জীবনধারা
নববর্ষের শোভাযাত্রার নতুন নাম ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে বের হওয়া শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন করে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতিবিষয়কমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
রবিবার (৫ এপ্রিল) বাংলা নববর্ষ এবং চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো এবং অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নববর্ষ উদযাপনের বিভিন্ন কর্মসূচি বিষয়ে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ কথা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, নাম (শোভাযাত্রা) নিয়ে একটা বিতর্ক, আমরা এই বিতর্কের অবসান করতে চাই। আমরা আজকের মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে এটাকে আমরা ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ও বলব না, ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ও বলব না। শোভাযাত্রা হবে যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে; এখানে সমস্ত সাংস্কৃতির প্রদর্শন থাকবে। যার যার মতো ঢোল-বাদ্য পোশাক-আশাক নিয়ে একটা আনন্দঘন শোভাযাত্রা হবে। এই শোভাযাত্রার নাম হবে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’। বৈশাখী মেলা, বৈশাখী শোভাযাত্রা, বৈশাখী আনন্দ—যা কিছু, সবকিছুতে আমরা বৈশাখকে প্রাধান্য দিতে চাই। এটা আমাদের সিদ্ধান্ত।
তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখ নিয়ে একটি গোষ্ঠীর মধ্যে দ্বন্দ্ব লক্ষ করা যাচ্ছে। হাজার বছরের পুরনো পহেলা বৈশাখ, ১৯৮৯ সালের এরশাদের আমলে এ শোভাযাত্রাটি ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ নামে চালু হয়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা আসার পর তারা আনন্দ বাদ দিয়ে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ করে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এসে আবার এটার নাম ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ করে। এখন কেউ বলছে, শোভাযাত্রার নাম আনন্দই থাকতে হবে, আবার কেউ বলছে মঙ্গল হতে হবে।
নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, জনগণ, জাতি ও দেশের কাছে এ সরকারের দায়বদ্ধ। আমরা চাই, অতীতের যা কিছু গ্লানি, সেটা নিয়ে তো আমরা আছিই, সেটা ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে। কিন্তু, আমরা আমাদের দেশে, সমাজে বিভাজন চাই না; মানুষের মাঝে অনৈক্য, সংঘাত—এগুলো আমরা চাই না। আমরা বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্য চাই। একটি গণতান্ত্রিক সমাজে বিভিন্ন মতের, বিভিন্ন আদর্শের বিভিন্ন ভাবনার লোক থাকবে। বিভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শের লোকও থাকবে। এটি গণতান্ত্রিক সমাজের সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য।
নাম ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ করায় ইউনেস্কোর স্বীকৃতির ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আসতে পারে কিনা— এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আমরা কি ইউনেস্কো দ্বারা পরিচালিত সরকার বা দেশ নাকি? যখন নাম ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ ছিল, তখনও ইউনেস্কো ছিল, যখন ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ ছিল, তখনও ইউনেস্কো ছিল। আমরা তাদের জানিয়ে দেব যে আমাদের দেশে এখন থেকে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ হবে, এটাই আমাদের ঐতিহ্য।
তিনি আরও বলেন, শোভাযাত্রার নামে ইউনেস্কো কোনো স্বীকৃতি দেয়নি, তারা দিয়েছে বৈশাখের উৎসবের ওপরে; তারা বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে তুলে ধরেছে। আমাদের সাংস্কৃতি কি শোভাযাত্রা শুধু? নানান ব্যাপার আছে।
উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ ১৯৮৯ সালে যে শোভাযাত্রার সূচনা করে, তখন এর নাম ছিল ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’। পরবর্তীতে নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এটি নতুন তাৎপর্য পায়। অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং শুভ শক্তির আহ্বানের প্রতীক হিসেবে তখন এর নামকরণ করা হয় ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’।
ক্রমে এই শোভাযাত্রা শুধু নববর্ষ উদযাপনের অংশ না থেকে সাংস্কৃতিক প্রতিবাদের একটি প্রতীকী মাধ্যমে পরিণত হয়। এর গুরুত্ব আন্তর্জাতিক পর্যায়েও স্বীকৃতি পায়, যখন ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।
তবে গত বছর বাংলা নববর্ষ-১৪৩২ উপলক্ষে আয়োজকরা মঙ্গল শোভাযাত্রার পরিবর্তে ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’ নাম ব্যবহার করেন। তাদের দাবি, এটি নতুন কিছু নয়; বরং ১৯৮৯ সালের মূল নামেই ফিরে যাওয়া।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এই নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তকে ঘিরে দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়। একদল মনে করে, ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ ইতোমধ্যেই ঐতিহ্য ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির অংশ হয়ে উঠেছে, তাই এর নাম পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। অন্যদিকে, ভিন্নমতাবলম্বীরা মনে করেন, নামের পরিবর্তনের মাধ্যমে আয়োজনটির সর্বজনীনতা আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা সম্ভব।
