বাংলাদেশ
জামিনে কারামুক্ত সাবেক স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী
গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী।
রবিবার (১২ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তিনি কারামুক্ত হন।
কারাগার সূত্রে জানা যায়, মুক্তির পর তিনি সাদা রঙের একটি গাড়িতে করে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারের প্রধান ফটক দিয়ে বের হয়ে যান। এ সময় কারা কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে তাকে মুক্তি দেয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মোছা. কাওয়ালিন নাহার। তিনি জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী জামিন প্রাপ্তির পর যথাযথ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, গণঅভ্যুত্থানের সময় সহিংসতা, ভাঙচুর ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগে রাজধানীর লালবাগ থানায় দায়ের করা একটি মামলায় তাকে আসামি করা হয়। ওই মামলায় রবিবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালত তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।
এর আগে, গত মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর ধানমণ্ডির একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরবর্তীতে আদালতে হাজির করা হলে তার রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।
উল্লেখ্য, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী দীর্ঘদিন জাতীয় সংসদের স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেছেন। তার হঠাৎ গ্রেপ্তার ও পরবর্তীতে জামিনে মুক্তির ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
৫৩ দিন আগে
শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্পে পুরস্কারের ঘোষণা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের
‘স্কিল ইজ দ্য ফিউচার: ইয়ুথ এমপ্লয়্যাবিলিটি সামিট ২০২৬’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উদ্ভাবনী প্রকল্পে পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
রবিবার (১২ এপ্রিল) সকালে ধানমন্ডি ড্যাফোডিল প্লাজায় গ্লোবাল অন্ট্রোপ্রেনিউরশিপ নেটওয়ার্ক (জিইএন) বাংলাদেশ এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির যৌথ উদ্যোগে এই সামিটের আয়োজন করা হয়।
সামিটে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প তৈরির আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষার্থীদের সময়োপযোগী ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনী প্রকল্প তৈরি করতে হবে, যা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ সময় ‘ক্রাইম প্যাটার্ন রিকগনিশন’ ও ‘ক্রাইম ডিটেকশন’ সফটওয়্যার তৈরির ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী ঘোষণা দেন, এ ধরনের কার্যকর ও বাস্তবমুখী সফটওয়্যার তৈরি করতে পারলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করা হবে। এছাড়া এসব উদ্ভাবনী প্রকল্প বাজারজাত করার ক্ষেত্রেও সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
দক্ষতা অর্জনের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত সরকার শুরু থেকেই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ দক্ষতাভিত্তিক সংস্কৃতি ও সমাজ গঠন করার বিষয়ে। আমাদের শিক্ষা হবে ক্যারিয়ারভিত্তিক। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার জন্য দীর্ঘ কয়েক বছর সময় ও সম্পদ ব্যয় করে। এই ব্যয়ের বিনিময়ে তো প্রাপ্তি থাকতে হবে, শিক্ষার্থীদের প্রাপ্তি হবে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার। সুন্দর ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন দক্ষতা।
এ সময় তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে দক্ষ মানবসম্পদের অভাব রয়েছে। এজন্য বিদেশিরা আমাদের দেশে অনেক প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে বেতন নিয়ে যাচ্ছে। প্রাইমারি স্কুল থেকেই আমরা শিক্ষার্থীদের মধ্যে দক্ষতার বিষয়ে মানসিকতা তৈরি করতে চাই। আমাদের সরকার জবাবদিহির সরকার। নির্বাচনের সময় আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার জন্য আমরা দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বপ্নের বাংলাদেশ আমরা গাড়বই ইনশাআল্লাহ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বে করেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান।
৫৩ দিন আগে
আটকা পড়া বাংলাদেশি জাহাজ দ্রুত হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিতে পারবে: ইরানি রাষ্ট্রদূত
বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদী বলেছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালিতে অনেক জাহাজ অপেক্ষায় আছে, যার মধ্যে বাংলাদেশের কিছু জাহাজও রয়েছে।
