বিজ্ঞান-ও-প্রযুক্তি
অ্যাপলের সিইও পদ থেকে সরে যাচ্ছেন টিম কুক, স্থলাভিষিক্ত হচ্ছে জন টার্নাস
আইফোন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন টিম কুক। এর মাধ্যমে তার ১৫ বছরের বর্ণাঢ্য রাজত্বের অবসান হতে যাচ্ছে। কুকের নেতৃত্বে আইফোন-নির্ভর সমৃদ্ধির এই যুগে কোম্পানিটির বাজারমূল্য ৩ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন (৩ লাখ ৬০ হাজার কোটি) ডলারেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
৬৫ বছর বয়সী কুক আগামী ১ সেপ্টেম্বর সিইওর দায়িত্ব অ্যাপলের হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং প্রধান জন টার্নাসের হাতে তুলে দেবেন। তবে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার কিউপারটিনোভিত্তিক কোম্পানিটির সঙ্গে এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান (কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান) হিসেবে যুক্ত থাকবেন। এটি অনেকটা অ্যামাজনের জেফ বেজোস এবং নেটফ্লিক্সের রিড হেস্টিংসের সিইও পদ ছাড়ার প্রক্রিয়ার মতোই, যারা অত্যন্ত সফল ক্যারিয়ার শেষে একই ধরনের পদে আসীন হয়েছিলেন।
এদিকে, কুককে তার নতুন দায়িত্ব গ্রহণের সুযোগ করে দিতে অ্যাপলের নন-এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন আর্থার লেভিনসন, তবে তিনি পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে থাকবেন।
এক বিবৃতিতে কুক বলেন, ‘অ্যাপলের সিইও হওয়া এবং এমন অসাধারণ কোম্পানিকে নেতৃত্ব দিতে পারা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সৌভাগ্যের বিষয়। আমি আমার অস্তিত্ব দিয়ে অ্যাপলকে ভালোবাসি। এমন এক মেধাবী, উদ্ভাবনী, সৃজনশীল ও যত্নশীল দলের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়ে আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।’
৫০ বছর বয়সী টার্নাস গত ২৫ বছর ধরে অ্যাপলের সঙ্গে আছেন। গত পাঁচ বছর ধরে তিনি আইফোন, আইপ্যাড এবং ম্যাকের প্রকৌশল বিভাগের তদারকি করছেন। এই অভিজ্ঞতাই তাকে টিম কুকের উত্তরসূরি হওয়ার দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে রেখেছে।
এক বিবৃতিতে টার্নাস বলেন, ‘অ্যাপলের লক্ষ্যকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার এই সুযোগ পেয়ে আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।’
৩০ এপ্রিল অ্যাপলের চলতি বছরের প্রথম তিন মাসের আর্থিক ফলাফল প্রকাশের দিন কুক ও টার্নাস এই নেতৃত্ব পরিবর্তন নিয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য দিতে পারেন।
অ্যাপলের জন্য এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নতুন সিইওর হাতে দায়িত্ব যাচ্ছে। ২০০৭ সালে স্টিভ জবস প্রথম আইফোন আনার পর বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি শিল্পে সবচেয়ে বড় আলোড়ন তৈরি করেছে। অ্যাপল এআই প্রযুক্তিতে কিছুটা ধীরগতিতে শুরু করেছে এবং প্রায় দুই বছর আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এআই-নির্ভর নতুন ফিচার যুক্ত করার ক্ষেত্রে হোঁচট খেয়েছে। এই বছরের শুরুর দিকে অ্যাপল শেষ পর্যন্ত এআই দৌড়ে এগিয়ে থাকা গুগলের সাহায্য নেয় যাতে আইফোনের ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট ‘সিরি’-কে আরও উন্নত ও বহুমুখী করে তোলা যায়।
ওয়েডবুশ সিকিউরিটিজের বিশ্লেষক ড্যান আইভস বলেন, কুক অ্যাপলে এক বিশাল উত্তরাধিকার তৈরি করেছেন, তবে এআই কৌশল এখন মূল ফোকাস হওয়ায় টার্নাসের হাতে মশাল তুলে দেওয়ার এটাই উপযুক্ত সময় ছিল।
অনেকের ধারণা ছিল, কুকের মধ্যে স্টিভ জবসের মতো দূরদর্শী চিন্তার অভাব রয়েছে। কিন্তু কুক আইফোনের জনপ্রিয়তা এবং তার পূর্বসূরির রেখে যাওয়া উদ্ভাবনগুলোকে কাজে লাগিয়ে অ্যাপলকে এমন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন যা ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে দেউলিয়া হওয়ার পথে থাকা কোম্পানিটির জন্য অকল্পনীয় ছিল। কুক দায়িত্ব নেওয়ার কিছুকাল পরেই অ্যাপল বিশ্বের প্রথম ১ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের পাবলিক কোম্পানি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। পরে প্রথম ২ ট্রিলিয়ন এবং ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলকও স্পর্শ করে তারা।
তবে এআই প্রযুক্তিতে অ্যাপলের মন্থর গতির সুযোগে চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া বাজিমাত করে। এআই প্রযুক্তির প্রয়োজনীয় প্রসেসরের আকাশচুম্বী চাহিদার ওপর ভর করে এনভিডিয়া প্রথম কোম্পানি হিসেবে ৪ ট্রিলিয়ন ও পরে ৫ ট্রিলিয়ন ডলার বাজারমূল্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়। অ্যাপল বর্তমানে ৪ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের কোম্পানি। ২০১১ সালের আগস্টে যখন টিম কুক দায়িত্ব নেন, তখন এর মূল্য ছিল মাত্র ৩৫০ বিলিয়ন ডলার।
ফরেস্টার রিসার্চের বিশ্লেষক দীপঞ্জন চ্যাটার্জি বলেন, স্টিভ জবসের উত্তরসূরি হওয়া সহজ কাজ ছিল না, তবুও টিম কুক জবসের রেখে যাওয়া ভিত্তিকে একটি টেকসই ও শক্তিশালী আর্থিক শক্তিকেন্দ্রে রূপান্তর করেছেন।
মৃত্যুর আগে স্টিভ জবস নিজেই কুককে উত্তরসূরি হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। ১৯৯৮ সালে সাপ্লাই চেইন তদারকির জন্য কুককে নিয়োগ দিয়েছিলেন জবস। উত্তরসূরিকে সবসময় নিজের ছায়ার সঙ্গে তুলনা করা হবে জেনে জবস কুককে উপদেশ দিয়েছিলেন— সবসময় নিজের সহজাত প্রবৃত্তি অনুযায়ী চলতে এবং কখনোই ভাববেন না যে স্টিভ হলে কী করতেন?
