বিশ্ব
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ২১ ফিলিস্তিনি নিহত
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় শুক্রবার অন্তত ২১ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজার সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ বার্তা সংস্থা সিনহুয়াকে এই তথ্য জানিয়েছে।
সংস্থাটির মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানিয়েছেন, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের দক্ষিণ-পূর্বে আল-ফাখারি শহরের পূর্ব এলাকার একটি বাড়িতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ৯ জন নিহত হয়েছেন। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
তিনি আরও জানান, গাজা শহর এবং খান ইউনিসের আশেপাশের অন্যান্য এলাকায় ব্যাপক বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। যদিও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এই হামলার ঘটনাগুলো সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেনি।
গাজা সিটিতে, শুজাইয়া এবং তুফাহ এলাকায় ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষের সময় ইসরায়েলি বিমানের হামলাও তীব্র হয় ও কামানের বোমাবর্ষণ করা হয়। ফলে আশপাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী ছড়িয়ে পড়ে। ফিলিস্তিনি সূত্র জানায়, একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, এলাকা জুড়ে ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়ছে।
আরও পড়ুন: কাশ্মীরে হামলার ঘটনায় প্রধান উপদেষ্টার নিন্দা
শুক্রবার এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আভিচায় আদরাই বলেছেন, ২৫২তম ডিভিশনের ৪০১তম ব্রিগেডের সৈন্যরা বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে এই এলাকায় ‘সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে’ লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়ে আসছে।
তিনি উল্লেখ করেন, একটি ইসরায়েলি ড্রোন একটি ভবন থেকে ট্যাঙ্ক-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সঙ্গে জড়িত একটি ফিলিস্তিনি সেলের সদস্যদের হত্যা করেছে। ওই অভিযানের সময় কোনো ইসরায়েলি হতাহত হয়নি।
এদিকে, ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কান টিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ গাজায় ৬ জন ইসরায়েলি সৈন্য আহত হয়েছেন, যার মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর। তবে এই ঘটনাকে ‘নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঘটনা’ হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে।
এই ঘটনার বিষয়ে আদরাই নিশ্চিত করেছেন যে, দক্ষিণ গাজা উপত্যকায় সংঘর্ষের সময় ৫২৫০তম ব্যাটালিয়নের একজন রিজার্ভ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন।
হামাসের সামরিক শাখা আল-কাসসাম ব্রিগেডের মুখপাত্র আবু ওবাইদা পৃথক এক বিবৃতিতে বলেছেন, তাদের যোদ্ধারা ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্যবস্তু করে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে।
আরও পড়ুন: ভারতের কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর বন্দুকধারীদের হামলা, নিহত ২৬
গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মতে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে চলতি বছরের ১৮ মার্চ থেকে ইসরায়েল তার তীব্র সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করেছে। এরপর থেকে কমপক্ষে ২ হাজার ৬২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আর আহত হয়েছেন অন্তত ৫ হাজার ৩৭৫ জন ফিলিস্তিনি। যার ফলে ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় মোট মৃতের সংখ্যা ৫১ হাজার ৪৩৯ জনে দাঁড়িয়েছে। আর মোট আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার ৪১৬ জনে।
৩১৫ দিন আগে
কেনিয়ায় পাচার থেকে রক্ষা পাচ্ছে না পিঁপড়াও, উদ্বিগ্ন পরিবেশবাদীরা
পৃথিবীজুড়ে অসাধু ব্যবসায়ী গোষ্ঠীসহ বিভিন্ন অপরাধচক্র মানুষ থেকে শুরু করে নানা পণ্য ও প্রাণী পাচার করে থাকে। এসব দুষ্ট লোকের হাত থেকে শেষমেষ রক্ষা পায়নি পিঁপড়াও! ক্ষুদ্র এই জীবগুলোকেও টিউববন্দি করে অর্থ উপাজর্নের আশায় পাচার করা শুরু করেছে মানুষ। এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবেশবাদীরা।
এই পিঁপড়া পাচারের ঘটনাটি ঘটেছে আফ্রিকান দেশ কেনিয়াতে। দেশটির বনাঞ্চলগুলো বিভিন্ন বণ্যপ্রাণীর পাচারের জন্য আগে থেকেই কুখ্যাত। চলতি মাসের শুরুর দিকে নিজেদের প্রতিদিনের দায়িত্ব পালন করছিলেন কেনিয়ার বণ্যপ্রাণী সেবার (কেডব্লিউএস) কর্মকর্তারা। এ সময়ে ৫ হাজার পিঁপড়া পাচার করার সময় দুই বেলজিয়ান তরুণকে আটক করেছেন তারা।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, এ অভিযানটি ছিল সবথেকে ছোট প্রাণীর পাচার রোধ করার সবথেকে বড় অভিযান। কারণ উদ্ধারকৃত প্রাণীগুলো ছিল ১৮ থেকে ২৫ মিলিমিটার দীর্ঘ পিঁপড়া।
এই পিঁপড়াগুলোকে এশিয়া ও ইউরোপের বাজারে পাচার করার জন্য ওই দুই তরুণ একটি কাভার্ড ভ্যানে করে নিয়ে যাচ্ছিলেন বলে জানান কেডব্লিউএসের কর্মকর্তারা। সিরিঞ্জ ও টিউবের মধ্যে তুলা ভরে তার মধ্যে পিঁপড়াগুলোকে রাখা হয়েছিল। এই পরিবেশে পিঁপড়া বেশ কয়েকদিন বেঁচে থাকতে বলে জানান কর্মকর্তারা।
পাচারকারী তরুণ লর্নি ডেভিড বলেন, ‘আমরা কোনো আইন ভাঙতে এ কাজ করিনি। দুর্ঘটনাবশত বোকামির কারণে এটি করে ফেলেছি।’
ডেভিড ও তার সহযোগী সেপে লোডেউইজিক্স দুজনেই ১৯ বছর বয়সী। পিঁপড়া পাচারের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছে। এর আগে একই অভিযোগে ৪০০ পিঁপড়াসহ আরও দুই ব্যক্তিতে আটক করেন কেনিয়ার বন কর্মকর্তারা। গত ২৩ এপ্রিল তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পর্যালোচনা করে আদালত তাদের হেফাজতে রাখারই নির্দেশ দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: কেমন হওয়া উচিত সকালের শুরুটা?
