জীবনধারা
থাইল্যান্ডের গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেলের চিয়াং মাই ভ্রমণ: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
এশিয়া-কেন্দ্রিক অবকাশ যাপন মানেই বিচিত্র সংস্কৃতি এবং ঐতিহাসিক স্থাপনার এক প্রাণবন্ত জগতে প্রবেশ করা। নির্জন সৈকত, পর্বত চূড়া এবং বনের গহীন থেকে শুরু করে জনাকীর্ণ বিপণীর গ্রাম পর্যন্ত সর্বত্র ছড়িয়ে প্রাণের স্পন্দন। এর মাঝেই বিস্ময় ও রোমাঞ্চগুলো অমূল্য প্রাপ্তি হিসেবে ধরা দেয়। এর সঙ্গে অকৃত্রিম সৌন্দর্য যোগ করলে অনায়াসেই খুঁজে পাওয়া যাবে এশিয়ার জনপ্রিয় পর্যটন শহর চিয়াং মাইকে। থাইল্যান্ডের বিখ্যাত গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গলের অন্তর্গত এই প্রদেশটি মন্দির এবং ঝর্ণার জন্য সুপরিচিত। চলুন, ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক ঐশ্বর্য্যে সমৃদ্ধ এই পর্যটন অঞ্চলে ভ্রমণপিপাসুদের জন্য কী কী অপেক্ষা করছে- তা জেনে নেওয়া যাক।
গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেলের চিয়াং মাই-এর অবস্থান ও বিশেষত্ব
উত্তর-পূর্ব মায়ানমার, উত্তর-পশ্চিম থাইল্যান্ড এবং উত্তর লাওসে রুয়াক ও মেকং নদীর মিলনস্থলে অবস্থিত প্রায় ২ লাখ কিলোমিটারের এক বিস্তৃত পার্বত্য অঞ্চল গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল।
১৯৭১ সালে তৎকালীন মার্কিন কূটনীতিক মার্শাল গ্রিন আফিম ব্যবসাবিষয়ক একটি প্রেস কনফারেন্সে ‘গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল’ শব্দটি ব্যবহার করেন। দুই নদীর মাঝের সোপ রুয়াক নামের থাইল্যান্ডের অংশটি বর্তমানে একটি পর্যটক আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। এখানে রয়েছে হাউস অফ আফিম মিউজিয়াম, একটি হল অব আফিম এবং গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল পার্ক।
থাইল্যান্ডের যে প্রদেশগুলো নিয়ে এই গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল গঠিত সেগুলোর মধ্যে বৃহত্তম হচ্ছে চিয়াং মাই। ব্যাংকক থেকে ৬৮৫ কিলোমিটার উত্তরে মায়ে পিং নদীর অববাহিকায় প্রদেশটি অবস্থিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর গড় উচ্চতা ৩০০ মিটার। থাই উচ্চভূমির পর্বতমালা পরিবেষ্টিত অঞ্চলটির ক্ষেত্রফল প্রায় ২২ হাজার ১৩৫ বর্গকিলোমিটার।
আরো পড়ুন: ভুটান ভ্রমণ: জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান, যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
চিয়াং মাইয়ের শাসক থাম্মালাংকা ব্যাংককের রাজা দ্বিতীয় রামাকে একটি সাদা হাতি উপহার দিয়েছিলেন। সেই থেকে সাদা হাতি থাইল্যান্ডের একটি রাজকীয় প্রতীক হিসেবে স্বীকৃত। প্রদেশটির সিলমোহরেও কাঁচের মণ্ডপে সাদা হাতি রাখা হয়েছে। তাছাড়া এটি চিয়াং মাইতে বৌদ্ধ ধর্মের বিকাশের বিষয়টিকেও প্রতিনিধিত্ব করে।
চিয়াং মাই-এর জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থানগুলো
.
ওয়াত ফা লাত
ডোই সুথেপের লীলাভূমি বন পাহাড়ে অবস্থিত এই মন্দিরটি ‘গুপ্ত মন্দির’ বা ‘বন মন্দির’ নামেও পরিচিত। নামের মতো জায়গাটি সত্যিকার অর্থেই শহরের কোলাহল থেকে একদম মুক্ত। পুরোনো পাথরের কাঠামো, তাতে অপূর্ব খোদাই, ঝর্ণা এবং শান্ত বাগান সব মিলিয়ে জায়গাটিকে রহস্যময় করে তুলেছে।
ট্রেকারদের কাছে বহুল সমাদৃত পথ ‘মঙ্ক্স ট্রেইল’ ধরে এই মন্দির পর্যন্ত উঠে যাওয়া যায়। বনের মধ্য দিয়ে এঁকেবেঁকে চলে যাওয়া অপরূপ এই হাইকিং পথের শুরু হয় চিয়াং মাই ইউনিভার্সিটির কাছ থেকে। মোটামোটি সহজ এই পথটি হাইক করতে প্রায় ৩০ মিনিট সময় লাগে।
আরো পড়ুন: দিনাজপুরের রামসাগর দীঘি ভ্রমণ: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
দোই ইন্থানন জাতীয় উদ্যান
একসঙ্গে অনেকগুলো ঝর্ণা দেখতে হলে প্রবেশ করতে হবে এই উদ্যানে। দর্শনার্থীদের জন্য দোই ইন্থাননের প্রবেশ মূল্য ৩০০ থাই বাত বা ১ হাজার ৬১ টাকা (১ থাই বাত = ৩ দশমিক ৫৪ বাংলাদেশি টাকা)। যাওয়ার পথে দেখা মিলবে ওয়াচিরাথান জলপ্রপাতের। তারপর একদম ভেতরে রয়েছে ফা ডক সিউ জলপ্রপাত।
দোই ইন্থাননের চূড়া এবং টুইন প্যাগোডার সবথেকে কাছের গ্রাম বান খুন ক্লাং। এই গ্রামের প্রধান আকর্ষণ বিশাল জলপ্রপাত সিরিফুম। উদ্যান এলাকার বাইরে কাছেই রয়েছে মায়ে ইয়া, যেটি থাইল্যান্ডের সর্বোচ্চ জলপ্রপাতগুলোর একটি।
ওয়াত ফ্রা দোই সুথেপ
চিয়াং মাই-এর সবচেয়ে সমাদৃত মন্দিরগুলোর মধ্যে ওয়াত ফ্রা অন্যতম, যার অবস্থান দোই সুথেপ পর্বত চূড়ায়। ১৩৮৩ সালের দিকে স্থাপিত এই অত্যাশ্চর্য মন্দিরটির কেন্দ্রে রয়েছে একটি স্টুপা বা চেডি। ধ্যানের স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া ঢিবির মতো অর্ধ গোলাকার এই স্থাপনাটি বহু বছর ধরে বুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে সংরক্ষিত। এখান থেকে পাখির চোখে চিয়াং মাই ও তার আশেপাশের গ্রামাঞ্চলের শ্বাসরুদ্ধকর মনোরম দৃশ্য অবলোকন করা যায়। সূর্যোদয় দেখার জন্য এই স্থানটি বেশ জনপ্রিয়।
আরো পড়ুন: সুন্দরবনের কটকা সমুদ্র সৈকত: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক ভ্রমণ খরচ
ওয়াত ফ্রা দ্যাত দোই খাম
টেম্পল অব দ্য গোল্ডেন মাউন্টেন নামে পরিচিত এই মন্দিরটি চিয়াং মাইয়ের ঠিক দক্ষিণ-পশ্চিমে একটি পাহাড়ে অবস্থিত। এখানকার ১৭-মিটার লম্বা বুদ্ধ মূর্তিটি বহুদূর থেকে চোখে পড়ে। প্রায় ১ হাজার ৩০০ বছরেরও বেশি পুরোনো এই মন্দিরের সর্বোত্তম অংশটি হচ্ছে পৌরাণিক নাগা সর্প ঘেরা লম্বা সিঁড়ি। সিঁড়ি ধরে যত ওপরে ওঠা যায় চিয়াং মাই ও পাশ্ববর্তী উপত্যকার মনোরম দৃশ্য ততই উন্মুক্ত হতে থাকে।
৫৭৫ দিন আগে
ক্যান্সারের নতুন অ্যান্টিবডি চিকিৎসা টিউমার প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়: গবেষণা
ইসরায়েলের ভাইজমান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স (ডব্লিউআইএস) সোমবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসরায়েলি গবেষক ও তাদের মার্কিন সহকর্মীরা এমন একটি অ্যান্টিবডিভিত্তিক ক্যান্সারের চিকিৎসা পদ্ধতি তৈরি করেছেন যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে টিউমারের কোষে কার্যকরভাবে আক্রমণ ও তাদের বিস্তার রোধ করতে সক্ষম করে তোলে।
গবেষকরা জানিয়েছেন, ‘ট্রিপল-নেগেটিভ স্তন ক্যান্সার’ নামে পরিচিত স্তন ক্যান্সারের একটি ধরন এর আশপাশে অবস্থিত শরীরের রোগ প্রতিরোধক কোষগুলোকে ‘আণবিক সেতু’ (মোলেকিউলার ব্রিজ) গঠনে উৎসাহ দেয়। এই সেতুগুলো টিউমারকে রোগ প্রতিরোধক কোষগুলোর আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। ফলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাধা পায়।
গবেষণা দলটি দেখিয়েছে যে, একটি অ্যান্টিবডি চিকিৎসা পদ্ধতি এসব ‘ব্রিজ’ গঠনে বাধা দিয়ে ক্যান্সারের কোষগুলোর ওপর শক্তিশালী আক্রমণ চালাতে শরীরের (রোগ) প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করতে পারে। একইসঙ্গে এটি শরীরে টিউমারের অগ্রগতিও থামিয়ে দেয়।
