বিশ্ব
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা শুরু: মার্ক কার্নি
মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর করারোপের পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করায় দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। রবিবার (২৯ জুন) এক বিবৃতিতে তিনি এমন তথ্য জানিয়েছেন।
এরআগে শুক্রবার কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর কানাডীয় শুল্কারোপের পরিকল্পনাকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সরাসরি ও প্রকাশ্য আক্রমণ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।
পরে একটি সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তির প্রত্যাশায় দ্য ডিজিটাল সার্ভস ট্যাক্স বা ডিজিটাল সেবা কর নামের ওই করারোপের পরিকল্পনা বাতিল করার কথা জানায় কানাডা। সোমবার থেকে এটি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
মার্ক কার্নির কার্যালয় জানিয়েছে, কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা শুরু করতে রাজি হয়েছেন ট্রাম্প।
এক বিবৃতিতে কার্নি বলেন, ‘আজকের ঘোষণার কারণে আগামী ২১ জুলাই সামনে রেখে আলোচনা শুরু সহজতর হবে। চলতি মাসে কানানাস্কিতে জি৭ নেতাদের সম্মেলনে এই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল।’আরও পড়ুন: কানাডার নির্বাচনে জয় পেল প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির লিবারেল পার্টি
গেল মে মাসে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন কার্নি। সেখানে তাকে বিনয়ী দেখালেও দৃঢ় ছিলেন। এদিকে আলবার্টায় জি৭ সম্মেলনে কানাডা সফর করেন ট্রাম্প। সেখানে মার্ক কার্নি বলেন, বাণিজ্য আলোচনার জন্য ৩০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করেছে কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র।
ডিজিটাল সেবা করের আওতায় অ্যামাজন, গুগল, মেটা, উবার এবং এয়ারবিএনবিসহ বিভিন্ন কোম্পানির কানাডীয় ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে অর্জিত আয়ের ওপর ৩ শতাংশ হারে কর বসানোর কথা ছিল।
২৫০ দিন আগে
ইরানের পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কখনোই বন্ধ হবে না: ইরাভানি
ইরানের পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কখনোই বন্ধ হবে না বলে দাবি করেছেন জাতিসংঘে দেশটির রাষ্ট্রদূত আমির-সাঈদ ইরাভানি। তিনি বলেন, পরমাণু অস্ত্রবিস্তাররোধ চুক্তির অধীনে শান্তিপূর্ণ জ্বালানির উদ্দেশ্যে তাদের এই প্রকল্প অনুমোদিত।
রবিবার (২৯ জুন) সিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সমৃদ্ধকরণ আমাদের অধিকার, এটি একটি অখণ্ড অধিকার এবং আমরা এই অধিকার বাস্তবায়ন করতে চাই।
তিনি আরও বলেন, ইরান আলোচনার জন্য প্রস্তুত, কিন্তু নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ আলোচনার নাম নয়, এটি আমাদের প্রতি একটি নীতি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা।আরও পড়ুন: ইরানে ইসরায়েলি হামলায় নিহতদের রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যানুষ্ঠান শুরু
তবে ইরাভানি বলেন, “তেহরান আলোচনার জন্য প্রস্তুত, কিন্তু এই আগ্রাসনের পর নতুন করে আলোচনা শুরুর মতো কোনো উপযুক্ত পরিবেশ নেই এবং প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক বা আলোচনার জন্য কোনো অনুরোধও নেই।”
জাতিসংঘে ইরানের এই দূত আরও দাবি করেন, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি কিংবা সংস্থার পরিদর্শকদের প্রতি তাদের সরকারের পক্ষ থেকে কোনো হুমকি নেই।
যদিও কিছু ইরানি কর্মকর্তা এই পরিদর্শকদের অভিযুক্ত করেছেন ইসরায়েলের হামলাকে যৌক্তিকতা দিতে তারা সাহায্য করছে বলে। বর্তমানে আইএইএ পরিদর্শকরা ইরানে অবস্থান করছেন, তবে তারা দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে প্রবেশের অনুমতি পাচ্ছেন না।
২৫০ দিন আগে
রাতভর ইসরায়েলি হামলায় গাজায় নিহত ৭২
