ব্যবসা
এফইএস রিটেইল বিরোধের সমাধানে একসঙ্গে কাজ করবে বিজিএমইএ-এলপিপি
এফইএস রিটেইলের (FES Retail) ইনভয়েস সংক্রান্ত দুটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের দাবিকে কেন্দ্র করে চলমান বিরোধের একটি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান নিশ্চিত করতে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) ও পোল্যান্ডের পোশাকের ব্র্যান্ড এলপিপি।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) এক যৌথ বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠান দুটি বাংলাদেশে আইনি নিশ্চয়তা, কর্মীদের সুরক্ষা এবং স্থিতিশীল ব্যবসায়িক প্রসার ও সহযোগিতা নিশ্চিত করার প্রতি তাদের পারস্পরিক অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছে।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এবং এলপিপির ডিরেক্টর—পারচেজিং অ্যান্ড ইএসজি ডোরোটা জানকোভস্কা-টমকৌ।
বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমানে প্রকাশ্যে আলোচিত বিষয়টি চুক্তিবদ্ধ ও ইনভয়েস সংক্রান্ত কিছু বকেয়া দায়ের দাবির সঙ্গে সম্পর্কিত। এসব দাবির ক্ষেত্রে এলপিপি কোনো দেনাদার বা অর্থ পরিশোধে আইনিভাবে বাধ্য থাকা পক্ষ নয়।
এলপিপি নিশ্চিত করেছে, বাংলাদেশে তাদের প্রত্যক্ষ সরবরাহকারী ও ব্যবসায়িক অংশীদারদের যাবতীয় দায়-দেনা তারা নিয়মিতভাবে এবং প্রযোজ্য চুক্তির শর্ত অনুযায়ী পরিশোধ করে।
বিজিএমইএ এলপিপির এই অবস্থান বিবেচনায় নিয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট দাবিগুলো সেই সব প্রতিষ্ঠানের কাছেই উপস্থাপন করা উচিত, যারা এসব দায়ের সঙ্গে আইনিভাবে আবদ্ধ। উভয় পক্ষ স্বীকার করেছে, ক্ষতিগ্রস্ত কারখানাগুলো কঠিন বাণিজ্যিক পরিস্থিতির সম্মুখীন।
তারা এ বিষয়ে একমত হয়েছে যে, এসব দায়-দেনা নিষ্পত্তির যেকোনো আলোচনা আইনিভাবে দায়বদ্ধ পক্ষের সঙ্গেই হওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে এলপিপি তার নিজস্ব আইনি অবস্থান অক্ষুণ্ন রেখে প্রয়োজন হলে গঠনমূলক সংলাপে সহায়তা করবে।
এলপিপি আরও নিশ্চিত করেছে, বাংলাদেশে সম্প্রতি তাদের কিছু সোর্সিং কার্যক্রম পর্যালোচনার মূল উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় কর্মীদের সুরক্ষা প্রদান, আইনি নিশ্চয়তা এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমের জন্য একটি স্থিতিশীল, অনুমানযোগ্য ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা।
বিবৃতিতে বলা হয়, এই পর্যালোচনা প্রস্তুতকারকদের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়নি এবং এটি এলপিপির নিজস্ব সব প্রত্যক্ষ চুক্তিভিত্তিক দায়বদ্ধতা মেনে চলার প্রতিশ্রুতিকে প্রভাবিত করে না।
বিজিএমইএ ও এলপিপি সম্মত হয়েছে, এলপিপির সঙ্গে বর্তমানে ব্যবসায়িকভাবে যুক্ত ৩৫০টিরও বেশি প্রস্তুতকারকসহ সমগ্র বাংলাদেশের পোশাক খাতের স্বার্থ যেন সীমিতসংখ্যক তৃতীয় পক্ষের মধ্যকার বিরোধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
এ কারণে ঢালাও বা বিভ্রান্তিকর কোনো প্রচার এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে উভয় পক্ষ। এ ধরনের প্রচার অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে অন্য প্রস্তুতকারক, কর্মী অথবা এলপিপি ও বাংলাদেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
একটি সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে বিজিএমইএ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, কর্তৃপক্ষ ও শিল্প অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে। এর মধ্যে এলপিপির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যেকোনো অনুচিত হয়রানি, চাপ বা ভিত্তিহীন আইনি জটিলতা থেকে সুরক্ষা প্রদানও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, আইনানুগ প্রক্রিয়ার স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন না করে এবং আইনিভাবে দায়ী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যেকোনো পক্ষের বৈধ দাবি উত্থাপনের অধিকার সীমাবদ্ধ না রেখেই এ বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।
বিজিএমইএ ও এলপিপি তাদের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্ব এবং বাংলাদেশের পোশাক খাতের প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের প্রতি যৌথ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
চলমান বিরোধের একটি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশে নিরাপদ, স্থিতিশীল ও নিরবচ্ছিন্ন ব্যবসায়িক কার্যক্রম বজায় রাখতে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে উভয় প্রতিষ্ঠান।
৭ দিন আগে
এআইভিত্তিক বাজার বিশ্লেষণ, আধুনিক ক্রয়ব্যবস্থায় যাচ্ছে টিসিবি