কেডব্লিউএসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পিঁপড়া পাচারের এই ঘটনাগুলো সাম্প্রতিক সময়ে প্রাণী পাচারের ক্ষেত্রে এক ধরনের পরিবর্তনের দিকে ইঙ্গিত করে। বড় স্তন্যপায়ী প্রাণী থেকে এখন কম দৃশ্যমান ছোট সাইজের প্রাণীর পাচার লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
৩১৬ দিন আগে
পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বাদ দিতে হবে ইরানকে: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো চুক্তি করতে হলে কিংবা সামরিক হামলার ঝুঁকি এড়াতে ইরানকে সব ধরনের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি পুরোপুরি বাতিল করতে হবে জানিয়েছেন মার্কিন পররারষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৩ এপ্রিল) সাংবাদিক বারি ওয়েসিসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।
রুবিও জানান, ইরান যদি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করে একটি চুক্তি করতে চায়, তাহলে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মতো পারমাণবিক কর্মসূচি প্রত্যাহার করতে হবে। একই সঙ্গে এতে সামরিক হামলার ঝুঁকিও এড়াতে সক্ষম হবে তেহরান।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ইরান যদি শান্তিপূর্ণ পারমানবিক কর্মসূচি চায়, তারা সেটি করতেই পারে। তবে সেক্ষেত্রে অন্যান্য দেশের মতো সমৃদ্ধ উপাদানগুলো (ইউরেনিয়াম) আমদানি করতে হবে।’
এদিকে, ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে তারা শান্তিপূর্ণভাবেই পারমাণবিক কর্মসূচি পরিচালনা করে। সক্ষমতা থাকলেও তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো চেষ্টা করেনি। তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বাতিলের প্রস্তাব প্রত্যাখান করেছে তেহরান।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করার লক্ষ্যে ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে একতরফাভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে বের করে নিয়ে আসে। দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফিরেই ইরানকে চাপে ফেলতে আরও কঠিন শর্ত দিয়ে একটি চুক্তির সম্পাদনের উদ্যোগ নেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
আরও পড়ুন: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক চুক্তি কি তবে হতে চলেছে?
ট্রাম্প গত ৫ মার্চ ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে আলোচনায় আসার জন্য একটি চিঠি লেখেন। পরদিন টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে এসে নিজেই বলেন, ‘আমি তাদের একটি চিঠি লিখেছি। চিঠিতে বলেছি, আপনারা আমাদের সঙ্গে আলোচনায় বসুন, নাহলে আমরা সামরিক হামলা চালাতে বাধ্য হব। সেটি কিন্তু খুব খারাপ হবে।’
প্রথমে সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখান করলেও ইতোমধ্যে দুই দফা আলোচনা হয়েছে দেশ দুটির মধ্যে। চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ কৌশলগত আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়া কথা রয়েছে। নিজেদের অর্থনীতির উন্নতির লক্ষ্যে ইরান এমন একটি চুক্তি চায়, যেখানে দেশটির ওপর চলমান নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়।
তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হওয়া থেকে এখনো অনেক দূরে রয়েছি আমরা। কোনো চুক্তি আদৌ হবে কিনা, তা-ও বলা যাচ্ছে না। তবে আমরা চাই একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান।’
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জর্জরিত পরিস্থিতি উল্লেখ করে রুবিও বলেন, এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র বা অন্যকোনো শক্তি যদি ইরানের হামলা চালায়, তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চাইলেই হামলা চালাতে পারতেন, কিন্তু তিনি তা না করে শান্তিপূর্ণ সমাধানকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।’
এর আগে, গত সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে আলোচনা শেষে ইরান চাইলে সীমিত আকারে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালু রাখতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিফ উইটকফ। তবে এতে আপত্তি জানায় অনেক রক্ষণশীল আমেরিকানসহ ইসরায়েল। পরে ট্রাম্প প্রশাসন জানায়, চুক্তি করতে হলে ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।
৩১৬ দিন আগে
রং হারিয়ে ঝুঁকির মুখে বিশ্বের অধিকাংশ প্রবালপ্রাচীর
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে ব্লিচিং বা রং হারানোর কবলে পড়েছে বিশ্বের প্রায় ৮৪ শতাংশ প্রবালপ্রাচীর। এতে প্রবালগুলো মারা যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৩ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক প্রবাল প্রাচীর উদ্যোগ (আইসিআরআই) এ তথ্য জানিয়েছে। এটিকে পৃথিবীর ইতিহাসে সবথেকে বড় প্রবাল ব্লিচিংয়ের ঘটনা বলে অভিহিত করেছে সংস্থাটি।
২০২৩ সালের বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে কোরাল ব্লিচিং বা সামুদ্রিক শৈবালের রং হারানোর এই সংকট শুরু হয়, যা চলতি বছরে তীব্র আকার ধারণ করেছে। মার্কিন বার্তা সংস্থা এসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) খবরে এমন বলা হয়েছে।
আইসিআরআইয়ের তথ্যমতে, এ নিয়ে চতুর্থ বারের মতো প্রবাল ব্লিচিংয়ের ঘটনা ঘটেছে। আশির দশক থেকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের প্রবালপ্রাচীরের মধ্যে ঝুঁকির বিষয়টি লক্ষ করা যায়। নব্বইয়ের দশকের শেষ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের প্রবালপ্রাচীরের ক্ষতির বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হয়।
পর্যবেক্ষণের তথ্যাদি থেকে জানা যায়, ১৯৯৮ সালে সারা বিশ্বের সব প্রবালপ্রাচীর ব্লিচের শিকার হয়। এরপর ২০১৪-১৭ সাল নাগাদ বিশ্বের দুই তৃতীয়াংশ প্রবালপ্রাচীর রং হারায়। ওই ঘটনার পর সাম্পতিক সময়ে ভয়াবহ আকারে আবার শুরু হয়েছে প্রবাল ব্লিচিং।
আরও পড়ুন: কার্বন বাণিজ্য কী? এটি কীভাবে কাজ করে?