তারা বিষয়টির ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে- ক্যান্সারের কোষগুলোকে নিরাপত্তা দিতে ‘ব্রিজ’ তৈরি করে সিডি৮৪ নামের প্রোটিন। অথচ, স্তন ক্যান্সারের কোষগুলো নিজেরা সিডি৮৪ খুব কম উৎপন্ন করে। ফলে সেগুলো নিকটবর্তী রোগ প্রতিরোধক কোষগুলোকে প্রচুর পরিমাণে এই প্রোটিন উৎপাদন করতে প্ররোচিত করে। আর এর ফলে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ক্যান্সারের কোষগুলো দমনে অকার্যকর হয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন: নারীদের চেয়ে পুরুষদের আত্মহত্যার হার বেশি যে কারণে
সমীক্ষায় আরও দেখা গেছে, যেসব রোগীর টিউমারে অধিক পরিমাণে সিডি৮৪ রয়েছে, তাদের বেশিদিন বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
সিডি৮৪ নিয়ন্ত্রণে বিশেষভাবে জিন পরিবর্তন করা কিছু ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা চালানো হয়। তাতে দেখা যায়, যেসব ইঁদুরের শরীরে সিডি৮৪ প্রোটিন ছিল না, তাদের শরীরে টিউমার বৃদ্ধির গতি অতি ধীর। এতেই বোঝা যায়, টিউমারের কোষ দমনে সিডি৮৪ নিয়ন্ত্রণ কতটা প্রভাবশালী।
তবে নতুন তৈরি করা অ্যান্টিবডি প্রয়োগ করার পর স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত ইঁদুরগুলোকে সপ্তাহে দুবার পরীক্ষা করা হয়। তাতে যে ফল এসেছে, তা সত্যিই টিউমারের চিকিৎসায় আশার আলো দেখাচ্ছে।
পরীক্ষায় দেখা গেছে, অ্যান্টিবডি টিউমারের বৃদ্ধিকে উল্লেখযোগ্যভাবে ধীর করে দেয়; কিছু কিছু ক্ষেত্রে তা টিউমার থেকে সম্পূর্ণ সেরে উঠতে সহায়তা করে।
গবেষক দলটির ভাষ্যে, বিশেষ এই অ্যান্টিবডিটি বেছে বেছে শক্তিশালী সিডি৮৪-এর কোষগুলোকে আক্রমণ করে, সেইসঙ্গে দেহের রোগ প্রতিরোধক কোষগুলোকে সুস্থ রাখে।
গবেষকদের পরামর্শ, টিউমারের সঙ্গে সংযুক্ত এই ক্যান্সার চিকিৎসা পদ্ধতিটি বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যেতে পারে।
৫৭৬ দিন আগে
‘নাট্যশালার উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে জনতার মুখোমুখি দাঁড়ায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী’
সম্প্রতি জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে একটি নাটক মঞ্চায়নের সময় উদ্ভুত অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ফ্যাসিস্ট সরকারের মতো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জনতার মুখোমুখি দাঁড় করা হয়নি।
সোমবার (৪ নভেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানায় জাতীয় শিল্পকলা একাডেমি।
এতে বলা হয়, গত শনিবার (২ নভেম্বর ) ‘দেশ নাটক’ প্রযোজিত নাটক ‘নিত্যপুরাণ’ মঞ্চায়নের সময় এক দল লোক বিক্ষোভ করে তা বন্ধ করে দিতে জড়ো হয়। এসময় আলোচনার মাধ্যমে এটি সমাধানের জন্য শিল্পকলা একাডেমি একাধিকবার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা ক্ষান্ত হয়নি। বরং তাদের সংখ্যা বেড়ে গেলে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবার উপক্রম হয়। তখন অভিনয়শিল্পী ও দর্শকদের নিরাপত্তার কথা ভেবে ‘দেশ’ নাটকের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে দর্শকের নিকট দুঃখপ্রকাশ করে প্রদর্শনী বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এতে আরও বলা হয়, ৩ নভেম্বর দেশের কয়েকটি দৈনিক পত্রিকায় ‘শিল্পকলায় নাটকের প্রদর্শনী বন্ধের ঘটনা সমর্থন করে না সরকার’ শিরোনামে খবর প্রকাশিত হয়েছে। যেখানে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিবের মূল বক্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ফলে এটি জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। প্রকৃতপক্ষে তিনি বিক্ষুব্ধকারীদের নাটক বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনাকে অর্থাৎ শিল্পচর্চার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সরকার সমর্থন করে না মর্মে বুঝিয়েছেন। তিনি মনে করেন , বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছেন।
তাছাড়া বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সর্বাবস্থায় জনগণের, শিল্পচর্চার ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশ্বাস করে। এজন্য বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটির বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে কাজ করছে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি চায় না শিল্পকলার কণ্ঠ কেউ রোধ করুক। কেননা, বাংলাদেশের হাজার বছরের নাটকের ইতিহাস আছে। নাটকের মাধ্যমেই সমাজের ত্রুটি বিচ্যুতি ও বিকল্প ধারণা তুলে ধরা সম্ভব। তাই যারা নাটক করতে চায় তাদের নাটক করতে দিতে হবে। নাটক দেখেই দর্শক বিবেচনা করবে তাদের নাটক তারা গ্রহণ করবে কিনা। মতাদর্শ ও শিল্পকলার হাজার মালভূমির এই বাংলাদেশে সকল দলের নাটক করার বিষয়ে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সার্বিক সহযোগিতা রয়েছে।
শিল্পকলা একাডেমি মনে করে, জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে কোনো ব্যক্তির কারণে নাটকের দল যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে প্রচেষ্টা সাংস্কৃতিক সংগঠন বা নাটকের দলের থাকা উচিত। কোনো দলের ভেতরে বিতর্কিত কেউ যদি থাকে, যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে অস্বীকার করে এবং স্বৈরাচারীর দোসর হয়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের কার্যক্রমকে এখনো সমর্থন করে তাহলে দলের পক্ষ থেকেই তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বা বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি এসব গণহত্যার দোসর বা সমর্থনকারীদের তিরস্কার করে, নিন্দা জানায়।
সুস্থ, উৎসবমুখর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জনবান্ধব শিল্পচর্চায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পাশে থেকে দেশের শিল্প সংস্কৃতিকে সমুন্নত রাখতে দেশের সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবীসহ দেশের জনসাধারণ এগিয়ে আসবে এটাই বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির প্রত্যাশা।
আরও পড়ুন: ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো প্রদর্শনী ২০২৪ -এর ঢাকা সংস্করণ শুরু
৫৭৭ দিন আগে
থাইল্যান্ডের ফুকেট ভ্রমণ গাইড: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
যে কোনো মৌসুমেই শীত ও উষ্ণতার আরামপ্রদ মেলবন্ধন খুঁজে পাওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে সমুদ্র সৈকত। রৌদ্রস্নান বা রোদের আলোয় চকচকে পানিতে নৌকা নিয়ে উন্মত্ত জলরাশির বুকে ভেসে যাওয়া এক অনন্য জীবনের স্বাদ দেয়। এই দুঃসাহসিক জীবনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সাগর পাড়ের জনপদগুলোর স্বতন্ত্র সংস্কৃতি। বিশ্বজুড়ে এমন শত শত গন্তব্য থাকলেও সৌন্দর্য্য ও প্রাণবন্ততায় সেগুলোর সঙ্গে একদমই মেলানো যাবে না থাইল্যান্ডের ফুকেটকে। আন্দামান সাগরের বুকে টুকরো ভূ-খণ্ডগুলো যেন একেকটা চোখ ধাঁধানো বৈচিত্র্যের উপাখ্যান। চলুন, সৈকত পরিব্রাজকদের প্রিয় বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় এই পর্যটনকেন্দ্রটির ভ্রমণ বিষয়ক বিস্তারিত তথ্যাবলি জেনে নেওয়া যাক।
ফুকেটের অবস্থান
