বিশ্ব
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের নির্বাহী আদেশে সই করলেন ট্রাম্প
দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের পরই যুক্তরাষ্ট্রে অনিবন্ধিত অভিবাসীদের জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিল করতে একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্পের বিতর্কিত এই পদক্ষেপটি তাৎক্ষণিকভাবে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, এই সিদ্ধান্তটি চতুর্দশ সংশোধনীর পর থেকে ১৫০ বছরের বেশি সময় ধরে প্রচলিত সাংবিধানিক ব্যাখ্যার বিপরীত।
‘প্রোটেকটিং দ্য মিনিং অ্যান্ড ভ্যালু অব আমেরিকান সিটিজেনশিপ’ শীর্ষক ওই আদেশে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারির পর যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী শিশুদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে না, যদি তাদের মা অবৈধভাবে দেশটিতে থাকেন বা অস্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের জন্য অনুমোদিত হন এবং বাবা মার্কিন নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা না হন।
সোমবার (২০ জানুয়ারি) ওভাল অফিসে ওই আদেশে সই করার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘এটি একটি বড় বিষয়। দশকের পর দশক ধরে মানুষ এটি করতে চাইছে।’
এ সময় প্রশাসনের আইনি অবস্থানের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে তিনি বলেন, নীতি রক্ষার জন্য তাদের কাছে ‘খুব ভালো যুক্তি’ রয়েছে।
আরও পড়ুন: বার্নিকাটসহ ৩ কূটনীতিককে পদত্যাগ করতে বলছেন ট্রাম্পের সহযোগীরা
তবে এই পদক্ষেপটি চতুর্দশ সংশোধনীর প্রচলিত ব্যাখ্যা থেকে একটি ‘উল্লেখযোগ্য বিচ্যুতি’ হিসেবে ধরা হচ্ছে। এর মাধ্যমে নিশ্চয়তা দেওয়া হয় যে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী বা নাগরিকত্বপ্রাপ্ত সমস্ত ব্যক্তিই নাগরিক। দেশটির আইন বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে এই ধারাটিকে পিতামাতার মর্যাদা নির্বিশেষে জন্মগত নাগরিকত্বের ভিত্তি হিসাবে সমর্থন করে আসছেন।
আইনি ও সামাজিক জটিলতা
ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্তের পর নীতিটির সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচকরা যুক্তি দেখিয়েছেন, এটি অনিবন্ধিত দম্পতির নবজাতকদের আইনি অচলাবস্থায় ফেলে দেবে এবং যাদের অনেকেরই (আইনি ভিত্তি) ইতোমধ্যে দুর্বল, তাদের আরও অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলতে বাধ্য করবে।
জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবিধানিক আইনের অধ্যাপক সারাহ মিলার বলেন, ‘এই নির্বাহী আদেশটি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত নীতিগুলোকে ক্ষুণ্ন করে।’
তিনি বলেন, ‘এটি শুধু অনিবন্ধিত পরিবারের ওপর আঘাত নয়, এটি আমেরিকান সমাজকে আবদ্ধ করে—এমন আইনি কাঠামোকে অস্থিতিশীলতার হুমকিতে ফেলবে।’
অভিবাসন আইনজীবীরা এই আদেশকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বেশ কয়েকটি সংস্থা ইতোমধ্যে মামলার প্রস্তুতিও নিচ্ছে।
তারা যুক্তি দিয়েছেন যে, নির্বাহী পদক্ষেপের মাধ্যমে জন্মগত নাগরিকত্ব পরিবর্তন করা অসাংবিধানিক। এ জাতীয় যেকোনো পরিবর্তনের জন্য সংবিধানের সংশোধনী প্রয়োজন। একইসঙ্গে এটি এমন একটি প্রক্রিয়া, যাতে উল্লেখযোগ্য আইনি এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের সমর্থন প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: দাঙ্গাকারীসহ ১৫০০ আসামিকে ক্ষমা করলেন ট্রাম্প
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের কয়েক ঘণ্টা পরই এই আদেশে সই করেন তিনি। এটি তার প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ইঙ্গিত দেয়। নির্বাচনি প্রচারের সময় তিনি বারবার জন্মগত নাগরিকত্বের ‘অপব্যবহারের’ সমালোচনা করে বিষয়টিকে ‘জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের বিষয়’ হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন।
ডেমোক্র্যাটসহ কিছু মধ্যপন্থী রিপাবলিকানও এটিকে রাষ্ট্রপতির কর্তৃত্বের বাড়াবাড়ি হিসেবে বিরোধিতা করেছেন। তারা বলছেন, নির্বাহী আদেশটি ওয়াশিংটনে পক্ষপাতমূলক বিভাজনকে আরও গভীর করতে পারে।
