের নীতিগত পর্যায়ে দুটি বিকল্প বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। নির্বাচনের পর দ্রুত শপথ গ্রহণ নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো ব্যক্তি বা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে শপথ নেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা জানান।
তিনি বলেন, ‘এটা (নতুন এমপিরা কার কাছে শপথ নেবেন) সরকারের নীতিগত পর্যায়ের সিদ্ধান্ত, এ বিষয়ে আমি এখন আপনাদের চূড়ান্ত কিছু বলতে পারব না। তবে আমাদের সামনে দুটি অপশন আছে। রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো ব্যক্তি শপথ পড়াতে পারবেন। উদাহরণ হিসেবে হয়তো আমাদের প্রধান বিচারপতি হতে পারেন। এটা যদি না হয়, তাহলে আমাদের যিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার আছেন, তিনিই শপথ পড়াবেন।’
উপদেষ্টা বলেন, ‘সেক্ষেত্রে একটা সমস্যা আছে, তিন দিন অপেক্ষা করতে হবে। আমরা অপেক্ষা করতে চাই না। আমরা নির্বাচন হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করতে চাই।’
২৯ দিন আগে
১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি মেট্রোরেল চলবে
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। রাজধানী ঢাকার ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগ এবং যাত্রীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি মেট্রো ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক থাকবে বলে জানিয়েছে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ।
তিনি বলেন, ভোটের জন্য ছুটির দিনগুলোতেও স্বাভাবিক কর্মদিবসের মতোই মেট্রো ট্রেন চলাচল করবে। নির্বাচনের দিন আমরা অতিরিক্ত ট্রেন দেব। কোনো অসুবিধা নেই।
নির্বাচনকালীন ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ডিএমটিসিএল ও সংশ্লিষ্ট সবার ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
২৯ দিন আগে
আশুলিয়ায় মরদেহ পোড়ানোর মামলায় সাবেক এমপি সাইফুলসহ ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘিরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আশুলিয়ায় ছয় মরদেহ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ, আট জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও রাজসাক্ষীকে খালাস দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ট্রাইব্যুনাল-২–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর পাঁচ আসামি হলেন— আশুলিয়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ এফ এম সায়েদ, থানার সাবেক উপপরিদর্শক আবদুল মালেক, এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা, সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার ও যুবলীগকর্মী রনি ভূঁইয়া।
এ মামলায় সাবেক মোট আসামি ১৬ জন। এর মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাইফুল ইসলামকে প্রধান আসামি করা হয়।
গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা ৮ আসামির মধ্যে ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফীক্ যাবজ্জীবন, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলামকে যাবজ্জীবন, ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন আরজুকে যাবজ্জীবন, সাবেক এসআই মালেককে মৃত্যুদণ্ড, এসআই আরাফাত উদ্দিনকে ৭ বছরের কারাদণ্ড, এএসআই কামরুল হাসানকে ৭ বছরের কারাদণ্ড, মামলার রাজসাক্ষী হওয়ায় সাবেক এসআই শেখ আবজালুল হককে খালাস ও সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদারকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।
পলাতক আট আসামির মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) সৈয়দ নুরুল ইসলামকে যাবজ্জীবন, ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপনকে যাবজ্জীবন, আশুলিয়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ এফ এম সায়েদকে মৃত্যুদণ্ড, সাবেক পরিদর্শক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমানকে যাবজ্জীবন, সাবেক পরিদর্শক নির্মল কুমার দাসকে যাবজ্জীবন, সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক বিশ্বজিৎ সাহাকে মৃত্যুদণ্ড ও যুবলীগের রনি ভূইয়াকে মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায় ঘোষণা করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
গত বছরের ২১ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল ১৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার কার্যক্রম শুরু করেন। এর মধ্যে কনস্টেবল শেখ আবজালুল হক আদালতে দোষ স্বীকার করলে তাকে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী করা হয়।