ইসরায়েলের রাতভর হামলায় গাজায় আরও অন্তত ৭২ জন নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় শনিবার (২৮ জুন) সারা রাত ধরে চলা হামলায় নিহতের ওই সংখ্যা নিশ্চিত করেছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গাজার দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনিস শহরের কাছে মুওয়াসি এলাকায় একটি শরণার্থী শিবিরের তাঁবুতে ইসরায়েলি হামলায় তিন শিশুসহ তাদের বাবা-মা নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া, গাজা সিটির ফিলিস্তিন স্টেডিয়ামের কাছে আশ্রয় নেওয়া গৃহহীনদের মধ্যে ১২ জন নিহত হন বলে জানিয়েছেন শিফা হাসপাতালের কর্মীরা।
একই দিন দুপুরে গাজা শহরের পূর্বাঞ্চলে একটি রাস্তায় হামলায় ১১ জন নিহত হন। এ ছাড়া মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরের প্রবেশপথে জটলায় হামলা হলে আরও দুজন নিহত হন বলে জানিয়েছে আল-আওদা হাসপাতাল।
যুদ্ধবিরতি চুক্তির সম্ভাবনা আগামী সপ্তাহে
অন্যদিকে, দীর্ঘ ২১ মাসের যুদ্ধের পর পুনরায় যুদ্ধবিরতির আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন: এক সপ্তাহের মধ্যেই গাজা যুদ্ধবিরতি হতে পারে: ট্রাম্প
শুক্রবার (২৭ জুন) সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা গাজা পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করছি এবং এটি সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছি।’
এর আগে, চলতি বছরের মার্চে প্রথম দফার যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে পুনরায় গাজায় হামলা করে নেতানিয়াহু প্রশাসন। এরপর আরেকটি যুদ্ধবির কার্যকর করার লক্ষ্যে বেশ কয়েকবারই হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়, আবার তা স্থগিতও হয়।
এরই মধ্যে গাজায় মানবিক বিপর্যয় চরমে পৌঁছেছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েল আক্রমণের পর যে ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়েছিল, তাদের মধ্যে এখনও প্রায় ৫০ জন গাজায় রয়েছেন, যদিও এদের অর্ধেকেরও কম জীবিত আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের পর আবারও সাপ্তাহিক বিক্ষোভে অংশ নেন ইসরায়েলি জিম্মিদের পরিবার ও তাদের সমর্থকরা। তাদের অভিযোগ, জিম্মিদের মুক্ত না করে দিনের পর দিন গাজায় শুধু হামলাই চালানো হচ্ছে।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে শনিবার সন্ধ্যায় হামাসের হাতে জিম্মি নিমরোড কোহেনের ভাই ইয়োতাম কোহেন বলেন, ‘গাজায় আর কী করার বাকি আছে?’
তবে, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির পর ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের মতো গাজায়ও চুক্তির দিকে এগোনো সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অনেকে।
এদিকে, ইরান যুদ্ধের পর ব্যাপক জনসমর্থন পাচ্ছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এ পরিস্থিতিতে গাজায় যুদ্ধ অবসানের দিকে এগোলে তার অবস্থানের আরও উন্নতির আশা করা হচ্ছে। কিন্তু নেতানিয়াহুর জোট সরকারের কট্টর ডানপন্থিরা গাজায় যুদ্ধবিরতি চান না।
আরও পড়ুন: গাজায় আগ্রাসন: যুদ্ধবিরতির ‘খুব কাছাকাছি’ হামাস-ইসরায়েল
হামাস বারবার বলছে, গাজায় যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ হলেই তারা বাকি জিম্মিদের মুক্তি দিতে প্রস্তুত। তবে নেতানিয়াহু বলছেন, হামাসকে নিরস্ত্র ও নির্বাসনে পাঠানো ছাড়া তিনি যুদ্ধ শেষ করবেন না। এই দাবি অবশ্য হামাস বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি চুক্তির আলোচনা বারবারই ব্যর্থ হয়েছে। তবে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে এবার ইতিবাচক ইঙ্গিত মিলেছে।
যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভাঙার পর নিহত ৬ হাজারের বেশি
২০২৩ সালের পর থেকে ইসরায়েলের আগ্রাসনে ৫৬ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে এ বছরের মার্চে যুদ্ধবিরতি ভেঙে চালানো হামলায় এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৮৯ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি।
ইসরায়েলের দাবি, তারা কেবল সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়। হামাস সদস্যরা সাধারণ মানুষের মধ্যে অবস্থান নেয় বলে বেসামরিক হতাহতের দায় তাদেরও।
খাদ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে নিহত শত শত মানুষ
এদিকে, দ্বিতীয় দফায় ইসরায়েলে হামলায় গাজায় মানবিক পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। ২ মাসেরও বেশি সময় খাদ্য সরবরাহ বন্ধ রাখার পর গত মে মাসের মাঝামাঝি থেকে ইসরায়েল অল্প পরিমাণে ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে।
