বিশ্ব
ভূমিকম্প নতুন বিপর্যয় নিয়ে এসেছে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ মিয়ানমারে
গৃহযুদ্ধ, খাদ্য সংকট ও অর্থনৈতিক অবনতির মধ্যে মিয়ানমারে নতুন বিপর্যয় ডেকে এনেছে সাত দশমিক সাত মাত্রার ভয়াবহ এক ভূমিকম্প। এরপর থেকে ধ্বংসযজ্ঞের খবর আসতে থাকে দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয় ও রাজধানী নেপিদো থেকেও।
এখন পর্যন্ত ১৪৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে বলে জানা গেছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এছাড়া প্রতিবেশী দেশ থাইল্যান্ডেও আটজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৮ মার্চ) দিনের মাঝামাঝিতে ভূমিকম্পটি আঘাত হেনেছে, যার গভীরতা ১০ কিলোমিটার বলে জানিয়েছে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)।
বিবিসির খবরে বলা হয়, ভূমিকম্পের পর মিয়ানমারে তথ্য পাওয়াটা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। আক্রান্ত এলাকার মোবাইল নেটওয়ার্ক মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ ও ইন্টারনেট সেবার বাইরে চলে গেছেন লাখ লাখ মানুষ।
ভেঙে পড়েছে বহু এলাকার বাড়িঘর, মসজিদ, উপড়ে গেছে গাছ। ফাটল ধরেছে রাস্তায়, ভেঙে গেছে সেতু, বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গেছে। তবে মিয়ানমারে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র এখনও স্পষ্ট নয়। মিয়ানমারে আন্তর্জাতিক উদ্ধার কমিটির পরিচালক মোহাম্মদ রিয়াজ বলেছেন, হাজার হাজার মানুষের জরুরি আশ্রয়, খাবার এবং চিকিৎসা সহায়তা দরকার।
বহু এলাকায় ভূমিকম্পের প্রভাব কতটা পড়েছে তা জানতে কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে বলেও তার ধারণা। রেড ক্রসের আশঙ্কা, মিয়ানমারের বড় বড় বাঁধগুলোতে কম্পনের কারণে ফাটল ধরে থাকতে পারে। ফলে বন্যাও দেখা দিতে পারে। এতে বিপর্যয় আরও বাড়বে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) খবর বলছে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল মিয়ানমারের দ্বিতীয় বৃহত্তর শহর মান্দালয়ের কাছেই। পরে ছয় দশমিক চার মাত্রার একটি আফটারশক (পরাঘাত) হয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে মিয়ানমার জান্তা সরকারের প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লেং বলেন, ‘এই ভূমিকম্পে অন্তত ১৪৪ জন নিহত ও ৭৩০ জন আহত হয়েছেন। হতাহতের শঙ্কা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।’
সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়েপড়া রাজধানী নেপিদোর বিভিন্ন ছবিতে দেখা গেছে, সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসন হিসেবে ব্যবহৃত বিভিন্ন ভবন মাটিতে মিশে গেছে। ধ্বংস্তস্তূপ থেকে আক্রান্তদের উদ্ধার করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ভূমিকম্পে থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারে দেড় শতাধিক নিহত
ভূমিকম্প ভয়াবহ আঘাত হানা এলাকাগুলোতে ‘জরুরিভিত্তিতে রক্তের’ চাহিদা বেড়েছে বলে জানিয়েছে মিয়ানমার সরকার। মান্দালয়ের সড়কগুলোতে বড় ধরনের ফাটল দেখা গেছে। একটি মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেতু ভেঙে পড়েছে। এতে কিছু এলাকায় উদ্ধারকারীদের পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়বে।
পৃথিবীর দরিদ্রতম দেশগুলোর একটি মিয়ানমারে আগে থেকেই ব্যাপক মানবিক সংকট রয়েছে। ভূমিকম্পের আঘাতে তা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভূমিকম্পের তীব্রতার বিবরণ দিতে গিয়ে সিরিনিয়া নাকুতা নামের এক নারী বলেন, “কম্পন থামছিল না। উপরের তোলা থেকে পাথরের মত জিনিস খসে পড়ার শব্দ শুনতে পাই। তখন বাচ্চাদের বলি, আমাদের এখানে থাকা ঠিক হবে না, বাইরে চলে যাওয়া উচিত।”
সন্তানদের নিয়ে নিজের নেপিদোর অ্যাপার্টমেন্টেই ছিলেন নাকুতা। হঠাৎ তীব্র ঝাঁকুনি শুরু হলে বেশ কিছু সময়েও তা না থামায় ছেলে-মেয়েদের নিয়ে দৌড়ে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসেন তিনি।
মিয়ানমারের সবথেকে বড় শহর ইয়াঙ্গনের এক বাসিন্দা বলেন, কম্পন ছিল বেশ তীব্র। প্রায় চার মিনিট ধরে ঝাঁকুনি চলে।
আরেক ব্যক্তি ঘটনার বর্ণনায় বলেন, “ঘুম থেকে জেগে দেখি ভবন মারাত্মকভাবে দুলছে। কাঁপাকাঁপি প্রায় তিন থেকে চার মিনিট চলে। বন্ধুদের কাছ থেকে মেসেজ পাচ্ছিলাম। দেখলাম কম্পন শুধু ইয়াঙ্গুন নয়, দেশের অনেক এলাকাতেই হয়েছে।”
মান্দালয়ে ধ্বংসাবশেষের ছবি ও ভিডিও এসেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। রয়্যাল প্যালেস, ৯০ বছরের পুরনো ব্রিজ ধসে পড়ার পাশাপাশি আর মহাসড়কও ফেটে চৌচির হয়ে গেছে।
আরও পড়ুন: বলিভিয়ায় খনি দুর্ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু
