বিনোদন
কসমস আর্ট ইকোর ১৩তম পর্বে তৈয়বা বেগম লিপির সঙ্গে শিল্পসংলাপ
বাংলাদেশের বিশিষ্ট সমকালীন শিল্পী তৈয়বা বেগম লিপিকে নিয়ে গ্যালারি কসমস ও কসমস আঁতেলিয়ের-৭১ আয়োজন করতে যাচ্ছে কসমস আর্ট ইকো: সেশন ১৩।
‘বিইং অ্যান্ড বিলং’ শীর্ষক এই আর্ট টকে তৈয়বা বেগম লিপি তার দীর্ঘ শিল্পযাত্রা, সৃজনশীল চর্চা এবং শিল্প, পরিচয় ও অন্তর্ভুক্তির ধারণা নিয়ে কথা বলবেন। অনুষ্ঠানটি শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় ঢাকার মালিবাগের ৬৯/১ নিউ সার্কুলার রোডে অবস্থিত কসমস সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে।
চলমান কসমস আর্ট ইকো উদ্যোগের অংশ হিসেবে আয়োজিত এই সেশনে শিল্পী, শিল্পচর্চাকারী, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও শিল্পবোদ্ধাদের বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমকালীন শিল্পীর সঙ্গে সরাসরি ও ভাবনাপ্রসূত সংলাপে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। আলোচনায় তৈয়বা বেগম লিপির শিল্পীজীবন, তার সৃজনশীল অন্বেষণ এবং শিল্প, পরিচয়, অন্তর্ভুক্তি ও সমকালীন জীবন নিয়ে তার ভাবনা উঠে আসবে।
বাংলাদেশের গাইবান্ধায় জন্ম নেওয়া তৈয়বা বেগম লিপি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে চারুকলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি বাংলাদেশের বৃত্ত আর্টস ট্রাস্টের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি। সমকালীন শিল্পচর্চা এবং আন্তর্জাতিক শিল্পবিনিময়ের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।
দীর্ঘ শিল্পজীবনে তৈয়বা বেগম লিপি দেশে ও বিদেশে ১৭টি একক প্রদর্শনী করেছেন। এছাড়া তার স্বামী ও শিল্পী মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে তার ছয়টি দ্বৈত প্রদর্শনী রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তিনি অসংখ্য দলীয় প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন। সিঙ্গাপুর, ইস্তাম্বুল, লন্ডন, ঢাকা, নিউইয়র্ক, হংকং, দিল্লিসহ বিভিন্ন শহরে তার একক প্রদর্শনী ও শিল্প প্রকল্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তার শিল্পচর্চা বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে উপস্থাপিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সলোমন আর গুগেনহাইম মিউজিয়াম, নিউইয়র্ক; টেট মডার্ন, লন্ডন; এলি অ্যান্ড এডিথ ব্রড আর্ট মিউজিয়াম, যুক্তরাষ্ট্র; সাংহাইয়ের মডার্ন আর্ট মিউজিয়াম; আর্নহেম মিউজিয়াম; রয়্যাল অন্টারিও মিউজিয়াম, টরন্টো; সেন্ট্রাল মিউজিয়াম, নেদারল্যান্ডস; এবং কুন্সথাউস জুরিখ।
আন্তর্জাতিক শিল্পাঙ্গনে তৈয়বা বেগম লিপির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলোর মধ্যে ২০১১ সালের ৫৪তম ভেনিস বিয়েনালে বাংলাদেশের প্যাভিলিয়নের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন অন্যতম। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে তিনি বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আয়োজিত শিল্প, প্রদর্শনী ও বিভিন্ন শিল্প আয়োজনে জুরি ও সহ-জুরি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আয়োজিত শিল্পকর্মশালা, শিল্পী রেসিডেন্সি ও আর্ট টকে অংশ নিয়েছেন তিনি। তার শিল্পচর্চা ও অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেশে ও বিদেশে তিনি বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেছেন।
তার উল্লেখযোগ্য আন্তর্জাতিক শিল্পসম্পৃক্ততার মধ্যে রয়েছে ২০১৩ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত নিউইয়র্ক, সিঙ্গাপুর ও হংকংয়ে আয়োজিত গুগেনহাইম ইউবিএস ম্যাপ প্রদর্শনী; ২০১৬ সালের সন্সবিক, আর্নহেম; ২০২৩ সালের থাইল্যান্ড বিয়েনালে, চিয়াং রাই; টরন্টোর রয়্যাল অন্টারিও মিউজিয়ামে ‘বিইং অ্যান্ড বিলং’; নেদারল্যান্ডসের সেন্ট্রাল মিউজিয়ামে ‘স্টেটমেন্ট চেয়ার্স’; কাঠমান্ডু ও কলম্বোয় ‘ফেমিনিস্ট ফিউচার্স: আর্ট, অ্যাক্টিভিজম অ্যান্ড সাউথ এশিয়ান উম্যানহুড’; এবং ফ্রান্সের লিল-সুর-লা-সর্গে ফঁদাসিওঁ ভিলা দাত্রির ‘স্কালপচার কঁতেম্পোরেন’।
