বিশ্ব
আফগান সীমান্তে হামলায় ৭০ জঙ্গিকে হত্যার দাবি পাকিস্তানের
আফগানিস্তান সীমান্তে পাকিস্তানের বিমান হামলায় অন্তত ৭০ জঙ্গি নিহতের দাবি করেছে ইসলামাবাদ। এ ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে সংকটের মুখে পড়েছে।
রবিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় এ বিমান হামলা চালানো হয়।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী জানান, দেশের ভেতরে সাম্প্রতিক হামলার জন্য দায়ী পাকিস্তানি জঙ্গিদের আস্তানাকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। তবে কাবুল এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
জিও নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তালাল চৌধুরী অন্তত ৭০ জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে জানান। তবে সে সময় তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। পরে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮০ জন হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
অপরদিকে, আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, পূর্ব আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাকতিকা প্রদেশের বিভিন্ন বেসামরিক এলাকা লক্ষ্য করে পাকিস্তান হামলা চালিয়েছে। এতে একটি মাদরাসা ও একাধিক বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা এ হামলাকে আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে।
আফগান সরকারের মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, হামলায় নারী ও শিশুসহ বহু মানুষ হতাহত হয়েছে। তবে পাকিস্তানের ৭০ জন জঙ্গি নিহতের দাবি সঠিক নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নানগারহার প্রদেশে আফগান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পরিচালক মাওলভি ফজল রহমান ফাইয়াজ জানান, এ বিমান হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
পুনরায় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের সতর্কবার্তা
রবিবার রাতে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি জানান, আফগান সীমান্তে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের জনগণকে রক্ষার জন্য সাম্প্রতিক এ অভিযান চালানো হয়েছে। কাবুলকে বারবার সতর্ক করার পরও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে জারদারি সতর্ক করে বলেছিলেন, তালেবান নেতৃত্বধীন সরকার এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছে যা ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার আগের সময়ের মতো বা তার চেয়েও খারাপ।
এক বিবৃতিতে জারদারি জানান, পাকিস্তান কেবল সীমান্তবর্তী আস্তানায় হামলা চালিয়ে সংযম দেখিয়েছে। তবে পাকিস্তানের ভেতরে হামলার জন্য দায়ীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন। পাকিস্তানি নাগরিকদের নিরাপত্তা হলো সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং এতে কোনো আপস নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি ।
এ ঘটনার পর পাকিস্তানের হামলার প্রতিবাদে কাবুলে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে আফগান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা জানায়, দেশের ভূখণ্ড রক্ষা করা ইসলামিক আমিরাতের শরিয়াভিত্তিক দায়িত্ব এবং এ ধরনের হামলার পরিণতির দায় পাকিস্তানকেই নিতে হবে।
রবিবার নানগারহারে বিমান হামলার ধ্বংসস্তূপ সরাতে দেখা যায় স্থানীয়দের। সে সময় নিহতদের দাফনের প্রস্তুতিও চলছিল।
স্থানীয় নেতা হাবিব উল্লাহ অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানান, নিহতরা জঙ্গি ছিল না। তারা দরিদ্র সাধারণ মানুষ ছিল। যারা নিহত হয়েছে তারা তালেবান, সামরিক বাহিনীর সদস্য বা সাবেক সরকারের কেউ নয়। তারা গ্রামে সাধারণ জীবনযাপন করত।
এর আগে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এক্স পোস্টে জানিয়েছেন, পাকিস্তানি তালেবান (টিটিপি) ও তাদের সহযোগী সংগঠনের ৭টি আস্তানায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বাছাই করে অভিযান চালানো হয়েছে। এ অভিযানে ইসলামিক স্টেটের একটি সহযোগী সংগঠনকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, অঞ্চলজুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পাকিস্তান সব সময় চেষ্টা করেছে, তবে পাকিস্তানি নাগরিকদের নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হবে।
