রাজনীতি
প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে নির্বাচনী রোডম্যাপ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা: ডা. তাহের
প্রধান উপদেষ্টা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করেছেন বলে মন্তব্য করে জামায়াতে ইসলামীর নায়েব আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, এই রোডম্যাপ একটি সুষ্ঠ নির্বাচনকে ভন্ডুল করার জন্য নীল নকশা।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সকালে কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজ মিলনায়তনে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের নির্বাচনী দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. তাহের বলেন, ‘চূড়ান্ত সংস্কারের সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগেই আগেই প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছেন এবং বিচার এখনও দৃশ্যমান হয়নি। এর মধ্যে বোধহয় তিনি কোনো শক্তির কাছে মাথা নত করে পরিকল্পিত নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে দেশবাসী শঙ্কা পোষণ করছে।’
তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার কমিটমেন্ট দিয়ে আসছিল তারা নিরপেক্ষ থাকবে, তারা সংস্কার করবে, বিচার দৃশ্যমান করবে এবং নির্বাচন হবে। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টা তার ওয়াদা ভঙ্গ করেই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছেন।’
আরও পড়ুন: সংস্কার নিয়ে গড়িমসি হলে নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে সংশয় তৈরি হবে: ডা. তাহের
ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের কোনো আপত্তি নেই জানিয়ে এই রাজনীতিক বলেন, ‘আমরা ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের জন্যই প্রস্তুতি নিচ্ছি। কিন্তু একটি সুষ্ঠু-অবাধ নির্বাচনের জন্য কিছু বিষয় সুরাহা হওয়া খুবই জরুরি। এর মধ্যে জুলাই চার্টারকে আইনগত ভিত্তি দিতে হবে এবং এর ভিত্তিতেই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন দিতে হবে। কিন্তু সেগুলো না করেই নির্বাচনের যে রোডম্যাপ বা পথনকশা ঘোষণা করা হয়েছে সেটি একটি সুষ্ঠু নির্বাচন ভণ্ডুল করার নীল নকশা বলে আমি মনে করি। আমরা এটা হতে দেব না। আমরা সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে বাধ্য করব, জুলাই চার্টার রিফান্ড ও পিআরের মাধ্যমে নির্বাচন হতে হবে।’
আগের ট্র্যাডিশনাল পদ্ধতি ও নতুন প্রস্তাবিত পিআর—এই দুটোর মধ্যে একটি নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত রোডম্যাপ ঘোষণা করা নির্বাচন কমিশনের বড় ধরনের অপরাধ বলেও মন্তব্য করেন মো. তাহের। এজন্য তিনি নির্বাচন কমিশনকে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়ারও আহ্বান জানান।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতে আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন জামায়াতে কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য আব্দুস সাত্তার, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শাহজাহান, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন, সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রহিম, কালিকাপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবুল হাসেম।
১৮৯ দিন আগে
ঘোষিত সময়েই নির্বাচন হবে: মির্জা ফখরুল
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে এক ধরনের হতাশা ও বিভ্রান্তি তৈরি হলেও ‘নির্বাচন হবেই’ মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘আমরা জানি যে রাজনীতিতে অনেক মতভেদ থাকবে, চিন্তা থাকবে, মত থাকবে। কিন্তু এখন যে পরিবেশটিতে আমরা আছি, তাতে জনগণ অত্যন্ত বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে যাচ্ছেন। মানুষ জিজ্ঞাসা করছে, নির্বাচন হবে তো? এই যে এক ধরনের শঙ্কা, এক ধরনের হতাশা তৈরি হয়েছে; কিন্তু আমি যেটা সবসময় বলি, নির্বাচন হবেই।’
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে একটি বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নির্বাচনের যে সময়টার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, সেই সময়েই হবে। আজ যদি নির্বাচন বন্ধ করা হয় বা নির্বাচন না হয়, তাহলে এই জাতি প্রচণ্ড রকমের ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং ফ্যাসিবাদের ফিরে আসার আশঙ্কা বাড়বে।’