তবে এই ত্রাণ যেন ফিলিস্তিনিদের জন্য আরেক মরণফাঁদ। খাদ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে নিহত হয়েছেন শত শত মানুষ।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাস আগে গঠিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন খাদ্য বিতরণ শুরু করার পর থেকে অন্তত ৫০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইসরায়েলি সেনারা খাদ্য বিতরণ কেন্দ্রে যাওয়ার পথে জনতার ওপর গুলি চালিয়েছে।
তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, তারা শুধু সতর্কতামূলক গুলি ছুড়েছে এবং বেসামরিক লোকজন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনাগুলো তারা তদন্ত করছে।
আরও পড়ুন: খাবারের জন্য বের হয়ে ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারাচ্ছেন ক্ষুধার্ত ফিলিস্তিনিরা
খাদ্য সংগ্রহের জন্য হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে ইসরায়েলি সেনা-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল পেরিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাঁটতে হচ্ছে।
জাতিসংঘের উদ্যোগে সামান্য খাদ্য বিতরণের প্রচেষ্টাও নানা বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। সশস্ত্র গোষ্ঠীর লুটপাট ও ত্রাণবাহী ট্রাক ঘিরে জনতার ভিড়ে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
শনিবারও গাজার উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মাঝামাঝি নেটজারিম করিডোরে ত্রাণের জন্য অপেক্ষা করার সময় ইসরায়েলি গুলিতে নিহত হন দুজন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
২৫১ দিন আগে
নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচন: মুসলমানদের মধ্যে আশা জাগাচ্ছেন মামদানি
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের মেয়র প্রার্থী হিসেবে ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়ন পেয়ে ইতিহাস গড়েছেন দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম রাজনীতিবিদ জোহরান মামদানি। তার এ সাফল্য নিউইয়র্কের ৩ লাখেরও বেশি দক্ষিণ এশীয় এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন করে আশা জাগিয়েছে।
মামদানির দীর্ঘ ১৫ বছরের বন্ধু ও জনপ্রিয় কমেডিয়ান হরি কন্দাবোলু বলেন, ‘আমার মা তার পরিচিতদের টেক্সট দিয়ে মামদানির জন্য ভোট চেয়েছেন। এমনটা আগে কখনও দেখিনি। এই নির্বাচনে আমাদের পুরো পরিবার সম্পৃক্ত হয়েছে—যেন এটা আমাদের জন্য ব্যক্তিগত ব্যাপার।’
শুরুতে মামদানিকে অনেকেই আনকরা প্রার্থী মনে করেছিলেন। কিন্তু সিটির সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমোকে হারিয়ে ৩৩ বছর বয়সী এই ডেমোক্রেটিক সোশালিস্ট এখন নিউইয়র্কের প্রথম এশীয় ও মুসলিম মেয়র হওয়ার দ্বারপ্রান্তে।
ভারতীয় বাবা-মায়ের সন্তান মামদানি ১৯৯১ সালে উগান্ডার কাম্পালায় জন্মগ্রহণ করেন। ৭ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি। পরে, ২০১৮ সালে দেশটির নাগরিকত্ব লাভ করেন।
হরি কন্দাবোলু বলেন, ‘নিউইয়র্ক সবসময়ই বৈচিত্র্যের শহর, কিন্তু ৯/১১’র পর থেকে মুসলিম ও দক্ষিণ এশীয়দের মনে প্রশ্ন জেগেছিল, এই শহর কি আমাদেরও? এখন ২৫ বছর পর সেই একই শহরে একজন দক্ষিণ এশীয় মুসলিম মেয়র নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন, এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য।’
মামদানির নির্বাচনি ক্যাম্পেইন ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশীয় ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। অনেকের কাছে তার জয় বর্ণবাদ ও বিদেশি বিদ্বেষের (জেনোফোবিয়া) বিপরীতে একটি ইতিবাচক বার্তা।
দক্ষিণ এশিয়ভিত্তিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘দ্য জাগারনট’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও স্নিগ্ধা সুর বলেন, ‘মামদানির উত্থান শুধু আমেরিকাতেই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের দক্ষিণ এশীয়দের মধ্যেও আলোড়ন তুলেছে।
মিশিগানের বাসিন্দা ও ভারতের জন্ম নেওয়া মুসলিম আমেরিকান থাসিন সরদার বলেন, ‘এই জয় আমাকে আবারও মানুষ ও জনগণের ওপর আস্থা ফিরিয়ে দিয়েছে।’