এমন পক্ষে-বিপক্ষে মতবিরোধের মধ্যেই এবার ভিন্ন একটি পথ বেছে নিয়েছে বর্তমান সরকার।
২১ ঘণ্টা আগে
বস্তুবাদের ভিড়ে স্বস্তির খোঁজ: মিনিমালিজম এখন সময়ের দাবি
আধুনিক নাগরিক জীবনের ব্যস্ততা আর ভোগের নেশায় আমরা যখন ক্লান্ত, ঠিক তখনই বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে জনপ্রিয়তা পাওয়া ‘মিনিমালিজম’ ধারণাটি নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে।
মিনিমালিজম কেবল ঘর সাজানোর কোনো আধুনিক ট্রেন্ড নয়, বরং এটি এক গভীর জীবনদর্শন, যার মূলমন্ত্র হলো— ‘লেস ইজ মোর’ বা অল্পেই তুষ্টি। অপ্রয়োজনীয় বস্তুগত ও মানসিক বোঝা ঝেড়ে ফেলে জীবনের প্রকৃত অর্থ খুঁজে পাওয়াই এই জীবনধারার লক্ষ্য।
ভোগবাদের মরীচিকা ও শূন্যতার ফাঁদ
বর্তমান বিশ্ব এক অদ্ভুত ‘ভোক্তাবাদ’ বা কনজিউমারিজম-এর কবলে। বিজ্ঞাপন আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চাকচিক্য আমাদের প্রতিনিয়ত বোঝাতে চায় যে, নতুন মডেলের ফোন বা দামী আসবাবই সুখের চাবিকাঠি। কিন্তু বস্তুগত সম্পদ জমানোর এই নিরন্তর ইঁদুর দৌড় আদতে মানুষের ভেতরে এক ধরনের দীর্ঘস্থায়ী শূন্যতা ও অপূর্ণতা তৈরি করে। এই চক্র থেকে মুক্তি পেতেই বিশ্বজুড়ে মানুষ এখন ঝুঁকছে মিনিমালিজমের দিকে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মাঝে এই ধারণার জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে।
কেন বেছে নেবেন মিনিমালিস্ট জীবনধারা?
মিনিমালিজম চর্চার সুফল বহুমুখী। এটি চর্চার ফলে জীবনের নানা ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কম জিনিস মানে কম উদ্বেগ; ফলে মানসিক প্রশান্তি বাড়ে। একইসঙ্গে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমে গিয়ে সঞ্চয়ের সুযোগ তৈরি হয়।
শুধু তা-ই নয়, জীবনের প্রতিটি স্তরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনে মিনিমালিজম। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:
মানসিক প্রশান্তি: ঘরে জিনিসের জঞ্জাল যত কম, মস্তিষ্কে দুশ্চিন্তার ভারও তত হালকা। এটি সরাসরি মানসিক চাপ বা স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে।
আর্থিক সচ্ছলতা: হুজুগে কেনাকাটা বন্ধ করলে সঞ্চয়ের হার বাড়ে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত খরচ এড়িয়ে চলাই এর মূল দর্শন।
পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতা: যত কম পণ্য কেনা হবে, কার্বন ফুটপ্রিন্ট তত কমবে। মিনিমালিজমের মাধ্যমে পুনর্ব্যবহারযোগ্য এবং পরিবেশবান্ধব পণ্য ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ে। এটি টেকসই উন্নয়নের অন্যতম পথ।
মনোযোগ ও সৃজনশীলতা: চারপাশ ছিমছাম থাকলে গুরুত্বপূর্ণ কাজে মনোযোগ দেওয়া সহজ হয়। এতে কাজের মান ও গতি—দুই-ই বাড়ে। ফলে জীবনের লক্ষ্য পূরণে এগিয়ে যাওয়া সহজ হয়।
সম্পর্কের উন্নয়ন: মানুষ যখন বস্তুর পেছনে ছোটা কমিয়ে দেয়, তখন সে প্রিয়জন ও পরিবারকে দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সময় ও মানসিক শক্তি খুঁজে পায়। ফলে সম্পর্কের উন্নয়নে আসে অভূতপূর্ব ইতিবাচক পরিবর্তন।
টেকসই পণ্য ও সচেতন কেনাকাটা: মিনিমালিস্টরা সস্তা ও ক্ষণস্থায়ী জিনিসের চেয়ে টেকসই ও গুণগত মানসম্পন্ন (Quality over Quantity) পণ্যকে প্রাধান্য দেন। নতুন কিছু কেনার আগে তারা নিজেকে প্রশ্ন করেন—এটি কি আমার জন্য সত্যিই প্রয়োজনীয়? উত্তর যদি ‘না’ হয়, তবে সেটি কেনার প্রয়োজন নেই। এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখা যায়, মিনিমালিস্টরা অপ্রয়োজনীয় খরচ থেকে বিরত থাকেন এবং শুধুমাত্র সেই জিনিস কেনেন যা তাদের জীবনে সত্যিকার অর্থে কাজে লাগবে।
অন্দরসজ্জায় নান্দনিক মিনিমালিজম
ইন্টেরিয়র ডিজাইনের ক্ষেত্রে মিনিমালিজম মানে ঘরকে শূন্য করে ফেলা নয়, বরং ফাঁকা জায়গার সঠিক ব্যবহার। এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো— ১. সাদা, ধূসর বা হালকা নিউট্রাল রঙের আধিক্য। ২. আসবাবপত্রে বাহুল্য বর্জন এবং জ্যামিতিক লাইনের প্রাধান্য। ৩. প্রতিটি বস্তুর নির্দিষ্ট কার্যকারিতা থাকা।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, একটি আদর্শ মিনিমালিস্ট শয়নকক্ষে কেবল একটি আরামদায়ক বিছানা, প্রয়োজনীয় ল্যাম্পশেড আর দু-একটি ব্যক্তিগত স্মারক থাকতে পারে। এতে ঘরটি হয়ে ওঠে খোলামেলা ও প্রশান্তির নীড়।
প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা
মিনিমালিজম নিয়ে সমাজে কিছু ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত আছে। অনেকে মনে করেন এটি এক ধরনের কৃচ্ছ্রসাধন বা সন্ন্যাস জীবন। আসলে তা নয়। এর অর্থ হলো নিজের মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়া। এটি আপনাকে শপিং মলের ভিড় আর অনলাইন সেলের প্রলোভন এড়িয়ে একটি সুস্থ ও স্বাভাবিক মনস্তত্ত্ব গঠনে সহায়তা করে।
বস্তুত, মিনিমালিজম আমাদের শেখায় যে জীবনের সৌন্দর্য জিনিসের সংখ্যায় নয়, বরং অভিজ্ঞতার গভীরতায় নিহিত। এটি কেবল একটি পছন্দ নয়, বরং একবিংশ শতাব্দীর অস্থিরতা থেকে বাঁচার একটি কার্যকর কৌশল।
১১ দিন আগে
২০৪০ সালের মধ্যে মুটিয়ে যাবে বিশ্বের ৫০ কোটির বেশি শিশু!
কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ২০৪০ সালের মধ্যে ২২ কোটির বেশি শিশু স্থূলতায় আক্রান্ত হতে পারে বলে এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। আর এই সময়ের মধ্যে মুটিয়ে যাবে ৫০ কোটির বেশি শিশু।
প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে এ বিষয় নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা বিশ্ব স্থুলতা ফেডারেশন।
দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে সারা বিশ্বে প্রায় ১৮ কোটি শিশু স্থূলতায় ভুগছিল। তবে বিশ্ব স্থূলতা ফেডারেশনের নতুন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০৪০ সালের মধ্যে ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী প্রায় ২২ কোটি ৭০ লাখ শিশু স্থূলতায় আক্রান্ত হবে। আর পঞ্চাশ কোটির বেশি শিশু মুটিয়ে যাবে।
ফেডারেশনের ২০২৬ সালের ওয়ার্ল্ড ওবেসিটি অ্যাটলাস অনুযায়ী, এর অর্থ দাঁড়াবে কমপক্ষে ১২ কোটি স্কুলপড়ুয়া শিশুর উচ্চ বিএমআইয়ের (শরীর ও স্বাস্থ্যের ভারসাম্য পরিমাপক) কারণে দীর্ঘমেয়াদি রোগের প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দেবে।
কারও বিএমআই ৩০ বা তার বেশি হলে তাকে স্থূল হিসেবে এবং ২৫-এর বেশি হলে অতিরিক্ত ওজনের মানুষ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়।
ওয়ার্ল্ড ওবেসিটি ফেডারেশনের প্রধান নির্বাহী ইয়োহানা রলস্টান বলেন, বিশ্বব্যাপী শিশুদের মধ্যে স্থূলতার বৃদ্ধি প্রমাণ করে যে এই রোগটিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, ‘একটি প্রজন্মকে স্থূলতা এবং এর সঙ্গে জড়িত দীর্ঘমেয়াদি ও সম্ভাব্য প্রাণঘাতী অসংক্রামক রোগের দিকে ঠেলে দেওয়া ঠিক নয়।’
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী ২ কোটি ৭০ লাখ শিশুর উচ্চ বিএমআই রয়েছে। এ ক্ষেত্রে চীন (৬ কোটি ২০ লাখ) এবং ভারতের (৪ কোটি ১০ লাখ) পরই যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি পাঁচজন শিশুর মধ্যে দুজন স্থূল বা অতিরিক্ত ওজনের।
যুক্তরাজ্যে প্রায় ৩৮ লাখ শিশুর উচ্চ বিএমআই রয়েছে, যা একটি রেকর্ড সংখ্যা। এ বিষয়ে ইউরোপের মধ্যে সবচেয়ে অবস্থায় থাকা দেশগুলোর একটি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে যুক্তরাজ্য। ফ্রান্স ও ইতালির তুলনায় যুক্তরাজ্যের স্থূল বা অতিরিক্ত ওজনের শিশুর হার প্রায় দ্বিগুণ।
প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, ২০৪০ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যে ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী ৩ লাখ ৭০ হাজার শিশুর হৃদরোগের প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দেবে এবং ২ লাখ ৭১ হাজার শিশুর উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণ দেখা যেতে পারে।
আঞ্চলিক বৈষম্যের বিষয়টিও প্রতিবেদনে উল্লেখযোগ্যভাবে ধরা পড়েছে। স্কুলপড়ুয়া শিশুদের অর্ধেকের বেশি অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতায় ভুগছে, এমন শীর্ষ ১০ দেশের সবকটিই পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল বা আমেরিকা মহাদেশের। অন্যদিকে, নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতেও স্থূলতার হার দ্রুত বাড়ছে।
প্রতিবেদনে শিশুদের জন্য সুস্থ পরিবেশ গড়ে তুলতে আরও জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে যে সুপারিশগুলো করা হয়েছে, তার মধ্যে চিনির ওপর করারোপ, জাঙ্ক ফুডের বিজ্ঞাপনে সীমাবদ্ধতা আরোপ এবং শিশুদের আরও সক্রিয় জীবনযাপনে উৎসাহিত করার নীতি গ্রহণের মতো বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বিশেষজ্ঞরা এই প্রতিবেদনের ফলাফলকে স্বাগত জানিয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইউরোপ অঞ্চলের পুষ্টি, শারীরিক কার্যকলাপ ও স্থূলতা বিষয়ক আঞ্চলিক উপদেষ্টা ডা. ক্রেমলিন বিক্রামাসিংহে বলেন, শিশুদের স্থূলতা মূলত পরিবেশগত ব্যর্থতা।
এ অবস্থা পরিবর্তনে স্বেচ্ছাসেবক নয়, বরং বাধ্যতামূলক বিপণন নিয়ন্ত্রণ বা পণ্যের ওপর লেবেলিং চালুর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘ইউরোপসহ অধিকাংশ সরকার খাদ্য শিল্পকে কোনো বিধিনিষেধ ছাড়াই শিশুদের লক্ষ্য করে বিপণনের সুযোগ দিচ্ছে। শিল্পের হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে আমাদের এখন প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা।’
ওবেসিটি হেলথ অ্যালায়েন্সের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথারিন জেনার বলেন, শিশুদের স্থূলতা অবশ্যম্ভাবী নয়। তিনি বলেন, ‘হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপের প্রাথমিক লক্ষণ বৃদ্ধির পূর্বাভাস নিয়ে সরকারগুলোর দীর্ঘদিনের নিষ্ক্রিয়তা ছেড়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক হওয়া উচিত।’
যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা বিভাগের এক মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা রাত ৯টার আগে টেলিভিশনে এবং অনলাইনে সবসময় জাঙ্ক ফুডের বিজ্ঞাপন সীমিত করছি। এতে করে শিশুদের খাদ্যতালিকা থেকে বছরে প্রায় ৭২০ কোটি ক্যালরি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্কুলের কাছাকাছি ফাস্টফুডের দোকান খোলার ওপর স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে আরও কঠোর ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে।’