বৃত্ত আর্টস ট্রাস্টের অংশ হিসেবে তৈয়বা বেগম লিপি কাসেলে ডকুমেন্তা ফিফটিন, কুন্সথাউস জুরিখে ‘রিকলেক্ট’, যুক্তরাজ্যের হেয়ারউড বিয়েনালে, এশিয়া নো প্যারিস, রিয়াদে দ্বিতীয় দিরিয়াহ বিয়েনালে, রোমের ম্যাক্সিতে ‘ওয়ান প্লাস ওয়ান রিলেশনাল ইয়ার্স’ এবং ২০১১ ও ২০১৫ সালের ৫৪তম ও ৫৬তম ভেনিস বিয়েনালেসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ও শিল্প প্ল্যাটফর্মে যুক্ত ছিলেন।
তার শিল্পকর্ম বিশ্বের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় জাদুঘর, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও সংগ্রহে সংরক্ষিত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সলোমন আর গুগেনহাইম মিউজিয়াম, নিউইয়র্ক; টেট মডার্ন, লন্ডন; কুন্সথাউস জুরিখ; রয়্যাল অন্টারিও মিউজিয়াম; সেন্ট্রাল মিউজিয়াম, নেদারল্যান্ডস; ন্যাশনাল তাইওয়ান মিউজিয়াম অব ফাইন আর্টস; ফ্যাশন ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, নিউইয়র্ক; স্মিথ কলেজ মিউজিয়াম অব আর্ট; দেবী আর্ট ফাউন্ডেশন, ভারত; শেরম্যান কনটেম্পোরারি আর্ট ফাউন্ডেশন, সিডনি; বাংলাদেশের বেঙ্গল ফাউন্ডেশন ও সামদানি আর্ট ফাউন্ডেশনসহ আরও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগ্রহ।
তার শিল্পকর্ম ও শিল্পচর্চা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রকাশনা ও গ্রন্থেও স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘ফিফটি কনটেম্পোরারি উইমেন আর্টিস্টস: গ্রাউন্ডব্রেকিং কনটেম্পোরারি আর্ট ফ্রম নাইনটিন সিক্সটি টু নাও’, যা জন গসলি ও হেদার জিসেসের সম্পাদনায় ও এলিজাবেথ স্যাকলারের ভূমিকায় ২০১৮ সালে শিফার পাবলিশিং থেকে প্রকাশিত হয়। এছাড়া রয়্যাল অন্টারিও মিউজিয়ামের ‘বিইং অ্যান্ড বিলং’ এবং এলি অ্যান্ড এডিথ ব্রড আর্ট মিউজিয়ামের ‘আর্টিস্ট অ্যাজ অ্যাক্টিভিস্ট’-সংক্রান্ত প্রকাশনা ও প্রদর্শনী ক্যাটালগেও তার কাজ ও শিল্পচর্চা নথিভুক্ত হয়েছে।
এই আয়োজনটি কসমস আঁতেলিয়ের-৭১-এর সদস্য ও শিল্পবোদ্ধাদের জন্য বিশেষভাবে আয়োজিত। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা তৈয়বা বেগম লিপির সঙ্গে তার শিল্পচর্চা, সৃজনশীল ভাবনা ও সমকালীন শিল্প নিয়ে সরাসরি আলোচনা ও মতবিনিময়ের সুযোগ পাবেন।
৪ ঘণ্টা আগে
জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত: তথ্য উপদেষ্টা
কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরসহ আরও যাদের প্রচুর পরিচিতি ও ভাইরাল জনপ্রিয়তা রয়েছে, তারা ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল হবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার পর তোলা চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রসঙ্গে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করলে উপদেষ্টা বলেন, সালমান মুক্তাদির প্রথমে বিএনপির লোকজন চাঁদা চেয়েছে বলে অভিযোগ করলেও পরে বলেছেন, তার কাছে চাঁদা চাওয়া হয়নি। এ সময় তিনি প্রশ্ন রাখেন, এভাবে কোনো ব্যক্তি অপতথ্য ছড়ালে তা বন্ধে সরকার কী পদক্ষেপ নেবে।
তিনি আরও বলেন, সালমান মুক্তাদিরের সঙ্গে সরকার সহানুভূতি রেখে কথা বলছে, কারণ তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং হামলার শিকার হয়েছেন। তবে ওই অবস্থায় তিনি যেভাবে বিষয়টি বলেছেন, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, পরে সালমান মুক্তাদির নিজেই ওই বক্তব্য থেকে সরে এসেছেন এবং স্বীকার করেছেন যে বিষয়টি আসলে সেভাবে ঘটেনি। শুধু সালমান মুক্তাদিরের স্থাপনা নয়, অন্যান্য স্থাপনাও ভাঙচুরের শিকার হয়েছে বলেও তিনি জানান।
