বাংলাদেশ
নেতাকর্মীদের অবৈধ সুবিধা দিলেই পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
রাজনৈতিক দলের কোনো নেতাকর্মীদের অবৈধ সুবিধা দিলেই পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কোর কমিটির সভাশেষে এসব কথা বলেন তিনি।
নির্বাচনে পুলিশ কোনো দলকে বিশেষ সুবিধা দিলে তাদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে— এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচনের সময় ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটি করেছি আমরা। কারো কোনোরকম নেগলিজেন্স থাকলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। আগে যেমন জিডি করে রাখা হতো শুধু কিন্তু এবার সঙ্গে সঙ্গে আইনের আওতায় আনা হবে।’
পুলিশের প্রতি কি নির্দেশনা থাকবে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘পুলিশের প্রতি আমার নির্দেশনা হচ্ছে নির্বাচন হতে হবে, ফ্রি ফেয়ার, ক্রেডিবল এবং উৎসবমুখর। পুলিশের কেউ এসবের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।’
১২২ দিন আগে
৪৮ হাজার পুলিশ সদস্যের নির্বাচনি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে এ পর্যন্ত ৪৮ হাজার পুলিশ সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়া শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স|পুলিশ সদস্যদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য এ নির্বাচনি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়।
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পুলিশের ৪৮ হাজার ১৩৪ জন সদস্য এ পর্যন্ত নির্বাচনী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। এর আগে ৩১ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ প্রশিক্ষণের ওপর ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স কোর্স অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স জানিয়েছে, পুলিশের প্রায় দেড় লাখ সদস্য আগামী সংসদ নির্বাচনে মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের প্রত্যেকের কর্মকাণ্ড জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিরীক্ষিত হবে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রত্যেক পুলিশ সদস্যকে দক্ষ ও সুশৃঙ্খল হিসেবে গড়ে তোলাই নির্বাচনী প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য।
ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি), বাংলাদেশ পুলিশের চলমান নির্বাচনী প্রশিক্ষণ নিবিড় তদারকির মাধ্যমে পরিচালনার জন্য পুলিশের সকল ইউনিট প্রধানকে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম যথাযথভাবে মনিটর করা হচ্ছে।
আইজিপি মাঠ পর্যায়ে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শনের জন্য রোববার রাজশাহী ও বগুড়া সফর করেছেন। তিনি নির্বাচনী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রশিক্ষণার্থী পুলিশ সদস্যদের সাথে মতবিনিময় করেন এবং প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করেন।
পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স আরও জানিয়েছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ পুলিশ সকল ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
প্রসঙ্গত, গত ৭ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে এ নির্বাচনী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
চলমান নির্বাচনী প্রশিক্ষণ আগামী মধ্য জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে পুলিশ সদস্যদের এ ধরনের প্রশিক্ষণ আয়োজন এবারই প্রথম।
১২৩ দিন আগে
আরপিও সংশোধন: জোটেও নিজ দলের প্রতীকে ভোট করতে হবে
জোট করলেও নির্বাচনে নিজ দলের প্রতীকে ভোট করার বিধান রেখেই গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার।
সোমবার (৩ নভেম্বর) এ অধ্যাদেশ জারি করেছে আইন মন্ত্রণালয় ।