আন্তর্জাতিক প্রবালপ্রাচীর সোসাইটির নির্বাহী সম্পাদক ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সামুদ্রিক ও বায়ুমণ্ডলীয় প্রশাসনের প্রধান পর্যবেক্ষক মার্ক একিন বলেন, ‘তাপদাহের কারণে সামুদ্রিক প্রবালের রং হারানোর ঘটনায় বিশ্বব্যাপী এমন সংকট তৈরি হতে এর আগে কখনোই দেখা যায়নি।’
৩১৭ দিন আগে
ভারতের কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর বন্দুকধারীদের হামলা, নিহত ২৬
ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অনেকে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) এই কাশ্মীরের পহেলগামে এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। খবর ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভির।
এমন এক সময়ে ভারতে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে, যখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাষ্ট্রীয় সফরে সৌদি আরব গেছেন। পাশাপাশি ভারত সফরে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
হিমালয়ের কোলে অবস্থিত মনোরম শহর পেহেলগামকে ‘ভারতের সুইজারল্যান্ড’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। জনপ্রিয় এই পর্যটন নগরীর এই হামলা ২০১৯ সালে পুলওয়ামা হামলার পর কাশ্মীরে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা। হামলার পর আহতদের উদ্ধারে সেখানে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে। কারণ, এই এলাকায় কেবল হেঁটে বা ঘোড়ায় চড়ে পৌঁছানো সম্ভব।
আরও পড়ুন: নাইজেরিয়ায় সন্দেহভাজন রাখালদের হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭২
এনডিটিভি জানিয়েছে, পহেলগামের বৈসারণ উপত্যকার ওপরে গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জঙ্গিরা জঙ্গল থেকে হঠাৎ বের হয়ে নির্বিচারে গুলি শুরু করে। নিহতদের মধ্যে নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তা ও এক গোয়েন্দা কর্মকর্তাও রয়েছেন।
এ ঘটনায় কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেসামরিক লোকজনকে লক্ষ্য করে যতগুলো হামলা হয়েছে, সেগুলোর তুলনায় এটা অনেক বড় হামলা।’
হামলার পর নরেন্দ্র মোদি সৌদি আরব সফর সংক্ষিপ্ত করে মঙ্গলবার রাতেই দেশে ফিরেছেন বলে এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে।
হামলায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন মোদি। গতকাল (মঙ্গলবার) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেছেন, ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য আমাদের সংকল্প অটুট রয়েছে এবং এটা আরও শক্তিশালী হবে।’
হামলার পর কাশ্মীরে গেছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কাশ্মীরের শ্রীনগরে গিয়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি।
ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দিল্লিতে অমিত শাহর বাসভবনে জরুরি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর প্রধান তপন দেকা, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন, সিআরপিএফ প্রধান জ্ঞানেন্দ্র প্রতাপ সিং, জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের মহাপরিচালক নলিন প্রভাতসহ সেনাবাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তা। ওমর আবদুল্লাহ এবং কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহার সঙ্গেও কথা বলেন তিনি।
হামলার পর ঘটনাস্থল পেহেলগাম এলাকায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা।
আরও পড়ুন: গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৪৫ ফিলিস্তিনি নিহত
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের এক খবরে বলা হয়, এই হামলার দায় স্বীকার করেছে ‘কাশ্মীর রেজিস্ট্যান্স’ নামের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা এই ঘোষণা দিয়েছে। তবে বিষয়টি যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, এ পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠীই হামলায় দায় স্বীকার করেনি।
এই হামলার তীব্র নিন্দা ও ভারতের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ইউরোপীয় ইউনিয়েনের প্রধান উরসুলা ভন দার লিয়েনসহ অনেকে।
৩১৮ দিন আগে
দাসদের মাথার খুলির পাত্রে পানীয় খেতেন অক্সফোর্ডের শিক্ষকরা!
ব্রিটেনের ঔপনিবেশিক ইতিহাসের এক অন্ধকার অধ্যায় হলো দাসপ্রথা। কালো চামড়ার লাখ লাখ মানুষকে আফ্রিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলগুলো থেকে জোরপূর্বক আমেরিকা ও ইউরোপে বিক্রি করা হতো। দাসপ্রথার ভয়াবহতা সম্পর্কে কমবেশি সব মানুষই কখনো না-কখনো শুনেছেন।
নানা অনুসন্ধান বা গবেষণায় দাসদের প্রতিনিয়তই অত্যাচার-নিপীড়নের নতুন কোনো তথ্য উঠে আসছে। এমনকি মারা যাওয়ার পর তাদের দেহাবশেষও মুক্তি পায়নি অত্যাচার থেকে। মাথার খুলি দিয়ে তৈরি হয়েছে পাত্র!
