বাংলাদেশ
কারামুক্তির ৭ দিন পর ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু
দীর্ঘ প্রায় সাত মাসেরও বেশি সময় ধরে কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পাওয়ার ৭ দিনের মাথায় মারা গেলেন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল কুদ্দুস মোয়াজ।
হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বুধবার (৬ মে) ভোর ৪টার দিকে রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হাসপাতালের চিকিৎসকের দেওয়া মৃত্যু রেজিস্ট্রারের উদ্ধৃতি দিয়ে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মোয়াজ শেরপুর শহরের মীরগঞ্জ এলাকার মাছ ব্যবসায়ী ফজু মিয়ার ছেলে ছিলেন। তিনি ছাত্রলীগের শেরপুর সরকারি কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ওই কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে তিনি বিএসসি (সম্মান) ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন।
নিহতের পারিবারের সদস্যরা জানান, চব্বিশের গণআন্দোলনের পর আত্মগোপণে থাকা অবস্থায় রাজধানীর ধানমণ্ডি এলাকা থেকে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা তাকে আটক করে পুলিশে দেয়। দীর্ঘ প্রায় ৭ মাস কারাগারে থাকার পর গত সপ্তাহে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জামিনে মুক্ত হয়ে নিজবাড়ি শেরপুরে ফিরেছিলেন আব্দুল কুদ্দুস মোয়াজ। তার শারীরিক কোনো জটিলতা ছিল না। গতকাল (মঙ্গলবার) তিনি ঢাকায় যান এবং হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর আজ (বুধবার) ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
নিহতের বাবা ফজু মিয়া জানান, আজ (বুধবার) আসরের নামাজের পর শেরপুরের মীরগঞ্জ বারাকপাড়া ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
এ ব্যাপারে শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে তার মৃত্যুর বিষয়টি আমরা জেনেছি। এ বিষয়ে মৃত্যু সনদ হাতে পেলে সেটি আমরা আদালতে উপস্থাপন করব। আইনি প্রক্রিয়া অনুসারে আদালত পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। সেক্ষেত্রে বিচারিক প্রক্রিয়ায় চার্জশিট থেকে মৃত ব্যক্তির নাম বাদ যাবে।
২৯ দিন আগে
ইউনিসেফের সহায়তায় দেশে আসছে সাড়ে ৯ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, দেশের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) শক্তিশালী করতে এবং শিশুদের নিয়মিত টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করতে ইউনিসেফের সহায়তায় বাংলাদেশে ১০ ধরনের সাড়ে ৯ কোটি (৯৫ মিলিয়ন) ডোজ ভ্যাকসিন আনা হচ্ছে।
বুধবার (৫ মে) দুপুর পৌনে বারোটার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভ্যাকসিন গ্রহণ উপলক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী।
সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, ১৯৭৯ সাল থেকে ইপিআই কর্মসূচির মাধ্যমে শিশু ও নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ১২টি প্রতিরোধযোগ্য সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী সফল এই কর্মসূচির স্বীকৃতি হিসেবে গ্যাভি বাংলাদেশকে ‘ভ্যাকসিন হিরো’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ইউনিসেফের যৌথ গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, দেশে ইপিআই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতি বছর প্রায় ১ লাখ শিশুর মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হচ্ছে। এতে প্রায় ৫০ লাখ রোগ প্রতিরোধ হচ্ছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু ভুল সিদ্ধান্তের কারণে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এই কর্মসূচি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার ইপিআইকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে, কারণ এটি সরাসরি শিশুদের জীবন রক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত।
তিনি জানান, পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে ভ্যাকসিন ক্রয়ের উদ্যোগ নেওয়া হলেও দায়িত্ব গ্রহণের দুই সপ্তাহের মধ্যেই সেটি বাতিল করা হয়েছিল। তবে আমরা সরকার গঠনের পর ইউনিসেফের মাধ্যমে ভ্যাকসিন সরবরাহের অনুরোধ জানানো হয়েছিল, সরকার দ্রুততার সঙ্গে প্রয়োজনীয় অর্থ ইউনিসেফকে পরিশোধ করেছে।
