বিশ্ব
ই-বর্জ্য আমদানি নিষিদ্ধ করল মালয়েশিয়া
ইলেকট্রনিক বর্জ্য বা ই–বর্জ্য আমদানির ওপর তাৎক্ষণিক ও সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মালয়েশিয়া। এ বিষয়ে দেশটির সরকারের স্পষ্ট ঘোষণা, মালয়েশিয়াকে আর বিশ্ব বর্জ্যের ‘ভাগাড়’ হতে দেবে না।
স্থানীয় সময় বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সকল ই-বর্জ্য তাৎক্ষণিক ও কার্যকরভাবে ‘সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা’ বিভাগের অধীনে পুনরায় শ্রেণিবদ্ধ করা হবে। এর ফলে পরিবেশ বিভাগ যে নির্দিষ্ট কিছু ই-বর্জ্য আমদানিতে ছাড় দেওয়ার ক্ষমতা রাখত, তা বাতিল করা হলো।
দেশটির দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান আজাম বাকী বলেন, ‘ই-বর্জ্য আর অনুমোদিত নয়।’ অবৈধ আমদানি ঠেকাতে তিনি ‘দৃঢ় ও সমন্বিত আইন প্রয়োগমুলক ব্যবস্থা’ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
বিপুল পরিমাণ আমদানিকৃত ই-বর্জ্য নিয়ে এর আগেও সমস্যায় পড়েছে মালয়েশিয়া। এসব বর্জ্যের মধ্যে অধিকাংশই অবৈধ এবং মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বন্দর থেকে সন্দেহজনক শত শত কন্টেইনার ই-বর্জ্য জব্দ করেছে কর্তৃপক্ষ। পরে সেগুলো আবার রপ্তানিকারক দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য নোটিশ দিয়েছে তারা।
ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দূর্নীতির অভিযোগ তদন্তের অংশ হিসেবে মূলত এই নিষেদ্ধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। গত সপ্তাহে ক্ষমতার অপব্যবহার ও ই-বর্জ্য তদারকি নিয়ে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত অভিযোগে পরিবেশ বিভাগের মহাপরিচালক ও উপ-মহাপরিচালকে আটক করে রিমান্ডে নেয় দেশটির দুর্নীতি দমন কমিশন। এছাড়া তদন্তের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি ব্যাংক হিসাব এবং নগদ অর্থ জব্দ করা হয়েছে।
এদিকে, বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ই-বর্জ্য চোরাচালান রোধে সরকার আরও জোরালো পদক্ষেপ নেবে।
পোস্টে আরও বলা হয়, ‘মালয়েশিয়া বিশ্বের বর্জ্যের ভাগাড় নয়। ই-বর্জ্য শুধু আবর্জনা নয়, এটি পরিবেশ, মানুষের স্বাস্থ্য ও জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি।’
২৯ দিন আগে
‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তির মেয়াদ ফুরাচ্ছে, বাড়ছে অনিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক প্রতিযোগিতার আশঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে সর্বশেষ পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি ‘নিউ স্টার্ট’-এর মেয়াদ আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) শেষ হওয়ার কথা। এর মধ্য দিয়ে অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় ধরে বিদ্যমান অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির অবসান হচ্ছে। এর ফলে বিশ্বের দুই বৃহত্তম পারমাণবিক অস্ত্র ভাণ্ডারের ওপর আর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকছে না। ফলে নিয়ন্ত্রণহীন একটি নতুন পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার পথ খুলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
সীমাহীন অস্ত্র প্রতিযোগিতার সম্ভাবনা
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, নিউ স্টার্ট (New START) চুক্তির অবসান হলে নিয়ন্ত্রণহীন পারমাণবিক প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এমনকি নিয়ন্ত্রণহীন পারমাণবিক প্রতিযোগিতার সম্ভাবনা নতুন মাত্রায় পৌঁছাতে পারে, যেখানে চীনের অস্ত্র ভাণ্ডারও যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
