বাংলাদেশে সাত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা 'ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' হত্যা মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ফ্রান্সপ্রবাসী বাংলাদেশিদের সংগঠন জাস্টিস মেকার্স বাংলাদেশ ইন ফ্রান্স (জেএমবিএফ)।
অভিযুক্ত সাংবাদিকরা হলেন- মোজাম্মেল হক বাবু, সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, আহমেদ জোবায়ের, মুন্নী সাহা, ফারজানা রূপা, শাকিল আহমেদ ও নাঈমুল ইসলাম খান।
গত ১৯ জুলাই যাত্রাবাড়ীতে আন্দোলন চলাকালে এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত এসব অভিযোগ শুধু অযৌক্তিকই নয়, চরম অন্যায়ও বটে। বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে দেখা যায়, সানারপাড়ের রওশন আরা ডিগ্রি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী নাঈম হাওলাদারের মৃত্যুর ঘটনায় এসব সাংবাদিকসহ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৯২ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
যাত্রাবাড়ীতে কোটাবিরোধী আন্দোলন চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে নাঈমের মৃত্যু হয়। গত ২২ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করা হয়।
আরও পড়ুন: সাবেক বিচারপতি মানিকের বিরুদ্ধে সিলেটে মামলা
পূর্ব উত্তরা থানায় দায়ের করা পৃথক হত্যা মামলায় শাকিল আহমেদ ও ফারজানা রূপা বর্তমানে চার দিনের রিমান্ডে রয়েছেন।
বিশিষ্ট ফরাসি মানবাধিকারকর্মী এবং জেএমবিএফের প্রধান উপদেষ্টা রবার্ট সাইমন বলেন, ‘সাংবাদিকদের মিথ্যা অভিযোগ ও আইনি হয়রানি করা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর আক্রমণ। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিপজ্জনক নজির স্থাপন করেছে এবং বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য ক্রমবর্ধমান হুমকির কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।’
জেএমবিএফের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি আইনজীবী শাহানুর ইসলাম বলেন, ‘সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা মানে বাকস্বাধীনতাকে দমন করা, সমালোচনামূলক কণ্ঠস্বরকে দমন করা, স্বাধীন সাংবাদিকতাকে থামিয়ে দেওয়া, গণমাধ্যমকে ভয় দেখানো এবং বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ভিত্তিকে দুর্বল করার প্রচেষ্টা। অবিলম্বে এই চর্চা বন্ধ করতে হবে।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সব সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ প্রত্যাহার, শাকিল আহমেদ ও ফারজানা রূপাকে মুক্তি এবং কোনো প্রকার ভয় ছাড়াই সত্য প্রকাশের সাংবাদিকদের মৌলিক অধিকারের প্রতি সম্মান জানানোর আহ্বান জানিয়েছে জেএমবিএফ।
এছাড়াও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত, সব সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক দমন-পীড়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জেএমবিএফ।