সরকারি ক্রয়ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-ভিত্তিক বাজার বিশ্লেষণ এবং সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)।
একই সঙ্গে ব্যয়ের প্রাক্কলন (কস্ট এস্টিমেট) আরও বাস্তবসম্মত করা, দরপত্রে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডকে অন্যান্য সরকারি সেবার কার্ডের সঙ্গে সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘টিসিবির কার্যক্রম মূল্যায়ন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ডব্লিউটিও) খাদিজা নাজনীন, অতিরিক্ত সচিব (আইআইটি) শিবির বিচিত্র বড়ুয়া এবং টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফয়সল আজাদ উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্য সচিব বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে টিসিবি দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে সময়ের চাহিদা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির ক্রয়ব্যবস্থা আরও আধুনিক ও তথ্যনির্ভর হওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ায় অফিসিয়াল কস্ট এস্টিমেট ও চূড়ান্ত চুক্তিমূল্যের মধ্যে ব্যবধান যত কম হবে, ততই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা ও কস্ট নির্ধারণের দক্ষতা প্রতিফলিত হবে।
এজন্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজার, প্রতিবেশী দেশের মূল্যপ্রবণতা এবং অতীতের বাজার তথ্য বিশ্লেষণ করে আরও নির্ভুল কস্ট এস্টিমেট প্রস্তুতের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আতাউর রহমান খান বলেন, সরকারি ক্রয়ে প্রতিযোগিতা বাড়াতে দরপত্রে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ানো জরুরি। এতে একদিকে যেমন একচেটিয়া প্রবণতা কমবে, অন্যদিকে সরকারি অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হবে।
তিনি আরও জানান, বাজার ব্যবস্থাপনা ও সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ায় এআইভিত্তিক বিশ্লেষণ যুক্ত করার লক্ষ্যে একটি কনসেপ্ট নোট প্রস্তুত করা হয়েছে। এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, টিসিবি, অর্থ বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফয়সল আজাদ বলেন, টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডকে অন্যান্য সরকারি কার্ডের সঙ্গে সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভোক্তাদের জন্য পণ্যের বাস্কেটে আরও প্রয়োজনীয় পণ্য যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি জানান, বরিশাল, রাজশাহী ও ঢাকায় মডেল স্টোর স্থাপন করা হবে। এছাড়া পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ই-জিপি পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
এই ব্যবস্থা চালু হলে কার্ড স্ক্যানের মাধ্যমে দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে মূল্য পরিশোধ করা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে টিসিবির ভর্তুকিপ্রাপ্ত পণ্যের সঙ্গে সাবান ও ডিটারজেন্ট বিক্রির বিষয়েও আলোচনা হয়। এ সময় জানানো হয়, এসব অতিরিক্ত পণ্য ক্রয় সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক; ভোক্তাদের জন্য কোনো বাধ্যবাধকতা থাকবে না।
এছাড়াও টিসিবির ডিজিটাল রূপান্তর, ক্রয়ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বাজার ব্যবস্থাপনা, সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে মতামত তুলে ধরেন অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা।
৩৩ দিন আগে
বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়তে সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন করছে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পায়ন সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি সক্ষমতা শক্তিশালী করতে ব্যবসা শুরু, লাইসেন্স প্রদান, বন্দর ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি খাতে দ্রুতগতিতে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে সরকার।
শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত ‘শিল্পখাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক উদ্যোগে সহযোগিতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। বিজিএমইএ’কে দেশের অন্যতম শক্তিশালী ও সংগঠিত ব্যবসায়িক সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাত, যেমন: চামড়া, পাট, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও জাহাজ নির্মাণ খাতে উন্নয়ন হলেও স্বল্পমেয়াদে কোনো খাতই তৈরি পোশাক শিল্পের সমপর্যায়ে পৌঁছাতে পারবে না। তাই অর্থনীতিতে এই খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বাংলাদেশকে একটি আকর্ষণীয় বৈশ্বিক বিনিয়োগ গন্তব্যে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। বর্তমানে ব্যবসা শুরু ও লাইসেন্স প্রাপ্তিতে গড়ে ৩৫৫ দিন সময় লাগলেও, এই সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোম্পানি নিবন্ধনের মাত্র ১৪ দিনের মধ্যেই উদ্যোক্তারা আমদানি নিবন্ধন সনদ (আইআরসি) এবং অন্যান্য প্রাথমিক অনুমোদন পেয়ে যাবেন, যার ফলে দ্রুত যন্ত্রপাতি আমদানি ও শিল্প স্থাপন সম্ভব হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বিভিন্ন সংস্থার পৃথক পরিদর্শনের পরিবর্তে সমন্বিত পরিদর্শন ব্যবস্থা চালু করা হবে। এতে উদ্যোক্তাদের হয়রানি কমবে এবং শিল্প স্থাপনের সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। পাশাপাশি ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে ট্রেড লাইসেন্স, কোম্পানি নিবন্ধন, শেয়ার হস্তান্তর ও কোম্পানি বিলুপ্তিসহ সকল সেবা অনলাইনে প্রদান করা হবে। এ ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার সফল মডেল অনুসরণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বন্দর ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক অপারেটরদের সম্পৃক্ততার ফলে কার্গো পরিচালনায় দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে, জাহাজের অপেক্ষার সময় কমবে এবং পরিবহন ব্যয় হ্রাস পাবে। এতে রপ্তানিকারক ও আমদানিকারকরা বৈশ্বিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে পৌঁছাতে পারবেন।
জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন ও এলএনজি আমদানির পাশাপাশি আরও একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে অতিরিক্ত সাড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।
তিনি বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান উৎপাদন শুরু করতে পারেনি। তাই নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার, যা শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তাদের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে একটি আধুনিক, দক্ষ ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে বাংলাদেশ বৈশ্বিক বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। স্বাগত বক্তব্য দেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের উপাচার্য ড. রুবানা হক। এ ছাড়াও, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের ফাউন্ডার কামাল আহমেদ, ইয়াংওয়ান করপোরেশনের চেয়ারম্যান কিহাক সাং এবং এইচএসবিসি ব্যাংকের হেড অব সাসটেইনেবিলিটি সৈয়দা আফজালুন নেসা বক্তব্য দেন।
আলোচনায় বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার কুতুবউদ্দিন আহমেদ এবং সাবেক সহ-সভাপতি ও ঊর্মি গ্রুপের বাবস্থাপনা পরিচালক আসিফ আশরাফসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
৫২ দিন আগে
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্য চুক্তিকে পারস্পরিক স্বার্থে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ‘যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি দুই পক্ষের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে। এতে উভয় পক্ষের স্বার্থের বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখেই একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। কাজেই এই চুক্তি নিয়ে অযথা উদ্বেগের কিছু নেই।’
মঙ্গলবার (৫ মে) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার এই চুক্তির সূচনাকারী নয়, তবে রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে এটি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত কোনো চুক্তি ব্যক্তিগত চুক্তির মতো নয় যে ইচ্ছামতো বাতিল করা যাবে। এটি একটি বাস্তবতা এবং আমরা সেটিকে দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগাতে চাই।
তিনি আরও জানান, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে, যার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাখ্যা চেয়েছে এবং প্রাপ্ত ব্যাখ্যার পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের অবস্থান ও পর্যবেক্ষণ জানানো হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছি, বিদ্যমান চুক্তির প্রেক্ষাপটে এ ধরনের তদন্ত শুরু না হলে তা আরও ইতিবাচক হতো।
বাংলাদেশের উৎপাদন ও বাণিজ্য বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে কোনো ক্ষেত্রেই ‘ওভার ক্যাপাসিটি’ নেই এবং বাংলাদেশ ডাম্পিং করে এমন অভিযোগও ভিত্তিহীন।
তিনি যোগ করেন, আমরা অধিকাংশ পণ্য আমদানি করি। যেগুলো রপ্তানি করি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত—তা কঠোর আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্সের মধ্যে পরিচালিত হয়। সেখানে শ্রম আইন লঙ্ঘন বা শিশুশ্রমের কোনো সুযোগ নেই।
