বিশ্ব
ইরানের তিন পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার মাধ্যমে যুদ্ধে যোগ দিল যুক্তরাষ্ট্র
নানা টালবাহানার পর ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে জড়াল যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলায় চালিয়েছে ওয়াশিংটন। এতে চলমান সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সময় রবিবার (২২ জুন) ভোরে ফোরদো, ইসফাহান ও নাতানজের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। বার্তা সংস্থা অ্যাসেসিয়েটেড প্রেসের খবরে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেখেন, ‘আমরা ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় অত্যন্ত সফলভাবে হামলা পরিচালনা করেছি, যার মধ্যে রয়েছে ফোরদো, নাতানজ ও ইসফাহান।’
হামলার বিষয়টি ইরানের পারমাণবিক সংস্থা থেকেও নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে হামলা সত্ত্বেও ওই স্থাপনাগুলোর কার্যক্রম বন্ধ না করে বরং চালিয়ে যাওয়া হবে বলে দাবি করেছে ইরান।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি স্থগিত করার অজুহাতে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়ে আসছে ইসরায়েল। এবার তেল আবিবের সঙ্গে যুক্ত হলো ইসরায়েলের মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্র।
আরও পড়ুন: ইসরায়েল-ইরান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র জড়াবে কি না, সিদ্ধান্ত দুই সপ্তাহের মধ্যে
মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানান, ইরানের সুরক্ষিত পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্টেলথ বোমা ও জিবিইউ-৫৭ ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা প্রয়োজন ছিল, যা ভূগর্ভের গভীরেও আঘাত হানতে সক্ষম।
ট্রাম্প জানান, তিনি রাত ১০টায় (ইস্টার্ন টাইম) জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। এই হামলাকে ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও বিশ্বের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘এখনই ইরানকে এই যুদ্ধ বন্ধে রাজি হতে হবে। ধন্যবাদ!’
হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য না করলেও ট্রাম্প সমর্থিত ফক্স নিউজের উপস্থাপক শন হ্যানিটি জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার পর তিনি নিশ্চিত হয়েছেন যে, ফোরদোয় ছয়টি বাঙ্কার বাস্টার বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাবমেরিন থেকে নাতানজ ও ইসফাহানে ৩০টি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে।
২৫৮ দিন আগে
ইসরায়েলি হামলার প্রথম দিন থেকেই যুক্তরাষ্ট্র জড়িত: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ইরানে ইসরায়েলের হামলার প্রথম দিন থেকেই যুক্তরাষ্ট্র জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন তেহরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। শনিবার (২১ জুন) তুরস্কের রাজধানী ইস্তানবুলে সাংবাদিকদের ব্রিফকালে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
দেশের মানুষকে বোমা হামলার মধ্যে রেখে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন আব্বাস আরাগচি।
হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরানের এই শীর্ষ কূটনীতিক বলেন, ‘ইসরায়েল ও ইরানের চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ খুব খুবই বিপজ্জনক হবে।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইরানে হামলার পরিকল্পনায় অনুমোদন দিলেও তা দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত রেখেছেন। তার আশা, ইরান তাদের পরমাণু কর্মসূচি পরিত্যাগে রাজি হবে।
আরও পড়ুন: আদর্শ নাকি নমনীয়তা, কোন পথে যাবেন খামেনি
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’
২০১৫ সালে বিশ্বের কয়েকটি পরাশক্তির সঙ্গে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি একটি চুক্তিতে পৌঁছায় ইরান। এর পেছনে ছিল বছরের পর বছর ধরে দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগকে ঘিরে সৃষ্ট উত্তেজনা।
আরাগচি আরও বলেন, ‘কূটনীতি অতীতেও কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতেও কাজ করতে পারে। তবে, আমাদের কূটনীতির পথে ফিরতে হলে এই ইসরায়েলি আগ্রাসন থামাতে হবে।’
২৫৮ দিন আগে
ট্রাম্পকে শান্তিতে নোবেল দিতে সুপারিশ করবে পাকিস্তান
সম্প্রতি ভারত-পাকিস্তান সংঘাত বন্ধে ভূমিকা রাখায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আগামী বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান সরকার।
