বাংলাদেশ
বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করল সরকার
বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করেছে সরকার। গত সোমবার (১২ জানুয়ারি) এ তিনটি নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করে আলাদা আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।
বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৫-এ দেওয়া ক্ষমতাবলে বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ ২০২৫-এ দেওয়া ক্ষমতাবলে রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ ২০২৫-এ দেওয়া ক্ষমতাবলে সরকার ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করেছে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।
গত বছরের ২৬ নভেম্বর এই তিনটি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের অধ্যাদেশ করে সরকার।
বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহের সন্নিহিত এলাকার সমন্বয়ে একটি পরিকল্পিত আধুনিক নগর প্রতিষ্ঠার জন্য ওই অঞ্চলের ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রতিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা, অপরিকল্পিত নগরায়ন রোধ করা, দুর্যোগ সহনশীল নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, তথ্য-প্রযু্ক্তি ও পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং উন্নত নাগরিক জীবন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বলে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
৫১ দিন আগে
ব্রাকসুর সকল কার্যক্রম স্থগিত, অনিশ্চয়তায় নির্বাচন
আবারো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন (ব্রাকসু)। এতে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) সহযোগী অধ্যাপক মো. মাসুদ রানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ব্রাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের তফসিল আবারও স্থগিত ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের কার্যক্রমকে যেকোনো ধরনের প্রভাবমুক্ত রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের দিকনির্দেশনার আলোকে দেশের সকল সংগঠনের নির্বাচন আয়োজন ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় রংপুর থেকে পাঠানো চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ব্রাকসু ও হল শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচন-২০২৫-সংক্রান্ত চলমান সকল নির্বাচনি কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হলো।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর এবং প্রাসঙ্গিক কর্তৃপক্ষের দিকনির্দেশনার আলোকে পরবর্তী সময়ে নতুন তফসিল প্রণয়ন ও নির্বাচনি কার্যক্রম পুনরায় আরম্ভ করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে যথাসময়ে জানানো হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
নির্বাচন স্থগিত প্রসঙ্গে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা বলেন, গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরতে পারছে না এ বিশ্ববিদ্যালয়টি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিজেই চান না যে ব্রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক।
ব্রাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বেরোবি শাখার সভাপতি মো. সুমন সরকার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রহসনে পরিণত করেছে।
সুমন সরকার বলেন, জুলাই বিপ্লবের শহিদ আবু সাঈদ ভাইয়ের রক্তের ওপর অধ্যাপক শওকাত আলী ভিসি হলেও শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বোঝার চেষ্টা করেননি, বরং ফ্যাসিস্ট শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়ে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থে কাজ করছেন।
একই কথা বলেন ছাত্রদলনেতা আল আমিনও। তার ভাষ্য, এই ভিসি আওয়ামী দোসর। তিনি কোনোভাবেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতন্ত্রের ধারা ফেরাতে চান না।
ব্রাকসু নির্বাচন স্থগিতের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার সহযোগী অধ্যাপক মো. আমির শরিফ বলেন, এটা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছেই শুনতে পারেন। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন প্রজ্ঞাপন জারি করায় তিনি (প্রধান নির্বাচন কমিশনার) ডিসি এবং নির্বাচন কমিশনের সচিবদের সঙ্গে কথা বলেছেন। নির্বাচন-সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রমে সমস্যা বা অপ্রীতিকর কিছু ঘটনা ঘটলে এর দায়ভার কে নেবে? এজন্যই এই সিদ্ধান্ত।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার সহযোগী অধ্যাপক মো. মাসুদ রানা বলেন, সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন, তাই ব্রাকসু নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডক্টর শওকাত আলী বলেন, সামনে যেহেতু জাতীয় সংসদ নির্বাচন, তাই ওই নিবার্চনের পরে ব্রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে হতাশ হওয়ার কিছু নেই।