চুক্তি বাতিলের প্রশ্নে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই সরকার জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে সবসময় দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়। কোনো চুক্তির কোনো ধারা যদি বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থী হয়, তা সংশোধনের সুযোগ সেই চুক্তির মধ্যেই রয়েছে।
তিনি এটিকে ‘সেলফ কারেক্টিং এলিমেন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, চুক্তির মধ্যেই সংশোধন বা সমন্বয়ের প্রয়োজনীয় বিধান রয়েছে। তাই এটি নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগ বা আতঙ্কের কোনো কারণ নেই।
বৈঠকে বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারসহ বিভিন্ন পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব রুটিন দায়িত্ব মো. আবদুর রহিম খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
১০৫ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৬১ হাজার টন গম নিয়ে জাহাজ চট্টগ্রামে
যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৬১ হাজার টন গম নিয়ে এমভি এমপি আল্ট্রাম্যাক্স-২ জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে সই হওয়া সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুযায়ী নগদ ক্রয় চুক্তি জি-টু-জি-০৩-এর আওতায় এ গম আনা হয়েছে।
এর আগে, একই চুক্তির আওতায় প্রথম চালানে ৫৮ হাজার ৪৫৭ মেট্রিক টন এবং দ্বিতীয় চালানে ৬২ হাজার ১৫০ মেট্রিক টন গম দেশে পৌঁছায়।
জাহাজে থাকা গমের নমুনা পরীক্ষার কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং দ্রুত খালাসের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মোট ৬১ হাজার মেট্রিক টন গমের মধ্যে ২৯ হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন চট্টগ্রাম বন্দরে এবং অবশিষ্ট ৩১ হাজার ৫৫০ মেট্রিক টন মোংলা বন্দরে খালাস করা হবে।
বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আমদানি কার্যক্রম শুরু করেছে। জি-টু-জি-০১ ও জি-টু-জি-০২ চুক্তির আওতায় আমদানিকৃত সব গম ইতোমধ্যে দেশে পৌঁছেছে।
উপরিউক্ত চুক্তি দুটির আওতায় প্রথমে ২ লাখ ৩৭ হাজার ৮৪৫ টন এবং দ্বিতীয় ধাপে ২ লাখ ৩০ হাজার ৩৯ টনসহ মোট ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৮৮৪ টন গম দেশে এসেছে।
দেশে গমের মোট চাহিদা প্রায় ৭০ লাখ টন, যার বিপরীতে স্থানীয় উৎপাদন প্রায় ১০ লাখ টন। অবশিষ্ট চাহিদা পূরণে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে গম আমদানি করা হয়।
১৩৯ দিন আগে
টানা চতুর্থ দফা কমল স্বর্ণের দাম, এবার ভরিতে ৭৬৪০ টাকা
দেশের বাজারে আবারও কমানো হয়েছে স্বর্ণের দাম। টানা চার দফা কমার ধারাবাহিকতায় এবার সবচেয়ে ভালো মানের (২২ ক্যারেট) স্বর্ণের দাম ভরিতে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা কমানো হয়েছে। এতে এক ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৬২৫ টাকা।
স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পাকা সোনা) দাম কমার পরিপ্রেক্ষিতে এই দাম কমানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয় বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এই দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে, গত ১৪ মার্চ ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম কমানো হয় ২ হাজার ৬৮৩ টাকা। তার আগে আরও দুদফা সোনার দাম কমানো হয়। অর্থাৎ টানা চার দফা সোনার দাম কমানো হলো।
এখন সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ৭ হাজার ৬৪০ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৬২৫ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৭ হাজার ৩৪৯ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৪৩ হাজার ১৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৬ হাজার ২৯৯ টাকা কমিয়ে নতুন দাম ২ লাখ ৮ হাজার ৩১৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনায় ৫ হাজার ১৩২ টাকা কমিয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৫৩ টাকা।
১৪ মার্চ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ২ হাজার ৬৮৩ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ২ হাজার ৫০৮ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার ৩৬৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ২ হাজার ১৩৭ টাকা কমিয়ে দাম ২ লাখ ১৪ হাজার ৬১৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনায় ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে দাম নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা। আজ সকাল ৯টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত এই দামেই সোনা বিক্রি হয়েছে।