মন্ত্রী বলেন, সরকার ইতোমধ্যে ইউনিসেফকে ৮৩.৬ মিলিয়ন ডলার প্রদান করেছে, যার মাধ্যমে ১০ ধরনের মোট ৯৫ মিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন সংগ্রহ করা হচ্ছে। ৯ ও ১৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে অর্থ প্রদানের পর ইউনিসেফ ৩ মে প্রথম চালানে ১৫ লাখ ৫ হাজার ডোজ আইপিভি ভ্যাকসিন সরবরাহ করে। এছাড়া ৬ মে ইউনিসেফ আরও ১৫ লাখ ডোজ এমআর এবং টিডি ভ্যাকসিন (৯০ হাজার ভায়াল) সরবরাহ করেছে।
তিনি আরও বলেন, আগামী ১০ মে এর মধ্যে আরও প্রায় ১.৮ কোটি ডোজ এমআর, টিডি, বিসিজি, টিসিভি, বিওপিভি এবং পেন্টা ভ্যাকসিন দেশে পৌঁছাবে বলে জানান মন্ত্রী। ইউনিসেফ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ ভ্যাকসিন সরবরাহ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নিয়েছে। ইউনিসেফের বৈশ্বিক সক্ষমতার কারণে ওপেন টেন্ডার বাতিলের পর অতিরিক্ত ৩৫ মিলিয়ন ডলারের ভ্যাকসিনও ইউনিসেফের মাধ্যমে সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের জন্য ১৫ মাসের ভ্যাকসিন সংগ্রহের পরিকল্পনা নিয়েছি, যার মধ্যে ৩ মাসের বাফার স্টক থাকবে। এ প্রক্রিয়াও ইউনিসেফের মাধ্যমে শুরু করা হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে টিসিভি ও এইচপিভি ভ্যাকসিনের দুই বছরের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। নতুন সরবরাহের ফলে আগামী ৮ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত অন্যান্য ভ্যাকসিনেও কোনো ঘাটতি থাকবে না বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার শিশু ও নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। ইপিআই কার্যক্রমের জন্য স্বল্প সময়ে ভ্যাকসিন নিশ্চিত করা এই সরকারের একটি সময়োপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপ।
যেহেতু ভ্যাকসিন ক্রয় একটি চলমান প্রক্রিয়া, তাই সরকার এ বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বিশ্বমানের কোল্ড চেইন ব্যবস্থার মাধ্যমে উৎপাদনকারী থেকে মাঠ পর্যায় পর্যন্ত ভ্যাকসিনের গুণগত মান বজায় রাখা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় ইউনিসেফ নিয়মিত কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে, যার মধ্যে রয়েছে মাইক্রোপ্ল্যানিং, প্রশিক্ষণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং রিয়েল-টাইম রিপোর্টিং।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমানে চলমান ‘হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬’-এর আওতায় ৫ মে পর্যন্ত ১ কোটি ৬৮ লাখ ২১ হাজার ৬০৫টি শিশু টিকা পেয়েছে। আমরা ৯৩ শতাংশ ভ্যাকসিন প্রদান সম্পন্ন করেছি। বাংলাদেশ এখন ১০০ শতাংশের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এ সময় সকল অভিভাবক, কমিউনিটির নেতা, শিক্ষক এবং ইমামদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আপনারা শিশুদের এক ডোজ এমআর টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করুন, যাতে আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এই মারাত্মক ভাইরাস থেকে রক্ষা করতে পারি।
প্রেস ব্রিফিংয়ের শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী গ্যাভি, ইউনিসেফ, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকসহ (এডিবি) সকল উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে দেশের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি আরও শক্তিশালী হবে এবং প্রতিটি শিশু হামসহ প্রতিরোধযোগ্য রোগ থেকে সুরক্ষিত থাকবে।
২৯ দিন আগে
