বাংলাদেশ
চীনা নাগরিকদের তত্ত্বাবধানে ঢাকায় অবৈধ আইফোন কারখানা, গ্রেপ্তার ৩
রাজধানী ঢাকার উত্তরা ও নিকুঞ্জ এলাকায় চীনা নাগরিকদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি অবৈধ আইফোন সংযোজন কারখানার সন্ধান পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। কর ফাঁকি দিয়ে বিদেশ থেকে আনা মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ দিয়ে সেখানে অবৈধভাবে আইফোন সংযোজন করে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছিল।
সম্প্রতি ওই কারখানাগুলোতে অভিযান চালিয়ে তিন চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে বিভিন্ন মডেলের ৩৬৩টি আইফোন, আইফোনের যন্ত্রাংশ এবং মোবাইল ফোন তৈরির বিভিন্ন যন্ত্রপাতি উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবি মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল।
তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ ৭ জানুয়ারি রাজধানীর উত্তরা ১৭ নম্বর সেক্টর ও নিকুঞ্জ-১ এলাকায় একযোগে অভিযান চালায়। অভিযানে উত্তরা এলাকা থেকে ৫৮টি আইফোনসহ একজনকে এবং নিকুঞ্জ-১ থেকে মোট ৩০৫টি ফোনসহ দুই চীনা নাগরিককে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকালে অবৈধ মোবাইলের পাশাপাশি আইফোনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, পার্টস সংযোজনের মেশিনারিজ এবং বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— ট্যান জিয়ান, উ জুন এবং ডং হংওয়েই।
উপকমিশনার সোহেল বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি বিদেশ থেকে আইফোনের বিভিন্ন পার্টস আলাদা করে অবৈধভাবে ঢাকায় এনে একটি গোপন ল্যাব স্থাপন করে। ওই ল্যাবে যন্ত্রাংশ সংযোজন করে আইফোনের আদলে ভুয়া মোবাইল ফোন তৈরি করা হতো, যা পরে আসল আইফোন হিসেবে বাজারে ছাড়া হতো।
তিনি আরও বলেন, প্রায় দেড় বছর ধরে চক্রটি এই অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। এ সময়ে তারা বিপুল পরিমাণ ভুয়া মোবাইল ফোন বাজারে সরবরাহ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই চক্রের সঙ্গে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক জড়িত আছে কি না তা জানতে চাইলে ডিবি কর্মকর্তা জানান, বেশ কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে কিন্তু তদন্তের স্বার্থে এখনই তা প্রকাশ করা সম্ভব নয়। বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং এই চক্রের মূল হোতা ও বাকি সদস্যদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
ডিবি কর্মকর্তা জনগণকে মোবাইল ফোন কেনার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কম দামে ‘অরিজিনাল আইফোন’ বিক্রির প্রলোভনে পড়ে অনেকেই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। তাই অনুমোদিত ও অফিশিয়াল শোরুম বা বিশ্বস্ত উৎস ছাড়া মোবাইল ফোন না কেনার অনুরোধ করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
৫৭ দিন আগে
ভিপি-জিএসসহ জকসুর বেশিরভাগ পদে শিবিরের জয়জয়কার
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্রার্থীরা নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছেন। ভাইস-প্রেসিডেন্ট (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও সহ-সাধারণ সম্পাদকসহ (এজিএস) ২১টি পদের বেশিরভাগ পদেই তারা জয়লাভ করেছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১টার দিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোস্তাফা হাসান আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন।
‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ পরিষদের ব্যানারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে শিবির–সমর্থিত প্রার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৮টি ভোটকেন্দ্রের ভোট গণনা শেষে বিজয়ী হন।
ভিপি পদে শিবির–সমর্থিত প্যানেলের রিয়াজুল ইসলাম ৫ হাজার ৫৬৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল–সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের এ কে এম রাকিব পান ৪ হাজার ৬৮৮ ভোট। এতে রিয়াজুল ইসলাম ৮৮০ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন।