মানুষের মাথার খুলি দিয়ে বানানো সেই পাত্রে কয়েক দশক ধরে পানীয় খেতেন অক্সফোর্ডের ওরচেস্টার কলেজের শিক্ষকরা! শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও ঔপনিবেশিক যুগে লুট করা মানব দেহাবশেষ নিয়ে অনুসন্ধানে এমন তথ্য উঠে এসেছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের খবরে এমন বলা হয়েছে।
মানুষের খুলিকে পলিশ করে, রূপা দিয়ে হাতল ও চারপাশে নকশা করে অত্যন্ত সুন্দর করে এই পাত্রটি তৈরি করা হয়েছিল। মাত্র দশ বছর আগেও প্রতিনিয়ত এই পাত্র থেকে ওয়াইন খেতেন; পরে ওয়াইন চুইয়ে পড়া শুরু করলে তাতে চকোলেট খেতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
সম্প্রতি ওরচেস্টার কলেজের পিট রিভারস জাদুঘরের প্রত্নতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড্যান হিকসের আসতে চলা নতুন বই ‘এভরি মনুমেন্ট উইল ফল’ বইয়ে এসব লজ্জাজনক তথ্য উঠে এসেছে।
হিকস জানান, কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী ও অতিথিদের মধ্যে মানুষের খুলি দিয়ে বানানো পাত্রে পানীয় খেতে অস্বস্তি বাড়ার কারণে ২০১৯ সালের দিকে এই পাত্রের ব্যবহার বন্ধ হয়ে যায়। সে সময় এই পাত্রটি কোথা থেকে আর কী করে কলেজের খাবারের টেবিলে জায়গা পেল; তা জানতে হিকসকে অনুসন্ধান করার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: দাবানল কী ও কেন হয়? পৃথিবীর ইতিহাসে ভয়ানক কয়েকটি দাবানল
হিকস বলেন, ঔপনিবেশিক ইতিহাস নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে। তবে সেসব বিতর্ক সাধারণত এই ঔপনিবেশিক শাসন থেকে যারা লাভবান হয়েছে তাদের কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়। যেমন সিসলি রোডস কিংবা এডওয়ার্ড কলস্টন— যাদের নামে অনেক স্ট্যাচু কিংবা প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হয়েছে।
তবে হিকস চেয়েছিলেন এসব লাভবান নয় বরং ঔপনিবেশিক শাসনের যারা শিকার, যাদের নাম ইতিহাস থেকে মুছে গিয়েছে, তাদের বিষয়টি সামনে নিয়ে আসতে। তিনি বলেন, ব্রিটিশ সংস্কৃতি ও শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদ নিয়ে থাকা বর্ণবাদের কারণে এসব মানুষকে একদমই গুরুত্ব দেওয়া হতো না। এ ধরণের অমানবিকতা ও পরিচয় ধ্বংস করাও সহিংসতার অংশ বলে মনে করেন তিনি।
পাত্রটির খুলির মালিক কে, তার একদম সঠিক কোনো তথ্য পাননি হিকস। তবে কার্বন ডেটিংয়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যমতে, খুলিটি আনুমানিক ২২৫ বছর আগের। খুলির আকার ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে হিকস জেনেছেন, খুলিটি একজন দাস নারীর এবং তাকে ক্যারিবিয়ান অঞ্চল থেকে নিয়ে আসা হয়েছিল।
খুলিটি কার সেটির কোনো তথ্য লিপিবদ্ধ না থাকলেও খুলি দিয়ে তৈরি পাত্রটির মালিকের নাম কিন্তু রূপা দিয়ে খোদাই করা ছিল। ১৯৪৬ সালে কলেজে এই পাত্রটি উপহার দেন সাবেক শিক্ষার্থী জর্জ পিট রিভারস।
যিনি একজন ইউজেনিসিস্ট ছিলেন। একটি বিশেষ জাতিকে সন্তান উৎপাদনের অনুমতি দেওয়ার মাধ্যমে মানুষের উন্নতি করার ধারণাকে ইউজেনিকস বলা হয়। এই ধারণার সাথে বর্ণবাদ ও নাৎসি তত্ত্বের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। যে কারণে পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষই এই নীতিকে গ্রহণযোগ্য বলে মনে করছেন না। নাৎসি শাসক ওসওয়াল্ড মোসলিকে সমর্থন করার জন্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সরকার তাকে কারাবন্দিও করেছিল।
যাইহোক, খুলিটি জর্জ পিট পেয়েছিলেন তার দাদা হেনরি লেন ফক্স পিট রিভার্সের থেকে। তিনিই পিট রিভার্স মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি ১৮৮৪ সালে একটি নিলামে এই পাত্রটি কিনেছিলেন। সে সময় পাত্রটিতে একটি কাঠের হাতল ছিল। সেটির নিচে রানী ভিক্টোরিয়ার নাম খোদিত ছিল এবং তার অভিষেকের বছরেই অর্থাৎ ১৮৩৮ সালে তৈরি করা হয়েছিল পাত্রটি। নিলামে পাত্রটি বিক্রি করেছিরেন বার্নাড স্মিথ নামে এক ব্যক্তি। হিকসের ধারণা এটি তিনি তার বাবার থেকে উপহার পেয়েছিলেন। স্মিথের বাবা ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে ভিক্টোরিয়ান যুগে রয়েল আর্মিতে কর্মরত ছিলেন।
আরও পড়ুন: ব্রিটেনে গর্ভপাতের পর ‘শোক ছুটি’ পাবেন মা-বাবা
আফ্রিকান ক্ষতিপূরণ সম্পর্কিত ব্রিটেনের ‘অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের’ সদস্য ও লেবার পার্টির এমপি বেল রিবেরিও অ্যাডি বলেন, ‘ঔপনিবেশিক সহিংসতা ও শোষণের মাধ্যমে গড়া সমৃদ্ধ এই প্রাচীরে দাঁড়িয়ে অক্সফোর্ডের ডনরা মানুষের মাথার খুলি দিয়ে বানানো পাত্রে পানীয় খাচ্ছেন— দৃশ্যটি ভাবলেই কেমন যেন গা গুলিয়ে বমি আসে! হতে পারে খুলিটি একজন দাসের, যাকে এতটাই তুচ্ছ করা হয়েছে যে তার মাথার খুলিকে একটি পাত্রে তৈরি করা হয়েছে!’