এর আগে, গত ২৩ অক্টোবর উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আরপিও সংশোধন অধ্যাদেশের খসড়ার নীতিগত অনুমোদন করা হয়।
এরপর জোটের প্রতীকের সংশ্লিষ্ট ২০ অনুচ্ছেদে সংশোধন নিয়ে বিএনপি আপত্তি তুললেও জামায়াত ও এনসিপি সংশোধন বহাল রাখার দাবি তোলে।
শেষ পর্যন্ত ওই বিধান রেখেই অধ্যাদেশ জারি করা হলো। এর মাধ্যমে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে একাধিক নিবন্ধিত দল জোট করলেও জোট মনোনীত প্রার্থী বড় দলের বা অন্য দলের প্রতীকে ভোট দিতে পারবে না, নিজ দলের প্রতীকে ভোট দিতে হবে।
সংশোধিত আরপিও অধ্যাদেশে এ বিষয়ে বলা হয়েছে, যদি দুই বা ততোধিক নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল যৌথভাবে কোনো প্রার্থী মনোনয়ন দিতে সম্মত হয়, তবে কমিশন উক্ত প্রার্থীর দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে তার রাজনৈতিক দলের জন্য সংরক্ষিত প্রতীক বরাদ্দ দিতে পারবে।
১২৩ দিন আগে
প্রাথমিকের ‘সংগীত’ ও ‘শারীরিক শিক্ষা’ শিক্ষক পদ বাতিল
বিতর্কের মুখে অবশেষে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সংগীত শিক্ষক’ পদ বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাতিল করা হয়েছে ‘শারীরিক শিক্ষা’ বিষয়ের সহকারী শিক্ষক পদও।
‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫’ সংশোধন করে এ দুটি শিক্ষক পদ বাদ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২ নভেম্বর) বিধিমালা সংশোধন করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
গত ২৮ আগস্ট প্রকাশিত বিধিমালার তফসিল-১ এ ‘প্রধান শিক্ষক’, ‘সহকারী শিক্ষক’, ‘সহকারী শিক্ষক (সংগীত)’ ও ‘সহকারী শিক্ষক (শারীরিক শিক্ষা)’ বিষয়ে নিয়োগের নিয়ম ও যোগ্যতার বর্ণনা ছিল। সংশোধিত বিধিমালায় তফসিল-১-এ শুধু ‘প্রধান শিক্ষক’ এবং ‘সহকারী শিক্ষক’ পদে নিয়োগের নিয়ম ও যোগ্যতা রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, ‘সহকারী শিক্ষক (সংগীত)’ ও ‘সহকারী শিক্ষক (শারীরিক শিক্ষা)’ পদে নিয়োগের নিয়ম ও যোগ্যতার অংশটুকু বাদ দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, তফসিল-১-এ থাকা সহকারী শিক্ষক (সংগীত) ও সহকারী শিক্ষক (শারীরিক শিক্ষা) পদ দুটি এবারই নতুনভাবে চালু করা হয়েছিল। এ নিয়ে একটি পক্ষ বিরোধিতা করায় অন্তর্বর্তী সরকার পদ দুটি বাতিল করেছে।
১২৩ দিন আগে
জুলাই সনদ ও গণভোট প্রশ্নে এক সপ্তাহের মধ্যে ঐকমত্যে পৌঁছানোর আহ্বান সরকারের
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও প্রস্তাবিত গণভোটের মতো বিতর্কিত ইস্যুগুলো নিয়ে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে ঐকমত্যে পৌঁছাতে রাজনৈতিক দলগুলোকে আহ্বান জানিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তবে দলগুলো ঐকমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে সরকার নিজ সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
সোমবার (৩ নভেম্বর) উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
আইন উপদেষ্টা জানান, গণভোট সংক্রান্ত বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত জমা দিতে বলা হয়েছে।
ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘সরকার আর কোনো আলোচনার আয়োজন করবে না। গত ১৫ বছরে ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো নিজের উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। তারা অত্যন্ত প্রতিকূল সময়ে একসঙ্গে আন্দোলন করেছে, একসঙ্গে নির্যাতনের শিকার হয়েছে। আশা করি তারা স্ব-উদ্যোগে আমাদের একটি ঐক্যবদ্ধ নির্দেশনা দেবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গণভোটের সময়সূচি ও বিষয়বস্তু নির্ধারণের জন্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আর কোনো সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই। তাই দলগুলোকে স্ব-উদ্যোগে আলোচনায় বসার আহ্বান জানানো হয়েছে। যদি তারা ঐক্যবদ্ধ নির্দেশনা দিতে ব্যর্থ হয়, সরকার তার মতো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।’