৩২ দিন আগে
পর্দা উঠল অমর একুশে বইমেলার
‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শুরু হলো অমর একুশে বইমেলা-২০২৬। মাসব্যাপী এ মেলার উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার পর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
ভাষা আন্দোলনের শহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানজুড়ে শুরু হলো এই ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক আয়োজন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫ বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম। এছাড়া শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশা এবং সংস্কৃতিসচিব মো. মফিদুর রহমান।
আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত চলবে এবারের বইমেলা। প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে। ছুটির দিনে সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে মেলা। তবে রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন করে দর্শনার্থীদের প্রবেশের সুযোগ থাকবে না।
এদিন দুপুর ২টায় মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান, কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য পদত্যাগী উপাচার্য নিয়াজ আহমেদ খান, সহকারী উপাচার্য মামুন আহমেদসহ কবি, শিল্পী ও বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রীসহ অতিথিরা বইমেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।
এবারের বইমেলায় অংশ নিচ্ছে মোট ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি প্রতিষ্ঠান স্টল পেয়েছে। মোট ইউনিট সংখ্যা এক হাজার ১৮টি। গত বছর অংশ নিয়েছিল ৭০৮টি প্রতিষ্ঠান, ইউনিট ছিল ১ হাজার ৮৪টি।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চসংলগ্ন গাছতলায় থাকছে লিটল ম্যাগাজিন চত্বর; সেখানে ৮৭টি লিটল ম্যাগাজিনকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শিশুচত্বরে থাকছে ৬৩টি প্রতিষ্ঠান ও ১০৭টি ইউনিট।
অমর একুশে বইমেলায় এবার প্রতি শুক্র ও শনিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত থাকবে শিশুচত্বর। শিশুদের অবাধ বিচরণে শিশুচত্বরে থাকবে ৬৩টি প্রতিষ্ঠান ও ১০৭টি ইউনিট।
বইমেলার মূল মঞ্চে প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিষয়ভিত্তিক সেমিনার এবং বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলবে। অমর একুশে উদ্যাপনের অংশ হিসেবে থাকবে শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে থাকবে নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান।
এবার বইমেলার পরিবেশ-সুরক্ষায় সচেতন থেকে ‘জিরো ওয়েস্ট বইমেলা’য় পরিণত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বইমেলা পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত থাকবে। এছাড়া মেলার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও ধুলাবালু নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পানি ছিটানো হবে। থাকবে মশকনিধনের সার্বিক ব্যবস্থাও।
বাইমেলা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার সব স্টল, দোকান, মঞ্চ, ব্যানার, লিফলেট, প্রচারপত্র, ফাস্ট ফুড, কফি শপ, খাবার দোকান ইত্যাদি প্রস্তুত করতে পুনর্ব্যবহারযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব উপকরণ— পাট, কাপড়, কাগজ ইত্যাদির ব্যবহার করতে সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে রমজান মাসে মেলা শুরু নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার কারণে শেষ সময়ে এসেও নিজেদের স্টল গুছিয়ে উঠতে পারেনি অনেক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। স্টল সাজানো, বই গোছানো ও ব্যানার-ফেস্টুন টানানোর কাজে সময় পার করছেন বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থার কর্মীরা।
প্রকাশকদের মতে, অনেকে প্রথম দিন মেলায় স্টল সাজানোর কাজ শেষ করতে পারবেন না। মেলার দিনেও অনেক স্টল সাজানোর কাজ চলবে।
৩৮ দিন আগে
৯ বিশিষ্টজনকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী
বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য নয়জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে অমর একুশে বইমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পুরস্কৃতদের হাতে সম্মাননাপত্র, সম্মাননা স্মারক ও তিন লাখ টাকা নগদ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
এ সময় কথাসাহিত্যে নাসিমা আনিস, প্রবন্ধ-গদ্যে সৈয়দ আজিজুল হক, শিশুসাহিত্যে হাসান হাফিজ, অনুবাদে আলী আহমদ, গবেষণায় মুস্তাফা মজিদ ও ইসরাইল খান, বিজ্ঞানে ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী, কবিতায় মোহন রায়হান এবং মুক্তিযুদ্ধে মঈদুল হাসানের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
৩৮ দিন আগে
অমর একুশে বইমেলা শুরু হচ্ছে আজ