তিনি বলেছেন, ইরান বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে এবং দ্রুত এসব জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রবিবার (১২ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটতলায় বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ আয়োজিত ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের শহীদ শিক্ষার্থীদের স্মরণ: মার্কিন-ইসরাইলি যুদ্ধাপরাধের বিচার ও জবাবদিহিতা দাবি’ শীর্ষক শোক সমাবেশ ও যুদ্ধাপরাধবিরোধী প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ-ইরান সম্পর্ক প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ এবং ইরান বাংলাদেশকে ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ হিসেবে বিবেচনা করে। বাংলাদেশের সঙ্গে ইরানের কোনো শত্রুতা নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ওমানসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দেশগুলোকেও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।
তিনি বলেন, মর্যাদার ভিত্তিতে আলোচনা হলে ইরান অংশ নেবে, অন্যথায় কোনো আলোচনায় যাবে না—এই বার্তা যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত যুদ্ধবিরতির সময় পর্যন্ত ইরান হামলা থেকে বিরত থাকবে, তবে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করলে ইরানও প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য হবে।
ইসলামাবাদে আলোচনার ফলাফল প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, এর আগেও আলোচনা চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র প্রকৃতপক্ষে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে নয়, বরং আন্তর্জাতিক মহলে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতেই আলোচনায় অংশ নেয়।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর অন্যায়ভাবে হামলা চালিয়েছে এবং ইরানকে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন থেকে বিরত রাখতে চায়।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন সফল হয়নি উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, হামলার মাধ্যমে ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে বাস্তবে জনগণ সরকারের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে। হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র সফল হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।
ইরানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে হামলার প্রতিবাদে কর্মসূচি আয়োজন করায় বিপ্লবী ছাত্র পরিষদকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, এসব হামলায় হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ ও শিশুদের প্রাণহানি ঘটেছে। তিনি বলেন, ইরান এসব হামলার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে এবং দেশটি যুদ্ধ চায় না, কারণ যুদ্ধ মানবজাতির জন্য ক্ষতিকর। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ বন্ধে আগ্রহী নয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসনের নিন্দা জানান। তিনি বলেন, এসব হামলায় শিশুদের হত্যা করা বিশ্ব বিবেকের ওপর আঘাত এবং অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন ইরানের কালচারাল কাউন্সেলর সাইয়্যেদ রেজা মীর মোহাম্মাদী, জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইয়েদ কুতুব এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক নেত্রী মরিয়ম জামিলা তামান্না।
আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সহকারী সদস্য সচিব গালীব ইহসান, সদস্য সাইদুল ইসলাম, বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের সদস্য সচিব ফজলুর রহমান, সহকারী সদস্য সচিব ডা. নাবিল আহমদ ও জিহাদী ইহসান, মো. আরিফুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক সানোয়ারা খাতুন, যুগ্ম আহ্বায়ক নিয়াজ আহমদ, ঢাকা আলীয়া মাদরাসা শাখার আহ্বায়ক রকিব মণ্ডল, সদস্য সচিব জিনাত হোসাইন ও যুগ্ম আহ্বায়ক সালমান ফারসি, মাহফুজুর রহমান, মাসুম বিল্লাহ, আল আমীন শেখ এবং জালালুদ্দিন রুমি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ফাহিম আহমেদ প্রমুখ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত ইরানি শিশুদের স্মরণে প্রতীকী কফিন, রক্তাক্ত স্কুলব্যাগ ও ছবি প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি যুদ্ধবিরোধী স্বাক্ষর কর্মসূচিও পালন করা হয়, যেখানে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বাক্ষর দিয়ে যুদ্ধ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান জানান।
৫৩ দিন আগে
১৭ এপ্রিল রাতে হজ ফ্লাইট উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
আগামী ১৭ এপ্রিল রাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চলতি বছরের হজ ফ্লাইট উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।
রবিবার (১২ এপ্রিল) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে হজ ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