ডা. জাহেদ বলেন, কোনো রকম ভায়োলেন্সের সাফাই সরকার গাইছে না। এটি হওয়া উচিত হয়নি, এটি আটকাতে পারা উচিত ছিল। এখন অন্তত সরকারের কাজ হবে দ্রুত এ ঘটনার বিচার নিশ্চিত করা। আপনারা দেখছেন, ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের দেওয়া ফেসবুক স্ট্যাটাসের প্রসঙ্গ তুলে তথ্য উপদেষ্টা জানান, সালমান মুক্তাদিরের ভিডিও দেখার পর তিনি চাঁদাবাজির বিষয়টি উল্লেখ করে সরকারকে দায়ী করে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ওই স্ট্যাটাস এখনও রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতার ফেসবুকে তো ওই স্ট্যাটাসটি এখনও রয়ে গেছে। শুধু তিনিই নন, এনসিপির অনেক সিগনেচার (বিশিষ্ট) নেতা অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় শুধু বিএনপিকে না, বিএনপি ও এই সরকারের প্রধানকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর ভাষায় বক্তব্য দিয়েছেন। কেউ কিন্তু সেগুলো সরায়নি।’
অপতথ্য ছড়ানোর বিষয়টি বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবসের প্রতিপাদ্যেও এখন অপতথ্যের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি আশা করি, সালমান মুক্তাদিরদের মতো মানুষ, যাদের প্রচুর রিচ আছে, ভাইরাল ট্র্যাকশন আছে, তারা দায়িত্বশীল হবেন।’
ভবিষ্যতে অপতথ্য মোকাবিলায় জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি আইনি পরিসরের মধ্যে বিষয়গুলো নিয়ে আসার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তথ্য উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতের কথা বলছি, জনগণকে সচেতন করা এবং এর সঙ্গে আইনি পরিমণ্ডলের মধ্যে এগুলো নিয়ে আসার সুযোগ (রয়েছে), আপনারা জানেন একটা আইন নিয়ে কাজ হচ্ছে, সাইবার সুরক্ষা আইন। সেই আইনটা আসলে আমরা আশা করি সেই আইনি পরিসীমার মধ্যে এগুলো নিয়ে কাজ করা যাবে।’
৯ দিন আগে
কলাগাছের ভেলাবাইচ দেখতে উপচে পড়া ভিড়
নৌকাবাইচের প্রচলন থাকলেও কলাগাছের ভেলায় চড়ে বাইচ সচরাচর চোখে পড়ে না। সম্প্রতি এমনই এক ব্যতিক্রমী ও আনন্দদায়ক আয়োজনের সাক্ষী হয়েছে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের বড়ুরিয়া খাল।
গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা এই প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলা দেখতে খালের দুই পাড়ে উপচে পড়া ভিড় জমেছিল। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধসহ সব বয়সের হাজারো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
১০ দিন আগে
ইতালিতে আ. লীগ সমর্থকদের হাতে হেনস্তা ও হামলার শিকার বাঁধন
ইতালির ভেনিসে স্থানীয় একটি পার্কে ভাই ও তার পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে একদল মানুষের হেনস্তা ও শারীরিক লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে ফেসবুকে প্রকাশ করা এক ভিডিওতে বাঁধন ঘটনার বর্ণনা দেন।
আরেকটি ভিডিওতে একদল মানুষকে অভিনেত্রীর ওপর হামলা করতে এবং তার দিকে ডিম, পানি ও কোকাকোলা ছুড়তে দেখা যায়।
ভিডিওতে হামলাকারীদের বাঁধনকে ‘জুলাই জঙ্গী’ ও ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলতে এবং ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে বলতে শোনা যায়। তারা পুরো ঘটনাটি ভিডিও করছিলেন।
বাঁধন দাবি করেন, ঘটনার সময় তার মোবাইল ফোন ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয় এবং তার কানের কাছে আঘাত করা হয়। এ সময় তার ভাইয়ের স্ত্রীকেও ধাক্কা দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, হামলাকারীরা নিজেদের ভেনিস আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণে তাকে লক্ষ্যবস্তু করেন।
বাঁধন বলেন, ‘আমি অবশ্যই জুলাইযোদ্ধা। জুলাইয়ে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি।’
আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে গিয়ে এ ধরনের আচরণের সমালোচনা করে এই অভিনেত্রী বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
হামলাকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি ভেনিস উৎসবে যে সিনেমাটি নিয়ে এসেছি, সেটির পরিচালক রুবাইয়াত হাসানের বাবা আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ছিলেন। আমি তার সঙ্গে জুলাই আন্দোলনের পরেও কাজ করছি। আপনাদের এ ধরনের অসংলগ্ন আচরণ থেকে বের হয়ে আসা উচিত ছিল। আপনারা এভাবে নিজেদের ফেরাতে পারবেন না।’
