বিনোদন
ইতালিতে আ. লীগ সমর্থকদের হাতে হেনস্তা ও হামলার শিকার বাঁধন
ইতালির ভেনিসে স্থানীয় একটি পার্কে ভাই ও তার পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে একদল মানুষের হেনস্তা ও শারীরিক লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে ফেসবুকে প্রকাশ করা এক ভিডিওতে বাঁধন ঘটনার বর্ণনা দেন।
আরেকটি ভিডিওতে একদল মানুষকে অভিনেত্রীর ওপর হামলা করতে এবং তার দিকে ডিম, পানি ও কোকাকোলা ছুড়তে দেখা যায়।
ভিডিওতে হামলাকারীদের বাঁধনকে ‘জুলাই জঙ্গী’ ও ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলতে এবং ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে বলতে শোনা যায়। তারা পুরো ঘটনাটি ভিডিও করছিলেন।
বাঁধন দাবি করেন, ঘটনার সময় তার মোবাইল ফোন ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয় এবং তার কানের কাছে আঘাত করা হয়। এ সময় তার ভাইয়ের স্ত্রীকেও ধাক্কা দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, হামলাকারীরা নিজেদের ভেনিস আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণে তাকে লক্ষ্যবস্তু করেন।
বাঁধন বলেন, ‘আমি অবশ্যই জুলাইযোদ্ধা। জুলাইয়ে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি।’
আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে গিয়ে এ ধরনের আচরণের সমালোচনা করে এই অভিনেত্রী বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
হামলাকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি ভেনিস উৎসবে যে সিনেমাটি নিয়ে এসেছি, সেটির পরিচালক রুবাইয়াত হাসানের বাবা আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ছিলেন। আমি তার সঙ্গে জুলাই আন্দোলনের পরেও কাজ করছি। আপনাদের এ ধরনের অসংলগ্ন আচরণ থেকে বের হয়ে আসা উচিত ছিল। আপনারা এভাবে নিজেদের ফেরাতে পারবেন না।’
তিনি জানান, ঘটনার বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি ইতোমধ্যে ভেনিসের স্থানীয় পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
বাঁধন বলেন, ‘একজন আজমেরী হক বাঁধনকে দমানো এত সহজ হবে না। আপনারা আজ সারা বিশ্বের মানুষকে দেখালেন, বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী একজন অভিনেত্রীকে হেনস্তা করা হলো।’
এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের কোনো রাজনৈতিক দলের অংশ হওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বর্তমানে ভাই ও তার পরিবারের সঙ্গে ভেনিসে অবস্থান করছেন বাঁধন। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ ছবিটির প্রদর্শনী উপলক্ষে তিনি সেখানে রয়েছেন। ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ৮৩তম আসরের প্রতিযোগিতামূলক ‘অরিজন্তি’ বিভাগে ছবিটি প্রদর্শিত হচ্ছে।
৬ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে সালা দারসেনায় ছবিটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্য দিয়ে উৎসবে বাংলাদেশের একটি চলচ্চিত্রের ঐতিহাসিক উপস্থিতি ঘটে।
ছবিটিতে চারটি প্রধান নারী চরিত্রে অভিনয় করেছেন বাঁধন, জাইনিন করিম, রিকিতা নন্দিনী শিমু ও সুনেরাহ বিনতে কামাল। ছবিটি পরিচালনা করেছেন রুবাইয়াত হোসেন।
‘রেহানা মরিয়ম নূর’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত বাঁধন বর্তমানে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। ভেনিসের ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
১০ দিন আগে
সালমান শাহ: তিন দশকের মুগ্ধতা, স্মৃতি ও অমীমাংসিত প্রশ্ন
কিছু তারকা আসেন, উজ্জ্বলভাবে আলো ছড়ান এবং সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যান। তবে খুব অল্প কয়েকজন প্রজন্মের পর প্রজন্মের স্মৃতিতে থেকে যান। চলে যাওয়ার কয়েক দশক পরও তাদের উপস্থিতি মুছে যায় না।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এমন তারকাদের মধ্যে সালমান শাহর মতো দীর্ঘস্থায়ী ছাপ খুব কমই কেউ রেখে যেতে পেরেছেন। আজ (রবিবার) তার ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল সময়ে ১৯ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া এই জনপ্রিয় অভিনেতার নাম ছিল চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৫ বছর বয়সে তিনি মারা যান।