এ বিষয়ে ওরচেস্টার কলেজের এক মুখপাত্র বলেন, বিংশ শতাব্দীর দিকে মাঝে মাঝে এই পাত্রটি প্রদর্শন করা হতো, আবার অনেক সময় ব্যবহারও করা হতো। তবে কতবার ব্যবহার করা হয়েছে তার কোনো সঠিক তথ্য নেই। তবে ২০১১ সাল থেকে এর ব্যবহার সীমিত করা হয়। আর ২০১৫ সালে পুরোপুরি ব্যবহার করা বন্ধ হয়ে যায়।
গবেষকদের ও আইনি পরামর্শ মেনে কলেজ কর্তৃপক্ষ পাত্রটিকে সম্মানের সঙ্গে সংগ্রহশালায় রাখার ও এর ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান তিনি।
এই খুলিটির বিষয় ছাড়াও ঔপনিবেশিক আমলে লুট হওয়া আরও কিছুর খুলির তথ্য হিকসের বইয়ে আছে। এরমধ্যে ফিল্ড মার্শাল লর্ড গ্রেনফিল্ডের একজন জুলু কমান্ডারের খুলি লুটের তথ্য আছে।
৩১৮ দিন আগে
নাইজেরিয়ায় সন্দেহভাজন রাখালদের হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭২
নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলের রাজ্য বেনুয়েতে সন্দেহভাজন সশস্ত্র রাখালদের সাম্প্রতিক হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭২ জনে দাঁড়িয়েছে।
সোমবার(২১ এপ্রিল) স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বার্তা সংস্থা সিনহুয়াকে এই তথ্য জানিয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার রাতের মধ্যে রাজ্যের উকুম এলাকার সম্প্রদায়গুলোতে এই ভয়াবহ হামলাগুলো চালানো হয়।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ শনিবার জানিয়েছে, ওই হামলায় অন্তত ৫৬ জন নিহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় ৬ আইনজীবী কারাগারে, ডিম নিক্ষেপ
সরকারের মুখপাত্র আইজ্যাক উজান গণমাধ্যমকে জানান, স্থানীয় নিরাপত্তা সংস্থা এবং স্বেচ্ছাসেবকরা হামলার ঘটনার কাছাকাছি ঝোপঝাড়ে চিরুনি অভিযান চালানোর সময় সোমবার আরও হতাহতের খবর নিশ্চিত করেছে।
এর আগে রাজ্যের স্থানীয় সম্প্রদায়গুলোকে অব্যাহত ভয়াবহ আক্রমণ বন্ধে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বেনুয়ের গভর্নর হায়াসিন্থ আলিয়া।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ধারাবাহিক আক্রমণের সাক্ষী হয়েছে নাইজেরিয়া। এছাড়া দেশটিতে সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনাও বারবার ঘটেছে।
৩১৯ দিন আগে
পোপ ফ্রান্সিস মারা গেছেন
ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মীয়গুরু পোপ ফ্রান্সিস মারা গেছেন। সোমবার (২১ এপ্রিল) ভ্যাটিকানের কাসা সান্তা মার্তায় নিজ বাসভবনে তার মৃত্যু হয়েছে। তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।
মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এমন খবর দিয়েছে। ল্যাটিন আমেরিকান ইতিহাসে তিনিই ছিলেন প্রথম কোনো পোপ। এরআগে মহাদেশটি থেকে কোনো পোপ নির্বাচিত হননি। যাপিত জীবনে বিনয়ের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত ছিলেন তিনি। দরিদ্রদের নিয়ে তার উদ্বেগ ও পুঁজিবাদের সমালোচনায় মুখর ছিলেন তিনি। এছাড়া বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়েও তাকে সরব থাকতে দেখা গেছে।
কার্ডিনাল কেভিন ফেরেল তার মৃত্যুর ঘোষণা দিয়েছেন। এরপর রোমের গির্জাগুলোতে ঘণ্টাধ্বনি বাজানো হয়েছে। কেভিন ফেরেল বলেন, ‘আজ (রবিবার) সকাল ৭টা ৩৫ মিনিটে স্বর্গে গমন করেছেন রোমের বিশপ। প্রভু ও তার গির্জার জন্য নিজের পুরো জীবনকে তিনি উৎসর্গ করেছিলেন।’
আরও পড়ুন: পোপ ফ্রান্সিসের শারীরিক অবস্থার অবনতি
শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দেওয়ায় অসুস্থ হয়ে গেল ১৪ ফেব্রুয়ারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন পোপ ফ্রান্সিস। দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুস রোগে আক্রান্ত ছিলেন পোপ ফ্রান্সিস। তরুণ বয়সে তার ফুসফুসের একটি অংশ কেটে ফেলতে হয়েছিল।
১৪ ফেব্রুয়ারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর ৩৮ দিন হাসপাতালে কাটাতে হয়েছে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের এই ধর্মীয় গুরুকে। তার গেল এক যুগের পোপজীবনে এটা ছিল সবচেয়ে বেশি সময়ে হাসপাতালে থাকা।
কিন্তু মৃত্যুর আগের দিন রবিবার ইস্টার সানডেতে জড়ো হওয়া কয়েক হাজার লোককে আশীর্বাদ জানাতে তিনি সেন্ট পিটার্স চত্বরে আসেন। পোপমোবাইলে—পোপের জন্য বানানো বিশেষ গাড়ি—চড়ে হাজির হলে লোকজন তাকে দেখে উল্লাশ প্রকাশ করেন।
২০১৩ সালের ১৩ মার্চের এক বৃষ্টিভেজা রাতে দুই হাজার বছরের পুরোনো প্রতিষ্ঠানে এসে নতুন বাতাসে শ্বাস নেন আর্জেন্টিনায় জন্ম নেওয়া জর্জ মারিও বার্গোগ্লিও। এমন এক সময়ে তিনি পোপ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তখন প্রতিষ্ঠানটির প্রভাব ছিল অনেকটা কমতির দিকে।
২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আকস্মিক পদত্যাগ করেন পোপ এ্যামিরেটাস ষোড়শ বেনেডিক্ট। ১৪১৫ সালে ত্রয়োদশ গ্রেগরির পর প্রথম ব্যক্তি হিসেবে তিনি মৃত্যুর আগেই পোপের দায়িত্ব ছেড়েছিলেন। এরপর নতুন পোপ নির্বাচিত হয়েছিলেন ফ্রান্সিস। কিন্তু তার নেওয়া কিছু প্রগতিশীল পদক্ষেপে রক্ষণশীলদের ক্ষোভের মুখেও পড়তে হয়েছে তাকে।
