বিশ্ব
দক্ষিণ কোরিয়ায় ‘ভুলবশত’ বোমা ফেলল যুদ্ধবিমান, আহত সাত
প্রশিক্ষণের সময় একটি বেসামরিক এলাকায় দুর্ঘটনাবশত বোমা ফেলেছে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি যুদ্ধবিমান। এতে দুই সেনা ও পাঁচ বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবারের (৬ মার্চ) এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে দেশটির বিমান বাহিনী।
মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) খবরে বলা হয়েছে, কেএফ-১৬ যুদ্ধবিমান থেকে অস্বাভাবিকভাবে এমকে-৮২ বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে। এতে অনির্দিষ্ট ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বিমান বাহিনী জানিয়েছে, কেন এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা জানতে একটি কমিটি গঠন করা হবে। কী ধরনের বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে; তা নির্ধারণ করা হবে। সেনাবাহিনীর সঙ্গে ‘সরাসরি গুলি’ চালানোর মহড়ায় অংশ নিয়েছিল যুদ্ধবিমানটি।আরও পড়ুন: দক্ষিণ কোরিয়ার অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইয়ন সুক গ্রেপ্তার
বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে উত্তর কোরিয়ার বিমান বাহিনী জানিয়েছে, ‘এ ঘটনায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
পাশাপাশি আহতরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তারা। তবে কোথায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে; বিমান বাহিনীর বিবৃতিতে সেই বিবরণ নেই।
কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার সীমান্তবর্তী শহর পোচিওন এই বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে।
বার্তা সংস্থা ইয়োনহ্যাপ জানিয়েছে, এতে পাঁচ বেসামরিক নাগরিক ও দুই সেনা আহত হয়েছেন। আহতদের অবস্থা গুরুতর। এ ঘটনায় সাতটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
৩৬৬ দিন আগে
প্রায় চল্লিশ বছরের যাত্রা শেষে আটকে পড়ল সেই হিমদানব
বছরপাঁচেক ধরে এন্টার্কটিকার কাছের দক্ষিণ মহাসাগরে ভেসে বেড়াচ্ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় হিমশৈলটি। নাম এ২৩এ। এবার সেটি দক্ষিণ জর্জিয়া দ্বীপ থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরের অগভীর পানিতে আটকে পড়েছে। বুধবার (৫ মার্চ) সমুদ্র বিজ্ঞানীরা এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সমুদ্র তীরের সঙ্গে ধাক্কা না-লাগায় পেঙ্গুইন আর সিলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অভয়ারণ্য বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবে বলেও জানিয়েছেন গবেষকরা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান ও সিএনএন এমন খবর দিয়েছে।
১৯৮৬ সালে অ্যান্টার্কটিকার ফিলচেনার বরফ সোপান ভেঙে প্রথম বেরিয়ে আসে প্রাচীনতম হিমশৈলটি। এরপরেও প্রায় ৩০ বছরের বেশি সময় দ্য ওয়েডেল সাগরপৃষ্ঠে আটকে থাকে এটি।
তিন হাজার ৩০০ বর্গ কিলোমিটার আকার ও এক লাখ কোটি টন ওজনের হিমদানবটি ২০২০ সাল থেকে দক্ষিণ জর্জিয়া দ্বীপের দিকে ভেসে যাচ্ছিল। কিন্তু ২০২৪ সালে সমদ্রতলের পাহাড়ে আটকে ছিল কয়েক মাস। এতে উত্তর দিকে এটির যাত্রা কিছুটা থামকে যায়।
কিন্তু যখন হিমদানবটি মুক্ত হয়, তখন শঙ্কা করা হয়েছিল—এটি দক্ষিণ জর্জিয়ার দিকে যাবে এবং দ্বীপটিতে পেঙ্গুইন ও সিলের প্রজনন ক্ষতিগ্রস্ত করবে। কিন্তু সাগরতীর থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে মহীসোপানে এটি আটকে গেলে সেই শঙ্কা কিছুটা কমে আসে। বিপরীতে, এ২৩এ আসার কারণে বন্যপ্রাণীদের জন্য কিছুটা সুবিধাই হয়েছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, ‘এটির ধাক্কায় সাগরের নিচের পুষ্টিদায়ক খাবার আলগা হয়ে যাবে এবং এটির গলন থেকে পুরো অঞ্চলের বাস্তুসংস্থানের জন্য খাবার সহজলভ্য হয়ে যাবে।’আরও পড়ুন: শনিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা শ্রীমঙ্গলে
আকারে যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের চেয়ে কিছুটা ছোট ও যুক্তরাজ্যের লন্ডনের দ্বিগুণ হবে হিমশৈলটি। আশঙ্কা করা হয়েছিল, দ্বীপটির সঙ্গে এটির সংঘর্ষ হবে অথবা কাছের অগভীর পানিতে গিয়ে ঠেকবে। এতে পেঙ্গুইন ও সিলের বাচ্চাদের খাবারে ব্যাঘাত হতে পারে বলেও ধারণা করা হয়েছিল।
ব্রিটিশ অ্যান্টার্কটিক জরিপের (বিএএস) সমুদ্রবিজ্ঞানী অ্যান্ড্রু মেইজার্স বলেন, ‘হিমশৈলটির এই আটকে থাকাটা ভালো নাকি খারাপ—তা এখনো পরিষ্কার না। কী ঘটতে যাচ্ছে, কৌতূহল নিয়ে তা দেখার অপেক্ষায় আছি।’
