পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে একটি পুলিশ পোস্টে রাতভর জঙ্গিদের হামলায় অন্তত ৯ পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে ১৫ জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সময় সোমবার (৬ জুলাই) দিবাগত রাতে বেলুচিস্তানের জিয়ারাত জেলার একটি প্রত্যন্ত এলাকায় একটি পুলিশ পোস্টে জঙ্গিদের একটি দল হামলা চালায়। এতে নিরাপত্তা বাহিনী ও হামলাকারীদের মধ্যে তীব্র গোলাগুলি হয়।
পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে হামলাটি জিয়ারাত জেলার একটি দুর্গম এলাকায় ঘটেছে। তবে এ বিষয়ে তারা আর কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।
এদিকে, বেলুচিস্তান সরকারের মুখপাত্র শাহিদ রিন্দ জানিয়েছেন, হামলার সময় জঙ্গিরা ৮ পুলিশ সদস্যকে অপহরণ করে। পরে নিরাপত্তা বাহিনী তাদের সবাইকে উদ্ধার করতে পেরেছে।
তিনি জানান, এ হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনীর পরিচালিত ক্লিয়ারেন্স অভিযানে ১৫ জঙ্গি নিহত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর এ ধরনের যেকোনো হামলার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
তাৎক্ষণিকভাবে এ হামলার দায় কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। তবে এর পেছনে নিষিদ্ধ ঘোষিত বেলুচ লিবারেশন আর্মির (বিএলএ) সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত সপ্তাহের শেষে পাকিস্তানের উপকূলীয় শহর জিওয়ানির একটি নিরাপত্তা চোকিতে আত্মঘাতী হামলার দায় স্বীকার করেছিল বিএলএ। তবে পাকিস্তান সরকার এখনো সেই দাবি নিশ্চিত বা অস্বীকার করেনি।
তবে দেশটির কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে, গত সপ্তাহের শেষে কোয়েটা শহরের উপকণ্ঠে সশস্ত্র গোষ্ঠী বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা চালিয়েছিল। এরপর থেকে স্থানীয় গ্রামবাসীরা কোয়েটার কাছে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। তারা তাদের জীবন রক্ষায় নিরাপত্তা জোরদার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।
এদিকে, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি সর্বশেষ এ হামলার জন্য ভারতের সমর্থনপুষ্ট জঙ্গিদের দায়ী করেছেন। তবে তিনি এ অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। অন্যদিকে, ভারত বরাবরই বেলুচিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বা পাকিস্তানি তালেবানকে সমর্থন দেওয়ার এ অভিযোগকে অস্বীকার করে আসছে।
একই বক্তব্যে নিহত পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান মহসিন নকভি। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, ‘এ ধরনের হামলা পাকিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করতে পারবে না।’
এদিকে, পাকিস্তানি তালেবান গোষ্ঠী, যারা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) নামে পরিচিত, তারাও বেলুচিস্তানে শক্ত অবস্থান বজায় রেখেছে। জঙ্গি সংগঠনটি এর আগেও ওই এলাকায় একাধিক হামলা চালিয়েছে।
আয়তনে সবচেয়ে বড় হলেও পাকিস্তানে সবচেয়ে কম জনবহুল প্রদেশ হলো বেলুচিস্তান। দীর্ঘদিন ধরেই এই প্রদেশটি বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহ এবং পাকিস্তানি তালেবানের হামলার কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে।
২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র বিএলএকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংগঠনটি বেলুচিস্তানজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও বেসামরিক মানুষের ওপর বহু হামলা চালিয়েছে।