রাজনীতি
মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে জুলাই ঘোষণাপত্র অনুষ্ঠানে অংশ নেবে বিএনপি
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠের অনুষ্ঠানে অংশ নেবে বিএনপির পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল।
রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আজ মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) ঘোষণাপত্র পাঠের অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে সরকার।
বিএনপির মিডিয়া সেল সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন—বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান এবং সালাহউদ্দিন আহমেদ।
তিনি আরও জানান, সোমবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
শায়রুল বলেন, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিএনপি নেতাদের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি না করে একসঙ্গে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আহ্বান ফখরুলের
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিনকেও কর্মসূচিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
আজ বিকাল ৫টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
২১৩ দিন আগে
ফ্যাসিবাদ আমলে গুম হওয়া অনেককে এখনো ফেরত পাওয়া যায়নি: আবদুল হালিম
ফ্যাসিবাদ আমলে গুম হওয়া অনেককে এখনো ফেরত পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম।
তিনি বলেন, ‘পতিত ফ্যাসিস্ট সরকার সারাদেশে গুম-খুনের রাজনীতি কায়েম করেছিল। ফ্যাসিবাদ আমলে গুম হওয়া অনেককে এখনো ফেরত পাওয়া যায়নি।’
সোমবার (৪ আগস্ট) দিনাজপুরের বিরামপুর কমিউনিটি সেন্টারে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, সারা দেশে লাখ লাখ নেতাকর্মী জেল-জুলুমের শিকার হয়েছিল। বাংলাদেশ কর্তৃত্ববাদী শাসকের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছিল। জুলাই’২৪ এর ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে।
তিনি বলেন, জামায়াতের শীর্ষ ১১ জন নেতার কয়েকজনকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক ন্যায়ভ্রষ্ট রায়ের মাধ্যমে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে এবং কয়েকজনকে কারাগারে রেখে হত্যা করা হয়েছে।
পড়ুন: নাটোরে দোকানে তালা লাগিয়ে চাঁদা দাবির বিষয় অস্বীকার জেলা জামায়াতের
তিনি আরও বলেন, বৈষম্যহীন সমাজ ও রাষ্ট্র বিনির্মাণে জামায়াতে ইসলামী নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জামায়াতে ইসলামী ইতিবাচক রাজনীতি ও গঠনমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশবাসীর আস্থা ও ভালোবাসা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।
দিনাজপুর জেলা আমির অধ্যক্ষ আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও দিনাজপুর জেলা সেক্রেটারি মুহাদ্দিস ডক্টর এনামুল হক এর সঞ্চালনা করেন। সম্মেলনে জেলা ইউনিট সদস্য উপজেলা আমির ও সেক্রেটারিরা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও দিনাজপুর শহর, সদর উপজেলা, বিরল, কাহারোল ও বীরগঞ্জ উপজেলায় পৃথক পৃথক মহিলা রুকন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
২১৪ দিন আগে
কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি না করে একসঙ্গে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আহ্বান ফখরুলের
সকল রাজনৈতিক শক্তিকে দোষারোপ ও কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি পরিহার করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনর্গঠনে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, ‘আমি সকলের প্রতি আহ্বান জানাতে চাই—আসুন আমরা একে অপরের প্রতি কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি বন্ধ করি। আমাদের এখন বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং একটি সমৃদ্ধ অর্থনীতি গড়ে তোলার সুযোগ এসেছে। আসুন আমরা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে এবং মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর জন্য একসঙ্গে কাজ করি। ইনশাআল্লাহ, আমরা সফল হব।’
সোমবার (৪ আগস্ট) রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় তিনি এই আহ্বান জানান। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বার্ষিকী উপলক্ষে ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশে (আইইবি)‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও আমার অব্যক্ত কথা’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে বিএনপির যুব সংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদল।
যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্নার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
গণতন্ত্রের উত্তরণে বাধা সৃষ্টির জন্য একটি ষড়যন্ত্র অব্যাহত থাকায় সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান ফখরুল।
তিনি বলেন, ‘আজ, একটি ষড়যন্ত্র চলছে, দেশে আবারও অস্থিতিশীলতা তৈরির জন্য একটি ষড়যন্ত্র চলছে, দেশে একটি ষড়যন্ত্র তৈরি করা হচ্ছে যাতে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের উত্তরণ সুষ্ঠুভাবে না ঘটে।’
পড়ুন: নেতৃত্ব দিতে হলে বিএনপিকে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে: তারেক
বিএনপি নেতা বলেন, দেশ এখন একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে এবং জনগণ এখন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দিকে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে, যা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ‘এখন অর্থনীতি এবং রাজনৈতিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু আমাদের এই (অর্থনীতি এবং রাজনৈতিক কাঠামো) ভিত্তি তৈরি করে পুনর্গঠন করে এগিয়ে যেতে হবে,’ বলেন তিনি।
ফখরুল বলেন, ঐতিহাসিকভাবে, বিএনপি যতবারই দেশ এবং এর অর্থনীতি ধ্বংস হয়েছে ততবারই দেশ এবং এর অর্থনীতি পুনর্গঠনে এগিয়ে এসেছে। ‘আবারও মনে হচ্ছে বিএনপিকে সেই দায়িত্ব কাঁধে তুলে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।’
ফখরুল বাংলাদেশ পুনর্গঠনের জন্য দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দৃষ্টিভঙ্গিকে মার্টিন লুথার কিং-এর ‘আই হ্যাভ এ ড্রিম’ ভাষণের অনুরূপ হিসেবে বর্ণনা করেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতা তারেক রহমান আমাদের যে পথ দেখাচ্ছেন, অর্থনীতি ও রাজনীতি সম্পর্কে তিনি যে কথা বলছেন... যখন আমি দেশের সামনে যে স্বপ্ন উপস্থাপন করছেন- তা শুনি, তখন একটি জিনিস মনে আসে এবং তা হলো মার্টিন লুথার কিং-এর ঐতিহাসিক কথা... ‘আই হ্যাভ এ ড্রিম’।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারেক রহমান একটি স্বপ্ন। ইনশাআল্লাহ, আমরা সেই স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাব এবং আমরা জয় করব, ইনশাআল্লাহ।’
আরেকটি নাটক শুরু হচ্ছে: মির্জা আব্বাস
এদিকে, অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেন, সরকার নির্বাচন বিলম্বিত করার জন্য একটি ‘বানোয়াট নাটক’ পরিচালনা করছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা শুনেছি মাজেদ অথবা সাজেদ নামে একজন মেজর সরকারকে অস্থিতিশীল করার জন্য অথবা দেশে কোনো ঘটনা ঘটানোর জন্য ষড়যন্ত্র করছে। আমরা এই ধরনের কৌশল বুঝতে পারি। তারা নির্বাচন বিলম্বিত করতে একটি নাটক শুরু করেছে।’
পড়ুন: জুলাই সনদে যেকোনো সময় সই করতে প্রস্তুত বিএনপি: সালাহউদ্দিন
মির্জা আব্বাস বলেন, এদেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য ১৭ বছর ধরে লড়াই করেছে। ‘আমাদের এই সরকারের কাছ থেকে এই অধিকারটি উপলব্ধি করতে হবে। সরকারের ভেতরে বা বাইরে যে ষড়যন্ত্রই করা হোক না কেন, বিএনপি কোনো ষড়যন্ত্রকে অপ্রতিরোধ্য মনে করে না।’
বিএনপি নেতা বলেন, প্রয়োজনে তারা তারেক রহমানের নেতৃত্বে আরও ১৭ বছর সংগ্রাম করতে প্রস্তুত। তবে এদেশে কোনো স্বৈরাচারী শাসনকে শিকড় গাড়তে দেবে না।
জুলাইয়ের অভুত্থানের সময় নিহত ৭৮ জন যুবদল কর্মীর পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা দিয়েছে বিএনপি। পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়েছে।
যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে আর্থিক সহায়তা হস্তান্তর করেন বিএনপি মহাসচিব।
২১৪ দিন আগে
এনসিপির প্রতি অন্তর্বর্তী সরকার পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে: নুর
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতি অন্তর্বর্তী সরকার পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে বলে অভিযোগ করেছেন গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।
সোমবার (৪ আগষ্ট) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ইউনিটের উদ্যোগে আয়োজিত এক প্রবন্ধ লিখনী প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনে একটি পুরষ্কার বিতরনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের জাবি শাখার সভাপতি ইকবাল হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক নাজিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তারা বলেন, আগামী নির্বাচনের আগেই প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