‘গত শনিবার (১ মার্চ) দ্বীপ থেকে প্রায় ৭৩ কিলোমিটার দূরে হিমশৈলটি আটকে পড়ে। এটি যদি সামনে আর অগ্রসর না হয় তাহলে দ্বীপের জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের তেমন আশঙ্কা নেই,’ বলেন তিনি।
২০২৩ সাল থেকে উপগ্রহ দিয়ে এ২৩এ হিমশৈলটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিলেন এই বিজ্ঞানী। তিনি বলেন, ‘গত কয়েক দশকে এই পথে ছোটবড় অসংখ্য হিমশৈল ভেসে আসলেও তা ভেঙে ছড়িয়ে পড়েছে কিংবা গলে গিয়েছে।’
উপগ্রহের চিত্র থেকে ধারণা করা হয়েছিল, অন্যান্য বরফখণ্ডের পরিচিত গতিপথ অনুযায়ী ছোট ছোট টুকরোতে ভেঙে যাচ্ছে না এই বিশালাকার হিম দানবটি। তবে জানুয়ারিতে এটির থেকে ১৯ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে।
দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত দক্ষিণ জর্জিয়া দ্বীপটি পেঙ্গুইন ও সিলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রজনন ক্ষেত্র। যদি হিমশৈলটি খুব কাছাকাছি চলে আসে, তাহলে পেঙ্গুইন ও সিলের মতো প্রাণীদের বরফের বিশাল স্তূপ এড়াতে অনেক দূর পর্যন্ত যাত্রা করতে বাধ্য হতে পারে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মেইজার্স বলেন, এর ফলে দ্বীপের শাবক ও বাচ্চাদের কাছে ফিরে আসা ও খাবারের পরিমাণ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। তবে হিমশৈলটি আটকে যাওয়ার কারণে দ্বীপটির প্রাণীদের জীবনে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না।
সাউথ স্যান্ডউইচ দ্বীপপুঞ্জ ও সাউথ জর্জিয়ায় প্রায় ৫০ লাখ সিল ও ৩০টি ভিন্ন প্রজাতির সাড়ে ছয় কোটি প্রজননকারী পাখির বাস। এরইমধ্যে বার্ড ফ্লুর প্রভাবে ওই এলাকার পেঙ্গুইন ও সিলগুলো সমস্যায় পড়েছে। এই হিমশৈল সংকট আরও বাড়িয়ে দিত বলে তাদের শঙ্কা।
যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে বিরোধপূর্ণ একটি অঞ্চল দক্ষিণ জর্জিয়া দ্বীপ। ব্রিটিশদের অধীনেই বৈদেশিক অঞ্চল হিসেবে এটি পরিচালিত হচ্ছে। এখানে কোনো স্থায়ী মানববসতি নেই। এ অঞ্চলটি দিয়ে জাহাজও চলাচল করে থাকে। তবে হিমশৈলটির কারণে জাহাজ চলাচলে কোনো অসুবিধা হবে না বলে জানান বিএএসের গবেষকরা। আয়তনে বিশালাকার হওয়ায় সহজেই এটি পাশ কাটিয়ে নিরাপদে জাহাজগুলো পার হতে পারবে বলে মত দেন তারা।
এ সময় বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব নিয়ে মেইজার্স সবাইকে সতর্ক করেন। তিনি জানান ২০০০ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ষাট হাজার কোটি টন বরফ ভেঙে ও গলে গিয়েছে। এর জন্য তিনি বৈশ্বিক উষ্ণায়নকেই দায়ী করেন।
গবেষকরা সতর্ক করেছেন, প্রাক-শিল্পযুগের চেয়ে যদি পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ১.৫ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়, তাহলে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা প্রায় ১২ মিটারের মতো বেড়ে যেতে পারে। তাছাড়া গত বছর পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ১.৫ এর উপরে ওঠার কারণে সারাবিশ্বে দাবানল, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়েছে, যা উষ্ণায়নেরই ফলাফল বলে উল্লেখ করেন গবেষকরা।
৩৬৬ দিন আগে
অস্তিত্ব বাঁচাতে মানবাধিকার সংস্থার দ্বারস্থ আমাজনের আদিবাসীরা
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুর আমাজন অঞ্চলে তেল ও গ্যাস প্রকল্প বন্ধের জন্য একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থায় অভিযোগ করেছেন অঞ্চলটির আদিবাসী নেতারা।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৪ মার্চ) ইন্টার-আমেরিকান কমিশন অন হিউম্যান রাইটসের (আইএসিএইচআর) এক শুনানিতে সেখানকার প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরেন আদিবাসী নেতারা। এর আগে বেশ কয়েকবার পেরু সরকারের কাছে আমাজন বনাঞ্চলে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান বন্ধের দাবি জানালেও কোনো সুরাহা হয়নি।
পরে আইএসিএইচআরের শুনানিতে ওই প্রকল্পের কারণে আমাজন বনে বসবাসকারী আদিবাসীদের জীবনে যেসব নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, সেই সম্পর্কিত প্রমাণ তুলে ধরা হয়।
আরও পড়ুন: ব্রাজিলের আমাজনে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ৫
এই প্রকল্পগুলো তাদের ভূমি, স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে তাদের অধিকার লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ করেন আদিবাসী নেতারা। এছাড়া, আন্তর্জাতিক আইনে, আমাজন অঞ্চলে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করার আগে আদিবাসী গোষ্ঠীদের সাথে আলোচনা বাধ্যতামূলক করা হলেও তা উপেক্ষা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তারা।