আলাবামার বাসিন্দা কুক এর আগে কমপ্যাক কম্পিউটার এবং অ্যাপলের তৎকালীন প্রতিদ্বন্দ্বী আইবিএময়ে কাজ করেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থাকে দক্ষ করে তোলেন এবং চীনের সস্তা শ্রম ও কারখানার কার্যকারিতাকে কাজে লাগান। কুক যখন সিইও হন তখন অ্যাপলের বার্ষিক আয় ছিল ১০৮ বিলিয়ন ডলার, যা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১৬ বিলিয়ন ডলারে।
তবে সমালোচকদের মতে, অ্যাপলের সেরা পণ্যগুলোর বেশিরভাগই জবসের আমলে পরিকল্পনা করা। চ্যাটার্জি বলেন, কুক অ্যাপলের প্রবৃদ্ধির ধারা সচল রাখলেও আইফোনের মতো এমন কোনো যুগান্তকারী উদ্ভাবন আনেননি যা আগামী দুই দশকের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান বদলে দেবে।
কোম্পানিটি অ্যাপল ওয়াচ, এয়ারপড এবং ভিশন প্রো হেডসেট আনলেও সেগুলো জবসের উদ্ভাবনগুলোর মতো বিশ্ব কাঁপানো ছিল না। অন্যদিকে অ্যাপলের নিজস্ব চালকবিহীন গাড়ি তৈরির প্রকল্পটিও আলোর মুখ দেখেনি।
বিদেশের ওপর উৎপাদন নির্ভরতার কারণে কুককে রাজনৈতিক কূটনীতিতেও দক্ষ হতে হয়েছে, বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন চীনের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধে লিপ্ত ছিলেন। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে আইফোনসহ অন্যান্য পণ্যকে শুল্কমুক্ত রাখতে রাজি করালেও বর্তমানে তাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে। আইফোন উৎপাদন চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নেওয়ার চাপে পড়ে কুক বর্তমানে ভারতেও উৎপাদন বৃদ্ধি করেছেন। এছাড়া ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রে ৬০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি আইফোনের ওপর শুল্কের বোঝা কমানোর চেষ্টা করছেন।
১২ দিন আগে
দাম অপরিবর্তিত রেখে ইন্টারনেট প্যাকেজে বিটিসিএলের চমক
গ্রাহকদের জন্য উন্নত ও ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইন্টারনেট প্যাকেজের মাসিক মূল্য সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত রেখে বিটিসিএলের বিদ্যমান সকল ইন্টারনেট প্যাকেজের গতি তিন গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহম্মদ জসীম উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, নতুন এই উদ্যোগের ফলে গ্রাহকরা একই খরচে আগের তুলনায় অনেক বেশি দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা উপভোগ করতে পারবেন, যা অনলাইন শিক্ষা, অফিসিয়াল কাজ, ভিডিও স্ট্রিমিং, গেমিং এবং স্মার্ট সেবা ব্যবহারে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
হালনাগাদ প্যাকেজের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
· ৩৯৯ টাকায় ৫ এমবিপিএস সুলভ-৫ প্যাকেজ এখন ২০ এমবিপিএস সাশ্রয়ী-২০
· ৫০০ টাকায় ১২ এমবিপিএস সুলভ-১২ প্যাকেজ এখন ২৫ এমবিপিএস সাশ্রয়ী-২৫
· ৫০০ টাকায় ১৫ এমবিপিএস ক্যাম্পাস-১৫ প্যাকেজ এখন ৫০ এমবিপিএস ক্যাম্পাস-৫০
· ৮০০ টাকায় ১৫ এমবিপিএস সুলভ-১৫ প্যাকেজ এখন ৫০ এমবিপিএস সাশ্রয়ী-৫০
· ১০৫০ টাকায় ২০ এমবিপিএস সুলভ-২০ প্যাকেজ এখন ১০০ এমবিপিএস সাশ্রয়ী-১০০
· ১১৫০ টাকায় ২৫ এমবিপিএস সুলভ-২৫ প্যাকেজ এখন ১২০ এমবিপিএস সাশ্রয়ী-১২০
· ১৩০০ টাকায় ৩০ এমবিপিএস সুলভ-৩০ প্যাকেজ এখন ১৩০ এমবিপিএস সাশ্রয়ী-১৩০
· ১৫০০ টাকায় ৪০ এমবিপিএস সুলভ-৪০ প্যাকেজ এখন ১৫০ এমবিপিএস সাশ্রয়ী-১৫০
· ১৭০০ টাকায় ৫০ এমবিপিএস সুলভ-৫০ প্যাকেজ এখন ১৭০ এমবিপিএস সাশ্রয়ী-১৭০
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিটিসিএল বিশ্বাস করে এই উদ্যোগ গ্রাহকদের জন্য আরও নির্ভরযোগ্য, দ্রুত এবং মানসম্মত ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করবে এবং দেশের ডিজিটাল রূপান্তরকে আরও এগিয়ে নেবে।
গ্রাহকদের সন্তুষ্টি ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করাই বিটিসিএল এর প্রধান লক্ষ্য এবং ভবিষ্যতেও গ্রাহকবান্ধব উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি গ্রাহকদের অব্যহত আস্থা ও সহযোগিতার জন্য বিটিসিএল কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
১১২ দিন আগে
এক এনআইডি দিয়ে সর্বাধিক পাঁচটি সিম নিবন্ধনের খবর ভুয়া