মাত্র প্রায় চার বছরের ক্যারিয়ারে সালমান শাহ নব্বইয়ের দশকের বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অন্যতম তারকা হয়ে ওঠেন। ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তার অভিষেক হয়। এরপর ‘সত্যের মৃত্যু নেই’, ‘সুজন সখী’, ‘এই ঘর এই সংসার’, ‘আনন্দ অশ্রু’সহ বিভিন্ন চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের মন জয় করে নেন।
শাবনূরের সঙ্গে তার জুটি বিশেষভাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ঢালিউডে যার সঙ্গে তার অভিষেক হয়েছিল সেই মৌসুমীসহ শাবনাজ, লিমা ও শাহনাজের মতো শীর্ষ অভিনেত্রীদের সঙ্গেও তার অভিনয় তাকে রোমান্টিক নায়ক হিসেবে আরও প্রতিষ্ঠিত করে।
সালমান শাহর পোশাক, চুলের স্টাইল ও পর্দায় সাবলীল উপস্থিতি তাকে অনুসরণীয় তারকায় পরিণত করে। জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে যার প্রভাব এখনও অনুভূত হয়।
তবে এই তারকার প্রতি দীর্ঘস্থায়ী ভালোবাসার পাশাপাশি তার মৃত্যু ঘিরে প্রশ্নও তিন দশক ধরে অমীমাংসিত রয়ে গেছে। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
পরবর্তী তদন্তগুলোতে তাকে হত্যার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এটি আত্মহত্যা বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। ২০২০ সালে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তেও একই সিদ্ধান্ত আসে।
তবে সালমান শাহর পরিবার বরাবরই এসব সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে দাবি করে আসছে, তাকে হত্যা করা হয়েছে।
২০২৫ সালের অক্টোবরে ঢাকার একটি আদালত সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা করার নির্দেশ দিলে বিষয়টি নতুন মোড় নেয়। পরে তার প্রাক্তন স্ত্রী সামিরা হক, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, অভিনেতা আশরাফুল হক ডনসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
মামলাটি এখনও তদন্তাধীন। চলতি বছরের আগস্টে ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা কয়েক দফা পেছানো হয়েছে। সর্বশেষ ২৯ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করা হয়েছে।
সালমান শাহর মৃত্যুর তিন দশক পর আজও তার জনপ্রিয়তা একটুও কমেনি। তাকে দেখে বড় হওয়া দর্শকদের কাছে তিনি এখনও তার সিনেমার পর্দায় থাকা সেই তরুণ নায়ক, যার আকর্ষণ আজও অমলিন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতেও এই কিংবদন্তি অভিনেতার অগণিত ভক্তের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় ভরে উঠেছে।
ঢালিউডের সবচেয়ে বড় ‘যদি-কিন্তু’র গল্পগুলোর একজন সালমান শাহ। তিনি কখনোই সত্যিকার অর্থে পর্দা কিংবা তাকে কিংবদন্তিতে পরিণত করা মানুষের হৃদয় থেকে বিদায় নেননি।
১২ দিন আগে
৯২ বছর বয়সে চলে গেলেন আশা ভোঁসলে
চিরসবুজ ও বহুমাত্রিক কণ্ঠে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সংগীতপ্রেমীদের মুগ্ধ করা বর্ষীয়ান সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।
রবিবার (১২ এপ্রিল) মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।
ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, আশা ভোঁসলের ছেলে আনন্দ ভোঁসলে মায়ের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে বলেন, ‘তিনি আর নেই। আগামীকাল বিকেল ৪টায় মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে।’
সংবাদ প্রতিদিনের খবরে বলা হয়েছে, শনিবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বুকে সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন আশা ভোঁসলে। এমার্জেন্সি কেয়ার ইউনিটে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল তাকে। হাসপাতালে নিয়ে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, কিংবদন্তী এই সংগীতশিল্পীর শারীরিক অবস্থা বেশ আশঙ্কাজনক।