আদিবাসী অধিকার সংগঠন সারভাইভাল ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, পেরুর আমাজন অঞ্চলে কমপক্ষে ২০টি আদিবাসী গোষ্ঠী রয়েছে। এই আদিবাসীরা বাইরের পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আমাজনের সবচেয়ে দুর্গম অঞ্চলে বাস করেন।
সম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, পেরু সরকার তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য নিলামে তুলছে আদিবাসীরা যেসব অঞ্চলে বাস করছে সেখানকার ভূমি।
ইন্টারন্যাশনাল ওয়ার্ক গ্রুপ ফর ইন্ডিজিনাস অ্যাফেয়ার্সের তথ্য অনুযায়ী, পেরুতে অবস্থিত আমাজনের প্রায় ৭৫ শতাংশ এলাকাতে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান চলছে। সেখানে প্রায় ২১টি আদিবাসী গোষ্ঠীর বাস করে। যারা সভ্য সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন।
সারভাইবাল ইন্টারন্যাশনালের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য একটি এলাকায় কাঠ কাটার সময়ে ওই অঞ্চলে বসবাসসরত আদিবাসী গোষ্ঠী মাসাকো-পিরোর সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
পেরু সরকারের কার্যক্রম চলমান থাকলে তা আদিবাসীদের জন্য কতটা হুমকি হতে চলেছে, তারই ইঙ্গিত ওই ঘটনা বহন করে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে সংস্থাটি।
আরও পড়ুন: ব্রাজিলের আমাজনে পানির তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় শতাধিক ডলফিনের মৃত্যু
সংস্থাটির এক গবেষক টেরেসা মেয়ো বলেন, ‘পেরুতে ন্যায়বিচার পেতে ব্যর্থ হয়ে আদিবাসী সংগঠনগুলো আইএসিএইচআরের মতো আন্তর্জাতিক ফোরামের শরণাপন্ন হয়েছে।’
তবে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে পেরু সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, পেরু একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। দেশটির সরকার আইনের শাসন ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখার জন্য এবং সকল নাগরিকের অধিকার সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এ সময় তারা জানায়, মানবাধিকার সংক্রান্ত বিষয়েও তারা গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে সরকার।
তবে সরকারের দাবি সঙ্গে বাস্তবতার কোনো সম্পর্ক নেই বলে মন্তব্য করেন পেরুর আমাজন রেইনফরস্টের উন্নয়নে কাজ করা আন্তজার্তিক সংস্থা এআইডিইএসইপিয়ের সদস্য জুলিও প্যালাসিওস।
তিনি বলেন, আদিবাসী মানুষগুলোর অধিকারকে সম্মান করা হচ্ছে না। তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সরকারের এই পদক্ষেপ জনজীবন থেকে বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীগুলোর অস্বিত্ব হুমকিতে ফেলবে বলে মত দেন তিনি। আদিবাসীদের শুনানিতে অংশগ্রহণ করা একজন আইনজীবী জানান, ‘পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে।’
আন্তজার্তিক আইনে ওই অঞ্চলগুলোতে যেকোনো কাজ করার আগে আদিবাসীদের সঙ্গে আলোচনার বিধান থাকলেও পেরু সরকার যে তা মানেনি তা ইতোমধ্যে স্পটষ্ট বলে মন্তব্য করেন তিনি। এই অভিযোগের ব্যাপারে পেরু সরকারের মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তারা কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
আইএসিএইচআর কমিশন পেরু সরকারকে এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে লিখিত প্রতিক্রিয়া জানানোর নির্দেশ দিয়েছে। বিশেষত তেল ছড়িয়ে পড়া মোকাবিলায় ও ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়গুলোকে সহায়তা করতে সরকার কি ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে; তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
৩৬৬ দিন আগে
কানাডা-মেক্সিকোর পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর, ঘোষণা ট্রাম্পের
অবশেষে প্রতিবেশী কানাডা ও মেক্সিকোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৪ মার্চ) থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।—খবর এপির।
তবে কানাডার তেল ও জ্বালানি পণ্য এই শুল্কের আওতায় পড়বে না বলে জানানো হয়েছে। এসব পণ্যের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ হারে শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া, গতমাসে চীনা পণ্যে আরোপিত ১০ শতাংশ শুল্ক দ্বিগুণ করার আদেশও একই সঙ্গে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কের জবাবে ২১ দিনের মধ্যে ১০০ বিলিয়নেরও বেশি মার্কিন পণ্যে পাল্টা শুল্কারোপের ঘোষণা দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। তবে মেক্সিকো তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানায়নি।