মামলার প্রেক্ষাপট
মামলার নথিপত্র ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন সাভারের আশুলিয়া থানার সামনে পুলিশ আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
এতে শহিদ হন সাজ্জাদ হোসেন (সজল), আস সাবুর, তানজীল মাহমুদ সুজয়, বায়েজিদ বুসতামি, আবুল হোসেন, ওমর ফারুক ও মোহাম্মদ শাহাবুল ইসলাম।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গুলি করে হত্যার পর লাশগুলো একটি ভ্যানে স্তূপ করে রাখা হয়। এ সময় গুরুতর আহত এক ব্যক্তিকেও ওই লাশের স্তূপের মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর ভ্যানটিতে পেট্রোল ছড়িয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ২০২৪ সালের অক্টোবরের ৬ তারিখ ধানমন্ডিস্থ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের তদন্ত কার্যালয় অভিযোগ পত্র জমা দেয়া হয়। একই দিনে তদন্ত শুরু করেন তদন্ত কর্মকর্তা। ২০২৫ সালের জুন মাসের ১৯ তারিখ তদন্ত কর্মকর্তা তার তদন্ত রিপোর্ট প্রসিকিউশন কার্যালয়ে জমা দেন।
তদন্ত থেকে বিচারিক প্রক্রিয়া
তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২ জুলাই প্রসিকিউশন ১৬ আসামির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল-২ এ ‘ফরমাল চার্জ’ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। অভিযোগের সঙ্গে ৩১৩ পৃষ্ঠার নথি, ১৬৮ পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণ ও দুটি পেনড্রাইভ জমা দেওয়া হয়। এ মামলায় সাক্ষী করা হয় ৫৩ জনকে। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল পলাতক আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন এবং তাঁদের হাজিরের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন।
অভিযোগ গঠন ও সূচনা বক্তব্য
গত বছরের (২০২৫) ২১ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। ওই দিন বিচারকার্যের শুরুতেই আসামিদের অব্যাহতি চেয়ে করা আইনজীবীদের আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়। উপস্থিত আট আসামির মধ্যে সাতজন নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন, কিন্তু এসআই শেখ আবজালুল হক দোষ স্বীকার করেন এবং রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন জানান। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মামলার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।
সাক্ষ্যগ্রহণ ও রাজসাক্ষীর জবানবন্দি
এ মামলার প্রথম সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ২০২৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর। প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন শহিদ আস সাবুরের ভাই রেজওয়ানুল ইসলাম ও শহিদ সাজ্জাদ হোসেন সজলের বাবা মো. খলিলুর রহমান। ২২ কার্যদিবসে তদন্ত কর্মকর্তা জানে আলম খানসহ মোট ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি।
বিচার চলাকালে উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল এসআই শেখ আবজালুল হকের রাজসাক্ষী হওয়া। গত বছরের ১৯ নভেম্বর তিনি ১৬ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষ্য দেন। ২৩ নম্বর সাক্ষী হিসেবে তিনি জবানবন্দি দিলেও, তার দেওয়া তথ্যের পূর্ণতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তবে প্রসিকিউশনের দাবি, রাজসাক্ষী হিসেবে তিনি নিজের জানা সব তথ্যই প্রকাশ করেছেন। সাফাই সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন আরেক আসামি আরাফাত হোসেন।
যুক্তিতর্ক ও রায় ঘোষণা
গত ১৪ ও ১৫ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের পক্ষে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। এরপর আসামিপক্ষের নিযুক্ত ও রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা পাল্টা যুক্তি তুলে ধরেন। গত ২০ জানুয়ারি উভয় পক্ষের আইনি লড়াই ও যুক্তিখণ্ডন শেষ হলে ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন। এরপর ১ ফেব্রুয়ারি রায়ের জন্য ৫ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়।
আসামিদের পরিচয় ও অবস্থান
এ মামলায় মোট ১৬ আসামির মধ্যে ৮ জন পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তাঁরা হলেন ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, কনস্টেবল মুকুল এবং রাজসাক্ষী এসআই শেখ আবজালুল হক।
