বাংলাদেশ
জাতিসংঘ বৈঠক: বৈশ্বিক তেল সংকটের চ্যালেঞ্জ ও দরিদ্র দেশগুলোর ওপর এর প্রভাব তুলে ধরলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠকে চলমান বৈশ্বিক তেল সংকটে উন্নয়নশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর চ্যালেঞ্জ এবং দরিদ্র দেশগুলোর ওপর এর অসম ও বৈষম্যমূলক প্রভাব বিষয়ে আলোকপাত করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে মহাসচিব নবগঠিত বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় প্রদানে বাংলাদেশের ধারাবাহিক মানবিক নেতৃত্ব ও উদারতার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
এ সময় সমসাময়িক বিভিন্ন বৈশ্বিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী চলমান বৈশ্বিক তেল সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে উন্নয়নশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর সম্মুখীন চ্যালেঞ্জগুলো এবং দরিদ্র দেশগুলোর ওপর এর অসম ও বৈষম্যমূলক প্রভাব বিষয়ে আলোকপাত করেন।
প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ড. রহমান মহাসচিবকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। মহাসচিব আমন্ত্রণটি সাদরে গ্রহণ করেন এবং এর জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
৬৯ দিন আগে
খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটি গঠন
দেশের সার্বিক খাদ্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নীতিগত সিদ্ধান্তে সহায়তার জন্য খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটি (এফপিএমসি) গঠন করেছে সরকার।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) এ কমিটি গঠন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
২২ সদস্যের এ কমিটির সভাপতি খাদ্যমন্ত্রী। কমিটিতে স্থানীয় সরকার, অর্থ, শিল্প, বাণিজ্য, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা সদস্য হিসেবে রয়েছেন। এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবরা কমিটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিটের মহাপরিচালক কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে, এটি দেশের সার্বিক খাদ্য পরিস্থিতির ওপর নিয়মিত নজর রাখবে। খাদ্যশস্য উৎপাদনের পরিসংখ্যান, চাহিদা নিরূপণ, মজুদ পরিস্থিতি, খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় পর্যালোচনা করে সরকারকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবে। পাশাপাশি পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যের নিশ্চয়তা এবং নিরাপদ খাদ্যের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় দিকনির্দেশনা দিবে এ কমিটি।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, প্রয়োজনে কমিটি অতিরিক্ত সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সভা অনুষ্ঠিত হবে।
৭০ দিন আগে
হজ কার্যক্রম তদারকিতে ধর্মমন্ত্রীর নেতৃত্বে পর্যবেক্ষণ দল গঠন
চলতি বছরের হজ কার্যক্রম তদারকির জন্য ধর্মবিষয়ক মন্ত্রীর নেতৃত্বে চার সদস্যের পর্যবেক্ষণ দল মনিটরিং টিম গঠন করেছে সরকার।
বুধবার (২৫ মার্চ) এ দল গঠন করে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে আদেশ জারি করা হয়েছে।
দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। অন্য সদস্যরা হলেন— সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ এবং অতিরিক্ত সচিব (হজ অনুবিভাগ) ড. মো. আয়াতুল ইসলাম।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, দলটির তিন সদস্য বিমানের ফ্লাইট প্রাপ্তি সাপেক্ষে আগামী ১৯ মে বা কাছাকাছি সময়ে সৌদি আরব যাবেন। সেখানে দায়িত্ব পালন শেষে ১৬ জুন বা কাছাকাছি সময়ে দেশে ফিরবেন। অন্যদিকে, আয়াতুল ইসলাম অগ্রবর্তী প্রতিনিধি হিসেবে ১৬ এপ্রিল বা কাছাকাছি সময়ে সৌদি আরব যাবেন এবং ৩০ মে বা কাছাকাছি সময়ে দেশে ফিরবেন।
এ সফরে সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ ও অতিরিক্ত সচিব ড. মো. আয়াতুল ইসলামের সঙ্গে তাদের স্ত্রী যথাক্রমে রাজিয়া মোরশেদা ও রোমেনা পারভীন সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন।
সরকারি শর্ত অনুযায়ী, এ সফর সরকারি ভ্রমণ হিসেবে গণ্য হবে এবং সদস্যরা নিজ নিজ কর্মস্থল থেকে বেতন-ভাতা গ্রহণ করবেন। মন্ত্রীর ভ্রমণ ব্যয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট খাত থেকে এবং অন্যান্য সদস্যদের ব্যয় ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত বরাদ্দ থেকে বহন করা হবে।
এছাড়া বিমান টিকিট, ভিসা, বীমা, আবাসন, যাতায়াতসহ অন্যান্য ব্যয় সদস্যদের প্রাপ্য ভাতার মধ্য থেকে সমন্বয় করতে হবে। সফরসঙ্গীদের জন্য জনপ্রতি চার লাখ টাকা প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে যা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে। অতিরিক্ত ব্যয় হলে তা পরবর্তী সময়ে পরিশোধযোগ্য হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে চলতি বছরের হজ ফ্লাইট। এবার বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনা মিলিয়ে ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালন করবেন।
