ব্যবসা
পোশাকশিল্পে অস্থিরতায় বিনিয়োগে প্রভাব পড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী
পোশাকশিল্পে সাম্প্রতিক অস্থিরতার প্রভাব দেশের বিনিয়োগে পড়বে না বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেন, কয়েক দিনের অস্থিরতা ইতোমধ্যে নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ড বিচার-বিশ্লেষণ করে শ্রমিকদের জন্য উপযুক্ত মজুরি নির্ধারণ করবে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভার পর সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে মালিকপক্ষ, বিদেশি বিনিয়োগকারী ও ক্রেতাদের মধ্যে সাময়িক উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে সাম্প্রতিক অস্থিরতার প্রভাব সীমিত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদি বিবেচনার বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, কয়েক দিনের পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে কোনো বিনিয়োগকারী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন না।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানির নিশ্চয়তা, সহজ ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া, বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ, সরকারের স্থিতিশীল নীতিসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়েই বিনিয়োগকারীরা সিদ্ধান্ত নেন।
জেলা প্রশাসন আয়োজিত আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
এ সময় তিনি শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সততা ও দেশপ্রেমের আদর্শ অনুসরণ করে দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি পর্যায়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ব্যাংকিং ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি সরকারকে এমন একটি জনবান্ধব সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে, যেখানে মানুষ প্রকৃত অর্থেই সেবা পাবে।
এছাড়া সীমান্ত হাট চালু ও স্থলবন্দরগুলোর পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহারের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এসব কার্যক্রম দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অন্য দেশেরও আগ্রহ ও সহযোগিতা প্রয়োজন। দুই দেশের সম্মিলিত উদ্যোগেই কার্যক্রম পুনরায় চালু ও সম্প্রসারণ করা সম্ভব।
সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য এম এ মালিক, অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ ও তাহসিনা রুশদির লুনা, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান, পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম এবং রেঞ্জ ডিআইজি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন।
২ ঘণ্টা আগে
দেশের বাজারে কমলো স্বর্ণের দাম
টানা তিন দফা বাড়ার পর দেশের বাজারে সোনার দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ হাজার ৭৩৯ টাকা বৃদ্ধি করে ভ্যাটসহ ২ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে বাজুস। স্থানীয় বাজারে তেজাবি (পাকা) সোনার মূল্য কমে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ১৬ হাজার ৭১৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৮৬ হাজার ৯৯ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫২ হাজার ৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এ দাম কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে বাজুস। তবে অলঙ্কারের নকশা অনুযায়ী মজুরি ভিন্ন হতে পারে। যেহেতু সোনা ও রূপার অলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকে, তাই গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না।
এছাড়া নির্ধারিত মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে অলঙ্কার ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময়ের ক্ষেত্রে বাজুসের বিদ্যমান নীতিমালা অপরিবর্তিত থাকবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এর আগে গত ৫ নভেম্বর সকালে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২৯ হাজার ৬৬৪ টাকা, ২১ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ১৯ হাজার ৩৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৮৮ হাজার ৩৭৪ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
চলতি বছর দেশের বাজারে সোনার দাম সমন্বয়ের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩৩ বার। এর মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছে, ৬৮ বার কমানো হয়েছে এবং একবার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। ওই বছর ৬৪ বার দাম বাড়ানো এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল।
১ দিন আগে
ডিসেম্বরে পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি কার্যকর, বাড়তি বেতন জানুয়ারি থেকে
পোশাকশ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি কাঠামো আগামী ডিসেম্বরে কার্যকর হবে। আর ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে শ্রমিকরা বাড়তি বেতন হাতে পাবেন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) তৈরি পোশাকশ্রমিকদের জন্য পুনর্গঠিত নিম্নতম মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা শেষে এ সময়সূচি জানানো হয়।
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় মজুরি বোর্ডের কার্যালয়ে সভা শেষে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি এ বি এম শামছুদ্দিন ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বাবুল আখতার যৌথভাবে এ ঘোষণা দেন।