অন্যদিকে, নীতিটি অভিবাসন সম্পর্কে দীর্ঘদিনের উদ্বেগের সমাধান করবে বলে পাল্টা যুক্তি দিচ্ছেন ট্রাম্পের সমর্থকরা।
এগিয়ে যাওয়ার পথ
মার্কিনীরা যখন দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, তখন জন্মগত নাগরিকত্বের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ল। আপাতত নির্বাহী আদেশটি যুক্তরাষ্ট্রে ইতোমধ্যে সমস্যজর্জর অভিবাসন বিতর্কে জটিলতার আরও একটি স্তর যুক্ত করল।
১৮৬৮ সাল থেকে আমেরিকান নাগরিকত্বের মূল ভিত্তি হয়ে থাকা সাংবিধানিক নিশ্চয়তাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার ট্রাম্প প্রশাসনের প্রচেষ্টাকে আদালত কীভাবে ব্যাখ্যা করবে—তা এখন দেখার বিষয়।
সূত্র: বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা
আরও পড়ুন: টিকটক ডুবালেন ট্রাম্প, ত্রাতাও হলেন তিনি
৪১০ দিন আগে
জাকার্তায় অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই ৫০০ ঘরবাড়ি
ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার কেমায়োরান সাব-ডিস্ট্রিক্টে অগ্নিকাণ্ডে পাঁচ শতাধিক বাড়িঘর পুড়ে গেছে। এতে বাস্তুচ্যুত হয়ে ৬ শতাধিক পরিবার অন্যত্র সরে যেতে বাধ্য হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড হয় বলে জানিয়েছে জার্কাতা নগরীর কর্মকর্তারা।
নগরীরর দুর্যোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থার মুখপাত্র মোহাম্মদ ইয়োহান জানান, এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। লোকজন বর্তমানে নিকটবর্তী উপাসনালয়ে আশ্রয় নিচ্ছেন।
আরও পড়ুন: ইন্দোনেশিয়ার বালিতে ভূমিধসে নিহত ৫
‘প্রচুর কারিগরি সহায়তা প্রয়োজন’ উল্লেখ করে ইয়োহান বলেন, নগর প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা হিসেবে তাৎক্ষণিকভাবে খাবার, কম্বল এবং বোতলজাত পানি বিতরণ করেছে।
প্রায় ১৭০ জন দমকলকর্মী এবং ৩৪টি দমকল ইঞ্জিনের প্রায় ছয় ঘণ্টায় চেষ্টায় আগুন নেভাতে সক্ষম হয়।
সেন্ট্রাল জাকার্তার পুলিশ প্রধান সুসাত্ও পূর্ণোমো কন্দ্রো বলেন, একটি বাড়িতে শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে কর্মকর্তারা সন্দেহ করছেন।
তিনি বলেন, ‘তবে এটা প্রাথমিক অনুমান মাত্র। অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ নির্ধারণে আমরা ন্যাশনাল পুলিশের ফরেনসিক ল্যাবরেটরি সেন্টারের সহযোগিতায় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করব।’
কন্ড্রো আরও জানান, সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ার সুবিধার্থে কিছু রাস্তা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: তাইওয়ানে ৬.৪ মাত্রার ভূমিকম্প, আহত ২৭
৪১০ দিন আগে
ইন্দোনেশিয়ার বালিতে ভূমিধসে নিহত ৫
ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের একটি গ্রামে ভূমিধসে অন্তত পাঁচ নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (২০ জানুয়ারি) স্থানীয় গণমাধ্যকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেশটির কর্মকর্তারা।
প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বালির প্রাদেশিক রাজধানী ডেনপাসারের উবুং কাজা গ্রামে তাদের আবাসনে সোমবার এই দুর্ঘটনা ঘটে। আরও তিনজন শ্রমিক দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে গেছেন। তারা এখন নিকটবর্তী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
বালির তল্লাশি ও উদ্ধার সংস্থার প্রধান নিয়োমান সিদাকারিয়া জানান, হতাহতদের সরিয়ে নিতে উদ্ধারকারীরা একটি এক্সক্যাভেটর দিয়ে কাজ শুরু করেছেন।
নিহতদের পরিচয় শনাক্তের জন্য লাশ নিকটবর্তী হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
সিদাকারিয়া আরও বলেন, ভূমিধসের মূল কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে রবিবার এই অঞ্চলে মুষলধারে বৃষ্টিপাত হয়েছিল। বর্ষাকালে জনসাধারণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
ইন্দোনেশিয়া এই মৌসুমে প্রায়ই অতিবৃষ্টির কারণে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে।
৪১০ দিন আগে
দাঙ্গাকারীসহ ১৫০০ আসামিকে ক্ষমা করলেন ট্রাম্প
দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করার প্রথম দিনেই ক্যাপিটল ভবনে দাঙ্গার ঘটনায় অভিযুক্ত দেড় হাজারের বেশি ব্যক্তির সবাইকে ক্ষমা বা দায়মুক্তি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল ভবনে দাঙ্গার সঙ্গে জড়িত ছিল এই ক্ষমাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা। এমনকি তারা রাষ্ট্রদ্রোহী ষড়যন্ত্র এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের ওপর আক্রমণ করার জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন।
এই পদক্ষেপটি ক্যাপিটলে হামলার পরে বিস্তৃত বিচারিক কার্যক্রমকে কার্যকরভাবে উল্টে দিলো। একই সঙ্গে কংগ্রেসের একটি যৌথ অধিবেশন এবং শতাধিক পুলিশ কর্মকর্তাকে আহত করার বিচারকেও ব্যাহত করল।
আরও পড়ুন: বার্নিকাটসহ ৩ কূটনীতিককে পদত্যাগ করতে বলছেন ট্রাম্পের সহযোগীরা
অ্যাটর্নি জেনারেলকে দেওয়া ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের মধ্যে ক্যাপিটল দাঙ্গার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রায় ৪৫০টি বিচারাধীন মামলা খারিজ করার আদেশও রয়েছে। এমনকি অভিযুক্তদের 'দেশপ্রেমিক' এবং অন্যায় বিচার বিভাগের শিকার হিসেবে বর্ণনা করে ট্রাম্প এই ক্ষমাকে 'জাতীয় পুনর্মিলন' হিসেবে অভিহিত করেছেন।
তার কর্মকাণ্ড সমর্থক এবং প্রতিরক্ষা অ্যাটর্নিরা উদযাপন করেছেন। তবে ডেমোক্র্যাটিক নেতা এবং আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাসহ সমালোচকরা এটিকে ন্যায়বিচার ও জননিরাপত্তার অবমাননা আখ্যা দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই ক্ষমার মধ্যে রাষ্ট্রদ্রোহী ষড়যন্ত্রের জন্য দোষী সাব্যস্ত ১৪ ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত ছিল। আর বাকিরা সম্পূর্ণ নিঃশর্ত ক্ষমা পান। তবে এই ঘোষণাটি মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। এতে একদিকে সমর্থকরা কৃতজ্ঞতা এবং আশাবাদ প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে, বিরোধীরা সংঘটিত সহিংস কাজ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের উপর প্রভাবকে তুলে ধরছেন— যাদের মধ্যে অনেকেই আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা রয়েছেন।
ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টেরর বিচারের বিরুদ্ধে নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ট্রাম্পের পুনঃনির্বাচনের পর বিচার বিভাগ তার বিরুদ্ধে ফেডারেল ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার করে। এর পরই দায়ীদের এই ব্যাপক ক্ষমার ঘোষণা এলো।
গত চার বছরে, ব্যাপক তদন্ত এবং বিচারের ফলে ১ হাজার ২০০ জনেরও বেশি ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। যাদের অনেকেই দাঙ্গায় তাদের ভূমিকার জন্য যথেষ্ট কারাদণ্ডের সম্মুখীন হয়েছেন।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানাল বাংলাদেশ
৪১০ দিন আগে
তাইওয়ানে ৬.৪ মাত্রার ভূমিকম্প, আহত ২৭
তাইওয়ানের দক্ষিণাঞ্চলে ৬ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)। সোমবার (২০ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টা ১৭ মিনিটে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পে আহত হয়েছেন অন্তত ২৭ জন।
তাইওয়ানের সেন্ট্রাল ওয়েদার অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত ১২টা ১৭ মিনিটে আঘাত হানা ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল চিয়াই কাউন্টি হল থেকে ৩৮ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে।
অন্যদিকে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) ভূমিকম্পটির মাত্রা ৬ ছিল বলে জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: তীব্র ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ
এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর না পাওয়া গেলেও উদ্ধারকারী দল ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চালাচ্ছে।
