বিশ্ব
কোভিড ল্যাবসৃষ্ট ভাইরাস: আস্থা কম সিআইএ’র সিদ্ধান্তে
কোভিড-১৯ মহামারির জন্য দায়ী ভাইরাসটি সম্ভবত কোনো পরীক্ষাগার থেকে ছড়িয়ে পড়েছে বলে এখন বিশ্বাস করে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ)। তবে তারা এও স্বীকার করেছে যে, গুপ্তচর সংস্থার নিজস্ব সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে তাদের ‘কম আস্থা’ রয়েছে।
এই অনুসন্ধানটি কোনো নতুন গোয়েন্দা তথ্যের ফলাফল নয়। প্রতিবেদনটি বাইডেন প্রশাসন ও সিআইএ'র সাবেক পরিচালক উইলিয়াম বার্নসের নির্দেশে তৈরি করা হয়েছে। সংস্থাটির প্রধান হিসেবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোনীত জন র্যাটক্লিফের নির্দেশে শনিবার এটি প্রকাশ করা হয়।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার সিআইএ’র পরিচালক হিসেবে র্যাটক্লিফ দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
সূক্ষ্ম অনুসন্ধান থেকে বোঝা যায়, সংস্থাটি বিশ্বাস করে ভাইরাসটির উৎপত্তির বিষয়ে প্রমাণের সামগ্রিকতা প্রাকৃতিক উৎসের চেয়ে ল্যাব উৎসের সম্ভাবনা বেশি। তবে, সংস্থাটির মূল্যায়ন এই সিদ্ধান্তে কম আস্থা প্রকাশ করেছে। এটি এমন ধারণাও দেয় যে— প্রমাণগুলো ত্রুটিপূর্ণ, অসম্পূর্ণ বা পরস্পরবিরোধী।
করোনাভাইরাসটি চীনের ল্যাব থেকে উদ্ভূত হয়েছিল। সম্ভবত ভুল করে বা এটি প্রাকৃতিকভাবে উদ্ভূত হয়েছিল কিনা তা নিয়েও কোভিড-১৯ এর উৎপত্তি সম্পর্কিত আগের প্রতিবেদনগুলো নিয়ে মতভেদ রয়েছে। নতুন মূল্যায়নে বিতর্কের নিষ্পত্তি হওয়ার সম্ভাবনাও নেই।
আসলে মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, চীনা কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতার কারণে এর সমাধান হয়তো কখনোই করা যাবে না।
সংস্থাটি তাদের নতুন মূল্যায়ন সম্পর্কে এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘সিআইএ ‘কোভিড-১৯ মহামারির গবেষণা সম্পর্কিত এবং প্রাকৃতিক উৎস উভয় পরিস্থিতিই যুক্তিসঙ্গত বলে মূল্যায়ন অব্যাহত রেখেছে।’
নতুন প্রমাণের পরিবর্তে, ভাইরাসটির বিস্তার, এর বৈজ্ঞানিক বৈশিষ্ট্য এবং চীনের ভাইরোলজি ল্যাবগুলোর কাজ এবং অবস্থা সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্যের নতুন বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়েছে।
আইনপ্রণেতারা ভাইরাসটির উৎপত্তি সম্পর্কে আরও তথ্যের জন্য আমেরিকার গুপ্তচর সংস্থাগুলোকে চাপ দিয়েছেন। এর ফলে লকডাউন, অর্থনৈতিক বিপর্যয় এবং লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বিশ্ব যখন মহামারির ধারাবাহিক সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে— তখন এটির উল্লেখযোগ্য অভ্যন্তরীণ এবং ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে।
আরও পড়ুন: নতুন কোভিড ভ্যারিয়েন্ট জেএন.১ সংক্রমণের অর্ধেকই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে
সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির চেয়ারম্যান আরকানসাসের রিপাবলিকান সিনেটর টম কটন শনিবার বলেছেন, তিনি ‘বাইডেন প্রশাসনের শেষ দিনগুলোতে সিআইএ এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, ল্যাব থেকে ছড়ানো তত্ত্বটি সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা’ এবং তিনি মূল্যায়নটি প্রকাশ করার জন্য র্যাটক্লিফের প্রশংসা করেছেন।
এক বিবৃতিতে কটন বলেন, 'এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিশ্বে মহামারিটি ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য চীনকে মূল্য দিতে হবে।’
ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের কোনো জবাব দেয়নি। চীনা কর্তৃপক্ষ অতীতে কোভিডের উৎপত্তি সম্পর্কে জল্পনা-কল্পনাকে অসহায়ক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
ভাইরাসটির উৎপত্তি এখনও অজানা। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, সম্ভবত অন্য প্রজাতি, সম্ভবত র্যাকুন কুকুর, সিভেট বিড়াল বা বাঁশের ইঁদুরকে সংক্রামিত করার আগে এটি করোনভাইরাসের মতো অনেক বাদুড়ের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল। পরে সংক্রমণটি উহানের একটি বাজারে এই প্রাণীদের জবাই করার মধ্য দিয়ে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ২০১৯ সালের নভেম্বরের শেষের দিকে প্রথম মানবদেহে এর সংক্রমণ দেখা যায়।
