বাংলাদেশ
চানখারপুল হত্যা মামলা: ৩ পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে চানখারপুলে ৬ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অপর দুজন হলেন ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এবং রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম।
এছাড়া রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুলকে ৬ বছরের কারাদণ্ড; শাহবাগ থানার সাবেক পুলিশ পরিদর্শক আরশাদ হোসেনকে ৪ বছরের কারাদণ্ড এবং ওই থানার তিন পুলিশ কনস্টেবল মো. সুজন, ইমাজ হোসেন ইমন ও নাসিরুল ইসলামকে ৩ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় দেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে এই মামলায় শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম, সহিদুল ইসলাম ও আবদুল্লাহ আল নোমানসহ অপর প্রসিকিউটররা।
অন্যদিকে, আসামি ইমাজ হোসেন ইমনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. জিয়াউর রশিদ এবং পলাতক চার আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে ছিলেন কুতুবউদ্দিন আহমেদ।
রায়ের পর চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, সব আসামির বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে, কিন্তু রায় ন্যায়সঙ্গত হয়নি।
তিনি আরও বলেন, তবে ট্রাইব্যুনাল রায় যেটা দিয়েছেন তা মানতে হবে। তবে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে।
এই মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামি হলেন— শাহবাগ থানার সাবেক ওসি (অপারেশন) মো. আরশেদ হোসেন, কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ও মো. নাসিরুল ইসলাম। তবে ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী ও রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম ও সাবেক সহকারী কমিশনার (এসি) মোহাম্মদ ইমরুল পলাতক রয়েছেন।
এর আগে, গত মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) এ মামলার রায় ঘোষণা করার কথা ছিল। ওইদিন রায় প্রস্তুত না হওয়ায় পিছিয়ে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখাঁরপুল এলাকায় শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ গুলি চালায়। এতে শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ মাহদী হাসান জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক শহিদ হন। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়।
গত ১১ আগস্ট চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন শেষে এই মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন শহিদ আনাসের বাবা সাহরিয়ার খান পলাশ। এরপর শহিদ আনাসের মা ও নানাসহ মোট ২৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন করা হয়। এই মামলায় সাক্ষ্য দেন সাবেক স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
৩৯ দিন আগে
চানখারপুল হত্যা মামলার রায় আজ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর চানখারপুলে ৬ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আজ (সোমবার) ঘোষণা করা হবে।
গত মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) এ মামলার রায় ঘোষণা করার কথা ছিল। ওইদিন রায় প্রস্তুত না হওয়ায় পিছিয়ে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
এর আগে, প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম জানিয়েছিলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে এ রায় দেবেন ট্রাইব্যুনাল-১।
প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের জন্য ২০ জানুয়ারি দিন নির্ধারণ করেছিলেন। ২৪ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ তারিখ ধার্য করেন। ওই দিন আসামি ইমাজ হোসেন ইমনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন আইনজীবী মো. জিয়াউর রশিদ। পরে পলাতক ৪ আসামির হয়ে যুক্তি তুলে ধরেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী কুতুবউদ্দিন আহমেদ। প্রসিকিউশনের পক্ষে পাল্টা যুক্তি খণ্ডন করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম, আবদুল্লাহ আল নোমানসহ অন্যরা।
ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ মোট ৮ জন এই মামলার আসামি। এর মধ্যে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন ৪ জন। এরা হলেন— শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ও মো. নাসিরুল ইসলাম।
পলাতক বাকি ৪ আসামি হলেন— সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম এবং সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখারপুল এলাকায় শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশের নির্বিচার গুলিতে শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক নিহত হন। এ ঘটনায় আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গত ১৪ জুলাই তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন আদালত।