এখন সোনার দাম কমানোর পাশাপাশি রুপার দামও কমানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৩৫০ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৭১৫ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ২৯২ টাকা কমিয়ে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ২৯১ টাকা কমিয়ে ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ২৩৩ টাকা কমিয়ে ৩ হাজার ৪৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
১৫২ দিন আগে
মার্চে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত থাকবে
মার্চ মাসে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম অপরিবর্তিত থাকবে।
সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে, যা আজ (রবিবার) সকালে প্রকাশ করা হয়।
সর্বশেষ গত ১ ফেব্রুয়ারি সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে দুই টাকা কমানো হয়েছিল। তখন ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ১০২ টাকা থেকে দুই টাকা কমে হয় ১০০ টাকা। এছাড়া দুই টাকা কমে প্রতি লিটার অকটেন ১২০ টাকা এবং পেট্রোল ১১৬ টাকা হয়। কেরোসিনের দাম প্রতি লিটার ১১৪ টাকা থেকে ২ টাকা কমে হয় ১১২ টাকা।
মার্চ মাসেও ভোক্তাপর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা বিক্রি হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমা-বাড়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে দেশে ভোক্তাপর্যায়ে প্রতি মাসে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করা হয়। এ কারণে জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ নির্দেশিকার (সংশোধিত) আলোকে মার্চ মাসে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে বলে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে।
১৭০ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক পরিস্থিতি এখনও বিকাশমান, পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত: বাণিজ্যমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক ও বাণিজ্যচুক্তির বিষয়গুলো এখনও বিকাশমান বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এ বিষয়টি নিয়ে আরও পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত পাল্টা শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করেছে। এর জবাবে তিনি নতুন বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের নির্দেশ দিয়েছেন। এই শুল্ক এবং দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সই করা বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে পরবর্তী করণীয় কী হবে, তা নির্ধারণে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ওই বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এ সময় বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম ও বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের এ বিষয়টি আসলে এখনও বিকাশমান, যেটাকে আমরা ইংলিশে বলি “ইভলভিং সিনারিও”। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সবোর্চ্চ আদালত আগের ধার্য্যকৃত শুল্ক আরোপযোগ্য নয় বলে ঘোষণা করেছে। এরপর তারা সব দেশের জন্য প্রথমে ১০ শতাংশ, পরে ১৫ শতাংশ ট্যারিফ ঘোষণা করেছে।
‘কিন্তু আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে শুধু ঘোষণা শুনছি, কিন্তু সরকারি পর্যায়ে লিখিত কিছু পাইনি। আর যুক্তরাষ্ট্র তাদের দেশের আইন অনুযায়ী ১২২ আইনি ব্যাখায় যা আছে, সেটা ১৫০ দিনের মধ্যে তাদের ইউএস কংগ্রেস কর্তৃক অনুমোদিত হতে হবে।
‘আর বাদ বাকি যা, টিভিতে আমরা দেখছি। সরকারি কোনো কাগজপত্র আসেনি। ফলে সিনারিওটা আবারও আমি বলব ইভলভিং।’
তিনি বলেন, এছাড়া বিগত সরকার কিছুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করেছে, সেটির ব্যাপারেও এখনও বলার মতো কোনো অবস্থা তৈরি হয়নি। আমরা দেখছি, এর পক্ষে-বিপক্ষে কী আছে। একটি চুক্তির পক্ষে-বিপক্ষে দুটি দিকই থাকবে, সেটা স্বাভাবিক। আমরা সেগুলো পর্যালোচনা করে দেখছি। এরপর করণীয় ঠিক করব।
বিগত অন্তবর্তীকালীন সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির বিষয়গুলো গোপন করা ও সেটা তড়িঘড়ি করে করেছে কিনা—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে জবাবে মন্ত্রী বলেন, কিছু নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট (অপ্রকাশযোগ্য চুক্তি) ছিল চুক্তি আলোচনার সময়। তবে এ চুক্তিটা একটি সেনসিটিভ ইস্যু (সংবেদনশীল বিষয়) ছিল। যাদের সঙ্গে চুক্তি, দেশটাও আমাদের জন্য অনেক সেনসেটিভ। বিভিন্ন কারণেই এই বিকাশমান পরিস্থিতিতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য করা ঠিক হবে না।