তবে কিছু সরকারি তদন্তে প্রশ্ন উঠেছে, উহানের ল্যাব থেকেই ভাইরাসটি ছড়িয়ে কিনা। দুই বছর আগে জ্বালানি বিভাগের একটি প্রতিবেদনে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছিল যে, এটি একটি ল্যাব থেকে সম্ভবত ছড়িয়েছিল। যদিও সেই প্রতিবেদনটিও অনুসন্ধানের ওপর কম আস্থা রাখা হয়।
একই বছরে এফবিআইয়ের তৎকালীন পরিচালক ক্রিস্টোফার রে বলেন, তার সংস্থা বিশ্বাস করে ল্যাব থেকে বের হওয়ার পর ভাইরাসটি 'খুব সম্ভবত' ছড়িয়ে পড়েছে।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা র্যাটক্লিফ বলেছেন, তিনিও ল্যাব লিকের পরিস্থিতির পক্ষে।
র্যাটক্লিফ ২০২৩ সালে বলেছিলেন, ‘ল্যাব লিকই বিজ্ঞান, বুদ্ধিমত্তা এবং সাধারণ ধারণায় সমর্থিত একমাত্র তত্ত্ব।’
সিআইএ বলেছে, তারা মূল্যায়নে পরিবর্তন আনতে পারে— এমন যেকোনো নতুন তথ্য মূল্যায়ন অব্যাহত রাখবে।
আরও পড়ুন: দীর্ঘমেয়াদি কোভিড-১৯ রোগে ভুগছেন বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন মানুষ: গবেষণা
৪০৫ দিন আগে
পাকিস্তানে সেনা অভিযানে নিহত ৩০
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে সেনাবাহিনীর পৃথক তিনটি অভিযানে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছে।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) শনিবার (২৫ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিরাপত্তা বাহিনী প্রদেশের লাক্কি মারওয়াত, কারাক ও খাইবার জেলায় অভিযান চালিয়েছে।
আরও পড়ুন: অক্টোবর পর্যন্ত ৩৪১ সন্ত্রাসী হত্যা করেছে পাকিস্তান
এতে আরও বিবৃতিতে বলা হয়, লাক্কি মারওয়াতে অভিযানে ১৮ সন্ত্রাসী নিহত ও ৬ জন আহত হয়েছেন। কারাক জেলায় আরও ৮জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।
সেনাবাহিনী আরও বলেছে, তাদের তৃতীয় অভিযানটিতে গোষ্ঠীটির নেতাসহ ৪ সন্ত্রাসী নিহত ও দুইজন আহত হয়েছেন।
অভিযানে বিপুল পরিমাণ সমরাস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।
এলাকায় অন্যান্য সন্ত্রাসীদের উপস্থিতি নির্মূল করতে একটি ক্লিয়ারেন্স অপারেশন চালানো হচ্ছে।
সেনাবাহিনী বলেছে, দেশ থেকে সন্ত্রাসবাদের বিপদ নির্মূল করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী।
আরও পড়ুন:আফগান সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ১৯ পাকিস্তানি সেনাসহ নিহত ২২
৪০৫ দিন আগে
অভিবাসীবাহী মার্কিন ফ্লাইট অবতরণের অনুমতি দেয়নি মেক্সিকো
অভিবাসীদের তাড়িয়ে দিতে ব্যবহার করা মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি পরিবহন উড়োজাহাজ অবতরণে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে প্রতিবেশী দেশ মেক্সিকো। যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর কর্মকর্তাদের বরাতে এনবিসি নিউজে এমন খবর উঠে এসেছে।
শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) মধ্য আমেরিকার দেশ গুয়েতেমালায় এমন তিনটি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে মার্কিন সামরিক বিমান, প্রতিটি ফ্লাইটে প্রায় ৮০ জনের মতো অভিবাসী ছিলেন। অনুমতি না মেলায় সি-১৭ পরিবহন উড়োজাহাজটি পরিকল্পনা অনুসারে মেক্সিকোয় অবতরণ করতে পারেনি।
ট্রাম্প প্রশাসনের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করার কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি মেক্সিকো সরকার। প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নেওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকোর সম্পর্ক এখন আলোচনায়। দুই দেশের যৌথ সীমান্তে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন তিনি। সীমান্তে অতিরিক্ত দেড় হাজার সেনা মোতায়েনেরও নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এছাড়াও আরও কয়েক হাজার সেনা সীমান্তে যুক্ত হবেন বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা।
মেক্সিকোর মাদক চক্রকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মেক্সিকো উপসাগরের নাম বদলে আমেরিকা উপসাগর করা হয়েছে। এছাড়াও মেক্সিকোর সব পণ্যে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কারোপের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প, যা আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর করা হতে পার।