এদিকে নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবন ভেঙে থাই রাজধানী ব্যাংককে আটজন নিহত হয়েছেন। মুহূর্তে বিপর্যয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় এলাকাটি।
খবরে বলা হয়, রাজধানীর কাছাকাছি জনপ্রিয় চাতুচাক মার্কেটে ৩৩ তলার একটি নির্মাণাধীন ভবন ক্রেনসহ ধসে পড়েছে। সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়েপড়া ভিডিওতে দেখা যায়, এতে চারপাশে বিস্তৃত ধুলোর মেঘ ছড়িয়ে পড়ে। আশপাশের লোকজনকে আতঙ্কে চিৎকার-চেঁচামেচি করে দৌড়াতে দেখা গেছে।
ব্যাংককের কেন্দ্রস্থলে সাইরেনের প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল। যানজটে আটকাপড়ে ব্যস্ত সড়কগুলো। র্যাপিড ট্র্যানজিট সিস্টেম ও সাবওয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ভূমিকম্প যে এলাকাটিতে আঘাত হেনেছে, সেটি ভূমিকম্পপ্রবণ। কিন্তু এসব ভূমিকম্প খুব বড় না। থাই রাজধানী থেকে যা টের পাওয়ার ঘটনাও বিরল। ব-দ্বীপের ওপর অবস্থিত ব্যাংককে ভূমিকম্পের ঝুঁকি মাঝারি।
প্রথমে ভূমিকম্পের বিষয়টি বুঝতে পারেননি বলে জানিয়েছেন ব্যাংককের একটি ভবনে কাজ করা অপরিল কানিচাওয়ানকুল। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়েছিল, আমার মাথা ঘোরাচ্ছে।’ সহকর্মীদের নিয়ে ভবনের দশতলা থেকে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে যান তারা।
থাইল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পুমথাম উইচাইয়াচি বলেন, ব্যাংককে ভবনধসে নিখোঁজ রয়েছেন ৯০ জন।
নিহতদের মধ্যে দুজন নির্মাণশ্রমিক। ভবন থেকে ইট-পাথরের টুকরা পড়ে তাদের প্রাণহানি ঘটেছে বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা।
৩৪৩ দিন আগে
ভূমিকম্পে থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারে দেড় শতাধিক নিহত
সাত দশমিক সাত মাত্রার ভয়াবহ এক ভূমিকম্পে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দুই দেশ মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডে দেড় শতাধিক নিহত হয়েছেন। মিয়ানমারে অন্তত ১৪৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। দেশটির সবচেয়ে বেশি আঘাত হানা দুটি শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এছাড়া প্রতিবেশী দেশ থাইল্যান্ডেও আটজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৮ মার্চ) দিনের মাঝামাঝিতে ভূমিকম্পটি আঘাত হেনেছে, যার গভীরতা ১০ কিলোমিটার বলে জানিয়েছে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) খবর বলছে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল মিয়ানমারের দ্বিতীয় বৃহত্তর শহর মান্দালয়ের কাছেই। পরে ছয় দশমিক চার মাত্রার একটি আফটারশক (দ্বিতীয় কম্পন) হয়েছে।
গৃহযুদ্ধকবলিত মিয়ানমারে তথ্যপ্রবাহ কঠিনভাবে নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের সঠিক তথ্য এখনো জানা যায়নি। শুক্রবার সন্ধ্যায় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে মিয়ানমার জান্তা সরকারের প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লেং বলেন, ‘এই ভূমিকম্পে অন্তত ১৪৪ জন নিহত ও ৭৩০ জন আহত হয়েছেন। হতাহতের শঙ্কা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।’আরও পড়ুন: ফিরেছেন মিয়ানমারের স্ক্যাম সেন্টারে বন্দি ১৮ বাংলাদেশি
সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়েপড়া রাজধানী নেপিদোর বিভিন্ন ছবিতে দেখা গেছে, সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসন হিসেবে ব্যবহৃত বিভিন্ন ভবন মাটিতে মিশে গেছে। ধ্বংস্তস্তূপ থেকে আক্রান্তদের উদ্ধার করা হচ্ছে।
ভূমিকম্প ভয়াবহ আঘাত হানা এলাকাগুলোতে ‘জরুরিভিত্তিতে রক্তের’ চাহিদা বেড়েছে বলে জানিয়েছে মিয়ানমার সরকার। মান্দালয়ের সড়কগুলোতে বড় ধরনের ফাটল দেখা গেছে। একটি মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেতু ভেঙে পড়েছে। এতে কিছু এলাকায় উদ্ধারকারীদের পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়বে।
পৃথিবীর দরিদ্রতম দেশগুলোর একটি মিয়ানমারে আগে থেকেই ব্যাপক মানবিক সংকট রয়েছে। ভূমিকম্পের আঘাতে তা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবন ভেঙে থাই রাজধানী ব্যাংককে আটজন নিহত হয়েছেন। মুহূর্তে বিপর্যয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় এলাকাটি।
খবরে বলা হয়, রাজধানীর কাছাকাছি জনপ্রিয় চাতুচাক মার্কেটে ৩৩ তলার একটি নির্মাণাধীন ভবন ক্রেনসহ ধসে পড়েছে। সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়েপড়া ভিডিওতে দেখা যায়, এতে চারপাশে বিস্তৃত ধুলোর মেঘ ছড়িয়ে পড়ে। আশপাশের লোকজনকে আতঙ্কে চিৎকার-চেঁচামেচি করে দৌড়াতে দেখা গেছে।