নবনিযুক্ত বোর্ড চেয়ারম্যান এবং জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ আজাদ সুবহানী সভায় সভাপতিত্ব করেন।
পোশাক খাতে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ ও মজুরি বাড়ানোর দাবিতে ধারাবাহিক উচ্চপর্যায়ের আলোচনার মধ্যে পুনর্গঠিত বোর্ডের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হলো।
সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে সৈয়দ আজাদ সুবহানী বলেন, পরবর্তী সভায় মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা তাদের নিজ নিজ মজুরি প্রস্তাব জমা দেবেন।
বোর্ডের নিরপেক্ষ সদস্য একটি প্রস্তাব জমা দেবেন বলেও জানান চেয়ারম্যান। এরপর প্রস্তাবিত মজুরির হার নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে।
এর আগে গত রবিবার প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সরকার পোশাকশ্রমিকদের জন্য নিম্নতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন করে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন আহমদকে বোর্ডের নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুব ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেনকে যথাক্রমে মালিক ও শ্রমিকদের প্রতিনিধি করা হয়েছে।
একই দিনে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পরিচালক এ বি এম শামছুদ্দিন এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের (বিজিআইডব্লিউএফ) সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতারকে যথাক্রমে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের খাতভিত্তিক প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
পরে বুধবার আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান শেখ আশফাকুর রহমানকে বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) হিসেবে বদলি করে। একই সঙ্গে সৈয়দ আজাদ সুবহানীকে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়।
মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বদলির কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে তৈরি পোশাক খাতের পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।
বৈঠক শেষে দেশের প্রধান জাতীয় দৈনিকগুলোর সম্পাদকদের মাহমুদ হাসান খান বলেন, মজুরি বোর্ডের সময়সূচি দ্রুত ঘোষণা করা হলে পোশাকশ্রমিকরা আশ্বস্ত হবেন এবং এ খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
৩ দিন আগে
দেশে আবারও বাড়ল সোনার দাম
দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে সোনার দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা বৃদ্ধি করে ভ্যাটসহ ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুর ১টা ৪৫ মিনিট থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
তেজাবি (পাকা) সোনার দাম বাড়ায় দেশের বাজারে সোনা ও রূপার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এ দাম কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে বাজুস। তবে অলঙ্কারের নকশাভেদে মজুরির পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে।
বাজুস আরও জানিয়েছে, সোনা ও রুপার অলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না।
এছাড়া মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে অলঙ্কার বিনিময়ের ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ এবং ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দিতে হবে। এসব ক্ষেত্রেও আলাদাভাবে ভ্যাট নেওয়া যাবে না।
এর আগে গত ২ নভেম্বর সকালে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা, ২১ ক্যারেট ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
এদিকে দেশের বাজারে রূপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেট রূপা প্রতি ভরি ৩ হাজার ৪৯৯ টাকায়, ২১ ক্যারেট ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ হাজার ৯১৬ টাকায ও সনাতন পদ্ধতির রূপা ২ হাজার ২১৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
৩ দিন আগে
১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়ে ২,০৬০ টাকা
বাজারে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগের মধ্যেই ১২ কেজি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বাড়িয়ে দুই হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ভোক্তাদের ওপর আর্থিক চাপ আরও বাড়বে।
সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এলপিজির মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
এদিন রাত ৮টা থেকে নতুন মূল্যহার কার্যকর হবে বলেও জানানো হয়েছে।
এর আগে অক্টোবরে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে এক হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে রাজধানীতেই এ সিলিন্ডার দুই হাজার ২০০ থেকে দুই হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
মোটরযানে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানো হয়েছে।
নভেম্বর মাসের জন্য প্রতি লিটার অটোগ্যাসের ভোক্তা পর্যায়ের দাম ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৯১ টাকা ৯৫ পয়সা নির্ধারণ করেছে বিইআরসি।
৫ দিন আগে
মজুরি বোর্ড গঠন রবিবার, শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণ নেই: শ্রমমন্ত্রী