নিউইয়র্কের ভোটার জাইনাব শাব্বির বলেন, ‘আমার পরিবার ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ফোন দিয়ে বলেছে, এত বড় শহরের মেয়র পদে একজন দক্ষিণ এশীয় মুসলিম জয়ী হওয়া দারুণ ব্যাপার।’
তবে শাব্বিরের জন্য মামদানির রাজনৈতিক আদর্শ ছিল বড় কারণ। তিনি বলেন, ‘তার ক্যাম্পেইন আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। অনেক মুসলিমই শুধু দেশের বাইরে রাজনীতিতে আগ্রহী, অথচ এখানেও আমাদের সম্পৃক্ত হওয়া দরকার। মামদানি সেই সুযোগ তৈরি করছেন।’
প্রতিনিধি রো খান্না মামদানির ক্যাম্পেইনের প্রশংসা করে বলেন, ‘তিনি নিজের শিকড় ও সংস্কৃতি থেকে দূরে সরে যাননি। হিন্দি গান, বলিউডের ভিডিওর মাধ্যমে নিজেকে উপস্থাপন করেছেন। অথচ তার অর্থনৈতিক বার্তা ছিল খুব শক্তিশালী—বাসাভাড়া, জীবনযাত্রার ব্যয় ইত্যাদি নিয়ে।’
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তানজিলা রহমান বলেন, ‘অভাবের মধ্যে নিউইয়র্কে বেড়ে উঠেছি। মামদানির মতো কাউকে দেখে মনে হয়েছে—অবশেষে কেউ আমাদের কথাও শুনছে।’
পারিবারিক পটভূমি ও বিতর্ক
মামদানির মা বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নায়ার, বাবা কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মাহমুদ মামদানি। কুইন্সে বড় হয়ে নামকরা ব্রঙ্কস হাইস্কুল অব সায়েন্সে পড়াশোনা করেছেন তিনি।
প্যালেস্টাইন ইস্যুতে তার শক্ত অবস্থান মুসলিমদের মধ্যে জনপ্রিয়তা বাড়ালেও কিছু ইহুদি সংগঠনের সমালোচনাও কুড়িয়েছেন। তবে কিছু ইহুদি রাজনীতিবিদ ও অ্যাক্টিভিস্ট তার পাশে দাঁড়িয়েছেন।
ইসলামবিদ্বেষের মুখে দৃঢ় অবস্থান
তবে মামদানি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রকাশ্যে ‘যুদ্ধাপরাধী’ আখ্যা দেওয়ায় কিছু মহলে ক্ষোভ এবং উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।মামদানির বিজয়ের পর ডানপন্থী মহলে আবারও অভিবাসী ও মুসলিম বিদ্বেষ উসকে ওঠেছে। তবুও, তরুণ প্রজন্মের ব্যাপক ভোটার অংশগ্রহণ এই বিভেদ কাটিয়ে জয় এনে দিয়েছে বলে মনে করেন তার সমর্থকরা।
কমেডিয়ান হরি কন্দাবোলু বলেন, ‘নতুন প্রজন্ম তাদের কণ্ঠস্বর শুনিয়েছে। শুধু ভোট দিয়েই নয়, পরিবার, বন্ধুদেরও যুক্ত করেছে। এটাই তো আসল বিজয়।’
২৫১ দিন আগে
কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা বন্ধ করল যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর ‘অন্যায় কর’ আরোপের অভিযোগ এনে কানাডার সঙ্গে চলমান বাণিজ্য আলোচনা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কানাডার নতুন এই ডিজিটাল করকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সরাসরি ও প্রকাশ্য আক্রমণ বলে অভিহিত করেছেন তিনি।
শুক্রবার (২৭ জুন) রাতে ট্রাম্প ব্যক্তিগত সামাজিকমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালের এক পোস্টে বলেন, ‘কানাডা খুবই কঠিন এক বাণিজ্যিক অংশীদার। এখন দেশটি আমাদের প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর ডিজিটাল কর বসাচ্ছে। এটি আমাদের দেশের ওপর সরাসরি ও স্পষ্ট আক্রমণ।’
তিনি বলেন, ‘তারা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইউ) পথ অনুসরণ করছে। ইউ একই কাজ করেছিল এবং বর্তমানে তাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আমাদের আলোচনা চলছে। এই অনৈতিক করের কারণে, আমরা কানাডার সঙ্গে সমস্ত বাণিজ্য আলোচনা এখনই বাতিল করছি। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশে তাদের কী পরিমাণ শুল্ক দিতে হবে, তা আগামী সাত দিনের মধ্যে কানাডাকে জানিয়ে দেওয়া হবে।’
যুক্তরাষ্ট্র চীনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দুর্লভ খনিজ সরবরাহ নিয়ে সফল চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পরেই দেশটির শেয়ার বাজারে ব্যপক উন্নতি দেখা গেছে। এর মাঝেই ট্রাম্পের কানাডা বিষয়ক ঘোষণাটি এল।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বে আদেশ কার্যকর হচ্ছে
এর আগে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি চলতি মাসে অ্যালবার্টায় অনুষ্ঠিত জি৭ সম্মেলনে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর বলেছিলেন, ‘আগামী ৩০ দিনের মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তির জন্য আলোচনা এগিয়ে নিতে দুই দেশই সম্মত হয়েছে।’