তবে পরিস্থিতি যাতে উত্তপ্ত না হয়, সেই চেষ্টা করে যাচ্ছেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম। এমনকি ফিরে আসা মেক্সিকোর নাগরিকদের পুনর্বাসনের বিষয়েও তার মনোভাব খোলামেলা।
কিন্তু এই বামপন্থি নেতা বলেন, ‘অভিবাসীদের ব্যাপকভাবে তাড়িয়ে দেওয়ার পক্ষে তার সম্মতি নেই। মার্কিন অর্থনীতির জন্য মেক্সিকোর অভিবাসীরা গুরুত্বপূর্ণ।’
সীমান্তে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার পর অভিবাসনপ্রত্যাশীদের স্থানান্তরিত করতে মার্কিন সামরিক বাহিনী ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এরআগে লোকজনকে এক দেশ থেকে অন্য দেশে নিয়ে যেতে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক বাহিনী পরিবহন উড়োজাহাজ ব্যবহার করতো, যেমনটা ২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে সেনাপ্রত্যাহারের সময় ঘটেছে।
কিন্তু স্মরণাতীতকালে এই প্রথমবারের মতো অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে অন্যত্র সরিয়ে দিতে উড়োজাহাজ ব্যবহার করতে দেখা গেছে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সদর দপ্তর পেন্টাগন জানিয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়া, সান দিয়াগো, টেক্সাস ও এল পাসো থেকে পাঁচ হাজার অভিবাসীকে অন্যত্র সরিয়ে নিতে ফ্লাইট পরিচালনা করবে সেনাবাহিনী।
গুয়েতেমালা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার ৮০ অভিবাসী বহনকারী তিনটি মার্কিন ফ্লাইট সেখানে অবতরণ করেছে।
৪০৫ দিন আগে
নতুন করে হামাসে যোগ দিল ১৫ হাজার যোদ্ধা
ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার যোদ্ধা নিয়োগ দিয়েছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। মার্কিন গোয়েন্দা বরাতে এমন খবর দিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। এতে ইসরাইলের জন্য ক্রমাগত হুমকি হিসেবেই থেকে যাচ্ছে ইরান সমর্থিত হামাস।
তবে এই যুদ্ধে একই পরিমাণ হামাস যোদ্ধা নিহত হয়েছেন বলে আভাস দিয়েছে গোয়েন্দারা। রোববার (১৯ জানুয়ারি) থেকে যুদ্ধবিরতিতে যায় হামাস ও ইসরাইল। গেল ১৫ মাসের যুদ্ধে ধ্বংসস্তূপে রূপান্তরিত গাজা উপত্যকা, পুরো মধ্যপ্রাচ্য উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
খবরে বলা হয়—হামাসে যোগ দেওয়া নতুন সদস্যরা বয়সে তরুণ ও অপ্রশিক্ষিত। তাদের এখন কেবল নিরাপত্তার উদ্দেশ্যে কাজে লাগানো হচ্ছে।
আরও পড়ুন: গাজায় ইসরাইলি হামলায় নারী ও শিশুসহ ১২ ফিলিস্তিনি নিহত
এ বিষয়ে জানতে মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের অফিসে যোগাযোগ করা হলে সাড়া মেলেনি। গত ১৪ জানুয়ারি তখনকার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিংকিন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র মনে করে যে, গাজায় যতজন যোদ্ধা হারিয়েছে হামাস, ততজনই তারা নতুন করে নিয়োগ দিয়েছে। এটি একটি চিরস্থায়ী বিদ্রোহ ও যুদ্ধেরই প্রস্তুতি।’
এ বিষয়ে তার কাছ থেকে আর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ইসরাইল বলছে, ‘গাজা যুদ্ধে প্রায় ২০ হাজার হামাস যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।’
অ্যান্থনি ব্লিংকিন বলেন, ‘যখনই গাজায় ইসরাইল কোনো সামরিক অভিযান চালিয়ে ফিরে এসেছে, হামাস তখনই নতুন করে পুনর্গঠিত ও আবিভূত হয়েছে।’
হামাসকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র ইসরাইল। গেল বছরের জুলাইয়ে হামাসের সামারিক শাখার প্রধান আবু ওবায়দা বলেন, ‘তারা কয়েক হাজার নতুন যোদ্ধা নিয়োগ দিতে সক্ষম।’
এবারের যুদ্ধে ইসরাইল হামাসকে ধ্বংস করে দেওয়ার অঙ্গীকার করলেও গাজা উপত্যকায় গভীরভাবে নিজের অবস্থান জারি রেখেছে হামাস। গাজা থেকে ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহার করে নেওয়া হলে হামাস সেখানে নিরাপত্তা কার্যক্রম পুনর্প্রতিষ্ঠা করে। পাশাপাশি নাগরিকদের মৌলিক সেবাগুলোও তারা পুনর্বহাল করতে সক্ষম হয়েছেন।