উল্লেখ্য, ব্রাকসু নির্বাচনের এখন পর্যন্ত চারবার তফসিল পরিবর্তন করে পাঁচটি তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। বারবার তফসিল পরিবর্তন ও নির্বাচনের তারিখ পেছানোর পর সর্বশেষ গত সোমবার (১২ জানুয়ারি) পঞ্চম তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল। এতে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে আবারও তা স্থগিত ঘোষণা করায় ২৫ ফেব্রুয়ারিও হচ্ছে না বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন।
৫১ দিন আগে
শিপিং করপোরেশনকে লাভজনক প্রতিষ্ঠান থাকতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনকে (বিএসসি) একটি শক্তিশালী ও লাভজনক প্রতিষ্ঠান থাকতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে বিএসসি যেভাবে লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড়িয়েছে তা ধরে রাখতে হবে। ভবিষ্যতে এমনভাবে পরিকল্পনা করতে হবে যাতে এই প্রতিষ্ঠানের আয় দিয়ে প্রতিষ্ঠানই আরও শক্তিশালী হয়, বহরে নতুন নতুন জাহাজ যুক্ত হয়।’
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এক অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। চেক হস্তান্তরের ওই অনুষ্ঠানে নৌ-পরিবহণ উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন ও বিএসসি ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিএসসির বহরে আরও জাহাজ যুক্ত হলে নাবিকদের মধ্যে উৎসাহ বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। মেরিন একাডেমিগুলোর প্রশিক্ষকদের যথাযথ সম্মানী দিয়ে ধরে রাখতে হবে যাতে তারা বিশ্বমানের নাবিক তৈরি করতে পারে।
এ সময় কমডোর মাহমুদুল মালেক জানান, বিএসসির জন্য জি-টু-জি ভিত্তিতে ছয়টি জাহাজ ক্রয় শীর্ষক প্রকল্পের জন্য ২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর একটি ঋণচুক্তি হয়। এর অর্থায়নে ছিল বাংলাদেশ সরকার ও চীনের চায়না এক্সিম ব্যাংক। সেই ঋণের পরিমাণ ১১৯ কোটি ৯৯ লাখ ৯৯ হাজার ৭০ ইউয়ান, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় এক হাজার ৪৫৭ কোটি ৬৭ লাখ ৯৮ হাজার ৭৮৫ টাকা।
ওই ঋণ পরিশোধের জন্য ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর সরকারের অর্থ বিভাগ ও বিএসসির মধ্যে অপর একটি ঋণ চুক্তি করে। সেই প্রেক্ষিতে দুই হাজার ৪২৫ দশমিক দুই কোটি টাকা ১৩ বছরের মধ্যে পরিশোধ করবে বিএসসি। চুক্তি অনুযায়ী, গ্রেস পিরিয়ডকালীন মোট সুদের পরিমাণ ৪৭৫ কোটি ২৫ লাখ ১৩ হাজার ৩৩৯ টাকার চেক ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।
উল্লেখ্য, বিএসসি সর্বশেষ অর্থবছরে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা আয় করে, যা ৫৪ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ লাভ। বিএসসির ক্রমাগত এই অগ্রগতিতে প্রকল্পের মাধ্যমে বহরে সংযুক্ত পাঁচটি জাহাজের ভূমিকা অপরিসীম।
৫২ দিন আগে
বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে শিক্ষার্থীদের শাটডাউন ঘোষণা
দাবি বাস্তবায়নের জন্য ফের আন্দোলনে নেমেছে বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা। একইসঙ্গে একাডেমিক ও প্রশাসনিক সব কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য শাটডাউন ঘোষণা করেছেন তারা।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে এই কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘ চার মাস ধরে কলেজে ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা উপদেষ্টার নির্দেশে গঠিত পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির কাছে সুপারিশভিত্তিক প্রতিবেদন জমা দেন। ওই প্রতিবেদনে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি ও শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা এবং ক্যাম্পাস পরিদর্শনের মাধ্যমে সমস্যা চিহ্নিত করা হয়। তবে একটি স্বার্থান্বেষী মহল শিক্ষার্থীদের মতামত উপেক্ষা করে প্রতিবেদন বাস্তবায়ন বিলম্বিত করছে। এর ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের দাবি বাস্তবায়নের জন্য দুই দিনের আল্টিমেটাম দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো সন্তোষজনক বা সুস্পষ্ট জবাব পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে কলেজের সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে শাটডাউন ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান কলেজের একাধিক শিক্ষার্থী।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাই না। আলোচনার মাধ্যমে যেসব সমস্যার সমাধান সম্ভব, সেগুলোর সমাধানে আমরা আগ্রহী। তবে যুক্তিসংগত ও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলে তারা হুঁশিয়ারি দেন।