তবে আগামী সোমবার থেকে কার্যকর হতে যাওয়া কানাডার নতুন ডিজিটাল সার্ভিসেস ট্যাক্স নিয়ে আলোচনার অগ্রগতি থমকে গেছে। এতে গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট, অ্যামাজন, মেটাসহ মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্টদের বছরে আনুমানিক ৩০০ কোটি ডলার গুনতে হতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে উত্তর আমেরিকার দুই বড় অর্থনীতি ও অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক সহযোগী বা অংশীদারের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হলো বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
২৫১ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বে আদেশ কার্যকর হচ্ছে
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে দেশটির নিম্ন আদালতসমূহের ‘নেশনওয়াইড ইনজাংশন’ বা পুরো দেশে একসঙ্গে আদেশ জারির ক্ষমতা সীমিত করেছে। এর ফলে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বন্ধের উদ্যোগ আংশিক কার্যকরের পথ খুলে গেছে। এর আগে, ট্রাম্পের বেশ কয়েকটি আদেশ বাতিল করেছিলেন দেশটির নিম্ন আদালতের বিচারকরা।
শুক্রবার (২৭ জুন) সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া ওই রায়ে বলা হয়েছে, কোনো ফেডারেল আদালতের আদেশ পুরো দেশের জন্য একই সঙ্গে বাধ্যতামূলক নয়। এখন থেকে শুধু মামলার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সংগঠনের ক্ষেত্রেই এসব আদেশ প্রযোজ্য হবে।
এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনল। আগে দেশটির ৯৪টি জেলা আদালতের এক হাজারের বেশি বিচারক পুরো যুক্তরাষ্ট্রে একসঙ্গে যেকোনো সরকারি নীতিমালা স্থগিতের আদেশ দিতে পারতেন। এখন সেই ক্ষমতা সীমিত করা হলো।
তবে আদালত এখনও জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের ওপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার আদেশ পুরোপুরি বৈধ কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত রায় দেয়নি।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট ভিসার আবেদনকারীদের জন্য নতুন নির্দেশনা
এর আগে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বাস করা অভিবাসীদের জন্ম নেওয়া শিশুদের নাগরিকত্ব পাওয়ার নিয়ম বাতিলের ঘোষণা দেন।
এ সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে বিভিন্ন রাজ্য ও অধিকারকর্মীরা দাবি তোলেন।
ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বাধীন কয়েকটি অঙ্গরাজ্য, মানবাধিকার সংগঠন এবং অভিবাসীদের পক্ষে কাজ করা বিভিন্ন গ্রুপ এ নিয়ে আদালতে মামলাও করেছে। এরপর আদালত সেই আদেশ সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে।
কিন্তু সর্বোচ্চ আদালতের সর্বশেষ রায়ের ফলে এই আদেশ এখন কেবল মামলাকারীদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য অংশে ট্রাম্পের আদেশ আংশিকভাবে কার্যকর হতে পারে।
রায়ের পর এটিকে বড় জয় বলে আখ্যায়িত করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ‘এই রায়ের মাধ্যমে ভুলভাবে পুরো দেশে আদেশ জারির পথ বন্ধ হলো। এখন আমরা প্রয়োজনীয় নীতিমালা কার্যকর করতে পারব।’
এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন জানিয়েছে, আদালতের এ রায় সরকারের হাতে একটি ‘অবৈধ ও নিষ্ঠুর’ আদেশ আংশিক বাস্তবায়নের সুযোগ করে দিচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ রায়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং নতুন আইনি লড়াই শুরুর আশঙ্কা রয়েছে।
১৮৬৮ সালে গৃহযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের ১৪তম সংশোধনীর মাধ্যমে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা হয়, যা ১৮৯৮ সালে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের এক ঐতিহাসিক রায়ে আরও সুস্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
২৫১ দিন আগে
এক সপ্তাহের মধ্যেই গাজা যুদ্ধবিরতি হতে পারে: ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তার বিশ্বাস এক সপ্তাহের মধ্যেই ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে গাজা যুদ্ধবিরতি হতে পারে।