গাজা যুদ্ধে কতজন হামাস যোদ্ধা প্রাণ হারিয়েছেন, মার্কিন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তারা কেবল বলছেন, ‘ফিলিস্তিনি এই প্রতিরোধ বাহিনীর ব্যাপক শক্তি ক্ষয় হয়েছে—সম্ভবত কয়েক হাজার যোদ্ধা খুইয়েছে।’
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে অতর্কিত হামলা চালায় হামাস যোদ্ধারা। এতে এক হাজার ২০০ ইসরাইলি অবৈধ বসতিস্থাপনকারী নিহত হন। এছাড়াও ২৫০ ইসরাইলিকে তারা জিম্মি করেছিল। পরবর্তীতে গাজায় ইসরাইলি হামলায় ৪৬ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
আরও পড়ুন: লেবানন-গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান সৌদি যুবরাজের
৪০৫ দিন আগে
এরদোগানের সমালোচনায় পোস্ট, তুরস্কে বিরোধী দলীয় নেতা গ্রেপ্তার
তুরস্কের উগ্র-ডানপন্থি দল ভিক্টরি পার্টির নেতা উমিত ওজদাগকে কারাগারে আটকে রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সামাজিকমাধ্যমে প্রকাশ্যে ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগে তার বিচার চলছে। বুধবার (২২ জানুয়ারি) বিচার স্থগিত রেখে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানকে নিয়ে অসম্মানজনক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে সোমবার তাকে আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এরদোগান তুরস্কের যে পরিমাণ ক্ষতি করেছেন, কোনো ক্রুসেডেও তা হয়নি।’
সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে উমিত ওজদাগ বলেন, ‘আমাকে গ্রেপ্তার করার অর্থ হচ্ছে, জনগণের একজন প্রতিনিধিকে গ্রেপ্তার করা। এসব মানুষ দেশের সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর বিরোধিতা করছেন।’
‘ন্যূনতম মজুরি নিয়ে যেসব শ্রমিক জীবন ধারণ করছেন, অভাব-অনটন নিয়ে যেসব অবসরপ্রাপ্ত মানুষ বেঁচে আছেন, তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। আপনি আমাকেও গ্রেপ্তার করতে পারবেন, কিন্তু আমাকে নীরব করিয়ে দিতে পারবেন না।’
ভিক্টরি পার্টির নেতার গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশটির প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) নেতা অজগুর ওজেল। ২০২৩ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অজগুরকে সমর্থন দিয়েছিলেন উমিত।
অজগুর ওজেল বলেন, এভাবে কাউকে গ্রেপ্তার করা ন্যায়বিচারকে হত্যার শামিল। এতে দেশের গণতন্ত্র ও বিচারিক স্বাধীনতা ধ্বংস হয়ে যাবে।
এই গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়েছেন ইস্তানবুলের মেয়র একরাম ইমামোগলু। তিনি বলেন, এটা বিচারবিভাগে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ।
৪০৭ দিন আগে
লস অ্যাঞ্জেলেসে ফের দাবানল, ৯৪০০ একর ভূমি আগুনের গ্রাসে
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে নতুন করে আবার দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার (২৩ জানুয়ারি) ৯ হাজার ৪০০ একরেরও বেশি ভূমি গ্রাস করে ফেলেছে আগুন।
জোরালো বাতাস ও শুষ্ক ঝোপ-ঝাড়ের কারণে খুবই দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে দাবানল। সেখান থেকে ৩১ হাজারেরও বেশি বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সিবিএস নিউজের খবরে বলা হয়, স্থানীয় সময় পৌনে ১১টায় লেক হিউজেস রোড থেকে শুরু হয় দাবানল। মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই ৫০০ একর এলাকায় সেটি ছড়িয়ে পড়ে।
দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন। এরআগেও মহানগর এলাকার দুটি বড় দাবানল তারা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছিলেন।
আরও পড়ুন: লস অ্যাঞ্জেলেস দাবানলে মৃত্যু বেড়ে ১৬
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, বুধবার অল্প কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইয়াটন ফায়ারের দুই-তৃতীয়াংশের আকারের দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। লস অ্যাঞ্জেলেসে ছড়িয়েপড়া সবচেয়ে বিধ্বংসী দাবানলের একটি ইয়াটন ফায়ার।
লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির ক্যাসটেইক লেক এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক করে দিয়ে কর্মকর্তারা বলেন, তীব্র শুষ্ক ঝোড়ো বাতাসের কারণে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় ব্যাপক অগ্নিঝুঁকি রয়েছে। এতে নাগরিকদের জন্য শঙ্কা তৈরি করছে, তারা যাতে অন্য কোথাও চলে যান।
