স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দেশের জন্য আরও একটি যুগান্তকারী আইনি উদ্যোগের ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, ‘১৮৬৭ সালের মান্ধাতা আমলের জুয়া আইন বাতিল করে জুয়া, বেটিং ও অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে একটি সম্পূর্ণ নতুন, যুগোপযোগী ও আধুনিক আইন প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আগামী সংসদ অধিবেশনেই এই আইনটি পাসের জন্য বিল আকারে পেশ করা হবে।
রবিবার (২৪ মে) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে অবস্থিত গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা জানান। এ মতবিনিময় অনুষ্ঠানে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
মাদক আইনের সংস্কার এবং মামলার জট নিরসন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ঢাকা জেলায় প্রায় ৮০ হাজার এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ বিভিন্ন জেলায় বিপুল পরিমাণ মাদক মামলা অমিমাংসিত (পেন্ডিং) রয়েছে। এই মামলার আধিক্য বিবেচনা করে বিশেষ ‘মাদক ট্রাইব্যুনাল’ গঠন করা হবে।
মন্ত্রী দেশের জন্য আরও একটি যুগান্তকারী আইনি উদ্যোগের ঘোষণা দিয়ে বলেন, ১৮৬৭ সালের মান্ধাতা আমলের জুয়া আইন বাতিল করে জুয়া, বেটিং ও অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে একটি সম্পূর্ণ নতুন, যুগোপযোগী ও আধুনিক আইন প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আগামী সংসদ অধিবেশনেই এই আইনটি পাসের জন্য বিল আকারে পেশ করা হবে।
পাসপোর্টে আসছে পরিবর্তন
পাসপোর্টে পরিবর্তনের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন, আসন্ন নতুন পাসপোর্টগুলোতে আগের মতো ‘এক্সেপ্ট ইসরায়েল’ (ইসরায়েল ব্যতীত) শব্দগুচ্ছ পুনর্স্থাপন করা হবে। এটি দেশের সর্বস্তরের জনগণের প্রাণের দাবি ও বর্তমান সরকারের সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত।
মুক্ত গণমাধ্যমের চর্চা
মুক্ত গণমাধ্যমের গুরুত্ব উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সমাজের সর্বাঙ্গীণ সংস্কার ও অগ্রগতির জন্য স্বাধীন ও মুক্ত গণমাধ্যম অপরিহার্য। তবে ফ্রিডম অব প্রেস এবং বাকস্বাধীনতা চর্চার ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থ, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে যৌক্তিক বিধিনিষেধ থাকা দরকার।
তিনি বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের লাগামহীন অপব্যবহার, হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং কৃত্রিম ন্যারেটিভ তৈরির মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপপ্রয়াসের বিরুদ্ধে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং গণমাধ্যমকর্মীদের এ বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে পরামর্শমূলক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
সচিবালয়ে সাংবাদিকদের যাতায়াত প্রসঙ্গ
বিএসআরএফ উত্থাপিত বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের যাতায়াতের সুবিধার্থে সচিবালয়ের ৫ নম্বর গেট ব্যবহারের বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত অফিস করেন বিধায় সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে স্ক্রুটিনি (যাচাই-বাছাই) করতে হয়। নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ ও সিভিল কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সাংবাদিকদের কল্যাণে দ্রুততম সময়ে এ বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
বিএসআরএফ সভাপতি মাসউদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা দেন প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিএসআরএফের সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।
মতবিনিময়কালে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) নেতারাসহ বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।