১১ দিন আগে
নেপালে পাহাড়ি সড়ক থেকে বাস খাদে, নিহত ১৮
নেপালে পাহাড়ি মহাসড়ক থেকে একটি যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ২৬ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
স্থানীয় সময় রবিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে বাগমতি প্রদেশের ধাদিং জেলার পৃথ্বী মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনাস্থল কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পশ্চিমে।
কাঠমান্ডু পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, বাসটি পোখরা থেকে রাজধানী কাঠমান্ডুর উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। পথিমধ্যে ধাদিংয়ের বেনিঘাট রোরাং গ্রামীণ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চৌরাউন্ডির কাছে চিনাধারা এলাকায় পৌঁছে মহাসড়ক থেকে খাদে পড়ে যায়। এরপর সেটি খাদের তলদেশে ত্রিশুলী নদীতে গিয়ে পড়ে।
পুলিশের বরাত দিয়ে হিমালয়ান টাইমসের এক খবরে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে ৪৪ জন যাত্রী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতদের মধ্যে ১১ জন পুরুষ ও ছয়জন নারী। দুই বিদেশিও এ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন পুরুষ ও একজন নারী রয়েছেন।
এছাড়া আরও অন্তত ২৬ জন আহত যাত্রীকে উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হলেও অধিকাংশকে কাঠমান্ডুর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ধাদিং জেলা ট্রাফিক পুলিশ কার্যালয়ের প্রধান শিশির থাপা জানিয়েছেন, নিহতের সংখ্যা শুরুতে ১৭ জন থাকলেও পরে তা বেড়ে ১৮ জনে দাঁড়িয়েছে।
নেপালি সেনাবাহিনী, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী, পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজে অংশ নেন। তবে গভীর রাতে দুর্ঘটনা ঘটায় উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
১২ দিন আগে
ইইউভুক্ত দেশগুলোর নৌ ও বিমানবাহিনীকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণা ইরানের
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সকল সদস্য দেশের নৌ ও বিমানবাহিনীকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ বলে ঘোষণা করেছে ইরান।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পসকে (আইআরজিসি) সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করায় ইইউয়ের সাম্প্রতিক এই ‘অবৈধ ও অযৌক্তিক’ সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইইউয়ের এই সিদ্ধান্ত জাতিসংঘের সনদ এবং আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতি ও নিয়মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরান সরকার ২০১৯ সালের একটি আইনের অধীনে নীতির ভিত্তিতে এই পাল্টা দিয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে যেসব দেশ আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণার মার্কিন সিদ্ধান্তকে যেকোনোভাবে মেনে চলবে বা সমর্থন করবে, তাদের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত মাসে ইইউভুক্ত দেশগুলো পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে একটি রাজনৈতিক চুক্তির পর বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ইইউ কাউন্সিল আনুষ্ঠানিকভাবে আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী তালিকায় যুক্ত করে।
এই তালিকাভুক্তির ফলে ইইউয়ের সন্ত্রাসবিরোধী নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থার অধীনে বিধিনিষেধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলোতে গ্রুপের তহবিল এবং অন্যান্য আর্থিক ও অর্থনৈতিক সম্পদ জব্দ করা।
সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে তীব্র উত্তেজনার মধ্যে এ পদক্ষেপ নেয় ইইউ, যেখানে ইরান উপকূলে যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করছে এবং তেহরানের বিরুদ্ধে বারবার সামরিক হামলার হুমকি দিচ্ছে।