এখন পর্যন্ত ৩১ হাজার মানুষকে বাধ্যতামূলকভাবে দাবানল এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আরও ২১ হাজারকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে, তাদেরও নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়া লাগতে পারে।
গেল ৯ মাসে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় কোনো উল্লেখযোগ্য বৃষ্টি হয়নি। এতে পুরো অঞ্চলটিতে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শনিবার থেকে সোমবারের মধ্যে বৃষ্টি হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। যদি সেটা ঘটে, তাহলে দমকলকর্মীরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন।
আরও পড়ুন: দাবানলে লস অ্যাঞ্জেলেসে ১২ হাজার স্থাপনা বিধ্বস্ত, নিহত ১১
৪০৮ দিন আগে
আগুন আতঙ্কে ট্রেন থেকে লাফিয়ে ১২ জনের মৃত্যু
ভারতের পশ্চিমাঞ্চলে ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের গুজবে দুর্ঘটনা থেকে বাঁচতে ট্রেন থেকে লাফিয়ে পড়ে অন্তত ১২ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন।
প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া বুধবার (২২ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আতঙ্কিত যাত্রীরা লাফ দিলে অন্য একটি ট্রেনের বগির সঙ্গে ধাক্কা লেগে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ কর্মকর্তা দত্তাত্রয়া করালের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, আহত আরও অন্তত ৬ জনকে নিকটবর্তী হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
মহারাষ্ট্র রাজ্যের রাজধানী মুম্বাই থেকে ৪১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে পারধাদে রেলওয়ে স্টেশনের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মুম্বাই ভারতের অর্থনৈতিক রাজধানী হিসেবেও পরিচিত।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, হতাহতরা পুষ্পক এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে লাফিয়ে পড়েন। তবে কয়েকজন যাত্রী জরুরি চেন টানতে টানতে ট্রেনটি থামিয়েছিলেন।
রেলওয়ের মুখপাত্র স্বপ্নিল নীলা জানিয়েছেন, ট্রেন থেকে যারা নেমেছিলেন তারা পাশের রেললাইনে থাকা অন্য একটি এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কা খেয়েছিলেন।
তিনি বলেন, 'আমাদের প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য হলো- পুষ্পক এক্সপ্রেসের একটি কামরায় 'হট অ্যাক্সেল' বা 'ব্রেক বাইন্ডিং' (জ্যামিং) এর কারণে আগুন দেখা দিয়েছিল। এতে কিছু যাত্রী আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। তারা শিকল টানেন এবং তাদের মধ্যে কয়েকজন রেললাইনে ঝাঁপ দেন। রেলের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সেসময় কর্নাটক এক্সপ্রেস ট্রেনটি পাশের লাইন দিয়ে যাচ্ছিল।’
রেল নিরাপত্তার উন্নয়নে সরকারের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, ভারতের রেলপথে প্রতি বছর শত শত দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। বিশ্বে এটি একক ব্যবস্থাপনায় বৃহত্তম ট্রেন যোগাযোগ ব্যবস্থা।
২০২৩ সালে পূর্ব ভারতে দুটি যাত্রীবাহী ট্রেন লাইনচ্যুতির ঘটনায় ২৮০ জনেরও বেশি লোকের মৃত্যু হয়। কয়েক দশকের মধ্যে দেশের অন্যতম মারাত্মক রেল দুর্ঘটনায় শত শত লোক আহত হয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভারতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক যুগের রেলপথ যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের দিকে মনোযোগ দিয়েছেন। ভারত ১৪২ কোটি মানুষ নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশে পরিণত হয়েছে।
সূত্র: বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা
৪০৮ দিন আগে
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: পশ্চিমতীরে দখলদারদের হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট
অধিকৃত পশ্চিমতীরে ফিলিস্তিনিদের গ্রামগুলোতে ঢুকে বসতবাড়ি, দোকানপাট, গাড়িতে হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে অবৈধ বসতিস্থাপনকারী ইহুদিরা। এসময়ে গাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগও করা হয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার (২০ জানুয়ারি) দিনের শেষভাগে পশ্চিমতীরে হানা দিয়ে সহিংসতায় মেতে ওঠে তারা।এরআগে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের ওপর আরোপ করা প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। হামলা ও সংঘাতের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও ভিসা নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল।মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের প্রথম মেয়াদে ইসরাইলকে উদারভাবে সমর্থন দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এবারও তাকে ঘিরে যেসব সহযোগী রয়েছেন, তাদের সবারই ফিলিস্তিনে ইসরাইলের অবৈধ বসতিস্থাপনে সমর্থন রয়েছে।নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর ট্রাম্পকে ব্যাপক প্রশংসায় ভাসান দখলদার নেতারা। বছরখানেক আগে অবৈধ বসতিস্থাপনকারীদের ওপর যখন বাইডেন নিষেধাজ্ঞা দেন, তখন গাজা যুদ্ধঘিরে ব্যাপক সহিংসতা চলছিল। পরে মৌলবাদী ও কট্টরপন্থি ইসরাইলিদেরও নিষেধাজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মার্কিন সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এমন খবর দিয়েছে।বাইডেনের নিষেধাজ্ঞাকে ভয়াবহ বিদেশি হস্তক্ষেপ আখ্যায়িত করে ইসরাইলের প্রতি অবিচল ও আপসহীন সমর্থন দেওয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসা করেন ইসরাইলের অর্থমন্ত্রী বেজালের স্মোট্রিচ।পশ্চিমতীরের ৩০ লাখ বাসিন্দাকে এমনিতেই ইসরাইলের প্রকাশ্য সামরিক শাসনের অধীনে বসবাস করতে হচ্ছে। ফিলিস্তিনের এই ভূখণ্ডকে ইসরাইলের সঙ্গে একীভূত করতে চান বেজালের মতো উগ্রপন্থি ইসরাইলিরা।তারা গাজা উপত্যকায়ও অবৈধ বসতি নির্মাণ করতে চান। ইসরাইলিদের এই দখলদারিত্বকে অবৈধ ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় অন্তরায় হিসেবে বিবেচনা করে আসছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। পশ্চিমতীরে পাঁচ লাখ অবৈধ বসতিস্থাপনকারী আছে, যারা ইসরাইলের নাগরিক।জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে ট্রাম্প বেছে নিয়েছেন প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকান সদস্য এলিস স্টেফ্যানিককে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) কংগ্রেসের শুনানিতে তিনি বলেন, ইসরাইলকে বাইবেল অধিকার দিয়েছে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল করতে।জিনসাফুত ও আল-ফুনদুক এলাকার কর্মকর্তারা বলেন, গেল সোমবার ফিলিস্তিনিদের অন্তত দুটি গ্রামে হানা দিয়ে বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে এবং তাদের সম্পদ লুণ্ঠন করেছে মুখোশপরা কয়েক ডজন অবৈধ বসতিস্থাপনকারী।তাদের হামলায় আহত ১২ ফিলিস্তিনিকে চিকিৎসা দিয়েছে রেড ক্রিসেন্ট। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী বলছে, ‘হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে তাদের ওপর পাথর নিক্ষেপ করা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে।’গাজাযুদ্ধ চলাকালে পশ্চিমতীরে ইসরাইলিদের সহিংসতা বেড়েছে। তবে এসবের সঙ্গে ট্রাম্পের অভিষেকের কোনো সম্পর্ক আছে কিনা; তা পরিষ্কার না। মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) জেনিন শরণার্থী শিবিরে প্রাণঘাতী অভিযান চালিয়েছে ইসরাইল।জিনসাফুত গ্রামের কাউন্সিল প্রধান জালাল বশির বলেন, ‘মুখোশধারীরা তিনটি বাড়ি, একটি নার্সারি ও একটি কাঠমিস্ত্রির দোকানে হামলা চালিয়েছে। এগুলো সবই গ্রামের প্রধান সড়ক লাগোয়া অবস্থিত।আল-ফুন্দুক গ্রামের স্থানীয় কাউন্সিলের প্রধান লাওয়ি তায়েম বলেন, কয়েক ডজন দখলদার এসে গুলি করেছে, পাথর ছুড়েছে, গাড়িতে আগুন দিয়েছ এবং দোকান ও বসতবাড়িতে হামলা চালিয়েছে।‘তারা মাস্ক পরা ছিল, আর হাতে ছিল অগ্নিসংযোগের সরঞ্জামাদি। হামলাকারীরা সংখ্যায় ছিল অনেক বেশি এবং নজিরবিহীন।’
৪০৮ দিন আগে
ট্রাম্পের শুল্কারোপের জবাব দেবে কানাডা, মেক্সিকোর ধীরে চলার নীতি