ব্যাংককের কেন্দ্রস্থলে সাইরেনের প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল। যানজটে আটকাপড়ে ব্যস্ত সড়কগুলো। র্যাপিড ট্র্যানজিট সিস্টেম ও সাবওয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ভূমিকম্প যে এলাকাটিতে আঘাত হেনেছে, সেটি ভূমিকম্পপ্রবণ। কিন্তু এসব ভূমিকম্প খুব বড় না। থাই রাজধানী থেকে যা টের পাওয়ার ঘটনাও বিরল। ব-দ্বীপের ওপর অবস্থিত ব্যাংককে ভূমিকম্পের ঝুঁকি মাঝারি।
প্রথমে ভূমিকম্পের বিষয়টি বুঝতে পারেননি বলে জানিয়েছেন ব্যাংককের একটি ভবনে কাজ করা অপরিল কানিচাওয়ানকুল। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়েছিল, আমার মাথা ঘোরাচ্ছে।’ সহকর্মীদের নিয়ে ভবনের দশতলা থেকে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে যান তারা।
থাইল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পুমথাম উইচাইয়াচি বলেন, ব্যাংককে ভবনধসে নিখোঁজ রয়েছেন ৯০ জন।
নিহতদের মধ্যে দুজন নির্মাণশ্রমিক। ভবন থেকে ইট-পাথরের টুকরা পড়ে তাদের প্রাণহানি ঘটেছে বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা।
৩৪৩ দিন আগে
ইয়েমেনে সন্দেহজনক মার্কিন বিমান হামলা
ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় সন্দেহজনক বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। শুক্রবার (২৮ মার্চ) ভোরে এসব হামলা চালানো হয়।
এসব হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট করা হয়নি। গত ১৫ মার্চ থেকে মার্কিন বাহিনীর শুরু করা অভিযানের হামলাগুলোর তুলনায় এটির তীব্রতা বেশি ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ইসরায়েলি বিমান হামলায় লেবাননে নিহত ৬, আহত ২৮
অ্যাসেসিয়েটেড প্রেসের (এপি) একটি পর্যালোচনায় দেখা যায়, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টে জো বাইডেনের চেয়ে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার পরিমাণ বাড়িয়েছেন। কারণ হিসেবে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ও পদস্থ কর্মকর্তাদের ওপর হামলার পাশাপাশি শহরগুলোতে বোমা হামলা চালাচ্ছে।
হুতিদের প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৪ সাল থেকে বিদ্রোহীদের দখলে থাকা ইয়েমেনের রাজধানী সানায় শুক্রবারের হামলায় অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। বিদ্রোহীদের শক্ত ঘাঁটি সাদা, লোহিত সাগরের বন্দর নগরী হোদেইদা এবং ইয়েমেনের আল-জওফ, আমরান ও মারিব প্রদেশের আশপাশে হামলা চালানো হয়েছে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।
তবে সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়া আর কোন স্থানটিকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানায়নি হুথি বিদ্রোহীরা। সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সামরিক ও বেসামরিক উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা হয়। রাজধানীর আশেপাশের এলাকায় সামরিক, গোয়েন্দা পরিষেবার কার্যক্রম ও বেসামরিক নাগরিকরা থাকেন।
বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, একটি ভিডিওতে তারা দেখেছে যে, রাজধানী সানায় অনেক মানুষ শবে কদরের রাত জাগার সময় একটি বোমা ফেলা হচ্ছে, সেখান থেকে ব্যাপক ধোয়ার কুণ্ডলী উঠছে।
সানার উত্তরাঞ্চলে আমরানের পাহাড়ি এলাকার হামলার ঘটনা ঘটেছে। যেখানে হুথিদের সামরিক স্থাপনা রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
হুথিদের আল মাসিরাহ স্যাটেলাইট নিউজ নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, হামলার পর যোগাযোগের নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়ে। সেখানে ১৯টি হামলার ঘটনা ঘটেছে।
হোয়াইট হাউজের পূর্বানুমতি ছাড়া হামলা চালানোর ক্ষমতা থাকা মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
আরও পড়ুন: গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত ২০০
নতুন করে চালানো ধারাবাহিক বিমান হামলায় এখন পর্যন্ত ৫৭ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। গাজা উপত্যকায় ত্রাণ পৌঁছাতে বাধা দেওয়ার অভিযোগে হুথি বিদ্রোহীরা ইসরায়েলি জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করলে মার্কিন বাহিনী ইয়েমেনে বিমান হামলা শুরু করে।
২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত শতাধিক বাণিজ্যিক জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা। এর মধ্যে দুটি জাহাজকে ডুবিয়ে দিয়েছে এবং চারজন নাবিককে হত্যা করেছে। তারা মার্কিন জাহাজকে লক্ষ্য করেও হামলা চালিয়েছে, যদিও তাতে সফল হয়নি গোষ্ঠীটি।
৩৪৪ দিন আগে
বলিভিয়ায় খনি দুর্ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু
বলিভিয়ায় একটি খনিতে ধসের ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন আরও দুইজন। বুধবার রাতে লা পাজ শহর থেকে ১৪৯ কিলোমিটর দূরের পশ্চিমাঞ্চলীয় লারেকাজা প্রদেশে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) দেশটির স্থানীয় পুলিশের কমান্ডার কর্নেল গুন্থার আগুডো বার্তা সংস্থা সিনহুয়াকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আরও পড়ুন: ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপ: ম্যাঁখো
আগুডো বলেন, শিগগিরিই এই দুর্ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
দেশটির খনির নীতি বিষয়ক উপমন্ত্রী মার্সেলো ব্যালেস্টেরোস এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, এমন দুর্ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না হয় সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা জোরদার করা অপরিহার্য।
৩৪৪ দিন আগে
ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপ: ম্যাঁখো
রাশিয়ার আগ্রাসন থেকে ইউক্রেনকে নিরাপত্তা দিতে প্রস্তাবিত নিজস্ব সেনাবাহিনী মোতায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপ। কিয়েভের গুরুত্বপূর্ণ শহর ও কৌশলগত স্থাপনাগুলোতে এই সেনা মোতায়েন করা হতে পারে জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁখো। বাহিনীতে থাকতে পারে ১০ থেকে ৩০ হাজার সেনা।
এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) প্যারিসে ৩১টি দেশের নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে এমন তথ্য দেওয়া হয়েছে।
সেনা মোতায়ন নিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান ম্যাঁখো। এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বৃহস্পতিবার প্যারিসের এলিসি প্রাসাদে ৩০টি দেশের নেতাদের অংশগ্রহণে শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করা হবে বলেও জানান তিনি।
ম্যাঁখো বলেন, ‘ইউক্রেনের মাটিতে যারাই হামলা চালাবে, তাদেরও পাল্টা হামলার মুখোমুখি হতে হবে। আমাদের রণকৌশল অনুযায়ী সেনারা শত্রুদের মোকাবিলা করবে।’
ইউক্রেনে সেনা মোতায়েনে যেসব দেশ সহায়তা করতে আগ্রহী; তাদের নিয়ে একটি জোট গঠন করতে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে তিনি কাজ করছেন বলে জানান ম্যাঁখো।
আরও পড়ুন: ‘ইতিহাসের সন্ধিক্ষণে’ থাকা ইউরোপের নিরাপত্তা নিশ্চিতের তাগিদ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর
ইউক্রেনে স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত ও রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করতে এই উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে অভিমত দেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। তবে রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলার জবাবে কি ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে; সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি তিনি।
ম্যাঁখো জানান, প্রস্তাবিত সশস্ত্র বাহিনীর সেনারা শুরুতেই ফ্রন্টলাইনে (সম্মুখযুদ্ধে) রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে জড়াবে না। এমনকি এই বাহিনী ফ্রন্টলাইনে অবস্থানও করবে না। ইউক্রেনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহর ও কৌশলগত ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তায় থাকবে তারা।
ম্যাঁখো বলেন, ইউক্রেনকে সমর্থন জানাতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ও জোটগুলো এই উদ্যোগ নিয়েছে। যু্দ্ধ জড়াতে নয় বরং ইউক্রেনে সংঘাত বন্ধে এটি একটি শান্তি প্রস্তাব বলে মনে করেন তিনি। এছাড়া সংঘাত একমাত্রই রাশিয়াই চায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারের বৈঠকে ৩১টি দেশের নেতার উপস্থিতি আশা করা হচ্ছে। এর আগে, ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধে নিরাপত্তা সম্মেলন আয়োজন করে প্যারিস। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোসহ ৭টি দেশের নেতারা সম্মেলনে অংশ নেয়।
এই সম্মেলনে উপস্থিত না থাকলেও আলোচনায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে শান্তিচুক্তির পর ইউক্রেনের স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় সেনা মোতায়েনের প্রস্তাবে প্রকাশ্যে কোনো আগ্রহ দেখায়নি যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন।
অবশ্য ইউরোপীয় নেতাদের এই পরিকল্পনায় অনাগ্রহ দেখিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। সেনা মোতায়েনের কোনো প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন না তিনি।
আরও পড়ুন: ইউরোপকে জেগে ওঠার আহ্বান গ্রিসের প্রধানমন্ত্রীর
তবে ইউরোপের নেতারা জানান, রুশ প্রেসিডেন্টের অতীত কার্যকলাপের ফলে তার প্রতি আস্থা রাখতে পারছেন না তারা।