হজ ফ্লাইট কবে উদ্বোধন হবে—জানতে চাইলে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ১৭ এপ্রিল রাতে প্রধানমন্ত্রী হজ ফ্লাইট উদ্বোধন করবেন।’
তিনি বলেন, ‘সভায় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন কীভাবে হাজীদের খেদমত করতে হবে, কীভাবে আল্লাহর মেহমানদের খেদমত করতে হবে। উনি পরিষ্কার ভাষায় বলে দিয়েছেন, কোনো অন্যায় অপরাধ, হাজীদের ওপর কোনো অবিচার সহ্য করা হবে না।’
মন্ত্রী বলেন, ‘আজকে আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা থেকে অনেক কিছু জানতে পেরেছি বুঝতে পেরেছি। উনি হাজীদের ব্যাপারে অত্যন্ত সচেতন। উনি দু-একদিনের মধ্যে হাজী ক্যাম্পে যাবেন, যে হাজি ক্যাম্পে হাজিরা এসে উঠবেন। উনি নিজে থেকেই সেখানে যাওয়ার কথা বলেছেন।’
তেলের দামের কারণে হজ ফ্লাইটে সম্ভাব্য জটিলতার বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘হাজিরা আল্লাহর মেহমান; ইনশাল্লাহ আল্লাহ সব ব্যবস্থা করবেন। ইনশাআল্লাহ, কোন জটিলতা হবে না।’
৫৩ দিন আগে
দক্ষতা বৃদ্ধি ও ক্যারিয়ার গঠন হবে শিক্ষার লক্ষ্য: প্রতিমন্ত্রী
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, আমাদের দেশে শিক্ষা নিয়ে অনেক কমিশন গঠিত হয়েছিল, নীতিমালা রয়েছে; কিন্তু শিক্ষার সঠিক মানোন্নয়ন সম্ভব হয়নি। কারণ আমাদের দেশের শিক্ষার কোনো লক্ষ্য (ভিশন) ছিল না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের জন্য একটি লক্ষ্য ঠিক করে দিয়েছেন। শিক্ষার লক্ষ্য হবে দক্ষতা বৃদ্ধি ও ক্যারিয়ার গঠন।
রবিবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাব পৌরসভা মিলনায়তনে ‘শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক ও রাষ্ট্রের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী ও বাস্তবমুখী করে গড়ে তুলতে কাজ করছে। শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং কর্মমুখী সক্ষমতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারবে এবং দেশের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের দেশে দক্ষ মানবসম্পদের অভাব রয়েছে। এজন্য আমাদের দেশে গার্মেন্টস সেক্টরসহ বিভিন্ন সেক্টরে বিদেশিরা চাকরি করে বেতন নিয়ে যাচ্ছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি করে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। দক্ষতার অভাবে আমাদের দেশের ছেলেমেয়েদের এসব পদে চাকরি দেওয়া হয় না।’
তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার প্রসারে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এবং শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু ও নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী।
সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন রুপগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম এবং মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. আবদুস সালাম।
৫৩ দিন আগে
এখন থেকে স্ব স্ব নামে উদযাপিত হবে পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী উৎসব: মন্ত্রী
পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক উৎসবগুলো এখন থেকে আর সম্মিলিত ‘বৈসাবি’ নামে নয়, বরং প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব নামে রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপিত হবে বলে জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান।
রবিবার (১২ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর বেইলি রোডের পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স থেকে উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, বিগত সরকার ‘বৈসাবি’ নামকরণের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জাতিসত্ত্বা সম্প্রদায়ের মধ্যে বৈষম্য তৈরি করে রেখেছিল। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার কোনো বৈষম্য চায় না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতিটি জাতিগোষ্ঠী সম্প্রদায় তাদের স্ব স্ব উৎসবের নামে নিজ নিজ সংস্কৃতি নির্বিঘ্নে পালন করবে।
৫৩ দিন আগে
সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে হামসহ অন্যান্য সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে হামসহ অন্যান্য সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় টিকাদান কর্মসূচি শুরু হলেও রবিবার (১২ এপ্রিল) থেকে ঢাকা দক্ষিণসহ গুরুত্বপূর্ণ চারটি সিটি করপোরেশনে (ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর, ময়মনসিংহ ও বরিশাল) একযোগে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী ২০ এপ্রিল থেকে দেশের বাকি অংশে এই টিকাদান কার্যক্রম চলবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর ভবন অডিটরিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে আজ (রবিবার) এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
এ সময় তিনি বলেন, ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রতিটি শিশুকে যদি আমরা সফলভাবে টিকার আওতায় আনতে পারি, তবেই আমরা এই আত্মঘাতী রোগ থেকে রক্ষা পাব। তিনি প্রতিটি অলিগলিতে এই কর্মসূচি পৌঁছে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