৭০ দিন আগে
হত্যা মামলায় সাবেক ডিজিএফআই প্রধান শেখ মামুনের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে ৭ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চেয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট মো. সিদ্দিক আজাদের আদালতে এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে, বুধবার দিবাগত মধ্যরাতে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকায় নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে মিরপুর-১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর এজাহারভুক্ত আসামিসহ ৫০০ থেকে ৭০০ জন সশস্ত্র ব্যক্তি হামলা চালায়। হামলাকারীরা বিভিন্ন দিক থেকে গুলি ছোড়ে। এতে দেলোয়ার হোসেন গুলিবিদ্ধ হন।
আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে এবং পরে শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ জুলাই সকালে তার মৃত্যু হয়।
এদিকে গোয়েন্দা সূত্র জানায়, শেখ মামুন খালেদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে অনুসন্ধান চলছিল। এর মধ্যে গোয়েন্দা সংস্থাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার অভিযোগ, ২০০৭-০৮ সালের এক–এগারোর সময় তার ভূমিকা এবং জলসিঁড়ি আবাসন–সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয় রয়েছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
এর আগে গত বছরের মে মাসে শেখ মামুন খালেদ ও তার স্ত্রী নিগার সুলতানার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পর আদালত এই আদেশ দেন। দুদক তখন তাদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও সম্পদ–সংক্রান্ত অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করার কথা জানিয়েছিল।
শেখ মামুন খালেদ ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি সংস্থাটির কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (সিআইবি) পরিচালক ছিলেন।
এক–এগারোর সময়ের আরেক আলোচিত ব্যক্তি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকেও গত সোমবার রাতে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে, শেখ মামুন খালেদের বিরুদ্ধে ডিজিএফআইকে রাজনৈতিক কাজে সম্পৃক্ত করা, ‘জঙ্গি নাটক’ তৈরির অভিযোগ, দুর্নীতির মাধ্যমে জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্প থেকে শতকোটি টাকা আত্মসাৎ, কথিত ‘আয়না ঘর’–এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।
৭০ দিন আগে
রাজারবাগ পুলিশ লাইন স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম ভিত্তি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
রাজারবাগ পুলিশ লাইন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ঘোষণার প্রথম ভিত্তি বলে উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদ পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইনেই প্রথম গণহত্যা শুরু হয়েছিল। এখান থেকেই স্বাধীনতার ঘোষণার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়।
তিনি উল্লেখ করেন, সে সময় মেজর জিয়াউর রহমান এ গণহত্যার খবর পেয়েই চট্টগ্রামে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন তিনি। পরবর্তীতে ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে বিশ্বের সমর্থন কামনা করেন। একেই তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার ‘প্রকৃত ইতিহাস’ বলে অভিহিত করেন।
শহিদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাজারবাগ পুলিশ লাইনের পুলিশ বাহিনীর রক্তদানই স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণার সূচনা।
তিনি জানান, সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে আজ তিনিও সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি রাজারবাগে আসেন।
দীর্ঘ কয়েক বছর পর পুনরায় স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজ শুরু হওয়াকে তিনি আনন্দের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, শহিদদের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী দেশে নতুনভাবে গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত থাকবে।
ভারত থেকে ওসমান হাদি হত্যার আসামিদের হস্তান্তরের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠানো হয়েছে। বন্দি বিনিময় চুক্তি অনুযায়ী তাদের বাংলাদেশে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
পুলিশ সংস্কার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ বাহিনীকে আরও সমৃদ্ধ ও আধুনিক করতে বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত রাষ্ট্রের কাছ থেকে কারিগরি সহায়তা, প্রশিক্ষণ এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে গতকাল (বুধবার) এ বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান।
ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ারসহ বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৭০ দিন আগে