আন্দামান সাগরে থাইল্যান্ডের মূল ভূখণ্ডের পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত একটি প্রদেশ ফুকেট। প্রদেশের অন্তর্গত ৩২টি ছোট ছোট দ্বীপের মধ্যে প্রধান ও বৃহত্তম দ্বীপটির নাম ফুকেট। এর দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত ফুকেট শহরটি গোটা প্রদেশের রাজধানী।
ফুকেটের জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থানগুলো
পুরো দ্বীপাঞ্চলটিকে প্রাণবন্ত করে রেখেছে এর ছোট-বড় সৈকতগুলো। শহরে অত্যাধুনিক পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ঘুরতে এলেও পর্যটকরা সৈকতে একবার ঢুঁ মেরে যেতে একদমই ভোলেন না। তাছাড়া এই বালিয়াড়ির স্বর্গরাজ্যগুলোর আশেপাশেই রয়েছে মনোমুগ্ধকর কিছু জায়গা। চলুন, সেগুলোর মধ্য থেকে সর্বাধিক আকর্ষণীয় স্থানগুলোর ব্যাপারে সংক্ষেপে জেনে নেওয়া যাক।
ফি ফি আইল্যান্ড
মনোরম পরিবেশের এই দ্বীপটির দুটি ভাগে বিভক্ত: একটি ফিফি ডন ও আরেকটি ফিফি লে। নীলচে সবুজ পানির ওপর দিয়ে প্রতিদিনই এই দ্বীপে যাতায়াত করে ফুকেটের ক্রুজ। ক্রুজে চড়ার পাশাপাশি এখানে সুযোগ রয়েছে স্কুবা ডাইভিং, স্নোরকেলিং, সার্ফিং ও এনেমনে রীফসহ নানা ধরনের রোমাঞ্চকর রাইডের।
আরো পড়ুন: ভিয়েতনাম ভ্রমণ: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
ফাং এনগা বে
৪২টি দ্বীপের এই অগভীর উপসাগরটি ফুকেটের সবচেয়ে বৈচিত্র্যপূর্ণ জায়গাগুলোর মধ্যে অন্যতম। এর বনাঞ্চলের জলাভূমিতে রয়েছে নানা প্রজাতির ম্যানগ্রোভ, সমুদ্র ঘাসের বিছানা ও প্রবাল প্রাচীর। এগুলোর সঙ্গে চারপাশের গুহাগুলো যেন কতক রহস্যের পসরা সাজিয়ে রেখেছে।
জেমস বন্ড আইল্যান্ড
ফাং এনগা বের প্রধান আকর্ষণ এই দ্বীপটি। আসল নাম খাও ফিং কান। ১৯৭৪ সালের বিখ্যাত জেমস বন্ড মুভি ‘দ্য ম্যান উইথ দ্য গোল্ডেন গান’-এর কিছু দৃশ্যের শুটিং এখানে হয়েছিল। সেই থেকে দ্বীপটি জেমস বন্ডের নামেই অধিক পরিচিতি লাভ করে। এখানে পর্যটকদের জন্য সাঁতার কাটা, সেইলিং ও কায়াকিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে।
ফুকেট সৈকত
দ্বীপপুঞ্জের মধ্যে বৃহত্তম দ্বীপ হওয়ায় ফুকেটের সৈকতে দর্শনার্থীদের আনাগোনা থাকে অনেক বেশি। এখানে পর্যটকদের মূল আকর্ষণ থাকে সান বাথ, সাঁতার, স্নোরকেলিং, জেট স্কাইং, প্যারাসেইলিং, বানানা বোট ও হবি ক্যাট সেইলিংয়ের দিকে।
বিগ বুদ্ধা
দ্বীপের দক্ষিণে গেলে চোখে পড়বে নক্কার্ড পাহাড়ের চূড়ায় সাদা মার্বেলে গড়া বিশাল বুদ্ধের মূর্তি। এর উচ্চতা ৪৫ মিটার ও প্রস্থ ২৫ দশমিক ৪৫ মিটার। সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠার পর উত্তরে দেখা যাবে ফাং এনগা থেকে পুরো চালং উপসাগর। দক্ষিণে দৃষ্টিপটে বিস্ময়ের খোরাক যোগাবে কাতা সমুদ্র সৈকত। নিচে যাওয়ার পথে প্যানোরামিক বারগুলো থেকে চোখে পড়বে বার ক্যারন সৈকতে পাখিদের ঝাঁক।
আরো পড়ুন: ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপ ভ্রমণ: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
ফুকেট অ্যাকোয়ারিয়াম
সাঁতার জানা নেই অথচ পানির নিচের জগৎ দেখার অগাধ স্পৃহা। এমন পর্যটকদের জন্য সেরা গন্তব্য হচ্ছে এই ফুকেট অ্যাকোয়ারিয়াম। এখানে দর্শনার্থীরা বড় এক সুড়ঙ্গে প্রবেশ করে একটু সামনে এগোতেই সম্মুখীন হন সামুদ্রিক প্রাণীদের।
থাইল্যান্ডের পর্যটন ভিসার আবেদন পদ্ধতি ও খরচ
ফুকেট ভ্রমণে যেতে হলে প্রথমে থাই ট্যুরিস্ট ভিসা নিতে হবে। এর জন্য একক এন্ট্রি ভিসার জন্য আবেদন করা যেতে পারে, যার মেয়াদ থাকবে ৩ মাস পর্যন্ত। ভ্রমণের জন্য সম্ভাব্য তারিখের অন্তত দুই সপ্তাহ আগে থেকে এই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করা জরুরি। একক এন্ট্রি ক্যাটাগরির জন্য ভিসা আবেদন ফি ৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং ভিসা হাতে পেতে সময় লাগতে পারে সাধারণত ৭ কার্যদিবস।
আবেদন করার ফর্ম পাওয়া যাবে https://thaivisabd.com/forms/NewVisaApplicationForm.pdf-এই লিংকে।
আরো পড়ুন: ভুটান ভ্রমণ: জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান, যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
৫৮২ দিন আগে
পশমিনা শাল আসল না নকল চিনবেন কীভাবে?
আরামদায়ক উষ্ণতা ও নান্দনিক কারুকাজের মেলবন্ধনে চাদর বা শাল প্রতি শীতেই থাকে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে। এগুলোর মধ্যে অভিজাত শ্রেণির আলাদা দৃষ্টি থাকে পশমিনা শালের দিকে। দেহাবরণটির প্রধান উপাদান পশমিনার নমনীয় বৈশিষ্ট্যের জন্য এর রয়েছে জগৎ জোড়া খ্যাতি। কাপড়টি বোনা হয় চাংথাং মালভূমিতে চড়ে বেড়ানো চাংথাঙ্গি নামক পাহাড়ি ছাগলের পশম থেকে। মালভূমিটির অবস্থান ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তরের অঞ্চল লাদাখে, আর সেখান থেকেই মূলত এই পশমিনা বস্ত্রের উৎপত্তি। বর্তমানে আসলগুলোর পাশাপাশি নানা বৈচিত্র্যে অনেক আধুনিক সংস্করণও তোলা হয় বাজারগুলোতে। এগুলোর মধ্য থেকে কীভাবে আসল পশমিনা শালটি চিনে নেবেন চলুন, তা জেনে নেওয়া যাক।
আসল পশমিনা শাল চেনার কার্যকরী উপায়
.
নমনীয়তা যাচাই
পশমিনা কাপড়ের প্রধান ও অনন্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর সুক্ষ্ম কোমলতা। অথচ এর উষ্ণতায় কোনো ঘাটতি পড়ে না। এর উপর আলতো করে হাত বুলিয়ে গেলে পাখির পালকের মতো হাল্কা অনুভূত হবে। একই সঙ্গে পুরো পৃষ্ঠে পাওয়া যাবে মসৃণতার সরব উপস্থিতি।
পুরুষদের ফরমাল পোশাক ও স্যুট বানানোর জনপ্রিয় কিছু দেশি ব্র্যান্ড
অপরদিকে, সিন্থেটিক বা মিশ্রিত উপাদানের শালগুলোর অধিকাংশই থাকে মোটা, অমসৃণ ও তুলনামূলকভাবে স্বল্প নমনীয়।
বুননের কাজ পর্যবেক্ষণ
এই শাল ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে হাতে বোনা হয়, যার ফলে বুননগুলো সামান্য অসমান হয়। মেশিনে তৈরি সিন্থেটিক শালগুলোর বুনন হয় ত্রুটিহীন এবং একই ধরনের। এই সূক্ষ্ম তারতম্যটি বোঝার জন্য কাপড়টি হাতে ধরে ভালোভাবে খুঁটিয়ে দেখতে হবে।
অবশ্য খাঁটি পশমিনার বুননের রেখাগুলোতে অসঙ্গতির নমনীয়তা এবং উষ্ণতার মানে কোনো প্রভাব ফেলে না। বরং তা যুগ যুগ ধরে কারুশিল্পীদের দক্ষতার কথা গর্বের সঙ্গে প্রকাশ করে আসেছে।
গহনায় ব্যবহৃত মূল্যবান কিছু রত্নপাথর
কাপড়ের চকচকে ভাব যাচাই
সরাসরি সূর্যের আলোয় ধরলে যদি কাপড় চকচক করে, তবে বুঝতে হবে এতে সিল্ক, নাইলন বা অন্যান্য কৃত্রিম উপাদানের মিশ্রণ আছে। কারণ চাংথাঙ্গি ছাগলের পশম থেকে বানানো পশমিনা আলোকে প্রতিফলিত করার বদলে শোষণ করে নেয়। তাই সূর্যালোকের সংস্পর্শে এলে এগুলো চকচকে দেখাবে না।
সুক্ষ্ম হলেও এই কাপড় স্বচ্ছ নয় অর্থাৎ সূর্যালোক এতে প্রতিসরিত হয় না। বরং এটি রোদের আলোকে ঢেকে দিতে পারে।
উলের স্থির বিদ্যুৎ সংবেদনশীলতা নিরীক্ষা
শালের প্রান্ত দু’আঙ্গুলে ধরে আলতোভাবে ঘষে দেখতে হবে কাপড়ে থাকা উলের পশম দাঁড়িয়ে যাচ্ছে কি না। কৃত্রিম প্রক্রিয়ায় বানানো কাপড়ে ঘর্ষণের ফলে স্থির বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। এতে করে উলের ফাইবারগুলো সংবেদনশীলতার কারণে সোজা দাঁড়িয়ে যায়।
হাই হিল কিভাবে পুরুষের পা থেকে নারীর পায়ে এলো?