দ্রুত তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু, শেষ রক্ষা হয়নি। তার মৃত্যুতে সংগীতের একটা যুগের অবসান ঘটল।
চলতি বছরের ৮ সেপ্টেম্বর ৯৩ বছরে পা দিতেন ‘পিয়া তু আব তো আজা’, ‘কাজরা মোহাব্বত ওয়ালা’, ‘রঙ্গিলা রে’ ও ‘দিল চিজ ক্যা হ্যায়’-এর মতো অসংখ্য জনপ্রিয় গানের জন্য খ্যাত আশা ভোঁসলে। তার প্রয়াণে সংগীত জগতে এবং তার গান শুনে বড় হওয়া অগণিত ভক্তের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মাত্র ১০ বছর বয়সে ১৯৪৩ সালের মারাঠি চলচ্চিত্র ‘মাঝা বাল’-এ ‘চালা চালা নব বালা’ গান দিয়ে চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক শুরু করেন তিনি। শুরুতে ‘ও হাসিনা জুলফোঁওয়ালি’-র মতো আইটেম গানের জন্য তার ওপর একটি নির্দিষ্ট তকমা লেগে গিয়েছিল। তবে পরবর্তীতে ‘দিল চিজ ক্যা হ্যায়’-এর মতো গজল এবং ‘তোরা মন দর্পণ কহলায়’-এর মতো ধ্রুপদী সংগীতে নিজের গভীরতা প্রমাণ করেন আশা।
১৫৯ দিন আগে
সুচিত্রা সেন: পাবনার এক সাধারণ মেয়ে থেকে মহানায়িকা হয়ে ওঠার গল্প
‘তুমি যে আমার, ওগো তুমি যে আমার’—হারানো সুর ছবির এই গানের সুর এখনো বাঙালির হৃদয় ছুঁয়ে যায়। ‘এই পথ যদি না শেষ হয়, তবে কেমন হতো তুমি বল তো?’—এই প্রশ্ন শুধু একটি গানের নয়, এটি এক যুগের আবেগ। আর সেই আবেগের কেন্দ্রে ছিলেন সুচিত্রা সেন। তার হাসি, দৃষ্টি আর নীরবতায় আজও বেঁচে আছেন বাঙালির হৃদয়ে।
সব মহানায়িকার গল্পই আলোঝলমলে স্টুডিও থেকে শুরু হয় না। কিছু গল্প জন্ম নেয় ধুলিমাখা ছোট শহরে, যেখানে স্বপ্নগুলো নিঃশব্দে বড় হয়ে ওঠে। সুচিত্রা সেনের গল্পও তেমনই। পাবনার এক সাধারণ মেয়ে, যিনি একদিন হয়ে উঠেছিলেন বাংলা সিনেমার চিরন্তন ‘মহানায়িকা’।
পাবনা থেকে পথচলা
সুচিত্রা সেনের জন্ম ১৯৩১ সালের ৬ এপ্রিল, তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাবনা জেলার বেলকুচিতে। তার প্রকৃত নাম রমা দাশগুপ্ত। বাবা করুণাময় দাশগুপ্ত ছিলেন স্কুলশিক্ষক এবং মা ইন্দিরা দাশগুপ্ত গৃহিণী। একটি সাধারণ, সাদামাটা পরিবেশে পাবনাতেই কেটেছে তার শৈশব ও প্রাথমিক শিক্ষাজীবন। পরবর্তীতে কলকাতায় স্থানান্তরিত হয় তার পরিবার।
কলকাতার পথে
১৯৪৭ সালে অল্প বয়সেই তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর কলকাতায় এসে তার জীবনে নতুন মোড় আসে। চলচ্চিত্রে প্রবেশ তার জন্য সহজ ছিল না। প্রথমদিকে কয়েকটি সিনেমা তেমন সাড়া ফেলেনি। তবে তিনি থেমে যাননি। নিজের অভিনয়, অভিব্যক্তি ও উপস্থিতিকে ধীরে ধীরে নিখুঁতভাবে গড়ে তোলেন।
ক্যারিয়ারের উত্থান
১৯৫০-এর দশক থেকেই তার অভিনয় জীবনের উজ্জ্বল সূচনা। বিশেষ করে উত্তম কুমারের সঙ্গে তার জুটি বাংলা সিনেমায় এক নতুন যুগের সূচনা করে। হারানো সুর, সপ্তপদী, দীপ জ্বেলে যাই-এর মতো চলচ্চিত্রগুলো শুধু জনপ্রিয়ই হয়নি, বরং কালজয়ী হয়ে উঠেছে।
‘সাড়ে চুয়াত্তর’ (১৯৫৩) থেকে ‘প্রিয় বান্ধবী’ (১৯৭৫) পর্যন্ত প্রায় ৩০টি ছবিতে এই জুটি এক সঙ্গে কাজ করে বাংলা সিনেমার ইতিহাসে স্বর্ণযুগ রচনা করে। তার অভিনয়ে ছিল আত্মমর্যাদা ও সংযমের অনন্য মিশ্রণ। হিন্দি চলচ্চিত্রেও তিনি নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন।
বিশেষত্ব
সুচিত্রা সেন শুধু একজন অভিনেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন এক রহস্যময়ী ব্যক্তিত্ব। তার চোখের ভাষা, সংযত অভিব্যক্তি এবং পর্দায় উপস্থিতির শক্তি তাকে আলাদা করে তুলেছিল।
তিনি কখনো অতিরিক্ত প্রচারে বিশ্বাসী ছিলেন না, বরং নিজেকে আড়ালেই রাখতে পছন্দ করতেন। ক্যারিয়ারের চূড়ায় থাকা অবস্থায় হঠাৎ করেই লাইম লাইট থেকে দূরে সরে যান। এই স্বেচ্ছা-নির্জনবাসই তাকে আরও বেশি রহস্যময় করে তোলে।
জীবনের শেষ তিন দশক তিনি কাটান প্রায় সম্পূর্ণ নির্জনতায়। যেন তিনি নীরবে প্রশ্ন রেখে গেছেন—ভালোবাসা কি শুধু পাওয়া, নাকি ছেড়ে দেওয়ার মধ্যেও তার পূর্ণতা আছে?