নানা সংকট কাটিয়ে আজ শুরু হচ্ছে ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’। বইমেলার এবারের প্রতিপাদ্য ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টায় বইমেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫ তুলে দেবেন।
এবারের বইমেলা চলবে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত। ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা চলবে। রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন করে কেউ মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবেন না। ছুটির দিন বইমেলা চলবে বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত।
বাংলা একাডেমি জানিয়েছে, এবারের বইমেলায় মোট ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করবে। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি। এবার মোট ইউনিট থাকবে ১ হাজার ১৮টি।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চের কাছাকাছি গাছতলায় লিটল ম্যাগাজিন চত্বরের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে ৮৭টি লিটলম্যাগকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এবার বইমেলার পরিবেশ-সুরক্ষায় সচেতন থেকে ‘জিরো ওয়েস্ট বইমেলা’য় পরিণত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বইমেলা পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত থাকবে। এছাড়া মেলার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও ধুলাবালু নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পানি ছিটানো হবে। থাকবে মশকনিধনের সার্বিক ব্যবস্থাও।
বাইমেলা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার সব স্টল, দোকান, মঞ্চ, ব্যানার, লিফলেট, প্রচারপত্র, ফাস্ট ফুড, কফি শপ, খাবার দোকান ইত্যাদি প্রস্তুত করতে পুনর্ব্যবহারযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব উপকরণ— পাট, কাপড়, কাগজ ইত্যাদির ব্যবহার করতে সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
গত বছরের মতোই রাখা হয়েছে এবারের বইমেলার বিন্যাস, তবে কিছু আঙ্গিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। মেট্রোরেল স্টেশনের অবস্থানগত কারণে মেলার বাহিরপথ গতবারের চেয়ে এবার একটু সরিয়ে মন্দির গেটের কাছাকাছি স্থানান্তর করা হয়েছে। এছাড়া টিএসসি, দোয়েল চত্বর, এমআরটি বেসিং প্ল্যান্ট ও ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন অংশে মোট চারটি প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ থাকবে।
খাবারের স্টলগুলো ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনের সীমানা ঘেঁষে করা হয়েছে। পবিত্র রমজান উপলক্ষে বইমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে মেলায় আগত মুসল্লিদের জন্য তারাবির নামাজের সুব্যবস্থাও থাকবে। নামাজের স্থান, প্রসাধনকক্ষসহ অন্যান্য পরিষেবা অব্যাহত থাকবে।
অমর একুশে বইমেলায় এবার প্রতি শুক্র ও শনিবার বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত থাকবে শিশুচত্বর। শিশুরা অবাধে বিচরণে শিশুচত্বরে থাকবে ৬৩টি প্রতিষ্ঠান ও ১০৭টি ইউনিট।
বইমেলার মূল মঞ্চে প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিষয়ভিত্তিক সেমিনার এবং বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলবে। অমর একুশে উদ্যাপনের অংশ হিসেবে থাকবে শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে থাকবে নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান।
বইমেলা উপলক্ষে মেলা প্রাঙ্গণজুড়ে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মেলার প্রবেশ ও বাহিরপথে পর্যাপ্তসংখ্যক আর্চওয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। গোটা এলাকাজুড়ে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ পুলিশ, র্যাব, আনসার ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা মেলার সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে।
নিরাপত্তার স্বার্থে মেলা প্রাঙ্গণ ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় পর্যপ্ত আলোর ব্যবস্থা থাকবে। পুরো মেলা প্রাঙ্গণ ও দোয়েল চত্বর থেকে টিএসসি হয়ে শাহবাগ, মৎস্য ভবন, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন হয়ে শাহবাগ পর্যন্ত এবং দোয়েল চত্বর থেকে শহিদ মিনার হয়ে টিএসসি, দোয়েল চত্বর থেকে চানখাঁরপুল, টিএসসি থেকে নীলক্ষেত পর্যন্ত পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা থাকবে বলে মেলা আয়োজক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
তবে রমজান মাসে মেলা শুরু নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার কারণে শেষ সময়ে এসেও নিজেদের স্টল গুছিয়ে উঠতে পারেনি অনেক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। স্টল সাজানো, বই গোছানো ও ব্যানার-ফেস্টুন টানানোর কাজে সময় পার করছেন বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থার কর্মীরা।
প্রকাশকদের মতে, অনেকে প্রথম দিন মেলায় স্টল সাজানোর কাজ শেষ করতে পারবেন না। মেলার দিনেও অনেক স্টল সাজানোর কাজ চলবে।
৩৮ দিন আগে
পহেলা ফাল্গুনে ব্যতিক্রমী আনন্দে রঙিন ‘বেলা শেষে’ বৃদ্ধাশ্রম
জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী আবহে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস আর বসন্ত উৎসব একসঙ্গে এসে যেন রঙ ছড়িয়ে দিল নড়াইলের এক নিরিবিলি কোণে। বসন্তের রঙ ছড়িয়ে গেল তরুণ থেকে বয়স্ক, আদরে লালিতদের থেকে অবহেলিত—সবার হৃদয়ে।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নড়াইল সদরের গোপিকান্তপুর গ্রামের ‘বেলা শেষে’ বৃদ্ধাশ্রমে গিয়ে দেখা যায় এমনই এক ভিন্ন ছবি। নিঃসঙ্গতার চেনা পরিসর ভেঙে সেখানে হচ্ছে প্রাণের বিচ্ছুরণ; হাসি আর গানে সব দুঃখ, ক্লেশ ভুলে আনন্দে মেতে উঠেছেন আশ্রমের বয়োবৃদ্ধ বাসিন্দারা।
তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘স্বপ্নের খোঁজে ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় এ ব্যতিক্রমী আয়োজন। ফুলেল শুভেচ্ছা দিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে ছিল কেক কাটা, নতুন পোশাক উপহার, উন্নতমানের খাবার পরিবেশন, খেলাধুলা, পুরস্কার বিতরণ ও গান; সব মিলিয়ে এক আন্তরিক, হৃদয়ছোঁয়া মিলনমেলা। নবীন-প্রবীণের এই মিলন এমন এক সেতুবন্ধন তৈরি করে, যেখানে সময়ের ব্যবধান মুছে গিয়ে একাকার হয়ে গিয়েছিল প্রজন্মের দূরত্ব।
এদিন সকাল থেকেই সাজ-সজ্জায় রঙিন করে তোলা হয় বৃদ্ধাশ্রমটি। রঙিন কাগজ, বেলুন আর ব্যানারে সেজে ওঠা প্রাঙ্গণ অপরিচিত আগন্তুককেও বুঝিয়ে দিচ্ছিল—আজকের দিনটি অন্যরকম। দীর্ঘদিনের নিস্তব্ধতা ভেঙে সেখানে শুরু হয় এক আনন্দোৎসব। প্রবীণদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ফুল, কাঁধে জড়িয়ে দেওয়া হয় ভালোবাসার স্পর্শ। কেক কাটার মুহূর্তে করতালিতে খান খান হয়ে যায় বৃদ্ধাশ্রমের নিঃসঙ্গতার আবেশ।
শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না এই আয়োজন। গান গেয়ে, বেলুন ফাটিয়ে, হাসি-ঠাট্টা আর গল্পে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠেন সবাই। নিদারুণ বর্তমানের মধ্যে এক টুকরো স্মৃতি যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছিল সবার হৃদয়ে। একসময় যারা সংসার, সমাজ ও পরিবারের কল্যাণে ব্যস্ত ছিলেন, বৃদ্ধাশ্রমে আসার পর মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখলেও বিশেষ এই দিনে তারা ফিরে গিয়েছিলেন ফেলে আসা রঙিন দিনগুলোতে। মুহূর্তের জন্য হলেও ভুলে যান বার্ধক্যের একাকিত্ব, অবহেলার বোঝার ভার নেমে যায় তাদের কাঁধ থেকে।
৪৯ দিন আগে
পৌষ সংক্রান্তিতে নড়াইলে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড়, দর্শনার্থীর ঢল
টগবগিয়ে ঘোড়ার পিঠে চড়ে ছুটছে গ্রামের একঝাঁক তরুণ। প্রথম পুরস্কার নেওয়ার আশায় অংশগ্রহণকারীদের চেষ্টার যেন কোনো কমতি নেই। যে যেভাবে পারছে তার ঘোড়া নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এভাবেই ঘোড়দৌড়ের মাধ্যমে চলে তাদের প্রতিযোগিতা।
সম্প্রতি গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এ ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার দেখা মিলেছে নড়াইল সদর উপজেলা বিছালী চাকই গ্রামে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে এই ঘোড়দৌড়ের আয়োজন করেন বিছালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিমায়েত হুসাইন ফারুক।
দীর্ঘ ৪০০ বছর ধরে পৌষ সংক্রান্তি উদ্যাপন উপলক্ষে প্রতি বছর এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। ঘৌড়দৌড় উপলক্ষে একপ্রকার মেলা বসে সেখানে। বাহারি জিনিসের পসরা সাজিয়ে দোকান নিয়ে বসেন ক্ষুদ্র দোকানিরা। ঘোড়দৌড় উপভোগ করতে মাঠের দুই পাশে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার হাজারো নারী-পুরুষ ভিড় করেন। এবারের প্রতিযোগিতায় মোট ১২টি ঘোড়া অংশ নেয়।
যশোরের অভয়নগর থেকে ঘোড়দৌড় দেখতে আসা মুহিম বলেন, আমি প্রতি বছর এই দিনের জন্য অপেক্ষা করি। এ প্রতিযোগিতা হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে মনে করিয়ে দেয়।
বিছালী গ্রামের রেজাউল ইসলাম জসিম বলেন, কালের বিবর্তনে গ্রামবাংলার অনেক ঐতিহ্য আজ বিলুপ্তির পথে। একসময় গ্রামবাংলার অন্যতম ঐতিহ্য ছিল ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা যা এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। তবে নড়াইলের বিছালী ইউনিয়নের চাকই এলাকায় এখনও প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা ও পৌষমেলা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার পাশাপাশি তিন দিনব্যাপী পৌষমেলার আয়োজন করা হয়েছে।
আজ (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় জারিগান এবং আগামীকাল শুক্রবার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। গ্রামীণ ঐতিহ্য রক্ষা, বিনোদন ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে এ আয়োজনের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
বিছালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিমায়েত হুসাইন ফারুক বলেন, চাকই রুখালী গ্রামের ঘোড়দৌড় প্রায় ৪ থেকে ৫ শত বছরের পুরোনো ঐতিহ্য। পৌষ মাসের শেষের দিন প্রতি বছর এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রামীণ ঐতিহ্য টিকে রয়েছে। আমরা যতদিন এই জনপদে আছি ততদিন এই মেলা অনুষ্ঠিত হবে। আমি চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকে এটিকে আরও বড় করে করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। রাস্তার দৌড়ানোর যে অংশ, সেটিও আমি সংস্কার করেছি যাতে এই অঞ্চলে উৎসবটি টিকে থাকে। লাখো মানুষের পদচারণায় আমাদের উৎসব সফল হয়েছে। এই অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।
প্রতিযোগিতার আয়োজক কমিটির সদস্য মোরাদ হোসেন শেখ বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও বিভিন্ন বয়সের প্রতিযোগীরা অংশ নিয়েছেন। এ বছর নারী, পুরুষ ও শিশুদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর বিশ্বাস। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সদর বিএনপি সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান আলেক, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. কাজী হাসরাত, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম মোল্যা, মো. আমিনুল ইসলাম, মাজাহারুল ইসলাম, পারভিন বেগম, মুরাদ হোসেন প্রমুখ।
৮০ দিন আগে
অপারেশন থিয়েটারে রান্না: ফেনী সদর হাসপাতালের ২ নার্স বরখাস্ত
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ফেনী সদর হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডের অপারেশন থিয়েটারে রান্নার ঘটনায় দুই সিনিয়র স্টাফ নার্সকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। সেইসঙ্গে হাসপাতালের নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) এক আদেশের মাধ্যমে তাদের বরখাস্তের পর গতকাল (সোমবার) থেকে হাসপাতালে তদন্ত শুরু করেছে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি।
তদন্তের অংশ হিসেবে কমিটির সদস্যরা হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ পরিদর্শন করে নার্স ও চিকিৎসকদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তদন্ত কমিটির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন ২৫০ শয্যা নোয়াখালী সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— নোয়াখালী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রাজিব আহমেদ চৌধুরী এবং ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ রুবাইয়াত বিন করিম।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, অপারেশন থিয়েটারে রান্নাঘর স্থাপনসহ দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার সত্যতা যাচাই এবং অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে শাস্তির সুপারিশ করতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালকের (স্বাস্থ্য) কার্যালয় থেকে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, অপারেশন থিয়েটারে রান্নার ঘটনায় দুই সিনিয়র স্টাফ নার্সকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. আনোয়ার হোছাইন আকন্দ সাক্ষরিত এক আদেশে তাদের বরখাস্ত করা হয়।
বরখাস্ত হওয়া নার্সরা হলেন, নার্সিং সুপার ভাইজার কল্পনা রানী মণ্ডল ও সিনিয়র স্টাফ নার্স রানী বালা হালদার।
আদেশে বলা হয়, হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের ভেতরে গ্যাসের চুলায় রান্না করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ এবং গণমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড চরম দায়িত্বহীনতা, শৃঙ্খলাবিরোধী ও অগ্রহণযোগ্য কর্মকাণ্ড। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় রোগীর নিরাপত্তা এবং নার্সিং পেশার ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে। এটি হাসপাতালের সংবেদনশীল অপারেশন থিয়েটারের পরিবেশ, রোগীর নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য সংরক্ষণের মৌলিক নীতির পরিপন্থী।
আদেশে আরও বলা হয়েছে, তারা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ফেনী সদর হাসপাতালে স্থানীয়ভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত সেবা তত্ত্বাবধায়ক ও সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে অপারেশন থিয়েটারের সার্বিক শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা ও পেশাগত মান রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকা সত্ত্বেও এই অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কার্যকর তদারকি, নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। তাদের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবে কাম্য নয়। এই ধরনের কর্মকাণ্ড সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ অনুযায়ী গুরুতর অসদাচরণ। এজন্য সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ৩ (খ) বিধির আলোকে উক্ত বিধিমালার বিধি ১২(১) অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার স্বার্থে এবং এই মামলার সুষ্ঠু নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আদেশ জারির তারিখ থেকে কল্পনা রানী মন্ডল ও রানী বালা হালদারকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।