কিন্তু আসল পশমিনা প্রাকৃতিক পশম দিয়ে তৈরি হওয়ায় ঘর্ষণ কোনো স্থির বিদ্যুতের সৃষ্টি করতে পারে না। তাই ঘর্ষণের জায়গায় উলের সূক্ষ্ম পশম না দাঁড়িয়ে যথাস্থানে অপরিবর্তিত অবস্থায় থাকে।
শিখা পরীক্ষা
অন্যান্য পদ্ধতিগুলো প্রয়োগের পরে সন্দেহ থাকলে তবেই এই পরীক্ষাটি ব্যবহার করা উচিত। অন্যথায় এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। খাঁটি পশমিনা শাল যাচাইয়ের জন্য একটি সর্বাপেক্ষা কার্যকর পদ্ধতি। তবে পরীক্ষাটি করার সময় সতর্ক থাকা জরুরি।
খুব সতর্কতার সঙ্গে শাল থেকে একটি ছোট সুতা টেনে বের করে আগুনে পোড়াতে হবে। প্রকৃত পশমিনা পোড়ার সময় চুল পোড়ার মতো গন্ধ ছড়াবে। ধীরে ধীরে পুড়ে সুক্ষ্ম সুতাটি গুঁড়া ছাইতে পরিণত হবে। অন্যদিকে সিন্থেটিক ফাইবারগুলো পোড়ালে সেগুলো ধীরে ধীরে গলে যাওয়া শুরু করবে। এ সময় গলতে থাকা অংশগুলো থেকে প্লাস্টিকের মতো গন্ধ বের হবে।
নতুন পোশাক কেনার আসক্তি কমানোর উপায়
শেষাংশ
পশমিনা শাল আসল না নকল তা চেনার জন্য স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যগুলোর দিকে খেয়াল দেওয়াই যথেষ্ট। কেননা সুক্ষ্ম নমনীয়তা, সূর্যালোক শুষে নেওয়া এবং স্থির বিদ্যুতের প্রতি অসংবেদনশীলতা উপাদানগত দিক থেকে একে অতুলনীয় করে তোলে। আর এই বিশেষত্বটিই ফুটে উঠে উপরোক্ত পদ্ধতিগুলোর মাধ্যমে কাপড় যাচাইয়ের সময়। মূলত প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার বাইরে যেয়ে কৃত্রিমতা সংযোজনের ফলে কাপড়ে চাংথাঙ্গি ছাগলের পশমের স্বকীয়তা লোপ পায়। আর এই বিষয়টি যাচাই করার মাধ্যমে শালের উপাদান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
৫৮৩ দিন আগে
হবিগঞ্জের রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্য ভ্রমণ: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
অরণ্য ভ্রমণ মানে প্রকৃতির শান্ত প্রাণের এক স্নিগ্ধ পুনরুজ্জীবনের আলিঙ্গন। সবুজের ভিড়ে হারানোর সময় সঙ্গী হয় পাতার শব্দ আর পাখির কিচির-মিচির। বনের যত গহীনে যাওয়া যায় ততই প্রবল হতে থাকে বিস্ময়কর কিছু খুঁজে পাওয়ার আকর্ষণ। কখনো তা দুর্লভ প্রজাতির কোনও গাছ বা অদ্ভূত কোনও বন্যপ্রাণী। কখনও তা হতে পারে কোনও এক আদিবাসী শিশুর স্তম্ভিত চাহনী। বিশেষ করে বাংলাদেশের পাহাড়ি বনগুলোতে এ সবকিছুরই দেখা মেলে। তন্মধ্যে জঙ্গলেই মঙ্গল সন্ধানীদের জন্য প্রিয় একটি গন্তব্য হচ্ছে হবিগঞ্জের রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্য। চলুন, দেশের প্রসিদ্ধ এই পর্যটন কেন্দ্রটি সম্বন্ধে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্যের অবস্থান
অভয়ারণ্যটির অবস্থান দেশের পূর্বাঞ্চলের বিভাগ সিলেটের হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলায়। ঢাকা থেকে সড়কপথে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরত্বে এই সংরক্ষিত বনাঞ্চলটির অবস্থান। সুন্দরবনের পরেই এই শুকনো ও চিরহরিৎ বনটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাকৃতিক বনভূমি। একই সঙ্গে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবেও স্বীকৃত এই অঞ্চলটি।
ভারতের ত্রিপুরা সীমান্ত সংলগ্ন সমগ্র অভয়ারণ্যটির আয়তন ১ হাজার ৭৯৫ দশমিক ৫৪ হেক্টর। হবিগঞ্জ বনবিভাগের কালেঙ্গা রেঞ্জের রেমা, কালেঙ্গা, ও ছনবাড়ী- এই তিনটি বিট পড়েছে অভয়ারণ্যের মধ্যে। অরণ্যের ভেতর দিয়ে ট্রেকিং পথে সিন্দুরখান ইউনিয়ন হয়ে পিচঢালা পথে শ্রীমঙ্গল পৌঁছা যায়।
ঢাকা থেকে হবিগঞ্জের রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্য যাওয়ার উপায়
ঢাকাবাসীদের সড়কপথে এই অভয়ারণ্যে যাওয়ার জন্য প্রথমে পৌঁছাতে হবে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে। আরও একটু এগিয়ে শ্রীমঙ্গল হয়ে গেলে একসঙ্গে দুই অঞ্চলের পর্যটন স্থানগুলো ভ্রমণ করা যায়। ঢাকার সায়েদাবাদ বা গাবতলি বাস টার্মিনাল থেকে সরাসরি হবিগঞ্জের বাস আছে। এগুলোতে ভাড়া পড়বে ৪৬০ টাকা এবং হবিগঞ্জের আগে শায়েস্তাগঞ্জে নেমে পড়তে হবে।
অপরদিকে শ্রীমঙ্গলের বাসে উঠলে খরচ হবে ৫৭০ থেকে ৮০০ টাকা।
যারা ট্রেনে যেতে চান তাদেরকে উঠতে হবে সিলেটগামী ট্রেনে। এই ট্রেনগুলো শায়েস্তাগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল উভয় জায়গাতেই থামে। সিটের ধরন ভেদে ভাড়া নিতে পারে ২৬৫ থেকে ১ হাজার ৯৯ টাকা।
আর সবচেয়ে দ্রুত যাওয়ার জন্য রয়েছে বিমান, যেখানে সিলেট পর্যন্ত যেতে খরচ হবে ৩ হাজার ৬০০ থেকে ৪ হাজার ৮০০ টাকা। সিলেট থেকে বাসে করে শায়েস্তাগঞ্জ বা শ্রীমঙ্গল পর্যন্ত আসতে হবে। দুই জায়গা থেকেই সরাসরি কালেঙ্গা যাওয়ার অটোরিকশা বা জিপ গাড়ি পাওয়া যায়। শ্রীমঙ্গল থেকে জিপে করে কালেঙ্গা যেতে খরচ পড়বে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা।
রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্য ভ্রমণে কি কি দেখবেন
বনে প্রবেশ করতেই স্বাগত জানাবে মনোরম একটি লেক। পাশেই সুউচ্চ ওয়াচ টাওয়ার, যেখান থেকে পুরো বনভূমি এক নজরে দেখে নেওয়া যায়।
এই অভয়ারণ্যে ৬৩৮ প্রজাতির উদ্ভিদ, ৩৭ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ৭ প্রজাতির উভচর প্রাণী, ১৮ প্রজাতির সরীসৃপ, এবং ১৬৭ প্রজাতির পাখি। পাখি প্রেমিদের জন্য এই অভয়ারণ্য সর্বোত্তম জায়গা। তবে একসঙ্গে অনেক পাখির দেখা পাওয়ার জন্য খুব ভোরে বনের ভেতর ঢুকতে হবে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে পাহাড়ি ময়না, ভিমরাজ, কাও ধনেশ, ফোটা কান্টি সাতভারলা, শালিক, শ্যামা, শামুক খাওরি, ও টুনটুনিসহ আরও দুর্লভ প্রজাতির পাখি।
এখানকার প্রধান আকর্ষণের মধ্যে রয়েছে শকুন দর্শন। বনভূমিটি শকুনের নিরাপদ অভয়ারণ্য হিসেবে জাতীয়ভাবে স্বীকৃত।
এই বনে ৩ প্রজাতির বানরের দেখা মেলে। এগুলো হলো- লাল বানর, নিশাচর লজ্জাবতী বানর, এবং উল্টোলেজি বানর। এ বনে কাঠবিড়ালী আছে ৫ প্রজাতির, যেগুলোর মধ্যে বিরল প্রজাতির মালয়ান বড় কাঠবিড়ালি শুধুমাত্র এখানেই পাওয়া যায়। সাপের মধ্যে দেখা যায় দুধরাজ, কোবরা, দাঁড়াশ, এবং লাউডগা।
এই বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে ট্রেকিং-এর জন্য রয়েছে ৩টি ট্রেইল। একটি আধ ঘন্টার, একটি ১ ঘন্টার, এবং একটি ৩ ঘন্টার পথ।
এই পথে দেখা হয়ে যাবে আদিবাসীদের সাথে। এখানে মোট ৪ আদিবাসীর বসবাস- ত্রিপুরা, সাঁওতাল, উড়ং, এবং তেলুগু।
রেমা-কালেঙ্গা বনভূমি ভ্রমণের সেরা সময়
এই বনভূমিতে বৃষ্টির মৌসুম বাদে বছরের যে কোনও সময়েই ঘুরতে যাওয়া যায়। বর্ষায় ৩টি ট্রেইলের ২টিই চলাচলের একদম অযোগ্য হয়ে পড়ে। গরমে পাহাড়ি জংলা পথে অল্প হাটতেই ক্লান্তি চলে আসবে। তাই এই অভয়ারণ্য ভ্রমণের সেরা সময় হচ্ছে পুরোটা শীত এবং বসন্তের শুরু তথা ফাল্গুন মাস। ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির যেকোনো দিন এখানে ঘুরে আসা যেতে পারে।
অভয়ারণ্য ভ্রমণে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা
এখানে বন বিভাগের বাংলো রয়েছে, তবে এখানে থাকতে সিলেট বন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। এছাড়া কয়েকটি বেসরকারি রিসোর্টও আছে। এগুলোতে ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকায় থাকা যেতে পারে। প্রতিবেলা খাবারের জন্য খরচ হতে পারে মাথাপিছু ২০০ টাকা।
হবিগঞ্জ শহরে কিছু মান সম্পন্ন আবাসিক হোটেল আছে, যেগুলোতে ভাড়া পড়বে ৮০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা। বাহুবল উপজেলায় পাওয়া যাবে ৫ তারকা রিসোর্ট যেখানে ৭ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।
ভ্রমণকালীন কিছু সতর্কতা
- অভয়ারণ্য ভ্রমণে দিক নির্দেশনা ও থাকা-খাওয়া বন্দোবস্তের জন্য সঙ্গে অবশ্যই গাইড নেওয়া আবশ্যক
- ট্রেকিং-এর সময় সঙ্গে হালকা শুকনা খাবার, বিশুদ্ধ পানি, এবং স্যালাইন রাখা জরুরি