তাইওয়ানের দমকল বিভাগ জানিয়েছে, ২৭ জনকে সামান্য আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে এক শিশুসহ ছয়জন তাইনান শহরের নানসি জেলায় একটি ধসে পড়া বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া প্রাদেশিক মহাসড়ক বরাবর ঝুওয়েই সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত এপ্রিলে তাইওয়ানের পূর্বাঞ্চলীয় হুয়ালিয়েন অঞ্চলে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়। সেসময় ১ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছিল। ২৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ওই ভূমিকম্পে শত শত আফটারশক হয়েছিল।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ বরাবর অবস্থিত। তাইওয়ান প্রায়শই প্রধান টেকটোনিক ফল্ট লাইনে অবস্থানের কারণে ভূমিকম্প আঘাতের শিকার হয়।
আরও পড়ুন: তিব্বতে ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৯৫, আহত ১৩০
৪১০ দিন আগে
অবশেষে হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি কার্যকর
ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি অবশেষে কার্যকর হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ১৫ মাস ধরে চলা ধ্বংসাত্মক গাজা যুদ্ধের অবসান হয়েছে।
রবিবার (১৯ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সময় রবিবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টায় চুক্তি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও যথাসময়ে তিন নারী জিম্মির তালিকা দিতে ব্যর্থ হয় হামাস। ফলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে তিন ঘণ্টা দেরি হয়।
মাজেদ আল-আনসারি বলেন, গাজায় জিম্মি তিন ইসরায়েলি নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়েছে।র তাদের মধ্যে একজন রোমানীয়, অন্য দুজন ব্রিটিশ নাগরিক।
আল-জাজিরার খবর বলছে, অস্ত্রবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নে যেটুকু সময়ক্ষেপণ হয়, ওই সময়ে গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩৯ জন। গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাহমুদ বাশাল এ তথ্য দিয়েছেন।
এক বিবৃতিতে মুখপাত্র বলেন, রাফায় একজন, খান ইউনিসে ৬ জন, গাজা সিটিতে ৯ জন ও উত্তর গাজায় ৩ জন নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রবিবার (১৯ জানুয়ারি) তিন জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে গাজা। সাত দিনের মধ্যে জীবিত আরও চার নারী জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হবে।
আল-জাজিরার খবর অনুসারে, ছয় সপ্তাহের প্রাথমিক যুদ্ধবিরতির সময়ে মধ্য গাজা থেকে ধীরে ধীরে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। আর উত্তর গাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরাও নিজেদের ভূমিতে ফিরে যাবেন।
যুদ্ধবিরতির শর্তের মধ্যে আরও রয়েছে, প্রতিদিন ৫০ ট্রাক জ্বালানিসহ মানবিক সহায়তাবাহী মোট ৬০০ ট্রাক গাজায় ঢোকার অনুমতি দেবে ইসরায়েল।
উত্তর গাজার ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে এসব ট্রাকের অর্ধেকই ওই অঞ্চলটিতে পাঠানো হবে।
৪১১ দিন আগে
বার্নিকাটসহ ৩ কূটনীতিককে পদত্যাগ করতে বলছেন ট্রাম্পের সহযোগীরা
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনবল ও অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের দেখভাল করা তিন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিককে সরে যেতে বলেছেন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সহযোগীরা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এমন খবর উঠে এসেছে।
দেশটির কূটনৈতিক অঙ্গনে যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে চলেছে, জ্যেষ্ঠ তিন কূটনীতিককে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় তারই আভাসই মিলছে।
খবরে জানা যাচ্ছে, ডেরেক হোগান, মার্শিয়া বার্নিকাট ও আলিনা টেপলিটসকে পদত্যাগ করতে বলেছে দ্য এজেন্সি রিভিউ টিম। নতুন প্রশাসনের হাতে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব হস্তান্তরের তদারকি করছে দলটি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনে যারা রাজনৈতিকভাবে নিয়োগ পান, নতুন প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব গ্রহণের সময় সাধারণত তারা নিজ ইচ্ছায় সরে যান। তবে সরকার পরিবর্তন হলেও ক্যারিয়ার কূটনীতিকরা দায়িত্ব চালিয়ে যান।
বহু বছর ধরে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান প্রশাসনের হয়ে কাজ করেছেন এই তিন কূটনীতিক। বিভিন্ন দেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবেও কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের।