ট্রাম্পের অতিরিক্ত শুল্কারোপের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের পোল্ট্রি পণ্যে অতিরিক্ত ১৫ শতাংশ শুল্কারোপের ঘোষণা দিয়েছে চীন। আজ (মঙ্গলবার) দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রী জানিয়েছে, আগামী ১০ মার্চ থেকে এই শুল্ক কার্যকর হবে।
আরও পড়ুন: মেক্সিকো ও কানাডার পণ্যে শুল্কারোপ করতে যাচ্ছেন ট্রাম্প
এদিকে, চীনের পার্লামেন্টের মুখপাত্র লু কুয়ানজিয়ান এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, এই বাণিজ্য যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত চীনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে বানিজ্যযুদ্ধ উসকে দেওয়ার পাশাপাশি মূল্যস্ফিতিও বাড়াবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিবিদরা ট্রাম্পকে এ বিষয়ে সতর্ক করলেও তা পাত্তা দেননি তিনি। শুল্ক আরোপ করেই তিনি আমেরিকার অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে তুলবেন বলে তার ধারণা। তবে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির বিশেষজ্ঞরাই মনে করেন এতে সমস্যা কমার বদলে আরও বাড়বে।
এর আগে গতমাসের শুরুতে দেশ দুটির ওপর কানাডা ও মেক্সিকোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প, যা কার্যকর হওয়ার কথা ছিল ১ মার্চ। পরবর্তীতে ৩০ দিনের জন্য ওই আদেশ স্থগিত করা হয়।
৩৬৭ দিন আগে
রাশিয়ার বিরুদ্ধে সাইবার হামলা বন্ধ করল যুক্তরাষ্ট্র
রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার অভিযান কিংবা অভিযানের পরিকল্পনা স্থগিত করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধ ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন চেষ্টার মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (৩ মার্চ) এক মার্কিন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে এই সিদ্ধান্তের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তিনি।
ওই কর্মকর্তা জানান, সিআইএ এবং সাইবার নিরাপত্তা ও অবকাঠামো সুরক্ষা সংস্থাসহ (সিআইএসএ) অন্যান্য সংস্থার সাইবার কার্যক্রম হেগসেথের এই সিদ্ধান্তের আওতায় থাকবে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সিআইএসএ তাদের কার্যক্রমে কোনো পরিবর্তন আসবে না বলে নিশ্চিত করেছে। তবে এফবিআই ও অন্যান্য সংস্থাগুলোর ডিজিটাল ও সাইবার হুমকি মোকাবিলার সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য পদক্ষেপও সীমিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।-খবর এপি ও সিএনএনের।
পেন্টাগনের এই সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এসেছে, যখন সাইবার প্রতিরক্ষা ও আক্রমণাত্মক কার্যক্রমে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে আসছেন অনেক জাতীয় নিরাপত্তা ও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ। বিশেষত চীন ও রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি, নির্বাচন ও নিরাপত্তাকে ব্যাহত করার চেষ্টা করছে।
আরও পড়ুন: ইউক্রেনে মার্কিন সামরিক সহায়তা স্থগিত করেছেন ট্রাম্প
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা এই স্থগিতাদেশকে মার্কিন প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে ‘এক বড় আঘাত’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি জানান, এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া সময়সাপেক্ষ ব্যাপার এবং এখানে বিস্তর গবেষণার প্রয়োজন হয়।’
যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত দেশটিতে মস্কোর সম্ভাব্য সাইবার হামলার ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে মত দেন এই কর্মকর্তা।
মার্কিন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বিকল করতে এবং স্পর্শকাতর গোয়েন্দা তথ্য হাতিয়ে নিতে সক্ষম রুশ হ্যাকাররা। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার তিন বছর ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধ ও মস্কোর সাথে সম্পর্কোন্নয়নে ব্যাপক চেষ্টা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এরই মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