তিনি জানান, ঘটনার বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি ইতোমধ্যে ভেনিসের স্থানীয় পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
বাঁধন বলেন, ‘একজন আজমেরী হক বাঁধনকে দমানো এত সহজ হবে না। আপনারা আজ সারা বিশ্বের মানুষকে দেখালেন, বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী একজন অভিনেত্রীকে হেনস্তা করা হলো।’
এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের কোনো রাজনৈতিক দলের অংশ হওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বর্তমানে ভাই ও তার পরিবারের সঙ্গে ভেনিসে অবস্থান করছেন বাঁধন। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ ছবিটির প্রদর্শনী উপলক্ষে তিনি সেখানে রয়েছেন। ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ৮৩তম আসরের প্রতিযোগিতামূলক ‘অরিজন্তি’ বিভাগে ছবিটি প্রদর্শিত হচ্ছে।
৬ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে সালা দারসেনায় ছবিটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্য দিয়ে উৎসবে বাংলাদেশের একটি চলচ্চিত্রের ঐতিহাসিক উপস্থিতি ঘটে।
ছবিটিতে চারটি প্রধান নারী চরিত্রে অভিনয় করেছেন বাঁধন, জাইনিন করিম, রিকিতা নন্দিনী শিমু ও সুনেরাহ বিনতে কামাল। ছবিটি পরিচালনা করেছেন রুবাইয়াত হোসেন।
‘রেহানা মরিয়ম নূর’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত বাঁধন বর্তমানে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। ভেনিসের ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
৩০ দিন আগে
সালমান শাহ: তিন দশকের মুগ্ধতা, স্মৃতি ও অমীমাংসিত প্রশ্ন
কিছু তারকা আসেন, উজ্জ্বলভাবে আলো ছড়ান এবং সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যান। তবে খুব অল্প কয়েকজন প্রজন্মের পর প্রজন্মের স্মৃতিতে থেকে যান। চলে যাওয়ার কয়েক দশক পরও তাদের উপস্থিতি মুছে যায় না।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এমন তারকাদের মধ্যে সালমান শাহর মতো দীর্ঘস্থায়ী ছাপ খুব কমই কেউ রেখে যেতে পেরেছেন। আজ (রবিবার) তার ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল সময়ে ১৯ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া এই জনপ্রিয় অভিনেতার নাম ছিল চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৫ বছর বয়সে তিনি মারা যান।
মাত্র প্রায় চার বছরের ক্যারিয়ারে সালমান শাহ নব্বইয়ের দশকের বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অন্যতম তারকা হয়ে ওঠেন। ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তার অভিষেক হয়। এরপর ‘সত্যের মৃত্যু নেই’, ‘সুজন সখী’, ‘এই ঘর এই সংসার’, ‘আনন্দ অশ্রু’সহ বিভিন্ন চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের মন জয় করে নেন।
শাবনূরের সঙ্গে তার জুটি বিশেষভাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ঢালিউডে যার সঙ্গে তার অভিষেক হয়েছিল সেই মৌসুমীসহ শাবনাজ, লিমা ও শাহনাজের মতো শীর্ষ অভিনেত্রীদের সঙ্গেও তার অভিনয় তাকে রোমান্টিক নায়ক হিসেবে আরও প্রতিষ্ঠিত করে।
সালমান শাহর পোশাক, চুলের স্টাইল ও পর্দায় সাবলীল উপস্থিতি তাকে অনুসরণীয় তারকায় পরিণত করে। জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে যার প্রভাব এখনও অনুভূত হয়।
তবে এই তারকার প্রতি দীর্ঘস্থায়ী ভালোবাসার পাশাপাশি তার মৃত্যু ঘিরে প্রশ্নও তিন দশক ধরে অমীমাংসিত রয়ে গেছে। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
পরবর্তী তদন্তগুলোতে তাকে হত্যার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এটি আত্মহত্যা বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। ২০২০ সালে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তেও একই সিদ্ধান্ত আসে।