দুদিন পর আগামী ২০ জানুয়ারি নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণ করবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারকালে মার্কিন প্রশাসনকে শেকড় থেকে পরিচ্ছন্ন করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলছে, ‘এর মধ্য দিয়ে একটি খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।’
অবশ্য, সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলেও কূটনীতিকদের সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা ওই তিনজনের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সম্ভবত আরও সংঘাতমূলক পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করতে যাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যেও শান্তি প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছেন তিনি। এ ছাড়াও কিছু অপ্রচলিত পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করেছেন তিনি। যার মধ্যে রয়েছে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার পরিকল্পনা এবং ন্যাটোর প্রতিরক্ষা খরচ বাড়ানোর মতো কিছু পদক্ষেপ। কাজেই নিজের লক্ষ্য পূরণে ট্রাম্পের এমন কূটনীতিক দরকার যারা দায়িত্বশীলভাবে তার নীতি বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম মেয়াদেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্যাপক পরিবর্তন আনেন ট্রাম্প। তখন নেতৃত্ব পর্যায়ে থাকা বেশ কিছু কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার আগে এই তিন কূটনীতিককে পদত্যাগ করতে বলা সেই সময়ের পরিস্থিতির কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছে।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রাজনৈতিক নিয়োগের সংখ্যা বাড়াতে চাচ্ছেন ট্রাম্প সহযোগীরা। এরইমধ্যে বেশ কয়েকজনের সাক্ষাৎকারও নেওয়া হয়েছে।পদত্যাগ করতে যাওয়া তিন কূটনীতিকের মধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী সেক্রেটারি হিসেবে কাজ করছেন হোগান। হোয়াইট হাউসের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন ব্যুরোর মধ্যে তথ্যপ্রবাহের ব্যবস্থা করে আসছেন তিনি।
অন্যদিকে, তিন দশকের বেশি সময় ধরে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কাজ করছেন অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আলিনা টেপলিটস।
এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মহাপরিচালকের দায়িত্বে আছেন বার্নিকাট। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মানোন্নয়ন, অ্যাসাইনমেন্ট ও নিয়োগের কাজ করে তার বিভাগ।
২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন বার্নিকাট।
৪১২ দিন আগে
ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধবিরতি কার্যকর হচ্ছে রবিবার: কাতার
আগামী রবিবার গ্রিনিচ মান সময় সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
শনিবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে ইসরায়েলের মন্ত্রিসভা একটি চুক্তি অনুমোদন করায় গাজায় যুদ্ধবিরতির পথ প্রশস্ত হয়। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হচ্ছে হামাসের হাতে আটক জিম্মিদের মুক্তি সহজ করা। একইসঙ্গে দীর্ঘ ১৫ মাস ধরে দুপক্ষের মধ্যে চলা প্রাঘাতী ও বিধ্বংসী এ যুদ্ধের অবসান।
ইসরায়েলের সীমিত নিরাপত্তা মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর পূর্ণ মন্ত্রিসভার বৈঠক করে সরকার যুদ্ধবিরতির সময় নিশ্চিত করেছে।
আরও পড়ুন: আইসিজে’র প্রেসিডেন্ট নওয়াফ সালাম লেবাননের নতুন প্রধানমন্ত্রী
সাধারণত জরুরি অবস্থা দেখা না দিলে সীমিত নিরাপত্তা মন্ত্রিসভায় ইসরায়েলি সরকারের কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়।
কাতার ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর গত বুধবার প্রাথমিকভাবে তা ঘোষণা করা হয়।
তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শেষ মুহূর্তের চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে হামাসের জটিলতাকে দায়ী করে এটি চূড়ান্ত করতে আরও নেন। এরপর শুক্রবার ইসরায়েলের সীমিত নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা চুক্তিটি অনুমোদনের সুপারিশ করে এটি এগিয়ে নেয়।