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে হওয়া মানবতাবিরোধী মামলাগুলো যাচাই-বাছাই হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর, অর্থাৎ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে হওয়া মানবতাবিরোধী মামলাগুলো যাচাই-বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এজন্য জেলা পর্যায়ে থেকে মামলাগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্য জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৬ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের চতুর্থ ও শেষ দিনের তৃতীয় অধিবেশন শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের এ কথা জানান। স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ অধিবেশন হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ৫ আগস্টের পরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু মামলা হয়েছে, যেগুলো গণহত্যার মামলা এবং আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা। জেলা পর্যায়ে কতগুলো মামলা সেরকম দাখিল হয়েছে, আজকে সে ব্যাপারে আমরা তাদের (ডিসি) কাছে তালিকা চেয়েছি। এগুলো প্রত্যন্ত জেলাগুলোতে হয়তো কম, কিন্তু মহানগরগুলোতে সংখ্যাটা একটু বেশি। অনেক মামলার মধ্যে হাজার হাজার মানুষকে আসামি করা হয়েছে, সেগুলো আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখব প্রকৃত অর্থে প্রকৃত আসামি কারা। তদন্ত কর্মকর্তারা এ বিষয়ে তদন্ত করে দেখবেন যাতে স্বল্প সময়ের ভেতরে সেগুলোর নিষ্পত্তি করা যায়।
তিনি বলেন, যাদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তাদের যাতে নিষ্কৃতি দেওয়া হয়, সেই সুপারিশ আমরা করেছি। তবে এটা আইনানুগভাবে, আইনি প্রক্রিয়ায় হবে।
ডিসিদের মামলাগুলো পাঠানোর জন্য কত দিন সময় দেওয়া হয়েছে—জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আমরা বলেছি এটা যথাশীঘ্র সম্ভব পাঠাতে। মৌখিকভাবে বলেছি সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে পাঠাতে। তবে কোনো ক্ষেত্রে কেউ যদি বিলম্ব করে থাকে, আমরা ন্যায়বিচারের স্বার্থে সেটা বিবেচনা করব। আশা করি যারা মামলা প্রত্যাহার চান, তারা বিলম্ব করবেন না।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জেলা পর্যায়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি কমিটি করা হয়েছে। এতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ সুপার, পাবলিক প্রসিকিউটর (সরকারি কৌঁসুলি) এবং আরও একজন প্রতিনিধি আছেন। এই কমিটি প্রজ্ঞাপন জারি করে জানিয়েছে, যদি কারও বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা ভুয়া/মিথ্যা মামলা হয়ে থাকে, তাহলে তিনি নির্দিষ্ট একটি ফরমে আবেদন করতে পারবেন।
তিনি জানান, আবেদনের সঙ্গে এফআইআর, এজাহার বা চার্জশিট (যদি হয়ে থাকে) এবং মামলাটি কোন আদালতে চলছে—এসব তথ্য দিতে হবে। এরপর কমিটি যাচাই-বাছাই করে দেখবে, মামলাটি সত্যিই এ ধরনের কি না। যদি তা প্রমাণিত হয়, তাহলে তারা মামলা প্রত্যাহারের জন্য সুপারিশ করবে।
মন্ত্রী জানান, এই আবেদনগুলো প্রথমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যাবে। সেখানে সঙ্গে সঙ্গে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। পরে সেগুলো আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। আইনমন্ত্রীর সভাপতিত্বে থাকা একটি কমিটি বিষয়গুলো পর্যালোচনা করবে। তারা যদি মনে করে কোনো মামলা প্রত্যাহারের উপযুক্ত, তাহলে তা আবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৪ ধারার অনুযায়ী মামলাগুলো প্রত্যাহারের ব্যবস্থা নেবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সময়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় বা হয়রানিমূলক উদ্দেশ্যে যেসব ভুয়া ও গায়েবি মামলা করা হয়েছিল, সেগুলোর বিষয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর আবারও একটি পত্র দেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় কিছু মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছিল, তবে তখন কিছু ধরনের মামলা এর আওতায় আনা হয়নি, যেমন: হত্যা, অস্ত্র, নারী নির্যাতন, মাদক পাচার ও মানব পাচারের মামলা।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা রাজনৈতিক সরকার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দেখেছি, আমাদের বিরুদ্ধেও অনেক হত্যা ও অস্ত্র মামলা দেওয়া হয়েছিল। এমনকি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধেও অন্তত দুই-তিনটি হত্যা মামলা ছিল—যাত্রাবাড়ী, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন স্থানে। চৌদ্দগ্রামের মামলাসহ আমার বিরুদ্ধেও একই ধরনের মামলা ছিল; অস্ত্র মামলাও ছিল। আমাদের অনেক নেতার বিরুদ্ধে মাদক ও নারী নির্যাতনের মামলাও দেওয়া হয়েছিল, যাতে যেকোনোভাবে আটক রাখা যায়।