তিনি বলেন, ‘আপনারা লক্ষ করছেন যে, বিভিন্ন জায়গা থেকে চেষ্টা করছে এই ফ্যাসিবাদ নিয়ে কথা বলার জন্য। বিদেশেও এটা নিয়ে কাজ চলছে। তাই নির্বাচন দ্রুত দেওয়া দরকার। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়েই আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য— গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় যাওয়ার সুযোগ পাব।’
বাংলাদেশে প্রথম সংস্কারের কথা বিএনপিই বলেছে ও বাস্তবায়ন করেছে দাবি করে দলটির মহাসচিব বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যখন বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন, তখন একদলীয় শাসনব্যবস্থা থেকে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র নিয়ে আসেন। তিনিই গণমাধ্যম, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি অর্থনীতিতে মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রবর্তন করেছেন। এতে দ্রুতই আমরা একটি পরিবর্তন দেখেছি।’
আরও পড়ুন: সরকারের ভেতরের একটি মহল গণতন্ত্রের শক্তিকে ক্ষমতায় আসতে দিতে চায় না: ফখরুল
‘বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত যত সংস্কার হয়েছে, তা বিএনপির হাত দিয়েই হয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, কতগুলো রাজনৈতিক দল মিথ্যা ও ভুল প্রচার করে বিএনপিকে হেয় করতে চায়।’
বিএনপি কোনো খারাপ করছে— এমন কথা বলার সুযোগ কাউকে না দেওয়ার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রবীণ এই রাজনীতিক বলেন, ‘এটা খুবই জরুরি। আপনারা মনে করবেন না যে আপনারা ক্ষমতায় চলে এসেছেন। অনেকেই সেটা মনে করছেন। আর এ জন্যই দুর্বৃত্তায়ন তারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।’
‘এখনো আপনারা ক্ষমতার কাছেও আসেননি। অনেক চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র আছে, সেগুলো অতিক্রম করে ঐক্য ও ভালো কাজ দিয়ে জনগণের কাছে যেতে হবে।’
জুলাই-আগস্টে কেবল শিক্ষার্থীরাই নয়, শ্রমিক, জনতা ও শ্রমজীবী মানুষও অংশ নিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখন সবাই জুলাই-আগস্টের প্রতি জোর দেন। এটা সত্য কথা যে তখন ছাত্র ও তরুণরা বেরিয়ে এসে আন্দোলন শুরু করেছিলেন। কিন্তু আন্দোলনের শেষ দিনগুলোতে কেবল ছাত্ররাই ছিল না, শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্ত-চাকরিজীবী ও মা-বোনেরা বেরিয়ে এসেছিলেন। আর এ জন্যই জুলাই-আগস্টে সম্ভব হয়েছিল ফ্যাসিবাদকে সরানো।’
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, ‘দেশকে কীভাবে ভালোর দিকে নিয়ে যাওয়া যায়, আমাদের মনগুলোকে কীভাবে আরও পবিত্র করা যায়, আমরা কীভাবে মানুষের জন্য কাজ করতে পারি, এই বিষয়গুলো আপনারা গভীরভাবে চিন্তা করবেন।’
‘মানুষ একটা পরিবর্তন চায়। পরিবর্তনের জন্য মানুষ উন্মুখ হয়ে আছে। আর সেটা বিএনপির কাছেই চায়। আর বিএনপি যদি সেটা উপহার দিতে চায়, তাহলে তাদের নেতাকর্মীদের সেইভাবেই জনগণের সামনে আসতে হবে।’
আরও পড়ুন: রমজানের আগেই একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা রিজভীর
সৈয়দা ফাতেমা সালামের লেখা ‘রক্তাক্ত জুলাই’ শিরোনামের বইয়ের মোড়ক উন্মোচনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও কবি আবদুল হাই শিকদার।
বইয়ের বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, জুলাই-আগস্টের রক্তাক্ত ঘটনাবলী নিয়ে খুব বেশি লেখা চোখে পড়েনি। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন নিয়ে অনেক লেখা হয়েছে, কিছু কিছু লেখা কালজয়ী। তার মধ্যে রয়েছে উপন্যাস, কবিতা ও গান। সৈয়দা ফাতেমা সালাম সেই কাজটি করার চেষ্টা করেছেন। সরকারের অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান আছে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অনেকগুলো বিভাগও আছে। তারা এটির ওপর জোর দিতে পারতেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা এখনো সেই কাজটি দেখিনি।
১৮৯ দিন আগে
স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য এভারকেয়ারে যাবেন খালেদা জিয়া