এ ব্যাপারে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ওয়াশিংটন সম্মত হলে আরও এক বছরের জন্য চুক্তির বিধিনিষেধ মেনে চলতে তিনি প্রস্তুত। তবে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে এখনও সুস্পষ্ট অবস্থান নেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গেল সোমবার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, পারমাণবিক অস্ত্রের ওপর সীমা বজায় রাখতে চান বলে বারবার ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। সেইসঙ্গে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আলোচনায় চীনকেও তিনি অন্তর্ভুক্ত করতে আগ্রহী। তবে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজের সময়সীমা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে চীনের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার তুলনামূলক ছোট হলেও ক্রমেই এর পরিসর বাড়ছে। তবে নিজেদের অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর কোনো বিধিনিষেধ আরোপে বরাবরই আপত্তি জানিয়ে আসছে বেইজিং।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর কোনো সীমা না থাকলে বিশ্ব আরও ‘বিপজ্জনক’ হয়ে উঠবে।
অস্ত্র নিয়ন্ত্রণপন্থীরা দীর্ঘদিন ধরেই ‘নিউ স্টার্ট’-এর মেয়াদ শেষ হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। তাদের আশঙ্কা, এর ফলে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র–রাশিয়ার অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে, যা বিদ্যমান বৈশ্বিক অস্থিরতার পাশাপাশি পারমাণবিক সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়াবে।
৩০ দিন আগে
মা, ভাইবোনদের বাঁচাতে সমুদ্রে ৪ ঘণ্টা সাঁতরাল কিশোর
পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে ভেসে যাওয়া মা ও দুই ছোট ভাইবোনকে বাঁচাতে তীব্র ঠান্ডা পানিতে উত্তাল সমুদ্রে চার ঘণ্টা সাঁতরেছে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোর।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে পার্থের বাসিন্দা ওই পরিবারটি কায়াক (ছোট নৌকা) এবং প্যাডেলবোর্ড নিয়ে সাগরে নেমেছিল। এর মধ্যে উত্তাল সমুদ্র এবং প্রবল বাতাস তাদের টেনে নিয়ে যেতে শুরু করে। এরপর প্রায় ৪ কিলোমিটার সাঁতার কেটে তীরে পৌঁছায় কিশোর অস্টিন অ্যাপেলবি এবং মা, ভাইবোনদের উদ্ধারের জন্য কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানায়।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) অস্টিন বলে, ‘ঢেউগুলো ছিল বিশাল এবং আমার গায়ে কোনো লাইফ জ্যাকেট ছিল না।… আমি শুধু ভাবছিলাম—শুধু সাঁতার কাটতে থাকো, সাঁতার কাটতে থাকো। একসময় আমি তীরে পৌঁছাতে পারি এবং সৈকতে আঘাত করি ও পড়ে যাই।’
সে আরও জানায়, কায়াকে যাওয়ার সময় প্রথমে সে লাইফ জ্যাকেট পরেছিল। কিন্তু সমুদ্র উত্তাল ছিল এবং প্যাডেলবোর্ডটি পানিতে ডুবে যাচ্ছিল, তাই সে সেটি থেকে নেমে পড়ে। এরপর সাঁতার কাটতে সমস্যা হওয়ায় লাইফ জ্যাকেটটিও খুলে ফেলে। তার ভাষ্য, তখন ইতিবাচক চিন্তাভাবনায় মনোযোগী হওয়ার চেষ্টা করে সে।
সেদিন দুপুরের আগেই পরিবারটি তাদের সমুদ্র অভিযানে বেরিয়ে পড়েছিল। অস্টিনের কর্তৃপক্ষকে জানাতে সন্ধ্যা ৬টা বেজে যায় এবং রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার মা জোয়ান অ্যাপেলবি (৪৭), ভাই বিউ (১২) এবং বোন গ্রেসকে (৮) উদ্ধার করে একটি হেলিকপ্টার।
পরিবারটি পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া রাজ্যের কুইন্ডালুপ থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার সমুদ্রের গভীরে ভেসে গিয়েছিল। প্রায় ১০ ঘণ্টা তারা পানিতে ভেসেছিল।
স্থানীয় পুলিশ পরিদর্শক জেমস ব্র্যাডলি বলেন, ছেলেটির কাজের কেবল প্রশংসাই যথেষ্ট নয়, তার দৃঢ় সংকল্প এবং সাহস তার মা এবং ভাইবোনদের জীবন বাঁচিয়েছে।
জোয়ান অ্যাপেলবি সাংবাদিকদের বলেন, আমি তো ছেলেমেয়েদের সাগরের মাঝখানে রেখে তীরে চলে আসতে পারি না! তাই বড় ছেলেকে পাঠাই।
অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনকে তিনি বলেন, আমার জীবনে নেওয়া সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে একটি ছিল অস্টিনকে বলা— চেষ্টা করো, তীরে গিয়ে সাহায্য নাও। কারণ আমরা খুব শিগগিরই বড় বিপদে পড়তে পারি।
তিনি আরও বলেন, শুরুতে আমি আত্মবিশ্বাসী ছিলাম যে অস্টিন তীরে পৌঁছাবে, কিন্তু যখন সূর্য অস্ত যেতে শুরু করে এবং তখনও আমাদের কাছে সাহায্য পৌঁছায়নি, তখন ছেলের বিষয়ে দুশ্চিন্তা হচ্ছিল।
জোয়ান অ্যাপেলবি বলেন, যখন আমাদের উদ্ধার করা হয়, তখন আমরা তিনজনই কাঁপছিলাম। তীব্র ঠান্ডায় বিউয়ের পা তো অবশই হয়ে গিয়েছিল। তবে আমার তিনটি বাচ্চা, তিনজনই বেঁচে আছে—এটাই আসল কথা।
৩১ দিন আগে
সীমিত পরিসরে খুলল গাজার রাফাহ ক্রসিং
মিসরের সঙ্গে গাজার সীমান্তবর্তী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাফাহ ক্রসিং খুলে দিয়েছে ইসরায়েল। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গাজায় প্রবেশের অন্যতম এই দুয়ার সীমিত পরিসরে খুলে দিয়েছে ইসরায়েল। এটিকে যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টার অন্যতম অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েল ও মিসর উভয় পক্ষ থেকেই রাফাহ ক্রসিং খুলে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কর্মকর্তারা। মিসরের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মিসরীয় কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রথম দিনে এই ক্রসিং দিয়ে গাজা থেকে ৫০ জন ফিলিস্তিনি এবং আরও ৫০ জন ফিলিস্তিনি বাইরে থেকে গাজায় প্রবেশ করতে পারবেন। যুদ্ধবিরতি চুক্তি আলোচনায় যুক্ত কর্মকর্তারা এ কথা জানালেও নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
মিসরের সঙ্গে গাজার একমাত্র সংযোগপথ ও গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার প্রধান এই পথটি খুলে দেওয়ার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে খান ইউনিসের বাসিন্দা ঘালিয়া আবু মোস্তফা বলেন, ‘ক্রসিং খুলে দেওয়া একটি ভালো পদক্ষেপ, কিন্তু তারা যাতায়াতের জন্য মানুষের সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দিয়েছে, যা একটি সমস্যা।’
গাজায় ত্রাণ পরিষেবা নিয়ন্ত্রণকারী ইসরায়েলি সামরিক সংস্থা বলেছে, ক্রসিংটি পরীক্ষামূলকভাবে খোলা হয়েছে। ফিলিস্তিনের বাসিন্দারা সোমবার থেকে ক্রসিংটি ব্যবহার করতে পারবেন। তবে শুরুতে কেবল নির্দিষ্ট কিছু সংখ্যক মানুষ যাতায়াতের অনুমতি পাবেন।
রাফাহ শহর থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়া সুহাইলা আল-আস্তাল বলেন, ‘আমরা চাই বিপুল সংখ্যক মানুষ বাইরে যাওয়ার সুযোগ পাক। ক্রসিংটি স্থায়ীভাবে খুলে দেওয়া হোক যাতে অসুস্থ রোগীরা বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নিয়ে ফিরে আসতে পারে।’ এ সময় নিজের অসুস্থ মেয়ের বিদেশে চিকিৎসা প্রয়োজন জানিয়ে ক্রসিংটি স্থায়ীভাবে খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ইসরায়েলের এই ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এল যার আগের দিনই তাদের হামলায় বেশ কয়েকটি শিশুসহ অন্তত ৩০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে এটিই এক দিনে সর্বোচ্চ প্রাণহানি। ইসরায়লের দাবি, হামাস যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করেছে বলে এই হামলা।
৩৩ দিন আগে
দুর্নীতির অপরাধে চীনে ফুটবল অঙ্গনে ৭৩ জনকে আজীবন নিষিদ্ধ