এর আগে, গত বছরের ২৩ জুলাই থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি কাঠামো বাতিল করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (বিআইটি) মডেলের আদলে স্বাতন্ত্র্য নিশ্চিতের এক দফা দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন কলেজটির শিক্ষার্থীরা।
সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি বাতিল করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি মডেলের আদলে একটি কার্যকর, টেকসই ও স্বায়ত্তশাসিত কমিশন গঠন এবং প্রতিটি সরকারি প্রকৌশল কলেজের একাডেমিক স্বাতন্ত্র্য ও প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠনের মাধ্যমে সময়োপোযোগী ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার দাবি জানাই।
তার আগে, ২৪ মে সমন্বিত পরীক্ষাপদ্ধতি বাতিলসহ ৯ দাবিতে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শাটডাউন করে প্রতীকী প্রতিবাদ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে এ কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সে সময়ও ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দাবি পূরণের লিখিত সিদ্ধান্ত না দিলে শিক্ষার্থীরা পরবর্তীতে কঠোর কর্মসূচি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।
৫২ দিন আগে
কে কী বলল বিবেচ্য নয়, ১২ ফেব্রুয়ারিই নির্বাচন: মার্কিন কূটনীতিকদের প্রধান উপদেষ্টা
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত সময় অনুযায়ীই জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনে দায়িত্ব পালনকারী যুক্তরাষ্ট্রের দুই সাবেক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক অ্যালবার্ট গোম্বিস ও মর্স ট্যান মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলে তিনি একথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে আজ (বুধবার) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সাক্ষাৎকালে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে ভুয়া খবরের বন্যা ও পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রতিশ্রুতিতে অটল। অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনি ফলাফল ঘোষণা শেষে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে।
তিনি বলেন, ‘কে কী বলল, তা বিবেচ্য নয়। নির্ধারিত ১২ ফেব্রুয়ারিই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে; এর একদিন আগেও নয়, একদিন পরেও নয়।’
অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নির্বাচনকালীন সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকবে এবং সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে পক্ষপাতমুক্ত প্রশাসন পরিচালনা করবে বলে জানান প্রধান উপদেষ্টা।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভারপ্রাপ্ত আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট অ্যালবার্ট গোম্বিস এবং সাবেক অ্যাম্বাসাডর-অ্যাট-লার্জ মর্স ট্যান নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশ সফর করছেন।
প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ও সফররত কূটনীতিকরা আসন্ন নির্বাচন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও এর পরবর্তী পরিস্থিতি, তরুণ আন্দোলনকারীদের উত্থান, জুলাই সনদ ও গণভোট, নির্বাচনকে লক্ষ্য করে ছড়ানো ভুয়া খবর ও অপতথ্য, রোহিঙ্গা সংকট এবং জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশনে’র সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে। জনগণের সম্মতি পেলে জুলাই সনদ গণতান্ত্রিক শাসনের এক নতুন যুগের সূচনা করবে এবং ভবিষ্যতে স্বৈরশাসনের কোনো সুযোগ রাখবে না।
তিনি বলেন, তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের সমর্থকেরা নির্বাচনকে ঘিরে বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ভুয়া খবর ও অপতথ্য ছড়াচ্ছে। তবে জনগণ এখন সচেতন। ক্রমেই তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও শনাক্ত করতে পারছে।
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাবেক আন্ডার সেক্রেটারি গোম্বিস একমত পোষণ করে বলেন, ভুয়া খবর বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের ‘প্রধান শত্রুদের একটি’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে এবং এই হুমকি মোকাবিলায় আরও জোরালো প্রচেষ্টার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান তিনি।