তবে সালমান শাহর পরিবার বরাবরই এসব সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে দাবি করে আসছে, তাকে হত্যা করা হয়েছে।
২০২৫ সালের অক্টোবরে ঢাকার একটি আদালত সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা করার নির্দেশ দিলে বিষয়টি নতুন মোড় নেয়। পরে তার প্রাক্তন স্ত্রী সামিরা হক, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, অভিনেতা আশরাফুল হক ডনসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
মামলাটি এখনও তদন্তাধীন। চলতি বছরের আগস্টে ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা কয়েক দফা পেছানো হয়েছে। সর্বশেষ ২৯ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করা হয়েছে।
সালমান শাহর মৃত্যুর তিন দশক পর আজও তার জনপ্রিয়তা একটুও কমেনি। তাকে দেখে বড় হওয়া দর্শকদের কাছে তিনি এখনও তার সিনেমার পর্দায় থাকা সেই তরুণ নায়ক, যার আকর্ষণ আজও অমলিন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতেও এই কিংবদন্তি অভিনেতার অগণিত ভক্তের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় ভরে উঠেছে।
ঢালিউডের সবচেয়ে বড় ‘যদি-কিন্তু’র গল্পগুলোর একজন সালমান শাহ। তিনি কখনোই সত্যিকার অর্থে পর্দা কিংবা তাকে কিংবদন্তিতে পরিণত করা মানুষের হৃদয় থেকে বিদায় নেননি।
৩২ দিন আগে
৯২ বছর বয়সে চলে গেলেন আশা ভোঁসলে
চিরসবুজ ও বহুমাত্রিক কণ্ঠে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সংগীতপ্রেমীদের মুগ্ধ করা বর্ষীয়ান সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।
রবিবার (১২ এপ্রিল) মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।
ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, আশা ভোঁসলের ছেলে আনন্দ ভোঁসলে মায়ের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে বলেন, ‘তিনি আর নেই। আগামীকাল বিকেল ৪টায় মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে।’
সংবাদ প্রতিদিনের খবরে বলা হয়েছে, শনিবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বুকে সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন আশা ভোঁসলে। এমার্জেন্সি কেয়ার ইউনিটে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল তাকে। হাসপাতালে নিয়ে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, কিংবদন্তী এই সংগীতশিল্পীর শারীরিক অবস্থা বেশ আশঙ্কাজনক।
দ্রুত তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু, শেষ রক্ষা হয়নি। তার মৃত্যুতে সংগীতের একটা যুগের অবসান ঘটল।
চলতি বছরের ৮ সেপ্টেম্বর ৯৩ বছরে পা দিতেন ‘পিয়া তু আব তো আজা’, ‘কাজরা মোহাব্বত ওয়ালা’, ‘রঙ্গিলা রে’ ও ‘দিল চিজ ক্যা হ্যায়’-এর মতো অসংখ্য জনপ্রিয় গানের জন্য খ্যাত আশা ভোঁসলে। তার প্রয়াণে সংগীত জগতে এবং তার গান শুনে বড় হওয়া অগণিত ভক্তের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মাত্র ১০ বছর বয়সে ১৯৪৩ সালের মারাঠি চলচ্চিত্র ‘মাঝা বাল’-এ ‘চালা চালা নব বালা’ গান দিয়ে চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক শুরু করেন তিনি। শুরুতে ‘ও হাসিনা জুলফোঁওয়ালি’-র মতো আইটেম গানের জন্য তার ওপর একটি নির্দিষ্ট তকমা লেগে গিয়েছিল। তবে পরবর্তীতে ‘দিল চিজ ক্যা হ্যায়’-এর মতো গজল এবং ‘তোরা মন দর্পণ কহলায়’-এর মতো ধ্রুপদী সংগীতে নিজের গভীরতা প্রমাণ করেন আশা।
১৭৯ দিন আগে
সুচিত্রা সেন: পাবনার এক সাধারণ মেয়ে থেকে মহানায়িকা হয়ে ওঠার গল্প
‘তুমি যে আমার, ওগো তুমি যে আমার’—হারানো সুর ছবির এই গানের সুর এখনো বাঙালির হৃদয় ছুঁয়ে যায়। ‘এই পথ যদি না শেষ হয়, তবে কেমন হতো তুমি বল তো?’—এই প্রশ্ন শুধু একটি গানের নয়, এটি এক যুগের আবেগ। আর সেই আবেগের কেন্দ্রে ছিলেন সুচিত্রা সেন। তার হাসি, দৃষ্টি আর নীরবতায় আজও বেঁচে আছেন বাঙালির হৃদয়ে।
সব মহানায়িকার গল্পই আলোঝলমলে স্টুডিও থেকে শুরু হয় না। কিছু গল্প জন্ম নেয় ধুলিমাখা ছোট শহরে, যেখানে স্বপ্নগুলো নিঃশব্দে বড় হয়ে ওঠে। সুচিত্রা সেনের গল্পও তেমনই। পাবনার এক সাধারণ মেয়ে, যিনি একদিন হয়ে উঠেছিলেন বাংলা সিনেমার চিরন্তন ‘মহানায়িকা’।