এ সময় ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া উপদ্বীপ দখল ও ২০২২ সালের পূর্ণমাত্রায় ইউক্রেনে হামলা চালানোর ঘটনা উল্লেখ করে তারা বলেন, শান্তিচুক্তি হওয়ার পরও পুনরায় হামলা চালাতে পারে পুতিন। সম্ভাব্য এই হামলা প্রতিহত করতেই ইউক্রেনে সেনা মোতায়ন প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ফরাসী কর্মকতা জানান, ইউরোপীয় জোটের সেনাবাহিনী ফ্রন্টলাইন থেকে কিছুটা দূরে ইউক্রেনের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে, দিনিপার নদীর তীরে মোতায়ন করা হতে পারে।
আবার ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চল বা প্রতিবেশী কোনো দেশেও সেনা মোতায়েন করা হতে পারে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
ব্রিটিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছে, প্রস্তাবিত ওই বাহিনীতে ১০ থেকে ৩০ হাজার সেনা থাকতে পারে। স্নায়ুযুদ্ধের পর সেনা সংকুচিত করা ইউরোপের দেশগুলোর সেনাবাহিনী গঠনের এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
৩৪৪ দিন আগে
দক্ষিণ কোরিয়ায় দাবানলের গ্রাসে প্রাচীন মন্দির, প্রাণহানি ২৬
নজিরবিহীন দাবানলে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রাচীন মন্দিরের বড় অংশই ধ্বংস হয়ে গেছে। এছাড়া জাতীয় সম্পদ হিসেবে আখ্যায়িত করা দুটি ভবন আগুনে ধসে পড়েছে। বুধবার (২৭ মার্চ) দেশটির কর্মকর্তারা এমন তথ্য জানিয়েছেন।
গেল পাঁচদিন ধরে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানলের মুখে পড়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। এতে এখন পর্যন্ত ২৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। তিনশতাধিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। ৩৭ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
খ্রিষ্টপূর্ব ৬৮১ অব্দে শিলা রাজবংশের সময় গৌনসা মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়েছিল। কোরীয় উপদ্বীপটির অর্ধেকেরও বেশি সময় শাসন করেছেন তারা। উইসিং শহরের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ডিউনগুন পাহাড়ের পাদদেশে মন্দিরটির অবস্থান।
প্রাচীন আমলে নির্মিত ভবনগুলো যদিও কোনো আবাসিক ভবন না, তবে পরবর্তীতে এখানে কিছু সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু মঙ্গলবার আগুনের গ্রাসের মধ্যে পড়ে যায় মন্দিরটি। এতে ৩০টি ভবনের মধ্যে প্রায় ২০টি আগুনে ধসে পড়ে।-খবর অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি)।
হেলিকপ্টার দিয়ে পানি ছিটিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও তীব্র বাতাসে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে দাবানলের লেলিহান শিখা। নিহতের মধ্যে ৪ ফায়ার সার্ভিস কর্মীসহ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা ও একজন পাইলটও রয়েছেন।
উইসিয়ং অঞ্চলে দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করার সময় হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়ে ওই পাইলট প্রাণ হারিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে সিউল কর্তৃপক্ষ। এছাড়া আহতদের মধ্যে ৮ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান সরকারি কর্মকর্তারা।
তবে নিহতদের ব্যাপারে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। নিহতরা বেশিরভাগ ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়স্ক বলে জানান তারা।
আরও পড়ুন: দাবানলে জ্বলছে দক্ষিণ কোরিয়া, নিহত বেড়ে ১৮
৩৪৪ দিন আগে
‘অপহরণের’ কায়দায় তুর্কি শিক্ষার্থীকে তুলে নিল মার্কিন পুলিশ
ফিলিস্তিনের পক্ষে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে আটক করেছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ। মুখোশপরা লোকজন তাকে হাতকড়া পরিয়ে তুলে নিয়ে যাচ্ছেন বলে ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে। তবে তাকে আটকের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এ ঘটনাকে ‘অপহরণের’ সঙ্গে তুলনা করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
বুধবার (২৯ মার্চ) তার আইনজীবী মাহসা খানবাবি এমন তথ্য জানিয়েছেন। বোস্টন ফেডারেল আদালতে এ বিষয়ে একটি পিটিশন দাখিল করা হয়েছে।
রুমিয়াসা অজটুর্ক নামের ৩০ বছর বয়সী ওই নারী শিক্ষার্থী তুরস্কের নাগরিক। মঙ্গলবার রাতে ম্যাসাচুসেটসের সামারভিলে নিজের বাসা থেকে বের হলে তাকে থামানো হয়। অ্যাসোসিয়েটস প্রেসের (এপি) ভিডিওতে দেখা যায়, মুখঢাকা সাত ব্যক্তি তাকে তুলে নিয়ে যাচ্ছেন, তখন তিনি চিৎকার করছিলেন।
ভিডিওতে গ্রুপটির লোকজনকে বলতে শোনা গেছে, ‘আমরা পুলিশ।’ তাদের একজনকে প্রশ্ন করতে দেখা গেছে, ‘কেন আপনি মুখ আড়াল করেছেন?’