২৯ দিন আগে
হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১৬৫৪
দেশে আজ বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে আক্রান্ত হয়েছে মোট ১ হাজার ৬৫৪টি শিশু।
বুধবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও দুটি শিশুর।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ২৬৮টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৫৬টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৩২৪টি শিশু মারা গেছে।
এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ৩৭৩টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২৮১। এই সময়ে ১ হাজার ৫৪টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮৫৫টি শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৪৪ হাজার ২৬০, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৬ হাজার ৯৯। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৩০ হাজার ৮৮৫ রোগী, যাদের মধ্যে ২৭ হাজার ২২৩ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।
২৯ দিন আগে
গাড়িবহর থামিয়ে অ্যাম্বুলেন্সকে পথ ছেড়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী
সড়কে জরুরি সেবার প্রতি অগ্রাধিকার দিয়ে ভিভিআইপি প্রটোকল ভেঙে একটি অ্যাম্বুলেন্সকে পথ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (৬ মে) সকালে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কারওয়ান বাজার প্রান্তে এ ঘটনা ঘটে। সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে যাওয়ার পথে এই ব্যতিক্রমী উদাহরণ সৃষ্টি করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ সকাল ৯টার কিছু সময় আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়িবহর বনানী এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে কারওয়ান বাজার এফডিসি মোড়ের দিকে যাচ্ছিল। আকস্মিক প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি পড়ে একটি অ্যাম্বুলেন্সের দিকে। তার গাড়িবহরের পেছনে সাইরেন বাজাতে বাজাতে অ্যাম্বুলেন্সটি অতিক্রমের চেষ্টা করছিল।
প্রধানমন্ত্রী পরিস্থিতি বুঝে অতি জরুরি সেবার এই গাড়িকে পথ করে দিতে বহরে থাকা নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। নির্দেশ পেয়ে কর্মকর্তারা অ্যাম্বুলেন্সকে যাওয়ার পথ করে দেন।
বাংলাদেশে সাধারণত ভিভিআইপি বহর চলাচলের সময় অন্যান্য যানবাহনকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। তবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তারেক রহমানের এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন অনেকে।
২৯ দিন আগে
সার্কুলার অর্থনীতিতে রূপান্তর শিল্পখাতের ভবিষ্যৎ সক্ষমতা ও টেকসই প্রবৃদ্ধির পূর্বশর্ত: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, সার্কুলার অর্থনীতিতে (সিই) রূপান্তর এখন আর শুধু পরিবেশগত আলোচনার বিষয় নয়, এটি বাংলাদেশের শিল্পখাতের ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতা-সক্ষমতা, টেকসই প্রবৃদ্ধি এবং বিশ্ববাজারে অবস্থান শক্তিশালী করার অন্যতম প্রধান পূর্বশর্ত।
বুধবার (৬ মে) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও তৈরি পোশাক উৎপাদক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন—বিজিএমইএ’র যৌথ আয়োজনে বাংলাদেশে ‘সুইচ টু সিই পাইলট উদ্যোগের মাধ্যমে সার্কুলার অর্থনীতির রূপান্তর ত্বরান্বিতকরণ’ শীর্ষক বিশেষ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বিশ্ববাজার দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। টেকসই উৎপাদন এখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার অন্যতম নির্ধারক। ক্রেতা, বিনিয়োগকারী ও ভোক্তারা এখন এমন উৎপাদন ব্যবস্থার প্রতি বেশি আগ্রহী যা দক্ষতা, দায়িত্বশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার পরিচয় বহন করে।
