রাজনীতি
যুবদল নেতা নয়নের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়নের বিরোদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
গত বুধবার (৮ এপ্রিল) রাজধানীর বেইলী রোডে ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের সহসভাপতি বায়েজিদ হোসাইনের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন এ বিক্ষোভে অংশ নেন।
এ সময় রবিউল ইসলাম নয়নকে কটাক্ষ করে ‘নয়নের চামড়া, তুলে নেব আমরা’ স্লোগান দেন তারা।
১০ ঘণ্টা আগে
স্থায়ী আইনে রূপ নিল ৯১ অধ্যাদেশ, আজই পাস হলো ২৪টি
জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা মোট ৯১টি অধ্যাদেশকে স্থায়ী আইনে পরিণত করতে বিল পাস হয়েছে। এর মধ্যে আজকের অধিবেশনে ২৪টি বিল পাস হয়।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল, ২০২৬’, ‘সাইবার নিরাপত্তা বিল, ২০২৬’, ‘জুলাই অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’ এবং ‘জুলাই অভ্যুত্থানের শহিদ পরিবার ও যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন বিল, ২০২৬’সহ মোট ২৪টি বিল পাস হয়।
এর আগে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে স্থায়ী আইনে রূপ দিতে ৬৭টি বিল পাস করা হয়েছিল। যার মধ্যে ৫ এপ্রিল ২টি, ৬ এপ্রিল ৭টি, ৭ এপ্রিল ১৪টি, ৮ এপ্রিল ১৩টি এবং ৯ এপ্রিল ৩১টি বিল পাস হয়।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে সংসদীয় বিশেষ কমিটি ৯৮টি বিলকে তাদের মূল আকারে এবং ১৫টি বিল সংশোধিত আকারে অনুমোদনের সুপারিশ করেছিল। এই ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনার জন্য গঠিত বিশেষ কমিটি গত ২ এপ্রিল সংসদে তাদের প্রতিবেদন পেশ করে।
বাকি ২০টি অধ্যাদেশের মধ্যে বিশেষ কমিটি ৪টি অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করে এবং ১৬টি নতুন বিল শক্তিশালী আকারে পুনরায় ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব দেয়। তবে শেষ পর্যন্ত সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে মোট ৯১টি বিল সংসদে পাস করে অধ্যাদেশগুলোকে স্থায়ী আইনে পরিণত করা হয়।
আজ (শুক্রবার) পাস হওয়া ২৪টি বিলের মধ্যে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল, ২০২৬’সহ কয়েকটি বাদে বাকি সবগুলোই সর্বসম্মতভাবে পাস হয়। কারণ এসব বিলের ধারার ওপর কোনো সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় সংসদে কোনো আলোচনার প্রয়োজন পড়েনি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা বিলগুলো উত্থাপন করেন এবং পরে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
পাস হওয়া ২৪টি বিলের মধ্যে রয়েছে— নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি (সংশোধন) বিল, জুলাই অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন বিল এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিল।
অন্যান্য বিলের মধ্যে রয়েছে— আমানত সুরক্ষা বিল, আবগারি ও লবণ বিল, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) বিল, বাংলাদেশ ব্যাংক (সংশোধন) বিল, গ্রামীণ ব্যাংক (সংশোধন) বিল, ব্যাংক রেজল্যুশন বিল, অর্থ (অর্থবছর ২০২৫-২৬) বিল, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি বিল, বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত কতিপয় আইন (সংশোধন) বিল এবং জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা বিল।
বাকি বিলগুলো হলো— সাইবার নিরাপত্তা বিল, মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিল, জুলাই অভ্যুত্থানের শহিদ পরিবার ও যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন বিল এবং ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) বিল, ২০২৬।
১১ ঘণ্টা আগে
শেরপুর ও বগুড়া নির্বাচনে ‘ভোট ডাকাতির’ অভিযোগে রাজধানীতে জামায়াতের বিক্ষোভ
শেরপুর-৩ আসনে জাতীয় নির্বাচন ও বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে অনিয়ম ও ভোট ডাকাতির অভিযোগে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে এ প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
ঢাকা মহানগর জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এ কর্মসূচিতে দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপির আমলের প্রথম নির্বাচনে নজিরবিহীন ভোট ডাকাতি, কেন্দ্র দখল, জাল ভোট ও প্রতিপক্ষের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা আওয়ামী লীগকেও হার মানিয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, শেরপুর ও বগুড়ার উপনির্বাচনে কেন্দ্র দখল, জাল ভোট ও জামায়াত নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলেও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে দাবি করে জাতির সঙ্গে তামাশা করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি এ নির্বাচনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনের ফলাফল বাতিলের দাবি জানান।