চুক্তির প্রথম ধাপের অংশ হিসেবে গাজায় আটক তিন ইসরায়েলি নারী ও ৯৫ ফিলিস্তিনি বন্দিকে ররিবার মুক্তি দেওয়া হবে।
চ্যানেল১২ এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে নেতানিয়াহু বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে জানিয়েছেন যে, তার দায়িত্ব গ্রহণের পর ইসরাইলে ফের অস্ত্র সরবরাহ শুরু হবে।
নেতানিয়াহু বলেন, ‘এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আমরা যদি চুক্তির দ্বিতীয় পর্যায়ে পৌঁছাতে না পারি, তবে যুদ্ধের জন্য আমাদের কাছে অতিরিক্ত সরঞ্জাম থাকবে না।’
আরও পড়ুন: গাজায় বিমান হামলার সময় ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল হুথি
এদিকে চুক্তি লঙ্ঘন না করতে ট্রাম্প ইসরায়েলকে পূর্ণ সমর্থন দিলেও দেশটির দুই উগ্র ডানপন্থী মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এবং বেজালেল স্মোট্রিচ এই চুক্তির বিরোধিতা এবং চুক্তির প্রথম ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পর গাজায় পুনরায় যুদ্ধ শুরু করার জন্য সরকারের প্রতিশ্রুতি দাবি করেছেন।
চুক্তি অনুযায়ী এ সময়ে হামাস প্রথম ধাপে ৩৩ জন ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেবে। চুক্তির পূর্ণ শর্তাবলীর প্রতি তাদের অঙ্গীকার নিশ্চিত করার একদিন পর শুক্রবার হামাস এ কথা জানায়।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় প্রায় ১২০০ মানুষ নিহত হন। যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক এবং প্রায় ২৫০ জনকে জিম্মি করা হয়।
হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এরপর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৪৬ হাজার ৮৭০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কারণে গাজার ২৩ লাখ জনসংখ্যার বেশিরভাগই বাস্তুচ্যুত হয়েছে। মানুষ বিভিন্ন মৌলিক সহায়তা পেতে সংগ্রাম করছে। বিশেষ করে খাদ্য, জ্বালানি, ওষুধ ও নিরাপদ আশ্রয়ের তীব্র ঘাটতি রয়েছে।
ইসরায়েল বলছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর জিম্মি হওয়াদের মধ্যে ৯৪ জন এখনও হামাসের হাতে বন্দি রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩৪ জন বেঁচে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া যুদ্ধের আগে অপহৃত চার ইসরায়েলি রয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজন মারা গেছেন।
আরও পড়ুন: জিম্মিদের মুক্ত করতে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে অনুমোদন ইসরায়েলের
৪১২ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রে ২০০ রোগীকে যৌন নির্যাতনের দায়ে চিকিৎসক অভিযুক্ত
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ২০০ জনেরও বেশি সাবেক রোগীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে একজন চিকিৎসককে অভিযুক্ত করেছে ম্যাসাচুসেটসের একটি গ্র্যান্ড জুরি।
অভিযুক্ত ডা. ডেরিক টডের বিরুদ্ধে ২০১০ সাল থেকে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের করা মামলায় অপ্রয়োজনীয় পেলভিক ফ্লোর থেরাপি, স্তন পরীক্ষা, টেস্টিকুলার পরীক্ষা এবং অন্যান্য অযৌক্তিক পদ্ধতি সম্পাদনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মিডলসেক্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিস বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, 'দুই নারীকে যৌন নিপীড়ন ও দুটি ধর্ষণের অভিযোগে' টডকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
তবে শুক্রবার ১০ হাজার ডলারের জামিনে শুনানির সময় টড নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।
ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ওই চিকিৎসককে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ না রাখা, পাসপোর্ট জমা না দেওয়া, সব মেডিকেল লাইসেন্স জমা দিতে, চিকিৎসা না দিতে এবং নতুন পাসপোর্ট বা লাইসেন্সের জন্য আবেদন না করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিস আরও জানিয়েছে, ২০২২ সালের ডিসেম্বর ও ২০২৩ সালের জুনে দুটি হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং চিকিৎসক টডের আচরণ নিয়ে আরও তদন্ত চলছে।