করাচিভিত্তিক ইংরেজি দৈনিক ডনের খবরে বলা হয়েছে, এটি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের তাৎপর্যপূর্ণ উন্নয়নের নজির হিসেবে দেখা হচ্ছে।সামাজিকমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে পাকিস্তান সরকার জানায়, ‘ভারতের অপ্রত্যাশিত ও অবৈধ আগ্রাসনের সাক্ষী হয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। এটি পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডের অখণ্ডতার গুরুতর লঙ্ঘন ছিল। এর ফলে শিশু ও বৃদ্ধসহ বহু নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।’
ভারতের আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় ‘বুনিয়ানুম মারসুস’ নামে সামরিক অভিযান চালায় পাকিস্তান। এটি ছিল একটি পরিমিত, দৃঢ় ও সঠিক সামরিক প্রতিক্রিয়া’ বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়।
পোস্টে আরও বলা হয়, এই প্রতিক্রিয়া দেশটির আত্মরক্ষা সম্পর্কিত মৌলিক অধিকার প্রয়োগ ও সতর্কতার সঙ্গে প্রতিরোধ ক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য নেয়া হয়েছে। এতে আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষা এবং জনগণের ক্ষতক্ষতি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: আদর্শ নাকি নমনীয়তা, কোন পথে যাবেন খামেনি
পোস্টটিতে আরও বলা হয়, একটি উত্তেজনাপূর্ণ আঞ্চলিক পরিস্থিতির মধ্যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসলামাবাদ ও দিল্লির সঙ্গে দৃঢ় কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে তার বিশাল কৌশলগত দূরদর্শিতা ও অসাধারণ রাষ্ট্রনেতার ভূমিকা দেখিয়েছেন।
এতে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট দ্রুত অবনতির দিকে যাওয়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সফল, যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা এবং দুই পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রের মধ্যে একটি বৃহত্তর সংঘর্ষ এড়াতে সক্ষম হয়েছেন, যা এই অঞ্চল ও তার বাইরের কোটি মানুষের জন্য ভয়ঙ্কর পরিণতি ডেকে আনতে পারত।
পোস্টে বলা হয়, ‘এই হস্তক্ষেপের মাধ্যমে তিনি (ট্রাম্পের) প্রকৃত শান্তির দূত হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন। পাশাপাশি, এটি সংলাপের মাধ্যমে সংঘর্ষ সমাধানের বিষয়ে তার অঙ্গীকারের প্রমাণ।’
২৫৮ দিন আগে
আদর্শ নাকি নমনীয়তা, কোন পথে যাবেন খামেনি
৮৬ বছর বয়সী ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির সামনে এবার তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা—সংঘাত, নাকি শান্তির পথ বেছে নেবেন তিনি? তার এই সিদ্ধান্ত কেবল ইরান নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ৩৫ বছরের শাসনামলে বহুবার দেশটির অভ্যন্তরীণ হুমকি উৎরেছেন খামেনি। তবে এবারই তিনি সবচেয়ে বড় সংকটের মুখোমুখি।
চিরশত্রু ইসরায়েল এখন ইরানের আকাশপথে মুক্তভাবে অভিযান পরিচালনা করে দেশটির সামরিক নেতাদের হত্যা এবং পরমাণু কর্মসূচিকে লক্ষ্য করে নজিরবিহীন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ‘খামেনির আর বেঁচে থাকার অধিকার নেই’ বলেও হুমকি দিয়েছেন।
সামনে রয়েছে দুটি পথ
খামেনির সামনে এখন দুটি পথ খোলা। তিনি চাইলে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলার মাত্রা বাড়াতে পারেন, যা আরও ভয়াবহ ক্ষতি বয়ে আনতে পারে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের। অথবা কূটনৈতিক সমাধানের পথে যেতে পারেন তিনি, যাতে যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাতে না জড়ায়। তবে এ পথে গেলে তাকে সারা জীবনের সাধনা—পরমাণু কর্মসূচি বিসর্জন দিতে হবে।
আরও পড়ুন: ইসরায়েলি হামলার মাঝেই ৩ ইউরোপীয় পরাশক্তির সঙ্গে বৈঠকে বসছে ইরান
বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) এক ভিডিও বার্তায় খামেনি বলেন, ‘ইরান কখনো আত্মসমর্পণ করে না।’ একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন, ‘হস্তক্ষেপ করলে এর জন্য চরম মূল্য দিতে হবে।’
ইরানকে বদলে দিয়েছেন খামেনি
১৯৮৯ সালে ইরানের ক্ষমতার শীর্ষে আসেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এ সময়অনেকেই তার নেতৃত্ব নিয়ে সন্দিহান ছিলেন। কারণ, তিনি ছিলেন অপেক্ষাকৃত নিচু স্তরের ধর্মীয় নেতা। ঘন ফ্রেমের চশমা আর ধীরস্থির স্বভাবের মধ্যে পূর্বসূরি আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মতো জ্বালাময়ী নেতৃত্বগুণও ছিল না তার।
তবে, সেসব পাশ কাটিয়ে পূর্বসূরির চেয়ে তিনগুণ বেশি সময় ধরে শাসনভার নিজের কাঁধে রেখে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের এই দেশটিকে আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন খামেনি।
তিনি শিয়াপন্থী মোল্লা শাসনব্যবস্থাকে আরও দৃঢ় করেছেন। একই সঙ্গে দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে সামরিক ও রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে একটি অভিজাত বাহিনীতে রূপান্তর করেছেন এই ধর্মীয় নেতা।
গার্ড বাহিনী এখন ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি চালায়। পাশাপাশি কুদস ফোর্সের মাধ্যমে ইয়েমেন থেকে লেবানন পর্যন্ত ইরানের অনুগত অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স গড়ে তুলেছে বাহিনীটি।