শুক্রবার (২৮ জুন) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই কথা জানান ট্রাম্প। তার দাবি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলাপের পর যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে তিনি আশাবাদী।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা মনে করি, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই যুদ্ধবিরতি হতে পারে।’ তবে তিনি কার সঙ্গে কথা বলেছেন, এ সময় তা প্রকাশ করেননি।
ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য-বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের দপ্তর অবশ্য গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য দিতে পারছে না।
বাইডেন সরকারের সময় গাজায় যে যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় চুক্তি হয়েছিল, সেটির অন্যতম মধ্যস্থতাকারী ছিলেন উইটকফ। তবে, মার্চে ইসরায়েল চুক্তি লঙ্ঘন করে আকস্মিক বিমান হামলা শুরু করলে সেই চুক্তি ভেঙে যায়।
এদিকে, কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদক নুর ওদ শুনিয়েছেন ভিন্ন কথা। তিনি জানান, ট্রাম্পের এই মন্তব্য গাজার ক্ষুধার্ত ও নিপীড়িত জনগণের জন্য আশার বাণী হতে পারে। তবে, বাস্তবে এই মুহূর্তে কোথাও কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হচ্ছে না।
তিনি বলেন, ‘ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির পর এই আলোচনা কিছুটা বেড়েছে। তবে ইসরায়েল এখনই গাজায় যুদ্ধ থামানোর কথা আলোচনা করতে চায় না।’
এই বিশ্লেষকের মতে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এই মুহূর্তে গাজায় যুদ্ধবিরতির কথা বললে উল্টো তিনিই রাজনৈতিকভাবে বড়সড় ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
বিভিন্ন সূত্রের বরাতে ওদ আরও বলেন, ‘আরব দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চাইলে নেতানিয়াহুকে কোনো না কোনোভাবে যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি দিতে হতে পারে। এই সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ প্রচেষ্টা মূলত ট্রাম্প প্রশাসনই এগিয়ে নিচ্ছে।’
অন্যদিকে হামাস বলছে, ইসরায়েলকে গাজায় সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে এবং তারা মার্চ থেকে যেসব অঞ্চল দখল করেছে, তা ছেড়ে দিতে হবে। এরপরই তারা যুদ্ধবিরতিতে যাবে।
হামাসের দাবি, যুদ্ধবিরতির পরবর্তী আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই নিশ্চয়তা দিতে হবে। পাশাপাশি ইসরায়েল যেন পুনরায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করতে না পারে, তারও নিশ্চয়তা চেয়েছে এই সংগঠনটি।
ইসরায়েলের কৌশল-বিষয়ক মন্ত্রী রন ডারমার আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে যাওয়ার কথা রয়েছে। এই সফরে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে গাজা, ইরান ও নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে আলোচনা করবেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।
২৫১ দিন আগে
ইরানে ইসরায়েলি হামলায় নিহতদের রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যানুষ্ঠান শুরু
তেহরানে ইসরায়েলের হামলায় নিহত শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও পরমাণু বিজ্ঞানীসহ প্রায় ৬০ জনের রাষ্ট্রীয় জানাজা শুরু হয়েছে। তেহরান ছাড়াও দেশজুড়ে বিভিন্ন শহরে একই ধরনের রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে জানানো হয়েছে, শহিদদের সম্মান জানাতে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে।
শনিবার (২৮ জুন) সকালে দেশটির রাজধানী তেহরানের ইনকিলাব স্কয়ারে জানাজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সেখান থেকে আজাদি স্কয়ারের দিকে শোকযাত্রাটি শেষ হওয়ার কথা।
সম্প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, শোকাতুর জনতা শোকের কালো পোশাক ও ইরানের পতাকা হাতে সমবেত হয়েছেন।
ইরানের আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো এর মধ্যেই নিহত শীর্ষ সামরিক ব্যর্ক্তি ও কর্মকর্তাদের কফিনের ছবি প্রকাশ করেছে।
আরও পড়ুন: সংঘাত থেকে কী পেল ইরান-ইসরায়েল?