তিনি বলেন, ‘সুইচ টু সার্কুলার ইকোনমি’ কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত পাইলট কার্যক্রম ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছে যে সার্কুলার অর্থনীতিতে রূপান্তর কোনো কল্পনাপ্রসূত ধারণা নয়; বরং এটি বাস্তবসম্মত, অর্জনযোগ্য এবং এর বাস্তবায়ন ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, এইচঅ্যান্ডএম গ্রুপ ও বেস্টসেলারের সহযোগিতায় পরিচালিত পাইলট কার্যক্রমগুলো বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতে সার্কুলার অর্থনীতির প্রয়োগে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখিয়েছে।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুর রহিম খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত প্রধান মাইকেল মিলার এবং বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।
২৯ দিন আগে
৯ মে থেকে শুরু হচ্ছে ‘উইমেন সামিট অ্যান্ড এক্সিবিশন ২০২৬’
নারীর ক্ষমতায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্যোক্তা তৈরি, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং টেকসই নেটওয়ার্কিংয়ের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দুই দিনব্যাপী ‘উইমেন সামিট অ্যান্ড এক্সিবিশন ২০২৬’।
আগামী ৯ ও ১০ মে রাজধানীর গুলশানে এলিট কনভেনশন হলে দুই দিনব্যাপী এ সামিট অনুষ্ঠিত হবে। এই আয়োজনটির মূল পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছে জাদুব ও আইপিডিসি ফাইন্যান্স।
এবারের আয়োজনের মূল থিম নির্ধারণ করা হয়েছে— জাতীয় অর্থনীতিতে নারীর ভূমিকা ও গুরুত্ব, এবং মূল স্লোগান— ‘শি লিডস, শি শাইন’।
আয়োজক সংগঠন ‘পাওয়ার অব শি’ জানায়, সামিটকে সফল ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে ইতোমধ্যে অংশগ্রহণকারী প্রদর্শকদের নিয়ে একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে দুই দিনের বিস্তারিত কর্মসূচি, বিভিন্ন সেশনের কাঠামো, বক্তা তালিকা, অংশগ্রহণের নিয়মাবলী এবং প্রদর্শকদের করণীয় বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
২০২০ সাল থেকে নিয়মিতভাবে আয়োজিত এই সামিট ইতোমধ্যে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এবারও নতুন উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। ‘উদ্যোক্তা হান্ট’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বাছাইকৃত তিনজন সম্ভাবনাময় স্টার্টআপ উদ্যোক্তাকে দেওয়া হচ্ছে বিনামূল্যে স্টল। এছাড়া নির্বাচিত দুইজন শিক্ষার্থীকে দেশের স্বনামধন্য উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়াও ময়মনসিংহের উদ্যোক্তা তাসমিয়াকে বিশেষ সম্মাননা হিসেবে একটি ফ্রি স্টল প্রদান করা হচ্ছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও পরিবারসহ ঢাকায় এসে ‘উদ্যোক্তা হান্ট’-এর চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেওয়ার তার অদম্য প্রচেষ্টা আয়োজকদের অনুপ্রাণিত করেছে।
এ প্রসঙ্গে ‘পাওয়ার অব শি’-এর চেয়ারম্যান সাবিনা সাবি বলেন, ‘আমরা শুধু উদ্যোক্তার ব্যবসায়িক সাফল্য নয়, তাদের পেছনের সংগ্রাম, অধ্যবসায় এবং পরিবারের সমর্থনকেও সমানভাবে মূল্যায়ন করি। তাসমিয়ার এই অদম্য স্পৃহা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা।’
তিনি আরও বলেন, ‘উইমেন সামিট অ্যান্ড এক্সিবিশন ২০২৬ শুধুমাত্র একটি আয়োজন নয়—এটি নারী নেতৃত্ব, উদ্ভাবন ও অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তির একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। আমরা চাই, দেশের প্রতিটি প্রান্তের নারীরা এখানে এসে নিজেদের সম্ভাবনা তুলে ধরার সুযোগ পাক, নতুন সংযোগ তৈরি করুক এবং ভবিষ্যতের জন্য আত্মবিশ্বাস অর্জন করুক।’
দুই দিনব্যাপী এই সামিটে নারী স্বাস্থ্য, মানসিক সুস্থতা, অর্থনীতি এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেশন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে দেশের স্বনামধন্য বিশেষজ্ঞরা অংশ নেবেন।
এই আয়োজনে উপস্থিত থাকবেন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, সেলিব্রিটি, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নারী উদ্যোক্তা, করপোরেট প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, নীতিনির্ধারক, তরুণ প্রজন্ম, শিক্ষার্থী এবং পেশাজীবীরা।
