উন্নয়নের অধিকার নিশ্চিত করতে সব দেশের অঙ্গীকার, দায়িত্ববোধ ও সম্মিলিত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে স্থানীয় সময় বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত উন্নয়নের অধিকারবিষয়ক একটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ আহ্বান জানান।
উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহ উপলক্ষে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।
উন্নয়নের অধিকারবিষয়ক জাতিসংঘের ঘোষণাপত্র গৃহীত হওয়ার ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ওই ঘোষণাপত্রে উন্নয়নকে একটি অবিচ্ছেদ্য মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই ও অংশগ্রহণমূলক উন্নয়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী সরকারের জনকল্যাণমুখী উন্নয়ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন।
তিনি উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে নারী ও তরুণদের ভূমিকার ওপরও গুরুত্ব দেন এবং এমন একটি ‘রেইনবো নেশন’-এর প্রত্যয়ের কথা তুলে ধরেন, যেখানে কেউ পিছিয়ে থাকবে না।
অনুষ্ঠানে শামা ওবায়েদ কয়েকটি অগ্রাধিকার তুলে ধরেন, যার মধ্যে রয়েছে আরও ন্যায্য বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামো, পূর্বানুমানযোগ্য ও ন্যায্য উন্নয়ন এবং জলবায়ু অর্থায়ন, প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় (এআই) সমান সুযোগ। উন্নয়নের অধিকারকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে আইনিভাবে বাধ্যতামূলক একটি কাঠামো প্রয়োজন বলেও মত দেন তিনি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, অনুষ্ঠানে উন্নয়নের অধিকার পুনর্ব্যক্ত এবং অভিন্ন সমৃদ্ধি এগিয়ে নিতে বিভিন্ন সদস্যরাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশ নেন।
শামা ওবায়েদ নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি (ডব্লিউপিএস) ফোকাল পয়েন্টস নেটওয়ার্কের বার্ষিক মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকেও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে ফিলিপাইন, ইতালি ও ইউএন উইমেনের উদ্যোগে নারীর শান্তি ও নিরাপত্তাবিষয়ক জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৩২৫ নম্বর প্রস্তাবের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে ওই প্রস্তাবের বাস্তবায়ন ও জবাবদিহিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
২০০০ সালে নির্বাচিত নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য হিসেবে ১৩২৫ নম্বর প্রস্তাব সমর্থনে বাংলাদেশের অগ্রণী ভূমিকার কথা স্মরণ করে প্রতিমন্ত্রী সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর অর্থবহ অংশগ্রহণের প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি নারী নেতৃত্বাধীন আগাম সতর্কতা ও মধ্যস্থতা জোরদার, শান্তি প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, জলবায়ু ও মানবিক কর্মকাণ্ডে ডব্লিউপিএসকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং নারীর বিরুদ্ধে সংঘটিত লঙ্ঘনের বিষয়ে জবাবদিহিতা জোরদারের আহ্বান জানান।
প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের দ্বিতীয় ডব্লিউপিএস জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে চলমান উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
তিনি ‘ঢাকা ডায়ালগ’ নামের বাংলাদেশ-নেতৃত্বাধীন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন, যার লক্ষ্য নারীর বিরুদ্ধে ডিজিটাল হয়রানি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর নিপীড়ন মোকাবিলা করা। এ উদ্যোগের আসন্ন ‘গ্রুপ অব ফ্রেন্ডস’-এ যোগ দিতে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর প্রতি আমন্ত্রণ জানান তিনি।
জাতিসংঘের ডব্লিউপিএস এজেন্ডা বাস্তবায়ন জোরদার এবং শান্তি ও নিরাপত্তায় নারীর নেতৃত্ব এগিয়ে নিতে বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা বৈঠকে অংশ নেন।