নিহতদের মধ্যে আছেন ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মোহাম্মদ বাঘেরি, বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রধান কমান্ডার হোসেইন সালামি এবং আইআরজিসির বিমান শাখার প্রধান কমান্ডার আমির আলী হাজিজাদেহ।
২৫২ দিন আগে
জাপানে ৯ নারীকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে ‘টুইটার কিলার’র মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
জাপানে ৯ নারীকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে বহুল আলোচিত ‘টুইটার কিলার’ নামে পরিচিতি পাওয়া সিরিয়াল খুনির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। ২০১৭ সালে টুইটারে পরিচয় হওয়া অল্পবয়ষ্ক নারীদের হত্যার ঘটনাগুলো ঘটান দণ্ড পাওয়া ওই ব্যক্তি। ২০২২ সালে দেশটিতে পুনরায় সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড চালুর পর প্রথম কার্যকরের ঘটনা এটি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে জানা যায়, ৩৩ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির নাম তাকাহিরো শিরাইশি। তিনি, মূলত টুইটারের মাধ্যমে হতাশাগ্রস্ত ও আত্মহত্যাপ্রবণ তরুণীদের ফাঁদে ফেলতেন। পরে নিজ বাসায় ডেকে নিয়ে গিয়ে তাদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করতেন। এরপর তাদের মৃতদেহ টুকরো টুকরো করতেন এই ব্যক্তি। তার শিকারদের বেশিরভাগই ১৫ থেকে ২৬ বছর বয়সী নারী।
২০২০ সালের ডিসেম্বরে এই বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণার সময় আদালত কক্ষে প্রবেশের জন্য শত শত মানুষ ভিড় করেন। আদালত তাকাহিরো শিরাইশির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। সম্প্রতি তার মৃত্যদণ্ড কার্যকর হয়। জানা যায়, ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে পুলিশ নিখোঁজ এক তরুণীর সন্ধানে টোকিওর নিকটস্থ জামা শহরের তার অ্যাপার্টমেন্টে গেলে নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডগুলো সামনে আসতে থাকে। পুলিশ ওই ফ্ল্যাট থেকে ৯টি মৃতদেহের টুকরো অংশ কুলার ও টুলবক্সে সংরক্ষিত অবস্থায় উদ্ধার করে। যা স্থানীয় গণমাধ্যমে ‘হরর হাউজ বা ভৌতিক বাড়ি’ নামে পরিচিতি পায়।
ঘটনাটি উদঘাটনের পরই এটি জাপানের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
যেভাবে ভয়ংকর ফাঁদে ফেলতেন তরুণীদের
সিরিয়াল খুনি শিরাইশির টুইটারে প্রোফাইলে লেখা ছিল, ‘কষ্টে থাকা ব্যক্তিদের সাহায্য করতে চাই। প্রয়োজনে সরাসরি মেসেজ দিন।’ এই ছদ্মবেশে তিনি আত্মহত্যায় ইচ্ছুক ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। এমনকি, কখনও কখনও তিনি নিজেও ওই ব্যক্তিদের সঙ্গে আত্মহত্যা করবেন বলে তাদের ফাঁদে ফেলতেন।
আরও পড়ুন: থাইল্যান্ডে গাঁজা কিনতে লাগবে প্রেসক্রিপসন!
পরে শিরাইশি আদালতে ওই ৯জন হতাশাগ্রস্ত ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ স্বীকার করেন। যদিও তার আইনজীবীরা দাবি করেন, ভিকটিমরা নিজের ইচ্ছায় মৃত্যুবরণ করতে চেয়েছিলেন। তাই এটি ‘সম্মতির সঙ্গে হত্যা’ হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। তারা শিরাইশির মানসিক অবস্থা মূল্যায়নেরও দাবি জানান।
তবে নিজেই আইনজীবীদের সেই যুক্তি নাকচ করে শিরাইশি বলেছিলেন, ‘ভিকটিমদের কেউই তাকে সম্মতি দেননি। তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের হত্যা করেছেন।’
এ ঘটনা সেইসময় জাপান জুড়ে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি করেছিল। এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় নীতিমালা সংশোধন করতে বাধ্য হয়েছিল টুইটার (বর্তমানে এক্স) কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে জাপানের আইনমন্ত্রী কেইসুকে সুজুকি জানান, ‘তাকাহিরো শিরাইশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।’ বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘শিরাইশি নিছক নিজের যৌন এবং আর্থিক আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য এইসব বর্বর হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল।’
২৫২ দিন আগে
থাইল্যান্ডে গাঁজা কিনতে লাগবে প্রেসক্রিপসন!