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আজ সন্ধ্যায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য যাওয়ার কথা রয়েছে।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, ‘ম্যাডামকে (খালেদা) তার মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুসারে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সন্ধ্যায় এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে।’
তিনি বলেন, বিএনপি প্রধান বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে তার গুলশানের বাসভবন থেকে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ‘তার মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুসারে এভারকেয়ার হাসপাতালে তার কিছু প্রয়োজনীয় মেডিকেল পরীক্ষা করা হবে।
৮০ বছর বয়সী সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বেশ কয়েক বছর ধরে লিভার, কিডনি এবং হার্ট সম্পর্কিত সমস্যাসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য জটিলতায় ভুগছেন।
বেগম জিয়া গুলশানে তার বাড়িতে একটি বিশেষায়িত মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছেন, যার মধ্যে এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসক এবং তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
১৯০ দিন আগে
রমজানের আগে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা ইসির
ত্রয়োদশ জাতীয় সয়সদ নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে রমজানের আগে নির্বাচন আয়োজনে প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে কর্মপরিকল্পনায়।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) বিকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ কর্মপরিকল্পনাটি তুলে ধরেন।
প্রকাশ করা কর্মপরিকল্পনায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভোটার তালিকা তৈরি, নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন, সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ, পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের জন্য নির্দেশিকা হালনাগাদ, নির্বাচনী ম্যানুয়াল, নির্দেশিকা, পোস্টার ও পরিচয়পত্র মুদ্রণ, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ও নির্বাচনী উপকরণ প্রস্তুত করা, নির্বাচনী বাজেট প্রস্তুত করা, ভোটকেন্দ্র স্থাপন, আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়। এছাড়াও নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার মতো বিভিন্ন নির্বাচনী প্রস্তুতিমূলক কাজের সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে।
পড়ুন: জাতীয় নির্বাচন: শিগগিরই নির্বাচনী এলাকার চূড়ান্ত সীমানা প্রকাশ করবে ইসি
ইসি সচিব বলেন, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে পাঠানো নির্দেশনা অনুসারে, কর্মপরিকল্পনায় আগামী রমজানের (ফেব্রুয়ারি ২০২৬) আগে কীভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠান করা যায়—তার রূপরেখা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে আমাদের একটি চিঠি দিয়ে বলা হয়েছে, আগামী রমজানের (ফেব্রুয়ারি ২০২৬) আগে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে....। তাই, আজ আমরা আপনাদেরকে আমাদের কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করছি। পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আমরা আমাদের কর্মপরিকল্পনাগুলোকে মোট ২৪টি ভাগে ভাগ করে আমাদের কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করেছি।’
কিন্তু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার কর্মপরিকল্পনায় কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ছিল না।
কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী, পর্যবেক্ষক, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ এবং জুলাই যোদ্ধাসহ অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে শুরু হবে এবং পরবর্তী দেড় মাসের মধ্যে আলোচনা সম্পন্ন হবে।
এছাড়াও, ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংসদীয় আসনের চূড়ান্ত সীমানা নির্ধারণের গেজেট প্রকাশ করা হবে। ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিভিন্ন নির্বাচনী আইন, বিধি ও নির্দেশিকা সংশোধন করা এবং নতুন রাজনৈতিক দলগুলোকে নিবন্ধন দেওয়া হবে। ৩০ নভেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।