কানাডীয় পণ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুল্কারোপ করলে যে কোনো পরিস্থিতির জবাব দিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। মঙ্গলবার এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প খুবই ভালো আলোচক, তিনি তার আলোচনার অংশীদারকে কিছুটা বিভ্রান্তিতে ফেলে দিতে চান।’
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর দ্বিতীয় দিনে বেশ কিছু নির্বাহী আদেশে সই করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরআগে সোমবার কানাডা ও মেক্সিকান পণ্য আমদানিতে ব্যাপক শুল্কারোপের আভাস দিয়েছেন তিনি, যা আগামী ফেব্রুয়ারি থেকেই কার্যকর হতে পারে।-খবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের।
যদিও স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকার করলেও শুল্কারোপের বিষয়ে ধীরে ধীরে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন মেক্সিকান প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম। আর ট্রাম্পের সঙ্গে নিয়মিত কথা হয় জানিয়ে ট্রুডো বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের আচরণ অনিশ্চয়তা ডেকে আনে, পরবর্তী আনুষ্ঠানিক আলাপচারিতার অপেক্ষায় থাকুন।’
আমেরিকায় যে সমৃদ্ধির অঙ্গীকার ট্রাম্প করেছেন, সে জন্য কানাডীয় সম্পদের প্রয়োজন হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ট্রুডো বলেন, আমেরিকান অর্থনীতিতে অনেক প্রয়োজনীয় যোগান কানাডা সরবরাহ করে। কাজেই দেশটির অর্থনীতির সমৃদ্ধি ও সম্প্রসারণের জন্য তা অপরিহার্য।
এদিকে দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা সুরক্ষার অঙ্গীকার করেছেন মেক্সিকান প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম। তবে ট্রাম্পের সঙ্গে সংলাপে বসার কথাও বলেছেন তিনি। দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নেওয়ার পর ট্রাম্পের কিছু পদক্ষেপ আগের মেয়াদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ জানিয়ে ক্লাউদিয়া বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে দেশের স্বার্থ সুরক্ষা করবো।’
‘গতকাল ট্রাম্প যেসব ডিক্রিতে সই করেছেন, সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে আমি বলতে চাই: মেক্সিকোর জনগণ নিশ্চিত থাকতে পারেন, আমরা আমাদের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার সুরক্ষা দেব।’
তিনি যখন এমন অঙ্গীকার করেন, তখন দেশটির পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার দুই পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। ক্লাউদিয়া বলেন, ‘মাথা ঠান্ডা রাখা সবসময় গুরুত্বপূর্ণ।’
গেল অক্টোবরে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন মেক্সিকোর এই বামপন্থি নেতা। ক্লাউদিয়া দেশটির প্রথম কোনো নারী প্রেসিডেন্ট। তবে মেক্সিকান পণ্যে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কারোপের যে আভাস ট্রাম্প দিয়েছেন, পাল্টা জবাবে মার্কিন পণ্যে কোনো শুল্কারোপের হুমকি তিনি দেননি। ধীরে ধীরে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন ক্লাউদিয়া।
এরআগে যদি মেক্সিকান পণ্যে মার্কিন সরকার শুল্কারোপ করে, তাহলে সমানভাবে জবাব দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন ক্লাউদিয়া ও তার অর্থমন্ত্রী। দেশটির আশি শতাংশ রফতানির গন্তব্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
৪০৯ দিন আগে
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের নির্বাহী আদেশে সই করলেন ট্রাম্প
দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের পরই যুক্তরাষ্ট্রে অনিবন্ধিত অভিবাসীদের জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিল করতে একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্পের বিতর্কিত এই পদক্ষেপটি তাৎক্ষণিকভাবে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, এই সিদ্ধান্তটি চতুর্দশ সংশোধনীর পর থেকে ১৫০ বছরের বেশি সময় ধরে প্রচলিত সাংবিধানিক ব্যাখ্যার বিপরীত।