গণভোট প্রসঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি বলেছে, গণভোট জয়যুক্ত হলে তারা অক্ষরে অক্ষরে মানবে। কিন্তু সরকার গঠন করে তারা গণভোটের আদেশ বাতিল করছে। বিএনপির এই দ্বিচারিতা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা এবং শহিদদের রক্তের সঙ্গেও চরম বেইমানি।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রীসহ সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা যদি গণভোটে ৭০ শতাংশ জনগণের রায় মেনে নিতে না পারেন, তবে তাদের সংসদে দাঁড়িয়ে বলতে হবে, তারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়নি। তারা যদি গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিয়ে থাকেন, তবে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে তারা সংসদ সদস্য হিসেবে যেভাবে শপথ নিয়েছেন, একইভাবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ করতেন।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, সংস্কার প্রস্তাবে বিএনপি যেসব বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছিল, ৫ কোটি জনগণ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করে বিএনপির সেই নোট অব ডিসেন্ট বাতিল করে দিয়েছে। এজন্য বিএনপি ৭০ শতাংশ জনগণের রায় উপেক্ষা করে ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে। বিএনপি জুলাই সনদের বিপক্ষে গিয়ে হাসিনার তৈরি কালো আইন বহাল রাখতে কাজ করছে।
বিএনপিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে, জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে না। ক্ষমতায় টিকে থাকতে হলে বিএনপিকেই চলমান রাজনৈতিক সংকট সমাধান করতে হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান প্রমুখ।
কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিমের পরিচালনায় সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ শামছুর রহমান, মহানগরী দক্ষিণের অফিস সেক্রেটারি কামরুল আহসান হাসান, মহানগরী দক্ষিণের সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন, সহকারী মিডিয়া সম্পাদক আশরাফুল আলম ইমন, সহকারী অফিস সেক্রেটারি মুজিবুর রহমানসহ মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতারা।
সমাবেশ শেষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে এক বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে পল্টন মোড়-বিজয়নগর গোলচত্বর গিয়ে শেষ হয়। এ সময় হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মী ভোট ডাকাতি ও প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনের নির্বাচনের ফলাফল বাতিলের দাবি জানান।
১৪ ঘণ্টা আগে
সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করেছে ক্ষমতাসীন বিএনপি।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
প্রার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা দলের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে এসেছেন। আপনাদের প্রাণের একটি আকুতি আছে। সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এটা নিয়ে যাবেন এবং দলের যে পার্লামেন্টারি বোর্ড, সেই বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে। সবকিছু বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেবে।
রিজভী বলেন, আন্দোলনে আপনাদের ভূমিকা, বিগত ১৬-১৭ বছরের আন্দোলনে ভূমিকা, আপনাদের দক্ষতা এবং পার্লামেন্টে কথা বলার দক্ষতা এবং অন্যান্য সমস্ত যে যোগ্যতা থাকা দরকার, সবগুলো বিবেচনা করেই দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম বা পার্লামেন্টারি বোর্ড তারা সিদ্ধান্ত নেবেন।
পার্লামেন্টারি বোর্ড যে সিদ্ধান্ত দেবে, তা সবাইকে মানার আহ্বান জানিয়ে এ বিএনপি নেতা বলেন, এটা (মনোনয়ন) আমি পেলাম না এবং ও পেল বলে এক ধরনের পরিবেশ তৈরি করা, বিশ্রি পরিবেশ তৈরি করা, এইটা করা যাবে না।
তিনি আরও বলেন, আপনারা এই দলের জন্য অনেক দুঃখ-কষ্ট সহ্য করেছেন, অনেক বেদনা আপনাদের পোহাতে হয়েছে। সুতরাং দলীয় সিদ্ধান্ত আপনারা সবাই মান্য করবেন, এটা আমার দৃঢ় বিশ্বাস।
তিনি জানান, আজ শুক্রবার থেকে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হবে, চলবে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যেই তা জমা দিতে হবে।