১৫ নভেম্বরের মধ্যে নির্বাচনী ম্যানুয়াল, নির্দেশিকা, পোস্টার এবং পরিচয়পত্র মুদ্রণ, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স এবং নির্বাচনী উপকরণ প্রস্তুত করা এবং ১০ সেপ্টেম্বর ভোটকেন্দ্রের খসড়া প্রকাশ করা হবে। ভোটগ্রহণের নির্ধারিত তারিখের ২৫ দিন আগে চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের তালিকা গেজেট প্রকাশ করা হবে।
১৯০ দিন আগে
জাতীয় নির্বাচন: শিগগিরই নির্বাচনী এলাকার চূড়ান্ত সীমানা প্রকাশ করবে ইসি
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে শিগগিরই সংসদীয় আসনের চূড়ান্ত সীমানা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন।
সংসদীয় আসনের সীমানা ও পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত দাবি ও আপত্তির উপর চার দিনের শুনানি শেষে বুধবার (২৭ আগস্ট) রাজধানীর নির্বাচন ভবনে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এক ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘এখন আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চূড়ান্ত তালিকা (নির্বাচনী এলাকার) নিয়ে আলোচনা করব এবং প্রকাশ করব।’
ইসি সচিব বলেন, ৩৩টি জেলার ৮৪টি আসনের দাবি, অভিযোগ এবং সুপারিশের উপর শুনানি সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি বলেন, ইসি এর আগে ৮৪টি আসনের বিষয়ে মোট ১ হাজার ৮৯৩টি দাবি, অভিযোগ, আপিল এবং সুপারিশ পায়। এর মধ্যে ইসির খসড়া নির্বাচনী এলাকা সীমানা নির্ধারণের বিরুদ্ধে ১ হাজার ১৮৫টি আবেদন এবং বাকি ৭০৮টি আবেদন ইসির খসড়ার পক্ষে ছিল।
পড়ুন: নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনা বৃহস্পতিবার প্রকাশ করবে ইসি
এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, ৮৪টি সংসদীয় আসনের বাইরে চূড়ান্ত সীমানা নির্ধারণে কমিশন অন্য কোনো আসনের সীমানায় কোনো পরিবর্তন করবে না।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন ২৪ থেকে ২৭ আগস্ট নগরীর নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত শুনানি অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
চার নির্বাচন কমিশনার - আবদুর রহমানেল মাসুদ, তাহমিদা আহমেদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আব্দুল ফজল মো. সানাউল্লাহ অধিবেশনগুলোতে উপস্থিত ছিলেন এবং ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ শুনানি পরিচালনা করেছেন।
এর আগে, ৩০ জুলাই, ইসি ৩০০টি আসনের খসড়া সীমানা প্রকাশ করে, যেখানে ১৪টি জেলার ৩৯টি আসনে সীমানা পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছিল।
খসড়া অনুসারে, গাজীপুরে আসনের সংখ্যা পাঁচ থেকে বাড়িয়ে ছয়টি এবং বাগেরহাটে আসনের সংখ্যা চার থেকে কমিয়ে তিনটি করা হয়েছে।
পুনর্বিন্যাস করা ৩৯টি আসন হলো- পঞ্চগড়-১ ও ২, রংপুর-৩; সিরাজগঞ্জ-১ ও ২; সাতক্ষীরা-৩ ও ৪; শরীয়তপুর-২ ও ৩; ঢাকা-২, ৩, ৭, ১০, ১৪ ও ১৯; গাজীপুর-১, ২, ৩, ৫ ও ৬; নারায়ণগঞ্জ-৩, ৪ ও ৫; সিলেট-১ ও ৩; ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও ৩; কুমিল্লা-১, ২, ১০ ও ১১; নোয়াখালী-১, ২, ৪ ও ৫; চট্টগ্রাম-৭ ও ৮ এবং বাগেরহাট-২ ও ৩।
বিএনপির সাবেক সাংসদ রুমিন ফারহানার মতামত উত্থাপনের আগে শুনানির সময় একজন এনসিপি নেতার উপর হামলার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, এটি কাম্য ছিল না এবং এটি হওয়া উচিতও ছিল না। ‘এটি আমাদের জন্য খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত একটি বিষয়। এটি না হওয়াই ভালো ছিল এবং এটি আমাদের সকলের জন্য দুঃখজনক বিষয়,’ বলেন তিনি।
পড়ুন: ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের জন্য কর্মপরিকল্পনা অনুমোদন ইসির
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইসি এই বিষয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছে এবং পুলিশকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছে।
চার দিনের শুনানিতে গাজীপুরের প্রতিনিধিরা জেলায় সংসদীয় আসনের সংখ্যা পাঁচ থেকে বাড়িয়ে ছয়টিতে বৃদ্ধির জন্য ইসির উদ্যোগের প্রশংসা করেন। অন্যদিকে বাগেরহাটের প্রতিনিধিরা সাম্প্রতিক খসড়া সীমানা নির্ধারণে সংসদীয় আসনের সংখ্যা চার থেকে কমিয়ে তিনটি করায় ইসির সমালোচনা করেছেন।