‘প্রোটেকটিং দ্য মিনিং অ্যান্ড ভ্যালু অব আমেরিকান সিটিজেনশিপ’ শীর্ষক ওই আদেশে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারির পর যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী শিশুদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে না, যদি তাদের মা অবৈধভাবে দেশটিতে থাকেন বা অস্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের জন্য অনুমোদিত হন এবং বাবা মার্কিন নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা না হন।
সোমবার (২০ জানুয়ারি) ওভাল অফিসে ওই আদেশে সই করার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘এটি একটি বড় বিষয়। দশকের পর দশক ধরে মানুষ এটি করতে চাইছে।’
এ সময় প্রশাসনের আইনি অবস্থানের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে তিনি বলেন, নীতি রক্ষার জন্য তাদের কাছে ‘খুব ভালো যুক্তি’ রয়েছে।
আরও পড়ুন: বার্নিকাটসহ ৩ কূটনীতিককে পদত্যাগ করতে বলছেন ট্রাম্পের সহযোগীরা
তবে এই পদক্ষেপটি চতুর্দশ সংশোধনীর প্রচলিত ব্যাখ্যা থেকে একটি ‘উল্লেখযোগ্য বিচ্যুতি’ হিসেবে ধরা হচ্ছে। এর মাধ্যমে নিশ্চয়তা দেওয়া হয় যে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী বা নাগরিকত্বপ্রাপ্ত সমস্ত ব্যক্তিই নাগরিক। দেশটির আইন বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে এই ধারাটিকে পিতামাতার মর্যাদা নির্বিশেষে জন্মগত নাগরিকত্বের ভিত্তি হিসাবে সমর্থন করে আসছেন।
আইনি ও সামাজিক জটিলতা
ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্তের পর নীতিটির সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচকরা যুক্তি দেখিয়েছেন, এটি অনিবন্ধিত দম্পতির নবজাতকদের আইনি অচলাবস্থায় ফেলে দেবে এবং যাদের অনেকেরই (আইনি ভিত্তি) ইতোমধ্যে দুর্বল, তাদের আরও অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলতে বাধ্য করবে।
জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবিধানিক আইনের অধ্যাপক সারাহ মিলার বলেন, ‘এই নির্বাহী আদেশটি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত নীতিগুলোকে ক্ষুণ্ন করে।’
তিনি বলেন, ‘এটি শুধু অনিবন্ধিত পরিবারের ওপর আঘাত নয়, এটি আমেরিকান সমাজকে আবদ্ধ করে—এমন আইনি কাঠামোকে অস্থিতিশীলতার হুমকিতে ফেলবে।’
অভিবাসন আইনজীবীরা এই আদেশকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বেশ কয়েকটি সংস্থা ইতোমধ্যে মামলার প্রস্তুতিও নিচ্ছে।
তারা যুক্তি দিয়েছেন যে, নির্বাহী পদক্ষেপের মাধ্যমে জন্মগত নাগরিকত্ব পরিবর্তন করা অসাংবিধানিক। এ জাতীয় যেকোনো পরিবর্তনের জন্য সংবিধানের সংশোধনী প্রয়োজন। একইসঙ্গে এটি এমন একটি প্রক্রিয়া, যাতে উল্লেখযোগ্য আইনি এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের সমর্থন প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: দাঙ্গাকারীসহ ১৫০০ আসামিকে ক্ষমা করলেন ট্রাম্প
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের কয়েক ঘণ্টা পরই এই আদেশে সই করেন তিনি। এটি তার প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ইঙ্গিত দেয়। নির্বাচনি প্রচারের সময় তিনি বারবার জন্মগত নাগরিকত্বের ‘অপব্যবহারের’ সমালোচনা করে বিষয়টিকে ‘জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের বিষয়’ হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন।
ডেমোক্র্যাটসহ কিছু মধ্যপন্থী রিপাবলিকানও এটিকে রাষ্ট্রপতির কর্তৃত্বের বাড়াবাড়ি হিসেবে বিরোধিতা করেছেন। তারা বলছেন, নির্বাহী আদেশটি ওয়াশিংটনে পক্ষপাতমূলক বিভাজনকে আরও গভীর করতে পারে।
অন্যদিকে, নীতিটি অভিবাসন সম্পর্কে দীর্ঘদিনের উদ্বেগের সমাধান করবে বলে পাল্টা যুক্তি দিচ্ছেন ট্রাম্পের সমর্থকরা।
এগিয়ে যাওয়ার পথ
মার্কিনীরা যখন দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, তখন জন্মগত নাগরিকত্বের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ল। আপাতত নির্বাহী আদেশটি যুক্তরাষ্ট্রে ইতোমধ্যে সমস্যজর্জর অভিবাসন বিতর্কে জটিলতার আরও একটি স্তর যুক্ত করল।
১৮৬৮ সাল থেকে আমেরিকান নাগরিকত্বের মূল ভিত্তি হয়ে থাকা সাংবিধানিক নিশ্চয়তাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার ট্রাম্প প্রশাসনের প্রচেষ্টাকে আদালত কীভাবে ব্যাখ্যা করবে—তা এখন দেখার বিষয়।
সূত্র: বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা
আরও পড়ুন: টিকটক ডুবালেন ট্রাম্প, ত্রাতাও হলেন তিনি
৪০৯ দিন আগে