আরও পড়ুন: ইসরায়েল-ইরান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র জড়াবে কি না, সিদ্ধান্ত দুই সপ্তাহের মধ্যে
এমনকি ইরানের অর্থনীতির বড় অংশও নিয়ন্ত্রণ করে অভিজাত এই বাহিনী। বিনিময়ে তারা খামেনির একনিষ্ঠ ডান হাতে পরিণত হয়েছে।
দেশীয় সংকট কঠোর হস্তে দমন
৯০-এর দশকে সংস্কারপন্থীদের উত্থানের সময়কালে খামেনিকে প্রথম বড় কোনো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। খামেনি সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার পরপরই সংস্কারপন্থীরা পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং প্রেসিডেন্ট পদ দখলে নেয়। তারা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে আরও ক্ষমতা দেওয়ার পক্ষে ছিল।
খামেনি ও তার অনুগত গোষ্ঠী এটিকে ইসলামি শাসনব্যবস্থা ভেঙে ফেলার হুমকি হিসেবে দেখছিলেন। তবে তিনি কঠোর হাতে সংস্কারপন্থীদের রুখে দেন।
পরবর্তীতে ২০০৯, ২০১৭, ২০১৯ ও ২০২২ সালের গণআন্দোলন কঠোরভাবে দমন করে বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। সর্বশেষ মাহসা আমিনির মৃত্যুর পরের আন্দোলনে বহু মানুষ নিহত ও নির্যাতিত হন।
ইরানকে আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত করেছেন
ইরাকের সঙ্গে দীর্ঘ ৯ বছরের যুদ্ধ শেষে ক্ষতবিক্ষত ইরানকে খামেনি একটি প্রভাবশালী আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত করেন।
২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে সাদ্দাম হোসেনের পতনের ফলে শিয়াপন্থী রাজনীতিবিদ ও মিলিশিয়ারা ইরাকের ক্ষমতায় আসে। এটি ইরানের প্রভাব বিস্তারে অন্যতম বড় নিয়ামক হয়ে ওঠে।
ইরাক হয়ে ওঠে ইরানের ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’ বা প্রতিরোধ অক্ষের মূল কেন্দ্র। এই অক্ষের বাকি সদস্য হলো সিরিয়ার আসাদ সরকার, লেবাননের হিজবুল্লাহ, ফিলিস্তিনের হামাস ও ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। ২০১৫ সালের মধ্যে এই জোট তার সর্বোচ্চ শক্তিতে পৌঁছায়, যার মাধ্যমে ইরান ইসরায়েলের দরজায় কড়া নাড়ছিল।
সুদিন আর নেই
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে গাজায় নজিরবিহীন হামলার পাশাপাশি ইরানের এই অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স ধ্বংস করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয় ইসরায়েল। তারপর থেকে গাজায় ক্রমাগত হামলায় ব্যাপকভাবে দুর্বল পড়েছে হামাস।
অন্যদিকে লেবাননে হিজবুল্লাহর ওপরও বোমা হামলা করেছে ইসরায়েল। এমনকি গত বছর দেশটিতে একযোগে কয়েক হাজার পেজার বিস্ফোরণও ঘটিয়েছে তারা।
পেজার, ওয়াকিটকিসহ হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত যোগাযোগের বিভিন্ন যন্ত্রে বোমা স্থাপন করেছিল ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ।
তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে সিরিয়া থেকে। সম্প্রতি, ইরান সমর্থিত শিয়াপন্থী আসাদ সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছে সুন্নি বিদ্রোহীরা। এখন দামেস্কে একটি ইরানবিরোধী সরকার ক্ষমতায় বসেছে।
সবকিছু মিলিয়ে এই মুহূর্তে ইরানের গড়া ‘প্রতিরোধ অক্ষরেখা’ সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। তার মাঝেই এবার সরাসরি সংঘাতে জড়িয়েছে ইসরায়েল ও ইরান।
আরও পড়ুন: ছায়ার আড়ালে মোসাদ: ইরানে রহস্যময় অনুপ্রবেশ
সবশেষ খবর অনুযায়ী, এই সংঘাতে ইসরায়েলের পক্ষ হয়ে যোগ দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্রও। ফলে আদর্শ রক্ষার এই লড়াইয়ের বর্তমান বাস্তবতায় খামেনি শেষ পর্যন্ত ইরানের স্থিতিশীলতায় সায় দেবেন, না কি আদর্শে অটুট থাকবেন—তা-ই হয়ে উঠেছে বড় প্রশ্ন।
২৫৯ দিন আগে
ইসরায়েলি হামলার মাঝেই ৩ ইউরোপীয় পরাশক্তির সঙ্গে বৈঠকে বসছে ইরান
ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সমাধানের পথ খুঁজতে ইউরোপের তিন পরাশক্তি—যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির সঙ্গে বৈঠকে বসছে ইরান। এই তিন ইউরোপীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘ই৩’ নামেও ডাকা হয়।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কায়া কাল্লাসের উপস্থিতিতে শনিবার (২১ জুন) সুইজারল্যান্ডের রাজধানী জেনেভায় এ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে আল জাজিরা।
বৈঠকের বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমরা শনিবার জেনেভাতে ইউরোপীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসব।’
দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএর পাশাপাশি ইউরোপীয় কূটনীতিকরাও বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ইইউ প্রতিনিধি ছাড়াও ই৩, অর্থাৎ ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো, জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাডেফুল এবং যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে তারা আরাগচির সঙ্গে কথা বলেন এবং পরমাণু আলোচনায় ফেরার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন। ইরানের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়ার পর উভয়পক্ষই সরাসরি বৈঠকে সম্মত হয়েছে বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন: ইসরায়েল-ইরান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র জড়াবে কি না, সিদ্ধান্ত দুই সপ্তাহের মধ্যে
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ ইরান-ইসরায়েল সংঘাত নিয়ে বলেছেন, ‘ইউরোপীয় দেশগুলো একটি আলোচনাভিত্তিক সমাধানের প্রস্তাব নিয়ে আসবে।’ পরের দিন তিনি দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের’ সঙ্গে মিলে যুদ্ধ শেষ করার উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন।
এদিকে, বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বারো বলেন, ‘এই বিষয়ে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে আমরা তিন দেশই প্রস্তুত। আমরা চাই, ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি স্থায়ীভাবে কমিয়ে আনার লক্ষ্যে আলোচনা হোক।’
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সফরে রয়েছেন। সেখানে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং মধ্যপ্রাচ্যে হোয়াইট হাউসের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে সরাসরি সুইজারল্যান্ডে পৌঁছানোর কথা রয়েছে তার।
ইরানের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে ল্যামি বলেছেন, ‘আমরা নিশ্চিত করতে চাই, ইরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র না পায়।… কূটনৈতিকভাবে বিষয়টির মীমাংসা করতে অন্তত দুই সপ্তাহ সময় আছে।’
কায়া কাল্লাসও বলেছেন একই কথা। তার ভাষ্যে, ‘ইরান যাতে পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করার সবচেয়ে কার্যকর পথ হলো কূটনীতি।’
অন্যদিকে ইসরায়েল দাবি করেছে, তেহরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তাই তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে ধারাবাহিক হামলা চালানো হচ্ছে।
তবে ইসরায়েলের এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে ইরান। তাদের পরমাণু কর্মসূচি ‘সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ’ দাবি করেছে দেশটি।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাও জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো প্রমাণ তারা পায়নি।
কূটনৈতিক পথ বন্ধ নয়
গতকাল (বৃহস্পতিবার) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে খুব শিগগির নতুন করে আলোচনা শুরুর উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে।
সম্প্রতি তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে পাঁচ দফা আলোচনা করেছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র। তবে গত সপ্তাহে ইসরায়েলের হামলার পর ষষ্ঠ দফার আলোচনা বাতিল করা হয়।
এর আগে, ইরানের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে আল জাজিরার খবরে বলা হয়, ইসরায়েলের হামলা চলাকালে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু কর্মসূচি বিষয়ক আলোচনা পুনরায় শুরু করবে না। তবে কূটনৈতিক পথ যে পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, সে কথাও উল্লেখ করেছে তেহরান।
এ ছাড়া জেনেভা থেকে সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদক মিলেনা ভেসেলিনোভিচ জানান, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বন্দ্বকে যুদ্ধের দিকে গড়াতে না দিয়ে সমাধানের চেষ্টা করছে ইউরোপীয় দেশগুলো।
ট্রাম্পের অবস্থান
এদিকে ইরানের সঙ্গে সংঘাতে জড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নেবেন বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) এ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ‘তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরুর উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে।’
তাই এ সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সংঘাতের একটি নিষ্পত্তি খোঁজার সুযোগ রাখতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।
চলমান পরিস্থিতিতে ইরানের সুসংরক্ষিত ফোরদো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনায় হামলা চালানো হবে কি না, তা-ই এখন বিবেচনা করছেন ট্রাম্প।
আরও পড়ুন: গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণ: দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ
এই স্থাপনাটি একটি পর্বতের নিচে অবস্থিত এবং কেবল যুক্তরাষ্ট্রের ‘বাঙ্কার-বাস্টার’ বোমা দিয়েই এটিকে লক্ষ্যবস্তু করা সম্ভব বলে ধারণা করা হয়।
২৫৯ দিন আগে