এছাড়াও, মানিকগঞ্জ এবং মুন্সীগঞ্জসহ বেশ কয়েকটি জেলার প্রতিনিধিরা তাদের জেলায় সংসদীয় আসনের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
৮৪টি আসনের মধ্যে, ঢাকার দোহার, নবাবগঞ্জ, সাভার এবং আশুলিয়া উপজেলাসহ কয়েকটি সংসদীয় আসনের অনেক আবেদনকারী তাদের নিজ নিজ উপজেলাসহ পৃথক সংসদীয় আসন চেয়েছিলেন, কারণ আসনগুলো ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে ছিল।
কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন পূর্ববর্তী নির্বাচন কমিশন দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে ১০টি আসন পুনর্বিন্যাস করেছিল। কেএম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন ২০১৮ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে ২৫টি আসনের সীমানা পরিবর্তন করেছিল। কাজী রকিবউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বাধীন কমিশন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ৮৭টি আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করেছিল। এটিএম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন ২০০৮ সালে নবম সাধারণ নির্বাচনের আগে ১৩৩টি আসনের সীমানায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন করেছিল।
১৯১ দিন আগে
নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনা বৃহস্পতিবার প্রকাশ করবে ইসি
আগামী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রত্যাশিত পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন তাদের কর্মপরিকল্পনা বৃহস্পতিবার প্রকাশ করবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ।
বুধবার (২৭ আগস্ট) রাজধানীর নির্বাচন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য জানান।
সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের কর্মপরিকল্পনা (যা আগে তিনি নির্বাচনী রোডম্যাপ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন) সম্পর্কে অবহিত করতে প্রস্তুত, আমরা এটি প্রস্তুত করেছি...এটি এখন আমার টেবিলে আছে। আগামীকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।’
ইসি সচিব বলেন, তিনি বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে আরও বিস্তারিত তথ্য দিতে পারবেন। ‘ইনশাআল্লাহ, আমি আপনার সঙ্গে কিছু অতিরিক্ত তথ্য শেয়ার করব। ততক্ষণ পর্যন্ত, দয়া করে অপেক্ষা করুন, এটি এখন আমার টেবিলে আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘শুধু আগামীকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।’
ইসি কর্মকর্তাদের মতে, রোডম্যাপে রাজনৈতিক দল নিবন্ধন, সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ, জনপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংস্কার, নির্বাচনী বিধি ও নির্দেশিকা হালনাগাদ, তথ্যপ্রযুক্তি-নির্ভর ভোটার নিবন্ধন এবং প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ব্যালট সিস্টেম এবং প্রয়োজনীয় নির্বাচনী উপকরণ সংগ্রহসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমের রূপরেখা রয়েছে।
পড়ুন: ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের জন্য কর্মপরিকল্পনা অনুমোদন ইসির
১৪ আগস্ট, ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেছিলেন, রোডম্যাপটি নির্বাচনের জন্য কমিশনের প্রস্তুতির একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরবে।
তিনি আরও বলেন, এটি প্রধান নির্বাচনী কাজ এবং তাদের সময়সীমা নির্দিষ্ট করবে। যার মধ্যে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে সংলাপের সময়সূচি, পাশাপাশি নির্বাচনী আইন সংশোধন ও সংস্কারের সময়সীমা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছিলেন, পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং ইসি ইতোমধ্যেই সারা দেশে তার প্রস্তুতি গ্রহণ জোরদার করেছে।
পড়ুন: নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ নিয়ে ইসির ৪ দিনের শুনানি শেষ
১৯১ দিন আগে
নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ নিয়ে ইসির ৪ দিনের শুনানি শেষ