স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং সৃজনশীলতাকে কেন্দ্র করে সাজানো এই আয়োজন নারী নেতৃত্বের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আয়োজনের প্রথম দিন ৯ মে সকাল ১০টায় প্রদর্শনী উদ্বোধনের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হবে। এসময় উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন পাওয়ার অব শি ট্রাস্টের চেয়ারম্যান সাবিনা সাবি এবং হাল ফ্যাশনের কনসালট্যান্ট ও হেরিটেজ টেক্সটাইল বিশেষজ্ঞ এস. কে. সাইফুর রহমান। তারপর ‘নারীর শারীরিক স্বাস্থ্য’ বিষয়ক প্যানেল আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ‘ইনসেপ্টা উইমেন হেলথ ম্যাটারস!!’ শীর্ষক এই সেশনে মডারেটর হিসেবে থাকবেন ডা. শারমিন আব্বাসি এবং কো-মডারেটর হিসেবে ডা. শেইন ফারিয়া শেতু।
আলোচনাপর্ব শেষে ৩টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে গ্র্যান্ড উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, যা উপস্থাপনা করবেন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব সুমাইয়া হোসেন। এসময় সম্মানিত অতিথিদের উপস্থিতিতে ফিতা কাটা ও স্টল পরিদর্শন করা হবে। বিকেলে ‘নারীর চোখে অর্থনীতি’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় মডারেটর হিসেবে থাকবেন সঙ্গীতা খান। আলোচনায় অংশ নেবেন বিবি রাসেল, ড. মেলিতা মেহজাবিন, ফারজানা খান, প্রফেসর সেলিম জাহান, মামুন রশীদ এবং ব্যারিস্টার ওমর সাদাত। দিনটি শেষ হবে ঢাকা কমিউনিটি ব্যান্ডের লাইভ পরিবেশনার মাধ্যমে।
দ্বিতীয় দিন ১০ মে সকাল ১০টায় পুনরায় প্রদর্শনী শুরু হবে। সকালে ‘মনের কথা খুলে বলুন’ শীর্ষক নারীর মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এতে মডারেটর হিসেবে থাকবেন ডা. সিফাত ই সাঈদ এবং প্যানেলিস্ট হিসেবে অংশ নেবেন প্রফেসর মেহতাব খানম, প্রফেসর ডা. ফারজানা রহমান এবং ডা. সিফাত ই সাঈদ।
বিকেল উদ্যোক্তা উন্নয়ন বিষয়ক একটি মাস্টারক্লাস অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বক্তব্য রাখবেন বিনিয়োগকারী ও শপআপ-এর কো-ফাউন্ডার সিফাত সারওয়ার। সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করবেন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব শারমিন এফফাত শামস। এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জোবেরা রহমান লিনু, মাহিন খান, সঙ্গীতা আহমেদ, লিপি খন্দকার এবং মাইশা রহমান মালিহা।
অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হবে। এতে আবৃত্তি পরিবেশন করবেন ফারজানা করিম এবং সংগীত পরিবেশন করবেন শারমিন রহমান রুমা।
দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনটি একটি প্রভাবশালী ও অনুপ্রেরণামূলক মিলনমেলায় রূপ নেবে, যেখানে সম্মানিত অতিথিরা জীবনের নানা সংগ্রাম অতিক্রম করা নারীদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরবেন। নারী, নেতৃত্ব, স্বাস্থ্য, উদ্যোক্তা ও সৃজনশীলতার এই আয়োজন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
২৯ দিন আগে
খেলার মাঠে মেলার আয়োজন বন্ধ করবে সরকার: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
ভবিষ্যতে খেলার মাঠে মেলা করার অনুমতি দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুল হক।
বুধবার (৬ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের চতুর্থ ও শেষ দিনের প্রথম অধিবেশন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এই অধিবেশনটি হয়।
জেলা পর্যায়ের মাঠগুলোতে মেলার কারণে খেলাধুলা বন্ধ থাকা নিয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন কুড়ি স্পোর্টস কিন্তু ৬৪টা জেলার জেলা স্টেডিয়ামেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আমি দেখেছি যে, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে মেলার জন্য বিগত সময়গুলোতে অনুমতি দেওয়া হতো। কিন্তু আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মেলা উদযাপনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ভবিষ্যতেও স্টেডিয়ামকে ব্যবহার করে মেলা বসানোর সুযোগ আমরা দেব না।