তবে হাম-রুবেলা নিয়ন্ত্রিত হলেও সামনে ডেঙ্গুর বড় চ্যালেঞ্জ আসছে বলে সতর্ক করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সামনেই ডেঙ্গুর একটি ধাক্কা আসতে পারে। আমরা দুই-তিন দিন আগেই এটা নিয়ে কাজ শুরু করেছি।
মশার ওষুধ ছিটানোর ক্ষেত্রে সঠিক মাত্রায় রাসায়নিক মিশ্রণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ওষুধের মান ঠিক থাকলে তবেই পূর্ণবয়স্ক মশা মারা সম্ভব হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, হামের বিস্তার রোধে আইসোলেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের সকল পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে রোগীদের জন্য বিশেষ আইসোলেশন ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। টিকাদান কর্মসূচিকে একটি আন্দোলন হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, এটি কোনো একক ব্যক্তি বা স্বাস্থ্যকর্মীর পক্ষে সফল করা সম্ভব নয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি আহমেদ জামশেদ মোহামেদ, ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেনটেটিভ এমানুয়েল অ্যাব্রিউক্স। এতে সভাপতিত্ব করেন ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম।
সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, হঠাৎ করে এ বিষয়টা (হামের প্রাদুর্ভাব) এসেছে এমন নয়। বিগত সরকারের অসাবধানতার কারণে আজকে এই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।
দক্ষিণ সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী প্রতিটি ওয়ার্ডের স্থায়ী ইপিআই কেন্দ্রগুলোতে এই টিকাদান কার্যক্রম চলবে।
কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং ভবিষ্যতে সংক্রমণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
এই কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশু এমআর টিকা পাবে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত কেন্দ্রে টিকাদান কার্যক্রম চলবে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, নগরবাসীর সর্বোচ্চ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রচার- চালানো হচ্ছে। অভিভাবকদের নির্ধারিত কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে এসে টিকা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
৫৩ দিন আগে
জেলা পর্যায়ে পুনরায় ১০ শয্যার আইসিইউ চালুর প্রতিশ্রুতি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
করোনা মহামারিকালে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বিভিন্ন জেলায় স্থাপিত ও পরবর্তীতে মেয়াদ শেষ হওয়া ১০ শয্যার নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ) ইউনিটগুলো আগামী সপ্তাহ থেকে পুনরায় চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
শনিবার (১১ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে রাজধানীর ক্রাউন প্লাজা হোটেলে বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএমসিএ) বার্ষিক সম্মেলন ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘করোনাকালে জেলা পর্যায়ে ১০ শয্যার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ইউনিট চালু করা হয়েছিল। তবে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তা বন্ধ হয়ে যায়। আমরা আগামী সপ্তাহ থেকে তা পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
মেডিকেল শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও নৈতিকতায় একজন ভালো ডাক্তার হিসেবে তৈরি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মেডিকেল শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, মানুষকে বাঁচাতে হলে ভালো ভালো ডাক্তার প্রয়োজন। এ ব্যাপারে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের আরও বেশি উৎসাহ দিতে হবে। তাদের নিয়মিত কাউন্সেলিং করতে হবে, যেন তারা চাপের মুখে পড়ে হতাশায় না ভোগেন।
শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষায় গুরুত্ব দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাস্থ্যখাতে বেসরকারি খাতগুলোর অবদান অনস্বীকার্য। আমাদের প্রত্যাশা আপনারা আপনাদের দায়িত্ব মানবিকতা ও সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পালন করবেন। রোগীরা সৃষ্টিকর্তার পরে ডাক্তারকে সবচেয়ে বেশি আস্থার স্থানে রাখেন। তাই মেডিকেলে নৈতিকতাকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।’
তিনি বলেন, আমরা স্বাস্থ্য শিক্ষার আধুনিকায়নের উপায় খুঁজছি। শিক্ষার্থীরা যেন ভালো শিক্ষা পায় কিন্তু অতিরিক্ত চাপ অনুভব না করে সেটাও নিশ্চিত করা হবে।
এ সময় তিনি মেডিকেল শিক্ষার্থীদের অধিক হারে আত্মহত্যা প্রবণতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