৯ মন্ত্রণালয় ও বিভাগে নতুন সচিব
নয় মন্ত্রণালয় ও বিভাগে নতুন সচিব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে পাঁচজন সচিবকে প্রত্যাহার এবং তিনজন সচিবের দপ্তর বদল করা হয়েছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) রাতে এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে আলাদা আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। নতুন নয় সচিবের মধ্যে একজনকে চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এক বছরের চুক্তিতে এস এম এবাদুর রহমানকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। আর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকীকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়াকে পদোন্নতি দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মাওলাকে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের সচিব পদে বদলি করা হয়েছে। আর বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের সচিব সিরাজুন নূর চৌধুরীকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের এসডিএস (সিভিল) ইয়াসমিন পারভীনকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মো. মোখতার আহমদকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. নেয়ামত উল্লাহ ভুইয়াকে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (জ্যেষ্ঠ সচিব) পদে বদলি করা হয়েছে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহা. রায়হান কাওছারকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়েছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফারহিনা আহমেদকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জাকারিয়াকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব করা হয়েছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেককে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব কাজী আনোয়ার হোসেনকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব করা হয়েছে।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ফাহমিদা আখতারকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়েছে। আর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরীন জাহানকে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) পদে বদলি করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. দেলোয়ার হোসেনকে পদোন্নতি দিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়েছে।
এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) জাহেদা পারভীনকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) পদে এখনও কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
৭০ দিন আগে
জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহিদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভোর ৫টা ৫৬ মিনিটে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তারা এ শ্রদ্ধা জানান।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভোর ৫টা ৫৩ মিনিটে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে পৌঁছান। রাষ্ট্রপতি স্মৃতিসৌধে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী তাকে স্বাগত জানান।
পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তারা বীর শহিদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় অভিবাদন জানায় এবং বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এবং তিন বাহিনীর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে পুনরায় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
পরবর্তীতে বিএনপি চেয়ারম্যান হিসেবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলীয় শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানান তারেক রহমান। এরপর তারা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করেন। এছাড়া প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার শান্তি এবং দেশের উত্তরোত্তর কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করে প্রার্থনা করা হয়।
রাষ্ট্রীয় অতিথিতের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বীরশ্রেষ্ঠদের পরিবাবের সদস্যরা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বিদেশি কূটনীতিকরা পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তাদের শ্রদ্ধা জানান।
এর আগে, ভোরে রাজধানীতে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। ভিআইপিদের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষ হওয়ার পর জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
৭১ দিন আগে
যথাযোগ্য মর্যাদায় দেশজুড়ে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন
যথাযোগ্য মর্যাদায় ও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আজ বৃহস্পতিবার মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করছে দেশ। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন ও নানা উৎসবমুখর আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে।