এ সময় নুরুল হক নূর বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী হাসিনার পতনের পর এনসিপি প্রতিশ্রুতি দিলেও তারা তা ভেঙেছেন। নিজেদের দল গঠনের পর তারা রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করেছেন এবং এখনও করছেন।’
তিনি ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, বিগত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভূমিকা ভূয়সী প্রশংসার দাবি রাখে।
জুলাই ঐক্য নষ্টের জন্য এনসিপিকে দায়ী করেন নুর।
তিনি আরও বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ কল্পনা করি যেখানে কোনও বৈষম্য থাকবে না। এ ছাড়াও দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দ্রুত ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মাঝে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান এবং উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সোহেল আহমেদ প্রমুখ।
২১৪ দিন আগে
নেতৃত্ব দিতে হলে বিএনপিকে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে: তারেক
বিএনপি নেতৃত্ব দিতে হলে আগে জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, জনগণের আস্থা ধরে রাখুন। মনে রাখবেন, জনগণ আপনাকে গ্রহণ করলে আপনি নেতা, আর তারা আপনাকে প্রত্যাখ্যান করলে আপনি নেতা নন।
রবিবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে জাতীয়তাবাদী যুবদল আয়োজিত ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও আমার না বলা কিছু কথা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এ কথা বলেন তিনি।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিকে কেন্দ্র করে এ আয়োজন করা হয়।
তারেক রহমান বলেন, আপনি যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল বা বিএনপিপন্থী কোনো আইনজীবী সংগঠনের সদস্য হন না কেন, আপনাদের দায়িত্ব হলো বিএনপির কর্মসূচি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। কারণ জনগণের রায়ই চূড়ান্ত। জনগণের জন্যই তৈরি করা এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের জন্য জনগণের সহায়তা ও সহযোগিতা প্রয়োজন।
ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় যুবদলের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, যখন নির্যাতন চরমে ছিল, তখনও যুবদল রাজপথ ছাড়েনি। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে যুবদলের ৭৮ জন নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন। এটা সম্ভব হয়েছে জনগণ পাশে ছিল বলেই, তারা আপনাদের বিশ্বাস করেছিল। তাই সেই আস্থা ধরে রাখতে হবে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি নির্বাচিত হলে কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পড়ুন: জুলাই সনদে যেকোনো সময় সই করতে প্রস্তুত বিএনপি: সালাহউদ্দিন
তিনি বলেন, বেকার যুবক ও স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক ভাষা শেখার কোর্স চালু করা হবে যাতে তারা বিদেশে কাজের সুযোগ পায়।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে এবং এ খাতে কর্মীদের ৮০ শতাংশই নারীদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেওয়া হবে।
ক্ষমতায় এলে, আগামী পাঁচ বছরে আমাদের প্রায় ৩০ থেকে ৩২ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য আছে—বলেন তারেক রহমান।
সভায় শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে গণআন্দোলন ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়।
সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস এবং যুবদল সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না বক্তব্য দেন।
২১৪ দিন আগে
জুলাই সনদে যেকোনো সময় সই করতে প্রস্তুত বিএনপি: সালাহউদ্দিন
বিএনপি জুলাই জাতীয় সনদে যেকোনো সময় সই করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই বিষয়ে যেকোনো বিভ্রান্তি ছড়ানো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
তিনি বলেন, ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তুত জুলাই জাতীয় সনদের চূড়ান্ত খসড়া যদি আগামীকাল আমাদের কাছে পাঠানো হয়—তাহলে আমরা একই দিনে সই করব। আমরা যেকোনো সময় সই করতে প্রস্তুত—এ নিয়ে কোনো বিরোধ নেই।’
সোমবার (৪ আগস্ট) গুলশানের বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