প্রসঙ্গত, প্রায় এক দশক আগে রাশিয়াসহ অন্যান্য দেশগুলোর সাইবার হামলা প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে সাইবার কমান্ড গঠন করে যুক্তরাষ্ট্র। ম্যারিল্যান্ডের ফোর্ট মিড ঘাঁটিতে অবস্থিত সাইবার কমান্ড ধীরে ধীরে মার্কিন শক্তির একটি হাতিয়ার হয়ে ওঠে। এই সংস্থাটি বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোতে বিশেষজ্ঞ পাঠিয়ে সাইবার অপরাধী এবং গোয়েন্দাদের হুমকি মোকাবিলায় সহায়তা করার চেষ্টা করে থাকে।
সূত্র: এপি ও সিএনএন
৩৬৭ দিন আগে
নিখোঁজ যুদ্ধবিমানের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে ফিলিপাইন
সোমবার দিবাগত রাতে কৌশলগত অভিযানের সময় নিখোঁজ হওয়া একটি এফএ-৫০ যুদ্ধবিমানের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে ফিলিপাইনের বিমান বাহিনী।
মঙ্গলবার (৪ মার্চ) দেশটির বিমান বাহিনী (পিএএফ) এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ‘লক্ষ্যস্থলে পৌঁছানোর কয়েক মিনিট আগে অভিযানে অংশ নেওয়া অন্যান্য বিমানের সঙ্গে বিমানটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।’
অন্য বিমানগুলো মধ্য ফিলিপাইনের সেবু প্রদেশের ম্যাকটানে ফিরে না আসা পর্যন্ত বারবার নিখোঁজ বিমানটির সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করেছিল।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘পিএএফ নিখোঁজ জেট ফাইটার বিমানটি শনাক্ত করতে সমস্ত সুবিধা ও উপকরণ ব্যবহার করে বিস্তৃত এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান অভিযান পরিচালনা করছে।’
আরও পড়ন: ভারতের নাগপুরে ফ্লাইটের জরুরি অবতরণ ও ঘটনার বিষয়ে বিমানের ব্যাখ্যা
পিএএফ জানিয়েছে, তাদের প্রাথমিক উদ্বেগ বিমানের বিমানকর্মীদের নিরাপদে ফিরে আসা নিয়ে।
ফিলিপাইনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, ‘ আমরা আশা করছি খুব শিগগিরই তাদের ও বিমানটিকে খুঁজে বের করা সম্ভব হবে।’
৩৬৭ দিন আগে
ইউক্রেনে মার্কিন সামরিক সহায়তা স্থগিত করেছেন ট্রাম্প
ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহ স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধ বন্ধ করতে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসার জন্য ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে চাপ দিতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি।
তিন বছর আগে ইউক্রেনে রাশিয়া আক্রমণ করার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র কিয়েভে ১৮০ বিলিয়ন ডলারের বেশি সামরিক সহায়তা পাঠিয়েছে। মার্কিন এই সহায়তার জন্য জেলেনস্কি যথেষ্ট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেননি বলে অভিযোগ করেন ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ওভাল অফিসের একটি বৈঠক উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডার মধ্যে ভেস্তে যাওয়ার মাত্র কয়েকদিন পরে সামরিক সহায়তা স্থগিত করার পদক্ষেপটি নিলেন ট্রাম্প।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ট্রাম্প একটি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর দিকে মনোনিবেশ করছেন এবং জেলেনস্কিকে সেই লক্ষ্যে 'প্রতিশ্রুতিবদ্ধ' দেখতে চান।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি সমাধানে ভূমিকা রাখছে কিনা তা নিশ্চিত করতে ইউক্রেনকে দেওয়া মার্কিন সহায়তা 'স্থগিত ও পর্যালোচনা' করছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা সহায়তার বিষয়ে এসব কথা বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানান।
আরও পড়ুন: ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠক: শূন্যহাতে ফিরলেও প্রশংসায় ভাসছেন জেলেনস্কি
ওই কর্মকর্তা বলেন, যতক্ষণ না রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের আলোচনায় বসার প্রতিশ্রুতি পান, ততক্ষণ ট্রাম্পের এই আদেশ কার্যকর থাকবে।
ইউক্রেনকে কংগ্রেসের অনুমোদিত সহায়তা আটকে রাখার প্রায় পাঁচ বছর পর সামরিক সহায়তা বন্ধ করে দেওয়া হলো। ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করতে জেলেনস্কিকে চাপ দেন ট্রাম্প।
২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তিনি গর্ব করেও বলেছিলেন যে, তিনি একদিনের মধ্যে লড়াই বন্ধ করতে পারেন।যুদ্ধ নিয়ে জেলেনস্কির প্রতি ক্রমবর্ধমান হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে নিজের আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন যে, যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছালে শান্তি বজায় রাখার জন্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বিশ্বাস করা যেতে পারে। এমনকি তিনি দীর্ঘদিন ধরে পুতিনের প্রশংসাও করে আসছিলেন।