বোস্টন ফার্ম লুবিন অ্যান্ড মেয়ারের ১৮০ জনেরও বেশি অভিযোগকারীর অ্যাটর্নি উইলিয়াম থম্পসন বলেছেন, টডের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা সম্ভবত বাড়বে।
থম্পসন বলেন, ‘এটি ডা. টডের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার কেবল শুরু মাত্র। তবে এটি লুবিন ও মেয়ার তার প্রাক্তন রোগীদের পক্ষে যে ফৌজদারি অভিযোগগুলো তুলেছে তা প্রমাণে সহায়তা করে।’
‘অভিযোগগুলো মূলত একজন চিকিৎসকের পদের অপব্যবহার সম্পর্কে। নিজের ব্যক্তিগত যৌন পরিতৃপ্তির জন্য যাদের উপর আস্থা রেখেছিলেন, তিনি তাদের কাছে সুযোগ নিয়েছেন।’
থম্পসন আরও বলেছেন, টডের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাটি বর্তমানে আবিষ্কারের জন্য প্রক্রিয়াধীন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ফৌজদারি মামলায় টডের প্রতিনিধিত্বকারী অ্যাটর্নি অ্যান্টনি আবেলন এবং টডের প্রতিনিধিত্বকারী ফৌজদারি আইনজীবী ইনগ্রিড মার্টিনকে একটি টেলিফোন বার্তা দিয়েছেন।
টড বোস্টনের ব্রিগহাম অ্যান্ড উইমেনস হসপিটালের প্রাক্তন রিউম্যাটোলজিস্ট। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় হাসপাতালসহ আরও বেশ কয়েকজন আসামির বিরুদ্ধে নির্যাতনের বিষয়টি জানার এবং এটি বন্ধ করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
ব্রিগহাম এবং উইমেনস ২০২৩ সালের এপ্রিলে টড সম্পর্কে বেনামে অভিযোগ পান। এরপরই নিজস্ব তদন্ত শুরু করা হয়। গত জুলাইতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে চাকরিচ্যুত করে।
এরপরে টড মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো জায়গায় মেডিসিন অনুশীলন বন্ধ যাতে না হয় সেজন্য মেডিসিনে বোর্ড অব রেজিস্ট্রেশনের সঙ্গে একটি স্বেচ্ছাসেবী চুক্তি করেন।
আরও পড়ুন: টিকটক বন্ধ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে!
অভিযোগ ওঠার পর থেকে টডের প্রাক্তন কর্মস্থলগুলো তার মাধ্যমে সেবা প্রদান থেকে বিরত রয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগকারীদের মধ্যে কিশোরী থেকে শুরু করে ষাটোর্ধ্ব নারীও রয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের আইনজীবী এবং ম্যাসাচুসেটস আইনি অ্যাডভোকেসি গ্রুপ জাস্টিস ল কোলাবোরেটিভের অংশীদার পলা ব্লিস শুক্রবার বলেছেন, এই অভিযোগ ‘যেসব রোগীদের যৌন নির্যাতন করা হয়েছিল এবং যারা এই তথাকথিত চিকিৎসকের নিন্দনীয় আচরণের সত্যকে তুলে ধরতে এগিয়ে এসেছেন, এটি তাদের জন্য একটি দুর্দান্ত মুহূর্ত।’
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে প্যারাবনে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: গ্রেপ্তার ৩
৪১৩ দিন আগে
ভানুয়াতুর জনবহুল দ্বীপে ফ্লুর প্রাদুর্ভাব ঘোষণা
ভানুয়াতুর রাজধানী পোর্ট ভিলার একটি হাসপাতালে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার পর দেশটির সবচেয়ে জনবহুল দ্বীপ ইফাতে ফ্লুর প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করেছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
শনিবার(১৮ জানুয়ারি) ডেইলি পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সর্বশেষ নজরদারিতে ৩৬০ জন নিশ্চিত ফ্লু রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এর ফলে ইফা দ্বীপে ফ্লুর প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জনসাধারণকে নিয়মিত হাত ধোয়া, কাশি বা হাঁচি দেওয়ার সময় মুখ ও নাক ঢেকে রাখা এবং জনসমাগমস্থলে গেলে মাস্ক পরাসহ উন্নত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
জনগণকে জনবহুল স্থানে চলাচল সীমিত করতে এবং প্রতিবন্ধী, শিশু ও বয়স্কদের প্রতি অতিরিক্ত যত্ন নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জ্বর, কাশি, গলা ব্যথা ও শরীর ব্যথার মতো উপসর্গ সম্পর্কেও সচেতন থাকার কথা মনে করিয়ে দেওয়া হয় ওই নির্দেশনায়। একই সঙ্গে যাদের এই ধরনের লক্ষণ রয়েছে, তাদের নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা সহায়তা নিতে উৎসাহিত করছে দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়।
আরও পড়ুন: ভিয়েতনামে বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে মরছে চিড়িয়াখানার বাঘ
৪১৩ দিন আগে