চীনের সর্বশেষ দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে ফুটবল-সংশ্লিষ্ট ৭৩ জনকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির শীর্ষ স্তরের নয়টি ক্লাবের পয়েন্ট কাটা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন সাবেক জাতীয় দলের কোচ ও এভারটনের খেলোয়াড় লি থাই এবং চীনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (সিএফএ) সাবেক সভাপতি চেন শুয়ুয়ান।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সিএফএর এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বিচারের রায়ে যাদের অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে, তাদের সব ধরনের ফুটবল-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করেছে সিএফএ। চেন শুয়ুয়ান ও লি থাইসহ মোট ৭৩ জন ফুটবল-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছেন।’
২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত জাতীয় দল পরিচালনা করা লি এবং চেন ২০২৪ সালে কোটি কোটি ডলারের ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। সে সময় লি থাইয়ের ২০ বছরের কারাদণ্ড হয়, আর চেন শুয়ুয়ানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় আদালত।
একই সঙ্গে চীনা সুপার লিগের ৯টি ক্লাবকেও পয়েন্ট কর্তন ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।
গত মৌসুমে রানার্সআপ হওয়া সাংহাই শেনহুয়া এবং তিয়ানজিন জিনমেন টাইগার্স সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুই ক্লাবেরই ১০ পয়েন্ট কাটা হয়েছে এবং প্রত্যেককে ১০ লাখ ইউয়ান (প্রায় ১ লাখ ৪৪ হাজার ডলার) জরিমানা করা হয়েছে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন সাংহাই পোর্ট ২০২৬ মৌসুম শুরু করবে পাঁচ পয়েন্ট কর্তন নিয়ে।
সিএফএ জানায়, ‘প্রতিটি ক্লাব যে অনিয়মিত লেনদেনে জড়িত ছিল, তার পরিমাণ, প্রকৃতি, গুরুত্ব এবং সামাজিক প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে পয়েন্ট কর্তন ও আর্থিক দণ্ড দেওয়া হয়েছে।’
বিবৃতিতে দুর্নীতির বিষয়ে ‘শূন্য-সহনশীলতা’ নীতি বজায় রাখার কথা পুনর্ব্যক্ত করে সংস্থাটি।
এর আগে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে একই ধরনের অপরাধে ৪৩ জন কর্মকর্তা ও খেলোয়াড়কে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল চীন।
৩৬ দিন আগে
মিয়ানমারভিত্তিক অপরাধচক্রের ১১ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল চীন
মিয়ানমারভিত্তিক একটি পারিবারিক অপরাধ চক্রের ১১ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে চীন। চক্রটির বিরুদ্ধে ১৪ জন চীনা নাগরিককে হত্যা এবং ১০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের প্রতারণা ও জুয়া কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ ছিল।
ওয়েনঝৌ সিটি ইন্টারমিডিয়েট পিপলস কোর্ট বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে এক বিবৃতিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি জানায়।
গত সেপ্টেম্বরে দেশটির আদালত ওই ১১ জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন মিং গুওপিং ও মিং ঝেনঝেন, যারা প্রতারণা ও জুয়া কার্যক্রমের নেতৃত্বে ছিলেন বলে আদালতে প্রমাণিত হয়। এছাড়া ঝৌ ওয়েইচ্যাং, উ হংমিং ও লুও জিয়ানঝাংওয়ের মতো চক্রটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্যও এই শাস্তি পেয়েছেন।
মৃত্যুদণ্ডের আদেশ পাওয়ার পর চক্রটির পক্ষ থেকে আপিল করা হলেও গত নভেম্বরে আদালত তা খারিজ করে দেয়।
২০২৩ সালের নভেম্বরে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকায় অপরাধ দমনে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ওপর চীনের কেন্দ্রীয় সরকার চাপ প্রয়োগ করলে ওই পারিবারিক চক্রের সদস্যদের আটক করা হয়।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়, বিশেষ করে মিয়ানমার, কম্বোডিয়া ও লাওসে ‘স্ক্যাম পার্ক’ শিল্পভিত্তিক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। সেখানে পাচার হওয়া ও স্বেচ্ছায় যুক্ত হওয়া শ্রমিকদের দিয়ে সারা বিশ্বের ভুক্তভোগীদের লক্ষ্য করে ডিজিটাল প্রতারণা চালানো হয়ে থাকে।
