নিজের দলের চাপের মুখে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। স্থিতিশীল নেতৃত্ব ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়ে দুই বছর আগে ভূমিধস বিজয় অর্জন করলেও ধারাবাহিক ভুল পদক্ষেপ ও সিদ্ধান্তে ভোটারদের আস্থা হারানোর পর শেষ পর্যন্ত তাকে সরে দাঁড়াতে হচ্ছে।
সোমবার (২২ জুন) স্টারমার জানান, ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি নতুন নেতা নির্বাচিত না করা পর্যন্ত তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তাকে স্থলাভিষিক্ত করতে সাবেক গ্রেটার ম্যানচেস্টার মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যামের নামই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে।
ইতোমধ্যে বার্নহ্যাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলেছেন, ‘আমি এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নিজেকে প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করব।”
অন্যদিকে, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং, যাকে বার্নহ্যামের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল, তিনি বার্নহ্যামকে সমর্থন করবেন বলে জানিয়েছেন।
গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত একটি বিশেষ উপনির্বাচনে বার্নহ্যামের জয়ই স্টারমারের পদত্যাগের সিদ্ধান্তের তাৎক্ষণিক কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রায় এক দশক গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর তিনি পুনরায় পার্লামেন্টে ফিরছেন এবং সোমবারই সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।
লেবার পার্টির নিয়ম অনুযায়ী, কেবল সংসদ সদস্যরাই দলের নেতৃত্বের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন।
স্ট্রিটিংয়ের সমর্থনের ঘোষণায় নেতৃত্ব নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই বার্নহ্যাম নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে।
স্টারমার গত এক দশকে ব্রিটেনের ষষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী, যিনি ডাউনিং স্ট্রিটের ১০ নম্বর বাসভবনের সামনে দাঁড়িয়ে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিলেন। তার এই ঘোষণা এসেছে এমন এক সময়ে, যখন মঙ্গলবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ত্যাগের পক্ষে (ব্রেক্সিট) ব্রিটেনের গণভোটের দশম বার্ষিকী পালিত হবে। সিদ্ধান্ত এখনও দেশটির অর্থনীতি ও রাজনীতিতে প্রভাব ফেলছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নিজের পদ ধরে রাখার লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা বললেও শেষ পর্যন্ত স্টারমার নতুন নেতৃত্বের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের ক্রমবর্ধমান চাপের কাছে নতি স্বীকার করলেন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তিনি লেবার পার্টিকে বড় জয় এনে দিয়েছিলেন, তবে এরপর থেকে তার এবং দলের জনপ্রিয়তা ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে।
কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নতুন নেতা
দুই বছর আগে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম ভাষণ দেওয়া সরকারি বাসভবনের সামনে দাঁড়িয়েই পদত্যাগের ঘোষণা দেন স্টারমার। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের শেষ দিকে তার কণ্ঠ আবেগে ভারী হয়ে ওঠে। এ সময় তার দপ্তরের কর্মী, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং অসংখ্য সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।
স্টারমার বলেন, ‘আমার দল এখন যে প্রশ্নটি করছে তা হলো, পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমি সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি কি না। এ বিষয়ে আমার সংসদীয় দলের উত্তর আমি শুনেছি এবং সৌজন্যের সঙ্গে সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিচ্ছি।’
তিনি জানান, সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানাতে তিনি ব্রিটেনের সাংবিধানিক রাষ্ট্রপ্রধান রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে কথা বলেছেন।
বার্নহ্যামের উপনির্বাচনে জয়ের পর পুরো সপ্তাহাজুড়ে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনাচিন্তা করেন স্টারমার। তিনি জানান, আগামী ৯ জুলাই থেকে নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন গ্রহণ শুরু হবে এবং গ্রীষ্মকালীন বিরতি শেষে ১ সেপ্টেম্বর পার্লামেন্ট পুনরায় বসার আগেই নতুন নেতা দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
তবে বার্নহ্যাম যদি একমাত্র প্রার্থী হন, তাহলে আগামী জুলাইয়ের মাঝামাঝিতেই নেতৃত্ব পরিবর্তন সম্পন্ন হতে পারে।