এর আগে সোমবার ট্রাম্প জেলেনস্কির সমালোচনা করে বলেন, যুদ্ধের সমাপ্তি সম্ভবত 'এখনও অনেক দূরে'। অন্যদিকে গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউসের বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেন সম্পর্কের বিষয়ে ইতিবাচক প্রস্তাব দেওয়ার চেষ্টা করেন জেলেনস্কি। এসময় তিনি বলেছিলেন, যুদ্ধ অবসানে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে সময় লাগবে।
৩৬৮ দিন আগে
বাংলাদেশিসহ ১০ অভিবাসীকে গুয়ান্তানামো বে পাঠানোর সিদ্ধান্ত, মামলা
যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অভিবাসন নীতির আওতায় বাংলাদেশিসহ ১০ অভিবাসীকে কিউবার কুখ্যাত গুয়ান্তানামো বে কারাগারে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের ঘটনায় মার্কিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয় সময় শনিবার (১ মার্চ) ওয়াশিংটন ডিসির ফেডারেল আদালতে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করা আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ) এই মামলা করেছে।
সংগঠনটির ভাষ্যে, টেক্সাস, অ্যারিজোনা ও ভার্জিনিয়া থেকে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভেনেজুয়েলার যে নাগরিকদের আটক করা হয়েছে, তারা কোনো গ্যাং সদস্য বা ঝুঁকিপূর্ণ অপরাধীও নন। অভিবাসন আইন লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে গুয়ান্তানামো বে স্থানান্তরের এই পরিকল্পনার পেছনে বৈধ কোনো যুক্তি নেই বলে অভিমত দেয় এসিএলইউ।
আরও পড়ুন: অভিবাসন নীতিতে কঠোর ট্রাম্প, তবে ধনী হলে অন্য কথা
এছাড়া ভীতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এসিএলইউ জানায়, মামলার ১০ জন আটক ব্যক্তির সবাইকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে চূড়ান্তভাবে নির্বাসিত করার আদেশ রয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে ইতোমধ্যে গুয়ান্তানামো বেতে স্থানান্তরের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের মুখপাত্র ট্রিশিয়া ম্যাকলাফলিন শনিবার এসিএলিউয়ের এই আইনি চ্যালেঞ্জকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, আদালতে ওই এজেন্সির দায়ের করা মামলার বৈধতা নিয়ে লড়বে ট্রাম্প প্রশাসন।
দ্বিতীয় মেয়াদে মসনদে বসেই অবৈধ অভিসাসীদের বিরুদ্ধে খড়গহস্ত হন ট্রাম্প। অভিবাসীদের আটক করে পাঠাতে শুরু করেন নিজ নিজ দেশে।
সূত্র: পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন
৩৬৮ দিন আগে
‘ইতিহাসের সন্ধিক্ষণে’ থাকা ইউরোপের নিরাপত্তা নিশ্চিতের তাগিদ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর
ওভাল অফিসে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভলোদিমির জেলেনস্কির নজিরবিহীন বাকবিতণ্ডার পর এবার ইউক্রেনের সমর্থনে ইউরোপকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। এ সময় ইউরোপের দেশগুলোতে সীমান্ত সুরক্ষা জোরদারসহ ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধে একটি কার্যকরী পরিকল্পনা প্রণয়নের ঘোষণা দেন তিনি।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিটি দেশেরই উচিত নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে আসা। যার কাছে যা আছে, তা নিয়েই অবদান রাখতে হবে। সবাই নিজেদের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে এই বোঝা ভাগ করে নিতে হবে।’
স্থানীয় সময় রবিবার (২ মার্চ) ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা করতে রাজধানী লন্ডনে আয়োজিত সম্মেলনে এসব কথা বলেন স্টারমার। পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও এই সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন।
সম্মেলনে ইউরোপের দেশগুলোকে নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিতে পরামর্শ দেন স্টারমার। স্টারমার বলেন, ‘ইউরোপ বর্তমানে ইতিহাসের সন্ধিক্ষণে রয়েছে। শুধু আলোচনা নয়; এবার সময় এসেছে পদক্ষেপ নেওয়ার।’
আরও পড়ুন: যুক্তরাজ্যে রাজকীয় অভ্যর্থনা ও পূর্ণ সমর্থন পাচ্ছেন জেলেনস্কি
এর আগে গত বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাজ্যে বার্ষিক প্রতিরক্ষা খরচ জিডিপির ২.৫ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দেন কিয়ার স্টারমার। দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের আগ পর্যন্ত ইউক্রেন ইস্যুতে সহাবস্থানে ছিল ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র। তবে হোয়াইট ইউসে ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তনের সঙ্গেই ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্রনীতিতে এলো নাটকীয় পরিবর্তন।