১২ দিন আগে
ভূমধ্যসাগর থেকে লিবিয়া উপকূলে ভেসে এল ৭ ‘অভিবাসীর’ মরদেহ
লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির পূর্ব দিকের এক সৈকত থেকে সাতটি মরদেহ উদ্ধার করেছে দেশটির উদ্ধারকারী দল। মরদেহগুলো অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বলে নিজেদের ধারণার কথা জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ত্রিপোলির পূর্বে অবস্থিত উপকূলীয় শহর কাসর আল-আখিয়ারের ওই সৈকত থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সমুদ্রের ঢেউয়ের তাণ্ডবে অনেক অভিবাসীর মরদেহ তীরে ভেসে এসেছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, এ ঘটনায় আরও অনেকে নিখোঁজ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সমুদ্র উত্তাল থাকায় নিখোঁজদের প্রকৃত সংখ্যা এখনও অজানা। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।
ইউরোপের ভৌগোলিক নৈকট্য এবং দীর্ঘ ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলরেখার কারণে লিবিয়া অবৈধ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য একটি প্রধান ট্রানজিট পয়েন্ট হয়ে উঠেছে।
১২ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রে ফের তুষারঝড়ের সতর্কতা, পূর্ব উপকূলে ভয়াবহ ঝড়ের পূর্বাভাস
দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ওঠা একটি তুষারঝড়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি, বোস্টন ও নিউওয়ার্ক সিটিতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশটির পূর্ব উপকূলবাসিরা ভারী তুষারপাত ও ভয়ঙ্কর ঝড়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
স্থানীয় সময় শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দেশটির জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা দপ্তর জানিয়েছে, কয়েক দিন আগে আসন্ন ঝড়টি তুলনামূলক হালকা বলে ধারণা করা হলেও পরবর্তীতে এটির তীব্রতার মূল্যায়ন বাড়ানো হয়েছে।
আবহাওয়া বিভাগ বলেছে, অনেক এলাকায় ১ থেকে ২ ফুট পর্যন্ত তুষারপাত হতে পারে। এ কারণে লং আইল্যান্ড, কানেকটিকাট, ডেলাওয়্যার, মেরিল্যান্ড, রোড আইল্যান্ড ও ম্যাসাচুসেটসের উপকূলীয় এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে তুষারঝড় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সংস্থাটি আরও জানায়, নিউওয়ার্ক ও নিউ জার্সির কিছু অংশে বন্যার আশঙ্কাও রয়েছে।
আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের আবহাওয়াবিদ কোডি স্নেল বলেন, ‘ভারী তুষারপাত ও বড় ধরনের প্রভাব নিয়ে আসা উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ঝড় আমরা প্রায়ই দেখি। তবে এত বড় জনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে এ মাত্রার ঝড় কয়েক বছর ধরে দেখা যায়নি।’
তিনি জানান, ঝড়টি স্থানীয় সময় রবিবার সকালে ওয়াশিংটন এলাকার আশপাশে আঘাত হানবে। এরপর ফিলাডেলফিয়া ও নিউইয়র্ক সিটির দিকে অগ্রসর হয়ে সন্ধ্যায় বোস্টনে পৌঁছাবে।
আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, কিছু এলাকায় শুরুতে বৃষ্টিপাত দিয়ে ঝড়টি শুরু হতে পারে, পরে তা আরও তীব্র হবে। রাতে সবচেয়ে বেশি তুষারপাতের আশঙ্কা রয়েছে এবং কিছু এলাকায় কখনও কখনও ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২ ইঞ্চি (৫ সেন্টিমিটার) পর্যন্ত তুষার পড়তে পারে। তবে সোমবার বিকেলের মধ্যে তুষারপাত ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে।
তবে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫৬ কিলোমিটার বেগে স্থায়ী বাতাসসহ এই ঝড়ের মধ্যে ভ্রমণ বিপজ্জনক, এমনকি অসম্ভবও হয়ে পড়তে পারে। তুষারপাতের তীব্রতা ও ঝড়ো বাতাসের কারণে বিচ্ছিন্নভাবে গাছের ডাল ভেঙে পড়া এবং বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার আশঙ্কাও রয়েছে।
এর আগে যখন এই ঝড়কে তুলনামূলক সীমিত প্রভাবের বলে মনে করা হচ্ছিল, সে সময় থেকেই এর জন্য প্রস্তুতি নিতে কর্মকর্তারা দ্রুত তৎপরতা শুরু করেন।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, কয়েক সপ্তাহ আগে বড় তুষারপাত মোকাবিলায় যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তা আরও সম্প্রসারণ করা হবে। তবে সোমবার স্কুল খোলা হবে কি না সে বিষয়ে এখনই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