এই ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ডের বিস্তার রোধে চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে অঞ্চলটির কর্তৃপক্ষের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে।
৩৭ দিন আগে
কলোম্বিয়ায় বিমান বিধ্বস্ত, কংগ্রেস সদস্যসহ নিহত ১৫
কলোম্বিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়ে দেশটির কংগ্রেসের এক সদস্যসহ ১৫ জন আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন।
নর্তে দে সান্তানদের প্রদেশের একটি গ্রামীণ এলাকায় স্থানীয় সময় বুধবার (২৮ জানুয়ারি) এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দেশটির রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিমান সংস্থা সাতেনা জানায়, প্রদেশের কুরাসিকা এলাকার স্থানীয় কর্মকর্তারা বিমানটি যেখানে বিধ্বস্ত হওয়ার খবর কর্তৃপক্ষকে জানান। এরপর যাত্রীদের অবস্থার মূল্যায়ন করতে একটি উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়।
পরে কলোম্বিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ঘটনাস্থলে বিমানটি শনাক্ত করার পর অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, বিমানটির কোনো আরোহী বেঁচে নেই।’
প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে কর্মকর্তারা কিছু জানাননি, তবে এ বিষয়ে তদন্ত হবে বলে জানিয়েছেন তারা।
সাতেনার বিবৃতিতে বলা হয়, বিমানটি বুধবার বেলা ১১টা ৪২ মিনিটে প্রাদেশিক রাজধানী কুকুতা বিমানবন্দর থেকে পাহাড়ঘেরা পৌর এলাকা ওকানিয়ার উদ্দেশে উড্ডয়ন করে। তবে উড্ডয়নের কয়েক মিনিট পরই আকাশযান ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার সঙ্গে বিমানটির শেষ যোগাযোগ হয়।
সাতেনা জানায়, বিমানটিতে দুজন ক্রু সদস্য ও ১৩ জন যাত্রী ছিলেন। যাত্রীদের মধ্যে ছিলেন কাতাতুম্বো এলাকার প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য দিয়োগেনেস কুইন্তেরো (৩৬)। নিহতদের তালিকায় কংগ্রেসে প্রার্থী সামাজিক নেতা কার্লোস সালসেদোও রয়েছেন।
কুইন্তেরো ছিলেন কলম্বিয়ার ভেনেজুয়েলা সীমান্তঘেঁষা উত্তেজনাপূর্ণ অঞ্চলের বাসিন্দা। যেখানে এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তিনি সেখানকারই বাসিন্দা এবং একজন প্রখ্যাত মানবাধিকারকর্মী ছিলেন।
পেশায় আইনজীবী কুইন্তেরো ২০২২ সালে দেশটির প্রতিনিধি পরিষদের ১৬ জন সদস্যের একজন হিসেবে নির্বাচিত হন, যারা কলোম্বিয়ার কয়েক দশক ধরে চলা সশস্ত্র সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ৯০ লাখের বেশি ভুক্তভোগীর প্রতিনিধিত্ব করেন। এই আসনগুলো ২০১৬ সালে কলোম্বিয়া সরকার ও দেশের সবচেয়ে বড় গেরিলা গোষ্ঠী ফার্কের (FARC) মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে সৃষ্টি করা হয়।
কুইন্তেরোর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে তার দল ইউ পার্টি জানিয়েছে, তিনি ছিলেন নিজ অঞ্চলের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সেবার প্রতি দৃঢ় দায়িত্ববোধসম্পন্ন এক নেতা।
কলোম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, ‘এই মৃত্যুগুলো আমাকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। তাদের পরিবারের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা। তাদের আত্মা শান্তি পাক।’
৩৭ দিন আগে
হন্ডুরাসের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন ট্রাম্প-সমর্থিত নাসরি আসফুরা