জিএস পদে আরও বড় ব্যবধানে জয় পান ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ পরিষদের আব্দুল আলিম আরিফ। তিনি ৫ হাজার ৪৭০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল–সমর্থিত প্রার্থী খাদিজাতুল কুবরা পান ২ হাজার ২০৩ ভোট। এ পদে আরিফের জয়ের ব্যবধান ছিল ৩ হাজার ২৬৭ ভোট।
এজিএস পদে ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ পরিষদের মাসুদ রানা ৫ হাজার ২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএম আতিকুর তানজিল পান ৩ হাজার ৮৬৮ ভোট।
নির্বাচন কমিশনার জুলফিকার মাহমুদ জানান, জকসু নির্বাচনে মোট নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ১৬ হাজার ৬৪৫ জন। ভোটার উপস্থিতির হার ছিল প্রায় ৬৫ শতাংশ। এটি প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দেয়।
একই দিনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্রী হল নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল শিক্ষার্থী সংসদের নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই হলে নিবন্ধিত ১ হাজার ২৪২ ভোটারের মধ্যে প্রায় ৭৭ শতাংশ ছাত্রী ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
৫৭ দিন আগে
বৃহস্পতিবার থেকে গ্যাস বিক্রি বন্ধের হুঁশিয়ারি ব্যবসায়ীদের
কমিশন বৃদ্ধি, বিইআরসির একতরফা দাম ঘোষণা বন্ধসহ ৬ দফা দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি। দাবি মেনে নেওয়া না হলে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য এলপিজি সরবরাহ ও বিপণন বন্ধ করার হুমকি দিয়েছেন তারা।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন এ আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।
গৃহস্থালি, শিল্প ও বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম (এলপি) গ্যাসের চলমান সংকট ও অব্যবস্থাপনা নিরসনের দাবিতে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি সেলিম খান বলেন, দেশে বর্তমানে এলপি গ্যাসের চরম সংকট চলছে। এই পরিস্থিতিতে বিইআরসি পরিবেশকদের সাথে কোনো আলোচনা ছাড়াই নতুন মূল্য নির্ধারণ করায় কোম্পানি, পরিবেশক ও ভোক্তারা চরম বিপর্যয়ে পড়েছেন। সংকট নিরসনের পরিবর্তে মূল্য নিয়ে অযথা বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, অনভিজ্ঞ ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযানের কারণে বাজারে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে, যা সংকটকে আরও তীব্র করছে এবং অনেক ব্যবসায়ীকে ব্যবসা বন্ধে বাধ্য করছে।
সেলিম খান বলেন, বিইআরসি মাসে একবার মূল্য ঘোষণা করলেও কোম্পানিগুলো একাধিকবার মূল্য সমন্বয় করে, যার পুরো দায় পরিবেশকদের বহন করতে হয়। এ সমস্যা সমাধানে স্থায়ী কমিটি গঠন এবং পরিবেশক ও রিটেইলার কমিশন বৃদ্ধির দাবি জানাচ্ছি।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশে বর্তমানে প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ সিলিন্ডার থাকলেও মাত্র ১ কোটি ২৫ লাখ সিলিন্ডার রিফিল হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় ৬০ শতাংশ ঘাটতি থাকায় পরিবেশকদের অতিরিক্ত খরচ বাড়ছে, যার ফলে মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে। অনেক কোম্পানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবেশকরা দেউলিয়া হওয়ার পথে। এ অবস্থায় নিষ্ক্রিয় সিলিন্ডারে ভর্তুকি ও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারি হস্তক্ষেপ জরুরি বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা।
সমিতির সভাপতি হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিইআরসি যদি পরিবেশকদের সমন্বয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ না করে এবং প্রশাসনের হয়রানি ও জরিমানা বন্ধ না হয়, তবে ৮ জানুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সারা দেশে এলপি গ্যাস সরবরাহ ও বিপণন বন্ধ থাকবে।
মানববন্ধনে সংগঠনের অন্যান্য সদস্য ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।