- জংলি জোঁক থেকে বাঁচতে পায়ে বড় মোজা পড়া যেতে পারে কিংবা সঙ্গে লবণ রাখা ভালো
- বনের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষার্থে যেখানে সেখানে পলিথিন, খাবারের উচ্ছিষ্ট, প্যাকেট, এবং পানির বোতল ফেলা যাবে না
পরিশিষ্ট
হবিগঞ্জের রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্যে ট্রেইল তিনটির যেকোনো একটির ট্রেকিং-এ পাওয়া যাবে সারা জীবনের জন্য অমূল্য এক অভিজ্ঞতা। তাই শতভাগ উপভোগের জন্য পুরো ট্যুরের জন্য ন্যূনতম ২ দিন সময় নিয়ে যাওয়া উচিত। পাখিপ্রেমিদের জন্য রীতিমত স্বর্গরাজ্য বলা যেতে পারে এই সংরক্ষিত বনাঞ্চলটিকে। এছাড়াও যত গহীনে প্রবেশ করা যাবে সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য ততই বিস্ময়ের খোরাক যোগাবে। উপরন্তু, স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়গুলোতে মিলবে প্রাচীন ঐতিহ্য এবং জীবনযাত্রার নিদর্শন। সব মিলিয়ে এই অভয়ারণ্য এক স্বতন্ত্র বাস্তুতন্ত্রের আশ্রয়স্থল, যার সুরক্ষার দিকে দর্শনার্থীদেরও খেয়াল রাখা জরুরি।
আরো পড়ুন: দার্জিলিংয়ের টংলু ও সান্দাকফু যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
৫৮৭ দিন আগে
ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো প্রদর্শনী ২০২৪ -এর ঢাকা সংস্করণ শুরু
ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ও দৃক পিকচার লাইব্রেরির আয়োজনে ঢাকার দৃক গ্যালারীতে ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো প্রদর্শনী ২০২৪ শুরু হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) দৃক গ্যালারিতে এটির উদ্বোধন করা হয়।
বিশ্বব্যাপী সফররত এই প্রদর্শনীতে ফাউন্ডেশনের বার্ষিক আলোকচিত্র প্রতিযোগিতার ফলাফলের ভিত্তিতে একটি স্বাধীন বিচারকমন্ডলী দ্বারা নির্বাচিত বিগত বছরে তোলা সমগ্র বিশ্বের সেরা আলোকচিত্র সাংবাদিকতা এবং ডকুমেন্টারি আলোকচিত্রসমূহ প্রদর্শিত হচ্ছে।
দৃকপাঠ ভবনে আযোজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রদর্শনীর ঢাকা সংস্করণের প্রেক্ষাপটের উপর আলোকপাত করেন বাংলাদেশস্থ নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত ইরমা ভ্যান ডুরেন, জাতিসংঘের মুক্তচিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিকাশ ও সুরক্ষাবিষয়ক বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার আইরিন খান এবং দৃক পিকচার লাইব্রেরির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো প্রতিযোগিতার প্রাক্তন জ্যুরি বোর্ড সভাপতি শহিদুল আলম।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো প্রতিযোগিতার এশিয়া অঞ্চলের কোর্ডিনেটর এএসএম রেজাউর রহমান।
এর আগে পূর্বে এশিয়া অঞ্চলের সহযোগি হিসাবে ২০২২ সালের নভেম্বরে দৃক ২০২২ সালের ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিল। এছাড়াও দৃক এশিয়া অঞ্চলের ২০২৩ সালের ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো প্রতিযোগিতার বিচারপ্রক্রিয়ার আয়োজন করে ঢাকায় এবং ২০২৪ সালের ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো প্রতিযোগিতার বিচারপ্রক্রিয়ার আয়োজন করে অনলাইনে।
আরও পড়ুন: বন্যার্তদের সহায়তায় গ্যালারি কসমসে 'আর্ট ফর এইড: রিবিল্ডিং লাইভস' প্রদর্শনী শুরু
২০২৪ সালের ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো প্রতিযোগিতাটি বিশ্বব্যাপী মোট ছয়টি অঞ্চলে অনুষ্ঠিত হয়েছে- আফ্রিকা, এশিয়া, ইউরোপ, উত্তর এবং মধ্য আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া এবং ওশেনিয়া। প্রতিযোগিতার এবারের ৬৭তম আসরে ১৩০টি দেশের ৩ হাজার ৮৫১ জন আলোকচিত্রীর কাছ থেকে ৬১ হাজার ৬২টি আলোকচিত্র ও ওপেন ফরম্যাট এন্ট্রি পাওয়া যায়। ৬১ হাজারেরও বেশি এন্ট্রি থেকে নির্বাচিত বিজয়ী কাজগুলোর মধ্য দিয়ে ধ্বংসাত্মক সংঘাত এবং রাজনৈতিক উত্থান থেকে শুরু করে জলবায়ু সংকট এবং অভিবাসীদের নিরাপদ উত্তরণ সম্ভ্রান্ত বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এধরনের গুরুত্বপূর্ণ গল্পগুলোকে একত্রিত করার ক্ষেত্রে, নির্বাচিত কাজগুলো সমসাময়িক ঘটনাগুলো সম্পর্কে বৃহত্তর বোঝাপড়া এবং সচেতনতাকে উৎসাহিত করে। সেইসঙ্গে বিশ্বের সমস্ত কোণে সাংবাদিকতার স্বাধীনতার প্রয়োজনীয়তাকেও মনে করিয়ে দেয়।
এবছর বিশ্বব্যাপী সফর শুরু করার পূর্বে, গত এপ্রিলের ১৯ তারিখে ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো প্রদর্শনী ২০২৪ আযোজিত হয় নেদারল্যান্ডের অ্যামস্ট্যারডাম শহরে। বর্তমানে প্রদর্শনীটি ৬০টির বেশি দেশে সফর করছে।
প্রদর্শনীটি আগামী ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন বিকাল তিনটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
আরও পড়ুন: কুমার নদে ১২৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচে মানুষের ঢল
৫৮৭ দিন আগে
দার্জিলিংয়ের টংলু ও সান্দাকফু যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
পিলে চমকানো উচ্চতায় মেঘ ছুঁয়ে যাওয়া পাহাড় ভ্রমণের মাঝে কেবল দুঃসাহসিকতা নয়, থাকে অজানাকে নতুন করে জানার হাতছানি। উঁচু-নিচু দুর্গম পথ পদব্রজে ভ্রমণের আনন্দ আশেপাশের বীথিকার রাজ্য দু’চোখ ভরে দেখার অনুভূতির সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। রোমাঞ্চ আরও একধাপ বেড়ে যায় যখন এর সঙ্গে যুক্ত হয় তুষারপাত। নিদেনপক্ষে বাংলাদেশি ট্রেকারদের জন্য তা নিতান্তই এক অপূর্ব অভিজ্ঞতা। দার্জিলিংয়ের টংলু হয়ে সান্দাকফু অভিমুখের যাত্রাপথটি তেমনই এক গন্তব্য। অতিক্রম করা যথেষ্ট সহজ হওয়ার কারণে ট্রেকারদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে এই ট্রেকিং পথটি। চলুন, জনপ্রিয় পর্যটন স্থানটিতে ভ্রমণ সম্বন্ধে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
দার্জিলিং
পূর্ব হিমালয়ে অবস্থিত ভারতের উত্তরাঞ্চলের শহর দার্জিলিং, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে যার গড় উচ্চতা ৬ হাজার ৭০৯ ফুট। এর উত্তরে সিকিম এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বে বাংলাদেশ। মেঘমুক্ত দিনে উত্তর দিগন্ত জুড়ে দেখা যায় বিশ্বের তৃতীয়-সর্বোচ্চ পর্বত কাঞ্চনজঙ্ঘা।
হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত এই শহরে প্রায় সারা বছরই থাকে শীতের মৌসুম। মেঘে ঢাকা নৈসর্গিক সৌন্দর্য্য, চা-বাগান ও ঐতিহাসিক রেলওয়ের জন্য দার্জিলিং বিশ্বজুড়ে একটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। এর প্রধান আকর্ষণ বাতাসিয়া লুপ, দার্জিলিং টয় ট্রেন ও নান্দনিক পাহাড়ি রাস্তাগুলো। কাঞ্চনজঙ্ঘার অনুপম দৃশ্যের পাশাপাশি টাইগার হিলের সূর্যোদয় বিশ্ব পরিব্রাজকদের কাছে টানে এক অমোঘ আকষর্ণে।
আরো পড়ুন: তাজিংডং ভ্রমণ গাইড: যাওয়ার উপায় ও খরচ
টংলু
দার্জিলিং জেলার অন্তর্গত ছোট্ট একটি ট্রাঞ্জিট শহর মানেভঞ্জন, যেখান থেকে সান্দাকফু চূড়ায় যাওয়ার পথে বেশ কয়েকটি গ্রাম পড়ে। এগুলোরই একটি হচ্ছে টংলু, মানেভঞ্জন থেকে যার দূরত্ব ১১ কিলোমিটার। ১০ হাজার ১৩০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই ছোট্ট গ্রামটিই যাত্রা বিরতির জন্য ট্রেকারদের প্রিয় স্থান। সমতলে যখন গ্রীষ্মের উষ্ণতা, তখনও ভারত ও নেপাল সীমান্তবর্তী এই নিরিবিলি গ্রামে থাকে কনকনে শীত। আকাশ পরিষ্কার থাকলে এখান থেকেও চোখে পড়ে কাঞ্চনজঙ্ঘার রাজকীয় দৃশ্য।
এছাড়া কাছেই রয়েছে সিঙ্গালিলা ন্যাশনাল পার্ক। মানেভঞ্জন থেকে গাড়ি করে গেলে মেঘমা পর্যন্ত যেয়ে তারপর সেখান থেকে ২ কিলোমিটার ট্রেকিং করে টংলুতে পৌঁছা যায়।
সান্দাকফু