১২৩ দিন আগে
সাবেক মুখ্যসচিব কামাল সিদ্দিকী মারা গেছেন
সাবেক মুখ্যসচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী মারা গেছেন। সোমবার (৩ নভেম্বর) ভোরে গুলশানে নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
এক সরকারি তথ্য বিবরণীতে এই কথা জানানো হয়েছে।
সোমবার আসর নামাজের পর গুলশান আজাদ মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হবে।
কামাল সিদ্দিকী ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুখ্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
১২৪ দিন আগে
বিশেষ বিধানে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিতে সীমাহীন দুর্নীতি পেয়েছে জাতীয় কমিটি
বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইনের অধীনে বিদ্যুৎ কেনার চুক্তিতে সীমাহীন দুর্নীতি ও জালিয়াতি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে এ বিষয়ে গঠিত জাতীয় কমিটি।
রোববার (২ নভেম্বর) সচিবালয়ে বিশেষ বিধান আইনের অধীনে সম্পাদিত চুক্তি পর্যালোচনায় গঠিত জাতীয় কমিটি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের কাছে অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন।
প্রতিবেদন হস্তান্তরের পর জাতীয় কমিটির প্রধান হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা পর্যালোচনায় বিদ্যুৎ কেনার চুক্তিতে সীমাহীন দুর্নীতি, যোগসাজশ, জালিয়াতি, অনিয়ম পেলাম। ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারদের সঙ্গে চুক্তির প্রক্রিয়ার মধ্যে আমরা এগুলো পেয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন। আগামী বছরের জানুয়ারির মাঝামাঝি সময় আমরা আমাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেব।’
কমিটির প্রধান বলেন, ‘আপনারা জানেন, বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি পর্যালোচনা করা খুবই জটিল ও কষ্টকর কাজ। এজন্য প্রতিবেদন দিতে বেশি সময় লেগেছে। কারণ বিষয়টি তো টেকনিক্যাল—এটি বুঝতে হবে।’
মঈনুল ইসলাম চৌধুরী আরও বলেন, ‘বিস্তারিত প্রতিবেদনে রয়েছে। আমরা লিখে দিয়েছি, এটি গোপনীয়। উপদেষ্টা মহোদয় যদি এটি প্রকাশ করে আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করেন, তাহলে আপনারা বিস্তারিত বুঝতে পারবেন, জানতে পারবেন।’
কমিটির সদস্য ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন-এর ফ্যাকাল্টি অব ল অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সের অধ্যাপক (অর্থনীতি) মোশতাক হোসেন খান বলেছেন, ‘যে চুক্তিগুলো হয়েছে সেগুলো সার্বভৌম চুক্তি। একটি রাষ্ট্রের সঙ্গে একটি কোম্পানির চুক্তি সই হয়েছে। সার্বভৌম চুক্তি আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত। যদি মনে হয় এখানে কোনো কারচুপি হয়েছে, আপনি ইচ্ছামত এটাকে বাতিল করতে পারবেন না। এটা বাতিল করলে আন্তর্জাতিক আদালত থেকে আপনার ওপরে অনেক বড় জরিমানা আসবে। এজন্য আমাদের অনেক সময় লেগেছে যাতে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখা যায় প্রক্রিয়াগুলো কী ছিল, সেখানে কোথায় ব্যতিক্রম হয়েছে। আমরা যে বিষয়গুলো পেয়েছি, এর সব কিছু অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদনে নেই। কারণ কিছু কিছু জিনিস চলমান, সেজন্য আমরা সেগুলোকে প্রকাশ করিনি।’
তিনি বলেন, ‘আপনারা আগামী মাস খানেকের মধ্যে আরও অনেক দুর্নীতির তথ্য পাবেন। এখানে ব্যাপক দুর্নীতি; এই দুর্নীতিকে আমাদের রোধ করতেই হবে। এটাকে মেনে নেওয়া বা সহ্য করা সম্ভব নয়।’
‘ইতোমধ্যে আমাদের দেশে বিদ্যুতের দাম আমাদের প্রতিযোগীদের চেয়ে ২৫ শতাংশ বেশি হয়ে গেছে এই দুর্নীতির কারণে। সাবসিডিগুলো সরিয়ে দিলে এটা ৪০ শতাংশ হয়ে যাবে। আমাদের হিসেবে বিদ্যুতের এই দামে বাংলাদেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো টিকতে পারবে না। তাই আমাদের এটাকে শুধরাতেই হবে। এটা যাতে না হয়, আমাদের সেটা নিশ্চিত করতে হবে।’