ফরম সংগ্রহের জন্য সকাল থেকেই কয়েকশ নারী নেত্রী দলীয় কার্যালয়ে ভিড় জমান। প্রতিটি ফরমের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার টাকা। এ সময় উৎসবমুখর ও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
প্রথম মনোনয়ন ফরমটি জেরিন দেলোয়ার হোসেনের হাতে তুলে দেন রিজভী। দ্বিতীয় ফরমটি তুলে দেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক কাজী আসাদুজ্জামান আসাদের স্ত্রী ফাতেমা আসাদের হাতে।
এর আগে, গত বুধবার নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। সেখানে ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ মে।
তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২১ এপ্রিল, বাছাই ২২-২৩ এপ্রিল এবং আপিল দায়েরের শেষ তারিখ ২৬ এপ্রিল। আপিল নিষ্পত্তি করা হবে ২৭-২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল এবং প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ এপ্রিল। ১২ মে সংসদ সদস্যদের ভোটে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
সংরক্ষিত নারী আসনগুলো ৩০০টি সাধারণ আসনে রাজনৈতিক দলগুলোর আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে পরোক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থার মাধ্যমে পূরণ করা হয়। যদি কোনো আসনে একের অধিক প্রার্থী থাকে তবেই সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার প্রয়োজন হয়। তবে দলগুলো সাধারণত তাদের জন্য বরাদ্দকৃত আসনের সমান সংখ্যক প্রার্থী মনোনীত করে বলে ভোটের প্রয়োজন পড়ে না।
ইসির তথ্যমতে, ৩০০ আসনের আনুপাতিক হারে বিএনপি ও তার মিত্ররা ৩৬টি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও তার জোটসঙ্গীরা ১৩টি এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা ১টি আসন পাবেন।
আইন অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
১৫ ঘণ্টা আগে
জামায়াতের এমপি সাইফুলকে ‘আরও মনোযোগী’ হওয়ার পরামর্শ স্পিকারের
সংসদ অধিবেশনে বর্তমানে উত্থাপিত নয় এমন একটি বিল নিয়ে ভুলবশত আলোচনার সূত্রপাত করায় জামায়াতের সংসদ সদস্য সাইফুল আলমকে ‘আরও মনোযোগী’ হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এভাবে আইন প্রণয়ন কর্মসূচিতে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের সকালের অধিবেশনে এই ঘটনা ঘটে। তখন অধিবেশনে ‘আমানত সুরক্ষা বিল, ২০২৬’ অবিলম্বে বিবেচনার জন্য উত্থাপন করা হচ্ছিল।
শুরুতে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিলটি উত্থাপনের অনুমতি চান। স্পিকারের অনুমতির পর মন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে বিলটি পেশ করেন এবং এটি অবিলম্বে বিবেচনার জন্য প্রস্তাব করেন। প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটে দেওয়ার ঠিক আগে ঢাকা-১২ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. সাইফুল আলম কথা বলার জন্য সুযোগ চান।
স্পিকার জানতে চান তিনি নির্দিষ্ট কোন বিলটি নিয়ে কথা বলতে চান।
জবাবে ওই সংসদ সদস্য বলেন, আমি ‘ব্যাংক রেজোলিউশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ সংরক্ষণের পক্ষে কথা বলছি।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তৎক্ষণাৎ হস্তক্ষেপ করে জানান যে, ওই মুহূর্তে এই ধরনের কোনো বিল সংসদে উত্থাপন করা হয়নি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এটি তো পেশ করা হয়নি; এই নামে কোনো বিল এখন নেই।
নিজের ভুল বুঝতে পেরে সংসদ সদস্য স্পিকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে নিজ আসনে ফিরে যান। তবে এই অসতর্কতার জন্য স্পিকার অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, মাননীয় সদস্য আরও মনোযোগী হবেন। আইন প্রণয়ন কর্মসূচির মধ্যে আপনি বাধা দিচ্ছেন।
এই আলোচনার পর স্পিকার সংসদীয় প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখেন। পরবর্তীতে ‘আমানত সুরক্ষা বিল, ২০২৬’ সর্বসম্মতিক্রমে কণ্ঠভোটে পাস হয়।
পরে অধিবেশন মুলতবি হওয়ার আগে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, প্রথমে যে কার্যতালিকা তাদের দেওয়া হয়েছিল, সেখানে ‘ব্যাংক রেজুলেশন আইন’ ছিল। সেটি আলাদাভাবে আসবে কি না, তা নিয়ে তারা বিভ্রান্তিতে পড়েছেন।
জবাবে স্পিকার সংসদকে আশ্বস্ত করেন যে, উল্লিখিত আইনটি পরবর্তী কোনো সময়ে অধিবেশনে উপস্থাপন করা হবে।
১৬ ঘণ্টা আগে
চলমান সংকট মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুত: আমীর খসরু
অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সরকার পুরোপুরি প্রস্তুত। তিনি আরও বলেন, সরকারের প্রাথমিক উদ্দেশ্য কেবল জিডিপি প্রবৃদ্ধি নয়, বরং একটি টেকসই, স্বচ্ছ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি বিনির্মাণ করা।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, একটি শক্তিশালী গণম্যান্ডেট নিয়ে সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে, প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি ফিরিয়ে আনতে এবং সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।
তিনি বলেন, জনগণ আমাদের ওপর আস্থা রেখেছে এবং আমাদের দায়িত্ব হলো একটি উন্নত, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলার মাধ্যমে সেই আস্থার প্রতিফলন ঘটানো।
অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার উত্তরাধিকারসূত্রে এমন এক অর্থনীতি পেয়েছে যা কাঠামোগত দুর্বলতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক খাতের চাপ, বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং সুশাসনের চ্যালেঞ্জে জর্জরিত। এর জন্য জরুরি সংস্কার প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা জ্বালানি বাজার, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ব্যাঘাত ঘটিয়েছে।
আমীর খসরু বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও এলএনজির দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। তা সত্ত্বেও, নাগরিকদের কষ্ট লাঘব করতে সরকার জ্বালানির দাম বাড়ায়নি। ফলে চলতি অর্থবছরে মূল বাজেটের বাইরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারকে প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত ভর্তুকি দিতে হবে। তিনি সতর্ক করেন যে, এই অপ্রত্যাশিত ব্যয় বাজেট ঘাটতি বাড়াবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। এই অতিরিক্ত আমদানির জন্য প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন হবে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে এবং বাজেট সহায়তা ও পেমেন্ট ব্যালেন্স স্থিতিশীল রাখতে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থায়নের চেষ্টা করছে।
সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশের অর্থনৈতিক ও গণতান্ত্রিক যাত্রার ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করেন। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বর্তমান সরকার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
আর্থিক খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইনি কাঠামো শক্তিশালী করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। খেলাপি ঋণ কমানো এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি পূরণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও বিনিয়োগে বৈচিত্র্য আনতে করপোরেট বন্ড, সুকুক এবং গ্রিন বন্ড চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।
সামাজিক সুরক্ষার বিষয়ে খসরু বলেন, ৫০ লাখ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সব পরিবারকে এর আওতায় আনা হবে। প্রকৃত কৃষক ও খামারিদের জন্য কৃষক কার্ড চালু এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এছাড়া আইসিটি সম্প্রসারণের মাধ্যমে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডকে শক্তিশালী করার কাজ চলছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে, যেখানে বিভিন্ন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তিনি আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে এবং সরকারের কৌশলগত পরিকল্পনার মাধ্যমে জনগণের উচ্চ প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব হবে।
১৭ ঘণ্টা আগে
সংসদ থেকে আবারও বিরোধী দলের ওয়াকআউট
যৌক্তিক বাধা সত্ত্বেও সংসদে পাস হওয়া গণবিরোধী বিলের দায় এড়াতে ফের জাতীয় সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেছে বিরোধী দল।
ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলীয় জোট বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ৫টা ৫৬ মিনিটে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে।
বিলগুলো পাস হওয়ার পর সংসদে বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘দুঃখজনক হলেও সত্য, বিরোধীদলের যৌক্তিক বাধা স্বত্ত্বেও যে কয়টি গণবিরোধী বিল আজকে পাস হয়েছে। আমরা তার দায় নিতে চাই না। এই জন্য আমরা এখন সংসদ থেকে ওয়াকাআউট করছি।’ এরপরই জোটের সংসদ সদস্যদের নিয়ে অধিবেশন থেকে বের হয়ে যান তিনি।