ভারত ও নেপালের সীমান্তে অবস্থিত সিঙ্গালিলা রিজের একটি পর্বতশৃঙ্গের নাম সান্দাকফু বা সান্দাকপুর যার উচ্চতা ১১ হাজার ৯৩০ ফুট। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের এই সর্বোচ্চ স্থানটিতে আরোহণ করতে হলে সিঙ্গালিলা ন্যাশনাল পার্কের একদম শেষ প্রান্তে যেতে হয়।
আরো পড়ুন: ২০২৪ সালে ভিসা ছাড়াই যেসব দেশে যেতে পারবেন বাংলাদেশিরা
এখানে রয়েছে কয়েকটি হোটেল ও ছোট্ট একটি গ্রাম, যেখান থেকে বিশ্বের পাঁচটি সর্বোচ্চ পবর্তশৃঙ্গের মধ্যে চারটিই চোখে পড়ে। সেগুলো হলো- এভারেস্ট, কাঞ্চচনজঙ্ঘা, লোটসে, এবং মাকালু শৃঙ্গ।
৫৯৩ দিন আগে
নেপালের অন্নপূর্ণা ট্রেকিংয়ে যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
অজানা ও রহস্যময় জনপদ অন্বেষণের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার নাম ট্রেকিং, যেখানে ভাঙতে হয় দুঃসাহসিকতা ও শারীরিক সহনশীলতার বাঁধ। পিলে চমকে দেওয়া উচ্চতায় বিস্তৃত বীথিকাজুড়ে আন্দোলিত হয় ভয়ঙ্কর সুন্দরের উপাখ্যান। নতুন কিংবা অভিজ্ঞ; যে কোনো ট্রেকারের মনেই এই নৈসর্গ সৃষ্টি করে দুর্গমকে আলিঙ্গনের এক অদম্য নেশা। আর ঠিক এ কারণেই অবিস্মরণীয় হিমালয়ের বুকে নেপালের অন্নপূর্ণা পরিণত হয়েছে ট্রেকারদের স্বর্গরাজ্যে। এই জনপ্রিয় ট্রেকিং গন্তব্য নিয়েই আজকের ভ্রমণ নিবন্ধ। চলুন, অন্নপূর্ণা ভ্রমণের উপায় ও প্রয়োজনীয় খরচ নিয়ে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
অন্নপূর্ণার ভৌগলিক অবস্থান
উত্তর-মধ্য নেপালের গন্ডাকি প্রদেশের অন্নপূর্ণা পর্বতশ্রেণীর প্রধান পর্বত অন্নপূর্ণা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা ৮ হাজার ৯১ মিটার। এর সুপরিচিত ট্রেকিং অঞ্চলটি হলো ৭ হাজার ৬২৯ বর্গ-কিলোমিটারের অন্নপূর্ণা কন্জার্ভেশন এরিয়া। এখানকার ট্রেকিং রুটগুলোর মধ্যে সর্বাধিক জনপ্রিয় হলো-
· অন্নপূর্ণা অভয়ারণ্য থেকে অন্নপূর্ণা বেস ক্যাম্পের রুট
· অন্নপূর্ণা হিমাল ও জমসম রুটসহ অন্নপূর্ণা সার্কিট
· জমসন থেকে জোমসম ও মুক্তিনাথ মন্দিরের রুট
এছাড়াও ঘোরেপানি বা ঘান্ড্রুকের মতো আরও কিছু প্রসিদ্ধ রুট রয়েছে। প্রায় সবগুলো রুটেরই শুরু হয় পোখারা শহর থেকে। বিভিন্ন আকারের হওয়ায় প্রত্যেকটি রুট অতিক্রম করতে ভিন্ন ভিন্ন সময়ের প্রয়োজন হয়। ন্যূনতম ৩ থেকে ৪ দিন থেকে শুরু করে কোনো কোনো রুটে ২ সপ্তাহেরও অধিক সময় লেগে যায়।
আরো পড়ুন: ট্রেকিং, হাইকিং, ক্যাম্পিং ও ভ্রমণের সময় সাপের কামড় থেকে নিরাপদে থাকার উপায়
নেপালের পর্যটন ভিসা আবেদনের পদ্ধতি
সার্কভুক্ত দেশ হওয়ায় বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য নেপালে রয়েছে বিনামূল্যে অন-অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা। মূলত ১৫ দিনের কম সময়ের জন্য ভ্রমণ করা হলে কোনো ভিসা ফি’র প্রয়োজন হয় না। বিমানবন্দরেই কাস্টম্সের সময় ‘পর্যটন ভিসা’ এবং ‘আগমন কার্ড’-এর জন্য দরকারি ফর্ম পূরণ করা যায়। তবে বাংলাদেশে থাকা অবস্থায় নেপাল অভিবাসনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকেও ভিসার আবেদন করা যায়। এতে করে কাস্টম্সে সময় বাঁচে। ভ্রমণের ন্যূনতম ১০ দিন আগে থেকে আবেদন জমা দেওয়া যায়।
আবেদনের লিংক: https://nepaliport.immigration.gov.np/on-arrival/IO01
এই পর্যটন ভিসার আবেদনের জন্য যে নথিপত্র লাগবে, তা হচ্ছে-
· নেপালে পৌঁছার দিন থেকে কমপক্ষে ৬ মাসের মেয়াদ থাকা বৈধ পাসপোর্ট
· সম্পূর্ণ পূরণ করা ভিসা আবেদন ফর্ম
· সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের ছবি
· জন্ম সনদ অথবা জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি কার্ড)
বিমানবন্দরে অভিবাস সংক্রান্ত কাজের সময় সঙ্গে রিটার্ন টিকেট, নেপালে হোটেল বুকিংয়ের কাগজ, এবং পাসপোর্ট রাখতে হবে।
এরপর ট্রেকিংয়ের জন্য অতিরিক্ত পার্মিট নিতে হবে। একটি এসিএপি (অন্নপূর্ণা কন্জার্ভেশন এরিয়া প্রোজেক্ট) অফিস থেকে এসিএপি পার্মিট। এর জন্য পাসপোর্ট আর ৪ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি লাগে। পার্মিট ফি ১ হাজার নেপালি রুপি বা ৮৮৯ টাকা (১ নেপালি রুপি = ০ দশমিক ৮৯ বাংলাদেশি টাকা)।
দ্বিতীয়টি হচ্ছে- টিআইএমএস (ট্রেকিং ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম) কার্ড, যার জন্য খরচ হবে আরও ১ হাজার রুপি (৮৮৯ টাকা)।
আরো পড়ুন: এভারেস্টজয়ী ৬ বাংলাদেশি: লাল-সবুজের পতাকা হাতে বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ জয়ের অনুপ্রেরণা
অন্নপূর্ণা ভ্রমণে কি কি দেখবেন
রাজকীয় পর্বতমালার পটভূমিতে এখানে রয়েছে অবারিত রডোডেনড্রন বন, আলপাইন তৃণভূমি ও হিমবাহ উপত্যকা। চোখে পড়ে তুষার চিতাবাঘ, নীল ভেড়া ও দুর্লভ প্রজাতির পাখি। অনন্য সংস্কৃতির প্রতিনিধিরূপে বহুকাল ধরে এখানে বসবাস করছে গুরুং, থাকালি ও মানাঙ্গির মতো সম্প্রদায়গুলো। ফলে পাহাড়ের বিভিন্ন জায়গায় জন কোলাহলের গ্রামগুলোতে দেখা যায় প্রাচীন মঠের মতো নানা ধর্মীয় স্থান।
তন্মধ্যে ঘোরেপানি গ্রামের কাছাকাছি অবস্থিত পুন হিল অন্নপূর্ণা ও ধৌলাগিরি রেঞ্জ সূর্যোদয় দর্শনের জন্য বিখ্যাত।
তিব্বতি শৈলীতে প্যাগোডার মতো ছাদ ও জটিল কাঠের খোদাইয়ে গড়ে তোলা হয়েছে মুক্তিনাথ মন্দির। এখানে পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ১০৮টি জলধারা সম্বলিত স্থাপনা মুক্তিধারা। ভূগর্ভস্থ প্রাকৃতিক গ্যাসের কারণে মন্দির কমপ্লেক্সের মধ্যে রয়েছে একাধিক চিরন্তন শিখার ‘জ্বালা মাই’।
মন্দিরের পেছনে অভিজাত থুরং লা পাস এবং অন্নপূর্ণা ও ধৌলাগিরি পর্বতমালার তুষারাবৃত শৃঙ্গ।
নার্ফু নদীর পাশে রয়েছে নিঃসঙ্গ অথচ অপরুপ সুন্দর নার্ফু ভ্যালি। মাস্তাঙ জেলার উপরের অংশে পাওয়া যাবে নেপালের প্রাচীন গুপ্ত শহর লো মান্থাংর দেখা। তিলিকো লেকের স্বচ্ছ পানিতে চারপাশের পাহাড়ের প্রতিফলন যেন সম্মোহনের নামান্তর।
ট্রেকারদের যাত্রা বিরতির জন্য জনপ্রিয় স্টপেজ ঘান্ড্রুক গ্রাম, যেখান থেকে পাহাড়ি বীথিকার সবচেয়ে আশ্চর্য রূপটা দেখা যায়।
থুরং লা পাস ধরে ৫ হাজার ৪১৬ মিটার পথ পাড়ি দেওয়ার সময় চোখে পড়ে অন্নপূর্ণা ১, ২, ৩ ও ৪, মানাস্লু, গঙ্গাপূর্ণা ও ল্যাংট্যাং হিমাল।
আরো পড়ুন: ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপ ভ্রমণ: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
অন্নপূর্ণা ট্রেকিংয়ের সেরা সময়
অতিরিক্ত তুষারপাতের কারণে শীতকালে প্রায়ই ট্র্যাক বন্ধ থাকে। অন্নপূর্ণা ট্রেকিংয়ের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত হচ্ছে বসন্তকাল। অর্থাৎ মার্চ থেকে এপ্রিল মাসের সময়কে বেছে নেওয়া যেতে পারে। তাছাড়া শীতের আগ দিয়ে সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মৌসুমটাও ভালো।
সরাসরি নেপালের ফ্লাইট এবং হোটেল বুকিং করবেন যেভাবে
অভিবাসন সংক্রান্ত কাজের জন্য আগাম ফ্লাইট টিকেট এবং হোটেল বুকিং করে নেওয়াটা জরুরি। বিমানের টিকেটের জন্য অনলাইন পোর্টালগুলোর মধ্যে রয়েছে গোজায়ান, ফ্লাইট এক্সপার্ট ও শেয়ার ট্রিপ। এগুলোতে রাউন্ড ট্রিপের বিমান ভাড়া নির্ভর করবে কিছু বিষয়ের উপর যেমন এয়ার লাইনস কোম্পানি, বুকিংয়ের সময়, বিভিন্ন অফার, ইত্যাদি।
শেয়ার ট্রিপ ও গোজায়ানের মাধ্যমে প্রতি রাতের জন্য জনপ্রতি ৬৯৪ টাকা থেকে ৪ হাজার ৫১৩ টাকার মধ্যে হোটেল বুকিং দেওয়া যাবে।
কাঠমান্ডু ও পোখারার অনেক ট্রাভেল স্টোরে স্লিপিং ব্যাগ ও ডাউন জ্যাকেট ভাড়া পাওয়া যায়। এগুলোর মধ্যে স্লিপিং ব্যাগ ভাড়া প্রতিদিনের জন্য ২০০ থেকে ৫০০ রুপি বা ১৭৮ থেকে ৪৪৪ টাকা। অপরদিকে, ডাউন জ্যাকেট ভাড়া দিনপ্রতি ২০০ থেকে ৪০০ রুপির (১৭৮ থেকে ৩৫৬ টাকা) মধ্যে।
আরো পড়ুন: ভিয়েতনাম ভ্রমণ: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
অন্নপূর্ণার সামগ্রিক ভ্রমণ খরচ কেমন হতে পারে
একদম নতুনদের জন্য অন্নপূর্ণা ভ্রমণে গাইড সঙ্গে নেওয়া আবশ্যক। এ ক্ষেত্রে প্রতিদিনের জন্য গাইডকে দিতে হতে পারে ৩ থেকে ৪ হাজার রুপি (২ হাজার ৬৬৬ থেকে ৩ হাজার ৫৫৫ টাকা)।