‘কিছু দৃশ্য কখনো পুরোনো হয় না, কিছু মুখ কখনো ভুলে যাওয়া যায় না’—বাংলা সিনেমার সেই চিরন্তন মুখগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র সুচিত্রা সেন। পাবনার এই মেয়ে সময় ও দেশের সীমানা পেরিয়ে হয়ে উঠেছেন এক কিংবদন্তি।
দর্শকপ্রিয় কিছু চলচ্চিত্র
দীপ জ্বেলে যাই (১৯৫৯)
এক মানসিক হাসপাতালের নার্স ‘রাধা’ চরিত্রে তার অভিনয় মানবিকতার অসাধারণ দৃষ্টান্ত। সংযত অভিনয়ের মাধ্যমে চরিত্রের গভীর যন্ত্রণা তুলে ধরেছেন।
সপ্তপদী (১৯৬১)
উত্তম কুমারের সঙ্গে তার রসায়ন বাংলা সিনেমায় নতুন উচ্চতা তৈরি করে। ধর্ম, সমাজ ও প্রেমের সংঘাতে গড়ে ওঠা এই গল্পে তিনি এক আধুনিক নারীর প্রতিচ্ছবি তুলে ধরেন।
সাত পাকে বাঁধা (১৯৬৩)
এই ছবিতে এক স্বাধীনচেতা নারীর মানসিক টানাপোড়েন সূক্ষ্মভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। এ অভিনয়ের জন্য তিনি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পান।
আন্ধি (১৯৭৫)
হিন্দি চলচ্চিত্রে তার অন্যতম শক্তিশালী কাজ। একজন নারী রাজনীতিকের চরিত্রে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব বাস্তবভাবে তুলে ধরেন।
দেবদাস (১৯৫৫)
বিমল রায় পরিচালিত এই ক্লাসিক ছবিতে ‘পার্বতী’ চরিত্রে তার অভিনয় ছিল গভীর আবেগে ভরপুর।
সম্মাননা ও স্বীকৃতি
তার অভিনয় দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ ভারত সরকার তাকে ‘পদ্মশ্রী’ পুরষ্কারে ভূষিত করে; পশ্চিমবঙ্গ সরকার দেয় ‘বঙ্গবিভূষণ’ পুরষ্কার।
সত্যজিৎ রায়ের ‘ঘরে বাইরে’ চলচ্চিত্রে কাজের প্রস্তাব তিনি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। এছাড়া রাজ কাপুরের সঙ্গেও কাজ করেননি ব্যক্তিগত কারণে। দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারের জন্য মনোনীত হলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি যা তার ব্যক্তিত্বের দৃঢ়তারই প্রমাণ।
সুচিত্রা সেন নেই, কিন্তু তার উপস্থিতি রয়ে গেছে প্রতিটি ক্লাসিক দৃশ্য, সংলাপ আর স্মৃতিতে। তিনি শুধু একজন নায়িকা নন; তিনি এক অনুভূতি, এক ইতিহাস, এক চিরন্তন রহস্য।
পাবনার সেই সাধারণ মেয়েটি প্রমাণ করে গেছেন, মহানায়িকা হয়ে ওঠা শুধু ভাগ্যের বিষয় নয়; প্রতিভা, ব্যক্তিত্ব ও নিজস্বতার সমন্বয়ই একজনকে কিংবদন্তি করে তোলে। আজ তার জন্মদিনে তাকে স্মরণ করা মানে শুধু একজন অভিনেত্রীকে নয়, এক যুগকে স্মরণ করা।
১৬৪ দিন আগে
চার বছর পর মঞ্চে ফিরছে বিটিএস
চার বছরের বিরতির ভেঙে মঞ্চে ফিরছে জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস। শনিবার (২১ মার্চ) সিউলে বিশাল এক ফ্রি কনসার্টের মাধ্যমে মঞ্চে প্রত্যাবর্থন করছে ব্যান্ডটি।
বিটিএসের অনুষ্ঠান ঘিরে সিউলে হাজারো ভক্তের সমাগম ঘটেছে। রাজধানীর গোয়াংহওয়ামুন স্কয়ারে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠান উপলক্ষে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং আশপাশের সড়কে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এই কনসার্টের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও এশিয়াজুড়ে একাধিক শো নিয়ে দীর্ঘ বৈশ্বিক সফরের সূচনা হচ্ছে বিটিএসের।
ব্যান্ডের সাত সদস্য—আরএম, জিন, সুগা, জে-হোপ, জিমিন, ভি ও জাং কুক সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার বাধ্যতামূলক সামরিক দায়িত্ব শেষ করেছেন। এবার তারা আবারও বিশ্বসেরা পপ তারকাদের কাতারে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
এক ঘণ্টার এই কনসার্টের আগের দিন ব্যান্ডটি তাদের পঞ্চম অ্যালবাম আরিরাঙ (ARIRANG) প্রকাশ করে। অ্যালবামটির ঘোষণার পর জানুয়ারি মাস থেকে এ পর্যন্ত লাখ লাখ কপি প্রি-অর্ডার পেয়েছে বিটেএস।
ব্যান্ডটির ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান হাইব (HYBE) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার মহড়ার সময় আরএমের গোড়ালিতে চোট লাগে, তবে কিছু সীমাবদ্ধতা নিয়ে তিনি মঞ্চে পারফর্ম করবেন।