সালাউদ্দিন বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো যদি সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করতে চায়—তাহলে বিএনপি এই ধরনের আলোচনায় অংশগ্রহণের জন্য উন্মুক্ত।
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, দলটি ইতোমধ্যেই তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। কিছু বিষয়ে ভিন্নমতের নোট যোগ করেছে এবং অন্য বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। ‘যখনই আমরা সম্মত বিষয় এবং আমাদের ভিন্নমতের নোট উভয়ই প্রতিফলিত করে নথিটি পাব—তখনই আমরা তাতে সই করব। আমরা সেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছি এবং এ নিয়ে বিভ্রান্তির কোনো অবকাশ থাকা উচিত নয়,’ বলেন তিনি।
তিনি বলেন, জুলাই সনদে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো কি কেবল দলিলে সই করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে—নাকি এর বাস্তবায়ন নিয়ে আরও আলোচনা হবে—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সালাহউদ্দিন উল্লেখ করেন, কিছু দল সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছে যে, এই বিষয়টি স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত তারা সনদে সই করবে না।
তিনি বলেন, বিএনপি সহযোগিতা করছে না বলে একটি বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে। তবে ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে দলটি কীভাবে কাজ করেছে—তা জনগণের কাছে স্পষ্ট।
পড়ুন: জামায়াতের সঙ্গে জোটের সুযোগ নেই, তবে এনসিপির জন্য আলোচনার দরজা খোলা: সালাহউদ্দিন
বিএনপির এই নেতা বলেন, তারা নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে তাদের দলের অবস্থান এবং আলোচনার ফলাফল গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানিয়েছেন।
সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছি এবং তা অব্যাহত রাখছি। এই সংস্কারগুলো আমাদের নিজস্ব প্রতিশ্রুতির অংশ। আমরা অনেক আগেই জাতির কাছে ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। তাই আমাদের উদ্দেশ্য বা আন্তরিকতা নিয়ে কারো প্রশ্ন তোলা উচিত নয়। আমরা বিশ্বাস করি, যে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে—তা সম্পূর্ণ ইচ্ছাকৃত এবং রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি প্রতিফলিত করে।’
তিনি বলেন, বিএনপি চায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে সবকিছু আইনসম্মত ও সাংবিধানিকভাবে করা হোক।
বিএনপি নেতা বলেন, ‘আমরা সকল আলোচনায় অংশ নিতে প্রস্তুত। বিএনপি জাতির সামনে ঘোষণা করেছে এবং স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা এবং সংস্কারের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য দলটি যেকোনো প্রক্রিয়াকে সমর্থন করবে এবং সকল ধরণের আলোচনায় যোগ দেবে।’
তিনি বলেন, জুলাই ২০২৫ সালের জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের প্রতিটি পর্যায়ে পূর্ণ আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবের সঙ্গে বিএনপি একমত।
২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলন এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক অভ্যুত্থানের কথা উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন বলেন, এই ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোকে সংবিধানে যথাযথভাবে স্বীকৃতি দিতে হবে। ‘আমরা এই প্রস্তাবের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত এবং ৩০ জুলাই রাতে আমাদের প্রতিক্রিয়া জমা দিয়েছি।’
সকলকে ঐক্যবদ্ধ থেকে ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্যকে সমুন্নত রাখার এবং একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সেই ঐক্যকে শক্তিতে রূপান্তর করার আহ্বান জানান বিএনপির এই নেতা।
তিনি সাংবাদিকদের আরও জানান, দ্বিতীয় পর্যায়ে ঐকমত্য কমিশনে ১৯টি মূল সংস্কার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে—যার মধ্যে ১২টিতে বিএনপি একমত হয়েছে এবং বাকি ৭টিতে ভিন্নমতের পত্র জমা দিয়েছে।
জুলাই ঘোষণা সম্পর্কে তিনি বলেন, বিএনপি অনেক আগেই এ বিষয়ে তাদের মতামত জানিয়েছে এবং আসন্ন ঘোষণা অনুষ্ঠানে এখনও আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণের অপেক্ষায় রয়েছে।
তিনি বলেন, জুলাই ঘোষণার উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক মূল্য রয়েছে। ‘বিএনপি ফেব্রুয়ারিতে ঘোষণায় প্রদত্ত প্রস্তাবগুলোতে সাড়া দিয়েছে।’