গত তিন বছর ধরে একযোগেই ইউক্রেনকে সমর্থন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ। তবে সেই নীতির পরিবর্তন করে ইউক্রেন ও ইউরোপকে এক প্রকার পাশ কাটিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসলেন ট্রাম্প প্রশাসন।
এখানেই মতানৈক্য তৈরি হয় ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের। এরপর যুক্তরাষ্ট্রকে যে আর আগের মতো ইউক্রেনের পাশে পাওয়া যাবে না; তা আরও নিশ্চিত করে দিয়েছে শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ওভাল অফিসের ঘটনা।
ওই ঘটনার পর আয়োজিত এই সম্মেলনকে স্টারমার ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তৈরি হওয়া দূরত্ব দূর করাসহ শুক্রবারের আলোচনার আগে শান্তি আলোচনা যে অবস্থানে ছিলো সেখানে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য একটা সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছেন।
আরও পড়ুন: ইউক্রেনের পাশে থাকার আশ্বাস ইউরোপীয়দের
এছাড়া ইউক্রেন ইস্যুতে এবার কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেন স্টারমার। তিনি বলেন, ফ্রান্স ও ইউরোপের সঙ্গে এ বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। সম্মেলনের আলোচনায় ৪টি বিষয়ে ইউরোপীয়দের এক হওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
তিনি উল্লেখ করেন, ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা অব্যাহত এবং রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি, ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং শান্তি আলোচনায় কিয়েভকে রাখা, ভবিষ্যতে ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণ ঠেকানোর লক্ষ্যে কাজ করবে ইউরোপ এবং সর্বোপরি ইউক্রেনের নিরাপত্তায় জোট গঠন ও দেশটিতে শান্তি নিশ্চিত করার বিষয়ে ইউরোপের দেশগুলো একমত হয়েছেন। এ লক্ষ্যেই তারা কাজ করবে বলে জানান।
এর পাশাপাশি রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য ইউক্রেনকে ১৬০ কোটি পাউন্ড দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন কিয়ার স্টারমার। এই অর্থে ইউক্রেনের জন্য পাঁচ হাজারের বেশি ক্ষেপণাস্ত্র কেনা হবে। ওই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষার কাজে ব্যবহার করা হবে।
তবে ইউক্রেনের সমর্থনে নেওয়া যেকোনো পরিকল্পনায় বাধ সাধতে পারেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। স্টারমার বলেন, এক্ষেত্রে তাদের যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন প্রয়োজন। স্পষ্ট করে কিছু না বললেও সম্মেলনের আগে সংবাদ সংস্থা বিবিসিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ ব্যাপারে তীব্র আলোচনা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠক: শূন্যহাতে ফিরলেও প্রশংসায় ভাসছেন জেলেনস্কি
পরবর্তীতে একটি আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে আরও আলোচনা হবে বলে জানান তিনি। স্টারমার জানান, তিনি পুতিনকে বিশ্বাস করেন না কিন্তু ট্রাম্পের প্রতি তার আস্থা রয়েছে।
এর আগে ইউক্রেনে জল, আকাশ ও স্থলপথে এক মাসের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব করেন কিয়ার স্টারমার ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁখো। এ সমযের মধ্যে তারা স্থায়ীভাবে ইউক্রেনে শান্তি ও নিরাপত্তার নিশ্চিতের বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে জানান ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট।
৩৬৮ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ভাষার মর্যাদা পেল ইংরেজি
ইংরেজিকে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ভাষার মর্যাদা দিয়ে একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয়ভাবে স্বীকৃত জাতীয় ভাষা পেল যুক্তরাষ্ট্র। এতে সেখানে ভিন্ন ভাষায় যারা কথা বলেন, তারা কোণঠাসা হয়ে যেতে পারেন বলেন আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সময় শনিবার (১ মার্চ) তার এই আদেশের কারণে সরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলো—যারা কেন্দ্রীয় সরকারের তহবিল পায়—ইংরেজি ছাড়া অন্য ভাষায় নথি সরবরাহ ও সেবা দেবে কিনা; সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। অর্থাৎ অন্য ভাষায় যদি তারা সেবা দিতে না চান, তাহলে আইনগতভাবে তাদের বাধ্য করা যাবে না।