কর্তৃপক্ষের ধারণা, এই কনসার্টে দুই লাখের বেশি মানুষ উপস্থিত থাকতে পারেন। এর মধ্যে ২২ হাজার দর্শক নির্ধারিত স্থানে বসে সরাসরি উপভোগ করবেন এবং অন্যরা আশপাশের বড় পর্দায় অনুষ্ঠানটি দেখবেন। অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করবে নেটফ্লিক্স।
২০১৩ সালে যাত্রা শুরু করা বিটিএসের বিশ্বজুড়ে বিশাল ভক্তগোষ্ঠী রয়েছে, যাদের ‘আর্মি’ নামে ডাকা হয়। ২০২০ সালে তাদের প্রথম ইংরেজি গান ডিনামাইট (Dynamite) বিলবোর্ড হট ১০০-এর শীর্ষে উঠে কে-পপ ইতিহাসে নতুন মাইলফলক গড়ে।
১৮০ দিন আগে
মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন মেহজাবিন চৌধুরী
পারিবারিক ব্যবসার অংশীদার হিসেবে রাখার বিনিময়ে ২৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ, হুমকি-ধামকি ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলা থেকে মডেল ও অভিনেত্রী মেহজাবিন চৌধুরী ও তার ভাই আলিশান চৌধুরীকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে এই মামলার শুনানি নিয়ে ঢাকার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আদনান জুলফিকার এই আদেশ দেন। মেহজাবিনের আইনজীবী তুহিন হাওলাদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, বাদীর সঙ্গে দীর্ঘদিন পরিচয়ের সুবাদে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে আসামি মেহজাবীন চৌধুরীর নতুন পারিবারিক ব্যবসার পার্টনার (অংশীদার) হিসেবে রাখবে বলে নগদ অর্থ এবং বিকাশের মাধ্যমে বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে মোট ২৭ লাখ টাকা দেন। এরপর মেহজাবীন ও তার ভাই দীর্ঘদিন ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ না নেওয়ায় বাদী বিভিন্ন সময় টাকা চাইতে গেলে দীর্ঘদিন কালক্ষেপণ করেন।
পরবর্তীতে গত ১১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে পাওনা টাকা চাইতে গেলে তারা ১৬ মার্চ হাতিরঝিল রোডের পাশে একটি রেস্তোরাঁয় আসতে বলেন। ওইদিন ঘটনাস্থলে গেলে মেহজাবীন ও তার ভাইসহ আরও অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। তারা বলেন, এরপর তুই আমাদের বাসায় টাকা চাইতে যাবি না; তোকে বাসার সামনে আবার দেখলে জানে মেরে ফেলব।
এসব কথা বলে তারা বাদীকে জীবননাশের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এরপর বিষয়টি সমাধানের জন্য বাদী সংশ্লিষ্ট ভাটারা থানায় গেলে থানা কর্তৃপক্ষ আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়।
পরে আমিরুল ইসলাম বাদী হয়ে ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭/ ১১৭(৩) ধারায় মামলা করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলাটিতে আসামি মেহজাবীন চৌধুরী ও তার ভাই আলিসান চৌধুরীর আদালতে হাজির না হওয়ায় গত ১০ নভেম্বর আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরে ১৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩-এ আফরোজা হক তানিয়ার আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন তারা। সেদিন শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেছিলেন।
২৪৯ দিন আগে
আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন মেহজাবীন
অর্থ আত্মসাৎ, হুমকি-ধামকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে করা মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন মডেল ও অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী এবং তার ভাই আলিসান চৌধুরী। পাশাপাশি এ সংক্রান্ত জবাব দাখিলের জন্য আগামী ১৮ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।
রবিবার (১৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩-এর বিচারক আফরোজা তানিয়া তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মেহজাবীন চৌধুরীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট তুহিন হাওলাদার সাংবাদিকদের বলেন, বাদীর আর্জির সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই। তিনি ঘটনাস্থল উল্লেখ করেছেন হাতিরঝিল, কিন্তু মামলা করতে গেছেন ভাটারা থানায়। পরে সেখানে মামলা না নেওয়ায় সরাসরি আদালতে মামলা দায়ের করেন বাদী।
এর আগে গত ১০ নভেম্বর এ মামলায় মেহজাবীন ও তার ভাই আলিসান চৌধুরীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকার একটি আদালত।