আরও পড়ুন: পোপ ফ্রান্সিস-অধ্যাপক ইউনূসের নামে যৌথ উদ্যোগ চালু করল ভ্যাটিকান
তাকে সবচেয়ে বড় পরীক্ষার মুখে পড়তে হয় ২০১৮ সালে। তখন চিলিতে ধর্মযাজকের যৌন হয়রানির ঘটনা ফাঁস হয়ে গেলে তিনি ঘটনাটি জোড়াতালি দিয়ে সুরাহা করার চেষ্টা করেন। এতে যারা যৌন হয়রানির শিকার হয়েছিলেন, তারা ব্যথিত হন এবং পোপের সমালোচনা করেন।
পোপ ফ্রান্সিস ২০১৭ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন। এ সময় তিনি ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি উচ্চারণ করে সবার পক্ষ থেকে তাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করেন।
৩১৯ দিন আগে
যুদ্ধ শেষ হলেও মরণফাঁদে সিরীয়রা
সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধের অবসান হয়েছে, বাশার আল-আসাদ সরকারের পতন হয়েছে। কিন্তু দেশটির হতভাগা সাধারণ মানুষের আশেপাশে এখনো ঘুরে বেড়াচ্ছে মৃত্যুর বিভীষিকা। কে, কখন কীভাবে মারা যাবেন; তাও যে নিশ্চিত নয়। এখনও দেশটিতে প্রতিদিন কেউ না-কেউ প্রাণ হারাচ্ছেন বা মারাত্বকভাবে জখম হচ্ছেন, তাদের পায়ের তলায় এখনও মরণফাঁদ রয়ে গেছে।২১ বছর বয়সী এক তরুণ সুলায়মান খলিল, দুর্বার গতিতে ছুটে চলার বয়স এখন যার। চার মাস আগে দুই বন্ধুর সঙ্গে সিরিয়ার একটি বাগানে জলপাই তোলার কাজ করছিলেন তিনি। তাদের পায়ের নিচের মাটিতে তখনও যুদ্ধের ভয়াবহ স্মৃতি হিসেবে যে মারণাস্ত্র লুকিয়ে আছে তাতো জানতেন না তারা।
হঠাতই মাটিতে পড়ে থাকা একটি মাইন তাদের নজরে আসে। আতঙ্কিত খলিল ও তার বন্ধুরা সেখান থেকে পালাতে গেলেন, কিন্তু খলিলের বিধি বাম। একটি ল্যান্ড মাইনের (মাটিতে পুঁতে রাখা মাইন) ওপর পা রাখামাত্রই তা বিস্ফোরিত হয়।
ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে বন্ধুরা অ্যাম্বুলেন্সের খোঁজে ছুটে গেলেন, কিন্তু ২১ বছরের খলিল ভেবেছিলেন, তারা তাকে ফেলে রেখে গেছেন।
আরও পড়ুন: সিরিয়াকে অস্থিতিশীল করে তুলছে ইসরায়েল: এরদোগান
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খলিল বলেন, ‘আমি হামাগুড়ি দিয়ে সরে যেতে শুরু করি, তখনই দ্বিতীয় ল্যান্ড মাইনটি বিস্ফোরিত হয়। প্রথমে মনে হয়েছিল, আমি মারা গেছি। বাঁচবো বলে আশা ছিল না।’
তিনি জানান, ‘প্রথম বিস্ফোরণে তার বাঁ পা গুরুতরভাবে ক্ষত-বিক্ষত হয়। পরের বিস্ফোরণে ডান পা হাঁটুর ওপর থেকে উড়ে যায়। তিনি নিজের শার্ট ছিঁড়ে কাটা স্থানে টুর্নিকেট (রক্ত বন্ধ করার জন্য) বাঁধেন আর চিৎকার করতে থাকেন। চিৎকার শুনে কাছাকাছি থাকা একজন সেনা এসে তাকে উদ্ধার করেন।’
খলিল সিরিয়ার ইদলিব প্রদেশের বাসিন্দা। নিজের পা হারালেও প্রাণে বেঁচে গেছেন তিনি। একটি কৃত্তিম পায়ের অপেক্ষায় রয়েছেন এই তরুণ—যেন তিনি কাজে ফিরে যেতে পারেন এবং তার পরিবারকে সহায়তা করতে পারেন।
প্রায় ১৪ বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধের সময় বাসার আল-আসাদের সেনাবাহিনী, তাদের মিত্ররা ও বিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো মাটির নিচে মাইন পুঁতে রাখতেন শত্রুপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য।
আরও পড়ুন: সিরিয়ায় প্রতিশোধমূলক হামলায় নিহত ১ হাজার ছাড়াল
আসাদের পতনের পর বিস্ফোরক দিয়ে দূষিত ওই এলাকাগুলোতে সাধারণ মানুষের আনাগোনা শুরু হয়েছে। এসব মাইনগুলো বিস্ফোরিত হয়ে হতাহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে বলে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচএরডব্লিউ) এক প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
ত্রাণকর্মীদের সহায়তাদানকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা আইএনএসওয়ের তথ্যমতে, গত ৮ ডিসেম্বর আসাদ সরকারের পতনের পর থেকে এসব ল্যান্ড মাইন বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২৪৯ জন, যার মধ্যে ৬০ জন শিশু। আহত হয়েছেন প্রায় ৪০০।
মাইনগুলো সরানো সময়সাপেক্ষ কাজ
এইচএরডব্লিউয়ের সংকট ও সংঘাত বিষয়ক জ্যেষ্ঠ গবেষক রিচার্ড ওয়্যার বলেন, ‘জরুরিভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এই মাইনগুলো তুলে ফেলতে হবে। নাহলে এত বছর পর নিজেদের জমি ফিরে পেতে ফিরে আসা বাসিন্দাদের হতাহতের সংখ্যা বাড়তেই থাকবে।’
সিরিয়াজুড়ে বিশেষত ইদলিবের গ্রামীণ অঞ্চলগুলোতে এখনো মাটির নিচে কয়েক হাজার মাইন পুঁতে রাখা আছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আরও পড়ুন: সিরিয়ায় এক সপ্তাহে নিহত অন্তত ৩৭০: জাতিসংঘ
সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই মাইনগুলো নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের আহমদ জোমা বলেন. ‘ঠিক কি পরিমাণ মাইন রয়েছে, তার সঠিক তথ্য আমাদের কাছে নেই। তবে এগুলো সরাতে বেশ সময় লাগবে।’
বাসিন্দাদের মানসিক অশান্তি
