চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাট্রিজের ‘ভোট বিহীন অবৈধ কমিটি’র পদত্যাগের দাবিতে চট্টগ্রামের সর্বস্তরের ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিত্বমূলক সম্মিলন ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার নগরীর আগ্রাবাদের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে চিটাগং চেম্বার অব কমার্স ভবনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠি হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন, চিটাগং চেম্বার অব কমার্সের প্রাক্তন সিনিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট এস,এম,নুরুল হক।
তিনি বলেন,গত ১৬ বছরের গতিহীন জংধরা এই প্রতিষ্ঠানকে সর্বাধুনিক এবং গতিশীল করতে হলে নুতন প্রজন্মকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নেতৃত্বে আনতে হবে।
তিনি বলেন, বৈষম্যহীন সমাজ গঠন করতে ছাত্র-জনতার গণঅভুত্থানের মাধ্যমে দেশে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হয়েছে। নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস অন্তবর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনামলে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো ঐতিহ্যবাহী চিটাগং চেম্বারও একটি নির্দিষ্ট দলীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। দলীয় কার্যালয়ের মতো ব্যবহৃত হয়েছে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের ভরসাস্থল। দুই প্রভাবশালী নেতা এম এ লতিফ ও মাহবুবুল আলম বলয়ের বাইরে এখানে কেউ নির্বাচিত হওয়া দূরে থাক, মনোনয়ন ফরম পর্যন্ত নিতে পারেনি। ফলে তাদের পরিবারের সদস্যরাই এখানে ব্যবসায়িক নেতা হয়েছেন, বলয়ের মধ্যে থাকা ব্যক্তিরাই পরিচালক হয়েছেন। রাজত্ব করে যাচ্ছেন দীর্ঘদিন থেকে। চেম্বারকে ব্যবসায়ীদের বদলে পারিবারিক প্রতিষ্ঠান বানিয়েছেন। পরিবারতন্ত্রের বাইরে যে কজন সিলেক্টেড হয়েছেন তারা সবাই অর্থের বিনিময়ে চেম্বার পরিচালক মনোনীত হয়েছেন।
বক্তারা বলেন, শতবছরের ঐতিহ্যবাহী চিটাগং চেম্বার এখন অনেকটা 'মরা বাঘ'এ পরিণত হয়েছে। ব্যবসায়ীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে চিটাগং চেম্বার কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি। এই চেম্বারের নেতার মতো নয়,বরং রাজনৈতিক দলের মুখপাত্রের মতোই উনারা কথা বলেছেন। চট্টগ্রামের সাধারণ ব্যবসায়ীরা সেই পরিবারতন্ত্রের কবল থেকে চিটাগং চেম্বারকে মুক্ত করতে চান। তৃণমূল ব্যবসায়ীদের ভোটে সরাসরি নেতৃত্ব নির্বাচন করতে চান তারা।
চেম্বারের সংস্কারের জন্য কয়েকটি দাবি জানান ব্যবসায়ীরা। দাবিগুলো হলো-
১.অবিলম্বে চিটাগং চেম্বারের বর্তমান ভোটবিহীন অবৈধ কমিটির পদত্যাগ,
২. চিটাগং চেম্বারের সদস্যপদ প্রাপ্তি সহজীকরণ
৩. চিটাগং চেম্বারের সদস্যপদ সঠিক যাচাই বাছাই করে নির্দিষ্ট ব্যক্তির পকেট ভোট ব্যাংক বিলুপ্ত করে একটি সঠিক
ভোটার তালিকা প্রণয়ণ
৪. যোগ্য নেতৃত্ব বাছাই করার জন্য গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সুষ্ঠ ও অবাধ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা,
৫. একই নেতৃত্ব একাধারে ২ বারের অধিক নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ রহিত করতে প্রয়োজনে আইন সংশোধন,
৬. চিটাগং চেম্বারের বিগত ১৬ বছরের আর্থিক লেনদেনের নিরপেক্ষ অডিট করা।
মানবন্ধনে বক্তব্য রাখেন-চিটাগাং চেম্বার অফ কমার্সের সাবেক পরিচালক ও মোস্তফা গ্রুপের পরিচালক মাহফুজুর রহমান,
বার বি ডার সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান,খাতুনগঞ্জ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও প্রাক্তন পরিচালক (চেম্বার অব কমার্স) সৈয়দ ছগির আহম্মদ,চিটাগাং চেম্বার অব কমার্সের প্রাক্তন পরিচালক হাসানুজ্জামান চৌধুরী জোসেফ,চিটাগাং চেম্বার অব কমারর্সে সাবেক পরিচালক আব্দুল মান্নান রানাসহ আরও অনেকে।