গার্মেন্টস শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে রবিবার মজুরি বোর্ড গঠন করা হবে জানিয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, এ অবস্থায় শ্রমিকদের আন্দোলনে থাকার কোনো কারণ নেই।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর বিজয়নগরে শ্রম ভবনে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শ্রমমন্ত্রী বলেন, শুক্রবার শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টার আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) নেতৃবৃন্দও শ্রমিকদের মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি মেনে নিয়েছেন। ফলে এ বিষয়ে আর কোনো বিরোধ থাকার কথা নয়।
তথ্য অধিদপ্তরের তথ্যবিবরণীতে আরও জানানো হয়েছে, শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধের বিষয়েও বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মন্ত্রীর আলোচনা হয়েছে।
সংগঠন দুটির নেতৃবৃন্দ মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে যত দ্রুত সম্ভব বকেয়া বেতন পরিশোধের উদ্যোগ নেবেন বলে আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন।
মজুরি বোর্ড গঠন ও বকেয়া বেতন পরিশোধের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এ অবস্থায় ভাঙচুর বা কারখানা বন্ধ রাখার প্রয়োজন নেই। এতে গার্মেন্টস শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিকরা কাজ করলেও বাইরে থেকে কিছু লোক এসে শ্রমিকদের উত্তেজিত করছে।
প্রকৃত শ্রমিক কারা এবং কারা আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন, তা গণমাধ্যমকে ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
প্রতিমাসের ৭ তারিখের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান শ্রমমন্ত্রী।
তবে তিনি উল্লেখ করেন, কারখানা বন্ধ থাকলে উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হবে। ক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে মালিকপক্ষ অর্থ পাবে না। ফলে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধেও সমস্যা তৈরি হতে পারে।
মন্ত্রী শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, শ্রমিকদের দাবি পূরণে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। তাই গার্মেন্টস শিল্পের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মালিক, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুর রহমান তরফদার, বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, বিজেএমইএর সহ সভাপতি মো. রেজওয়ান সেলিমসহ অন্যান্য প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
৭ দিন আগে
নভেম্বরে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত
নভেম্বর মাসের জন্য ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. এনামুল হকের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২০ সেপ্টেম্বর ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে নভেম্বর মাসের জন্যও এসব মূল্য অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত এ মূল্যহার আগামী ১ নভেম্বর থেকেও কার্যকর থাকবে।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নভেম্বর মাসেও ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা ও কেরোসিন ১৫৫ টাকায় বিক্রি হবে।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য এবং দেশের বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতির আওতায় প্রতি মাসে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করে সরকার।
৯ দিন আগে
ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী
আপাতত ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি আরও বলেন, রমজান সামনে রেখে আমদানিনির্ভর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার। রমজানের আগে, রমজানজুড়ে এবং পরে বাজার স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করছে সরকার।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
আসন্ন রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, রমজানকে সামনে রেখে আমদানিকারকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ভোজ্যতেল, ছোলা, ডাল, চিনিসহ বিভিন্ন পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ পাইপলাইনে রয়েছে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে এই সরবরাহ যথেষ্ট বলে মনে করেন তিনি।
ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘না, এই মুহূর্তে এরকম কোনো চিন্তাভাবনা নেই।’
তিনি আরও বলেন, ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে আমদানি করা তেলের দাম নির্ভর করে উৎসবাজারের মূল্য ও পরিবহন ব্যয়ের ওপর। উৎসবাজারে দাম বাড়লে বা পণ্য পরিবহনের ভাড়া বেড়ে গেলে আমদানি করা তেলের দামেও তার প্রভাব পড়ে। আবার উৎসবাজারে দাম ও পরিবহন ব্যয় কমলে পণ্যের দামও কমতে পারে।
রমজানের আগে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি কেমন থাকবে, তা আগাম নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ বা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে জাহাজের গতিপথ দীর্ঘ হলে কিংবা পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেলে পণ্যের দামে তার প্রভাব পড়তে পারে।
আমদানি বাধাগ্রস্ত হলে সরবরাহ সংকট এড়াতে সরকারের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হঠাৎ কোনো পরিস্থিতিতে যেন বাজারে পণ্যের ঘাটতি তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে। পর্যাপ্ত বুকিং ও পাইপলাইনে পণ্য রাখার মাধ্যমে সরবরাহব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা চলছে।