মাহসা খানবাবি বলেন, ‘বন্ধুদের সাথে ইফতার করতে যাচ্ছিলেন রুমিয়াসা অজটুর্ক।’
‘তার অবস্থান সম্পর্কে আমরা অবগত ছিলাম না। তার সাথে যোগাযোগ করতেও পারিনি। এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রে লেখাপড়ার করার জন্য তাকে ভিসা দেওয়া হয়েছিল,’ বলেন তিনি।
তার এই আটকের ঘটনায় হতবাক হওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা। সামারভিলের আবাসিক এলাকায় মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৫টার সময় তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।
মাইকেল ম্যাথিস (৩২) নামের এক সফটওয়্যার প্রকৌশলী বলেন, ‘এটা দেখতে অপহরণের মতো মনে হয়েছে।’
‘তারা তার কাছাকাছি এসে তাকে ধরে ফেলে। তাদের মুখঢাকা ছিল। তাদের গাড়িতেও কোনো নম্বর প্লেট ছিল না,’ বলেন তিনি। তার নজরদারি ক্যামেরায় এই ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয়েছে।
টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি সুনীল কুমার বলেন, ‘একজন বিদেশি শিক্ষার্থীকে আটকের কথা আমরা জানতে পেরেছি। তার ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয় আগে থেকে কিছু জানতো না। আমাদের এ বিষয়ে কোনো তথ্যও দেওয়া হয়নি।’
তিনি শিক্ষার্থীর নাম না বললেও বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র প্যাট্রিকস কলিনস বলেন, গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেসের পিএইচডি গবেষক ছিলেন রুমিয়াসা অজটুর্ক।
তার এই আটকের ঘটনা সাংবিধানিক অধিকার ও বাকস্বাধীনতার ভয়াবহ লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করেন প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাটিক দলীয় সদস্য আয়ান্না প্রিসলি। তাকে এখনই মুক্তি দিতে হবে বলে দাবি করেন তিনি।
৩৪৫ দিন আগে
গাজায় হামাসবিরোধী সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ
ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় হামাসবিরোধী সবচেয়ে বড় বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে অবরুদ্ধ উপত্যকাটির শত শত মানুষ। এসময় বিক্ষোভকারীদের দমনে হামাসের সদস্যরা বল প্রয়োগ করেছেন। হামাস সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠসোঁটা ও অস্ত্রে সজ্জিত ছিল।
হামাসবিরোধী বিক্ষোভের বেশকিছু ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন হামাসের সমালোচক অ্যাক্টিভিস্টরা। এতে দেখা যায়, বুধবার (২৬ মার্চ) উপত্যকার বেইত লাহিয়ার রাস্তায় বিক্ষোভে অংশ নেওয়া তরুণরা স্লোগান দিয়ে বলছেন, হামাস তুমি চলে যাও, হামাস তুমি চলে যাও।
বিক্ষোভ নিয়ে হামাস সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। তবে বুধবার(২৬ মার্চ) এক বিবৃতিতে যুদ্ধ পুনরায় শুরু করার জন্য ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে দায়ী করেছে হামাস।
আরও পড়ুন: ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য ‘বিশেষ উদ্বেগজনক’ দেশ ভারত, র’য়ের ওপর যুক্তরাষ্ট্রকে নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ
অন্যদিকে হামাসের সমর্থকরা বিক্ষোভটিকে গুরুত্বসহকারে দেখছে না এবং অংশগ্রহণকারীদের বিশ্বাসঘাতক বলে অভিযুক্ত করেছে।
ইসলামিক জিহাদের সদস্যরা ইসরায়েলে রকেট হামলা চালানোর একদিন বেইত লাহিয়ার বিশাল অংশ খালি করার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল। এর পরই মূলত বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং গাজার উত্তরাঞ্চলে এই বিক্ষোভ শুরু হয়।
প্রায় দুই মাসের যুদ্ধবিরতির পর গাজায় আবারও সামরিক অভিযান শুরু করেছে দখলদার ইসরায়েল৷ যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রস্তাব হামাস প্রত্যাখান করেছে বলে অভিযোগ ইসরায়েলের৷ অন্যদিকে হামাস অভিযোগ করেছে, জানুয়ারিতে সই করা মূল চুক্তি লঙ্ঘণ করেছে ইসরায়েল।
চলতি মাসের ১৮ তারিখ ইসরায়েলি সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর পর থেকে শত শত ফিলিস্তিনি নিহত এবং হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
বুধবারের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বেইত লাহিয়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ দিয়াব বলেন, এক বছর আগে ইসরায়েলি বিমান হামলায় তার বাড়ি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল এবং তার ভাইকে তিনি হারিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা কারও জন্য, কোনো দলের কর্মসূচি বা বিদেশি রাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য মরতে রাজি নই।’
তিনি বলেন, ‘হামাসকে অবশ্যই ক্ষমতা থেকে সরে যেতে হবে এবং শোকাহতদের দাবি মানতে হবে, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উঠে আসা কণ্ঠস্বর- এটি সবচেয়ে বাস্তব কণ্ঠস্বর।’
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া শহরটির ভিডিওতে 'হামাসের শাসন নিপাত যাক, মুসলিম ব্রাদারহুডের শাসন নিপাত যাক' বলে বিক্ষোভকারীদের স্লোগান দিতে দেখা গেছে।
ফিলিস্তিনি নির্বাচনে জয়লাভের মাধ্যমে ২০০৭ সাল থেকে গাজা এককভাবে শাসন করছে হাসাস। এর এক বছর আগে সহিংসভাবে প্রতিপক্ষকে উৎখাত করেছিল হামাস।