দুই কূটনীতিক গত দেড় বছরে সরকার পরিচালনায় প্রধান উপদেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য প্রশংসা করেন। তারা জানতে চান, বর্ণবৈষম্য-পরবর্তী দক্ষিণ আফ্রিকার আদলে বাংলাদেশে ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন’ উদ্যোগ গ্রহণ করা সম্ভব কি না।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, প্রয়াত নেলসন ম্যান্ডেলার একজন বন্ধু হিসেবে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশনের’ প্রক্রিয়া ঘনিষ্ঠভাবে দেখেছিলেন। তবে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট শাসকগোষ্ঠী তাদের অপরাধ অস্বীকার করে যাওয়ায় এই মুহূর্তে বাংলাদেশে সে ধরনের কোনো উদ্যোগ গ্রহণের সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না।
তিনি বলেন, ‘সময় এখনও উপযুক্ত নয়। কোথা থেকে শুরু করবেন? ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন তখনই সম্ভব, যখন কেউ স্বীকার করে যে সে ভুল করেছে, নিজের অপরাধের জন্য অনুতপ্ত হয়, অনুশোচনা প্রকাশ করে।
‘কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের কোনো অনুশোচনা নেই, কোনো অনুতাপ নেই। বরং তারা দাবি করছে যে জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত তরুণরা সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হয়েছে। তাদের অপরাধের বিপুল পরিমাণে প্রমাণ রয়েছে। তারা যা করেছে তা সম্পূর্ণ বর্বরোচিত অপরাধ, তবু তারা সম্পূর্ণ অস্বীকারের অবস্থানেই রয়েছে।’
বৈঠকে এসডিজি সমন্বয়ক ও জ্যেষ্ঠ সচিব লামিয়া মোর্শেদও উপস্থিত ছিলেন।
৫২ দিন আগে
পাঁচ ব্যাংকের অডিটরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: অর্থ উপদেষ্টা
সম্প্রতি একীভূত হওয়া ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডাররা কোন প্রেক্ষাপটে শেয়ার কিনেছেন, তা পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। এই পাঁচটি ব্যাংকের অডিটরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক তিনি এ কথা জানান।
পাঁচ ব্যাংক একীভূত করার আগে আপনি বলেছিলেন সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে? এরইমধ্যে পাঁচ ব্যাংকের শেয়ার শূন্য করে নতুন একটি ব্যাংক করা হয়েছে। সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণের বিষয়ে আপনারা কী ভাবছেন?—সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এমন প্রশ্ন করা হলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, শেয়ারহোল্ডারদের বিষয়টি কমপ্লিকেটেড (জটিল)। বললেই তো হবে না, ডিমান্ড করে শেয়ার এত সহজে কিন্তু এইসব জিনিসের ডিসিশন নেওয়া যায় না!
তিনি বলেন, ‘আমরা যেটা বলছি ডিপোজিটররা টাকা পাবেন, এটা ভেরি সিমপল। যার টাকা জমা আছে, সে টাকা পাবে। আর শেয়ারহোল্ডাররা শেয়ার কিনেছে কোন কনটেক্সটে কিনেছে, মার্কেট প্রাইসে কিনেছে, শেয়ারহোল্ডার ওয়ান্টেড টু বি ওনার। ওরা ভলান্টারি তো বোঝে।’
শেয়ারহোল্ডাররা তো বলছেন তারা আর্থিক প্রতিবেদন দেখে শেয়ার কিনেছেন এবং ৫ আগস্টের (২০২৪ সালের ৫ আগস্ট) আগের আর্থিক প্রতিবেদনে ব্যাংকগুলো মুনাফা দেখিয়েছে—সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এমন কথা বলা হলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, সেটা তো আমরা দেখব। ওইটাই তো এক্সামিন (পরীক্ষা-নিরীক্ষা) করছি, কোন কনটেক্সটে কিনেছে এবং দেখি কী করা যায়।
৫ আগস্টের আগে এই পাঁচ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদন যারা অডিট করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন কি না—এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ব্যবস্থা তো নেওয়া হবেই। সেটা দেখা হচ্ছে। যাই হোক এখন সব কথা বলা যাবে না।
৫২ দিন আগে
শরীয়তপুরে শিশু নিবিড় হত্যা মামলায় দুই জনের ফাঁসি
শরীয়তপুরের বহুল আলোচিত শিশু হৃদয় খান নিবিড় হত্যা মামলায় দুই আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড এবং আরেক আসামিকে ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়ে রায় দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের শেখ মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ আড়াই বছর পর এ রায় দেওয়া হলো। বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) মো. কামরুজ্জামান।
২০২৩ সালে সদর উপজেলার পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশু নিবিড়কে অপহরণ করে তার পরিবারের কাছে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন অপহরণকারীরা। পরিবার মুক্তিপণ না দিয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানালে অপহৃত শিশুটিকে হত্যা করে মাটিচাপা দিয়ে রাখেন তারা। পরের দিন নিহত শিশুটির বাড়ির ৫০০ মিটার দূরে পরিত্যক্ত জমিতে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