মোশতাক হোসেন খান আরও বলেন, ‘আমাদের প্রতিবেদনে আছে—কোথায় কোথায় ভুলগুলো করা হয়েছে যেখানে ইন্টারভেনশন (হস্তক্ষেপ) করা হয়েছে, ওপর থেকে হুকুম এসেছে। প্রশাসন যে সবসময় নির্দোষ ছিল তাও না; সেটারও প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর মাশুলটা দিচ্ছে সাধারণ ভোক্তা, ক্রেতা ও করদাতারা। আমাদের ওপরে চাপিয়ে দিয়ে তারা চলে গেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই যে বিশাল অংকের ঋণ ও বেশি দামের বিদ্যুৎ, এটা আমরা দেব। যারা এখান থেকে টাকা নিয়ে চলে গেছে, তাদের বুঝাতে হবে, আপনারা এটা থেকে পার পাবেন না। আমরা প্রমাণ সংগ্রহ করছি; অ্যাকশন (ব্যবস্থা) নেওয়া হবে ভবিষ্যতে যাতে এটা আর না হয়। এটা অনেক কঠিন কাজ। সবাইকে একটু ধৈর্য ধারণ করতে হবে, কারণ এটা তাড়াতাড়ি করার কাজ নয়। তাড়াতাড়ি করলে ভুল হবে, আমরা সফল হব না। এজন্য আমাদের একটু দেরি হচ্ছে।’
বিদ্যুৎ চুক্তির অনিয়ম নিয়ে দ্বিতীয় আরেকটি রিট পিটিশন হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রথম রিট পিটিশন করেছিলেন শাহদীন মালিক। দ্বিতীয় রিট পিটিশনের বিষয়ে পত্রিকায় সেভাবে আসেনি; সেটা আসা উচিতও নয়।
‘পত্রিকায় খবর এসেছে যে আদানির চুক্তির সঙ্গে অনেক দুর্নীতি ছিল। এই দুর্নীতি সম্পর্কে কেন কিছু করা হচ্ছে না? মাননীয় আদালত একটা রুলিং দিয়েছে—৬০ দিনের মধ্যে দুদকসহ যাদের নাম রিট পিটিশনে আছে, তাদের একটা তদন্ত করে আদালতে রিপোর্ট দিতে হবে। আমরা সেই কাজেও সহায়তা করছি। আমাদের বিশ্বাস, আপনারা মাসখানেকের মধ্যে শক্ত প্রমাণ পাবেন এই দুর্নীতির।’
‘সেটা যখন হবে, তখন আদানি এবং আদানির সঙ্গে আরও কয়েকটি বড় বড় কোম্পানি দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত—তাদের বিরুদ্ধে দেশে-বিদেশে আইনি প্রক্রিয়া চালু করা হবে’, বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কমিটির আরেক সদস্য বিশ্ব ব্যাংকের সাবেক লিড ইকোনোমিস্ট ও অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বিদ্যুৎ কেনার জন্য যে চুক্তিগুলো ছিল, সেগুলো আমরা পড়েছি এবং এর পেছনে যে চিঠি আদান-প্রদান হয়েছে, একটি চুক্তি করার ক্ষেত্রে যাদের মতামত নিতে হয়, সেই নথিগুলো আমরা দেখেছি। প্রত্যেকটির ক্ষেত্রে নয়, বড় বড় কেসগুলোর ক্ষেত্রে।’
তিনি বলেন, ‘২০০৮-২০০৯ থেকে ২০২৪ অর্থবছর পর্যন্ত তথ্য-উপাত্ত আমাদের সঙ্গে শেয়ার করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। সেগুলো আমরা রিপোর্টে বিশ্লেষণ করে দেখেছি; এই ডেটা থেকে কী ধরনের অনিয়ম চোখে পড়ে।’
২০১১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত বিদ্যুতের উৎপাদন চার গুণ বেড়েছে জানিয়ে জাহিদ হোসেন বলেন, ‘কিন্তু অর্থ পরিশোধ বেড়েছে ১১ দশমিক ১ গুণ। এটি কোনো টেকনিক্যাল ফ্যাক্ট দিয়ে এক্সপ্লেইন (ব্যাখ্যা) করা সম্ভব নয়।’
এই অর্থনীতিবিদ আরও বলেন, ‘আমরা ২০১১ সালে বিদ্যুতের জন্য ৬৩৮ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছিলাম, সেটা ২০২৪-এ এসে বেড়ে ৭ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। কাদের টাকা পরিশোধ করেছে, এর বিপরীতে কি পরিমাণ বিদ্যুৎ পাচ্ছি—সেই হিসাব মেলানো যায় না। সেটাই আমাদের মূল ফাইন্ডিং (অনুসন্ধানের মূল ফলাফল)। বিশেষ বিধান আইনের মেয়াদ বারবার বাড়ানো হলো, আর বারবারই দায়মুক্তির পথ খুলে গেল।
‘এ ছাড়া আছে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূতকরণ। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় সব সময় প্রধানমন্ত্রীর অধীনে ছিল। প্রধানমন্ত্রীর অফিস এবং অন্যান্য মিলে ওখানেও একটা সমস্যা আছে। এটা একদম চোখে পড়ে।’
তিনি বলেন, ‘যোগসাজশ শুধু সরকারের মধ্যে হয়েছে তা নয়; আমলা, সরকারি উচ্চ পদে, রাজনীতিবিদ যারা ছিলেন—সব মিলিয়ে যোগসাজশের মাধ্যমে হিসাবের গরমিলটা হয়েছে।