সম্প্রতি কিছু গণমাধ্যমে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে একটি জাতীয় পরিচপত্র (এনআইডি) দিয়ে পাঁচটির বেশি সিম নিবন্ধন করা যাবে না বলে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা সঠিক নয় বলে জানিয়েছে বাংলাদেশে মোবাইল টেলিকম অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটব।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানিয়েছে, একটি এনআইডির বিপরীতে সিম নিবন্ধনের সংখ্যা ৫টিতে কমানোর তথ্য সঠিক নয় ও বিভ্রান্তিমূলক। এ ধরনের ভুল তথ্য গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।
বিজ্ঞপ্তিতে অ্যামটব জানিয়েছে, আমরা মনে করি, গ্রাহক পর্যায়ে মোবাইলের অপব্যবহার, জালিয়াতি বা অপরাধ রোধে শুধু সিম সংখ্যা সীমিত করাই কার্যকর উপায় নয়। বরং যথাযথভাবে গ্রাহক পরিচিতি যাচাইকরণ, তাৎক্ষণিক (রিয়েল-টাইম) নজরদারি, তথ্য বিশ্লেষণ এবং উন্নত জালিয়াতি শনাক্তকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা অনেক বেশি কার্যকর।
বৈধ ব্যবহারকারী ও প্রতিষ্ঠানের ওপর বাড়তি বিধিনিষেধ আরোপ করলে উল্টো তারা অনানুষ্ঠানিক বা অনিয়ন্ত্রিত চ্যানেলের দিকে ঝুঁকতে পারেন যা নিরাপত্তার ঝুঁকি বৃদ্ধি করতে পারে বলে বিজ্ঞপ্তিতে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, টেলিযোগাযোগ খাত গ্রাহকের অধিকার ও পছন্দের স্বাধীনতা রক্ষার পাশাপাশি ব্যক্তি, উদ্যোক্তা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবার অগ্রযাত্রায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশের টেকসই ডিজিটাল ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য শিল্পটি নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে যেন এ সংক্রান্ত নীতিগুলো নিরাপত্তা, প্রবেশাধিকার, উদ্ভাবন এবং গ্রাহক অধিকারের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করতে পারে।
১২৪ দিন আগে
প্রাণিসম্পদ গবেষণায় নতুন যুগ: বাকৃবিতে অত্যাধুনিক জৈবপ্রযুক্তি ল্যাব চালু
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) প্রাণিসম্পদ গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে ইন ভিট্রো ভ্রূণ উৎপাদন, ভ্রূণ কালচার এবং জেনোম এডিটিং সুবিধাসম্পন্ন একটি বিশেষায়িত ও অত্যাধুনিক গবেষণাগার। উচ্চমাত্রার জৈব-নিরাপত্তা নিশ্চিত করে গড়ে তোলা এই গবেষণাগারটি দেশে প্রথম, যেখানে ইন ভিট্রো কালচার ও জেনোম এডিটিং প্রযুক্তি সমন্বিতভাবে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।
রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া প্রধান অতিথি হিসেবে গবেষণাগারটির উদ্বোধন করেন।
বাকৃবির পশু প্রজনন ও কৌলিবিজ্ঞান বিভাগের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও ধারাবাহিক গবেষণা উদ্যোগের অংশ হিসেবে ল্যাবটি স্থাপন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় এবং কেজিএফ, বিএএস-ইউএসডিএ ও এটিএফ-হিট প্রকল্পের আর্থিক সহায়তায় আন্তর্জাতিক মান ও জৈব-নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুসরণ করে গবেষণাগারটির অবকাঠামো ও গবেষণা সুবিধা গড়ে তোলা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, আধুনিক জৈবপ্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও গবেষণাকে আরও কার্যকর, গতিশীল ও ফলপ্রসূ করতে এই গবেষণাগারটি একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা অবকাঠামো হিসেবে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। এই ল্যাব থেকে অর্জিত গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও প্রযুক্তি ভবিষ্যতে দেশের প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
১২৬ দিন আগে
টেলিকম খাত পুনর্গঠনে গেজেট প্রকাশ, মধ্যস্বত্বভোগী লাইসেন্স বাতিল
অকার্যকর, টেলিযোগাযোগ সেবাখাত বিকাশের অন্তরায়, আওয়ামী মাফিয়াতান্ত্রিক লাইসেন্স যুগকে বাতিল করতে নতুন টেলিকম লাইসেন্স বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ উদ্দেশ্যে ‘টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক অ্যান্ড লাইসেন্সিং ২০২৫’ পলিসি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে।
এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগের দেওয়া বৈধ ও অবৈধ তিন হাজারের বেশি লাইসেন্স রিভিউয়ের আওতায় আনা যাবে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহম্মদ জসীম উদ্দিসের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন লাইসেন্সগুলোর ফি, রেভিনিউ শেয়ারিংয়ের যে গাইডলাইনটি প্রকাশিত হয়েছে, সেটি খসড়া। এটি অংশীজন ও অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে আরও আলাপ-আলোচনা করে চূড়ান্ত করা হবে। নতুন লাইসেন্স পলিসিতে ইন্টারনেটের দাম বাড়ে—এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।