৩৯ দিন আগে
শাকসু নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত শাবিপ্রবিতে শাটডাউন ঘোষণা
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচনের দাবিতে ফের বিক্ষোভে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) থেকে শাকসু নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম শাটডাউন রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী দেলোয়ার হাসান শিশির এ ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের আগে অবশ্যই শাকসু নির্বাচন হতে হবে। শুক্রবার প্রতিটি বিভাগের ক্লাস প্রতিনিধিদের (সিআর) সঙ্গে আলোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শাকসু নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের বিক্ষোভ চলমান থাকবে।’
এ দাবিতে শনিবার বিকেল ৫টা থেকে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। গোলচত্বর থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি শাহপরান হল এলাকা হয়ে সৈয়দ মুজতবা আলী হলে গিয়ে কিছুক্ষণ অবস্থান নেয়। পরে মিছিলটি চেতনা-৭১ হয়ে ছাত্রীদের আবাসিক হলে অবস্থান করে পুনরায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা ‘মব করে শাকসু, বন্ধ করা যাবে না’, ‘ঢাকায় বসে শাকসু, বন্ধ করা যাবে না’, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান, শাকসু ব্যান’—এমন বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বিক্ষোভ মিছিলে ‘দুর্বার সাস্টিয়ান’ ঐক্যের ভিপি প্রার্থী দেলোয়ার হাসান (শিশির), জিএস প্রার্থী মুজাহিদুল ইসলাম, স্বতন্ত্র জিএস প্রার্থী পলাশ বখতিয়ার, জুনায়েদ আহমেদ, ফয়সাল, বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সালেহ মো. নাসিমসহ আরও অনেকে অংশ নেন।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ ২৮ বছর পর গত মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) শাকসু নির্বাচনের ভোট গ্রহণের কথা ছিল। তবে দুই প্রার্থী ও একজন শিক্ষার্থীর করা রিট আবেদনের পর গত ১৯ জানুয়ারি সোমবার হাইকোর্ট চার সপ্তাহের জন্য শাকসু নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দেন।
৪১ দিন আগে
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তিতে সংলাপ জরুরি: শিক্ষা উপদেষ্টা
শিক্ষা উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ জাতীয় ইউনেস্কো কমিশনের (বিএনসিইউ) চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার বলেছেন, প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে হলে তাদের সঙ্গে সরাসরি ও ধারাবাহিক সংলাপ অপরিহার্য। সংবেদনশীল প্রশাসন, অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে নীতিনির্ধারণের মাধ্যমেই বৈষম্য কমানো সম্ভব।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. আবরার বলেন, শিক্ষা শুধু পাঠ্যপুস্তকনির্ভর জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি নাগরিকত্ব, মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। তরুণদের চিন্তা-ভাবনা, সৃজনশীলতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক চর্চার কেন্দ্রে পরিণত করতে হবে। এক্ষেত্রে তরুণদের অংশগ্রহণ যেন শুধু প্রতীকী না হয়ে বাস্তব ও কার্যকর হয়। তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, মতামত ও সম্পৃক্ততা ছাড়া টেকসই পরিবর্তন সম্ভব নয়। আমরা টোকেনিজম (লোক দেখানো অন্তর্ভুক্তি) চাই না, চাই অ্যাকটিভ পার্টিসিপেশন (সত্রিয় অংশগ্রহণ) ও এনগেজমেন্ট।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র জনগণের কল্যাণের অর্থে পরিচালিত হয় এবং সেই জনগণের বড় অংশ তরুণ সমাজ। নতুন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তরুণদের চিন্তাভাবনা, আকাঙ্ক্ষা ও অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি সময় ছিল যখন তার প্রজন্ম নাগরিক অধিকার হারানোর শঙ্কায় ছিল, কিন্তু তরুণ সমাজই পরিবর্তনের পথ দেখিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুধু পাঠ্যশিক্ষার জায়গা নয়। শিক্ষার্থীদের ভেতরে থাকা সুপ্ত প্রতিভা, আগ্রহ ও মেধার বিকাশের সুযোগ তৈরি করতে হবে। সংগঠন, ক্লাব ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীদের নাগরিক হিসেবে সচেতন করে তোলে। এ জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সহায়ক পরিবেশ ও রিসোর্স মোবিলাইজেশনের (সম্পদের কার্যকর ব্যবহার) ওপর জোর দিতে হবে৷
জাতিগত সংখ্যালঘু, প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব এবং সুযোগ নিশ্চিতের লক্ষ্যে ড. রফিকুল আবরার বলেন, সংবেদনশীল প্রশাসন ও ধারাবাহিক সংলাপের মাধ্যমে বাস্তব সমস্যার সমাধান সম্ভব। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সঙ্গে একাধিক বৈঠকের মাধ্যমে একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। সমাজে বৈষম্য ও অসহিষ্ণুতা বাড়ছে, যা উদ্বেগজনক। সংস্কৃতি, গান, নাচ কিংবা পরিচয়ের কারণে কাউকে হেয় করা অনুচিত। এই ধরনের একমাত্রিক চিন্তাভাবনার বিরুদ্ধে তরুণদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