বাকি আট আসামি পলাতক রয়েছেন। তাঁরা হলেন ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন, আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এএফএম সায়েদ রনি, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) নির্মল কুমার দাস, সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রনি ভূঁইয়া।
পলাতকদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ের জন্য গত ২৮ জুলাই ট্রাইব্যুনাল সরকারি খরচে দুজন আইনজীবী নিয়োগ দেন।
২৯ দিন আগে
৩৮৭ জন জুলাই যোদ্ধা ‘ক’ ও ৪৭৪ জন ‘খ’ শ্রেণিতে উন্নীত
৩৮৭ জন জুলাই যোদ্ধা ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত হয়েছেন। এর আগে তারা ‘খ’ ও ‘গ’ শ্রেণিতে ছিলেন। এছাড়া ‘গ’ শ্রেণিতে থাকা আরও ৪৭৪ জনকে ‘খ’ শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়েছে।
পুনর্নির্ধারিত এই শ্রেণির তালিকা গত ১ ফেব্রুয়ারি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করে। পরে ৩ ফেব্রুয়ারি তালিকাটি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয় বলে আজ (৫ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আন্দোলনে অংশ নিয়ে আহত ব্যক্তিদের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ‘জুলাই যোদ্ধা’র মর্যাদা দিয়েছে। আহতদের অবস্থার ভিত্তিতে তিনটি শ্রেণি নির্ধারণ করা হয়েছে। অতি গুরুতর আহতদের ‘ক’ শ্রেণি, গুরুতর আহতদের ‘খ’ শ্রেণি এবং সাধারণ আহতদের ‘গ’ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
সরকার কয়েক দফায় এই তিন শ্রেণির জুলাই যোদ্ধাদের তালিকা প্রকাশ করে। পরে মিথ্যা তথ্য দিয়ে তালিকাভুক্ত হওয়া এবং একাধিকবার নাম আসায় ১২৮ জন জুলাই যোদ্ধার গেজেট বাতিল করা হয়।
আহতদের শ্রেণি অনুযায়ী বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে সরকার। অতি গুরুতর আহত ‘ক’ শ্রেণির জুলাই যোদ্ধারা এককালীন ৫ লাখ টাকা পেয়েছেন এবং প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা করে ভাতা পাচ্ছেন। একটি অঙ্গহানি হয়েছে—এমন গুরুতর আহত ‘খ’ শ্রেণির জুলাই যোদ্ধারা এককালীন ৩ লাখ টাকা পেয়েছেন এবং প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা করে ভাতা পাচ্ছেন।
‘গ’ শ্রেণির আহত জুলাই যোদ্ধাদের এককালীন ১ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তারা প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে ভাতা পাচ্ছেন।
২৯ দিন আগে
ফ্যাসিবাদের পরিণতির কথা মাথায় রেখে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার
ফ্যাসিবাদের করুণ পরিণতির কথা মাথায় রেখে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে বিভাগীয় প্রশাসন আয়োজিত আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশ দেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বিগত ১৬ বছর ফ্যাসিবাদের বীজ বপন হয়েছিল অস্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। রাষ্ট্রের পুরো যন্ত্র পক্ষপাতিত্বের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেছিল। জাতীয় নির্বাচন থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রতিটি কাঠামোকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছিল। স্বৈরতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। এর ফলস্বরূপ একনায়কতন্ত্র, স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদি কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ার মদদদাতা, ইন্ধনদাতা, পক্ষপাতিত্বকারী, সহায়তাকারী, প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারীরা কেউ কেউ অনেকেরই পূর্বপরিচিত। তারা সরকার যন্ত্রেরই অংশ ছিল। আজকে তাদের অনেকের করুণ পরিণতি সম্পর্কে সবাই অবহিত আছেন। অনেকে চাকরিচ্যুত, অনেকে পলাতক, দেশান্তরিত, জেলে আছেন, আইন-আদালত সামলাচ্ছেন। এমনকি তাদের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনরাও আজ কঠিন পরীক্ষার ভেতর দিয়ে যাচ্ছেন। তাই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বিষয়টি গভীরভাবে অনুধাবন করে সংশ্লিষ্ট সবাই সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে আমি আশা করি।
নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে এদেশের আপামর জনগণ, রাজনৈতিকদলসহ সর্বমহলের প্রত্যাশা অনেক। সেই প্রত্যাশা পূরণে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব আপনাদের কাঁধে।
তিনি বলেন, নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে এমন এক মানদণ্ড স্থাপিত হবে, যা শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হবে।