পুরানো লাইসেন্স ব্যবস্থা অ্যাকসেস টু ইন্টারনেট, অ্যাক্সেস টু ডিভাইস এবং অ্যাক্সেস টু ফাইবার—এই তিন ক্ষেত্রের কোনোটিই নিশ্চিত করতে পারেনি। বাংলাদেশের ঘরে ঘরে, ব্যাবসা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ফাইবার পৌঁছেনি, মোবাইল টাওয়ারে ফাইবার (২২ শতাংশ মাত্র) সেভাবে পৌঁছেনি। যেহেতু ফাইবার নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ হয়নি, তাই ডেটা ব্যবহারের ভলিউম ভারতের তুলনায় মাথাপিছু হিসাবে ৫০ ভাগের ১ ভাগেই রয়ে গেছে।
পুরোনো লাইসেন্স নীতিতে টেলিযোগাযোগ শিল্প এখনো ‘কানেকশন-কেন্দ্রিক’ থেকে গেছে। অথচ বিশ্ব টেলিকম খাত ইতোমধ্যে ডিজিটাল সার্ভিস-ভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হয়েছে। বাংলাদেশের টেলিকম পণ্যের সিংহভাগ এখনো মোবাইল বান্ডেল ও আইএসপি প্যাকেজনির্ভর। কিন্তু দেশে এডটেক, হেলথটেক, এগ্রিটেক, ফিনটেক, লজিস্টিক্স টেকসহ স্টার্টআপভিত্তিক ডিজিটাল সেবা এখনও গড়ে ওঠেনি, যা নতুন নীতির মাধ্যমে উৎসাহিত করা হবে।
আইএসপি, মোবাইল ইন্টারনেট, এনটিটিএন কিংবা আইআইজি—কোনো খাতেই এখনো কোয়ালিটি অব সার্ভিস (QoS)-ভিত্তিক ইন্টারনেট ও ডিজিটাল সেবা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। নিরাপদ ইন্টারনেট (সিকিউর ইন্টারনেট) ধারণাও দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। অধিকাংশ আইএসপি ও মোবাইল অপারেটরের সেবা অনিরাপদ; প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার সিকিউরিটি মডিউল, প্যাম, সাইবার নিরাপত্তা সফটওয়্যার, ফায়ারওয়াল ইত্যাদি সঠিকভাবে ব্যবহার হয়নি। ফলে ব্যবসা অনিরাপদ পদ্ধতিতে এগিয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত্তি সম্প্রসারণে ২৬ ধরনের লাইসেন্স ব্যবস্থা বাতিল করে সহজ ও সমন্বিত (কনভার্জড) লাইসেন্স চালুর বিকল্প নেই বলে জানায় মন্ত্রণালয়। তবে দেশীয় বাস্তবতা ও একচেটিয়া প্রবণতার ঝুঁকি বিবেচনায় ‘সবাই সবকিছু করতে পারবে’—এমন পূর্ণাঙ্গ একীভূতকরণে না গিয়ে ৪ স্তরের লাইসেন্স কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে একদিকে প্রতিযোগিতা বাড়বে, অন্যদিকে প্রতিটি স্তরের কার্যপরিধি আরও সম্প্রসারিত হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ৭ স্তরের লাইসেন্স ব্যবস্থা রেখে তার ৬ স্তর একক কোনো প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার মতো দুর্বৃত্তায়ন থেকে টেলিকম খাতকে রক্ষা করতেই নতুন লাইসেন্স নীতি অপরিহার্য ছিল। নতুন নীতিতে লাইসেন্সিংয়ের স্তরায়ন কমিয়ে আনা হবে, যাতে মধ্যস্বত্বভোগী কমে এবং প্রতিযোগিতামূলক সেবা নিশ্চিত হয়। এতে সরকারের রাজস্ব কমানো ছাড়াই গ্রাহকদের কাছে সুলভ মূল্যে সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
আগের লাইসেন্স কাঠামোতে কয়েক কোটি টাকা বিনিয়োগ করেই টোল সংগ্রহের সুযোগ ছিল। ফলে কিছু প্রতিষ্ঠান রেন্ট-সিকিং প্রবণতায় জড়িয়ে পড়ে—যেখানে ৯০ শতাংশ রেভিনিউ শেয়ারিং দিলেও তাদের ক্ষতির আশঙ্কা ছিল না, কিন্তু ৪৫-৫০ শতাংশ রেভেনিউ শেয়ার করে শত শত কোটি টাকা মুনাফা তুলে নেওয়া হয়েছে। নতুন নীতিতে এ ধরনের মধ্যস্বত্বভোগী লাইসেন্স সম্পূর্ণরূপে বাতিল করা হয়েছে।
একদিকে শুল্ক কাঠামো সহনীয় রাখায় রাজস্ব সংগ্রহে চ্যালেঞ্জ রয়েছে, অন্যদিকে অতিরিক্ত স্তরযুক্ত মধ্যস্বত্বভোগী কাঠামো অপসারণ করা না গেলে ইন্টারনেটের দাম প্রত্যাশিতভাবে কমানো সম্ভব নয়। তবে নতুন QoS প্রতিবেদনে ইন্টারনেটের গতি ও মান বৃদ্ধির প্রমাণ মিলেছে।
নতুন নীতিতে বিদ্যমান বিনিয়োগকারীদের নতুন লাইসেন্স দেওয়া হবে, যাতে তারা নতুন বিনিয়োগসহ ব্যবসা অব্যাহত রাখতে পারেন। এ ছাড়া আইজিডব্লিউ ও আইসিএক্স লাইসেন্সগুলোর আবেদন কার্যত শেষ হয়ে এসেছে এবং সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির জীবনচক্রও প্রায় শেষ। তাই এসব ক্ষেত্রে নতুন বিনিয়োগ না করে উদীয়মান প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করাই যৌক্তিক বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
নতুন নীতিতে এনটিটিএনদের ৩৫ শতাংশ, আইসিএসপিদের ৫১ শতাংশ এবং এমএনওদের ১৫ শতাংশ শেয়ার—জয়েন্ট ভেঞ্চার, শেয়ার হস্তান্তর বা অন্য কোনো পদ্ধতিতে—দেশীয় উদ্যোক্তাদের অনুকূলে ছাড়তে হবে। পাশাপাশি দেশীয় উদ্যোক্তারা চাইলে ১০০ শতাংশ মালিকানায় ব্যবসা পরিচালনা করার সুযোগও পাবেন।
