যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ডে নিহত জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ আগামী ৪ মে ঢাকায় পৌঁছাবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বাংলাদেশ দূতাবাসের মিনিস্টার (প্রেস) গোলাম মোর্তোজা এক হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় এ তথ্য জানান। তিনি জানান, আগামী ৪ মে সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে লিমনের মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে।
তিনি জানান, লিমনের মরদেহ ইতোমধ্যে ফিউনারেল হোমে নেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে মরদেহটি অরল্যান্ডো (এমসিও) থেকে এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে পাঠানো হবে। ফ্লাইটটি ২ মে রাত ৮টা ৫০ মিনিটে রওনা দেবে।
তিনি আরও জানান, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার জোহরের নামাজের পর ফ্লোরিডার টাম্পায় ইসলামিক সোসাইটি অব টাম্পা বে এলাকায় লিমনের প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে নিহত অপর শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানান গোলাম মোর্তোজা।
লিমন ও বৃষ্টি দুজনেই ছিলেন ২৭ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক। তারা যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার পিএইচডি শিক্ষার্থী ছিলেন। গত ১৬ এপ্রিল থেকে তারা নিখোঁজ ছিলেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, লিমনকে সর্বশেষ ক্যাম্পাসের বাইরে একটি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে দেখা যায়। সেখানে তিনি হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন ২৬ বছর বয়সী হিশাম আবুঘারবিয়েহ এবং আরও একজন রুমমেটের সঙ্গে থাকতেন।
পরে তদন্তকারীরা মোবাইল ফোনের অবস্থান এবং লাইসেন্স প্লেটের তথ্য ব্যবহার করে সন্দেহভাজন আবুঘারবিয়েহর গাড়ি এবং লিমনের অবস্থান অনুসরণ করেন। এর সূত্র ধরে ২৪ এপ্রিল ফ্লোরিডার একটি সেতুর কাছ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
প্রসিকিউটরদের দাখিল করা এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, লিমনের শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। হত্যা করার আগে তাকে বেঁধে রাখা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, বৃষ্টির খোঁজে তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনার পর গত ২৬ এপ্রিল টাম্পার কাছাকাছি একটি জলপথ থেকে একটি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার করে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। তবে ওই মরদেহের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনও এখনও পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন তদ্নত কর্মকর্তারা।
এদিকে, গ্রেপ্তার হওয়া এই হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজনকে জামিন ছাড়াই কারাগারে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) টাম্পায় এক সংক্ষিপ্ত শুনানিতে হিলসবরো কাউন্টির বিচারক লোগান মারফি এই আদেশ দেন। কয়েকদিন আগে একটি সোয়াট টিম সন্দেহভাজনকে তার নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, হিশাম আবুঘারবিয়েহ সাক্ষী কিংবা ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে পারবেন না।
আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, আবুঘারবিয়েহর বিরুদ্ধে এই দুটি পূর্বপরিকল্পিত খুনের অভিযোগসহ আরও কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে দোষী সাব্যস্ত হলে তিনি মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন। তবে প্রসিকিউটররা তার সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে আবেদন করবেন কি না, এ বিষয়ে তারা এখনও কিছু জানাননি।
নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা নিখোঁজ হওয়ার কয়েকদিন পর তদন্ত কর্মকর্তারা আবুঘারবিয়েহকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন। এ সময় হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেন তিনি।
তবে তার কনিষ্ঠ আঙুলে ব্যান্ডেজ বাঁধা ছিল বলে বিচার-পূর্ব আটকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন তদন্তকারীরা। পরে বাড়িটির ব্যবস্থাপকের সহযোগিতায় তদন্তকারীরা লিমন ও আবুঘারবিয়েহর বসবাস করা ওই অ্যাপার্টমেন্টে প্রবেশ করেন।
অ্যাপার্টমেন্টটিতে বসবাসকারী তাদের অপর রুমমেট পুলিশকে জানান, ১৬ এপ্রিল রাতে আবুঘারবিয়েহ একটি ট্রলি ব্যবহার করে নিজের কক্ষ থেকে কয়েকটি কার্ডবোর্ডের বাক্স ট্র্যাশ কমপ্যাক্টরে নিয়ে গিয়েছিলেন।