৫৮ দিন আগে
পুলিশের উচ্চ পদে ১৪ কর্মকর্তাকে রদবদল
বাংলাদেশ পুলিশের ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ সুপারসহ শীর্ষ ১৪ কর্মকর্তাকে বদলি করে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানা যায়।
বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে সিআইডির ডিআইজি এস এম ফজলুর রহমানকে রাজারবাগ পুলিশ টেলিকম ইউনিটে, ডিআইজি মো. সাজ্জাদুর রহমানকে এপিবিএনে, অতিরিক্ত ডিআইজি রায়হান উদ্দিন খানকে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার করা হয়েছে।
এছাড়া ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার খন্দকার খালিদ বিন নুরকে ডিএমপির উপকমিশনার, নোয়াখালীর পিটিসির পুলিশ সুপার আসমা বেগম রিটাকে এপিবিএন হেডকোয়ার্টার্সে, পিটিসি খুলনার পুলিশ সুপার সোমা হাপাংকে ময়মনসিংহে ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার কামান্ড্যান্ট, ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ ওসমান গনিকে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার, ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার সানা শামীনুর রহমানকে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার, এসবির অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ ফয়েজুল কবিরকে একই শাখায় ডিআইজি পদে পদায়ন করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম অঞ্চলে নৌপুলিশ সুপার আ ফ ম নিজাম উদ্দিনকে পুলিশ অধিদফতরে (টিআর পদে) পুলিশ সুপার, এসবির বিশেষ পুলিশ সুপার মাহফুজা লিজাকে পুলিশ অধিদফতরে (টিআর পদে) পুলিশ সুপার, এসবির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. যায়েদ শাহরীয়ারকে পুলিশ অধিদফতরে (টিআর পদে) পুলিশ সুপার (সুপারনিউমারারি)।
অন্যদিকে, এসবির বিশেষ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানকে সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি ও রেলওয়ে পুলিশ সুপার সাইফুল হককে সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে এ দুজনের বদলির আদেশ বাতিল করা হয়েছে।
৫৮ দিন আগে
ফের ডিক্যাব সভাপতি মঈনুদ্দিন, নতুন সাধারণ সম্পাদক ইমরুল
কূটনৈতিক প্রতিবেদকদের সংগঠন ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসেয়িশন, বাংলাদেশের (ডিক্যাব) নতুন কমিটিতে আবার সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বার্তা সংস্থা ইউএনবির বিশেষ প্রতিবেদক এ কে এম মঈনুদ্দিন। সেইসঙ্গে বেসরকারি টেলিভিশন বাংলাভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি ইমরুল কায়েস সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের মিলনায়তনে সংগঠনের বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন শেষে ২০২৬ সালের জন্য নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।
১১ সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটির অন্যরা হলেন— সহ-সভাপতি পদে দেশ টিভির আবিদা সুলতানা মুক্তা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের মোর্শেদ হাসিব হাসান, কোষাধ্যক্ষ পদে দীপ্ত টিভির রুবায়েত হাসান ও দপ্তর সম্পাদক পদে আলাপ ডট নিউজের নাহিদ হোসেন।
কার্যনির্বাহী সদস্য পদে দৈনিক আমার দেশের বশীর আহমেদ, সময়ের আলোর এমএকে জিলানী, আমাদের নতুন সময়ের খুররম জামান, চ্যানেল আইয়ের পান্থ রহমান ও দৈনিক জবাবদিহির আতিকুর রহমান।
এদিন, বার্ষিক সাধারণ সভায় সভাপতিত্ব করেন একেএম মঈনুদ্দিন। সভায় বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুজ্জামান মামুন এবং কোষাধ্যক্ষ মোরশেদ হাসিব হাসান তাদের প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।
ভোট গণনা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেসের (এপি) সাবেক বাংলাদেশ ব্যুরো চিফ ফরিদ হোসেন এবং নির্বাচন কমিশনার ও ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশের নির্বাহী সম্পাদক ইলিয়াস খান নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন।
৫৮ দিন আগে