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের আগে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত দাবি ও আপত্তির উপর চার দিনের শুনানি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বুধবার (২৭ আগস্ট) বিকালে নগরীর নির্বাচন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘৩৩টি জেলার ৮৪টি আসনের দাবি, অভিযোগ এবং সুপারিশের উপর শুনানি সম্পন্ন হয়েছে।’
রাজধানীর নির্বাচন ভবনে ২৪ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত শুনানি অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।
চার নির্বাচন কমিশনার - আবদুর রহমানেল মাসুদ, তাহমিদা আহমেদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আব্দুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এসব অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন। আর ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ শুনানি পরিচালনা করেন।
এর আগে ৩০ জুলাই নির্বাচন কমিশন ৩০০টি আসনের সীমানা নির্ধারণের একটি খসড়া প্রকাশ করে। এতে ১৪টি জেলার ৩৯টি আসনে সীমানা পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছিল।
পড়ুন: ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের জন্য কর্মপরিকল্পনা অনুমোদন ইসির
খসড়া অনুসারে, গাজীপুরে আসন সংখ্যা পাঁচ থেকে বাড়িয়ে ছয় করা হয়েছে। আর বাগেরহাটে আসন সংখ্যা চার থেকে কমিয়ে তিনটি করা হয়েছে।
পুনর্বিন্যাস করা ৩৯টি আসন হলো- পঞ্চগড়-১ ও ২, রংপুর-৩; সিরাজগঞ্জ-১ ও ২; সাতক্ষীরা-৩ ও ৪; শরীয়তপুর-২ ও ৩; ঢাকা-২, ৩, ৭, ১০, ১৪ ও ১৯; গাজীপুর-১, ২, ৩, ৫ ও ৬; নারায়ণগঞ্জ-৩, ৪ ও ৫; সিলেট-১ ও ৩; ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও ৩; কুমিল্লা-১, ২, ১০ ও ১১; নোয়াখালী-১, ২, ৪ ও ৫; চট্টগ্রাম-৭ ও ৮ এবং বাগেরহাট-২ ও ৩।
খসড়া প্রকাশের পর, কমিশন ৮৪টি আসনের উপর দাবি, অভিযোগ এবং পরামর্শ সম্বলিত প্রায় ১ হাজার ৮৯৩টি আবেদনপত্র পেয়েছে।
শুনানি শেষ হওয়ার পর ইসি এখন ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে আসনের নতুন সীমানা নির্ধারণ চূড়ান্ত এবং প্রকাশ করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে।
১৯১ দিন আগে
ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের জন্য কর্মপরিকল্পনা অনুমোদন ইসির
নির্বাচন কমিশন (ইসি) ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য কমিশনের কর্মপরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা শিগগিরই আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বুধবার(২৭ আগস্ট) গণমাধ্যমকে বলেন, ‘কর্মপরিকল্পনার সবকিছু চূড়ান্ত করা হয়েছে। এটি অনুমোদিত হয়েছে।’
ইসি কর্মকর্তারা জানান, কর্মপরিকল্পনা, যাকে ইসি সচিব আগে নির্বাচনী রোডম্যাপ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন, শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।
আজ বিকালে সংসদীয় আসন পুনর্নির্ধারণের শুনানি শেষ হওয়ার পর ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ সামগ্রিক বিষয়ে গণমাধ্যমকে ব্রিফ করার কথা রয়েছে।
ব্রিফিংয়ে কর্মপরিকল্পনার বিষয়টিও আলোচনা করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইসি কর্মকর্তাদের মতে, রোডম্যাপের মৌলিক বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক দল নিবন্ধন, সংসদীয় আসন পুনর্নির্ধারণ, জনপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংস্কার, নির্বাচনী বিধি ও নির্দেশিকা হালনাগাদ, তথ্যপ্রযুক্তি-নির্ভর ভোটার নিবন্ধন এবং প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ব্যালট সিস্টেম এবং প্রয়োজনীয় নির্বাচনী উপকরণ সংগ্রহসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমের রূপরেখা।
আরও পড়ুন: সীমানা নির্ধারণ আলোচনা: ইসিকে গাজীপুরের সমর্থন, আরও আসনের দাবি মানিকগঞ্জ-মুন্সীগঞ্জের
গত ১৪ আগস্ট ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, রোডম্যাপটি নির্বাচনের জন্য কমিশনের প্রস্তুতির একটি স্পষ্ট চিত্র দেবে।
তিনি আরও বলেন, এটি প্রধান নির্বাচনী কাজ এবং তাদের সময়সীমা নির্দিষ্ট করবে, যার মধ্যে রয়েছে নাগরিক সমাজের সদস্য এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে সংলাপের সময়সূচী, পাশাপাশি নির্বাচনী আইন সংশোধন ও সংস্কারের সময়সীমা।