বিভিন্ন আকারের পাহাড়ি পথগুলোতে যাত্রা পথে থাকার জন্য ট্রেকারদের প্রথম পছন্দ থাকে ট্রি-হাউসগুলো। প্রতি রাতের জন্য এখানে ভাড়া দিতে হয় ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ রুপি (৩৫৬ থেকে ১ হাজার ৩৩৩ টাকা) পর্যন্ত। এখানে সরবরাহকৃত খাবারের দাম সাধারণত ৫০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ রুপির (৪৪৪ থেকে ১ হাজার ৩৩৩ টাকা) মধ্যে হয়ে থাকে।
তবে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো যাত্রার জন্য খাবারের জন্য দিনপ্রতি ২ থেকে ৩ হাজার রুপি (১ হাজার ৭৭৮ থেকে ২ হাজার ৬৬৬ টাকা) বাজেট রাখা উচিত। শহরের রেস্তোরাঁ বা স্ট্রিট ফুডগুলোতে খরচ হতে পারে ২০০ থেকে ৫০০ রুপি (১৭৮ থেকে ৪৪৪ টাকা)।
পদব্রজে ভ্রমণ শুরুর পূর্বে যানবাহনে যাতায়াতের ক্ষেত্রে শেয়ার্ড জিপের খরচ জনপ্রতি ৫০০ থেকে ৮০০ রুপি (৪৪৪ থেকে ৭১১ টাকা)। তবে লোকাল বাসে এই খরচটা ২০০ থেকে ৩০০ রুপিতে (১৭৮ থেকে ২৬৭ টাকা) নেমে আসে। তবে কাঠমান্ডু থেকে সরাসরি পোখারার ট্যুরিস্ট বাসের টিকেট মূল্য জনপ্রতি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ রুপি (৮৮৯ থেকে ১ হাজার ৬৭ টাকা)।
সব মিলিয়ে ১০ থেকে ১৪ দিনের ট্রেকিংয়ের উদ্দেশ্যে নেপাল ভ্রমণের জন্য সম্ভাব্য বাজেট ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার রুপি। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই বাজেট ৫৩ হাজার ৩২৭ থেকে ১ লাখ ৬ হাজার ৬৫৪ টাকার সমান।
আরো পড়ুন: থাইল্যান্ডের ক্রাবি ভ্রমণ গাইড: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
ট্রেকিংয়ের জন্য যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখা জরুরি
· মাইনাস ১৫ ডিগ্রি তাপমাত্রায় থাকার জন্য উপযোগী কাপড়-চোপড় সঙ্গে নেওয়া
· কাপড়ের ফেব্রিক পলেস্টার বা সিনথেটিক হওয়া উচিত। এতে করে ঘামে ভিজে ঠান্ডা লাগার আশঙ্কা থাকে না।
· পাহাড়ি রাস্তায় হাঁটার জন্য আরামদায়ক বুট, ট্রেকিং স্যান্ডেল ও ৩ থেকে ৪ জোড়া মোজা
· ক্যামেরার সঙ্গে চার্জারসহ অতিরিক্ত ব্যাটারি ও পাওয়ার ব্যাংক
· ব্যাগ খুব ভারী হওয়া চলবে না
· পাঞ্চ টাইপের রেইনকোর্ট
· ত্বকের আর্দ্রতার জন্য পেট্রোলিয়াম জেলি
· পোলার্ড আইস সানগ্লাস
· পাতলা ও মোটা মোট ২ রকমের গ্লাভ্স
· পাসপোর্ট ও এনআইডির মূল্য কপির সঙ্গে ফটোকপি ও কমপক্ষে ৬ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি |
আরো পড়ুন: ভুটান ভ্রমণ: জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান, যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
ট্রেকিংয়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ঔষধ
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ নিতে হবে। এছাড়াও নিতে হবে:
· মেডিকেল ফার্স্ট এইড
· হেক্সিসল (বিমানে বহন নিষেধ, তাই নেপালে প্লেন থেকে নেমে কিনে নিতে হবে)
· ওয়ান টাইম ব্যান্ড এইড ও মাইক্রোপোর ব্যান্ডেজ
· আইস কুল ম্যাক্স
শেষাংশ
নেপালের অন্নপূর্ণা ট্রেকিং মানেই অমূল্য এক অভিজ্ঞতা, যেখানে বিস্ময়কর প্রকৃতির সঙ্গে সন্নিবেশ ঘটে অনন্য জনগোষ্ঠীর সান্নিধ্য। এই অভিজ্ঞতা লাভের জন্য নেপালের অন-অ্যারাইভাল ভিসার পাশাপাশি নিতে হবে এসিএপি ও টিআইএমএস পার্মিট। বৈচিত্র্যপূর্ণ পাহাড়ি পথগুলোর কোনো কোনোটি অতিক্রম করতে ২ সপ্তাহেরও বেশি সময় লেগে যায়। তাই ভ্রমণের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনা থাকা জরুরি। ট্রেকিংয়ের সময় যাত্রা বিরতির জন্য স্লিপিং ব্যাগ বা ডাউন জ্যাকেট নেওয়া একই সঙ্গে আরামদায়ক ও রোমাঞ্চকর। সর্বোপরি, একটি স্বাস্থ্যকর ট্রেকিং অভিজ্ঞতার জন্য ওষুধপত্রসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামগুলো সঙ্গে রাখা অপরিহার্য।
আরো পড়ুন: তুলনামূলক কম দামে বিমানের টিকিট কেনার কৌশল
৫৯৬ দিন আগে
বাইপোলার ডিসঅর্ডার: কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার
একটি সুস্থ মানসিক অবস্থা একটি উন্নত জীবনযাত্রার রূপকল্প। অন্যদিকে, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা ক্রমশ বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে নিত্য দিনের জীবনধারাকে। শুধু তাই নয়, গুরুতর রোগের মতোই তা বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে মানবদেহের ওপর। বাইপোলার ডিসঅর্ডার মনস্তত্ত্বের ঠিক তেমনি একটি অবস্থা, যেখানে মেজাজের স্বাভাবিক কার্যকলাপে দেখা দেয় অসংলগ্নতা। চলুন, মানসিক এই সমস্যাটির কারণ ও লক্ষণ জানার পাশাপাশি এ থেকে উত্তরণের উপায় সম্বন্ধে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
বাইপোলার ডিসঅর্ডার কি
মেজাজের ভারসাম্যহীনতার মাধ্যমে যে মানসিক সমস্যার প্রকাশ ঘটে সেটি বাইপোলার ডিসঅর্ডার বা দ্বিপ্রান্তিক ব্যাধি নামে পরিচিত। ‘বাইপোলার’ শব্দটির মাধ্যমে মেজাজের দুই বিপরীত মেরুকে বোঝানো হয়, যার একটি উন্মাদনা, এবং অন্যটি বিষণ্নতা। উন্মাদনার মাধ্যমে ব্যক্তির মাঝে উচ্ছ্বাসের অপ্রতিরোধ্য অনুভূতি বিরাজ করে। অন্যদিকে, বিষণ্নতা মুহূর্তগুলোতে ব্যক্তি গভীর দুঃখ ও হতাশার ভেতর দিয়ে সময় কাটান।
বাইপোলার ডিসঅর্ডার রোগের কারণ
বাইপোলার ডিসঅর্ডার মূলত কতগুলো দীর্ঘ প্রক্রিয়ার সমষ্টি, যা ধীরে ধীরে ব্যক্তিকে অসামঞ্জস্য আচরণের দিকে ধাবিত করে। প্রধানত তিনটি কারণে এমন অবস্থার অবতারণা ঘটে। এগুলো হলো-
জিনগত কারণ
বাবা-মা এবং ভাইবোনদের মধ্যে একজনের এ সমস্যা থাকলে পরবর্তীতে অন্যজনের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। ওয়েবএমডি অনুসারে, বাবা বা মা যে কোনো একজনের এই ব্যাধি থাকলে তাদের সন্তানদের এই ব্যাধি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ১০ থেকে ২৫ শতাংশ। আর দুজনেরই থাকলে এই সম্ভাবনা ৫০ শতাংশে উন্নীত হয়। যমজ ভাইবোনের মধ্যে একজনের এই ব্যাধি থাকলে অন্যজনের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ১০ থেকে ২৫ শতাংশ।
আরো পড়ুন: অটিজম কী? অটিজম সচেতনতা ও সহমর্মিতা কেন জরুরি?
জীবনের কোনো স্পর্শকাতর ঘটনা
যাদের পরিবারের পূর্বে কারো দ্বিপ্রান্তিক ব্যাধি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে প্রচণ্ড মানসিক চাপ সৃষ্টিকারী ঘটনাগুলো ট্রিগার হিসেবে কাজ করতে পারে। তাছাড়া জিনগত বৈশিষ্ট্য না থাকলেও ট্রমাজনিত অভিজ্ঞতাগুলো এই ব্যাধির দিকে ধাবিত করতে পারে। যেমন শৈশবের কোনো অপ্রিয় ঘটনা, প্রিয়জনের মৃত্যু, জীবনের বড় পরিবর্তন, চাকরি, সম্পর্ক বা আর্থিক চাপ উন্মাদনা বা বিষণ্নতার দশাগুলোর সূচনা ঘটাতে পারে।
মাদকাসক্তি
উত্তেজক রাসায়নিক, ওষুধ বা অ্যালকোহল নেওয়া মেজাজের ভারসাম্যতাকে বিনষ্ট করে। শুধু মাদকের নেশাই নয়, প্রয়োজনীয় ওষুধ ঘন ঘন সেবনের ফলেও মেজাজের অসামঞ্জস্যতা সৃষ্টি হতে পারে।
এছাড়াও অনেক বাইপোলার ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত ব্যক্তি নিজেদের অবস্থার উন্নতির জন্য নিজে থেকে ঔষধ সেবনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। এতে তাদের ব্যাধির উপসর্গগুলো উল্টো বেড়ে গিয়ে মানসিক অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে।
বাইপোলার ডিসঅর্ডার রোগে কারা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়
জিনগত কারণগুলো থেকে এই মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা প্রায় ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ। শৈশবের কোনো অপ্রিয় ঘটনা এবং প্রিয়জনের ক্ষতি থেকে সৃষ্ট ট্রমা সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি করে। মাদক সেবন থেকে এই মানসিক স্বাস্থ্য জটিলতার ক্ষেত্রে সর্বাধিক বিপদের মধ্যে রয়েছে তরুণরা।
আরো পড়ুন: রক্তের গ্রুপ: কে কাকে রক্ত দিতে পারবে?