হাদি হত্যা মামলা: ফয়সালের ৫৩ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের ৫৩টি ব্যাংক হিসাবে থাকা ৬৫ লাখ ৫০ হাজার ২৪৬ টাকা অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (৭ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির উপপরিদর্শক আব্দুল লতিফ এসব ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ চেয়ে আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং বিষয়ক অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে।
অনুসন্ধানকালে মো. ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তির নামে এসব হিসাব বিশ্লেষণে যথেষ্ট সন্দেহজনক লেনদেন দেখা গেছে।
এছাড়া প্রাথমিক অনুসন্ধানে ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে খুন, সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থ জোগান এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাচ্ছে, যা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ধারামতে সম্পৃক্ত অপরাধ।
এমতাবস্থায় এসব হিসাব মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ (সংশোধনী-২০১৫)-এর ১৪ ধারার বিধানমতে অবরুদ্ধকরণ এবং একই আইনের ১৭(২) ধারার বিধান মোতাবেক হিসাবগুলোতে স্থিত সমুদয় অর্থ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা একান্ত প্রয়োজন। অন্যথায়, অভিযোগ নিষ্পত্তির আগেই হিসাবগুলোতে স্থিত অর্থ বেহাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, হাদি হত্যা মামলায় ফয়সাল ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পিসহ ১৭ জনকে আসামি করে মঙ্গলবার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের মধ্যে ১১ জন গ্রেপ্তার আছেন।
গ্রেপ্তার থাকা ১১ জন হলেন— ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা মোসা. হাসি বেগম, ফয়সালের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, রেন্ট-এ-কার ব্যবসায়ী মুফতি মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, ফয়সালের সহযোগী মো. কবির, ভারতে পালাতে সহায়তাকারী সিবিউন দিউ ও সঞ্জয় চিসিম, কাউন্সিলর বাপ্পির ভগ্নিপতি আমিনুল ইসলাম রাজু এবং সিপুর ঘনিষ্ঠ মো. ফয়সাল।
এছাড়া তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, ফয়সাল করিম মাসুদ, মোটরসাইকেল চালক আলমগীর, ভারতে পাচারের সহায়তাকারী ফিলিপ, ফয়সলের বোন জেসমিন এবং তার স্বামী মুফতি মাহমুদ পলাতক রয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ আদায় করে নির্বাচনি প্রচারণা শেষ করেন ওসমান হাদি।
এরপর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে ওই দিন দুপুর ২টা ২০ মিনিটে হাদিকে বহনকারী অটোরিকশা পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে থাকা দুষ্কৃতিকারীরা হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অপারেশন শেষে এভারকেয়ার পাঠানো হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।
হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গত ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে মামলা করেন। হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
৫৮ দিন আগে
নিষিদ্ধ গাছ কাটলে এক লাখ টাকা জরিমানা, অধ্যাদেশ জারি
কর্তন নিষিদ্ধ বৃক্ষের তালিকাভুক্ত বা বন অধিদপ্তরের বিপদাপন্ন ঘোষিত কোনো গাছ কাটলে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানা গুণতে হবে, অতিরিক্ত হিসেবে ক্ষতিপূরণ বনায়নের শাস্তিও পেতে হতে পারে। এমন বিধান রেখে ‘বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছেন রাষ্ট্রপতি।
মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে এ গেজেট জারি করা হয়।
অধ্যাদেশে কর্তন নিষিদ্ধ বৃক্ষ কাটলে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানার বিধানসহ বনভূমির জরিপ ও রেকর্ড, গাছ কর্তনের অনুমতি, শাস্তি এবং বনভূমি শর্তসাপেক্ষে বিনিময়ের নিয়ম স্পষ্ট করা হয়েছে।