শিশুটি উপজেলার ডোমসার ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খিলগাঁও এলাকার মনির খান ও নিপা আক্তার দম্পতির ছেলে ছিল। স্থানীয় শিশুকানন নামের একটি বিদ্যালয়ের দি্বতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল নিবিড়। ওই দিন স্কুল থেকে ফিরে খেলার জন্য বাড়ি থেকে বের হয় সে। এরপর তাকে আর খুঁজে পায়নি তার পরিবার। সন্ধ্যায় নিবিড়ের মায়ের মোবাইলে অপহরণকারীরা ফোন করেন। তবে পুলিশকে জানানোয় পরের দিন সকাল ৬টার দিকে ওই বাগান থেকে মাটি খুঁড়ে তার মরদেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ।
শিশুটির বাবা মনির খান বলেন, ‘আমার অবুঝ আদরের সন্তান নিবিড়কে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। আমি এই দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং একজনের ২১ বছরের সাজার রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করছি। এখন আমার এবং পরিবারের একটাই দাবি, আসামিদের দ্রুত ফাঁসি কার্যকর করা হোক।’
৫২ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় সেনা হেফাজতে বিএনপি নেতার মৃত্যু: অভিযানের সব সেনা সদস্য প্রত্যাহার
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সেনা হেফাজতে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শামসুজ্জামান ডাবলুর (৫০) মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে অভিযানে অংশগ্রহণকারী সকল সেনা সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। সেইসঙ্গে ঘটনার সঠিক কারণ খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আইএসপিআর।
নিহত ডাবলু জীবননগর উপজেলা শহরের হাসপাতালপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং উপজেলার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল (সোমবার) রাত সাড়ে ১০টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সেনাক্যাম্পের সদস্যরা জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালান। ডাবলু ওই সময় একটি ওষুধের দোকানে অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকে তাকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়েছে বলে খবর আসে।
ডাবলুর মৃত্যুর খবরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নিহতের স্বজন ও বিএনপি নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিক্ষোভস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়।
নিহতের ভাই শরিফুল ইসলাম কাজল বলেন, ‘আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে।’
চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সভাপতি ও আসন্ন নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান অভিযোগ করেন, ‘অভিযানের নামে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতনের মাত্রা এতটাই বেশি ছিল যে শামসুজ্জামান সহ্য করতে না পেরে মারা গেছেন।’
এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আইএসপিআর জানিয়েছে, গতকাল (১২ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে যৌথবাহিনী। অভিযানে অস্ত্র রাখার অভিযোগে মো. শামসুজ্জামান ডাবলুকে (৫০) আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আভিযানিক দলটি একটি ফার্মেসিতে তল্লাশি চালিয়ে একটি ৯ মিলিমিটার পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও ৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে।
আইএসপিআর জানিয়েছে, অভিযান শেষে আটক ব্যক্তি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে রাত ১২টা ২৫ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনাটি ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক’ উল্লেখ করে আইএসপিআর বলেছে, এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ইতোমধ্যে ওই ক্যাম্পের কমান্ডার ও অভিযানে অংশগ্রহণকারী সকল সেনা সদস্যকে সেনানিবাসে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটনের উদ্দেশ্যে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তদন্তে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সেনা আইন অনুযায়ী যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এদিকে, আজ (মঙ্গলবার) দুপুর সোয়া ১২টা পর্যন্ত জীবননগর শহরজুড়ে বিএনপি ও এর অঙ্গসংঠনের নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ অব্যাহত রাখতে দেখা গেছে। বিশেষ করে, জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে বিক্ষোভ চলছিল। সেখানে পুলিশ মোতায়েন থাকতে দেখা যায়।
৫৩ দিন আগে
সীমান্তে গোলাগুলি ও শিশু আহত: ঢাকায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব
টেকনাফ সীমান্তে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে সাম্প্রতিক গোলাগুলি এবং এতে এক বাংলাদেশি শিশু আহত হওয়ার ঘটনায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত ইউ কিয়াও সো মো-কে তলব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে তাকে মন্ত্রণালয়ে ডেকে এনে এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সীমান্তে গুলিবর্ষণের ঘটনায় ১২ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি মেয়ে গুরুতর আহত হয়েছে। বাংলাদেশ মনে করিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশের দিকে বিনা উসকানিতে গুলিবর্ষণ আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং সুপ্রতিবেশী সম্পর্কের অন্তরায়।
ভবিষ্যতে এই ধরনের সীমান্তে গুলিবর্ষণ বন্ধে মিয়ানমারকে পূর্ণ দায়িত্ব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
এ সময় বাংলাদেশ আরও জোর দিয়ে বলেছে, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ও দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে যেকোনো সংঘাত বা অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি যেন কোনোভাবেই বাংলাদেশের জনগণের জীবন ও জীবিকার ওপর প্রভাব না ফেলে, তা নিশ্চিত করা মিয়ানমারের দায়িত্ব।
জবাবে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত ইউ কিয়াও সো মো আশ্বস্ত করেন, তার সরকার এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। একই সঙ্গে তিনি আহত শিশুটির প্রতি এবং তার পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা প্রকাশ করেন।
৫৩ দিন আগে
বনশ্রীতে শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত গ্রেপ্তার
রাজধানীর বনশ্রী এলাকায় হোটেল কর্মচারীর হাতে এসএসসি পরীক্ষার্থী শিক্ষার্থীকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র্যাব।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) সকালে বাগেরহাটে র্যাবের এক যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মো. মিলন মল্লিক। তিনি বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট উপজেলার মান্দা বাসখালী এলাকার বাসিন্দা।
আজ (সোমবার) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়েজুল আরেফিন এ তথ্য জানান।
র্যাব জানায়, বাবার হোটেলের ওই কর্মচারীর অনৈতিক প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়া ও এর প্রতিবাদ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে হত্যা করা হয়। নিহত ফাতেমা আক্তার নিলি (১৮) দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়েজুল আরেফিন বলেন, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে র্যাব তাৎক্ষণিকভাবে গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঘটনার দিন অর্থাৎ ১০ জানুয়ারি দুপুর ১টা ৩৬ মিনিটে মিলন ভুক্তভোগীর বাসায় প্রবেশ করেন এবং ১টা ৪১ মিনিটে তার বড় বোন শোভা আক্তারের সঙ্গে বের হন। পরে বড় বোন জিমে গেলে দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে মিলন একা আবার বাসায় প্রবেশ করেন এবং প্রায় ২০ মিনিট অবস্থান শেষে ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে বের হয়ে যান।
প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব জানতে পারে, ঘটনার পর মিলন বাগেরহাটে পালিয়ে যান। পরে র্যাব-৩ ও র্যাব-৬ এর যৌথ দল বাগেরহাট সদর থানার সিংগা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিলন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ভুক্তভোগীকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। ঘটনার আগের রাতে খাবার পরিবেশনের সময় আবারও এমন প্রস্তাব দিলে ভুক্তভোগী তাকে বকাঝকা করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি পরদিন প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
তিনি আরও বলেন, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মিলন একটি নাইলনের রশি নিয়ে ভুক্তভোগীর বাসায় যান। ভুক্তভোগী পুনরায় অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হলে তিনি রশি দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে ধরেন। চিৎকার শুরু করলে লোকজন জড়ো হওয়ার আশঙ্কায় তিনি রান্নাঘরের ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন তাকে। এরপর বাসা তল্লাশি করে কিছু টাকা নিয়ে পালিয়ে যান।
গ্রেপ্তারের সময় মিলনের পরণে থাকা কালো প্যান্ট ও নীল গেঞ্জি উদ্ধার করা হয়। এছাড়া পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও নাইলনের রশি উদ্ধার করে করে বলে জানান র্যাবের এই কর্মকর্তা।
র্যাব-৩-এর অধিনায়ক জানান, হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য বা সহযোগী রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হচ্ছে।
৫৩ দিন আগে