পাবনা থেকে পথচলা
সুচিত্রা সেনের জন্ম ১৯৩১ সালের ৬ এপ্রিল, তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাবনা জেলার বেলকুচিতে। তার প্রকৃত নাম রমা দাশগুপ্ত। বাবা করুণাময় দাশগুপ্ত ছিলেন স্কুলশিক্ষক এবং মা ইন্দিরা দাশগুপ্ত গৃহিণী। একটি সাধারণ, সাদামাটা পরিবেশে পাবনাতেই কেটেছে তার শৈশব ও প্রাথমিক শিক্ষাজীবন। পরবর্তীতে কলকাতায় স্থানান্তরিত হয় তার পরিবার।
কলকাতার পথে
১৯৪৭ সালে অল্প বয়সেই তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর কলকাতায় এসে তার জীবনে নতুন মোড় আসে। চলচ্চিত্রে প্রবেশ তার জন্য সহজ ছিল না। প্রথমদিকে কয়েকটি সিনেমা তেমন সাড়া ফেলেনি। তবে তিনি থেমে যাননি। নিজের অভিনয়, অভিব্যক্তি ও উপস্থিতিকে ধীরে ধীরে নিখুঁতভাবে গড়ে তোলেন।
ক্যারিয়ারের উত্থান
১৯৫০-এর দশক থেকেই তার অভিনয় জীবনের উজ্জ্বল সূচনা। বিশেষ করে উত্তম কুমারের সঙ্গে তার জুটি বাংলা সিনেমায় এক নতুন যুগের সূচনা করে। হারানো সুর, সপ্তপদী, দীপ জ্বেলে যাই-এর মতো চলচ্চিত্রগুলো শুধু জনপ্রিয়ই হয়নি, বরং কালজয়ী হয়ে উঠেছে।
‘সাড়ে চুয়াত্তর’ (১৯৫৩) থেকে ‘প্রিয় বান্ধবী’ (১৯৭৫) পর্যন্ত প্রায় ৩০টি ছবিতে এই জুটি এক সঙ্গে কাজ করে বাংলা সিনেমার ইতিহাসে স্বর্ণযুগ রচনা করে। তার অভিনয়ে ছিল আত্মমর্যাদা ও সংযমের অনন্য মিশ্রণ। হিন্দি চলচ্চিত্রেও তিনি নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন।
বিশেষত্ব
সুচিত্রা সেন শুধু একজন অভিনেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন এক রহস্যময়ী ব্যক্তিত্ব। তার চোখের ভাষা, সংযত অভিব্যক্তি এবং পর্দায় উপস্থিতির শক্তি তাকে আলাদা করে তুলেছিল।
তিনি কখনো অতিরিক্ত প্রচারে বিশ্বাসী ছিলেন না, বরং নিজেকে আড়ালেই রাখতে পছন্দ করতেন। ক্যারিয়ারের চূড়ায় থাকা অবস্থায় হঠাৎ করেই লাইম লাইট থেকে দূরে সরে যান। এই স্বেচ্ছা-নির্জনবাসই তাকে আরও বেশি রহস্যময় করে তোলে।
জীবনের শেষ তিন দশক তিনি কাটান প্রায় সম্পূর্ণ নির্জনতায়। যেন তিনি নীরবে প্রশ্ন রেখে গেছেন—ভালোবাসা কি শুধু পাওয়া, নাকি ছেড়ে দেওয়ার মধ্যেও তার পূর্ণতা আছে?
‘কিছু দৃশ্য কখনো পুরোনো হয় না, কিছু মুখ কখনো ভুলে যাওয়া যায় না’—বাংলা সিনেমার সেই চিরন্তন মুখগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র সুচিত্রা সেন। পাবনার এই মেয়ে সময় ও দেশের সীমানা পেরিয়ে হয়ে উঠেছেন এক কিংবদন্তি।
দর্শকপ্রিয় কিছু চলচ্চিত্র
দীপ জ্বেলে যাই (১৯৫৯)
এক মানসিক হাসপাতালের নার্স ‘রাধা’ চরিত্রে তার অভিনয় মানবিকতার অসাধারণ দৃষ্টান্ত। সংযত অভিনয়ের মাধ্যমে চরিত্রের গভীর যন্ত্রণা তুলে ধরেছেন।
সপ্তপদী (১৯৬১)
উত্তম কুমারের সঙ্গে তার রসায়ন বাংলা সিনেমায় নতুন উচ্চতা তৈরি করে। ধর্ম, সমাজ ও প্রেমের সংঘাতে গড়ে ওঠা এই গল্পে তিনি এক আধুনিক নারীর প্রতিচ্ছবি তুলে ধরেন।
সাত পাকে বাঁধা (১৯৬৩)
এই ছবিতে এক স্বাধীনচেতা নারীর মানসিক টানাপোড়েন সূক্ষ্মভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। এ অভিনয়ের জন্য তিনি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পান।
আন্ধি (১৯৭৫)
হিন্দি চলচ্চিত্রে তার অন্যতম শক্তিশালী কাজ। একজন নারী রাজনীতিকের চরিত্রে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব বাস্তবভাবে তুলে ধরেন।
দেবদাস (১৯৫৫)
বিমল রায় পরিচালিত এই ক্লাসিক ছবিতে ‘পার্বতী’ চরিত্রে তার অভিনয় ছিল গভীর আবেগে ভরপুর।
সম্মাননা ও স্বীকৃতি
তার অভিনয় দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ ভারত সরকার তাকে ‘পদ্মশ্রী’ পুরষ্কারে ভূষিত করে; পশ্চিমবঙ্গ সরকার দেয় ‘বঙ্গবিভূষণ’ পুরষ্কার।
সত্যজিৎ রায়ের ‘ঘরে বাইরে’ চলচ্চিত্রে কাজের প্রস্তাব তিনি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। এছাড়া রাজ কাপুরের সঙ্গেও কাজ করেননি ব্যক্তিগত কারণে। দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারের জন্য মনোনীত হলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি যা তার ব্যক্তিত্বের দৃঢ়তারই প্রমাণ।