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরোচিত হামলার পর ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু হয়। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ৩০ লাখ শহিদের সর্বোচ্চ ত্যাগ এবং ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর অর্জিত হয় কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা।
আজ সরকারি ছুটির দিন। দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার।
ভোরে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হয়। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উপলক্ষে সকাল ৯টায় জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে কুচকাওয়াজ ও ফ্লাইপাস্ট অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে, ভোরে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর নেতৃত্বে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সদস্যরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরবর্তীতে বিদেশি কূটনীতিক, রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে।
দিবসটি উপলক্ষে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। সকল বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় আয়োজিত হচ্ছে ছাত্র সমাবেশ ও কুচকাওয়াজ।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অসামান্য আত্মত্যাগ আমাদের একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার পথে দৃপ্ত পদভারে এগিয়ে চলার সাহস জোগায়। স্বাধীনতার লক্ষ্য ছিল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, শোষণমুক্ত সমাজ ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং সর্বস্তরের জনগণের ক্ষমতায়নকে সুসংহত করা। রাষ্ট্র ও সমাজের সব ক্ষেত্রে সাম্য, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে স্বাধীনতার অপূর্ণ স্বপ্নগুলো পূরণ করতে হবে। নতুন প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সুখী-সমৃদ্ধ মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা আমাদের পবিত্র কর্তব্য।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে বলেন, ২৬ মার্চ আমাদের জাতীয় জীবনের এক গৌরবময় ও ঐতিহাসিক দিন। এই দিনে আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি জাতির শ্রেষ্ঠ সূর্যসন্তানদের, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। একইসঙ্গে আমি মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা, নির্যাতিতা মা, বোন ও স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মনিবেদিত সবাইকে গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি এবং সব শহিদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।
তিনি বলেন, মহান স্বাধীনতা দিবস আমাদের জীবনে সাহস, আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের চেতনাকে নতুন করে উজ্জীবিত করে। স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির অগ্রগতি ও উন্নয়নের ধারাকে আরও বেগবান করতে জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক সহনশীলতা এবং দেশপ্রেমের চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। আসুন, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের তাৎপর্য থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করি। একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও মর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা সম্মিলিতভাবে কাজ করি।
এছাড়া গতকাল (বুধবার) দিবসটি উপলক্ষে একটি স্মারক ডাকটিকিটও উন্মোচন করেন তিনি।
দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ বেতার, বিটিভি ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করছে এবং সংবাদপত্রগুলো প্রকাশ করেছে বিশেষ ক্রোড়পত্র। দেশের প্রধান বন্দর ও নদী বন্দরগুলোতে নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের জাহাজগুলো সূর্যাস্ত পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ফুটবল, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট, কাবাডি ও হা-ডু-ডু প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। সারাদেশের সিনেমা হলগুলোতে বিনামূল্যে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হচ্ছে এবং জাদুঘর ও শিশু পার্কগুলো বিনা টিকিটে দর্শনার্থীদের জন্য খোলা রাখা হয়েছে।
শহিদদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশের সমৃদ্ধি কামনা করে মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডাসহ সকল উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা করা হচ্ছে। এছাড়া হাসপাতাল, কারাগার, এতিমখানা ও বৃদ্ধাশ্রমগুলোতে পরিবেশন করা হচ্ছে উন্নত মানের খাবার।