গত ১০ নভেম্বর মামলাটিতে আসামিদের আদালতে হাজির হওয়ার দিন ধার্য ছিল। তবে তারা আদালতে হাজির হননি। এ জন্য আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, আমিরুল ইসলামের সঙ্গে দীর্ঘদিন পরিচয়ের সুবাদে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে মেহজাবীন চৌধুরীর নতুন পারিবারিক ব্যবসার পার্টনার হিসেবে রাখার কথা বলেন। এ কারণে বাদী নগদ অর্থে এবং বিকাশের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে ২৭ লাখ টাকা দেন। এরপর মেহজাবীন ও তার ভাই দীর্ঘদিন ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ না নেওয়ায় আমিরুল ইসলাম বিভিন্ন সময় টাকা চাইতে গেলে কালক্ষেপণ করতে থাকেন আসামিরা।
গত ১১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে আবারও পাওনা টাকা চাইতে যান তিনি। তখন তাকে ১৬ মার্চ হাতিরঝিল রোডের পাশে একটি রেস্টুরেন্টে আসতে বলা হয়। ওই দিন ঘটনাস্থলে গেলে মেহজাবীন ও তার ভাইসহ আরও অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জন তাকে গালিগালাজ করেন। তারা বলেন, ‘এরপর তুই আমাদের বাসায় টাকা চাইতে যাবি না। তোকে বাসার সামনে আবার দেখলে জানে মেরে ফেলব।’
বিষয়টি সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ভাটারা থানায় গেলে কর্তৃপক্ষ আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়। এ ঘটনায় আমিরুল ইসলাম ২৪ মার্চ বাদী হয়ে ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন।
৩০৫ দিন আগে
ঢাকায় উনা হাইল্যান্ডের একক প্রদর্শনী: আইরিশ-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক সম্পর্কে নতুন দিগন্ত
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো কোনো আইরিশ শিল্পীর একক প্রদর্শনী হিসেবে উদ্বোধন করা হয়েছে খ্যাতনামা আইরিশ শিল্পী উনা হাইল্যান্ডের প্রদর্শনী ‘অ্যান দুআনায়ার: ভিজুয়াল পোয়েমস অব দ্য ডিসপসেসড’।
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর বারিধারার গার্ডেন গ্যালারিতে এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন ঢাকায় নিযুক্ত আয়ারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত কেভিন কেলি। অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিলেন বাংলাদেশে আয়ারল্যান্ডের অনারারি কনসাল মাসুদ খান।
গ্যালারি কসমস ও আয়ারল্যান্ড দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত আয়ারল্যান্ড-বাংলাদেশ আর্ট একচেঞ্জ প্রোগ্রাম’র অংশ হিসেবে এই আয়োজন দেশদুটির মধ্যে সাংস্কৃতিক সংলাপ ও শিল্প বিনিময়ের একটি গতিশীল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রদূত কেভিন কেলি বলেন, ঢাকায় তিন সপ্তাহের এক সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন উনা হাইল্যান্ড। বাংলাদেশে এ ধরনের উদ্যোগে অংশ নেওয়া প্রথম আইরিশ শিল্পী তিনি। ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি পেশাদার শিল্পী হিসেবে কাজ করছেন বলেও উল্লেখ করেন কেভিন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে আয়াল্যান্ডের দূতাবাস না থাকলেও তারা উন্নয়ন, বাণিজ্য ও অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের সহযোগী। এ সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ারও প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
রাষ্ট্রদূত জানান, ঢাকায় অবস্থানকালে উনা শিল্পের মাধ্যমে স্মৃতি, নিরাময় ও সম্মিলিত প্রতিফলনের সম্পর্ক অনুসন্ধান করবেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃজনশীলতাকে নৈতিক ও আধ্যাত্মিক শক্তি হিসেবে দেখার দর্শন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাস ও শিল্পের দৃঢ়তাকে তার কাজে তুলে ধরবেন।
এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে আয়ারল্যান্ড ও বাংলাদেশের মধ্যে আরও গভীর শিল্প-সহযোগিতা সৃষ্টি করবে বলে আশা প্রকাশ করেন কেভিন। তার মতে, এই উদ্যোগের ফলে শুধু আইরিশ শিল্পীরাই বাংলাদেশে আসবেন না, বরং বাংলাদেশের শিল্পীরাও আয়ারল্যান্ডে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