তবে বরখাস্ত হলেও বিধি মোতাবেক তারা খোরপোষ ভাতা পাবেন বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ফেনী সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, দুজনের সাময়িক বরখাস্তের আদেশের কপি পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থার গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে, হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে গ্যাসের চুলায় রান্নাবান্না, অবাধ যাতায়াত এবং শৃঙ্খলাহীনতার কারণে প্রসূতি মা ও নবজাতকদের সংক্রমণের উচ্চঝুঁকি নিয়ে ইউএনবিসহ দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। তার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এছাড়া ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে নেটিজেনদের মধ্যে এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
৮২ দিন আগে
ফেনী সদর হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার এখন ‘রান্নাঘর’
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ফেনী সদর হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডের অপারেশন থিয়েটারে দুই বছর ধরে রান্নাবান্না চলছে। প্রতিদিন এখানে গর্ভবতী নারীদের সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার হলেও কয়েকজন সিনিয়র স্টাফ নার্স অপারেশন থিয়েটারের কক্ষ রান্নাঘর ও শয়নকক্ষ হিসেবে ব্যবহার করছেন।
সম্প্রতি রান্নাবান্নার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, হাসপাতালের নার্সদের দুজন অপারেশন থিয়েটারের কক্ষে শীতের পিঠা তৈরি করছেন। অন্যরাও অবাধে আসা-যাওয়া করছেন। তার ঠিক পাশের কক্ষে চলছে সিজারিয়ান অপারেশন। সেখানেও রোগীর স্বজনদের অবাধ চলাফেরা করতে দেখা যায়।
গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) এ বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আগামী ৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে কমিটি। তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন ডা. জামাল হোসেন, ডা. আদনান আহমেদ ও ডা. শোয়েব ইমতিয়াজ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অপারেশন থিয়েটারের কক্ষ গত দুই বছর ধরে নিয়মিত রান্নাঘর ও শয়নকক্ষ হিসেবে ব্যবহার করছেন নার্সিং সুপারভাইজার নূর জাহান এবং সিনিয়র স্টাফ নার্স কল্পনা রানী, হ্যাপী রানী সূত্রধর, সীমা কর্মকার, রত্না বসাক, রানী বালা ও দেলোয়ারা বেগম। স্বাস্থ্যঝুঁকির এই চরম অব্যবস্থাপনা সম্পর্কে লেবার ওয়ার্ডে কর্মরত চিকিৎসকরা অবগত থাকলেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। বিভিন্ন সময়ে সেখানে চিকিৎসকরা ব্যক্তিগত ভোজের আয়োজনও করে থাকেন।
বৃহস্পতিবার রাকিব নামের এক রোগীর স্বজনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘আমার বোনের প্রসববেদনা উঠলে তাকে আজ ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। এখানে এসে শুনছি, নার্সরা নাকি অপারেশন থিয়েটারে রান্না করেন! এটা কেমন কথা? তাও দুই বছর ধরে এটা চলে আসছে, ভাবা যায়?’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক রোগীর স্বজন বলেন, ‘সাংবাদিকরা এ ব্যাপারে সংবাদ সংগ্রহ করছেন জেনে নূর জাহান নামে একজন নার্স খুব দম্ভ করে বলেছেন, “খাইছি; আরও খামু। কনে কিয়া (কে কী) কইরবো দেখা যাবে।”’
অভিযুক্ত নার্সদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা এই প্রতিবেদককে এড়িয়ে যান। একপর্যায়ে ওয়ার্ড ইনচার্জ স্বপ্না এ বিষয়ে হাসপাতালের আবাসিব মেডিকেল কর্মকর্তার (আরএমও) সঙ্গে কথা বলতে বলেন।
আরএমও ডা. রোকন-উদ-দৌলা বলেন, ‘ওটির (অপারেশন থিয়েটার) ভেতর রান্নাবান্না! এটা অসম্ভব ব্যাপার। ওটির ভেতরে কীভাবে রান্নাবান্না করে? সংক্রমণের অনেক বিষয় আছে এখানে। আমরা অবশ্যই এ ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।’
হাসপাতালে জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থোপেডিক সার্জারি) ডা. মো. জামাল উদ্দিন বলেন, ‘সবকিছু মিলিয়ে আমরা একটু ঝামেলার মধ্যে আছি। এটা আমাদের দুর্বলতা, আমরা স্বীকার করছি। এ বিষয়টি আমরা অবশ্যই গুরুত্বসহকারে দেখব এবং অবশ্যই ব্যবস্থা নেব। আমাদের পাঁচটা দিন সময় দিন। এমন স্পর্শকাতর জায়গায় রান্না করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ এ সময় তিনি সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন।
বিষয়টি নিয়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ফেনী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সাইফুল ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হয়।
তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। পরে তাকে এ সংক্রান্ত ভিডিও দেখানো হলে প্রতিক্রিয়ায় এই চিকিৎসক বলেন, ‘এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
তিনি তাৎক্ষণিক হাসপাতালের কর্মচারী মোশারফকে সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি দেখার জন্য পাঠান। তবে মোশাররফ সেখানে যাওয়ার আগেই রান্নার সামগ্রী লুকিয়ে ফেলা হয়েছে বলে ফিরে এসে জানান।
ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পেলে তাতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’
৮৩ দিন আগে