এই মাসের শুরুতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন বলেছিলেন, পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হতে পারে এবং ইসি ইতোমধ্যেই সারা দেশে তার প্রস্তুতি গ্রহণ জোরদার করেছে।
১৯১ দিন আগে
সরকারের ভেতরের একটি মহল গণতন্ত্রের শক্তিকে ক্ষমতায় আসতে দিতে চায় না: ফখরুল
দেশের গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তি যাতে ক্ষমতায় আসতে না পারে, সরকারের ভেতর থেকে একটি মহল সচেতনভাবে সেই চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেছেন, ‘আমাদের অনেক বেশি সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। লক্ষ্য অর্জনের জন্য অনেক বেশি কাজ করতে হবে। আমরা যদি মনে করি, আমরা জিতে গেছি, সবকিছু ঠিক হয়ে গেছে, তাহলে বড় ভুল হবে। সরকারের ভেতরের একটি মহল অত্যন্ত সচেতনভাবে চেষ্টা করছে যে যারা গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তি, তারা যাতে ক্ষমতায় আসতে না পারে। আজকে যখন দেখি, পত্রিকায় নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কর্মকর্তাকে, উপদেষ্টাকে আওয়ামী লীগের লোকজন হেনস্তা করছে, তখন কোথায় যাব আমরা? এটা আমাদের মধ্যে চরম হতাশা সৃষ্টি করেছে।’
বুধবার (২৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাব জহুর হোসেন চৌধুরী হলে খ্যাতিমান রাজনীতিবিদ কাজী জাফর আহমেদের দশম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘পত্রিকায় দেখলাম বিরাট করে খবর ছাপা হয়েছে, বাংলাদেশের একজন ব্যক্তি যিনি দেশে ব্যাংক লুটের জন্য বিখ্যাত, তিনি দিল্লিতে বসে শেখ হাসিনাকে আড়াই হাজার কোটি টাকা দিয়েছেন এবং পরিকল্পনা করেছেন, তারা কীভাবে ওই টাকা ব্যবহার করে বাংলাদেশের নির্বাচন বন্ধ করবে, হাসিনাকে আবার ফিরিয়ে আনবে।’
‘একটি অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে একটি ভয়াবহ ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত হয়ে গণতন্ত্রের যে ট্রানজিশন (রূপান্তর) সেখানে যেতে হবে, আমরা তার জন্য কাজ করছি। এরইমধ্যে অনেক কাজ হয়েছে। রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য যে বিষয়গুলো এসেছে, তার অনেকগুলোতে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছে, অনেকগুলোতে তারা একমত হতে পারেনি। নির্বাচনের একটি তারিখও ঘোষণা করা হয়েছে।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমরা ৩১ দফা কর্মসূচি প্রণয়ন করেছি যার মধ্যে সংস্কারের সবগুলোই আছে। আমরা প্রথম থেকেই সংস্কারের পক্ষে। আমরা তখন উপলব্ধি করেছিলাম, বিদ্যমান রাষ্ট্র কাঠামোতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। সংস্কারের জন্য যত সহযোগিতা লাগে, আমরা তা অন্তর্বর্তী সরকারকে করেছি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা কোথাও বাধা সৃষ্টি করিনি, কোনো বড় রকমের দাবি তুলে রাজপথে নেমে সরকারের বিরোধিতা করিনি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে কিছু রাজনৈতিক মহল পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনকে বানচাল ও ব্যাহত করার জন্য নিত্যনতুন দাবি তুলে ধরছে। এমনসব দাবি তারা তুলে ধরছেন, যার সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষ আসলে পরিচিতই না। যেখানে সংস্কার শব্দটির সঙ্গেই সাধারণ মানুষ পরিচিত নয়।’
আরও পড়ুন: রাতারাতি বৈষম্যের অবসান হবে না: মির্জা ফখরুল
জ্যেষ্ঠ এই রাজনীতিক বলেন, ‘সংখ্যানুপাতিক ভোট বোঝাতে সময় লাগবে; এটা বোঝানো খুবই কঠিন। এরপর কাকে ভোট দিলেন, আপনি তা জানেন না। ভাবলেন, এলাকায় একজন জনপ্রিয় মানুষ আছেন, তাকে লক্ষ্য করে ভোটটা দিলেন, কিন্তু দেখা গেল হয়ে গেলেন অন্যজন। এ বিষয়গুলো এখন আমাদের কাছেও পরিষ্কার নয়, সাধারণ মানুষের কাছেও নয়। অথচ এগুলো নিয়ে তারা জোরেশোরে হুমকি দিচ্ছে।