তবে ২০২৩ সালের শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গাজার সড়কে এবং অনলাইনে হামাসের প্রকাশ্য সমালোচনা বেড়েছে। যদিও এখনও এমন অনেকে আছেন যারা প্রচণ্ডভাবে হামাসকে সমর্থন করেন। যদি গোষ্ঠীটি কতটুকু সমর্থন হারিয়েছেন—তা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা কঠিন।
গাজায় যুদ্ধের অনেক আগে থেকেই হামাসের বিরোধিতা ছিল। প্রতিশোধের ভয়ে এর বেশিরভাগই প্রকাশ্যে নয়।
মোহাম্মদ আল-নাজ্জার নামে গাজার এক বাসিন্দা তার ফেসবুকে পোস্টে লিখেছেন, ‘মাফ করবেন, কিন্তু হামাস আসলে কিসের উপর বাজি ধরছে? তারা আমাদের রক্তের উপর বাজি ধরছে, রক্ত যাকে সারা বিশ্ব শুধু সংখ্যা হিসেবে দেখে।’
আরও পড়ুন: ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনকে ‘অপরাধ’ স্বীকৃতি দিচ্ছে আলজেরিয়া
তিনি লিখেছেন, ‘এমনকি হামাসও আমাদের সংখ্যা হিসেবে গণনা করে। পদত্যাগ করুন এবং আমাদের ক্ষতের নিরাময়ের সুযোগ দিন।’
হামাস ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালালে গাজায় যুদ্ধ শুরু হয়। সেসময় হামাসের হামলা প্রায় ১ হাজার ২০০ জন ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। আর ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যায় হামাস।
হামাসকে ধ্বংস করতে গাজায় সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ইসরায়েল ওই হামলার জবাব দেয়। হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলের হামলায় ৫০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
গাজার ২১ লাখ জনসংখ্যার অধিকাংশই এখন বাস্তুচ্যুত। বাস্তুচ্যুতদের অনেকেই বেশ কয়েকবার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
গাজায় আনুমানিক ৭০ শতাংশ ভবন ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। ধসে পড়েছে জনপদটির স্বাস্থ্যসেবা, পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা। খাদ্য, জ্বালানি, ওষুধ ও আশ্রয়ের প্রবল সংকটের মুখোমুখি উপত্যকাটির বাসিন্দারা।
সূত্র: বিভিন্ন নিউজ এজেন্সি
৩৪৫ দিন আগে
দাবানলে জ্বলছে দক্ষিণ কোরিয়া, নিহত বেড়ে ১৮
ভয়াবহ দাবানলের কোপে পড়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। দাবানলের আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে দুই শতাধিক ঘরবাড়ি; এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৮ জন, এছাড়া আরও অন্তত ১৯ জন আহত হওয়ার খবর মিলেছে।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৬ মার্চ) এক বিবৃতির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা। নিহতদের মধ্যে ৪ ফায়ার সার্ভিস কর্মীসহ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তাও রয়েছেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারি তথ্যমতে, দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অন্তত পাঁচটি এলাকায় দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও সামরিক বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন বলে জানানো হয়েছে। হতাহতের আশঙ্কা এড়াতে প্রায় ২৭ হাজারের বেশি বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সিউলের কর্মকর্তারা জানান, আগুন নির্বাপণে কাজ করার সময় দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের উইসিয়ং অঞ্চল একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। হেলিকপ্টারটি উদ্বারে কাজ চলছে বলে জানায় দক্ষিণ কোরিয়ার বন বিভাগ। হেলিকপ্টারটিতে পাইলট ছাড়া অন্য কোনো সদস্য ছিলেন না বলে ধারণা করছে তারা।
আরও পড়ুন: দাবানল কী ও কেন হয়? পৃথিবীর ইতিহাসে ভয়ানক কয়েকটি দাবানল
৩৪৫ দিন আগে
ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য ‘বিশেষ উদ্বেগজনক’ দেশ ভারত, র’য়ের ওপর যুক্তরাষ্ট্রকে নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ
ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের অভিযোগে ভারতকে ‘বিশেষ উদ্বেগজনক’ দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত করতে সুপারিশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন। একই সঙ্গে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং (র) ও সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বিকাশ যাদবের ওপর যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনকে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর এসব সুপারিশের কথা সামনে এসেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বিদেশের মাটিতে ভারতের শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হত্যাকাণ্ডের পেছনে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা র’য়ের হাত রয়েছে উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনকে এই পরামর্শ দিয়েছে কমিশন।
ভারতে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