মেয়র আরও বলেন, ‘শুক্রবার আমরা ধারণা করছিলাম হয়ত ৩ থেকে ৪ ইঞ্চি তুষারপাত হতে পারে; কিন্তু খুব দ্রুত সেই পূর্বাভাস বদলে গেছে। তাই আমরা হালনাগাদ ও সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে চাই।’
তিনি জানান, নিউইয়র্ক শহর বাইরে থেকে অতিরিক্ত তুষার পরিষ্কারের সরঞ্জাম এনেছে। যেসব বাসস্টপ ও ক্রসওয়াক পরিষ্কার করা দরকার, সেগুলো চিহ্নিত করতে জিওকোডিং ব্যবহারের পরিমাণ বাড়ানোরও পরিকল্পনা করা হয়েছে।
কয়েক সপ্তাহ আগে ওই একই অঞ্চলে আঘাত হানা তুষারঝড়ের বরফ জমাট অবশিষ্টাংশ গলতে শুরু করার মধ্যেই নতুন এই ঝড়টি এগিয়ে আসছে।
নিউ জার্সির কর্মকর্তারা স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্যাসিনোয় যাওয়া দর্শনার্থীদের রাস্তায় না বের হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে যেসব নিচু এলাকায় বন্যার ঝুঁকি বেশি, সেখানকার বাসিন্দাদের সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শহরের ফায়ার সার্ভিস প্রধান ও জরুরি ব্যবস্থাপনা সমন্বয়ক স্কট ইভান বলেন, ‘এমন প্রায় দুই ডজন রাস্তার নাম বলতে পারি যেখানে আমরা পানি জমবে বলে জানি। তার ওপর তুষারও পড়বে। ফলে দেরি হয়ে যাওয়ার আগে আপনি তা দেখতে পারবেন না, তাই দয়া করে ঘরে থাকুন।’
বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক গির্জা রবিবারের প্রার্থনা ও অন্যান্য কার্যক্রম বাতিল করেছে। এর ক্ষতিপূরণ বা বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে নিউ জার্সির হাউয়েলে অবস্থিত ‘সেন্ট ভেরোনিকা প্যারিশ’ শনিবার সন্ধ্যায় একটি অতিরিক্ত বিশেষ প্রার্থনার (Mass) আয়োজন করেছে।
১২ দিন আগে
সিরিয়ার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টকে ‘আত্মাহীন পুতুল’ আখ্যা দিয়ে নতুন হামলার হুমকি আইএসের
সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রেসিডেন্টকে আক্রমণ করে তাকে পশ্চিমা দেশগুলোর নিয়ন্ত্রিত ‘আত্মাহীন পুতুল’ বলে অভিহিত করেছে ইসলামিক স্টেট (আইএস) গোষ্ঠী। সেই সঙ্গে হুমকি দিয়ে তারা বলেছে, শেষ পর্যন্ত তার পরিণতি ক্ষমতাচ্যুত নেতা বাশার আসাদের মতোই হবে।
স্থানীয় সময় শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে এক অডিও বার্তায় সারা বিশ্বের আইএস অনুসারীদের অতীতের মতো ইহুদি ও পশ্চিমা লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর আহ্বান জানান আইএসের মুখপাত্র আবু হুজাইফা আল-আনসারি।
বার্তায় গোষ্ঠীটির প্রধান আইএস নেতা আবু হাফস আল-হাশেমি আল-কুরাইশির পক্ষ থেকে আইএস যোদ্ধাদের শুভেচ্ছা জানান আল-আনসারি। আল-কুরাইশি তিন বছর আগে গোষ্ঠীটির প্রধান হিসেবে ঘোষিত হয়েছিলেন।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সিরিয়া, ইরাক, পাকিস্তান ও বিশ্বের অন্যান্য স্থানে বহুসংখ্যক মানুষ নিহত বা আহত হওয়ার ঘটনায় হামলার দায় আইএসের ওপর চাপানোর কয়েক মাসের মধ্যে এই অডিওটিই প্রথম প্রকাশ করা হলো।
গত ডিসেম্বরে সিরিয়ার মধ্যাঞ্চলে এক হামলায় তিন মার্কিন নাগরিক নিহত হন। ওই হামলার দায় আইএসের ওপর চাপানো হয়। ওই ঘটনার পর সিরিয়ার যেসব জায়গা জঙ্গীদের আখড়া হিসেবে পরিচিত, সেসব স্থানে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।
ইরাক ও সিরিয়ায় একসময় খেলাফত ঘোষণা করেছিল আইএস। এরপর ২-১৭ সালে ইরাকে এবং তার দুই বছর পর সিরিয়ায় এ জঙ্গি গোষ্ঠীটি পরাজিত হয়। তবে তারপরও দেশদুটিতে হামলা থামায়নি আইএসের সুপ্ত চক্রগুলো।
চলতি মাসের শুরুতে আইএসের হুমকি নিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, গত বছর সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে হত্যার পাঁচটি চেষ্টা নস্যাৎ করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বর্তমান অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমদ আল-শারার নেতৃত্বে বিদ্রোহী দল হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) দামেস্কে প্রবেশ করে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বাশার আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করে। ওই ঘটনা যুদ্ধবিধ্বস্ত এই দেশটির ওপর ইরানের যে প্রভাব, তার ওপর বড় আঘাত হানে। সুন্নি মুসলিম অধ্যুষিত দেশটিতে আসাদ সংখ্যালঘু আলাওয়ি সম্প্রদায়ের মানুষ ছিলেন।