মেডিকেল শিক্ষায় ঋণের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিশ্বের নানা দেশে এই ব্যবস্থা রয়েছে। আমরা এ বিষয়ে ইতিবাচক, কিন্তু আমাদের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করতে হবে। একইসঙ্গে রিকোভারির বিষয়টিও ভাবতে হবে। আমি এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে দেশের হামের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে আগামী ২০ এপ্রিল সারা দেশে টিকা দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে ডাক্তাররা যথেষ্ট ত্যাগ ও ধৈর্য নিয়ে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। করোনাকালেও তারা রোগীদের জন্য অসামান্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে উষ্ণ সংবর্ধনা ও ফুলেল শুভেচ্ছা দেওয়া হয়। বিপিএমসিএর সভাপতি ডা. শেখ মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. মোহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ মেডিকেল এডুকেশন অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের রেজিষ্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. হুমায়ুন কবির তালুকদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. নাদিম আহম্মদ প্রমুখ।
৫৩ দিন আগে
রোহিঙ্গাদের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি সহায়তায় ১ কোটি কানাডিয়ান ডলার দিচ্ছে কানাডা
পরিবেশ রক্ষা এবং পরিচ্ছন্ন রান্নার জ্বালানি নিশ্চিত করতে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ১ কোটি কানাডিয়ান ডলার অনুদান দিচ্ছে কানাডা।
রবিবার (১২ এপ্রিল) কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও টেকসই রান্নার জ্বালানি সরবরাহের লক্ষ্যে দেশটি এ সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে।
এ বিষয়ে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, ইউএনএইচসিআর এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মাধ্যমে দেওয়া এ অর্থ রোহিঙ্গাদের জন্য এলপিজি গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করবে। এটি তাদের দৈনন্দিন রান্নার জন্য অপরিহার্য এবং একই সঙ্গে ক্যাম্পসংলগ্ন নাজুক পরিবেশ রক্ষায় সহায়তা করবে। এর ফলে বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও মর্যাদা উন্নত হবে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং বলেছেন, ‘কানাডা রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি ও অবিচল অংশীদার হিসেবে রয়েছে। জলবায়ু-সচেতন এই মানবিক সহায়তা পরিবেশগতভাবে নাজুক একটি অঞ্চলে বন উজাড় ও কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করবে। এটি শরণার্থী, স্থানীয় বাংলাদেশি এবং বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর উপকারে আসবে। পাশাপাশি, অসহায় মানুষ, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের ঝুঁকি কমাবে, যার মধ্যে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের ঝুঁকিও অন্তর্ভুক্ত। কানাডা আনন্দের সঙ্গে ইউএনএইচসিআর ও আইওএমকে ১ কোটি ডলার সহায়তা দিচ্ছে, যাতে পরিবেশ সুরক্ষা জোরদার হয় এবং ঝুঁকিপূর্ণ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জীবনমান উন্নত করা যায়।’
কক্সবাজার দেশের অন্যতম জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা, যেখানে বন্যা, ভূমিধস, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ড ও পরিবেশগত অবক্ষয়ের ঝুঁকি রয়েছে। এলপিজি বিতরণ শুরু হওয়ার পর শরণার্থী পরিবারগুলোর মধ্যে জ্বালানি কাঠের ব্যবহার ৮০ শতাংশ কমেছে এবং বছরে প্রায় ৪ লাখ ৭ হাজার টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ হ্রাস পেয়েছে।
বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের সহকারী প্রতিনিধি জুলিয়েট মুরেকিইসোনি বলেন, ‘নয় বছর ধরে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বিশ্বের অন্যতম কঠিন বাস্তুচ্যুত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। কানাডার এই সহায়তা একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসেছে এবং এর জন্য আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। শরণার্থীদের মর্যাদার সঙ্গে বসবাস নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সংহতি বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।’
বাংলাদেশে আইওএমের অন্তর্বর্তীকালীন চিফ অব মিশন জ্যাসেপ্পে লোপ্রিট বলেন, ‘নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সেই পরিবারগুলোর কল্যাণের জন্য মৌলিক, যারা গত নয় বছর ধরে চরম কষ্টের মধ্যে রয়েছে। আমরা কানাডাকে তাদের উদার সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানাই। এই সহায়তা নিশ্চিত করবে যে শরণার্থীরা ঝুঁকিপূর্ণ জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ এড়িয়ে স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করতে পারবে।’
২০১৮ সাল থেকে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে এলপিজি সরবরাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্পগুলোতে ঘরের ভেতরের বায়ুর মান উন্নত করেছে এবং রান্নার জ্বালানির খরচ কমিয়েছে।
