বাগেরহাটের চিতলমারীতে শারদীয় দুর্গোৎসবে ডিউটিতে থাকা পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুইজনকে চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলার হাড়িয়ারঘোপ (পশ্চিমপাড়া) গ্রামের আমোদিনীর বাড়ি সর্বজনীন দুর্গা মন্দিরের সামনে রাস্তায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এর আগে ওই পুজামন্ডপে দায়িত্বে থাকা এক আনসার সদস্যকে গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা চেষ্টা করা হয়।
হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় তিনজন নারী আসামিকে আটক করেছে পুলিশ। হামলার ঘটনার পর ওই পুজামন্ডপে নিরাপত্তায় সর্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন চিতলমারীর বড়বাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই সঞ্জয় মন্ডল, এএসআই আক্তার হোসেন, এএসআই বশির আহম্মেদ এবং কনস্টেবল সাগর মল্লিক। এদের মধ্যে এসআই সঞ্জয় মন্ডল এবং এএসআই আক্তার হোসেন চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
শ্বাসরোধ করে যে আনসার সদস্যকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে তার নাম মো. আল আমিন (৩০)।
আটক তিন আসামি হলেন— সাথী বেগম (৪৫), পান্না বেগম (৩৮) এবং লাভনী বেগম (৩২)। তারা সবাই একই পরিবারের সদস্য এবং তাদের বাড়ি চিতলমারী উপজেলার হাড়িয়ারঘোপ গ্রামে।
পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় বড়বাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই বশির আহম্মেদ বাদি হয়ে নারীসহ নয় জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত পরিচয়ের আরও ১০–১২ জনকে আসামি করে সোমবার চিতলমারী থানায় মামলা দায়ের করেন। হামলার পর পুলিশ মামলার এজাহারভুক্ত ওই তিন আসামিকে আটক করে।
চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন বড়বাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই সঞ্জয় মন্ডল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জানান, রবিবার রাতে হাড়িয়ারঘোপ (পশ্চিমপাড়া) গ্রামের আমোদিনীর বাড়ি সর্বজনীন দুর্গা মন্দিরের সামনে রাস্তায় আনসার সদস্য আল আমিন দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় হাড়িয়ারঘোপ গ্রামের হাফিজ শিকদার তাকে জিজ্ঞাসা করে—“এখন কয়টা বাজে?” ৭টা বাজে বলায় হাফিজ শিকদার ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এক পর্যায়ে তার গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়।
খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা সেখানে ছুটে এলে হাফিজ শিকদার পালিয়ে যায়। এরপর পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা সেখান থেকে চলে গেলে পুনরায় হাফিজ এসে আনসার সদস্য আল আমিনকে হুমকি দেয়।
এসআই সঞ্জয় মন্ডল আরও জানান, পরবর্তীতে আনসার সদস্যকে হুমকির খবর পেয়ে ডিউটিতে থাকা অবস্থায় তিনি সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে সেখানে পৌঁছান। এরপর হাফিজ শিকদার এবং তার পরিবারের নারী-পুরুষসহ কয়েকজন সেখানে এসে ডিউটিরত অবস্থায় তাদের উপর হামলা চালায়। ওই হামলায় চারজন আহত হয়। হামলাকারীদের কাছে ধারালো দা, টর্চলাইট, লাঠিসোটা এবং ইট-পাটকেল ছিল।
চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম শাহাদাৎ হোসেন জানান, পুলিশ উপর হামলার ঘটনায় সোমবার থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারীকে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত তিনজনকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।