ওই ঘটনার পরে সিরিয়ায় আল-কায়েদা শাখার সাবেক নেতা আল-শারা পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে তার সম্পর্কের উন্নয়ন করেছেন। ১৯৪৬ সালে স্বাধীনতার পর গত বছর তিনিই প্রথম সিরীয় রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ওয়াশিংটন সফর করেন।
আল-আনসারির দাবি, সিরিয়ায় ইরান ও আসাদের স্থলে আমেরিকার প্রভাবাধীন একটি শাসনব্যবস্থা আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আজ সিরিয়া ক্রুসেডারদের দ্বারা শাসিত হচ্ছে, তারা এমন এক নেতাকে বসিয়েছে যে আত্মাহীন পুতুল।’ এ সময় দেশটিতে নতুন হামলার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, ‘সিরিয়া একটি নতুন প্রতিরক্ষার যুগে প্রবেশ করেছে এবং জিহাদের কাফেলা শেষ পর্যন্ত সিরিয়ায় অগ্রসর হবে।’
১২ দিন আগে
আফগান সীমান্তে জঙ্গি আস্তানায় হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান
সাম্প্রতিক সময় পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ হামলার পর আফগান সীমান্তবর্তী এলাকায় সামরিক অভিযান চালিয়েছে ইসলামাবাদ। অভিযানে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হামলা চালিয়ে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ও সহযোগী গোষ্ঠীর ৭টি আস্তানা ধ্বংসের দাবি করেছে সরকারি বাহিনী।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) ভোরে এই হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ। সুনির্দিষ্টভাবে কোন কোন এলাকায় হামলা চালানো হয়েছে, সে সম্পর্কে বিশদ তথ্য দেয়নি ইসলামাবাদ।
অন্যদিকে, কাবুলের তালেবান সরকার বলেছে, নানগরহার ও পাকতিকা প্রদেশে চালানো এ হামলায় বেসামরিক নারী শিশুসহ বহু মানুষ হতাহত হয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।
আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, পাকিস্তান আফগানিস্তানের ভেতরে হামলা চালিয়েছে। এক্স পোস্টে মুজাহিদ লিখেছেন, নানগরহার এবং পাকতিকা প্রদেশে বেসামরিকদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। হামলায় বেশকিছু মানুষ হতাহত হয়েছে, যার মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে।
পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে অভিযুক্ত করে মুজাহিদ বলেছেন, তারা দেশের ভেতরের নিরাপত্তার ঘাটতি মেটাতেই এ হামলা চালিয়েছে।
রবিবার ভোর হওয়ার আগে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এক্স পোস্টে লিখেছেন যে সেনাবাহিনী পাকিস্তানি তালেবান বা টিটিপি এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলোর ৭টি আস্তানার বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করেছে। তিনি বলেন, সীমান্ত অঞ্চলে ইসলামিক স্টেট গ্রুপের একটি সহযোগী সংগঠনকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
তারার বলেছেন, ‘পাকিস্তান সর্বদা এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা করেছে। পাকিস্তানি নাগরিকদের নিরাপত্তা এখানে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’
১২ দিন আগে
আদালতের রায়ের পরও শুল্ক বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার ঘোষণা ট্রাম্পের
গত এক বছরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরোপিত বিস্তৃত আমদানি শুল্কের বড় অংশ বাতিল করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। তবে এর পরের দিনই ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি বৈশ্বিক আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করতে চান।
স্থানীয় সময় শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, আদালত তার ক্ষমতায় লাগাম টানলেও তিনি শুল্ক বাড়ানোর নীতি অব্যাহত রাখতে চান। বৈশ্বিক বাণিজ্যনীতি নতুনভাবে সাজানো এবং আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগের প্রধান হাতিয়ার হিসেবেই তিনি শুল্ককে ব্যবহার করে আসছেন।