ভারতের পাশাপাশি ভিয়েতনামকেও এই তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, দেশটিতে ধর্মীয় ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ বাড়ার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ৪৩ দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র
অবশ্য এই সুপারিশের বাস্তবায়ন যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। তবে কমিশন যে দুটি দেশের বিষয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্রনীতিতে দেশ দুটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।
চীন বিষয়ে যৌথ উদ্বেগের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করছে ভারত ও ভিয়েতনাম। তাই এই পরামর্শের কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন যুক্তরাষ্ট্রের একটি দ্বিদলীয় সরকারি উপদেষ্টা সংস্থা। বৈদেশিক ধর্মীয় স্বাধীনতা পর্যবেক্ষণ করে নানা নীতিগত সুপারিশ দিয়ে থাকে সংস্থাটি।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি চীনের প্রভাব মোকাবিলায় ভারতকে পাল্টা শক্তি হিসেবে গণ্য করে ওয়াশিংটন। তাই দেশটির মানবাধিকার বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দেয় না যুক্তরাষ্ট্র।
কমিশনের সুপারিশ বাধ্যতামূলক না হওয়ায় র’কে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করেন তারা।
আরও পড়ুন: ট্রাম্পের সঙ্গে আমার গভীর যোগসূত্র আছে: মোদি
২০২৩ সালে থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাতে শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কার্যক্রমে ভারতের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ওয়াশিংটন-দিল্লি সম্পর্কে চিড় ধরে।
যুক্তরাষ্ট্রে এক শিখ নেতাকে হত্যার ব্যর্থ চেষ্টায় ভারতের সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বিকাশ যাদবের জড়িত থাকার অভিযোগ আনে ওয়াশিংটন, যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করে ভারত। এ নিয়ে দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
উল্লেখ্য, শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি হুমকি মনে করে ভারত।
মার্কিন ওই কমিশনের প্রতিবেদনের তথ্যমতে, গত বছরজুড়ে ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। এই সময়ে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও বৈষম্য বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত নির্বাচনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) দেশটির মুসলিম জনগোষ্ঠীসহ অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক বক্তব্য ও অপতথ্য ছড়িয়েছে বলে অভিযোগ করেছে কমিশন।
সবশেষ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির পক্ষে প্রচারকালেও মোদি মুসলিমদের ভারতে ‘অনুপ্রবেশকারী’ বলে অ্যাখ্যা দেন। শুধু তাই নয়, ‘মুসলিমরা বেশি সন্তান জন্ম দেয়’—এমন মন্তব্যও করেন গত প্রায় ১১ বছর ধরে দেশটির প্রধানমন্ত্রীত্ব সামলানো এই নেতা।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা-বিষয়ক বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভারতে সংখ্যালঘুদের নির্যাতনের তথ্য উঠে এসেছে।
আরও পড়ুন: ২৭ বছর পর দিল্লির মসনদে বসতে চলেছে বিজেপি
তবে এসব প্রতিবেদনকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে মোদি বলেন, তার সরকার দেশে বিদ্যুতায়ন ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভতুর্কি দেওয়াসহ যেসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে, তাতে সব সম্প্রদায়ের মানুষই উপকৃত হয়েছেন।
ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপকভাবে ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘন হচ্ছে বলে অভিযোগ করে দেশটিকে ‘বিশেষ উদ্বেগজনক’ দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত করতে এবং র ও সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বিকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনকে সুপারিশ করেছে মার্কিন ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন।
ভারতে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্বে ক্রমবর্ধমান বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল, মুসলিমদের সম্পদ ধ্বংসের মতো মানবাধিকার-বিরুদ্ধ কার্যকলাপের পরিপ্রেক্ষিতে এই সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানান মানবাধিকারকর্মীরা।
এই সুপারিশের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি যুক্তরাষ্ট্রের ভারতীয় দূতাবাস।
অপরদিকে, সম্প্রতি একটি ডিক্রি জারি করে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অর্থের হিসাব চেয়েছে ভিয়েতনাম প্রশাসন। একে ধর্মীয় স্বাধীনতার ‘গুরুতর লঙ্ঘন’ বলে উল্লেখ করেছে মার্কিন ওই কমিশন।
তাছাড়া ধর্মীয় কার্যক্রম বা ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করার দায়ে প্রায় ৮০ জন বন্দির তথ্য তুলে ধরেছে কমিশন, ভিয়েতনাম সরকার যাদের সাজা দিয়েছে। এসব কারণে ভিয়েতনামকেও ‘বিশেষ উদ্বেগজনক’ দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।
ভিয়েতনাম দূতাবাসও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
৩৪৫ দিন আগে