বিরোধীদের এ পদক্ষেপের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমি ধন্যবাদ জানানোর জন্য উঠছি। আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার ফাস্ট রিডিং, সেকেন্ড রিডিং, থার্ড রিডিং, সব রিডিংয়ে উনারা সহায়তা করেছেন। কেউ কেউ হাত তুলে সমর্থনও দিয়েছেন। সমস্ত প্রক্রিয়া অংশগ্রহণের পরে ওয়াকআউটের কোনো মানে আছে কিনা এটা জানার জন্য। সমস্ত প্রক্রিয়া তারা অংশগ্রহণ করার জন্য ধন্যবাদ। আশা করি মাগরিবের নামাজের পর তারা আবার অংশ নেবেন।
এর আগে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতির ভাষণের বিরোধিতা করে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের প্রশ্নে সংসদে আলোচনা হলেও তা নিষ্পত্তি না হওয়ায় ওয়াকআউট করেছিল বিরোধী দল।
১ দিন আগে
বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনে উপনির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ জামায়াতের
বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলাকালে ভোট কারচুপি, জালভোট প্রদান, ফলাফলের শিটে আগাম সই নেওয়া এবং পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) হস্তক্ষেপও কামনা করেছে দলটি।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব অভিযোগ করেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, একটি নির্বাচিত সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত এ উপনির্বাচনে গুরুতর অনিয়ম হচ্ছে। ভোট কারচুপি, জালভোট, এজেন্টদের বের করে দেওয়া এবং সকালেই রেজাল্ট শিটে স্বাক্ষর নেওয়ার মতো আপত্তিকর ঘটনা ঘটছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
এসব ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
পরওয়ার বলেন, শেরপুরের শ্রীবরদীতে তাদের প্রার্থী ইন্তেকাল করেছেন। নির্বাচনের আগে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিমকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়, যা এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
শেরপুরে তাদের প্রার্থী সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান মাসুদ এবং বগুড়ায় প্রার্থী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বগুড়া শহরের আমির আবিদুর রহমান সোহেল।
তিনি বলেন, ৪, ৫ ও ৬ এপ্রিল আমরা কেন্দ্রের পক্ষ থেকে তিন দিন নির্বাচনি এলাকা সফর করেছি। সেখানে ভয়ভীতি প্রদর্শন, নেতা-কর্মীদের কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা এবং হুমকির আলামত পেয়েছি।
বগুড়ায় অনিয়মের বিষয়ে তিনি বলেন, কয়েকটি কেন্দ্রে প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা সকালেই পোলিং এজেন্টদের দিয়ে ফলাফলের শিটে জোরপূর্বক সই করিয়েছেন যা নির্বাচন বিধির পরিপন্থী। উদাহরণ হিসেবে তিনি মালতিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের কথা উল্লেখ করেন। তার দাবি, ওই কেন্দ্রে সকালে এজেন্টদের দিয়ে সই নেওয়ার পর জালভোট দেওয়া হয়েছে এবং পরে এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দুপুর ১২টা পর্যন্ত শেরপুরে অন্তত ১৩টি কেন্দ্রে জোর করে এজেন্টদের বের করে দিয়ে জাল ভোট দেওয়া হয়েছে। শ্রীবরদী পৌরসভার ইসলামিয়া কামিল মাদরাসা কেন্দ্রে জাল ভোট প্রতিরোধ করতে গেলে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা কেন্দ্রে প্রবেশ করে তাদের এজেন্টদের বের করে দেন এবং জামায়াতের এক যুবনেতাকে মারধর করেন।
তার অভিযোগ, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে বারবার অনুরোধ করা হলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকদের ‘পেটুয়া বাহিনী’ ভোটারদের, বিশেষ করে নারীদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দিচ্ছে এবং তাদের হয়রানি করছে।
উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনের পর ক্ষমতায় আসা একটি বড় রাজনৈতিক দলের অধীনে প্রথম উপনির্বাচনেই যদি এমন চিত্র দেখা যায়, তাহলে ভবিষ্যৎ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়।
এ সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, যেসব কেন্দ্রে অনিয়ম হয়েছে, সেসব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করে পুনরায় ভোটের ব্যবস্থা এবং দায়ী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে জনগণ এমন একতরফা নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেবে না বলে তিনি সতর্ক করেন।
তিনি আরও বলেন, প্রায় ৩০০ কেন্দ্রের মধ্যে যেসব কেন্দ্রে জালভোট ও এজেন্টদের বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর বিষয়ে দুপুর পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য উদ্বেগজনক। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এসব ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