আসন্ন নির্বাচন এবং নতুন বাংলাদেশ গঠনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানগত পরিবর্তনে তরুণদের সক্রিয়ভাবে যুক্ত হতে হবে। শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, জাতীয় সংসদসহ রাষ্ট্রীয় কাঠামোতেও তরুণদের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে হবে। কারণ এসব প্রতিষ্ঠান জনগণের করের টাকায় পরিচালিত এবং জনগণই এর প্রকৃত মালিক।
বাংলাদেশ ইউনেস্কো কমিশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল সারভীনা মনির সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা সচিব ও বিএনসিইউর সেক্রেটারি জেনারেল রেহানা পারভীন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনেস্কো বাংলাদেশের হেড অব অফিস সুজান ভাইজ।
৪১ দিন আগে
রাজশাহীতে অস্ত্রসহ দুই জন আটক
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় সেনাবাহিনীর অভিযানে ‘সিক্স স্টার গ্রুপের’ দুই সদস্যকে আটক করা হয়েছে। অভিযানে তাদের কাছ থেকে একটি ওয়াকিটকি সেট ও একটি রাইফেল উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ভোরে উপজেলার তাহেরপুর পৌরসভার মথুরাপুর এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন মথুরাপুর এলাকার বাসিন্দা আবদুল হালিম (২৯) ও আবু বাশার (২৭)।
পুলিশ জানায়, সেনাবাহিনীর বাগমারা ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেজর আসিফ রায়হানের নেতৃত্বে একটি দল ভোরে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় নিজ নিজ বসতবাড়ি থেকে হালিম ও বাশারকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি ওয়াকিটকি সেট এবং একটি রাইফেল উদ্ধার করা হয়। পরে সেনাবাহিনী আটক দুজনকে বাগমারা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তাহেরপুর এলাকায় ‘সিক্স স্টার গ্রুপের’ আত্মপ্রকাশ ঘটে। তারা ওয়াকিটকি ব্যবহার করে এলাকায় চলাচল ও প্রভাব বিস্তার করত। পুকুর খননসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও তাদের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল আলম বলেন, সেনাবাহিনীর অভিযানের শেষ পর্যায়ে পুলিশ সহযোগিতা করেছে। গতকাল (শুক্রবার) সকালে আটকদের থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও অপরাধের তথ্য যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মামলা করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয় তাদের।
৪১ দিন আগে
উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান স্বাধীনতা সংগ্রামের তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়: প্রধান উপদেষ্টা
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের স্বাধিকার ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের এক তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ঐতিহাসিক ৬ দফা আন্দোলন, পরবর্তীকালে ১১ দফা ও উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা অর্জন করেছি মহান স্বাধীনতা।
‘ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তৎকালীন স্বৈরাচারী অপশাসন ও দমনপীড়ন থেকে মুক্তির দাবিতে ১৯৬৯ সালের পুরো জানুয়ারি মাস ছিল আন্দোলনে উত্তাল। ছাত্র-জনতাসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ২৪ জানুয়ারি সে আন্দোলন রূপ নেয় এক ব্যাপক গণবিস্ফোরণে। সংগ্রামী জনতা শাসকগোষ্ঠীর দমনপীড়নের প্রতিবাদে সান্ধ্য আইন ভঙ্গ করে মিছিল বের করে। মিছিলে পুলিশের গুলিতে শহিদ হন ঢাকার নবকুমার ইনস্টিটিউটের নবম শ্রেণির ছাত্র মতিউর রহমান মল্লিক। আরও শহিদ হন মকবুল, আনোয়ার, রুস্তম, মিলন, আলমগীরসহ অনেকে।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে তাদের এ আত্মত্যাগ এ দেশের তরুণ সমাজকে যুগিয়েছে অফুরন্ত সাহস ও অনুপ্রেরণা।
তিনি বলেন, স্মৃতিবিজড়িত এ দিনে আমি গণঅভ্যুত্থানের সকল শহিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। আসুন, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে সবাই মিলে একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আত্মনিয়োগ করি।
প্রধান উপদেষ্টা দেশের মুক্তি সংগ্রামের সকল শহিদের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন।
৪২ দিন আগে
সুন্দরবনে দুই বছরে ৫৭ বনদস্যু গ্রেপ্তার, ৪৩টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার
সুন্দরবনে দস্যু ও ডাকাত দমনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে গত দুই বছরে ৫৭ জন বনদস্যু ও ৪৩টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ২০২৫ সালেই গ্রেপ্তার হয়েছে ৪৯ জন। কোস্ট গার্ড সদর দপ্তর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