বাইপোলার ডিসঅর্ডার রোগের লক্ষণ
মেজাজ ও কার্যকলাপের মাত্রার নাটকীয় পরিবর্তনটা দৃশ্যমান হতে শুরু করে উন্মাদনা ও বিষণ্নতা এই দুই ভিন্ন পর্যায়ে।
উন্মাদনাকেন্দ্রিক উপসর্গ
এই উপসর্গগুলোর মাধ্যমে মূলত ব্যক্তির শারীরিক সক্ষমতা ও কার্যকলাপের মাত্রার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দৃষ্টিগোচর হয়।
· উচ্ছ্বাস বা বিরক্তি: কোনো কোনো সময় ব্যক্তি অতিরিক্ত উচ্ছ্বাস অনুভব করেন বা নিজেকে সর্বাধিক সুখী মনে করেন। এই অনুভূতির আরেক নাম ইউফোরিয়া। কিছু সময় (অনির্দিষ্ট) পরেই তিনি আকস্মিকভাবে প্রচণ্ড ক্রোধ অনুভব করেন। বিশেষ করে যখন কোনো চ্যালেঞ্জ অনুভব করেন তখন তিনি রীতিমতো আক্রমণাত্মক ভঙ্গিমায় অবস্থান নেন।
· চিন্তা ও কথাবার্তায় দ্রুততা: এ ধরনের ব্যক্তিরা একাধিক বিষয়ের চিন্তায় নিমজ্জিত থাকে। অথচ নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ব্যর্থ হন। তার বহিঃপ্রকাশ তাদের কথাবার্তায়ও দেখা যায়। প্রতিটি বাক্য খুব দ্রুতগতিতে বলার কারণে প্রায় পুরোটা সময় শ্রোতাদের কাছে তা দুর্বোধ্য মনে হয়।
· আবেগপ্রবণতা এবং যে কোনো কিছু ভুলভাবে বিচার করা: এ সমস্যার ভূক্তভোগীরা আর্থিক সিদ্ধান্ত, সম্পদের অপব্যয় বা বেপরোয়া ড্রাইভিংয়ের মতো বিষয়গুলোতে আবেগের বশবর্তী হয়ে সিদ্ধান্ত নেন। এছাড়া জীবনের নানা লেনদেন বা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার সময় সবকিছুকে ভুল ব্যাখা দাঁড় করান।
· অনিদ্রা বা অতিরিক্ত ঘুম: এ সমস্যায় জর্জরিত ব্যক্তিদের কখনো স্বাভাবিকের চেয়ে কম ঘুমের দরকার হয়। আবার কখনো দেখা যায় যে, দীর্ঘক্ষণ যাবত ঘুমের পরেও জেগে থাকতে (বিশেষ করে দিনের বেলা) সমস্যা হচ্ছে।
আরো পড়ুন: বন্যা পরবর্তী পানিবাহিত রোগ থেকে সতর্ক থাকার উপায়
বিষণ্নতার উপসর্গ
মানসিক অবস্থার এই পর্যায়ে মেজাজ এবং আচরণের অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হয়।
· ক্রমাগত দুঃখ বা হতাশা: এক্ষেত্রে ব্যক্তি দীর্ঘ সময় ধরে হতাশার মাঝে নিমজ্জিত থাকেন এবং সর্বদা দুঃখী অনুভব করেন।
· আগ্রহ বা আনন্দ কমে যাওয়া: এক সময় যে বিষয়গুলো অত্যন্ত উপভোগ্য ছিল, সেগুলোর প্রতি আর ভালো লাগা কাজ করে না।
· ক্লান্তি: প্রতিদিনের সাধারণ এবং সহজ কাজগুলোতে অত্যধিক ক্লান্তি অনুভূত হয়। সেই সঙ্গে স্পৃহা না থাকায় সব মিলিয়ে সামগ্রিকভাবে কর্মদক্ষতা লোপ পায়।
· মনোযোগ নিবদ্ধ করতে অসুবিধা: সুনির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে মনোযোগে অপারগতা দেখা দেয়। এর ফলে ব্যক্তি যথেষ্ট প্রচেষ্টার পরেও যথাসময়ে সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হন।
মিশ্র উপসর্গ
অধিকাংশের মধ্যে এই বিষণ্নতা এবং উন্মাদনা একই সঙ্গে শুরু হয়। এতে করে এমন এক মানসিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়, যেখানে ভুক্তভোগী অযাচিত কোনো ভুল করে বসেন বা বড় কোনো ঝুঁকি নিয়ে ফেলেন। মনের এই মিশ্র অবস্থা সবথেকে গুরুতর, কেননা চরম পর্যায়ে এটি ওই ব্যক্তিকে আত্মহত্যার দিকেও ঠেলে দিতে পারে।
আরো পড়ুন: এমপক্সের কারণ, লক্ষণ, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা
বাইপোলার ডিসঅর্ডার রোগের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা
জিনগত বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে বাইপোলার ডিসঅর্ডার এড়ানোটা জটিল। তবে সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করা না গেলেও এর ক্ষতির মাত্রা কমানো যেতে পারে। যে পদক্ষেপগুলো এখানে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে সেগুলো হলো-
· নিয়মিত সঠিক ব্যায়াম, ইয়োগা ও ধ্যান করার অভ্যাস করা
· প্রতিদিনই পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সুন্দর সময় কাটানো
· যে কোনো মূল্যে মাদক থেকে বিরত থাকা
· মেজাজে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে এমন ওষুধ এড়িয়ে চলা
· নিয়মিত ঘুমের সময়সূচি বজায় রাখা
· সুষম খাদ্যাভ্যাস চালু রাখা
· সৃজনশীল কাজে নিয়োজিত হওয়া
· ইতিবাচক সম্পর্ক লালন করা
আরো পড়ুন: অ্যাজমা, শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানি রোগের কারণ, লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায়
বাইপোলার ডিসঅর্ডার রোগ প্রতিকারের উপায়
শারীরিক ব্যাধির মতো এই মানসিক অবস্থার আসলে নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক নেই। তবে জীবনযাত্রার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনসহ কিছু থেরাপিতে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে মানসিক অবস্থার উন্নতি করা যায়। এই প্রতিকারমূলক ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে-
ওষুধ
এ ক্ষেত্রে সাধারণত যে ওষুধগুলো গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয় সেগুলো হলো- মুড স্টেবিলাইজার, অ্যান্টিসাইকোটিক্স ও অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট্স। এখানে লিথিয়ামের মতো মুড স্টেবিলাইজারগুলো মিশ্র উপসর্গগুলো প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
অন্যদিকে, অ্যান্টিসাইকোটিকগুলো উন্মাদনাকে নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হয়। এখানে খেয়াল রাখা উচিত যে, ওষুধগুলোর অনিয়ন্ত্রিত ডোজ সেবনে উল্টো উন্মাদনাকে ত্বরান্বিত করতে পারে। তাই এগুলো ব্যবহারের পূর্বে অবশ্যই একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করে নেওয়া অত্যাবশ্যক।
সাইকোথেরাপি
জ্ঞানগত-আচরণগত থেরাপি (সিবিটি) ব্যক্তির চিন্তাভাবনা এবং আচরণগত অসামঞ্জস্যতাগুলোর চিকিৎসায় বেশ কার্যকর। ইন্টার্পাসনাল ও সোশ্যাল রিদম থেরাপি দৈনন্দিন রুটিন বজায় এবং সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করে। এই কৌশলগুলো ব্যক্তির ঘুম, খাবার ও অন্যান্য কার্যকলাপের সময়সূচি স্থিতিশীল করতে সাহায্য করে।
আরো পড়ুন: এসির বাতাসে শিশুকে নিরাপদ রাখবেন যেভাবে
জীবনধারার পরিবর্তন
এই ডিসঅর্ডার থেকে আরোগ্য লাভের সবচেয়ে মোক্ষম উপায় হলো জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা। তবে এটি বেশ সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। নিয়মিত ব্যায়াম দীর্ঘ মেয়াদে মেজাজকে স্বাভাবিক ও আবেগকে স্থিতিশীল রাখতে এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। স্বাস্থ্যকর ঘুম ও পুষ্টিকর খাবার সর্বাঙ্গীনভাবে মানসিক সুস্থতাকে বিকশিত করে।
মানসিক সমর্থন
জীবনধারাকে পরিবর্তিত করতে যে বিষয়টি হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে তা হলো পরিবার, বন্ধু ও থেরাপিস্টের মানসিক সমর্থন। দ্বিপ্রান্তিক ব্যাধির মূল চিকিৎসাটিই হচ্ছে এই সমর্থন নিশ্চিত করা। এগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যক্তির মনস্তত্ত্বে অনেকটা সাপ্লিমেন্টের মতো কাজ করে।
শেষাংশ
বাইপোলার ডিসঅর্ডার সনাক্ত করার জন্য এর কারণ ও লক্ষণগুলো গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা প্রয়োজন। মানসিক সমস্যাটির নেপথ্যে রয়েছে জিনগত বৈশিষ্ট্য, মানসিক আঘাত ও মাদকাসক্তি। লিঙ্গ বা বয়স নির্বিশেষে প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই উপসর্গগুলোকে সূচনালগ্নেই খেয়াল করা উচিত। এর ফলে প্রাথমিক অবস্থাতেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।
অপরদিকে, এরইমধ্যে এই সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের ওষুধ ও থেরাপির পাশাপাশি দরকার মানসিক সমর্থন। উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা স্বাস্থ্যসম্মত জীবনধারা বজায় রাখার সার্বিক প্রচেষ্টাকে সফল করে তুলতে পারে।
আরো পড়ুন: ভিমরুলের কামড় কতটা ভয়ংকর? সাবধানতা ও করণীয়
৫৯৮ দিন আগে