সুচিত্রা সেন নেই, কিন্তু তার উপস্থিতি রয়ে গেছে প্রতিটি ক্লাসিক দৃশ্য, সংলাপ আর স্মৃতিতে। তিনি শুধু একজন নায়িকা নন; তিনি এক অনুভূতি, এক ইতিহাস, এক চিরন্তন রহস্য।
পাবনার সেই সাধারণ মেয়েটি প্রমাণ করে গেছেন, মহানায়িকা হয়ে ওঠা শুধু ভাগ্যের বিষয় নয়; প্রতিভা, ব্যক্তিত্ব ও নিজস্বতার সমন্বয়ই একজনকে কিংবদন্তি করে তোলে। আজ তার জন্মদিনে তাকে স্মরণ করা মানে শুধু একজন অভিনেত্রীকে নয়, এক যুগকে স্মরণ করা।
১৮৫ দিন আগে
চার বছর পর মঞ্চে ফিরছে বিটিএস
চার বছরের বিরতির ভেঙে মঞ্চে ফিরছে জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস। শনিবার (২১ মার্চ) সিউলে বিশাল এক ফ্রি কনসার্টের মাধ্যমে মঞ্চে প্রত্যাবর্থন করছে ব্যান্ডটি।
বিটিএসের অনুষ্ঠান ঘিরে সিউলে হাজারো ভক্তের সমাগম ঘটেছে। রাজধানীর গোয়াংহওয়ামুন স্কয়ারে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠান উপলক্ষে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং আশপাশের সড়কে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এই কনসার্টের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও এশিয়াজুড়ে একাধিক শো নিয়ে দীর্ঘ বৈশ্বিক সফরের সূচনা হচ্ছে বিটিএসের।
ব্যান্ডের সাত সদস্য—আরএম, জিন, সুগা, জে-হোপ, জিমিন, ভি ও জাং কুক সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার বাধ্যতামূলক সামরিক দায়িত্ব শেষ করেছেন। এবার তারা আবারও বিশ্বসেরা পপ তারকাদের কাতারে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
এক ঘণ্টার এই কনসার্টের আগের দিন ব্যান্ডটি তাদের পঞ্চম অ্যালবাম আরিরাঙ (ARIRANG) প্রকাশ করে। অ্যালবামটির ঘোষণার পর জানুয়ারি মাস থেকে এ পর্যন্ত লাখ লাখ কপি প্রি-অর্ডার পেয়েছে বিটেএস।
ব্যান্ডটির ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান হাইব (HYBE) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার মহড়ার সময় আরএমের গোড়ালিতে চোট লাগে, তবে কিছু সীমাবদ্ধতা নিয়ে তিনি মঞ্চে পারফর্ম করবেন।
কর্তৃপক্ষের ধারণা, এই কনসার্টে দুই লাখের বেশি মানুষ উপস্থিত থাকতে পারেন। এর মধ্যে ২২ হাজার দর্শক নির্ধারিত স্থানে বসে সরাসরি উপভোগ করবেন এবং অন্যরা আশপাশের বড় পর্দায় অনুষ্ঠানটি দেখবেন। অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করবে নেটফ্লিক্স।
২০১৩ সালে যাত্রা শুরু করা বিটিএসের বিশ্বজুড়ে বিশাল ভক্তগোষ্ঠী রয়েছে, যাদের ‘আর্মি’ নামে ডাকা হয়। ২০২০ সালে তাদের প্রথম ইংরেজি গান ডিনামাইট (Dynamite) বিলবোর্ড হট ১০০-এর শীর্ষে উঠে কে-পপ ইতিহাসে নতুন মাইলফলক গড়ে।
২০১ দিন আগে
মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন মেহজাবিন চৌধুরী
পারিবারিক ব্যবসার অংশীদার হিসেবে রাখার বিনিময়ে ২৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ, হুমকি-ধামকি ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলা থেকে মডেল ও অভিনেত্রী মেহজাবিন চৌধুরী ও তার ভাই আলিশান চৌধুরীকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে এই মামলার শুনানি নিয়ে ঢাকার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আদনান জুলফিকার এই আদেশ দেন। মেহজাবিনের আইনজীবী তুহিন হাওলাদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, বাদীর সঙ্গে দীর্ঘদিন পরিচয়ের সুবাদে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে আসামি মেহজাবীন চৌধুরীর নতুন পারিবারিক ব্যবসার পার্টনার (অংশীদার) হিসেবে রাখবে বলে নগদ অর্থ এবং বিকাশের মাধ্যমে বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে মোট ২৭ লাখ টাকা দেন। এরপর মেহজাবীন ও তার ভাই দীর্ঘদিন ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ না নেওয়ায় বাদী বিভিন্ন সময় টাকা চাইতে গেলে দীর্ঘদিন কালক্ষেপণ করেন।