শুক্রবার আদালত জরুরি ক্ষমতা আইনের আওতায় প্রায় সব দেশের ওপর ট্রাম্প আরোপিত শুল্ক বাতিল করে দেয়। তবে বিপরীতে তিনি জানিয়েছেন, তুলনামূলক সীমিত হলেও ভিন্ন আইনি ক্ষমতা ব্যবহার করবেন তিনি।
আগামী মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্টেট অব দ্য ইউনিয়নে ভাষণ দেবেন। তিনি ইতোমধ্যে এমন একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন, যার মাধ্যমে কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে ওইদিন থেকেই বিশ্বব্যাপী আমদানির ওপর ১০ শতাংশ কর আরোপ করা যাবে। তবে আইন অনুযায়ী, এই শুল্ক ১৫০ দিনের জন্য কার্যকর থাকবে, যদি না আইন প্রণয়নের মাধ্যমে তার মেয়াদ বাড়ানো হয়।
তবে শুল্ক ১৫ শতাংশ নির্ধারণে ডোনাল্ড ট্রাম্প হালনাগাদ আদেশে কবে সই করবেন—এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিক কিছু জানায়নি।
ট্রাম্প সামাজিকমাধ্যমে লিখেছেন, আগের দিনের ‘অযৌক্তিক, দুর্বলভাবে রচিত এবং চরমভাবে আমেরিকাবিরোধী’ শুল্কসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার ভিত্তিতেই তিনি এ ঘোষণা দিয়েছেন।
এদিকে, সুপ্রিম কোর্টের বিচারকরা ৬-৩ ভোটের ব্যবধানে রায় দিয়েছেন যে, ট্রাম্পের এককভাবে শুল্ক নির্ধারণ বা পরিবর্তন করা অসাংবিধানিক। কারণ কর আরোপের ক্ষমতা কেবল কংগ্রেসের হাতে ন্যস্ত।
অন্যদিকে ট্রাম্প জানিয়েছেন, বাণিজ্য বিভাগীয় তদন্ত প্রয়োজন এমন ফেডারেল আইনের অন্যান্য ধারার মাধ্যমেও তিনি শুল্ক আরোপের পথ খুঁজছেন।
তিনি বলেন, আগামী কয়েক মাসে ‘আইনসম্মত নতুন শুল্ক’ নির্ধারণ ও জারি করবে আমাদের প্রশাসন যা আমেরিকাকে আবার মহান করে তোলার আমাদের অসাধারণ সফল প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখবে।’
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর মার্কিন প্রেডিডেন্ট তার বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া বিচারপতিদের ওপর অস্বাভাবিক ব্যক্তিগত আক্রমণ চালিয়েছেন। এমনকি তার প্রথম মেয়াদে নিয়োগ পাওয়া বিচারপতি নিল গোরসাচ এবং অ্যামি কোনি ব্যারেটকেও তিনি ছাড়েননি।
শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, এই পরিস্থিতি তাদের পরিবারের জন্যও একটি লজ্জাজনক বিষয়।
ওইদিন রাতে তিনি সামাজিকমাধ্যমে গরসাচ, ব্যারেট ও প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসকেও সমালোচনা করেন।
পরদিন (শনিবার) সকালে আরেক পোস্টে তিনি বিচারপতি ব্রেট কাভানফকে ‘নতুন নায়ক’ আখ্যা দেন, যিনি এই রায়ের বিপক্ষে ৬৩ পৃষ্ঠার একটি ভিন্নমত পোষণকারী নোট লিখেছেন। এ ছাড়াও তিনি বিচারপতি ক্ল্যারেন্স থমাস এবং স্যামুয়েল আলিতোরও প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, কারও মনেই সন্দেহ নেই যে তারা আমেরিকাকে আবার মহান করে তুলতে চান।
ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতিতে শুল্ক ছিল কেন্দ্রীয় বিষয়। তার দাবি, এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, মার্কিন উৎপাদন পুনরুজ্জীবিত করা এবং মাদক পাচার দমন বা দেশগুলোর মধ্যে সংঘাত বন্ধে চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব।
তবে তিনি বারবার বলেছেন, বিদেশি সরকারগুলোই এসব শুল্ক দেবে, মার্কিন ভোক্তা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নয়।
ফেডারেল তথ্য অনুযায়ী, জরুরি ক্ষমতা আইনের আওতায় প্রেসিডেন্টের আরোপিত আমদানি শুল্ক থেকে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত কোষাগারে ১৩৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি জমা হয়েছে। এই অর্থ জাতীয় ঋণ পরিশোধ বা করদাতাদের লভ্যাংশ হিসেবে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে ইতোমধ্যে সংগ্রহ করা এই বিপুল অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হবে, সে বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে কিছু বলা হয়নি।
এদিকে, ট্রাম্পের নতুন এই শুল্ক হুমকির পর ডেমোক্র্যাটরা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। হাউস ওয়েজ অ্যান্ড মিনস কমিটির ডেমোক্র্যাটরা অভিযোগ করেন, উচ্চ শুল্ক ঘোষণা করে ট্রাম্প ‘আমেরিকান জনগণের পকেট কেটে নিচ্ছেন।’