ইদলিবের গ্রামীণ অঞ্চলগুলোর বাসিন্দাদের জীবিকার প্রধান অবলম্বন কৃষি। কিন্তু এখন তারা প্রতিনিয়ত আতঙ্কে থাকেন; কখন মাইন বিস্ফোরিত হয়। কয়েকদিন আগে জমিতে কাজ করা সময় ট্রাক্টরের নিচে পড়ে একটি মাইন বিস্ফোরিত হয়ে কয়েকজন কৃষক গুরুতর আহত হয়েছেন।
জোমা বলেন, ‘এখানের মাইনগুলো এমনভাবেই ডিজাইন করা হয়েছে যেন, সেটি কোনো ব্যক্তি বা হালকা কোনো যানবাহনের চাপেই বিস্ফোরিত হয়ে যায়।’
জোমা আরও বলেন, ‘এই মাইনগুলো নিষ্ক্রিয় করতে যে ধরনের আধুনিক সরঞ্জাম প্রয়োজন আমাদের কাছে তার স্বল্পতা রয়েছে। যেগুলো চোখে দেখা যায় তা নিষ্ক্রিয় করা হচ্ছে। বাকিগুলো খোঁজার জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি প্রয়োজন।’
মাইন নিষ্ক্রিয় করা অনেক ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ কাজ করতে গিয়ে অনেক সেনাই নিজেদের অঙ্গ হারিয়েছেন।’
প্রতিদিনই কেউ না কেউ প্রাণ হারাচ্ছেন
চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি মাইন নিষ্ক্রিয় করতে গিয়ে প্রাণ হারান ৩৯ বছর বয়সী মোহাম্মদ। তিনি সিরিয়ান রিপালিকান গার্ডের মাইন পুঁতে রাখা ও নিস্ক্রিয় করার প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত একজন সদস্য ছিলেন।
তার ভাই সালাহ জানান, ‘মা তাকে বারণ করেছিলেন মাইন নিস্ক্রিয় করার কাজে যেতে। তা সত্ত্বেও তিনি এই বলে গিয়েছিলেন— আমিও বা অন্যরাও যদি না যাই, তাহলে যাবে কে? প্রতিদিনই সেখানে কেউ না কেউ মারা যাচ্ছে।’
৩২০ দিন আগে
বোমার ভয়ের চেয়েও ক্ষুধায় কাতর ফিলিস্তিনিরা
‘আমার নিজের সামান্য খাবার থেকে প্রায়ই আমার ছেলেকে ভাগ দিতে হয়, এই ক্ষুধাতেই আমি মারা যাবো—ধীরে ধীরে আমাকে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাচ্ছে।’ বলছিলেন ৪৪ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক হিকমাত আল মাসরি।
উপত্যকাটির শিশুরা গড়ে দিনে একবারেরও কম খাবার পাচ্ছে। দেখা যায়, বাবা-মা নিজের খাবারটুকু তুলে দিচ্ছেন সন্তানের মুখে। নিজেরা থাকছেন অভুক্ত। অনেক সময় সন্তানের মুখে তুলে দেওয়ার খাবারটুকুও পান না তারা। ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান এমন খবর দিয়েছে।ইসরায়েলের বোমার চেয়ে যেন ক্ষুধায় বেশি কাতর ফিলিস্তিনিরা। গত সাত সপ্তাহ ধরে গাজা উপত্যকায় খাদ্যসহ সব ধরনের মানবিক সহায়তা প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে গাজাবাসীর দুর্ভোগ চরম সীমায় পৌঁছেছে। হিকমাত বলেন, ‘আমাদের দুঃখ দুর্দশার কথা কেউ কল্পনাও করতে পারবে না, মৃত্যু আমাদের চারপাশ দিয়ে ঘিরে রেখেছে।’
গত ২ মার্চ গাজা উপত্যকায় সব ধরনের মানবিক সহায়তা প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এতে গাজাবাসীর জীবন অবর্ণনীয় কষ্ট ও হতাশায় নিমজ্জিত হয়েছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দা, চিকিৎসাকর্মী ও মানবাধিকার কর্মীরা।
আরও পড়ুন: গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৪৫ ফিলিস্তিনি নিহত
একদিকে ইসরায়েলের অবিরাম বোমাবর্ষণ, অন্যদিকে গাজার মানুষের কাছে না আছে খাবার, না পানি, না বিদ্যুৎ—জেনারেটরও শেষের পথে। অন্ধকারের অতলে পতিত হতে যাচ্ছে লাখ লাখ অসহায় মানুষ।
মানবিক সহায়তা প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরুর পর থেকে এবারের সংকট সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মত দিয়েছেন অনেকে।
এরই মধ্যে অসহায় ফিলিস্তিনিদের প্রাণ বাঁচাতে ছুটতে হচ্ছে এখান থেকে সেখানে। যদিও কোথাও তাদের নিরাপত্তা নেই। হাসপাতালের মতো বেসামরিক স্থাপনায় আবারও হামলা শুরু করেছে ইসরায়েলের সেনারা। এদিকে খাদ্য, জেনারেটরের জ্বালানি, চিকিৎসা সরঞ্জাম সবই শেষের পথে। নতুন করে কিছু প্রবেশ করতে দিচ্ছে না ইসরায়েল।
গত ১৮ মার্চ একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে গাজার ওপর পুনরায় হামলা শুরু করে ইসরায়েল। হামাসের কাছে থাকা অবশিষ্ট জিম্মিদের মুক্তি না দিলে গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে বারবার জানিয়ে আসছে ইসরায়েলের অনেক রাজনীতিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা।
ইসরায়েলের দাবি, নিরাপত্তার স্বার্থে গাজায় এই অবরোধ দিয়েছেন তারা, ক্ষুধাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছেনা। যেটি একটি যুদ্ধাপরাধ।
আরও পড়ুন: গাজার ৫০ শতাংশ ইসরায়েলের দখলে, নিজ ভূমিতে পরবাসী ফিলিস্তিনিরা
আট সপ্তাহ হতে চলেছে গাজায় এই অবরোধ জারি রেখেছে নেতানিয়াহু প্রশাসন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন থাকায় তেমন কোনো আন্তর্জাতিক চাপ ছাড়াই এই অবরোধ বহাল রাখতে পারবে বলে আত্মবিশ্বাসী নেতানিয়াহু।
এদিকে গাজায় দীর্ঘমেয়াদে সেনাদের উপস্থিতি বজায় রাখা এবং ফিলিস্তিনিদের স্থায়ীভাবে তাদের নিজভূমি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার নেতানিয়াহুর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হওয়ার আশঙ্কাও তীব্র হচ্ছে।
