আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ফ্যাসিবাদের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বের হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ধর্ষণের মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও যারা আশ্রয়-প্রশ্রয় দেবেন তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। অপরাধীদের রাজনৈতিক আশ্রয়ের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার সংসদ সদস্য ও জেলায় কর্মরত সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় সংসদ সদস্য আলী আজম মো. আবু কবর, মতিয়ার রহমান, আবু তালেব, জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাসউদ ও পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজালসহ জেলায় কর্মরত সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, যারা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হবে তাদের শুধু চাকরিই যাবে না, তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা করে জেলহাজতে নেওয়া হবে। কারণ আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছি। জনগণের জন্য বরাদ্দ টাকা কড়ায় গন্ডায় বুঝে নেওয়া হবে। কেউ যদি এক পাই-পয়সা কমিশন বাণিজ্যও করেন, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধে আপনাদের সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থান নিতে হবে। সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী সরবরাহ করলে ওই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যদি কোনো দপ্তর এই দায়িত্ব পালনে অবহেলা করে, তবে ওই দপ্তরের প্রধানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনে মামলা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, উন্নয়নমূলক কাজের মানের ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। যদি কেউ সড়কসহ অবকাঠামো নির্মাণকাজ নিম্নমানের করে, তার লাইসেন্স বাতিল করা হবে। যদি কেউ কমিশন বাণিজ্য ও চাঁদাবাজি করতে চান, তবে আপনারা আমাকে জানাবেন। দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও মাদক নির্মূলে সরকার ও বিরোধীদল একসঙ্গে কাজ করবে।
এ সময় মো. আসাদুজ্জামান ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া সড়কের গাড়াগঞ্জ বাজার থেকে শৈলকুপা পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ওই ঠিকাদারের লাইসেন্স ব্ল্যাকলিস্ট (কালো তালিকাভুক্ত) করে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ধরনের অসৎ ও দুর্নীতিবাজ ঠিকাদার আগামীতে যাতে কোনো কাজের কন্ট্রাক্ট (চুক্তি) না পায় সে ব্যবস্থাও নেব।
আইনমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান শহিদদের তাজা রক্তের বিনিময়ে আমরা একটি নির্বাচন পেয়েছি, একটা সরকার পেয়েছি। জুলাই শহিদদের অমর্যাদা হয় বা তাদের আত্মা কষ্ট পায়, এমন কোনো কর্মকাণ্ড এই সরকার বরদাশত করবে না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আত্মোৎসর্গকারী ও আহতদের অমর্যাদাও মেনে নেওয়া হবে না।
এছাড়া বিচারক সংকট, মামলাজট ও জুডিশিয়ারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদ্যমান সমস্যা আইনের আওতায় সমাধান করা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আইনমন্ত্রী দুপুরে শৈলকুপা ডিগ্রী কলেজ মাঠে বিএনপির সংবর্ধনায় যোগ দেবেন। এরপর বিকেলে বাগ্নি রাধা গোবিন্দ মন্দির দর্শন ও সন্ধ্যায় শৈলকুপা দলীয় কার্যালয়ে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।