এ ছাড়া প্রাইভেট ৫জি ও এমভিএনও ব্যবসা পুরোপুরি উন্মুক্ত করা হয়েছে, যেখানে দেশীয় উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগের সুযোগ পাবেন।
সার্বিকভাবে, নতুন নীতিতে কোনো প্রযুক্তিগত বাধা রাখা হয়নি। ফলে অনুপযুক্ত খাতে অকার্যকর বিনিয়োগের পরিবর্তে নতুন ধারার টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তি ও নতুন ডিজিটাল সেবা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়।
১৬২ দিন আগে
অনলাইন জুয়ায় জড়িতদের মোবাইল ইন্টারনেট সীমিত করার চিন্তায় সরকার
অনলাইন জুয়ায় জড়িত প্রায় ৫ হাজার এমএফএস (মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস) হিসাব ইতোমধ্যে বন্ধ করা হয়েছে জানিয়ে সভায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেছেন, যারা অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত, তাদের ফোন নম্বরের ইন্টারনেট গতি সীমিত করার বিষয়টিও বিবেচনাধীন রয়েছে।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সভাকক্ষে ‘অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক এক সভায় তিনি এ কথা জানান।
সভাপতির বক্তব্যে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, অনলাইন জুয়া বন্ধে বিটিআরসি থেকে ইতোমধ্যে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে মেইল প্রেরণ শুরু হয়েছে এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
তিনি জানান, মিডিয়া হাউজগুলো কীভাবে তাদের ওয়েব ব্রাউজার ও অ্যাডসেন্স সেটআপ করবে, সে বিষয়ে একটি নির্দেশিকা তৈরি করা হয়েছে, যা বর্তমানে তথ্য মন্ত্রণালয়ে ভেটিং প্রক্রিয়ার অধীনে রয়েছে। ভেটিং শেষে তা সংশ্লিষ্ট সকল মিডিয়াকে সরবরাহ করা হবে। পাশাপাশি ডিজিটাল বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত গাইডলাইনও তথ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে, যা অনুমোদনের পর সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হবে।
এ সময় বিশেষ সহকারী জানান, অনলাইন জুয়ায় জড়িত প্রায় ৫ হাজার এমএফএস হিসাব ইতোমধ্যে বন্ধ করা হয়েছে। সরকার এখন একটি কমন ডেটাবেজ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, প্ল্যাটফর্ম ও অপারেটরদের সমন্বয়ে তথ্য সংরক্ষণ ও নজরদারি করা হবে।
তিনি বলেন, ‘যারা অনলাইন বেটিংয়ে (জুয়া) জড়িত, তাদের ফোন নম্বরের ইন্টারনেট গতি সীমিত করার বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে। এ ছাড়া সিম ও এমএফএসের ইকেওয়াইসি সমন্বয়ে দ্রুততম সময়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।’
১৭৯ দিন আগে
অনিবন্ধিত মোবাইল হ্যান্ডসেট বন্ধে ১৬ ডিসেম্বর চালু হচ্ছে এনইআইআর
টেলিযোগাযোগ খাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশে অবৈধ মোবাইল হ্যান্ডসেটের ব্যবহার রোধ করতে আগামী ১৬ ডিসেম্বর চালু করা হচ্ছে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) সিস্টেম। এর ফলে দেশের নেটওয়ার্কে নিবন্ধনহীন বা আনঅফিশিয়াল মোবাইল সেটের ব্যবহার বন্ধ হবে।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর বিটিআরসি ভবনের বোর্ডরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
ফয়েজ আহমদ বলেন, এনইআইআর চালুর ফলে প্রতিটি মোবাইল ডিভাইস এমএফএস অনুযায়ী নিবন্ধিত থাকবে। কোনো অবৈধ মোবাইল সেট ব্যবহার করে একাধিক সিম চালানো সম্ভব হবে না। এতে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে সংগঠিত সিম ক্লোনিং, ভুয়া অ্যাকাউন্ট ও লেনদেনে জালিয়াতি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
তিনি আরো বলেন, ইকেওয়াইসি যাচাই প্রক্রিয়া শক্তিশালী করার জন্য প্রত্যেকটি আইএমইআই নির্দিষ্ট জাতীয় পরিচয়পত্র ও সিমের সঙ্গে যুক্ত থাকবে ফলে ইকেওয়াইসি সিস্টেমে ভুয়া বা একাধিক নিবন্ধন করা সম্ভব হবে না।
এটি আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করবে জানিয়ে তিনি বলেন, সিম প্রতারণা ও স্ক্যাম প্রতিরোধে জন্য চুরি বা হারানো ফোনের আইএমইআই ব্লক করে দিলে সেই ফোনে কোনো নতুন সিম ব্যবহার করা যাবে না। ফলে প্রতারকরা হারানো ফোন ব্যবহার করে আর স্ক্যাম বা ওটিপি জালিয়াতি করতে পারবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
টেলিকম সেক্টরে নিরাপত্তা ও রাজস্ব সুরক্ষা বিষয়ে বিশেষ সহকারী বলেন, এনইআইআর ব্যবস্থা চালু হলে অবৈধভাবে আমদানিকৃত বা নকল মোবাইল সেট ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হবে। এর ফলে সরকার প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ রাজত্ব ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবে এবং দেশে মোবাইল উৎপাদন শিল্প আরো সুরক্ষিত হবে।