তবে বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ীদের আগাম পণ্য বুকিং দিতে সরকার বাধ্য করতে পারে না বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম ওঠানামার বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হয়। কোনো ব্যবসায়ীকে এখন নির্দিষ্ট দামে পণ্য বুকিং দিতে বাধ্য করার পর ঋণপত্র (এলসি) খোলার সময় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমে গেলে সেই দায় কে নেবে? একইভাবে পণ্য জাহাজে তোলার সময় পরিবহন ভাড়া নির্ধারিত হয়। ফলে সবকিছু আগাম নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
রমজান সামনে রেখে আমদানিকারকদের এলসি খোলার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে কি না, জানতে চাইলে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘এই মুহূর্তে সেটার কোনো প্রয়োজন দেখছি না। ব্যবসায়ীরা যদি কোথাও কোনো প্রতিবন্ধকতা অনুভব করেন, আমাদের জানালে তখন আমরা হস্তক্ষেপ করতে পারি।’
ছোলার দাম বেড়ে প্রতি কেজি ১১৫ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ছোলার দাম কিছুটা বেড়েছিল। বিষয়টি নিয়ে আমদানিকারকদের সঙ্গে আলোচনা করে কী করা যায়, তা দেখছে সরকার।
মৌসুমভেদে পণ্যের দামের ওঠানামা প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে সারা বছর প্রতিটি পণ্যের দাম একই রাখার মতো সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ আগে নেওয়া হয়নি। পেঁয়াজের উৎপাদন চাহিদার চেয়ে বেশি হলেও মৌসুমি ব্যবধানের কারণে দাম বাড়তে পারে। একইভাবে শাকসবজির দামেও মৌসুমি প্রভাব রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে কোল্ড স্টোরেজের ব্যবহার বাড়িয়ে কিংবা মৌসুমের বাইরে উৎপাদনের ব্যবস্থা করে সারা বছর পণ্যের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। শীতের সবজি বাজারে আসতে শুরু করায় ইতোমধ্যে সবজির দাম কমছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
১০ দিন আগে
দেশে সোনার দামে আবারও পতন, ভরিতে কমেছে ৩,৩২৪ টাকা
দেশের বাজারে আবারও সোনার দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে বাজুস। স্থানীয় বাজারে তেজাবি (পাকা) সোনা ও রূপার দাম কমায় দেশের বাজারেও সোনা-রূপার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এ দাম কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে বাজুস। তবে অলঙ্কারের নকশা অনুযায়ী মজুরি ভিন্ন হতে পারে। যেহেতু সোনা ও রূপার অলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকে, তাই গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না।
এছাড়া নির্ধারিত মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে অলঙ্কার ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময়ের ক্ষেত্রে বাজুসের বিদ্যমান নীতিমালা অপরিবর্তিত থাকবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এর আগে গত ২৩ অক্টোবর ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা, ২১ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
তবে দেশের বাজারে রূপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেট রূপা প্রতি ভরি ৩ হাজার ৮৪৯ টাকায়, ২১ ক্যারেট রূপা ৩ হাজার ৬৭৪ টাকায়, ১৮ ক্যারেট রূপা ৩ হাজার ১৪৯ টাকায় এবং ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে তৈরি রূপা ২ হাজার ৩৯১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
১৩ দিন আগে
খাদ্য ব্যবসায় বাধ্যতামূলক হলো নিবন্ধন ও লাইসেন্স
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা ও খাদ্য ব্যবসায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নির্ধারিত শ্রেণির খাদ্য ব্যবসা ও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে নিবন্ধন ও লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (২১ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ১৬ জুলাই ‘নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬’ গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। সে অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সব খাদ্য ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানকে আগামী ১ নভেম্বর থেকে প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ও লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হবে।
নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ ও নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬ অনুযায়ী, নির্ধারিত চার শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক লাইসেন্স, প্রিমিসেস লাইসেন্স, উৎপাদিত ও আমদানিকৃত পণ্যের লাইসেন্স এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত পণ্যের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসা ও খাদ্য স্থাপনার ক্ষেত্রে নিবন্ধন গ্রহণের বিধান রাখা হয়েছে।
পথের ধারের ভ্রাম্যমাণ বা অস্থায়ী খাবারের দোকান, ছোট রেস্তোরাঁ, আমদানিকারক, বড় খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানসহ খাবারের ব্যবসায় জড়িত সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিবন্ধন নিতে হবে।
প্রবিধানের তফসিলে খাদ্য ব্যবসাকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রচলিত ১৬ ধরনের খাদ্য ব্যবসার ক্ষেত্রে শুধু নিবন্ধনই যথেষ্ট হবে। তবে বিশেষ ধরনের বা সুপারফুড নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাইসেন্স নিতে হবে।