দুই সিটি করপোরেশনের খেলার মাঠে হকার পুনর্বাসনের প্রস্তাবে তিনি বলেন, দুই সিটি করপোরেশন, আমাদের তিনজন মন্ত্রী ও আমাদের সচিবরা মাঠগুলো পরিদর্শন করছেন। এই মাঠগুলোর মধ্যে যেগুলো খেলার উপযোগী, সেগুলোতে নিশ্চয়ই তারা হকার পুনর্বাসন করবেন না। এই বিষয় নিয়ে আমরা প্রয়োজনে তাদের সঙ্গে কথা বলে সেগুলো নিশ্চিত করার চেষ্টা করব।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সারা বাংলাদেশের জেলা স্টেডিয়াম, ক্রীড়া কমপ্লেক্স কিংবা সুইমিং কমপ্লেক্সগুলো সংস্কারের মাধ্যমে সচল করার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যাতে তৃণমূল থেকে খেলোয়াড় তুলে আনার চেষ্টা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা যায়।
তিনি বলেন, সারা দেশের কিছু প্রকল্প হাতে নিয়েছি এবং কিছু প্রকল্প চলমান রয়েছে। এই প্রকল্পগুলো যেন সঠিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করা হয় বা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়, সে বিষয়গুলো নিশ্চিতের জন্য আমরা ইতোমধ্যে আমাদের জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনাদের আহ্বান জানিয়েছি। তাদের বলা হয়েছে, আপনাদের সঙ্গে আমাদের এমন একটি যোগসূত্র তৈরি হবে, যাতে আমরা তৃণমূল পর্যায়ে আমাদের যুবক এবং আগামীর প্রজন্মকে সংযুক্ত করে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে পারি।
নতুন কুড়ি স্পোর্টসের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আশা করছি, এই প্রথম সেশন শেষে আমরা দ্বিতীয়বার নতুন করে স্পোর্টস শুরু করব। এই ধারাবাহিকতা যদি আমরা ধরে রাখতে পারি, শেষ পর্যন্ত আগামী দুয়েক বছর পরে কিংবা আগামী পাঁচ বছর পরে আমরা আশা করছি যে আমাদের এই জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে উপজেলা, ইউনিয়ন পর্যায়ে আমরা যে সংযোগ তৈরি করছি, তা দিয়ে আমরা পারিবারিক, সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে একটি আমূল গুণগত পরিবর্তন আনতে পারব।
২৯ দিন আগে
এপ্রিলে ৪৬৩ সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরেছে ৪০৪ প্রাণ
দেশে গত এপ্রিল মাসজুড়ে ৪৬৩টি দুর্ঘটনায় ৪০৪ জন নিহত এবং ৭০৯ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৫৩ জন নারী ও ৪৮টি শিশু রয়েছে।
বুধবার (৬ মে) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পাঠানো মাসিক সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে সংস্থাটি।
এতে দেখা যায়, এককভাবে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাই সবচেয়ে বেশি প্রাণ কেড়েছে। ১৪২টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১১৩ জন, যা মোট নিহতের ২৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ।
যানবাহন ও সড়কভিত্তিক পরিসংখ্যান
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনায় ১০২ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২৫ দশমিক ২৪ শতাংশ। এছাড়া যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৪৬ জন।
বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যানে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। এ বিভাগে ১০৯টি দুর্ঘটনায় ১০২ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ১২টি দুর্ঘটনায় ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। রাজধানী ঢাকায় ৩৬টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত ও ৬৭ জন আহত হয়েছেন।
সড়কের ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৪১ দশমিক ৬৮ শতাংশ দুর্ঘটনা আঞ্চলিক সড়কে এবং ৩৬ দশমিক ২৮ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে সংঘটিত হয়েছে। দুর্ঘটনাগুলোর বড় একটি অংশ (৪১.৯০ শতাংশ) ঘটেছে চালক নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে।
পেশাজীবী ও অন্যান্য হতাহত
নিহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী ও পেশাজীবী রয়েছেন। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত মাসে ৪৯ জন শিক্ষার্থী, ১৯ জন রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, ১৭ জন বিক্রয় প্রতিনিধি, ১৪ জন এনজিও কর্মী এবং ১২ জন ধানকাটা শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও প্রাণ হারিয়েছেন।