তিনি আরও বলেন, আগামী ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশের টেলিকম খাত একটি নতুন, নিরাপদ ও স্বচ্ছ যুগে প্রবেশ করবে। তিনি এই উদ্যোগ সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করতে এবং বৈধ হ্যান্ডসেট ব্যবহার করতে উৎসাহিত করার জন্য উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন অপারেটরের কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারীসহ অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
১৮৫ দিন আগে
ফোরজির সর্বনিম্ন গতি হবে ১০ এমবিপিএস, সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর
বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ সেবার মান নিম্নমানের হওয়ায় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে একটি নতুন কোয়ালিটি অব সার্ভিস বেঞ্চমার্ক তৈরি করা হয়েছে। গত সপ্তাহের বিটিআরসি কমিশন মিটিংয়ে মোবাইল অপারেটর, এনটিটিএন এবং আইএসপি সেবাদাতাদের জন্য এটি পাস হয়।
নতুন এই কোয়ালিটি অব সার্ভিস (কিউওএস) নীতিমালায় ফোরজির সর্বনিম্ন গতি ১০ এমবিপিএস নির্ধারণ করা হয়েছে। তদারকি বাড়াতে বিটিআরসি প্রতি মাসে আগের মাসের নেটওয়ার্ক পারফরম্যান্স এবং হেলথ চেক করবে, যা সেপ্টেম্বর থেকেই কার্যকর হবে।
রোববার (৩১ আগস্ট) ফেসবুক পোস্টে এ কথা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি-বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
তিনি লিখেছেন, বাংলাদেশে এই চর্চাটা নতুন। টেলিকম সেবার মান নিশ্চিত করতে কোয়ালিটি অব সার্ভিস (কিউওএস) নীতিমালা একটা আন্তর্জাতিক চর্চা। এতে ড্রাইভ টেস্ট মানদণ্ডে অপারেটরদের ফোরজি সেবার সর্বনিম্ন গতি ১০ এমবিপিএস থাকতে হবে। কমানো হয়েছে কলড্রপের সর্বনিম্ন হার। এ ছাড়া বাড়ানো হয়েছে সেবার বিভিন্ন মানদণ্ড সূচক। এসব মানদণ্ডে অপারেটরদের বাধ্যতামূলকভাবে মাসিক প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।
তার মতে, আগের কোয়ালিটি অব সার্ভিস বেঞ্চমার্ক খুব বাজে ছিল, যা সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত করা হয়েছে। শিগগির হালনাগাদ এ নির্দেশিকা জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
তিনি আরও লিখেছেন, বাংলাদেশের সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ফোরজিতে কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ করেনি। ফলে সেবার মান নিম্নমুখী। এর উত্তরণে নতুন লাইসেন্স পলিসিতেও ‘লাইসেন্স অব্লিগেশন’ এবং কোয়ালিটি অব সার্ভিসের কথা বলা হয়েছে। এই কোয়ালিটি অব সার্ভিস (কিউওএস) বেঞ্চমার্ক টেলিযোগাযোগ খাতে নাগরিকদের মানসম্মত সেবা নিশ্চিতে সেবাদাতাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে সেবার মানোন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
আরও পড়ুন: স্টারলিংকের ইন্টারনেট নিয়ে আপনার যা জানা প্রয়োজন
সংশোধিত কিউওএসে কী আছে, তা উল্লেখ করে ফয়েজ আহমদ লিখেছেন, নেটওয়ার্ক পর্যায়ে কল সেটআপ সাকসেস রেটের হার অন্তত ৯৯ শতাংশ হতে হবে, আর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তা ৯৮ শতাংশ।
- কলড্রপের হার টুজি নেটওয়ার্কে সর্বোচ্চ ১ শতাংশ এবং উপজেলা পর্যায়ে ১ দশমিক ৫ শতাংশ -এর মধ্যে সীমিত রাখতে হবে।
- ডেটা সেবায় ফোরজি সংযোগ সফলতার হার ৯৯ শতাংশ এবং জেলা পর্যায়ে ৯৮ দশমিক ৫ শতাংশ থাকতে হবে।
- গড় ব্যবহারকারী ডাউনলোড গতি নেটওয়ার্ক পর্যায়ে কমপক্ষে ৩ দশমিক ৫ এমবিপিএস এবং জেলা পর্যায়ে ২ দশমিক ৫ এমবিপিএস হতে হবে।
- ড্রাইভ টেস্টে ভয়েস সেবায় কল সেটআপ সাফল্যের হার ৯৮ শতাংশ বা তার বেশি, কলড্রপ (অটোমোড) ২ শতাংশের মধ্যে এবং ভোল্টির (ভয়েস ওভার এলটিই প্রযুক্তি) জন্য গড় ব্যবহারকারী মান সূচক ন্যূনতম ৩.৫ হতে হবে।
- ডেটা সেবায় ডাউনলোড স্পিড সর্বনিম্ন ১০ এমবিপিএস এবং আপলোড ২ এমবিপিএস নির্ধারণ করা হয়েছে।
সেবার মান তদারকিতে মাসিক রিপোর্টিং
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী অপারেটরদের এখন থেকে প্রতি মাসে তাদের নেটওয়ার্কের মানসংক্রান্ত মূল সূচক (কেপিআই) জমা দিতে হবে। এসব সূচক মূলত তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে—অ্যাক্সেসিবিলিটি, রিটেইনেবিলিটি ও নেটওয়ার্ক ইনটিগ্রিটি।
১. অ্যাক্সেসিবিলিটি (নেটওয়ার্কে প্রবেশ ও কল সেটআপ)