সালাহউদ্দিন বলেন, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জুলাই ঘোষণা অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এতে যোগ দেবেন। ‘কিন্তু বিএনপি এখনও অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ পায়নি।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপি এখনও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জাতি এবং নির্বাচন কমিশনকে তার পূর্বের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফেব্রুয়ারিতে পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে জানাবেন।
বিএনপির এই নেতা বলেন, তারা জানতে পেরেছেন যে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বার্ষিকীতে জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করতে পারেন। ‘আমরা সেই অপেক্ষায় আছি।’
২১৪ দিন আগে
গণঅভ্যুত্থান স্মরণে ৫ ও ৬ আগস্ট বিজয় র্যালি করবে বিএনপি
আওয়ামী লীগের ‘ফ্যাসিবাদ’ পতনের স্মারক হিসেবে আগামী ৫ ও ৬ আগস্ট দেশব্যাপী বিজয় র্যালি করবে বিএনপি।
সোমবার (৪ আগস্ট) দলটির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ৫ আগস্ট দেশের সব থানা ও উপজেলায় এবং ৬ আগস্ট সব জেলা ও মহানগরে র্যালি অনুষ্ঠিত হবে। তবে ঢাকায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী বুধবার (৬ আগস্ট) বেলা ২টায় নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকেও বিজয় র্যালি বের হবে।
আরও পড়ুন: ফ্যাসিবাদ-উগ্রবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে তরুণদের প্রতি তারেক রহমানের আহ্বান
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী ঢাকাবাসীসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের যথাসময়ে র্যালিতে যোগ দিতে আহ্বান জানিয়েছেন।
২১৪ দিন আগে
এনসিপির নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার প্রকাশ
২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের এক দফা দাবির এক বছর পূর্তিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বহুল আলোচিত ‘নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার’ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
‘জুলাই আন্দোলনের’ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দলটি বিচার প্রতিষ্ঠা, কাঠামোগত সংস্কার এবং একটি নবতর রাজনৈতিক দর্শনের কথা তুলে ধরা হয়েছে। ঘোষণাপত্রটি পাঠ করেন আন্দোলনের সময়কার ছয় কেন্দ্রীয় সমন্বয়কের একজন ও বর্তমানে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
এনসিপির ঘোষণায় বলা হয়েছে—নতুন সংবিধান তৈরি, গত বছরের জুলাই গণআন্দোলনের স্বীকৃতি, সেই সময় নিপীড়নের শিকারদের বিচার, বিচারব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহি এবং দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের দাবি জানানো হয়েছে।
দলটির নেতারা বলেন, ‘জুলাইতে ছাত্র আন্দোলনের ডাকের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই সরকার পতন হয়েছিল। এবার সেই জুলাই ঘোষণাপত্রকে সংবিধানে যুক্ত করতে হবে।’
তারা গত এক বছরে গুম, হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনায় বিচার নিশ্চিত না করায় জনগণের কাছে প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করেন।
দলের সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘জুলাই ঘোষণাপত্র অবশ্যই সংবিধানে জায়গা পেতে হবে। জনগণই এখন নতুন বাংলাদেশের রক্ষক।’
তিনি বলেন, ‘বিচারব্যবস্থা যেন আর কোনো রাজনৈতিক দলের নিয়ন্ত্রণে না থাকে। সরকার যা করবে, তা জনগণের জানার অধিকার নিশ্চিত করে করতে হবে।’
দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘যদি আমাদের ভয় দেখানো হয়, আমরা রাজনৈতিকভাবে প্রতিরোধ করব। প্রয়োজনে জীবন দিয়ে হলেও আমাদের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করব।’
এনসিপির ‘নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার’ ঘোষণা
২১৫ দিন আগে
ফ্যাসিবাদ-উগ্রবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে তরুণদের প্রতি তারেক রহমানের আহ্বান
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ছাত্র-তরুণ সমাজকে ফ্যাসিবাদ, চরমপন্থা ও উগ্রবাদ প্রতিরোধে সতর্ক ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানিয়েছেন।
রবিবার (৩ আগস্ট) শাহবাগে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত ছাত্র সমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি বলেন, `বাংলাদেশের ভবিষ্যতে যেন কোনোভাবেই ফ্যাসিবাদ, জঙ্গিবাদ কিংবা উগ্রবাদ পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে—সেজন্য ছাত্র-তরুণ সমাজকে এখন থেকেই সচেতন থাকতে হবে।`