সড়ক ছাড়াও গত মাসে ৩৪টি রেল দুর্ঘটনায় ২৬ জন এবং ৭টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনার কারণ ও সুপারিশ
দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা ও শারীরিক অসুস্থতা এবং দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে চিহ্নিত করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংস্থাটি ১২ দফা সুপারিশ পেশ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল (এনআরএসসি) পুনর্গঠন, বিআরটিএ’র স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা, মহাসড়কে সার্ভিস রোড নির্মাণ এবং টেকসই পরিবহন কৌশলের আওতায় সমন্বিত যোগাযোগ মন্ত্রণালয় গঠন করা। সংস্থাটির মতে, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা অত্যন্ত জরুরি।
২৯ দিন আগে
মগবাজার মোড় থেকে সাংবাদিককে ‘অপহরণচেষ্টা’
রাজধানীর মগবাজার মোড় এলাকা থেকে আতাউর রহমান নামে এক সাংবাদিককে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, অপহরণে ব্যর্থ হয়ে মব সৃষ্টি করে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করা হয় তাকে। তাতেও ব্যর্থ হয়ে দ্রুত গাড়ি নিয়ে সটকে পড়ে অভিযুক্তরা।
ঘটনাটি সোমবারের (৪ মে)। ওই দিন রাত সোয়া ১০টার দিকে মগবাজার ট্রাফিক সিগন্যালের মতো ব্যস্ততম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে শুরুতে কিছুটা ঘাবড়ে গেলেও গতকাল মঙ্গলবার এ বিষয়ে হাতিরঝিল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী।
আতাউর রহমান অনলাইন সংবাদমাধ্যম ঢাকা স্ট্রিমের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক। তিনি বার্তা সংস্থা ইউএনবির সাবেক কর্মী।
ঘটনার বিবরণে আতাউর জানান, রাজধানীর পান্থপথে অফিস শেষ করে সোমবার রাত সোয়া ১০টার দিকে বনশ্রীর বাসায় ফিরছিলেন তিনি। সে সময় সঙ্গে ছিলেন তার সাবেক সহকর্মী সাংবাদিক মহির মারুফ। মগবাজার সিগন্যালে রিকশা থেকে নেমে আতাউর যখন ভাড়া মেটাচ্ছিলেন, মারুফ তখন সিগন্যাল অতিক্রম করে আরেকটি রিকশা ভাড়া করতে ব্যস্ত। এরই মধ্যে ঘটে ঘটনাটি।
সিগন্যাল অতিক্রম করার সময় এক ব্যক্তি হঠাৎ একটি প্রাইভেট কার থেকে নেমে এসে আতাউরের দিকে তেড়ে যান। লাঠি হাতে নেমে আসা ওই ব্যক্তি তাকে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করেন। সে সময় এই সংবাদকর্মী তাকে প্রতিহত করার চেষ্টা করলে গাড়িটি থেকে আরও তিনজন নেমে আসেন। তবে হট্টগোল দেখে সেখানে লোকজন জড়ো হলে অভিযুক্তরা আতাউরের বিরুদ্ধে গালি দেওয়ার অভিযোগ তোলেন।
অভিযুক্তরা মব সৃষ্টির মাধ্যমে উপস্থিত জনতাকে কাজে লাগিয়ে ফায়দা তোলার চেষ্টা করেন বলে দাবি করেন আতাউর। তিনি বলেন, ‘তবে কাছাকাছি থাকা কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী বিষয়টি টের পেয়ে তাদের কথা প্রত্যাখ্যান করেন। এতে করে ওরা ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করে, তবে উপস্থিত জনতা তাদের বাধা দিলে অপহরণকারীরা গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়।’
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক মারুফ বলেন, ‘আমি সিগন্যাল ক্রস (অতিক্রম) করে পেছনে তাকিয়ে দেখি, একটি কালো প্রাইভেট কার সিগন্যালে থেমে আছে। সেটির সামনের সিট থেকে একজন বের হয়ে আতাউর ভাইকে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করছে। সঙ্গে সঙ্গে আমি দৌড়ে ট্রাফিক সিগন্যালে থাকা দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যকে ডেকে নিয়ে সেখানে পৌঁছে দেখি, ইতোমধ্যে চারজন মিলে আতাউর ভাইকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। এ সময় পথচারীসহ আমরা সবাই মিলে তাদের বাধা দিলে উল্টো তারা দোষ দেয় যে তাদের নাকি গালি দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও তারা আতাউর ভাইকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করে। তবে পুলিশ এগিয়ে গেলে তারা গাড়িতে উঠে দ্রুত চলে যায়।’
এ বিষয়ে হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। গাড়িটির নম্বর শনাক্ত করা হয়েছে। একজন কর্মকর্তাকে (এসআই) ঘটনাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কারা কেন একজন সাংবাদিকের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটালো, তা নিয়ে তদন্ত হচ্ছে।
৩০ দিন আগে