জাহিদ হোসেন, ‘আমরা যে সুপারিশ করেছি, তার মধ্যে একটি বিষয় হলো, ভবিষ্যতে রক্ষা করা। যাতে এ ধরনের চুক্তি আর না হতে পারে, সেজন্য একটা স্বাধীন সংস্থা থাকার কথা আমরা বলেছি।’
এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদানির চুক্তি সরকার বাতিল করতে যাচ্ছে কিনা—জানতে চাইলে উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘মুখের কথায় বললেই চুক্তি বাতিল করা যাবে না। কারণ এটা আদালতের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দিতে হবে। কোনো কারণ ছাড়া চুক্তি বাতিল করলে বড় ধরনের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘চুক্তি বাতিল করার শর্ত চুক্তির মধ্যেই থাকে। আমরা জাতীয় কমিটির সঙ্গে কাজ করছি। চুক্তি অনুযায়ী যদি বাতিল করার কোনো কারণ থাকে, তবে আমরা এটি বাতিল করতে দ্বিধা করব না। তবে শুধু দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতে কিছু করা যাবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা হঠাৎ করে চুক্তি বাতিল করে সরকারকে আরও বড় একটা দায়ের মধ্যে ফেলতে চাই না।’
১২৪ দিন আগে
দেশে ভোটার বেড়ে হয়েছে ১২ কোটি ৭৬ লাখ ১২ হাজার ৩৮৪ জন
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃতীয় ধাপের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৭৬ লাখ ১২ হাজার ৩৮৪ জন।
রোববার (২ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘দেশে এখন ভোটার ১২ কোটি ৭৬ লাখ ১২ হাজার ৩৮৪ জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৭ লাখ ৬০ হাজার ৩৮২ আর মহিলা ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৫০ হাজার ৭২ জন। আর তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩০।’
ইসি সচিব বলেন, ‘গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত দুই মাসে নতুনভাবে ভোটার বেড়েছে ১৩ লাখ ৪ হাজার ৮৮০ জন। বর্তমানে দেশে পুরুষ ভোটার নারীর তুলনায় ১৯ লাখ ৯ হাজার ৬১০ জন বেশি।’
যারা ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ১৮ বছর পূর্ণ করেছেন এবং নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন, তাদের সবাইকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, আগামী ১৮ নভেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। এই তালিকায় কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। তবে ১৭ নভেম্বরের মধ্যে দাবি ও আপত্তি জানানো যাবে।
এর আগে, গত ৩১ আগস্ট প্রকাশিত সম্পূরক ভোটার তালিকায় দেশে মোট ভোটার ছিল ১২ কোটি ৬৩ লাখ ৭ হাজার ৫০৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪১ লাখ ৪৫৫ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২২ লাখ ৫ হাজার ৮১৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ছিলেন ১ হাজার ২৩০ জন। ওই সময় ১ লাখ ৩৭ হাজার ৬৪২ জন নতুন ভোটার যুক্ত হয়। এর মধ্যে পুরুষ ৯৪ হাজার ১৯২ জন, নারী ৪৩ হাজার ৪৪৪ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৬ জন।
১২৪ দিন আগে
বরিশালে অপসোনিন শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ
পাঁচ শতাধিক শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে বরিশালে পঞ্চম দিনের মতো বিক্ষোভ সমাবেশ ও সড়ক অবরোধ করেছেন অপসোনিন কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের শ্রমিকরা।
রবিবার (২ নভেম্বর) সকাল থেকে কারখানার সামনের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে অংশ নেন তারা। এ সময় চাকরি ফেরত দেওয়ার দাবি জানান শ্রমিকরা। তাদের আন্দোলনে সংহতি জানায় বরিশালের অন্যান্য কলকারখানার শ্রমিকরাও।
প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্টেরিপ্যাক বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ হওয়ায় ওই শ্রমিকদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