গাজায় নিরাপত্তা বাফার জোন তৈরির নামে মূলত ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে উপত্যকাটির ভূমি দখল করার পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল— এমনই ধারণা বিশেষজ্ঞদের। পাশাপাশি গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর ব্যাপারটিও সেনাবাহিনী ও বেসরকারি ঠিকাদারদের হাতে হস্তান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে ইসরায়েলের।
এতে গাজায় সংকট আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনিরা এখন ইসরায়েলের বিমান হামলার চেয়ে বেশি দুর্ভিক্ষকে ভয় পাচ্ছেন।
যু্দ্ধবিরতির সময় যে খাদ্য সহায়তা এসেছিল তা প্রায় শেষ। উদভ্রান্তের মতো ত্রাণ দেওয়া তাঁবুগুলোতে খালি হাঁড়ি নিয়ে ছুটে বেড়াচ্ছেন গাজার মানুষ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাম্প্রতিক তথ্যমতে, যুদ্ধের সময় বাজারগুলোতে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে এক হাজার ৪০০ শতাংশ।
আরও পড়ুন: গাজায় ব্যাপ্টিস্ট হাসপাতালে ইসরায়েলের হামলা
অক্সফামের সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ফিলিস্তিনের শিশুরা প্রতিদিন গড়ে এক বেলারও কম খাবার পায়। যদিও নতুন করে ইসরায়েলের আদেশে পায় ৪ লাখ ২০ হাজার বাসিন্দা সরে যেতে হচ্ছে অন্য আশ্রয়ের খোঁজে তাই সঠিক পাওয়াটা মুশকিল ছিল।
গাজার দেইর আল বালাহর চিকিৎসাকর্মী আমান্দে বাজেরোল জানান, উত্তর গাজা থেকে ইসরায়েলি হামলা থেকে বাঁচতে ফিলিস্তিনিরা এই শহরে এসে আশ্রয় নিয়েছেন। কেউ রাস্তায়, কেউবা ভাঙা বাড়িগুলোর মধ্যে তাঁবু টানিয়ে থাকছেন; যা যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে।তিনি বলেন, ‘এত মানুষকে আশ্রয় দেওয়ার মতো জায়গা আমাদের নেই। বার্ন ক্লিনিকগুলোতে ১০টার মধ্যেই রোগীর ভর্তি নেওয়া বন্ধ করতে হয়। কারণ আমরা ঔষধের মজুত যত বেশিদিন সম্ভব টিকিয়ে রাখতে চাইছি।’
উত্তর গাজা ও দক্ষিণ গাজা রাফায় ব্যাপকভাবে অভিযান চালিয়ে বর্তমানে উপত্যকাটিতে পার্শ্ববর্তী মিসর থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা। জাতিসংঘের তথ্যমতে, ফিলিস্তিনের প্রায় ৭০ শতাংশ ভূমিই এখন ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে।
মানবাধিকার ও ত্রাণকর্মীরা বলছেন, তাদের কাজ করার পরিধি ক্রমেই সীমিত হয়ে আসছে। কারণ যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইসরায়েল নিয়ম-কানুন ভঙ্গ করে চলেছে। এরমধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে খান ইউনিসের আল নাসের হাসপাতাল ও গাজা শহরের আল-আহলি হাসপাতালে হামলার ঘটনা উল্লেখ করে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা হামাস যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে হাসপাতালে ওই হামলা চালিয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ত্রাণকর্মী বলেন, ‘গাজার বাসিন্দারা আমাদের আশেপাশে থাকতে চায়। তাদের ধারণা, আমরা সঙ্গে থাকলে আইডিএফ কম হামলা চালাবে তাদের ওপর।’
তিনি বলেন, ‘শুরুর দিকে আমাদের দুই কিলোমিটার দূরত্বে হামলা চালানো হতো। ফলে আমরা সরে যেতে পারতাম। ধীরে ধীরে সেটি ৩০০ মিটারে নেমে আসে, এখন তো ৩০ মিটারে চলে এসেছে। একদম পাশেই হামলা চালানো হয়।’
ওই ত্রাণকর্মী আরও বলেন, ‘কখনো কখনো সরে যাওয়ার জন্য ২০ মিনিট সময় দেওয়া হয়, যা অসুস্থ রোগীদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য মোটেই পর্যাপ্ত নয়। আমাদের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে।’
এ প্রসঙ্গে আইডিএফ জানায়, হামাস ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় নিজেদের কার্যক্রম চালায়। আর বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েই তারা সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়, যেটি আন্তর্জাতিক আইন মেনেই করা হয়।
তাদের অভিযোগ, গাজাতে যে খাদ্য সহায়তা পৌঁছায় তার বড় একটি অংশ আত্মসাৎ করে হামাস। নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার পাশাপাশি বেসামরিক বাসিন্দাদের কাছে চড়াদামে এগুলো বিক্রি করতে তারা এই কাজ করে।
আরও পড়ুন: ইসরাইলকে এআই সরবরাহের প্রতিবাদ: মাইক্রোসফটের ২ প্রকৌশলী বরখাস্ত
গত সপ্তাহে ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে সরিয়ে বেসরকারি ঠিকাদারদের দিয়ে গাজায় ত্রান পাঠাবে ইসরায়েল। তবে কবে নাগাদ এই কার্যক্রম শুরু হবে তার কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।
এদিকে, শিগগিররই গাজায় মানবিক সহায়তা না পাঠানো হলে তীব্র মানবিক সংকট তৈরি হবে বলে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে।
এরই মধ্যে আরেকটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার চেষ্টা করে যাচ্ছে মধ্যস্ততাকারী দেশগুলো। তবে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ কিংবা ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহারের মতো মৌলিক বিষয়ে মতপার্থক্য থাকায় কোনো পক্ষই ছাড় দিতে রাজি নয়। তাই যুদ্ধবিরতি কার্যকরের সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে উঠেছে।
৩২০ দিন আগে