কেন তারা এমন করছে— প্রশ্ন রেখে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তো ঘরপোড়া গরু। আমরা দেখেছি, যখনই কোনো পরিবর্তন হয়, তখনই সেই সুযোগ অন্যরা নিয়ে নেয়। নির্বাচন আয়োজনে যত দেরি হয়, তত তারা সুবিধা পেয়ে যায়। এক-এগারোর সরকার দুই বছর থাকল এবং ফ্যাসিস্টের হাতে ক্ষমতা তুলে দিল। গত ১৫ বছর ধরে সেই ভোগান্তি আমাদের পোহাতে হয়েছে। তারা বাংলাদেশের অর্থনীতি শেষ করে দিয়েছে। রাজনৈতিক কাঠামো শেষ করেছে। মানুষের মন-মানসিকতা সবকিছু পরিবর্তন হয়ে গেছে।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমি রাজনীতিতে কোনোদিন হতাশ হইনি। সবাইকে সাহস দিয়েছি, অনুপ্রেরণা দিয়েছি। কিন্তু ইদানীং একটা হতাশার ছায়া ঘোরাঘুরি করছে। কেন? যেদিকে তাকাই, দেখি বেশিরভাগ মানুষ নষ্ট হয়ে গেছে। দুর্নীতি… আপনি কোনো অফিস-আদালতে যেতে পারবেন না। একজন ব্যবসায়ী বলেছেন, আগে এক লাখ টাকা দিতে হতো, এখন দিতে হয় পাঁচ লাখ টাকা।’
তিনি বলেন, ‘মনমানসিকতার মধ্যে যে পরিবর্তন নিয়ে আসার কথা ছিল, সেই পরিবর্তনটা আনতে পারেননি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে রাজনৈতিক নেতারাও তাতে জড়িত হয়ে পড়েছেন। যেটা বাংলাদেশের আরও বেশি ক্ষতি করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশকে বাঁচানোর জন্য আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসা দরকার। এ দেশটা আমাদের। ১৯৭১ সালে আমরা যুদ্ধ করেছি। আমাদের অনেককে গুলি খেতে হয়েছে। অনেকের ভাই-বোন-মা শহীদ হয়েছেন। বাড়িঘর পুড়ে গেছে। গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছে। সেই একাত্তরকে ভুলিয়ে দেওয়ার অনেক চেষ্টা চলছে। কিন্তু সেটা ভোলা সম্ভব নয়। যারা সেদিন সহযোগিতা করেছেন, তারাই আজ অনেক বড় বড় কথা বলছেন।’
১৯১ দিন আগে
রমজানের আগেই একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা রিজভীর
আগামী রমজানের আগেই দেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, এতে ষোলো বছর পর দেশের ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন।
বুধবার (২৭ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির পক্ষ থেকে তার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও ফাতিহা পাঠ শেষে এ মন্তব্য করেন তিনি।
দেশের মানুষ এখনো নানাভাবে অধিকারবঞ্চিত উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তকারীদের দিক থেকে আমরা এক ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্রের মধ্যে বাস করছি। আমাদের আন্দোলনের চূড়ান্ত লক্ষ্য গণতন্ত্র এখনো প্রতিষ্ঠা পায়নি। তবে আমাদের বিশ্বাস খুবই দ্রুত রমজানের আগেই একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে, তাতে এ দেশের ভোটাররা ষোলো বছর ধরে যে ভোট দিতে পারেননি, এবার তারা সেই ভোট দিতে পারবেন।’
‘পাশাপাশি গণতন্ত্রের আরও বিভিন্ন শর্ত, যেমন: এ দেশের মানুষের মনে নিরাপত্তাবোধ তৈরি, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা— পূরণ করা সম্ভব হবে।’
তিনি বলেন, ‘আদালত হতে হবে অসহায় মানুষের শেষ ভরসার স্থল। সেই ধরনের একটি সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আর এই লক্ষ্য পূরণে মানুষের অনুপ্রেরণা হচ্ছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি ছিলেন মানবতা, প্রেম ও দ্রোহের কবি। ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রাম, স্বাধীনতার লড়াই, নব্বইয়ের গণআন্দোলন এবং বছরখানেক আগে যে দুনিয়া কাঁপানো গণঅভ্যুত্থান হয়েছে, প্রতিটি জাতীয় অর্জন ও অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে যার গান ও কবিতা মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছে, দেশের জনগণকে উদ্বুদ্ধ করেছে, তার গান গাইতে গাইতে ও তার কবিতা আবৃত্তি করতে করতে আমরা রাজপথে নেমে আসতাম।’
আরও পড়ুন: জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠায় সুষ্ঠু নির্বাচনের আহ্বান রিজভীর
রিজভী বলেন, ‘স্বৈরশাসনের তপ্ত বুলেটের সামনে নিঃশঙ্কচিত্তে দাঁড়াতেও দ্বিধা করিনি, কারণ আমাদের কণ্ঠে ছিল জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের গান ও কবিতা। যখনই এ দেশের মানুষ অধিকারহারা হয়, তখনই তাদের সংঘবদ্ধ ও ঐক্যবদ্ধ করে অত্যাচারীর শৃঙ্খল ভাঙার প্রত্যয় জেগে ওঠে যার কবিতা ও গানে, তিনি কাজী নজরুল ইসলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে তিনি (নজরুল) তার শানিত কলম চালাতে দ্বিধা করেননি। তার লেখা কবিতা, গান ও সৃষ্টির মধ্য দিয়ে যে চেতনা তিনি গোটা জাতিকে দিয়েছেন, তা ধারণ করেই আমরা দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সংগ্রাম করেছি, জুলাই আন্দোলনে যার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ হয়েছে।’
১৯১ দিন আগে