কানাডার এই অনুদানের মাধ্যমে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫০০ শরণার্থী পরিবারের এলপিজি সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি কক্সবাজারের প্রায় ১০ হাজার ৭০০ হেক্টর সংরক্ষিত বন রক্ষায় সহায়তা করবে। এর ফলে ভূমিধসের ঝুঁকি কমবে এবং পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকায় মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত হ্রাস পাবে, একই সঙ্গে স্থানীয় সক্ষমতাও জোরদার হবে বলে মনে করছে ইউএনএইচসিআর।
৫৩ দিন আগে
সশস্ত্র বাহিনী কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়: প্রধানমন্ত্রী
সশস্ত্র বাহিনী কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয় বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাই এই বাহিনীর একমাত্র পবিত্র দায়িত্ব। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দল ও মতের ঊর্ধ্বে থেকে দেশকে ধারণে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
রবিবার (১২ এপ্রিল) ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনীর দরবার হলে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনী কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, পরিবার কিংবা দলের সম্পত্তি নয়। সশস্ত্র বাহিনী একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের শক্তি এবং মর্যাদার প্রতীক। রাষ্ট্রীয় সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং জনগণের অবিচল আস্থাই হতে হবে সশস্ত্র বাহিনীর পথ চলার প্রধান ভিত্তি। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা করাই আমাদের প্রতিটি সদস্যের একমাত্র এবং পবিত্র দায়িত্ব।
তিনি বলেন, অতীতে বিভিন্ন সময়ে নানা ঘটনা ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে দুর্বল ও বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। পিলখানা হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ওই ঘটনার মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়েও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে বাহিনীকে বিতর্কিত করার প্রচেষ্টা দেখা গেছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী এবং অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো আমলে সেনাবাহিনীর ভূমিকা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও সেনাবাহিনী স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করেছে। ভবিষ্যতের নির্বাচনসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাহিনীর ভূমিকা আরও স্বচ্ছ ও পেশাদার হওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই সময় থেকে সেনাবাহিনীর মধ্যে যে দেশপ্রেম ও শক্তিশালী মনোভাব গড়ে উঠেছিল, তা অব্যাহত রাখা জরুরি। একটি ঐক্যবদ্ধ সশস্ত্র বাহিনী থাকলে বাংলাদেশকে কেউ পরাজিত করতে পারবে না।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণকে একটি বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের সময়েই এই অর্জন আন্তর্জাতিকভাবে আরও উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।
সরকারপ্রধান বলেন, সশস্ত্র বাহিনী কেবল যুদ্ধকালীন প্রয়োজনেই একটি অবশ্যম্ভাবী শক্তি নয়, বরং দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা এবং রাষ্ট্রীয় সীমানার বাইরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের সদস্য হয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায়ও বাংলাদেশের সশস্ত্রবাহিনীর ভূমিকা বিশ্ব-স্বীকৃত।
তিনি বলেন, আমরা এমন এক সশস্ত্রবাহিনী চাই যাদেরকে বহি:শক্তি সমীহ করবে আর দেশের জনগণ আস্থায় রাখবে। পেশাদারত্বের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস না করে সশস্ত্রবাহিনীকে সবসময় একটি সুউচ্চ আদর্শিক অবস্থানে থাকতে হবে।
এদিন অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. একেএম শামছুল ইসলাম, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।
দরবারে প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারত্ব, শৃঙ্খলা, দেশের সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের প্রশংসা করেন।
বিশেষত, গত ২০২৪ সালের আগস্ট-পরবর্তী সময় থেকে এখন পযর্ন্ত দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুনিপুণভাবে সম্পন্ন করার জন্য তিনি সশস্ত্র বাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করেন।
প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর ভবিষ্যৎ সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং জাতীয় উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কর্তৃক সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
দরবারে ঢাকায় অবস্থানরত সামরিক ও অসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া দেশের অন্যান্য স্থানে অবস্থানরত সদস্যরা ভিডিও টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করেন।
৫৩ দিন আগে