ভোটার ও এজেন্টদের নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এজেন্টদের ভয়ভীতি দেখিয়ে কেন্দ্র থেকে বের করে দিচ্ছে, ফলে অনেক ভোটার ভোটকেন্দ্রে যেতে সাহস পাচ্ছেন না। এ পরিস্থিতিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মা’ছুম, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দিন মোল্লা এবং প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি আতাউর রহমান সরকার উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে দুই আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন এই দুই আসনের তফসিল ঘোষণা করে।
এর আগে ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে উভয় আসনে নির্বাচিত হন। পরে তিনি বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দিয়ে ঢাকা-১৭ আসন রাখেন।
অন্যদিকে, জামায়াত প্রার্থী নূরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুর পর গত ৪ ফেব্রুয়ারি শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন বাতিল করেছিল নির্বাচন কমিশন।
১ দিন আগে
অধ্যাদেশ অনুমোদন ও বাতিলে সংসদে ১২টি বিল পাস
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে জারি করা বিভিন্ন অধ্যাদেশ অনুমোদন এবং কিছু ক্ষেত্রে বাতিলের উদ্দেশ্যে জাতীয় সংসদে ১২টি বিল পাস করা হয়েছে। এর মধ্যে নয়টি অধ্যাদেশ অবিকল রেখে বিল হিসেবে পাস করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিলগুলো পাস হয়।
পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে ৯টি বিলের ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আনা বিধানগুলো অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, তিনটি বিল পাস করা হয়েছে আগের অধ্যাদেশগুলো পুরোপুরি বাতিলের মাধ্যমে। যে ৩টি বিল অধ্যাদেশ বাতিলের জন্য পাস করা হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রবর্তন) বিল, ২০২৬’। এর মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারিকৃত সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশটি বাতিল করে ২০০৯ সালের মূল ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন’ পুনরায় কার্যকর করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা বিলগুলো সংসদে উত্থাপন করেন। স্পিকার বিলগুলো ভোটের জন্য পেশ করলে সংসদ সদস্যরা কণ্ঠভোটে সেগুলো পাস করেন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধ্যাদেশ বহাল রেখে পাস হওয়া ৯টি বিলের মধ্যে রয়েছে— জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (সংশোধন) বিল, বঙ্গবন্ধু ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশন (সংশোধন) বিল, শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (সংশোধন) বিল, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) বিল, সরকারি ক্রয় (সংশোধন) বিল, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী (সংশোধন) বিল, বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) বিল, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) (সংশোধন) বিল এবং আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) বিল।
এছাড়া আগের অধ্যাদেশ বাতিল করতে পাস হওয়া অন্য দুটি বিল হলো— ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল, ২০২৬’ এবং ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ (রহিতকরণ) বিল, ২০২৬’। এই দুটি বিলের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে জারিকৃত সংশ্লিষ্ট দুটি অধ্যাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়েছে।
১ দিন আগে
সরকারি ক্রয় আইন সংস্কারে সংসদে বিল পাস
দেশের সরকারি ক্রয় কাঠামোকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ‘সরকারি ক্রয় (পাবলিক প্রকিউরমেন্ট) (সংশোধন) অধ্যাদেশ- বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। পরে এ বিল কণ্ঠভোটে পাস হয়।
এই প্রস্তাবিত আইনের লক্ষ্য হলো প্রায় দুই দশকের পুরনো আইনটি সংস্কার করে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা; যেখানে টেকসই উন্নয়ন, স্বচ্ছতা এবং অর্থের সঠিক মূল্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই বিলটির মাধ্যমে ‘সরকারি ক্রয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’কে আইনি রূপ দেওয়া হয়েছে যা আগে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় রাষ্ট্রপতি কর্তৃক জারি করা হয়েছিল।