তবে ভুক্তভোগী শ্রমিকদের অভিযোগ—তাদের প্রত্যেকের বেতন ১২ থেকে ১৬ হাজার টাকা ছিল। তাদের বরখাস্ত করে কম বেতনে নতুন কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করছে কর্তৃপক্ষ।
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বলেন, প্রথমে আমাদের তিন দিনের ছুটি দেওয়া হয়। পরে ডাকযোগে চাকরিচ্যুতির নোটিশ পাই। চাকরি হারিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি। চাকরি না পেলে পথে বসতে হবে।
শ্রমিকদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বাসদ বরিশাল জেলা সমন্বয়কারী ডা. মনিষা চক্রবর্তী বলেন, অমানবিকভাবে এখানকার ৫০০ শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। হঠাৎ কাজ হারিয়ে তারা চরম বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে। তাই তাদের অধিকার আদায়ে বরিশালের সব শ্রমিক এখন ঐক্যবদ্ধ।
১২৪ দিন আগে
আগামী বছর বিশ্ব ইজতেমা জাতীয় নির্বাচনের পর: ধর্ম উপদেষ্টা
তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে জাতীয় নির্বাচনের পর বিশ্ব ইজতেমা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।
রবিবার (২ নভেম্বর) সচিবালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান তিনি।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, শিল্প এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি।
ইজতেমার তারিখ পরবর্তী সময়ে দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করা হবে বলেও জানান ধর্ম উপদেষ্টা।
ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, 'আমরা দুই গ্রুপকে নিয়ে আসন্ন ইজতেমার বিষয়ে আলোচনা করেছি। খুবই পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা হয়েছে। যেহেতু সামনে নির্বাচন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নির্বাচন নিয়ে এখন ব্যস্ত, নির্বাচনের আমেজ শুরু হয়েছে। ইজতেমা করতে গেলে অনেক মানুষের সমাগম, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জড়িত থাকার বিষয় আছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ইজতেমা হবে ইলেকশনের পর। নির্বাচনের পর ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে।'
খালিদ হোসেন বলেন, 'ইজতেমা যে নির্বাচনের পরে হবে, সেই বিষয়ে উভয়পক্ষ তিন উপদেষ্টার সামনে আমাদের কাছে সম্মতি দিয়েছেন।'
তিনি আরও বলেন, 'নির্বাচন যদি ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৫ দিনের মধ্যে হয়, এরপর রমজানে তো আর হচ্ছে না, হয়তো রমজানের পর (ইজতেমা) হবে।'
দুই পক্ষ আলাদাভাবে ইজতেমা করবে কিনা জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, 'পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গেছে যে ইজতেমা একসঙ্গে হওয়ার সুযোগ নেই। পরিস্থিতি এমন দিকে গড়িয়েছে যে আলাদা আলাদাভাবেই হবে।'
নির্বাচন যদি পিছিয়ে যায় তবে ইজতেমা কবে হবে- এ বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, 'নির্বাচন তো আপাতত পেছানোর কোনো লক্ষণ নেই। নির্বাচন তো ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৫ দিনের মধ্যে করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এভাবেই কাজ করে যাচ্ছে। নির্বাচন পেছানোর এই মুহূর্তে কোনো পরিকল্পনা নেই। যদি এরকম কোনো পরিস্থিতি দেখা দেয়, তবে আমরা আবার বসবো, কথা বলব কি করা যায় তখন। নির্বাচন সঠিক সময়ে হবে, এভাবেই আমরা এগোচ্ছি।'
ইজতেমা পেছানোর বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, 'নির্বাচনের আগে এত বড় একটা সমাবেশ, যেখানে বিদেশি মেহমানরাও থাকেন। এই ঝুঁকিটা সরকারের জন্য নেওয়া উচিত হবে না মনে করে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওনারাও সেটা বুঝতে পেরেছেন।'
বৈঠকে মাওলানা সাদ কান্ধলভী পন্থী মাওলানা সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম ও জুবায়ের পন্থী মাওলানা মাহফুজুল হক, জুনায়েদ আল হাবিব সহ অন্যান্য মুরব্বীরাও উপস্থিত ছিলেন।
১২৪ দিন আগে