২০০০ সালে অ-ইংরেজিভাষীদের ভাষাগত সহায়তা করতে সরকার কিংবা সংস্থাগুলোকে বাধ্য করে দিয়ে একটি ম্যান্ডেট জারি করেছিলেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। নতুন এই আদেশের মাধ্যমে সেটি বাতিল হয়ে গেছে।-খবর এপি, ওয়াশিংটন পোস্ট ও বিবিসির।
ট্রাম্পের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ইংরেজিকে সরকারি ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে কেবল যোগাযোগকেই সহজ করা হয়নি, আমেরিকার জাতীয় মূল্যবোধকেও জোরদার করা হয়েছে। একটি সুসংগঠিত ও দক্ষ সমাজ গড়তে এটি সহায়ক হবে।আরও পড়ুন: ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠক: শূন্যহাতে ফিরলেও প্রশংসায় ভাসছেন জেলেনস্কি
‘এই নীতি আমাদের জাতীয় ভাষা আত্মস্থ করতে ও শেখায় নতুন আমেরিকানদের উৎসাহিত করবে। এতে যুক্তরাষ্ট্র একটি অভিন্ন বসতি হিসেবে গড়ে উঠবে; পাশাপাশি আমেরিকার স্বপ্নপূরণে নতুন নাগরিকদের ক্ষমতায়ন করবে,’ দাবি করা হয় নির্বাহী আদেশে।
আরও বলা হয়, ‘ইংরেজিতে কথা বলার মধ্য দিয়ে তাদের জন্য কেবল অর্থনৈতিক দরজাই খুলে যাবে না, নতুন আগন্তুকরা নিজেদের কমিউনিটির সঙ্গে আরও বেশি করে যুক্ত হতে ও জাতীয় ঐতিহ্যকে গ্রহণ করতে পারবেন। আমাদের সমাজকে তারা আরও বেশি কিছু দিতে পারবেন।’
ইংরেজিকে সরকারি ভাষার মর্যাদা দিতে প্রচার চালিয়ে আসছে ইউ. এস. ইংলিশ নামের একটি গোষ্ঠী। তারা বলেন, ‘এরইমধ্যে ইংরেজিকে সরকারি ভাষার স্বীকৃতি দিয়ে ৩০টিরও বেশি অঙ্গরাজ্যে আইন পাশ করা হয়েছে। আলাস্কা ও হাওয়ায় অঙ্গরাজ্যে একাধিক আদি আমেরিকান ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।’
গেল কয়েক দশক ধরেই ইংরেজিকে রাষ্ট্রভাষা করে আইন পাশের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন দেশটির রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা। কিন্তু তারা সফল হতে পারেননি। যারা তাদের বিরোধিতা করছেন, তাদের দাবি—‘বিপুলসংখ্যক মানুষ ইংরেজিতে কথা বলছেন। কাজেই এটিকে আলাদা করে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়ার দরকার নেই।’
এছাড়া এতে অ-ইংরেজিভাষীদের ওপর বৈষম্য চাপিয়ে দেওয়া হবে বলে মনে করেন তারা।
২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় যারা ইংরেজিভাষী না, তাদের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘খুবই উদ্ভট বিষয় হচ্ছে, তাদের ভাষা আছে, কিন্তু এ দেশের কেউ তা শোনেননি। এটি খুবই ভয়ঙ্কর বিষয়।’
ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটের স্পেনিশ ভাষার সংস্করণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ ধরনের পরিবর্তনে হিস্পানিকরা হতাশা ব্যক্ত করেছেন।
তখন হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ‘তারা ওয়েবসাইটের স্পেনিশ ভাষার সংস্কারণ ফিরিয়ে আনবেন।’ যদিও এখন পর্যন্ত সেটা করা হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউসের কোনো সাড়া মেলেনি।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম মেয়াদেও হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটের স্পেনিশ ভাষার সংস্করণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ২০২১ সালে জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর সেটি পুনর্বহাল করা হয়েছিল।
মার্কিন সেন্সাস ব্যুরোর তথ্যানুসারে, দেশটির ৩৪ কোটি বাসিন্দার মধ্যে ছয় কোটি ৮০ লাখ ইংরেজি ছাড়া অন্য ভাষায় কথা বলেন। ১৬০টির বেশি আদি আমেরিকান ভাষা আছে।
ইংরেজির পরেই স্পেনিশ, বিভিন্ন চীনা ভাষা ও আরবি ভাষীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। বিশ্বের প্রায় ১৮০টি দেশের সরকারি ভাষা আছে। কোনো কোনো দেশে একাধিক ভাষাকেও রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাজ্যসহ বেশ কয়েকটি দেশে কোনো সরকারি ভাষা নেই।
ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ডেমোক্র্যাসি অ্যান্ড ইলেক্টরাল অ্যাসিস্ট্যান্স জানিয়েছে, সরকারি দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনায় যে ভাষা ব্যবহার করা হয়, সেটিই সরকারি ভাষা। কোনো একটি ভাষাকে সরকারি ভাষা হিসেবে নথিভুক্ত করার মধ্য দিয়ে একটি রাষ্ট্রের চরিত্র ও নাগরিকদের সাংস্কৃতিক পরিচয় নির্ধারিত হয়ে যায়।
এতে বিশেষ একটি গোষ্ঠী ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে যেতে পারে এবং যাদের ভাষার স্বীকৃতি দেওয়া হয় না, তারা কোণঠাসা হয়ে যেতে পারেন বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
৩৬৯ দিন আগে