হন্ডুরাসের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন ট্রাম্প-সমর্থিত ব্যবসায়ী নাসরি আসফুরা। শপথ নেওয়ার পর তিনি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অপরাধ দমন এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সেবার মান উন্নয়নের অঙ্গীকার করেছেন।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) দেশটির পার্লামেন্ট ভবনে একটি অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে অন্যান্য দেশের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত না থাকলেও কূটনৈতিক মহল ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
শপথ গ্রহণের পর ৬৭ বছর বয়সী নতুন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমাদের প্রিয় হন্ডুরাসের প্রতিটি প্রান্তে বাস্তব সমাধান পৌঁছে দিতে যে পূর্ণ অঙ্গীকার প্রয়োজন, তা নিয়েই আমি দেশ পরিচালনা করব।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনের আগে হন্ডুরাসের এই রক্ষণশীল প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন দেওয়ার পর আসফুরার ক্ষমতায় উত্থান ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। ভোট গ্রহণের পর গণনা শেষ করতে কয়েক সপ্তাহ লেগে যায়। এরপর ফল ঘোষণায় দেখা যায়, খুব অল্প ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন তিনি। এক শতাংশেরও কম ব্যবধানে জয় পান আসফুরা। নির্বাচনে কারসাজির অভিযোগ তোলেন প্রতিদ্বন্দ্বীরা।
হন্ডুরাস কর্তৃপক্ষ জানায়, আসফুরা ৪০ দশমিক ২৭ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রক্ষণশীল প্রার্থী সালভাদোর নাসরাল্লা পান ৩৯ দশমিক ৫৩ শতাংশ ভোট। নাসরাল্লা দাবি করে আসছেন, প্রকৃত প্রেসিডেন্ট তিনিই।
মঙ্গলবার আসফুরা বলেন, দক্ষতা বাড়াতে তিনি রাষ্ট্রযন্ত্রের আকার ছোট করবেন এবং দারিদ্র্যপীড়িত জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দেবেন।
৩৮ দিন আগে
বিমান দুর্ঘটনায় মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রীসহ নিহত ৫
ভারতের মহারাষ্ট্রের বারামতিতে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় রাজ্যটির উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ার নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় ব্যক্তিগত বিমানটিতে থাকা আরও চারজন নিহত হয়েছেন।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল পৌনে ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি দলীয় র্যালিতে যোগ দিতে ব্যক্তিগত বিমানে করে মুম্বাই থেকে নিজ শহর বারামতি যাচ্ছিলেন অজিত পওয়ার। মুম্বাই থেকে প্রায় ২৫৪ কিলোমিটার দূরে গিয়ে জরুরি অবতরণের সময় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে তাতে আগুন ধরে যায়।
দুর্ঘটনার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। টেলিভিশনের ফুটেজে ধ্বংসস্তূপ থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।
ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল অধিদপ্তরের (ডিজিসিএ) প্রাথমিক বিবৃতিতে বলা হয়, মাঝারি আকারের লিয়ারজেট ৪৫ বিমানটিতে ছিলেন পাওয়ারের দুই স্টাফ সদস্য ও দুই ক্রু সদস্য। দুর্ঘটনায় সবাই নিহত হয়েছেন।
রাজ্য রাজনীতিতে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত পাওয়ার মহারাষ্ট্রে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন শাসক জোটের অংশ হিসেবে রাজ্যের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নির্বাচিত পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। রাজ্যের চিনি উৎপাদন অঞ্চলে তার প্রভাব ছিল ব্যাপক। গ্রামীণ ভোটারদের সংগঠিত করার সক্ষমতার জন্য তিনি পরিচিত ছিলেন।
এ দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পাওয়ারকে একজন নিবেদিতপ্রাণ জনসেবক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মোদি বলেন, ‘প্রশাসনিক বিষয়ে তার গভীর উপলব্ধি এবং দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষের ক্ষমতায়নে তার আগ্রহ ছিল উল্লেখযোগ্য। তার অকালমৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক ও শোকের। তার পরিবার ও অগণিত শুভানুধ্যায়ীকে আমার সমবেদনা।’