এই আইনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলো এর মূল উদ্দেশ্যে। সংশোধনীতে শুধু স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপর নজর দেওয়ার পরিবর্তে একটি বিস্তৃত ম্যান্ডেট যুক্ত করা হয়েছে। নতুন প্রস্তাবনায় অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার, দক্ষতা, নৈতিকতা, গুণমান এবং টেকসই ক্রয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
প্রথমবারের মতো এই আইনে টেকসই সরকারি ক্রয় ধারণাটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে পণ্য বা সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে সরকারকে পরিবেশ সুরক্ষা, সামাজিক অগ্রগতি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হবে। নতুন ১৬ ধারা অনুযায়ী, দরপত্র নথিতে এমন কোনো শর্ত যুক্ত করা যাবে না যা পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে অথবা শ্রমিকের অধিকার (মজুরি, সামাজিক সুবিধা এবং শিশুশ্রম নিষিদ্ধকরণ) লঙ্ঘন করে।
বিলে ‘রিভার্স অকশন’ বা বিপরীত নিলামের মতো প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধন করা হয়েছে। এটি একটি রিয়েল-টাইম ইলেকট্রনিক বিডিং প্রক্রিয়া, যেখানে সরবরাহকারীরা কাজ পাওয়ার জন্য ধীরে ধীরে তাদের দাম কমিয়ে প্রতিযোগিতা করেন। এর ফলে সাধারণ পণ্যের ক্ষেত্রে সরকারের খরচ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া, সমস্ত সরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) পোর্টাল ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই নিয়মের যেকোনো ব্যতিক্রমের জন্য এখন থেকে বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির (বিপিপিএ) পূর্বানুমতি লাগবে।
কাঠামোগত সংস্কারের মধ্যে রয়েছে বিপিপিএকে প্রাথমিক নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান এবং ভৌত সেবাকে ক্রয়ের একটি আলাদা বিভাগ হিসেবে চিহ্নিত করা। আইনটি কাঠামোগত চুক্তি ব্যবহারকেও প্রসারিত করেছে, যার ফলে একাধিক সরকারি সংস্থা আগে থেকে নির্বাচিত সরবরাহকারীদের কাছ থেকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয় করতে পারবে।
বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাস ও মিশনগুলোর জন্য সরকারি ক্রয় সহজ করতে বিলে বিধান রাখা হয়েছে যে, তারা সংশ্লিষ্ট দেশের স্থানীয় আইন বা আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করতে পারবে। তবে এর জন্য অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির পূর্বানুমতি প্রয়োজন হবে। দেশীয় শিল্প রক্ষায় বিলে শর্ত দেওয়া হয়েছে যে, সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে প্রযুক্তি সেবার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক দরপত্রে দেশীয় কোনো পরামর্শক সংস্থাকে যৌথ অংশীদার হিসেবে রাখতে হবে।
বিলের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আমীর খসরু বলেন, সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাপনায় ন্যায্যতা, জবাবদিহিতা, সময়ানুবর্তিতা এবং মুক্ত প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার আইনি কাঠামো হিসেবে সরকার ২০০৬ সালের ৬ জুলাই ‘সরকারি ক্রয় আইন, ২০০৬’ প্রণয়ন করেছিল।
প্রয়োজনীয় সংশোধনী ও সংযোজনের মাধ্যমে সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়াকে আরও দক্ষ ও সহজ করার লক্ষ্যে ২০১৬ সাল পর্যন্ত এই আইনটি মোট পাঁচবার সংশোধন করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি ক্রয়ে দক্ষতা, নৈতিকতা ও গুণমান নিশ্চিত করা এবং অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহারকে প্রাসঙ্গিক মনে করায় এই বিষয়গুলোকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
মন্ত্রী আরও জানান, ২০০৬ সালের আইনের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ক্রয়ে মূল্যের ঊর্ধ্বসীমা নির্ধারণের ফলে প্রতিযোগিতার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। ফলে একটি বিকল্প ব্যবস্থার প্রয়োজন দেখা দেয়। তাই আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ক্রয় কৌশল প্রণয়ন, টেকসই সরকারি ক্রয় ধারণা প্রবর্তন, সম্পদ নিষ্পত্তি, বিপরীত নিলাম এবং অবকাঠামোগত সেবাকে আলাদা ক্রয় হিসেবে গণ্য করাসহ বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে এই সংশোধনী আনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৪ মে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ‘সরকারি ক্রয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করা হয়েছিল যা সরকার গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কার্যকর করেছে।
১ দিন আগে