এদিকে শুল্ক ও চুক্তি বিষয়ে ব্যবসায়ীদের মন্তব্য প্রসঙ্গে বলেন, আমরা ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের ডেকেছি, চুক্তিসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কোন সেক্টরের কী সমস্যা। সেগুলো নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
বর্তমান দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যেসব পণ্য আমদানি তদারকি করে, সেসব পণ্যের দাম স্বাভাবিক রয়েছে বাজারে। তবে কিছু পণ্য একসঙ্গে অনেকে কেনার কারণে দাম বেড়ে গেছে; সেগুলো সবজি জাতীয়।
তিনি বলেন, রমজানের শুরুতে অনেকে একসঙ্গে এক মাসের বাজার করেন। বিক্রেতারাও পরিস্থিতির ও শূন্যতার সুযোগ নেন। ৪০-৫০ টাকার লেবু ১২০ হয়ে গেছে ওই পরিস্থিতিতে। এরপর কিন্তু ঠিকই আবারও আগের দামে ফিরে এসেছে।
চাঁদাবাজি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, চাঁদাবাজি বন্ধে এতদিন বিভিন্ন সরকার আশ্বাস দিলেও কাজ হয়নি। অপেক্ষা করেন, আমরা কাজ করে দেখাব।
১৭৪ দিন আগে
বেনাপোল দিয়ে দেশে ঢুকেছে ২১০০ টন ভারতীয় চাল
দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে ৬ দিনে ১৫টি চালানের মাধ্যমে ভারত থেকে মোট ২ হাজার ১০০ টন (নন বাসমতি) মোটা চাল আমদানি করা হয়েছে। আমদানি করা চালের এসব চালান বন্দরের ৩১ নম্বর ট্রান্সশিপমেন্ট ইর্য়াডে প্রবেশ করেছে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য নিশ্চিত করেন বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন।
হাজী মুসা করিম অ্যান্ড সন্স নামের একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এসব চাল আমদানি করেছে। আর আমদানি করা চাল ছাড়করণের কাজ করছে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মের্সাস ভূইয়া এন্টারপ্রাইজ।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ২৭ জানুয়ারি থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৬ কার্যদিবসে ১৫টি চালানের মাধ্যমে ২ হাজার ১০০ টন চাল আমদানি করা হয়েছে। এর আগে গত বছরের আগস্ট থেকে নভেম্বরে বেনাপোল বন্দর দিয়ে চাল আমদানি হয়েছিল ৬ হাজার ১২৮ টন। এরপর চলতি মাসের ১৮ জানুয়ারি ২৩২ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে ২ লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি দেয় সরকার।, যার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে আগামী ৩ মার্চ পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে আমদানি করা চাল বাংলাদেশে বাজারজাত করতে হবে।
হাজী মুসা করিম অ্যান্ড সন্সের স্বত্বাধিকারী আব্দুস সামাদ জানান, ভারত থেকে ৬ দিনে ৫৮টি ট্রাকে ২ হাজার ১০০ টন মোটা চাল আমদানি করেছি। আমদানিকৃত চালের প্রতি কেজি বেনাপোল বন্দর পর্যন্ত আমদানি খরচ পড়েছে ৫০ টাকা। খোলা বাজারে এই চাল প্রতি কেজি ৫১ টাকায় বিক্রি হবে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে বন্দর পরিচালক শামীম হোসেন বলেন, আমদানি করা চাল দ্রুত খালাসের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
১৮২ দিন আগে
রমজানে পুঁজিবাজারে লেনদেনে নতুন সময়সূচি
আসন্ন রমজান মাসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজারে লেনদেনের নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সময় লেনদেনের সময় প্রায় ১ ঘণ্টা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে ডিএসইর ব্যবস্থাপক (প্রকাশনা ও জনসংযোগ) মোহাম্মদ শাখাওয়াত-ই-এলাহি স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে ডিএসইর লেনদেন সকাল ১০ টায় শুরু হয়ে দুপুর ১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত চলবে। পোস্ট ক্লোজিং সেশন থাকবে ১টা ৪০ মিনিট থেকে ১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত।
তবে ডিএসই অফিসিয়াল কার্যক্রম সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত চলবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
রমজান মাস এবং ঈদুল ফিতরের ছুটির পর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের অফিস আগের নিয়মে চলবে। স্বাভাবিক সময়ে পুঁজিবাজারে লেনদেন চলে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত।
এর আগে রমজান মাসের জন্য ব্যাংকের অফিস ও লেনদেনের সময়সূচি পরিবর্তন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নতুন সূচি অনুযায়ী রমজান মাসে ব্যাংকে রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত লেনদেন হবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত। আর অফিস চলবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। আর শুক্রবার ও শনিবার থাকবে সাপ্তাহিক ছুটি।
১৮৩ দিন আগে