খাবারের জন্য বের হয়ে ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারাচ্ছেন ক্ষুধার্ত ফিলিস্তিনিরা
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যেও গাজা উপত্যকায় হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। ক্ষুধার জ্বালায় খাবারের খোঁজে ছুটে বেড়ানো গাজাবাসীর যেন কোথাও নিস্তার নেই। প্রতিদিনই ইসরায়েলের হামলায় প্রাণ হারাচ্ছেন তারা।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ৯২ ফিলিস্তিনি। এ দিন ভোর থেকে হামলায় গাজা শহরে ও উত্তর গাজার নেতজারিম করিডোরের কাছে ত্রাণের জন্য অপেক্ষা করার সময় আরও ১৬ জন নিহত হন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের দেওয়া খাবারের আশায় প্রতিদিনই এই এলাকায় জড়ো হন ক্ষুধার্ত ফিলিস্তিনিরা। এখানে হামলার ঘটনাকে ‘ত্রাণের সামরিকীকরণ’ আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ।এখানে ইসরায়েলি হামলার প্রত্যক্ষদর্শী বাসাম আবু শার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘মানুষ রাতভর খাবারের আশায় সেখানে অবস্থান করছিলেন। বুধবার (১৮ জুন) দিবাগত রাত ১টার দিকে তারা আমাদের দিকে গুলি ছুড়তে শুরু করে। ট্যাংক, বিমান ও কোয়াডকপ্টার থেকে বোমাবর্ষণের মাধ্যমে গোলাগুলি তীব্র হয়ে ওঠে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কাউকে সাহায্য করতে পারিনি, এমনকি নিজেরাও পালাতে পারিনি।’
আরও পড়ুন: ত্রাণ সহায়তা নিতে গিয়ে হামলার শিকার হচ্ছেন গাজাবাসীরা
সাম্প্রতিক সময়ে খাদ্য সহায়তা নিতে আসা ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে, এতে বহু মানুষের প্রাণ গেছে।
প্রাণঘাতী হামলাগুলো যেন ‘দৈনন্দিন রুটিন’
কেন্দ্রীয় গাজার দেইর আল-বালাহ থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি তারেক আবু আজযুম জানান, ত্রাণকেন্দ্রগুলোতে হামলা এখন যেন দৈনন্দিন রুটিনে পরিণত হয়েছে।
তিনি আরও জানান, তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে সীমান্ত ক্রসিংগুলো সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করে রাখার ফলে গাজা এখন এক বিশাল ক্ষুধার রাজ্যে পরিণত হয়েছে, যেখানে মানবিক সহায়তার সব উপকরণ ফুরিয়ে গেছে।
ফলে মানুষ বাধ্য হয়ে ওই কেন্দ্রগুলোতে যাচ্ছে এক বস্তা ময়দা, এক বোতল পানি বা খাদ্যসামগ্রীর জন্য, যেগুলোর পুষ্টিমান খুবই কম বলে জানিয়েছেন পুষ্টিবিদরা।
তারেক আবু আজযুম বলেন, ইসরায়েলের এসব হামলা অব্যাহত থাকায় মানবিক করিডোরগুলো হত্যার ময়দানে পরিণত হয়েছে।
আরও পড়ুন: ইসরায়েলি আগ্রাসন: গাজায় নিহতের সংখ্যা ৫৫ হাজার ছাড়াল
এদিকে, নেতজারিম করিডোর এলাকায় কিছু ‘সন্দেহভাজন’ ব্যক্তি সেনাবাহিনীর কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল, যেটি তাদের কাছে হুমকি মনে হয়েছিল— এমন দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। তাই তারা হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে। যদিও নিজেদের দাবির স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ দেখায়নি তারা।
অন্যদিকে, আল শাতি শরণার্থী শিবিরে একটি অস্থায়ী তাঁবুতে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় ১৩ জন নিহত হন। সেখানে ফিলিস্তিনিরা তাদের বৈদ্যুতিক ডিভাইস চার্জ দিচ্ছিলেন। একই সঙ্গে জাবালিয়ার বহু বাসভবনে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল।
দেইর আল-বালাহ থেকে আল জাজিরার আরেক প্রতিনিধি হিন্দ খোদারি জানান, আল শাতি শিবিরে চার্জিং পয়েন্টে ইসরায়েলি হামলা দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎহীন গাজা অঞ্চলের বাস্তবতার প্রতিফলন।
তিনি জানান, গাজার পরিস্থিতি এতটাই অবনতি হয়েছে যে, সেখানে মানুষ খাবারের জন্য জীবনের ঝুঁকি নিতে বাধ্য হচ্ছেন। হিন্দ খোদারি বলেন, ‘প্রতিদিন খুবই সীমিত সংখ্যক ট্রাক গাজায় প্রবেশ করছে, আর মানুষ চরম হতাশায় যা পাচ্ছেন, তা নিতে গিয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন।’
গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৯টি লাশসহ ২২১ জন আহত ব্যক্তিকে গাজার বিভিন্ন হাসপাতালগুলোতে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই আগ্রাসনে এ পর্যন্ত গাজায় অন্তত ৫৫ হাজার ৭০৬ জন নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে, যার মধ্যে বেশিরভাগ নারী ও শিশু।
২৫৯ দিন আগে
ইসরায়েল-ইরান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র জড়াবে কি না, সিদ্ধান্ত দুই সপ্তাহের মধ্যে
গত এক সপ্তাহ ধরে চলছে ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাত। আর এই সংঘাতকে কেন্দ্র করে বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছেন খোদ দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার সংঘাতে জড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) এ সিদ্ধান্তের কথা জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, “তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরুর ‘উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা’ রয়েছে।