তারেক রহমান নতুন ভোটারদের ‘ধানের শীষে’ ভোট দিয়ে একটি আত্মনির্ভরশীল ও প্রগতিশীল বাংলাদেশ গঠনে তরুণ ও প্রবীণ প্রজন্মের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, `আমি দেশের ছাত্র, যুবক ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলতে চাই—আপনাদের প্রত্যেককে সজাগ থেকে ভবিষ্যতে যেন ফ্যাসিবাদ বা উগ্রবাদ মাথাচাড়া দিতে না পারে, সেজন্য সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে।`
জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই সমাবেশে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছাত্রদলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।
সভায় তরুণদের সামনে বিএনপির বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, `বিএনপি এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায়, যেটা একজন মা কল্পনা করেন—যেখানে নতুন ও পুরাতন প্রজন্ম একত্রে এগিয়ে যাবে।`
পড়ুন: ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া যাবে না: ফখরুল
তিনি বলেন, `বর্তমানে দেশের ১৩ কোটির বেশি ভোটারের মধ্যে গত ১৫ বছরে প্রায় ৪ কোটি নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন। আপনারা ভোটার হলেও ফ্যাসিস্ট চক্র আপনাদের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছিল।`
আগামী জাতীয় নির্বাচনকে নতুন ভোটারদের জন্য একটি বড় সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, `এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে গত দেড় দশকে যারা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তাদের সবাইকে আহ্বান জানাই—আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ার বিএনপির পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমাদের পাশে দাঁড়ান।`
নতুন ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, `আপনার প্রথম ভোট ধানের শীষের পক্ষে হোক।`
তিনি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদেরও অনুরোধ করেন, যেন এই বার্তা দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থী ও তরুণের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়।
তারেক রহমান বলেন, `চলুন আজ প্রতিজ্ঞা করি—স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার যোগ্য নাগরিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলব। আজকের অঙ্গীকার হোক—তরুণদের প্রথম ভোট হোক ধানের শীষে।`
২১৫ দিন আগে
এনসিপির ‘নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার’ ঘোষণা
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বহুল আলোচিত ‘নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার’ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে। এ উপলক্ষে রবিবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে দলীয় নেতাকর্মীরা সমবেত হন।
‘জুলাই আন্দোলনের’ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দলটি বিচার প্রতিষ্ঠা, কাঠামোগত সংস্কার এবং একটি নবতর রাজনৈতিক দর্শনের কথা তুলে ধরে।
হাজার হাজার নেতাকর্মী, সমর্থক ও বিশ্লেষকের পাশাপাশি শিক্ষার্থী এবং প্রথমবারের মতো ভোটার হতে যাওয়া বিপুলসংখ্যক তরুণ এতে অংশ নেন। এতে দেশের রাজনৈতিক পরিসরে তরুণ প্রজন্মের ক্রমবর্ধমান সম্পৃক্ততা প্রতিফলিত হয়।
দলীয় নেতারা বলেন, বিচার, মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে একটি ঐক্যবদ্ধ জাতীয় উদ্যোগ প্রয়োজন।
পড়ুন: ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া যাবে না: ফখরুল
তারা ‘নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার’-কে জনগণকেন্দ্রিক একটি রোডম্যাপ হিসেবে উল্লেখ করেন, যা অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক শাসনের প্রতিশ্রুতি দেয়।
অনুষ্ঠানের প্রতীকী মঞ্চে লেখা ছিল— ‘বিচার। সংস্কার। ভবিষ্যৎ।’
আয়োজনে গত বছরের দুর্নীতি, বৈষম্য ও রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে ছাত্র ও তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ‘জুলাই আন্দোলনে’ নিহতদের জন্য ন্যায়বিচারের দাবি ছিল কেন্দ্রীয় বিষয়বস্তু।
‘নতুন বাংলাদেশ ঘোষণা’ শিরোনামে ৪৮ পৃষ্ঠার একটি নীতিপত্র ডিজিটাল ও মুদ্রিত—উভয় মাধ্যমেই প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ছয়টি মূল স্তম্ভের ভিত্তিতে এনসিপির নীতিগত অঙ্গীকার ও দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হয়েছে।
২১৫ দিন আগে