অনুষ্ঠানে আগত দেশ ও বিদেশের সব অতিথিকে স্বাগত জানিয়ে কসমস গ্রুপের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ খান বলেন, ‘শুরুতে আমি একটু চিন্তিত ছিলাম— যথেষ্ট সময় পাবো কি না, সবকিছু ঠিকভাবে হবে কি না। কিন্তু আমাদের সবার প্রচেষ্টা, আর বিশেষ করে উনা’র অক্লান্ত পরিশ্রমে সবকিছু দারুণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।’
আইরিশ এই শিল্পীকে অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ, পরিশ্রমী ও দারুণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী হিসেবে উল্লেখ করে মাসুদ বলেন, ‘আমি আন্তরিকভাবে আশা করি তিনি আবারও বাংলাদেশে আসবেন।’
মাসুদ খান বলেন, শিল্পীদের স্থিতিশীলতা দিতে হবে, যাতে তারা নিজেদের কাজ উন্নত করতে পারেন, উদ্ভাবন করতে পারেন এবং শিল্পক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন। এই দিক থেকে আয়ারল্যান্ড অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। আমাদের একে অপরের কাছ থেকে শেখার অনেক কিছু আছে।
৩১৭ দিন আগে
ক্যাফে: কোক স্টুডিও বাংলায় হৃদয়ের সুর আর পুরনো দিনের স্মৃতির এক দারুণ ফিউশন
কিছু গান শুধু শোনা হয়, আর কিছু গান আপনাকে হাতছানি দিয়ে ডাকে—যেন একটা নতুন জায়গায় নিয়ে যেতে চায়। ঠিক তেমনি ‘ক্যাফে’ গানটি শুনলে মনে হবে বাংলা ও ল্যাটিন সুরের মিশ্রণ ঘটেছে, কারণ এটি একটি আধুনিক বাংলা গান যা ল্যাটিন সঙ্গীতের প্রভাবকে ধারণ করে।
শায়ান চৌধুরী অর্ণবের এই নতুন কাজ, ‘ক্যাফে’ ঠিক সেইরকম একটি গান ও আধুনিক বাংলা সংগীতের অংশ। যেখানে ঐতিহ্যবাহী বাংলা গানের সঙ্গে ল্যাটিন সুরের মেলবন্ধন ঘটানো হয়েছে।
এছাড়া একটা উষ্ণ, আবছা আলোয় ভরা ঘরকে যদি শব্দ দিয়ে ধরে রাখা যেত, সেটা এই গানটাই হতো। এটি মূলত একটি সংগীত শৈলী, যা দুইটি ভিন্ন ধারার সুর ও তালকে একত্রিত করে।
তাছাড়াও এই গানটি আমদের মধ্যে নতুন ও আকর্ষণীয় অভিজ্ঞতা প্রদান করে। একইসঙ্গে মনে করিয়ে দেয় যে— জীবনের "Real Magic" আসলে দুটো মনের নীরবতার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে।
আরো পড়ুন: ঢাবিতে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো ক্যাম্পাস স্ট্যান্ডআপ কমেডি শো ‘হাসির আড্ডা'
গানটিতে বাংলা গানের স্বাভাবিক ঢঙ এবং ল্যাটিন সঙ্গীতের ছন্দ, যেমন সালসা বা অন্যান্য ল্যাটিন নাচের গানের সুরের প্রভাব থাকে। বিশেষ করে ঐতিহ্য আর নতুনত্বের দারুণ বোঝাপড়া।
এই গানের শেকড়টা মজবুত দুটো জায়গায়— একটা হলো গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের (মহীনের ঘোড়াগুলি) সেই প্রিয় নস্টালজিক সুর "আমার প্রিয় ক্যাফে", আর অন্যটা হলো এডি পালমিয়েরির ক্লাসিক "Café"-এর দারুণ ছন্দ। এছাড়া প্রযোজক শুভেন্দু দাশ শুভ খুব দক্ষতার সঙ্গে দুটো ভিন্ন ধারাকে এমনভাবে এক করে দিয়েছেন যে সুরটা শুনতে একইসঙ্গে চেনা আর দারুণ ফ্রেশ লাগে।
এদিকে তানযীর তুহিনের কণ্ঠস্বরে বাংলার সেই চেনা "নস্টালজিয়া" দারুণভাবে ফুটে উঠেছে। ক্যাফে যেন ছোট ছোট ব্যক্তিগত গল্পের একটি জীবন্ত বই। এই গানের ভেতরের কথাগুলো তার আন্তরিক উষ্ণতায় যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে।
গাবুর পারকাশন যেন সেই পুরনো ছন্দের ধারক, একটা জটিল অথচ মসৃণ রিদম তৈরি করেছে। আর লিভিয়া মাত্তোসের অ্যাকর্ডিয়ন ইউরোপীয় ফোক-জ্যাজের একটা জাদুকরী, মিষ্টি ছোঁয়া দিয়েছে। যখন ব্রাস সেকশন (ফ্র্যান্সিস আর অপূর্ব) বাজনা শুরু করে, তখন শান্ত গানটা যেন উড়তে শুরু করে, ভেতরের সেই নীরব ভাবনাগুলো একটা প্রাণবন্ত নাচে বদলে যায়।
আরো পড়ুন: ‘আমিই নজরুল সম্মাননা’ পেলেন খিলখিল কাজী, ইয়াসমিন মুশতারী ও অনুপম হায়াৎ
‘ক্যাফে’কে একটা ফিউশন বলার চেয়ে আগে একটা অনুভূতি বলাই ভালো। গানের নোটে বলা সেই শান্ত শক্তিকে এটা ধরে রেখেছে: শেষ বিদায়, প্রথম দেখা, বা দুটো মনের মাঝে একটুখানি চুপ থাকা। এই দারুণ মিউজিক পিসটা প্রমাণ করে যে কিছু আবেগ—যেমন নিখুঁত কফি বা নীরব মুহূর্ত—ভাষা বা দেশের সীমানা বোঝে না।