তাই এ সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। এই সময়ের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সংঘাতের একটি নিষ্পত্তি খোঁজার সুযোগ রাখতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে।
চলমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্প এখন বিবেচনা করছেন, ইরানের সুসংরক্ষিত ফোর্ডো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনায় হামলা চালানো হবে কি না। এই স্থাপনাটি একটি পর্বতের নিচে অবস্থিত এবং কেবল যুক্তরাষ্ট্রের ‘বাংকার-বাস্টার’ বোমা দিয়েই এটিকে লক্ষ্যবস্তু করা সম্ভব বলে ধারণা করা হয়।
আরও পড়ুন: ইরানের আরাক হেভি ওয়াটার রিঅ্যাক্টর এলাকা খালি করতে ইসরায়েলের সতর্কবার্তা
এর আগে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত একটি হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেন, “ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে ‘বেঁচে থাকতে দেওয়া যাবে না’। এ ছাড়া, ইরান সরকারকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে হামলা জোরদারের নির্দেশ তিনি।
ইরান যে সময় ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছে, একই সময়ে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচীতে হামলা চালায় তেল আবিব।
এদিকে, প্রথমদিকে এই সংঘাত থেকে নিজেকে দূরে রাখলেও পরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ওই অঞ্চলে বাড়িয়েছেন ট্রাম্প এবং ইরানের ওপর হামলায় মার্কিন বাহিনীকে যুক্ত করার বিষয়টিও বিবেচনা করছেন।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন আমেরিকার সর্বোত্তম স্বার্থেই কাজ করবেন ট্রাম্প।
বৃহস্পতিবার বিয়েরশেবা শহরের সোরোকা মেডিকেল সেন্টারের ধ্বংসস্তূপ ও ভাঙা কাচের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমি বলতে পারি, তারা ইতোমধ্যেই আমাদের অনেক সাহায্য করছে।’
এদিকে, শুক্রবার (২০ জুন) ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কূটনীতিক ও যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের জন্য জেনেভায় যাচ্ছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। এতে নতুন এক কূটনৈতিক উদ্যোগ শুরু হতে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ইরানের আকাশসীমার উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের দাবি ট্রাম্পের
ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি জানান, তিনি হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে একটি চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে তথ্য দেন তিনি।
বৃহস্পতিবারের বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধান অর্জনের একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে।’
এর আগে ইরানকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান ট্রাম্প। তবে এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি।
তিনি বলেন, এই সংঘাতে যেকোনো সামরিক হস্তক্ষেপ আমেরিকানদের জন্য ‘অপূরণীয় ক্ষতির’ কারণ হবে।
২৬০ দিন আগে
পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক
ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে বৈঠক করেছেন পাকিস্তানের চিফ অফ আর্মি স্টাফ (সিওএএস) ফিল্ড মার্শাল সাইয়েদ অসিম মুনির। এ সময়ে সন্ত্রাসীবিরোধী বিভিন্ন পদক্ষেপ ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক ডন এমন খবর দিয়েছে। এতে বলা হয়, গতকাল হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সাথে জেনারেল মুনিরের বৈঠক হয়েছে।
ক্ষমতাসীন কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পাকিস্তানের কোনো চিফ অফ আর্মি স্টাফের এটিই ছিল প্রথম কোনো মুখোমুখি বৈঠক। এছাড়া সামরিক শাসন কিংবা রাজনৈতিক কোনো পদ না থাকলেও মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে এর আগে কখনো এমন আমন্ত্রণ পায়নি কোনো পাকিস্তানি সেনাপ্রধান।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ওভাল অফিসে বৈঠক শেষে ক্যাবিনেট কক্ষে ট্রাম্পের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন অসিম মুনির।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি স্টিফ উইটকফও অংশ নেন। এ সময়ে পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মুহাম্মদ অসিম মালিকও উপস্থিত ছিলেন।
দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে তাদের মধ্যে ঘণ্টাখানেক বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তা দুই ঘণ্টা স্থায়ী হয়েছে।
আরও পড়ুন: অবিলম্বে তেহরান খালি করার আহ্বান ট্রাম্পের