থাইল্যান্ডে আবারও গাঁজার ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে। এখন থেকে, দেশটিতে গাঁজা কিনতে প্রয়োজন হবে প্রেসক্রিপসন বা ডাক্তারি ব্যবস্থাপত্র।
এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে ২০২২ সালে গাঁজা বৈধ করে আলোড়নের সৃষ্টি করেছিল থাইল্যান্ড। এতে দেশটির পর্যটন ও কৃষি খাতে নতুন দিগন্ত খুলে যায়। তবে শিশুদের মধ্যে আসক্তি ও অনিয়ন্ত্রণ কেনাবেচা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ে দেশটি।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) খবর অনুযায়ী, গাঁজা নিয়ন্ত্রণে আবারও কঠোর হওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে থাইল্যান্ড সরকার।
গত মঙ্গলবার (২৪ জুন) দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী সোমসাক থেপসুয়েতিন এক আদেশের মাধ্যমে সব দোকানে প্রেসক্রিপশন ছাড়া গাঁজা বিক্রি নিষিদ্ধ করেন। এ ছাড়া, গাঁজা ফুলকে ‘নিয়ন্ত্রিত ভেষজ’ হিসেবে পুনরায় শ্রেণিকরণের প্রস্তাব দেন তিনি।
বুধবার (২৫ জুন) দেশটির মাদক নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের মহাসচিব ফানুরাত লুকবুন জানান, তার সংস্থা এরই মধ্যে নতুন নিয়ম বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। তবে, কবে নাগাদ এই নির্দেশনা কার্যকর হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি তিনি।
সবশেষ নির্বাচনের আগে ক্ষমতাসীন ফেউ থাই পার্টি গাঁজাকে আবারও অপরাধ হিসেবে ঘোষণার প্রতিশ্রুতি দিলেও জোটসঙ্গী ভুমজাইথাই পার্টির বাধার মুখে তা সম্ভব হয়নি।
ভুমজাইথাই পার্টি দেশটিতে গাঁজা বৈধ করেছিল। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন শিনাওয়াত্রা ও কম্বোডিয়ান নেতা হুন সেনের ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার পর তারা সরকার ত্যাগ করতেন। এতে ক্ষমতাসীন দলটির জন্য গাঁজার ওপর কড়াকড়ি আরোপ আরও সহজ হয়েছে।
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সোমসাক জানান, তিনি ভবিষ্যতে গাঁজাকে পুনরায় মাদক হিসেবে তালিকাভুক্ত করতে চান।
গত মাসে দেশটির সরকারি প্রতিবেদনে দেখা যায়, বৈধকরণের পর থাইল্যান্ড থেকে পর্যটকদের মাধ্যমে গাঁজা পাচার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
থাইল্যান্ডের মাদক নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের এক গবেষণায় দেখা গেছে, গাঁজা বৈধ হওয়ার পর দেশটিতে এর আসক্তির হার বেড়ে গেছে। ফলে সরকারও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নিচ্ছে।
সরকারি মুখপাত্র জিরায়ু হউংসাব এক বিবৃতিতে জানান, ‘দেশব্যাপী অসংখ্য দোকানে গাঁজা বিক্রি করা হয়। এর ফলে শিশুসহ সাধারণ মানুষের এটি আরও সহজলভ্য হয়েছে। অথচ সরকারের উদ্দেশ্য ছিল মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান।’
এদিকে, সরকারি সিদ্ধান্তের খবরে তার বিরোধিতা করে আন্দোলনে নেমেছে গাঁজা বৈধকরণের পক্ষের লোকজন। তাদের দাবি, নতুন নিষেধাজ্ঞাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
আগামী মাসে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সামনে বিক্ষোভেরও ডাক দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এমনকি, গাঁজা সেবন ও বিক্রয়কে পুনরায় অপরাধ হিসেবে গণ্য করার পদক্ষেপের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন গাঁজাপ্রেমীরা।
২৫৩ দিন আগে