কোস্ট গার্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মাত্র ৮ জন দস্যু গ্রেপ্তার হলেও ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে দাঁড়ায় ৪৯ জনে। গত দুই বছরে দস্যুদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৪৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫টি হাতবোমা, ৭৮টি দেশি অস্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ গুলি ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম।
২০২৫ সালে দস্যু বিরোধী অভিযানে ৪৪৮টি কার্তুজ উদ্ধার করার পাশাপাশি জিম্মি দশা থেকে ৫২ জন নারী-পুরুষকে উদ্ধার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ২০২৪ সালে উদ্ধার করা অস্ত্রের তালিকায় ৫টি আগ্নেয়াস্ত্রের পাশাপাশি ইয়াবা ও স্প্লিন্টার বলও ছিল।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, গত এক বছরে সুন্দরবনে অন্তত ২৭টি সফল অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এসব অভিযানে আছাবুর বাহিনী, হান্নান বাহিনী, আনারুল বাহিনী, মঞ্জু বাহিনী, রাঙ্গা বাহিনীসহ প্রায় ১০টি ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ডের কমান্ডার লে. কর্নেল সিয়াম বলেন, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে এবং পর্যটক ও বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল ও অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।
৪২ দিন আগে
তিতাস গ্যাসের স্বল্পচাপ থাকবে ২৪ ঘণ্টা
তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণের কারণে এলএনজি হতে প্রাপ্ত গ্যাস সরবরাহ হ্রাস পাওয়ায় আগামীকাল (শনিবার) দুপুর ১২টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা রাজধানীসহ তিতাস গ্যাসের অধিভুক্ত এলাকাগুলোতে সাময়িকভাবে গ্যাসের স্বল্পচাপ থাকবে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ বার্তা দিয়েছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানায়, আগামীকাল (শনিবার) দুপুর ১২টা থেকে রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা পর্যন্ত এলএনজি থেকে পাওয়া গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় তিতাস গ্যাসের আওতাভুক্ত সব শ্রেণির গ্রাহক এ সমস্যার মুখে পড়বেন।
গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।
৪২ দিন আগে
৪৮তম বিসিএস থেকে ৩২৬৩ জনকে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি
৪৮তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষা-২০২৫ এর মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন কর্তৃক সুপারিশপ্রাপ্ত তিন হাজার ২৬৩ জন প্রার্থীকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনের কপি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট www.mopa.gov.bd-তে পাওয়া যাবে।
নিয়োগপ্রাপ্তদের আগামী ১ ফেব্রুয়ারি সকালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ কর্তৃক নির্ধারিত কার্যালয়ে যোগদানের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
৪২ দিন আগে
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বাংলাদেশের প্রার্থিতায় কোস্টারিকার সমর্থন
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্যপদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে কোস্টারিকা। একইসঙ্গে দুই দেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারীর সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরনোল্ডো আন্দ্রে টিনোকো এই সমর্থনের কথা জানান।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) এক ফেসবুক পোস্টে রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী কোস্টারিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এই বৈঠকের তথ্য জানান।
আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। এর মধ্যে কূটনৈতিক ও সরকারি পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা অব্যাহতির বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।
রাষ্ট্রদূত মুশফিক জানান, দুই দেশ বাণিজ্য সহযোগিতা জোরদারের উপায় নিয়েও আলোচনা করেছে, বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে কোস্টারিকায় পাট, বস্ত্র ও ওষুধজাত পণ্য আমদানিসহ বাণিজ্য সহযোগিতা জোরদার, বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি নিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।
তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিষদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ জাতিসংঘ নেতৃত্ব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় হয়েছে। বর্তমানে জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থার (আঙ্কটাড) মহাসচিব রেবেকা গ্রিনস্প্যান-এর সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে বাংলাদেশের সমর্থন চেয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
৪২ দিন আগে