৩৮ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রে তুষার ঝড়ের প্রভাবে ৩০ জনের মৃত্যু
ভয়াবহ তুষার ঝড়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তীব্র ঠান্ডা ও ঝড়ের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দেশটির দুই-তৃতীয়াংশ এলাকায় তাপমাত্রার চরম অবনতি হয়। ঝড়ের কারণে গতকাল দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ব্যাপক তুষারপাত হয়েছে এবং দক্ষিণের বিভিন্ন অঞ্চল তুষারের চাদরে ঢেকে যায়। বহু মানুষ বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় ভয়াবহ ঠান্ডার মধ্যে রাত কাটাতে বাধ্য হন।
বাতাসের মান নির্ণয়কারী প্রতিষ্ঠান ও দেশটির আবহাওয়া অফিসের প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়, আরকানসাস থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকাজুড়ে ১ ফুটের বেশি তুষারের আস্তরণ জমেছে। এর ফলে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, অসংখ্যক ফ্লাইট বাতিল হয়ে যায় এবং বেশিরভাগ স্কুলগুলোই বন্ধ হয়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা দপ্তর জানায়, পিটসবার্গের উত্তরের এলাকাগুলোতে কোথাও কোথাও ২০ ইঞ্চি পর্যন্ত তুষারপাত হয়েছে। সোমবার গভীর রাত থেকে আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত বাতাসের সঙ্গে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যেতে পারে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, এই প্রচণ্ড শীত শিগগিরিই কমার কোনো লক্ষণ নেই। সোমবার জানানো হয়, নতুন করে আর্কটিক অঞ্চল থেকে হিমশীতল বাতাস প্রবাহিত হওয়ায় ইতোমধ্যে বরফ ও তুষারে ঢাকা এলাকাগুলোতে তাপমাত্রা আরও দীর্ঘ সময় ধরে হিমাঙ্কের নিচে থাকবে। এ ছাড়া চলতি সপ্তাহে দেশটির পূর্ব উপকূলে আবারও একটি তুষার ঝড় আঘাত হানতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিউইয়র্ক সিটিতে তীব্র ঠান্ডায় সপ্তাহজুড়ে মোট আটজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ম্যাসাচুসেটস ও ওহাইয়োতে তুষার পরিষ্কারকারী গাড়ির (স্নোপ্লো) চাপায় নিহত দুই ব্যক্তিও রয়েছেন। এছাড়া রয়েছে আরকানসাস ও টেক্সাসে স্লেডিং দুর্ঘটনায় নিহত কয়েকজন কিশোর। সর্বশেষ কানসাসে একটি পানশালার বাইরে এক নারীর মরদেহ তুষারে ঢাকা অবস্থায় পাওয়া যায়।
লাখো মানুষ বিদ্যুৎহীন
সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৫ লাখ ৬০ হাজারের বেশি বাড়ি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল বলে জানিয়েছে ‘পাওয়ার আউটেজ ডটকম’। এর মধ্যে বেশিরভাগ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ঘটনাই ঘটেছে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে। সপ্তাহজুড়ে হিমবৃষ্টি ও ঝড়ে গাছের ডাল ভেঙে পড়ে বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি করেছে সেখানে। উত্তর মিসিসিপি ও টেনেসির কিছু এলাকায়ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি হয়েছে।
বিদ্যুৎ পরিষেবার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুরোপুরি বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক হতে কয়েক দিন লেগে যেতে পারে।
১৯৯৪ সালের পর সবচেয়ে ভয়াবহ তুষার ঝড়ের কবলে পড়েছে মিসিসিপি। সেখানকার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে খাট, কম্বল, বোতলজাত পানি ও জেনারেটর পাঠাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
মিসিসিপির গভর্নর টেট রিভস জানান, অন্তত ১৪টি বাড়ি, একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ২০টি সরকারি সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
৩৮ দিন আগে