তাদের ভাষ্য, শুল্ক অবৈধ ঘোষণার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি খরচ বাড়ানোর পথ খুঁজছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট গভর্নর গ্যাভিন নিউসম বলেন, তিনি আপনাদের কথা ভাবেন না।
১৩ দিন আগে
ইরান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন জাতিসংঘ
ইরানকে ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছেন সংস্থার মহাসচিবের মুখপাত্র স্তেফান দুজারিক।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) নিয়মিত ব্রিফিং চলাকালে সিনহুয়ার এক প্রশ্নের জবাবে দুজারিক বলেন, ‘জাতিসংঘ মহাসচিব ও নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে ইরানের স্থায়ী মিশন যে চিঠি পাঠিয়েছে সে প্রসঙ্গে আমি আপনাদের বলতে পারি যে, এই অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা, যুদ্ধমহড়া অথবা কেবল সামরিক নৌ-উপস্থিতি বৃদ্ধির কারণে আমরা যে তীব্র ভাষায় বক্তৃতা দেখতে পাচ্ছি। এতে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান উভয়কেই মতপার্থক্য মেটাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার জন্য উৎসাহিত করছি।’
চিঠিতে জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি জানিয়েছেন, যেকোনো সামরিক আগ্রাসনের জবাবে দেশটি দৃঢ় ও সমানুপাতিক প্রতিক্রিয়া জানাবে এবং জাতিসংঘ সনদের অধীনে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করবে। তিনি নিরাপত্তা পরিষদ ও জাতিসংঘ মহাসচিবকে খুব দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
দুজারিকের মতে, ইরানের স্থায়ী মিশনের অনুরোধ অনুযায়ী চিঠিটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ও সাধারণ পরিষদ উভয়ের কাছেই পাঠানো হয়েছে।
১৩ দিন আগে
ইরানকে সীমিত হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা শেষে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই একটি প্রস্তাবিত চুক্তির খসড়া প্রস্তুত হতে পারে বলে ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক জানালেও তেরানে সীমিত পরিসরে হামলার কথা বিবেচনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প নিজেই হামলার বিষয়ে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বলতে পারেন, আমি বিষয়টি (হামলা) বিবেচনা করছি।’ কয়েক ঘণ্টা পর তিনি আরও বলেন, ইরানকে ‘একটি ন্যায্য চুক্তি’ নিয়ে আলোচনায় বসতে হবে।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে জানান, তার দেশ ‘আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে’ একটি খসড়া চুক্তি চূড়ান্ত করে ওয়াশিংটনে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে।
আরাগচি এমএসএনবিসির ‘মর্নিং জো’-এর এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘এই চুক্তি করতে বেশি সময় লাগবে না। হয়তো এক সপ্তাহের মধ্যেই আমরা চুক্তির মূল বিষয় নিয়ে বাস্তব ও গুরুতর আলোচনা শুরু করতে পারব এবং একটি সিদ্ধান্তেও পৌঁছাতে পারব।’
এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে চলছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের কাছ থেকে চুক্তিসংক্রান্ত দাবি আদায়ে চাপ বাড়িয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক উপস্থিতি গড়ে তুলেছে। এখনো আরও যুদ্ধজাহাজ ও বিমান পাঠাচ্ছে দেশটি।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সামাজিকমাধ্যমে প্রকাশিত জাহাজের ছবিতে দেখা গেছে, ট্রাম্পের নির্দেশে ক্যারিবীয় সাগর থেকে পাঠানো ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোল্ড নেতৃত্বাধীন যুদ্ধবিমানবাহী জাহাজ জিব্রাল্টার প্রণালি অতিক্রম করে ভূমধ্যসাগরে প্রবেশ করেছে।
এমন বাস্তবতায় তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ভেস্তে গেলে তারা উভই যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে।
আরাগচি বলেন, ‘আমরা যেমন কূটনীতির জন্য প্রস্তুত, তেমনি আলোচনার জন্য প্রস্তুত এবং ঠিক একইভাবে যুদ্ধের জন্যও প্রস্তুত রয়েছি।’
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরানবিষয়ক বিশেষজ্ঞ আলি ভাইজ বলেন, ইরান যেকোনো সামরিক পদক্ষেপকে অস্তিত্বগত হুমকি হিসেবে দেখবে।