উপদেষ্টা এ সময় সামান্যতম ভুল বা বিচ্যুতি যাতে নির্বাচন তথা দেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করতে না পারে এবং জনগণের আস্থা হারাতে না পারে, সেদিকে সজাগ ও সতর্ক থাকার জন্য কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। তাছাড়া কোনো ভোটকেন্দ্রে অনিয়ম বা ব্যালট বাক্স ছিনতাই হলে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল গঠন করা হয়েছে। নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা-সংশ্লিষ্ট যেকোনো অভিযোগ এই সেলে করা যাবে।
তিনি জানান, এই সমন্বয় সেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি থাকবেন। এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের প্রতিটি মুহূর্তের তথ্য তাৎক্ষণিক আদান-প্রদান নিশ্চিত করতে হবে, যাতে যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলা করা যায়।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ-২০২৬’-এর ব্যবহার, যেটি জাতীয় টেলিকমিউনিকেশন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (এনটিএমসি) প্রস্তুত করেছে। এর সঙ্গে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষও যুক্ত থাকবে। অ্যাপটি তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ এবং এর দ্রুত প্রতিকার ও নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের দ্রুত প্রবেশপত্র প্রদান সম্পন্ন করতে হবে এবং ভোটকেন্দ্রে তাদের অবাধ প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে। সাংবাদিকদেরও দ্রুত পরিচয়পত্র প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। তারা নির্বাচন ও সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য চাইতে পারেন। এ বিষয়ে তাদের পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করতে হবে। নির্বাচনের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পরিবেশ এমন উন্নত করতে হবে যাতে সবাই আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে আসতে পারে।
সভাপতির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রলোভনের ঊর্ধ্বে থেকে সততা, দক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আমাদের ‘স্টিল ফ্রেম অব ব্যুরোক্রেসি’ নিশ্চিত করতে হবে যাতে কেউ দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও ফাঁকি দিতে না পারে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তীকাল থেকে বর্তমানে আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে। বেশিরভাগ কর্মকর্তারাই বিদেশ সফর ও উন্নত প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন। রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে একটি সুষ্ঠু, সুন্দর, অবাধ, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দেওয়া রাষ্ট্রের কর্মচারী হিসেবে আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ—বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স—এসআইএফ-এর (সাবেক র্যাব) মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান, বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (অপরাধ ও অপারেশন) খন্দকার রফিকুল ইসলাম। মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. মোখতার আহমেদ। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল হক এবং খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান।
সভায় খুলনা বিভাগের সকল জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, আঞ্চলিক,জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও বিজিবির খুলনা বিভাগের প্রতিনিধিরা এবং খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সকল উপ-পুলিশ কমিশনার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, খুলনা বিভাগের নির্বাচনি প্রস্তুতি ভালো। সাংবাদিকদের সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অপতথ্য বা মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করলে ভোটের পরিবেশ বিঘ্নিত হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এবারে তিনটি বিষয় নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে যা পূর্ববর্তী নির্বাচনগুলোতে সম্ভব হয়নি। সেগুলো হলো: নির্বাচন তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার (বডি ক্যামেরা, সিসিটিভি, ড্রোন ইত্যাদি), আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রশিক্ষণ ও এনটিএমসি প্রণীত ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ-২০২৬’-এর ব্যবহার।
উপদেষ্টা এগুলোর সফল প্রয়োগ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
৩০ দিন আগে