এই একটা গান তৈরি করতে যতজন যুক্ত ছিলেন, সবার জন্যেই এটা একটা দারুণ অর্জন। মিথুন চক্রবর্তী, প্রদ্যুৎ চ্যাটার্জিয়ার মতো শিল্পীরা তো আছেনই, সঙ্গে আছেন ফয়জান আর আহমদ (বুনো) এবং সৈয়দ গাউসুল আলম শাওনের নেতৃত্বে থাকা বিশাল ক্রিয়েটিভ আর সাউন্ড টিম।
তারা শুধু একটা গান বানাননি; তারা এমন একটা জায়গার নীরবতা ধরে রেখেছেন যেখানে সবার ব্যক্তিগত গল্পের টুকরোগুলো মিশে থাকে।
আরো পড়ুন: ধ্রুপদী সঙ্গীতে মুগ্ধতা ছড়াল সিদ্ধেশ্বরী ’৬৯ ব্যাচের সঙ্গীতানুষ্ঠান
৩২৭ দিন আগে
ধ্রুপদী সঙ্গীতে মুগ্ধতা ছড়াল সিদ্ধেশ্বরী ’৬৯ ব্যাচের সঙ্গীতানুষ্ঠান
‘সঙ্গীত সেই বিশ্বজনীন সেতুবন্ধন, যা হৃদয়কে যুক্ত করে, শব্দের সীমা ছাড়িয়ে আত্মাকে ছুঁয়ে যায়’—এই ভাবনা কেন্দ্র করেই বুধবার বিকেলে রাজধানীর মগবাজারের একটি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এক হৃদয়গ্রাহী ধ্রুপদী সঙ্গীতানুষ্ঠান ও আলোচনা সভা।
অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সিদ্ধেশ্বরী ’৬৯ ব্যাচ। বিকেল ৪টায় শুরু হওয়া এই কনসার্টে কানায় কানায় পূর্ণ অডিটোরিয়াম পরিণত হয় সুর, তাল ও আবেগের অপূর্ব মিলনমেলায়।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন আদ্দীন মেডিকেল কলেজের উপদেষ্টা ডা. মুনশি আনোয়ার হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিদ্ধেশ্বরী ব্যাচ ’৬৯-এর কনভেনার ফজলুল করিম আবিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, প্রতিষ্ঠানের গর্বিত প্রাক্তন ছাত্র ও প্রজন্মের অনুপ্রেরণা— প্রফেসর মোস্তফিজুর রহমান।
ভারতের লখনৌয়ের পণ্ডিত রবিশঙ্কর ঘরানার অধীনে পণ্ডিত সমরেশ চৌধুরীর শিষ্য শ্রী অদিত্য নির্মল ছিলেন অনুষ্ঠানের প্রধান শিল্পী ও উপস্থাপক। তিনি মনোমুগ্ধকর সুরযাত্রার মধ্য দিয়ে ধ্রুপদী সঙ্গীত ও সংস্কৃতির আন্তঃসম্পর্কিত ইতিহাস তুলে ধরেন। তার পরিবেশনায় ধ্রুপদ, খেয়াল, ঠুমরি ও ভজন ধারার বিবর্তন বাঙলা ভাষা, মানুষ ও সংস্কৃতির ইতিহাসের সঙ্গে মিলেমিশে এক হয়ে ওঠে।
বাঙলায় বর্ণনার পাশাপাশি অদিত্য নির্মল পরিবেশন করেন রাগ কৌশিক ধ্বনি, রাগ খামাজ, রাগ ভৈরবী, রাগ যামন ও রাগ বসন্ত। তিনি ছোট খেয়াল ও বাংলা খেয়ালের ধারায় পরিবেশন করে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন—যার জন্য তাকে বাংলাদেশের নবপ্রবর্তক হিসেবে গণ্য করা হয়। পরিবেশনার ফাঁকে তিনি ব্যাখ্যা করেন বাংলা ভাষা, জাতিসত্তা ও ভারতীয় ধ্রুপদী সঙ্গীতের পারস্পরিক সম্পর্ক, সমাজ-ধর্ম-সংস্কৃতির সংযোগ, এবং নজরুলগীতি, হাম্দ-নাত ও রবীন্দ্রসঙ্গীতের ঐক্যসূত্র।
সন্ধ্যায় পরিবেশিত হয় নজরুলগীতির মধ্যে ‘বাগিচায় বুলবুলি তুই’ ও ‘ভরিয়া পুরণ’, যা অদিত্য নির্মল নিজেই হরমোনিয়ামে পরিবেশন করেন। পাশাপাশি আরও একটি নজরুলগীতি, কয়েকটি রবীন্দ্রসঙ্গীত এবং ঠুমরি ‘কাকরু সাজনি’ পরিবেশন করেন ধ্রুপদী ঘরানার গভীর আবেগে।
যন্ত্রসঙ্গীতে ছিলেন শ্রী দিলীপ বিশ্বাস (হরমোনিয়াম), পণ্ডিত উজ্জ্বল রায় ও রাহুল চ্যাটার্জি (তবলা)। তাঁরা তিনতাল লহরায় যুগলবন্দি পরিবেশন করে শ্রোতাদের মন জয় করেন। পণ্ডিত উজ্জ্বল রায় ভারতের খ্যাতনামা তবলাশিল্পী, যিনি পণ্ডিত স্বপন চৌধুরী, পণ্ডিত অশোক মেহতা, পণ্ডিত সুরেশ তালওয়ালকর, পণ্ডিত যোগেশ সামসি ও পণ্ডিত স্বরাজ ভট্টাচার্যের শিষ্য। রাহুল চ্যাটার্জি তাঁর শিষ্য এবং দিলীপ বিশ্বাস প্রশিক্ষণ নিয়েছেন পণ্ডিত জ্যোতি গোহো’র কাছে।
ধ্রুপদী ও যন্ত্রসঙ্গীত ছাড়াও পরিবেশিত হয় রবীন্দ্রসঙ্গীত, নজরুলগীতি, ঠুমরি ও কবীর সুমনের বাংলা খেয়াল। সঙ্গে যুক্ত হয় জীবনানন্দ দাশ, কাজী নজরুল ইসলাম ও জসীমউদ্দিনের কবিতা ও দর্শনভিত্তিক ভাবনা, যা হাম্দ পরিবেশনার সঙ্গে মিলিত হয়ে অনুষ্ঠানে এনে দেয় আধ্যাত্মিক ও সাহিত্যিক পরিমিতি।
পুরো বিকেলজুড়ে অডিটোরিয়াম প্রতিধ্বনিত হয় করতালির শব্দে। প্রতিটি আলাপ, তান ও তালের ছন্দে বিমুগ্ধ শ্রোতারা যেন অনুভব করেন—সঙ্গীতই সেই ভাষা, যা শব্দের সীমা ছাড়িয়ে হৃদয়কে এক সূত্রে বেঁধে রাখে।
আয়োজনে নিখুঁত সমন্বয় ও আন্তরিকতার ছাপ রাখে সিদ্ধেশ্বরী ’৬৯ ব্যাচ, যাদের প্রচেষ্টা ধ্রুপদী ঐতিহ্য সংরক্ষণে প্রশংসিত হয় দর্শক-শ্রোতাদের কাছে।
৩২৯ দিন আগে