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, বন সংরক্ষণ কর্মকর্তার পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে ‘বন আইন, ১৯২৭’-এর ৪ ও ৬ ধারার অধীনে গেজেটভুক্ত বন, অশ্রেণিভুক্ত রাষ্ট্রীয় বন, সামাজিক বন, সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং গণপরিসরের বৃক্ষ কর্তন ও অপসারণ করা যাবে। এ অধ্যাদেশ বাস্তবায়নের জন্য প্রধান বন সংরক্ষক বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে বৃক্ষ সংরক্ষণ কর্মকর্তার দায়িত্ব দেবেন।
গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশিত কর্তন নিষিদ্ধ বৃক্ষের তালিকাভুক্ত অথবা বন অধিদপ্তর কর্তৃক বিপদাপন্ন ঘোষিত কোনো গাছ কাটা যাবে না। তবে অনুমতি সাপেক্ষে কর্তনযোগ্য বৃক্ষের তালিকায় থাকা ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির গাছ নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করে বৃক্ষ সংরক্ষণ কর্মকর্তার পূর্বানুমোদন নিয়ে কাটা যাবে। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে বৃক্ষের প্রজাতি, সংখ্যা, আনুমানিক উচ্চতা, বুক সমান উচ্চতায় বেড়, কর্তনের কারণসহ নির্ধারিত ফরম পূরণ করে আবেদন করতে হবে। আবেদন যাচাই ও সরেজমিন পরিদর্শনের পর আবেদন প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে লিখিত সিদ্ধান্ত দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে অধ্যাদেশে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের মৌজা রিজার্ভে গাছ কাটার ক্ষেত্রে এই অধ্যাদেশের সংশ্লিষ্ট ধারার পরিবর্তে ‘চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাকস রেগুলেশন, ১৯৯০’-এর অধীনে প্রণীত বিধিমালার রুল ৪১-এ প্রযোজ্য হবে। কোনো আবেদন মঞ্জুর হলে কাটা গাছের বিপরীতে একই এলাকায় নির্দিষ্ট প্রজাতি ও সংখ্যার বৃক্ষরোপণ নিশ্চিত করতে হবে। বৃক্ষ সংরক্ষণ কর্মকর্তার সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি ১৫ দিনের মধ্যে বন সংরক্ষকের কাছে আপিল করতে পারবেন।
বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনের আওতাধীন বনভূমিতে এ ধারার বিধান প্রযোজ্য হবে না। একই সঙ্গে কর্তন নিষিদ্ধ ও অনুমতি সাপেক্ষে কর্তনযোগ্য তালিকার বাইরে থাকা অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রজাতির গাছ বা গ্রামীণ এলাকায় ব্যাপক ব্যবহৃত গাছ কাটার ক্ষেত্রে অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না। ব্যক্তি মালিকানাধীন রোগাক্রান্ত বা মৃত গাছ, ঝড়ে পড়া গাছ, সড়ক যোগাযোগে বাধাসৃষ্টিকারী গাছ, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত গাছ এবং জীবন বা সম্পদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ গাছ কাটায় আগাম অনুমোদন লাগবে না বলেও অধ্যাদেশে জানানো হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, বাণিজ্যিক উৎপাদন ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে পেরেক বা ধাতব বস্তু দিয়ে গাছের ক্ষতি করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ বিধান প্রচারে বন অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অধ্যাদেশ কার্যকর হওয়ার তিন মাসের মধ্যে কর্তন নিষিদ্ধ ও অনুমতি সাপেক্ষে কর্তনযোগ্য গাছের তালিকা গেজেটে প্রকাশ এবং প্রয়োজনে হালনাগাদের কথাও বলা হয়েছে।
অধ্যাদেশ লঙ্ঘনের শাস্তি
এ অধ্যাদেশ লঙ্ঘনের জন্য শাস্তির বিধানও রাখা হয়েছে। কর্তন নিষিদ্ধ গাছ কাটলে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানা এবং ক্ষতিপূরণমূলক বনায়নের ব্যবস্থা নিতে পারবেন আদালত। এছাড়া অনুমতি সাপেক্ষে কর্তনযোগ্য গাছের বিধান লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে, আর গাছের ক্ষতিসাধনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা যাবে।
সরকারি বা বেসরকারি কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অপরাধ সংঘটিত হলে সংশ্লিষ্ট পরিচালক, কর্মকর্তা বা প্রতিনিধিকে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করে সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা জরিমানার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ক্ষমতাপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তাদের মামলা দায়ের, তদন্ত, তল্লাশি, জব্দ ও আদালতে বন অধিদপ্তরের পক্ষে মামলা পরিচালনার ক্ষমতাও নির্ধারণ করা হয়েছে।