পরবর্তীতে গত ১১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে পাওনা টাকা চাইতে গেলে তারা ১৬ মার্চ হাতিরঝিল রোডের পাশে একটি রেস্তোরাঁয় আসতে বলেন। ওইদিন ঘটনাস্থলে গেলে মেহজাবীন ও তার ভাইসহ আরও অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। তারা বলেন, এরপর তুই আমাদের বাসায় টাকা চাইতে যাবি না; তোকে বাসার সামনে আবার দেখলে জানে মেরে ফেলব।
এসব কথা বলে তারা বাদীকে জীবননাশের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এরপর বিষয়টি সমাধানের জন্য বাদী সংশ্লিষ্ট ভাটারা থানায় গেলে থানা কর্তৃপক্ষ আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়।
পরে আমিরুল ইসলাম বাদী হয়ে ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭/ ১১৭(৩) ধারায় মামলা করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলাটিতে আসামি মেহজাবীন চৌধুরী ও তার ভাই আলিসান চৌধুরীর আদালতে হাজির না হওয়ায় গত ১০ নভেম্বর আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরে ১৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩-এ আফরোজা হক তানিয়ার আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন তারা। সেদিন শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেছিলেন।
২৬৯ দিন আগে
আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন মেহজাবীন
অর্থ আত্মসাৎ, হুমকি-ধামকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে করা মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন মডেল ও অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী এবং তার ভাই আলিসান চৌধুরী। পাশাপাশি এ সংক্রান্ত জবাব দাখিলের জন্য আগামী ১৮ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।
রবিবার (১৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩-এর বিচারক আফরোজা তানিয়া তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মেহজাবীন চৌধুরীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট তুহিন হাওলাদার সাংবাদিকদের বলেন, বাদীর আর্জির সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই। তিনি ঘটনাস্থল উল্লেখ করেছেন হাতিরঝিল, কিন্তু মামলা করতে গেছেন ভাটারা থানায়। পরে সেখানে মামলা না নেওয়ায় সরাসরি আদালতে মামলা দায়ের করেন বাদী।
এর আগে গত ১০ নভেম্বর এ মামলায় মেহজাবীন ও তার ভাই আলিসান চৌধুরীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকার একটি আদালত।
গত ১০ নভেম্বর মামলাটিতে আসামিদের আদালতে হাজির হওয়ার দিন ধার্য ছিল। তবে তারা আদালতে হাজির হননি। এ জন্য আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, আমিরুল ইসলামের সঙ্গে দীর্ঘদিন পরিচয়ের সুবাদে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে মেহজাবীন চৌধুরীর নতুন পারিবারিক ব্যবসার পার্টনার হিসেবে রাখার কথা বলেন। এ কারণে বাদী নগদ অর্থে এবং বিকাশের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে ২৭ লাখ টাকা দেন। এরপর মেহজাবীন ও তার ভাই দীর্ঘদিন ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ না নেওয়ায় আমিরুল ইসলাম বিভিন্ন সময় টাকা চাইতে গেলে কালক্ষেপণ করতে থাকেন আসামিরা।
গত ১১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে আবারও পাওনা টাকা চাইতে যান তিনি। তখন তাকে ১৬ মার্চ হাতিরঝিল রোডের পাশে একটি রেস্টুরেন্টে আসতে বলা হয়। ওই দিন ঘটনাস্থলে গেলে মেহজাবীন ও তার ভাইসহ আরও অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জন তাকে গালিগালাজ করেন। তারা বলেন, ‘এরপর তুই আমাদের বাসায় টাকা চাইতে যাবি না। তোকে বাসার সামনে আবার দেখলে জানে মেরে ফেলব।’
বিষয়টি সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ভাটারা থানায় গেলে কর্তৃপক্ষ আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়। এ ঘটনায় আমিরুল ইসলাম ২৪ মার্চ বাদী হয়ে ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন।
৩২৬ দিন আগে