আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের জন্য থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে নিয়োগ দিতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাছে সৎ, নিরপেক্ষ ও প্রশাসনিকভাবে দক্ষ পরিদর্শকদের তালিকা চেয়েছে পুলিশ সদরদপ্তর।
গত ১৬ নভেম্বর পুলিশ সদরদপ্তরের কর্মী ব্যবস্থাপনা শাখা-২ থেকে জারি করা এ সংক্রান্ত নির্দেশাবলিতে বলা হয়, আসন্ন ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনার জন্য দক্ষ, নিরপেক্ষ ও নির্ভরযোগ্য ওসি অত্যন্ত জরুরি।
পুলিশ সদরদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্বাচনের সময়ে মাঠ পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষায় থানার ভারপ্রাপ্ত করমকর্তাদের কার্যকর ও নিরপেক্ষ ভূমিকার ওপর অনেকাংশে নির্ভর করে। নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা বাস্তবায়নে, রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সহিংসতা নিরসনে থানাপ্রধানদের প্রাথমিক নির্দেশ পালনকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
আগের নির্বাচনের অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ওসির দক্ষতা ও নিরপেক্ষতা সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে।
দেশব্যাপী রাজনৈতিক কর্মতৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পুলিশ সদরদপ্তর ওসি নির্বাচনের এ প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দিয়েছে বলে জানায় সদরদপ্তর।
ডিএমপি, সিআইডি ও এসবি-প্রধানদের নিকট যোগ্য, পরিচ্ছন্ন রেকর্ডধারী, পরিক্ষীত প্রশাসনিক দক্ষতাসম্পন্ন এবং সততার জন্য পরিচিত পরিদর্শকদের তালিকা চেয়েছে সদরদপ্তর।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ওসি নিয়োগের আগে একটি কমিটি তাদের নিকট প্রেরিত তালিকা পর্যালোচনা করে এরপর কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেবে।
পুলিশ সদরদপ্তরের কর্মী ব্যবস্থাপনা শাখা-২-এর পক্ষে অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরাপত্তা কৌশলের অংশ হিসেবে দ্রুত এই প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে গুরুত্বারুপ করেন।
সদরদপ্তরের আরেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইউএনবিকে বলেন, এ উদ্যোগ মাঠপর্যায়ের বৃহৎ পুলিশিং কার্যক্রমের একটি অংশ। এতে বুদ্ধিভিত্তিক সমন্বয়ের অগ্রগতি, দুর্বল ভোটকেন্দ্রগুলোতে নজরদারি বাড়ানো, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ নির্বাচনি এলাকাগুলোতে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করাও এই কার্যক্রমের অংশ।