বিবৃতিতে বলা হয়, বৈঠকে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় পাকিস্তানের প্রশংসা করেন ট্রাম্প। পাশাপাশি, দুই দেশের সন্ত্রাসবিরোধী জোরালো অভিযানেরও প্রশংসা করেন তিনি।
এতে বলা হয়, সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা বলা হয়েছে দুই পক্ষ থেকে। এ সময়ে বাণিজ্য, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, খনি ও খনিজসম্পদ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), জ্বালানি, ক্রিপ্টোকারেন্সি ও নতুন নতুন প্রযুক্তির বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
পাকিস্তানের আইএসপিআর আরও জানিয়েছে, কৌশলগত দীর্ঘমেয়াদি সমন্বয়ের ভিত্তিতে পাকিস্তানের সাথে পারস্পরিক লাভজনক বাণিজ্য অংশীদারত্বে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
‘আঞ্চলিক জটিল সময়ে আসিফ মুনিরের নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতারও প্রশংসা করেছেন তিনি। পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে পাকিস্তান সফরে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন অসিম মুনির।’
পরবর্তীতে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আজ তার সঙ্গে বৈঠক করে আমি সম্মানিতবোধ করছি। তিনি আমার সঙ্গে একমত হয়েছেন, যে কারণে আজ আমাদের এই বৈঠক হয়েছে। ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে না জড়ানোয় আমি তাকে ধন্যবাদ দিতে চেয়েছিলাম।’
‘আমি অবশ্য ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও ধন্যবাদ দিতে চাই, যিনি কিছুদিন আগে এখানে এসেছিলেন,’ বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
২৬০ দিন আগে
ইরানের আরাক হেভি ওয়াটার রিঅ্যাক্টর এলাকা খালি করতে ইসরায়েলের সতর্কবার্তা
ইসরায়েল-ইরানের চলমান সংঘাতের তীব্রতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এরই ধারাবাহিতকতায় এবার ইরানের আরাকে অবস্থিত ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত হতে পারে এমন প্লুটোনিয়াম উৎপাদনে সক্ষম একটি হেভি ওয়াটার রিঅ্যাক্টরের চারপাশের এলাকা খালি করতে জনগণকে সতর্কবার্তা দিয়েছে ইসেরায়েলি সেনাবাহিনী।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এই সতর্কবার্তা দিয়েছে ইসরায়েল।
ওই পোস্টে নির্ধারিত এলাকাকে উপগ্রহের চিত্রে লাল বৃত্ত দিয়ে চিহ্নিত করে দেওয়া দেওয়া হয়েছে। আগের হামলাগুলোর ক্ষেত্রেও এভাবেই সতর্কবার্তা দিয়েছে তেল আবিব।
হেভি ওয়াটারের (Heavy Water) রাসায়নিক নাম ডিউটেরিয়াম অক্সাইড (D₂O)। সাধারণ পানিতে (H₂O) হাইড্রোজেনের দুটি পরমাণু থাকে, যেগুলো সাধারণত প্রোটিয়াম নামে পরিচিত, যা হাইড্রোজেনের সবচেয়ে হালকা আইসোটোপ। অন্যদিকে, ভারী পানিতে এই হাইড্রোজেন পরমাণুগুলোর বদলে থাকে ডিউটেরিয়াম, যা হাইড্রোজেনের একটি ভারী আইসোটোপ। ডিউটেরিয়ামের পরমাণু ভর সাধারণ হাইড্রোজেনের চেয়ে দ্বিগুণ। এজন্য D₂O দেখতে পানির মতো হলেও এর ঘনত্ব, গলনাঙ্ক ইত্যাদি আলাদা। ভারী পানি পরমাণু চুল্লিতে নিউট্রন মডারেটর হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্য দিয়ে সপ্তম দিনে গড়িয়েছে ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাত। চলমান এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ইরানকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি।
তিনি বলেন, এই সংঘাতে যেকোনো সামরিক হস্তক্ষেপ আমেরিকানদের জন্য ‘অপূরণীয় ক্ষতির’ কারণ হবে।
এদিকে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি কিছুটা হ্রাস পাওয়ার কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে নিজেদের জনগণের ওপর দেওয়া কিছু নিষেধাজ্ঞা তুলে দিয়েছে তেল আবিব। এ ছাড়া, বৃহস্পতিবার তেহরানসহ ইরানের অন্যান্য এলাকায় বিমান হামলার কথা জানিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
তবে এরই মধ্যে ইসরায়েলের হামলা ইরানের নাতানজে অবস্থিত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র, তেহরান ঘিরে সেন্ট্রিফিউজ কারখানা ও ইসফাহানের একটি পারমাণবিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এসব হামলায় ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষ জেনারেল ও পারমাণবিক বিজ্ঞানীরা নিহত হয়েছেন।
ওয়াশিংটনভিত্তিক এক ইরানি মানবাধিকার গোষ্ঠীর তথ্যমতে, ইরানে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৩৯ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ২৬৩ জন বেসামরিক নাগরিক। এ ছাড়া আহত হয়েছেন সহস্রাধিক।
জবাবে ইরান প্রায় ৪০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও শত শত ড্রোন নিক্ষেপ করেছে ইসরায়েলি ভূখণ্ডে। যার ফলে সেখানে অন্তত ২৪ জন নিহত ও শত শত মানুষ আহত হয়েছেন। এর মধ্যে কিছু ক্ষেপণাস্ত্র মধ্য ইসরায়েলের আবাসিক ভবনে আঘাত হেনেছে, যার ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি তেল আবিবের।
ভারী পানির চুল্লিতে হামলার প্রস্তুতি কেন?