এই সূচকগুলোর মাধ্যমে বোঝা যাবে গ্রাহকেরা কতটা সফলভাবে নেটওয়ার্কে প্রবেশ করতে পারছেন এবং কল সেটআপ হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে কল সেটআপ সাকসেস রেট (টুজি ও ফোরজি-ভোল্টি), পেজিং সাকসেস রেট, আর ইআরএবি সেটআপ সাকসেস রেট। এ ছাড়া, যেখানে এই হার ৯০ শতাংশ বা ৭০ শতাংশের নিচে নেমে আসে, সেই সব খারাপ সেল আলাদা করে চিহ্নিত করতে হবে।
২. রিটেইনেবিলিটি (সংযোগ ধরে রাখার সক্ষমতা)
এই সূচকগুলোতে দেখা হবে কল বা ডেটা সেশন শুরু হওয়ার পর তা কতটা স্থিতিশীল থাকে। এর মধ্যে রয়েছে কলড্রপ রেট (২জি ও ৪ জি), ভোল্টি অস্বাভাবিক বিচ্ছিন্নতার হার, এলটিই নন-রিটেইনেবিলিটি, এসআরভিসিসি সাকসেস রেট এবং হ্যান্ডওভার সাকসেস রেট।
৩. নেটওয়ার্ক ইনটিগ্রিটি (নেটওয়ার্কের সার্বিক দক্ষতা-ক্ষমতা)
এখানে নেটওয়ার্ক অবকাঠামো কতটা কার্যকরভাবে কাজ করছে, তা দেখা হবে। এর মধ্যে রয়েছে প্রতি বেস স্টেশনে এলটিই পিআরবি (ফোরজি রেডিও নেটওয়ার্ক রিসোর্স) ব্যবহার হার, ব্যবহারকারীর আপলিঙ্ক থ্রুপুট (এমবিপিএস) এবং সিকিউআই/আরএসআরকিউ মান অনুযায়ী ‘খারাপ স্যাম্পল’-এর শতকরা হার।
বিটিআরসি সব সূচকের ফলাফল মাসভিত্তিক গড় করে নেটওয়ার্ক, জেলা ও উপজেলা স্তরে আলাদা আলাদাভাবে জমা নেবে। পাশাপাশি, সবচেয়ে খারাপ পারফর্ম করা ৫০টি সেলের আলাদা তালিকা জমা দিতে হবে, যেখানে অ্যাক্সেসিবিলিটি ও রিটেইনেবিলিটি সূচক দুর্বল।
আরও পড়ুন: জুলাই থেকে ইন্টারনেটের দাম ২০ শতাংশ কমবে
বিশেষ সহকারীর মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে অপারেটরদের সেবার মান নিয়ে আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে দুর্বল এলাকাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে। বাধ্যতামূলক মাসিক রিপোর্টিংয়ের ফলে অপারেটরদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে সেবার মান বজায় রাখতে, বিশেষ করে গ্রামীণ ও শহরতলির এলাকায় যেখানে এখনো দুর্বল নেটওয়ার্ক ও ঘনঘন কল ড্রপ নিয়ে অভিযোগ বেশি।
সংশোধিত এই কোয়ালিটি অব সার্ভিস (কিউওএস) ফিক্সড ইন্টারনেট ও টেলিফোনি এবং এনটিটিএনদের জন্য করা হয়েছে। ফিক্সড ইন্টারনেট ও টেলিফোনিতে ফিক্সড টেলিফোন সেবায় কলড্রপ ১ শতাংশের মধ্যে, কল সেটআপ সাফল্যের হার ৯৯ শতাংশের বেশি এবং কল সংযোগ সময়) ৬ সেকেন্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে।
এখানে ইন্টারনেট সেবায় লোকাল ট্র্যাফিকের সংযোগ সময় সর্বোচ্চ ২৫ এমএস, ডেটা হারানোর হার ১ শতাংশের মধ্যে এবং নেটওয়ার্কের প্রাপ্যতা ৯৯ শতাংশ বা তার বেশি হতে হবে। গ্রাহকের প্রান্তে ডাউনলোড-আপলোড স্পিড সাবস্ক্রাইব করা গতির অন্তত ৯৫ শতাংশ নিশ্চিত করতে হবে।
এনটিটিএন অপারেটরদের ক্ষেত্রে ডেটা হারানো সর্বোচ্চ ০.০১ শতাংশ, ল্যাটেন্সি ৫ এমএস এবং সংযোগের জিটার ৩ এমএসের মধ্যে রাখতে হবে। ফাইবার নেটওয়ার্কে সেবার সমস্যা মেট্রো (মহানগর) এলাকায় ৪ ঘণ্টা এবং গ্রামীণ এলাকায় ৬ ঘণ্টার মধ্যে সমাধান করতে হবে।
ফয়েজ আহমদ জানান, কিইওএস অনুযায়ী গ্রাহক অভিযোগ সমাধানে কঠোর মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে বিটিআরসি। নেটওয়ার্ক-সম্পর্কিত নয় এমন অভিযোগ ২৮ দিনের মধ্যে শতভাগ সমাধান করতে হবে। এ ছাড়া গ্রাহকসেবা সেন্টারে আসা ৯০ শতাংশ কল ৪০ সেকেন্ডের মধ্যে এবং সব কল ৯০ সেকেন্ডের মধ্যে রিসিভ করতে হবে।
২৪৫ দিন আগে
সেমিকন্ডাক্টর খাত দেশে কর্মসংস্থানের বড় উৎসে পরিণত হচ্ছে: বিএসআইএ সভাপতি
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে প্রতি বছর কম্পিউটার বিজ্ঞান ও ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে যে বিপুলসংখ্যক স্নাতক বের হচ্ছেন, তাদের জন্য সেমিকন্ডাক্টর শিল্প ক্রমেই একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসংস্থানের উৎসে পরিণত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআইএ) সভাপতি এমএ জব্বার।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা জানান।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের জেষ্ঠ সহ-সভাপতি এমই চৌধুরী শামীম, পরিচালক কামরুল আহসান দেওয়ানজি, মুনির আহমেদ ও আশিকুর রহমান তানিম এবং জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা এনায়েতুর রহমান।
বুধবার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএসআইএ জানিয়েছে, বৈঠকে সংগঠনটির সভাপতি সম্ভাবনাময় এ খাতের বর্তমান অবস্থা, নানা চ্যালেঞ্জ ও তা মোকাবিলায় করণীয় বিষয়ে আলোকপাত করেন।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল স্টারলিংক