ভাইজের মতে, প্রতিশোধ নেওয়ার বিষয়ে ইরানের নেতারা দ্বিতীয়বার ভাববেন না এবং তারা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা হলেও তারা ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবেন।
যা নিয়ে চলছে আলোচনা
এসব ঘটনার এক দিন আগে ট্রাম্প বলেন, সাম্প্রতিক পরোক্ষ আলোচনার পর ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে ১০ থেকে ১৫ দিনই ‘যথেষ্ট সময়’। জেনেভায় চলতি সপ্তাহে অনুষ্ঠিত আলোচনাসহ বিভিন্ন বৈঠকে দৃশ্যমান অগ্রগতি কম হলেও আলোচনা চলছে।
তবে ২০১৮ সালে ট্রাম্প বিশ্বশক্তিগুলোর সঙ্গে ইরানের ২০১৫ সালে যে পারমাণবিক হয়, তা থেকে একতরফাভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেয়। তারপর থেকেই এই আলোচনা দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত অবস্থায় রয়েছে।
তারপর থেকে মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বৃহত্তর দাবিগুলো, যেমন: ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করাসহ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিল ইরান।
যদিও প্রকাশ্যে মার্কিন কর্মকর্তারা ভিন্ন কথা বলেছেন, আব্বাস আরাগচি শুক্রবার বলেন, সর্বশেষ আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধিদল ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করার দাবি করেননি। তিনি বলেন, ‘আমাদের বর্তমান আলোচ্য বিষয় হচ্ছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচিসহ চিরকাল শান্তিপূর্ণ থাকবে এমন পরিস্থিতি নিশ্চিত করা। এর বিনিময়ে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে ইরান আস্থা বৃদ্ধিমূলক কিছু পদক্ষেপও বাস্তবায়ন করবে।’
আরাগচির এই দাবির প্রতিক্রিয়ায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র বা তা তৈরির সক্ষমতা রাখতে পারবে না এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণও করতে পারবে না।
তেহরান দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, যেকোনো আলোচনা কেবল তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েই হওয়া উচিত। গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে না বলেও দাবি করেছে তেহরান।
সে সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ হয়ে গেছে। তবে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের প্রবেশে তেহরান বাধা দেওয়ায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা এখনও স্পষ্ট নয়।
ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ‘শান্তিপূর্ণ’ দাবি করলেও যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশ মনে করে, এর লক্ষ্য শেষ পর্যন্ত অস্ত্র উন্নয়ন।
মার্কিন কংগ্রেস যা বলছে
ট্রাম্পের মন্তব্য নিয়ে কংগ্রেসের কিছু আইনপ্রণেতা আপত্তি জানিয়েছেন। তাদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক হামলার আগে প্রেসিডেন্টের কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া উচিত।
ডেমোক্র্যাট সিনেটর টিম কাইন শুক্রবার জানান, তিনি একটি ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজল্যুশন’ প্রণয়ন করেছেন, যাতে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলার আগে কংগ্রেসের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হবে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্টের একক সামরিক সিদ্ধান্তের ক্ষমতা সীমিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে এই প্রস্তাব আইনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম, কারণ এটিতে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পেরই সই লাগবে। তবুও অতীতে ভেনেজুয়েলা-সংক্রান্ত সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে সিনেটে যেসব রেজল্যুশনের ওপর ভোট হয়েছিল, সেগুলোর মতোই এই উদ্যোগে উভয় দলের কিছু সমর্থন তৈরি হয়েছে। যদিও সেসব রেজল্যুশন পাস হয়নি, তবু তা ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে আইনপ্রণেতাদের উদ্বেগ তুলে ধরে।
এক সংবাদ বিবৃতিতে কাইন বলেন, ‘যদি আমার কিছু সহকর্মী যুদ্ধকে সমর্থন করেন, তাহলে তাদের উচিত সেই যুদ্ধের পক্ষে ভোট দেওয়ার সাহস দেখানো এবং ভোটারদের কাছে জবাবদিহি করা—ডেস্কের নিচে লুকিয়ে থাকা নয়।’
১৩ দিন আগে