বনভূমির জরিপ ও রেকর্ড যেভাবে হবে
বনভূমির জরিপ ও রেকর্ড-সংক্রান্ত নতুন বিধান নির্ধারণ করা হয়েছে। অধ্যাদেশে বৃক্ষাচ্ছাদন থাকুক বা না থাকুক, গেজেট দ্বারা ঘোষিত সব বনভূমি বন বিভাগের নামে রেকর্ড নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। একইসঙ্গে রক্ষিত ও অর্জিত বনভূমি জেলা প্রশাসকের নামে রেকর্ডভুক্ত থাকবে এবং এসব বনভূমি বন বিভাগের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হবে।
বন বিভাগের ব্যবস্থাপনাধীন রক্ষিত, অর্পিত ও অর্জিত কোনো বনভূমি বন্দোবস্ত দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়নি। তবে বিধি অনুযায়ী কোনো বনভূমি অবমুক্ত করা হলে এ ক্ষেত্রে রেকর্ড-সংক্রান্ত এসব বিধান প্রযোজ্য হবে না।
অধ্যাদেশ কার্যকর হওয়ার পর বন অধিদপ্তরকে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মাধ্যমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বনভূমির জরিপ, সীমানা নির্ধারণ এবং রেকর্ড হালনাগাদের উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।
যেসব দাগে বন বিভাগের আংশিক ভূমি রয়েছে বা বনভূমির দাগের সঙ্গে সংলগ্ন খাস জমি আছে, সেসব ক্ষেত্রে বন্দোবস্ত দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বন বিভাগকে অবহিত করতে হবে। পরে যৌথ জরিপের মাধ্যমে বনভূমি ও খাস জমির সীমানা নির্ধারণ করতে হবে বলে অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, বনের অখণ্ডতা রক্ষায় সরকার বনাঞ্চলের ভেতরে থাকা খাস জমি বন বিভাগের অনুকূলে হস্তান্তর করতে পারবে। একইসঙ্গে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণ করে তা বন হিসেবে ঘোষণা করার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকায় এ ধরনের অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ভূমিসহ ঐতিহ্য ও প্রথাগতভাবে ভোগ করা বন অধিকার নিষ্পত্তির শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
বনভূমি শর্তসাপেক্ষে বিনিময়
কোনো বিধিবদ্ধ সংস্থা বা শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন জমির ভেতরে বিচ্ছিন্নভাবে এক একরের কম কোনো বনভূমি থাকলে অপরিহার্যতা ও জনস্বার্থ বিবেচনায় বিধিমালা দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে সরকারপ্রধানের অনুমোদনে বিনিময়ের অনুমতি দেওয়া যাবে। এক্ষেত্রে সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ওই বনভূমির পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট বনসংলগ্ন দ্বিগুণ নিষ্কণ্টক জমি ওই সংস্থা বা শিল্প প্রতিষ্ঠান বন বিভাগকে হস্তান্তর করতে হবে। হস্তান্তরিত এ জমি সরকার সংরক্ষিত বনভূমি হিসাবে ঘোষণা করবে বলে প্রস্তাবিত অধ্যাদেশে জানানো হয়েছে।
৫৮ দিন আগে
জকসুর ১৪ কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষ, ভিপি পদে এগিয়ে রাকিব
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে এখন পর্যন্ত ১৩টি বিভাগ ও ১ অনুষদের ফল প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত ফলাফলে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে মোট ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার পরিষদ সমর্থিত প্যানেল।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে সকাল থেকে ফল ঘোষণা শুরু হয়।
প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, ভিপি পদে ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী এ কে এম রাকিব পেয়েছেন ১ হাজার ৬৭১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থী মো. রিয়াজুল ইসলাম পেয়েছেন ১ হাজার ৪২৪ ভোট। ফলে ভিপি পদে মোট ভোটের হিসাবে রাকিব এগিয়ে রয়েছেন ২৪৭ ভোটে।
এদিকে, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে মোট ভোটে এগিয়ে রয়েছে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল। ছাত্রশিবিরের জিএস পদে আব্দুল আলিম আরিফ ১ হাজার ৫৮৭ এবং ছাত্রদলের খাদিজাতুল কুবরা পেয়েছেন ৭৯৩ ভোট, এজিএস পদে মাসুদ রানা ১ হাজার ৪৬৬ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন; বি এম আতিকুর রহমান তানজিল ১ হাজার ২৯৭ ভোট পেয়েছেন।
ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী এ কে এম রাকিব ভূগোলে ৯১, নৃবিজ্ঞানে ১১৮, লোক প্রশাসনে ১৩২, ফার্মেসিতে ৫৩, ফিন্যান্সে ২৩১, অনুজীব বিজ্ঞানে ৪৬, জিন প্রকৌশলে ৩৯, কম্পিউটার বিজ্ঞানে ৯৪, চারুকলায় ১০৬, জৈব রসায়নে ৫৭, দর্শনে ১৭৫, প্রাণিবিদ্যায় ১২৮, মার্কেটিংয়ে ১৮৭ ও উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে ২১৪ ভোট পেয়েছেন।
ছাত্রশিবির সমর্থিত অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মো. রিয়াজুল ইসলাম ভূগোলে ১০০, নৃবিজ্ঞানে ১২৮, লোক প্রশাসনে ১২২, ফার্মেসিতে ৭৮, ফিন্যান্সে ১৩৮, অনুজীব বিজ্ঞানে ৮৭, জিন প্রকৌশলে ৫১, কম্পিউটার বিজ্ঞানে ১০৬, চারুকলায় ২১, জৈব রসায়নে ৮৯, দর্শনে ১১১, প্রাণিবিদ্যায় ১২৮, মার্কেটিংয়ে ২০০ ও উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে ৬৫ ভোট পেয়েছেন।
ছাত্রদল সমর্থিত জিএস পদপ্রার্থী খাদিজাতুল কুবরা ভূগোলে ৪৫, নৃবিজ্ঞানে ৭৩, লোক প্রশাসনে ৬২, ফার্মেসিতে ২৬, ফিন্যান্সে ১১৩, অনুজীবে ৩২, জিন প্রকৌশলে ১৮, কম্পিউটার বিজ্ঞানে ৫৩, চারুকলায় ৩৬, জৈব রসায়নে ৩২, দর্শনে ৮০, প্রাণিবিদ্যায় ৬৮, মার্কেটিংয়ে ৮৬ ও উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে ৬৯ ভোট পেয়েছেন।
ছাত্র শিবির সমর্থিত জিএস পদপ্রার্থী আব্দুল আলিম আরিফ ভূগোলে ৯০, নৃবিজ্ঞানে ১২৩, লোক প্রশাসনে ১২৩, ফার্মেসিতে ৮৩, ফিন্যান্সে ১৬৩, অনুজীব বিজ্ঞানে ৮৫, জিন প্রকৌশলে ৪৬, কম্পিউটার বিজ্ঞানে ১১২, চারুকলায় ১৮, জৈব রসায়নে ৯৮, দর্শনে ১৩৫, প্রাণিবিদ্যায় ১৫৪, মার্কেটিংয়ে ২১৪ ও উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে ১৪৩ ভোট পেয়েছেন।
ছাত্রদল সমর্থিত এজিএস পদপ্রার্থী বি এম আতিকুর রহমান তানজিল ভূগোলে ৪৫, নৃবিজ্ঞানে ১২৬, লোক, প্রশাসনে ১০৬, ফার্মেসিতে ৪৫, ফিন্যান্সে ১৭৮, অনুজীব বিজ্ঞানে ৪০, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ৩০, কম্পিউটার বিজ্ঞানে ৮০, চারুকলায় ৮২, জৈব রসায়নে ৪২, দর্শনে ১২৪, প্রাণিবিদ্যায় ১০৮, মার্কেটিংয়ে ১৫৩ ও উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে ১৩৮ ভোট পেয়েছেন।
ছাত্রশিবির সমর্থিত এজিএস পদপ্রার্থী মাসুদ রানা ভূগোলে ৯৮, নৃবিজ্ঞানে ১০২, লোক প্রশাসনে ১৩০, ফার্মেসিতে ৭৮, ফিন্যান্সে ১৬৩, অনুজীব বিজ্ঞানে ৮১, জিন প্রকৌশলে ৪২, কম্পিউটার বিজ্ঞানে ১০৫, চারুকলায় ১২, জৈব রসায়নে ৯০, দর্শনে ১১৯, প্রাণিবিদ্যায় ১৩১, মার্কেটিংয়ে ১৯৫ ও উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে ১২০ ভোট পেয়েছেন।
প্রসঙ্গত, জকসু নির্বাচনের ভোট গণনা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অনেকক্ষণ স্থগিত ছিল। এরপর ম্যানুয়াল ও মেশিন—উভয় পদ্ধতিতে গণনা শুরু হলেও তা শেষ করতে পারেননি নির্বাচন-সংশ্লিষ্টরা।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে ৫ ঘণ্টা পর পুনরায় ভোট গণনা শুরু হয়। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৭টায় প্রথম ফল ঘোষণা করা হয়। এখনও ২৫টি কেন্দ্রের ভোট গণনা বাকি রয়েছে।
৫৮ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড তালিকায় যুক্ত হলো বাংলাদেশ
যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন শর্ত আরোপ করা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের হালনাগাদ ভিসা বন্ড তালিকায় এবার যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের নাম। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ ও ব্যবসা ভিসা পেতে বাংলাদেশিদের সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ‘ভিসা বন্ড’ বা ফেরতযোগ্য জামানত জমা দিতে হবে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট ভিসা বন্ডের আওতাভুক্ত দেশগুলোর হালনাগাদ তালিকা প্রকাশ করে।