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর খাতের পরিধি দাঁড়াবে ১.৩ ট্রিলিয়ন ডলার এবং তখন বিশ্বজুড়ে ১০ লাখ দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজন হবে।
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন সংগঠনটির নেতাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং খাতটির দৃশ্যমান উন্নয়ন ও তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি বাস্তবসম্মত ও সার্বিক পরিকল্পনা প্রণয়নের প্রতি উৎসাহিত করেন।
তিনি বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করতে সরকারের পূর্ণাঙ্গ নীতিগত সহায়তার আশ্বাসও দেন।
২৪৯ দিন আগে
ডিজিটাল খামারি: বাকৃবি গবেষকের অ্যাপে বিনামূল্যে প্রাণিসেবা
দেশের প্রাণিসম্পদ খাত এখনও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। বিশেষ করে রোগ নির্ণয়, সঠিক চিকিৎসা, টিকা প্রয়োগ ও তথ্যের অভাবে খামারিরা প্রায়ই ক্ষতিগ্রস্ত হন। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে প্রাণিসেবায় নতুন প্রযুক্তির বিপ্লব এনেছে ‘ডিজিটাল খামারি’ নামে একটি মোবাইল অ্যাপ। বাংলা ভাষায় নির্মিত এই অ্যাপটি উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) প্যারাসাইটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সহিদুজ্জামান।
অ্যাপটি খামারিদের জন্য সহজবোধ্য ও চিত্রসহ তথ্য দিয়ে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির রোগ সম্পর্কে জানতে সহায়তা করে। এটি একটি সচেতনতামূলক ও শিক্ষামূলক অ্যাপ, যা খামারিদের প্রযুক্তির সহায়তায় নিজের খামারের সমস্যাগুলো দ্রুত চিহ্নিতকরণ ও প্রাথমিকভাবে সমাধানে সক্ষম করে তোলে।
অ্যাপটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর সহজ ভাষা ও চিত্রভিত্তিক ফিচার। যেসব খামারি লেখাপড়ায় দুর্বল তারাও ছবির মাধ্যমে রোগ শনাক্ত করতে পারবেন। এতে গরু, ছাগল, ভেড়া, হাঁস ও মুরগির সাধারণ ও জটিল রোগের লক্ষণ, প্রতিকার ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। প্রতিটি রোগের সাধারণ চিকিৎসা-পরামর্শ ও টিকা-সংক্রান্ত তথ্যও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: দেশীয় প্রযুক্তিতে পরিবেশবান্ধব ছত্রাকনাশক উদ্ভাবনের দাবি বাকৃবি গবেষকদের
অ্যাপটির মাধ্যমে খামারিরা জানতে পারবেন, কোন রোগে কী লক্ষণ দেখা যায়, কোন ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে, টিকা দেওয়ার সঠিক সময় ও স্থানীয় ভেটেরিনারি চিকিৎসকের খোঁজ। এতে প্রাণীর মৃত্যু হার কমবে, চিকিৎসার খরচ বাঁচবে এবং খামারির আর্থিক ক্ষতিও হ্রাস পাবে।
অ্যাপটির নির্মাতা অধ্যাপক সহিদুজ্জামান বলেন, গ্রামাঞ্চলে পশু চিকিৎসকের অভাব প্রকট। অনেক সময় দূরবর্তী হাসপাতাল পর্যন্ত পৌঁছানো সম্ভব হয় না। ডিজিটাল খামারি অ্যাপে স্থানীয় চিকিৎসকের নাম-ঠিকানাসহ যোগাযোগের তথ্যও রয়েছে যা খামারিদের জন্য একটি বড় সুবিধা। খামারিরা এখন অ্যাপে জানতে পারেন, গরুর ওলান ফোলা কেন হয়, কৃমিজনিত রোগের লক্ষণ কী কিংবা ল্যাম্পি স্কিনসহ বিভিন্ন রোগ হলে করণীয় কী।
গুগল প্লে স্টোর থেকে ‘Digital Khamari’ নামের অ্যাপটি বিনামূল্যে ডাউনলোড করা যাবে। এরপর ইন্টারনেট ছাড়াই তা ব্যবহার করা যাবে। এতে আরও যুক্ত করা হয়েছে সচেতনতামূলক কনটেন্ট, রোগভিত্তিক চিকিৎসা নির্দেশনা এবং খামার ব্যবস্থাপনায় সহায়ক তথ্য।
অধ্যাপক সহিদুজ্জামান আরও জানান, অ্যাপটিতে ভবিষ্যতে লাইভ চ্যাট সাপোর্ট, ভিডিও টিউটোরিয়াল, আরও রোগভিত্তিক তথ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় এবং প্রতিদিনের খামার ব্যবস্থাপনার ক্যালেন্ডার ফিচার যুক্ত করারও পরিকল্পনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: কোরবানির পশু নিয়ে বাকৃবি গবেষকের পরামর্শ
তিনি বলেন, ব্যবহারকারীদের মতামতের ভিত্তিতে অ্যাপটি নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে যাতে এটি আরও ব্যবহারবান্ধব ও কার্যকর হয়।
বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের অর্থায়নে তৈরি এই অ্যাপ প্রাণিসেবা খাতে প্রযুক্তির সফল প্রয়োগ এবং গ্রামীণ উন্নয়নের বাস্তব উদাহরণ। এটি শুধু তথ্য নয়, একটি আত্মনির্ভর খামারি তৈরির সহায়ক হাতিয়ার। সরকারের সহায়তা ও বেসরকারি অংশীদারত্বে এমন উদ্যোগ ছড়িয়ে পড়লে তা খাদ্য-নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং পুষ্টি উন্নয়নে বিশাল ভূমিকা রাখতে পারবে। কারণ, একটি সুস্থ প্রাণী শুধু একটি পরিবারের নয়, জাতিরও সম্পদ।
২৬৩ দিন আগে