আরাক ভারী পানির চুল্লিটি তেহরানের দক্ষিণ-পশ্চিমে ২৫০ কিলোমিটার (১৫৫ মাইল) দূরে অবস্থিত। ভারী পানি পারমাণবিক চুল্লি ঠান্ডা করতে সহায়তা করে, তবে এটি একটি উপজাত হিসেবে প্লুটোনিয়াম উৎপন্ন করে, যা পরবর্তীতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহারযোগ্য হতে পারে।
এর অর্থ, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে অগ্রসর হয়, তাহলে এটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বাইরে আরেকটি বোমা তৈরির পথ হতে পারে। এর আগে, ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির আওতায় ইরান এই স্থাপনাটির নকশা পরিবর্তনে সম্মত হয়, যাতে এটি পারমাণবিক বিস্তার সংক্রান্ত উদ্বেগ হ্রাস করে।
তবে ২০১৯ সালে সেই চুক্তি লঙ্ঘন নার করেই ইরান এই হেভি ওয়াটার রিঅ্যাক্টরের সেকেন্ডারি সার্কিট চালু করে। এর মধ্যে ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে একতরফাভাবে চুক্তি থেকে বের করে নেন ট্রাম্প। ব্রিটেন তখন রিঅ্যাক্টরটির নকশা পরিবর্তনে ইরানকে সহায়তা করে।
এদিকে, জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষক সংস্থা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) ইসরায়েলকে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা না চালানোর আহ্বান জানিয়ে আসছে। সংস্থাটির পরিদর্শকরা সর্বশেষ গত ১৪ মে আরাক পরিদর্শন করেন বলে জানা গেছে।
তবে ইরানের ওপর নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা আরোপ করায় ভারী পানি উৎপাদন সংক্রান্ত তথ্য নিশ্চিত করতে পারেনি আইএইএ। ২০১৫ সালের চুক্তির আলোচনার অংশ হিসেবে পশ্চিমাদের কাছে ভারী পানি বিক্রির শর্তে রাজি হয়েছিল ইরান।
এমনকি যুক্তরাষ্ট্রও একপর্যায়ে প্রায় ৮০ লাখ ডলারে ৩২ টন হেভি ওয়াটার কিনেছিল। সে সময় এ বিষয়টি চুক্তির সমালোচকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল।
আরও পড়ুন: ইরানের আকাশসীমার উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের দাবি ট্রাম্পের
২৬০ দিন আগে
ইরানের আকাশসীমার উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের দাবি ট্রাম্পের
ইরান ও ইসরায়েলের চলমান পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে ইরানের আকামসীমার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গত পাঁচদিন ধরেই ইরানের সামরিক ও ও পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়ে আসছে জায়নবাদী ইসরায়েল।
তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বোমা হামলার পাঁচ দিন পর মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের আকাশসীমার উপর ‘সম্পূর্ণ এবং সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ দাবি করেছেন। তবে পাল্টা দাবিও করেছে ইরান। বলেছে, তারা ইসরায়েলের আকাশসীমার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, গত পাঁচদিনে ইরানের ১ হাজার ১০০ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েল।
ট্রাম্প একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বলেছেন, ‘ইরানের আকাশসীমার উপর এখন আমাদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।’ ‘ইরানের কাছে ভালো স্কাই ট্র্যাকার এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জাম প্রচুর পরিমাণে ছিল। কিন্তু আমেরিকার তৈরি সরঞ্জামের সঙ্গে এর তুলনা হয় না। ব্যাপক অভিজ্ঞ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ভালো আর কেউ এটি করতে পারে না।’
পড়ুন: ইরানের নাগরিকদের হোয়াটসঅ্যাপ মুছে ফেলার আহ্বান
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ নিশ্চিত করার একদিন পর এই মন্তব্য করা হলো যে, আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করেছে। এই পদক্ষেপটিকে তিনি ও ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ‘প্রতিরক্ষামূলক’ বলে দাবি করেছেন। ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে আমেরিকান বাহিনী যোগ দিতে পারে বলে জল্পনা-কল্পনাও রয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) একজন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা আনাদোলুকে বলেন, হেগসেথ ‘আমাদের প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান বজায় রাখার এবং আমেরিকান কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার’ জন্য নেমিটজ ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপকে সেন্টকম এলাকার দায়িত্বে পাঠিয়েছেন।
শুক্রবার ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনাসহ বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েল বিমান হামলা শুরু করার পর থেকে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে। যার ফলে তেহরান প্রতিশোধমূলক হামলা চালায় ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনায়।
পড়ুন: ইসরায়েলি হামলায় ইরানের হাসপাতালগুলোতে ‘রক্তবন্যা’
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কমপক্ষে ২৪ জন নিহত এবং শত শত আহত হয়েছে। ইরান জানিয়েছে যে ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ২২৪ জন নিহত এবং ১ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন।
এদিকে ট্রাম্প ইরানকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছেন। জবাবে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লা আলী খামেনী তা অস্বীকার করে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। বলেছেন, ইসরায়েলকে তার ভুলের জন্য শাস্তি পেতে হবে।
সবশেষ বুধবার ইরানের পারমাণবিক সেন্ট্রিফিউজ ও অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রসহ ৪০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইসরায়েল।
২৬১ দিন আগে