এই কর্মসূচির আওতায়, নতুন করে যুক্ত হওয়া দেশগুলোর পাসপোর্টধারীদের অন্যান্য সব যোগ্যতা পূরণ থাকলে ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার ডলারের বন্ড দিতে বলা হতে পারে। এই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারির অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘পে ডট গভ’ (pay.gov)-এর মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে।
হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, এই নীতির আওতায় থাকা দেশের সংখ্যা বর্তমানে ৩৮টিতে দাঁড়িয়েছে। তালিকাভুক্ত অধিকাংশ দেশই দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলভুক্ত।
বাংলাদেশের পাশাপাশি এই তালিকায় রয়েছে আলজেরিয়া, কিউবা, নেপাল, নাইজেরিয়া ও ভেনেজুয়েলার মতো দেশ। নতুন এই শর্ত ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ভিসার মেয়াদ অতিক্রম করে অবস্থান (ওভার স্টে) নিরুৎসাহিত করতেই বন্ডের এই শর্ত আরোপ করা হয়েছে। তবে বন্ডটি ফেরতযোগ্য। যদি ভিসার মেয়াদ থাকাকালীন সময়ের মধ্যে কিংবা মেয়াদের শেষ দিন কেউ প্রস্থান করে তাহলে তার জামানতের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। এছাড়া ভিসার মেয়াদের মধ্যে ভ্রমণ না করলে অথবা ভিসা আবেদনের পর প্রত্যাখ্যান করা হলে জামানতের অর্থ ফেরত দেবে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া ভিসার মেয়াদের পর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলে অথবা আশ্রয় প্রার্থনা করলে জামানতের শর্ত ভঙ্গ বলে বিবেচনা করা হবে।
উন্নয়নশীল দেশের অনেক আবেদনকারীর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ কার্যত নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা তুলে ধরে আরোপিত এই নীতিটি সমালোচিত হয়েছে।
এর আগে ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্য কিছু ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশের ভ্রমণকারীদের জন্য ভিসা বন্ড চালুর উদ্যোগ নেয়, কিন্তু পরে তা বাতিল করে।
৫৮ দিন আগে
জকসুর ৮ কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা: ভিপি পদে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনে আটটি ভোটকেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। দুই প্রধান প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ছয় ভোটের ব্যবধান রয়েছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, সহ-সভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) এ তিনটি শীর্ষ পদেই শিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ পরিষদ এগিয়ে রয়েছে।
ভিপি পদে শিবির সমর্থিত প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম ৮১০ ভোট পেয়েছেন। তবে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী একেএম রকিব মাত্র ৬ ভোট কম পেয়ে ৮০৪ ভোট পেয়েছেন।
জিএস পদে শিবির সমর্থিত প্যানেলের আব্দুল আলিম আরিফ ৮২৫ ভোট পেয়েছেন। অপরদিকে ছাত্রদলের খাদিজাতুল কুবরা পেয়েছেন ৪২২ ভোট । এজিএস পদে শিবির প্রার্থী মাসুদ রানা ৭৯৯ ভোট নিয়ে এগিয়ে আছেন, ছাত্রদলের প্রার্থী আতিকুর রহমান তানজিল পেয়েছেন ৬৯০ ভোট।
শীর্ষ তিনটি পদ ও বেশিরভাগ সম্পাদক পদে পিছিয়ে থাকা সত্ত্বেও, ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল পাঠাগার সম্পাদক ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদে এগিয়ে রয়েছে। কার্যনির্বাহী সদস্য পদেও ছাত্রদলের কিছু প্রার্থীও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন।
যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জকসু নির্বাচনের ভোট গণনা দীর্ঘ সময় স্থগিত রাখা হয়েছিল । পরে ম্যানুয়াল ও মেশিন উভয় পদ্ধতিতে গণনা পুনরায় শুরু হয়।
পাঁচ ঘণ্টার বিরতির পর গতকাল মঙ্গলবার রাত পৌনে ১টার দিকে গণনা আবার শুরু হয়, তবে আজ সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত শুধু ৮টি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি ৩১টি ভোটকেন্দ্রের ভোট গণনা এখনও চলছে।
এখন পর্যন্ত নৃবিজ্ঞান বিভাগ, লোক প্রশাসন, ভূগোল ও পরিবেশ, ফার্মেসি, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, মাইক্রোবায়োলজি, ফাইন্যান্স এবং জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।
৫৮ দিন আগে