রেস্তোরাঁ, বেকারি, ফলের রসের দোকান, পেস্ট্রি শপ ও ক্যাটারিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিবন্ধন নিতে হবে।
প্যাকেটজাত বা মোড়কজাত খাবার উৎপাদনকারী, মিষ্টির দোকান, দুগ্ধপণ্য প্রস্তুতকারী ও আমদানিকারকদেরও নিবন্ধন করতে হবে। তবে কাঁচা ও তাজা খাবার আমদানির ক্ষেত্রে আলাদা বিধান রয়েছে। রাস্তার পাশে পিঠা, পুরি ও পেঁয়াজুর মতো খাবার বিক্রি করা ব্যক্তিদেরও নতুন নিয়মের আওতায় নিবন্ধন নিতে হবে।
এছাড়া পাইকারি মুদি খাদ্য ব্যবসা, কাঁচা ও তাজা খাদ্য আমদানি, খাদ্য সংরক্ষণাগার ও কোল্ড স্টোরেজ, ভোজ্যতেল ও ভোজ্য লবণ উৎপাদন, বিশেষ খাদ্য, পুষ্টিসমৃদ্ধ (ফর্টিফায়েড) খাদ্য, স্বাস্থ্য সহায়ক ও সম্পূরক খাদ্য, বিশেষ পথ্য, চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিশেষ পথ্য, প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিক খাদ্য, জৈব খাদ্য, কিরণ-প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, স্বতাত্ত্বিকভাবে পরিবর্তিত খাদ্য, অভিনব খাদ্য, ব্যবহারিক খাদ্য, একাধিক ধাপে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য এবং খাদ্য সংযোজন দ্রব্যের (ফুড অ্যাডিটিভস) উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, মজুত, আমদানি, রপ্তানি ও বিপণনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নির্ধারিত ব্যবসার জন্য নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
অন্যদিকে শিশুদের ফর্মুলা দুধ এবং বয়স্ক বা নির্দিষ্ট রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য তৈরি বিশেষ ধরনের খাবারের মতো বিশেষায়িত খাদ্যপণ্য নিয়ে কাজ করা চার শ্রেণির ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য বাধ্যতামূলক লাইসেন্সের বিধান রাখা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য সহায়ক ও সম্পূরক খাদ্য, বিশেষ পথ্য ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিশেষ পথ্য, প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিক খাদ্য এবং নিউট্রাসিউটিক্যালসহ অনুরূপ খাদ্যের উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, মজুত, আমদানি ও বিপণন।
এছাড়া বংশগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত বা সংশোধিত খাদ্য, জৈব খাদ্য, কিরণ-প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, স্বতাত্ত্বিকভাবে পরিবর্তিত খাদ্য, অভিনব খাদ্য, ব্যবহারিক খাদ্য, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য এবং নিরাপদ খাদ্য (বিজ্ঞাপন ও দাবি) প্রবিধানমালা, ২০২৫ অনুযায়ী স্বাস্থ্য সহায়ক দাবি বা রোগের ঝুঁকি হ্রাস-সংক্রান্ত দাবি রয়েছে—এমন খাদ্যের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসারে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও নিবন্ধন নিতে হবে।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬-এর তফসিল-১০-এ নির্ধারিত ফি পরিশোধ এবং সংশ্লিষ্ট প্রবিধানে বর্ণিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে আবেদন করতে হবে। বাধ্যতামূলক লাইসেন্সের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ফরম ৬.১, ৭.১, ৮.১ ও ৯.১ এবং নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ফরম ৫.১ অনুযায়ী আবেদন দাখিল করতে হবে।
পাশাপাশি কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে, নিবন্ধন বা লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক হওয়া সত্ত্বেও তা ছাড়া খাদ্য ব্যবসা পরিচালনা করা নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। এ কারণে সংশ্লিষ্ট খাদ্য ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ও লাইসেন্স নেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ হবে তিন বছর। এরপর সেগুলো নবায়ন করতে হবে। প্রবিধানমালা অনুযায়ী, প্রচলিত ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার জন্য প্রথমবার নিবন্ধন বিনা মূল্যে করা হবে।
সুপারফুড প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের প্রিমিসেস লাইসেন্সের ফি প্রতিষ্ঠানের আয়তনের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে। ১০০ বর্গমিটার বা তার কম আয়তনের প্রতিষ্ঠানের জন্য এ ফি ১০ হাজার টাকা। অন্যদিকে ১০ হাজার বর্গমিটারের বেশি আয়তনের প্রতিষ্ঠানের নতুন লাইসেন্স নিতে ৬০ হাজার টাকা ফি দিতে হবে।
প্রতিটি খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করতে হবে। এতে ভোক্তারা পণ্য দেখেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন রয়েছে কি না, তা জানতে পারবেন। এছাড়া নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করে যেকোনো অভিযোগ জানানো যাবে।
প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট জেলা কার্যালয়ে লাইসেন্স ও নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা যাবে। তবে কর্তৃপক্ষ ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ অনলাইনে আবেদন গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের মতে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে খাদ্য ব্যবসার নিবন্ধন ও লাইসেন্স কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি খাদ্যপণ্যের উৎপাদন ও বিপণন আরও সুশৃঙ্খল হবে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার কার্যক্রম অধিকতর কার্যকর হবে।
১৭ দিন আগে