চলমান বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ বছর স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে কোনো আলোকসজ্জা করা হয়নি। গত ৮ মার্চ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাশ্রয়ী নীতি অনুসরণের লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন।
৭১ দিন আগে
জ্বালানি তেল মজুদ করে লাভ নেই, দাম বাড়বে না: ডা. জাহেদ
জ্বালানি তেলের দাম না বাড়ার বিষয়টি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ফলে পেট্রোল পাম্পের মালিকসহ কেউ তেল মজুদ করে লাভবান হতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি) ডা. জাহেদ উর রহমান।
বুধবার (২৫ মার্চ) সচিবালয়ে সরকারের এক মাস পূর্তি উপলক্ষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা উপস্থিত ছিলেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, আমি পাম্প মালিকদের উদ্দেশে বলতে চাই, মজুদ করার যদি প্রবণতা কারও থাকে, তারা মনে করছেন যে যেকোনো মুহূর্তে দাম বেড়ে যাবে। কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন—জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে না। সুতরাং এই মজুদ করে রাখার প্রবণতা তাদের জন্য লাভজনক হবে না।
তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। আমাদের দুর্ভাগ্য যে অল্প সময়ের মধ্যে আমরা একটি বৈশ্বিক সংকটে পড়েছি, এমনকি ধনী দেশগুলোও এই চাপের মধ্যে রয়েছে।
আতঙ্কে বেশি করে জ্বালানি কেনা ও মজুদের প্রবণতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘এখন সবার দায়িত্ব মানুষকে বোঝানো—প্যানিক বায়িং বা আতঙ্কে অতিরিক্ত কেনাকাটা যেন না করা হয়। পাম্প পর্যায়ে কেউ কেউ মজুদ করার চেষ্টা করছেন, সরকার সেগুলো নজরে রাখছে।
জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করেন। বলেন, যদি একদিন সকালে সবাই ব্যাংকে গিয়ে একসঙ্গে সব টাকা তুলতে চান, তাহলে ব্যাংক ধসে পড়বে। কারণ ব্যাংক ধরে নেয়, সবাই একসঙ্গে টাকা তুলবে না। একইভাবে জ্বালানির ক্ষেত্রেও সরকার নির্দিষ্ট পরিমাণ মজুদ ও সরবরাহ চেইন বজায় রাখে।
তিনি আরও বলেন, প্যানিক বায়িংয়ের বিষয়টি বাস্তব। আমরা যুদ্ধের খবর শুনছি, পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই অনেকেই শুধু ট্যাঙ্ক ফুল করছেন না, অতিরিক্ত মজুদ করার চেষ্টাও করছেন।
ঈদের আগে জ্বালানি সরবরাহ দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, যে পরিমাণ তেল কয়েক দিন চলার কথা ছিল, তা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। এটা মূলত সরকারের অব্যবস্থাপনা নয়, বরং মানুষের ভীতি ও অসচেতনতার ফল।
তবে এই আতঙ্ককে অস্বীকার না করে তিনি বলেন, বিশেষ করে বাইক রাইডারদের মতো যাদের জীবিকা জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল, তাদের উদ্বেগটা বাস্তব। কিন্তু সবাই মিলে সচেতন না হলে এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার চাইলে অভ্যন্তরীণভাবে জ্বালানির দাম বাড়াতে পারত। আমরা এখন বেশি দামে জ্বালানি কিনছি। নতুন যে সরবরাহ আসবে, তার মূল্য আরও বেশি হবে। কিন্তু দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক চাপের কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। এই অবস্থায় জ্বালানির দাম বাড়ালে মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে যেত।
তিনি আরও বলেন, সেই কারণে সরকার এখনো দাম বাড়ানোর পথে যায়নি। আমরা মনে করি, এই পরিস্থিতিতে মানুষকে আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
৭১ দিন আগে
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে দ্রুত নির্বাচন হবে: প্রতিমন্ত্রী
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, উপজেলা ও পৌরসভায় প্রশাসক নিয়োগের কোনো সিদ্ধান্ত এখনও সরকার নেয়নি। বর্তমানে স্থানীয় সরকারের যেসব প্রতিষ্ঠানে এডিসি, ইউএনওরা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, সেখানে দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করা হবে। সেই নির্বাচনে জনগণের ভোটে যারা নির্বাচিত হবে তারাই প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিনিধিত্ব করবেন।
বুধবার (২৫ মার্চ) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে সদর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নে নির্মানাধীন একটি সেতুর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই সেতুটির অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করে এটিকে জনসাধারণের চলাচলের উপযোগী করা হবে। এটি প্রধানন্ত্রীর নজরে আসার পর আমাকে সরেজমিনে পরিদর্শনের নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে জনগণের চলাচল-উপযোগী করতে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সেই লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে আহ্বায়ক করে ৭ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে।
এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রশাসক হারুনুর রশীদ, সাবেক এমপি আমিনুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মুসাসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৭১ দিন আগে